Home বিষাদ ও বসন্ত বিষাদ ও বসন্ত পর্ব ৪৪

বিষাদ ও বসন্ত পর্ব ৪৪

বিষাদ ও বসন্ত পর্ব ৪৪
অলকানন্দা ঐন্দ্রি

তখন সকাল। বিল্ডিং এর একজনের আকদ অনুষ্ঠানের জন্যই ছাদটা খুব সুন্দর ভাবেই সাঁজানো হয়েছে। আর ছাদের এক পাশেই বসেছে আন্টি সমাজের গল্পের আসর। গুঁটি কয়েক চেয়ারে সবাই বসে গল্পগুজব করছিল আর ঠিক তখনই কথায় কথায় উঠে এল হিমেল আর মিথির প্রসঙ্গটাও। দুইজনেই প্রায় দেড় বছর যাবৎ এই বিল্ডিং এ আছে বলে সবারই মোটামুটি চেনা। যদি হিমেলের থেকে মিথির পরিচিতিটাই বেশি। শেষদিকের এক কথার বিনিময়ে গতকালের চশমা পরিহিত মহিলাটিই হিমেলের চাচীর পরিচিত সেই মহিলাটিকে জিজ্ঞেস করল,

“ ভাবীর পরিচিত নাকি ঐ ছেলে আর মেয়ে? কি যেন নাম৷ হিমেল সম্ভবত।বড় সুন্দর মানিয়েছে বলুন দুইজনকে। আমার তো বরাবরই মিথি মেয়েটাকে ভালো লাগত। এত ভালোভাবে মিশে, আর এত পরিশ্রমী একটা মেয়ে। তবে দুইজনে এতদিন আলাদা থাকত কেন কিজানি। কিসের এত রাগ অভিমান ছিল ওদের ভাবী?”
মহিলা নাক মুখ কুঁচকালেন। একেই নিজের ভাইপো রিজেক্ট হওয়ার অপমান মিটেনি তার উপর এই দুইজনকে ভালো মানিয়েছে এই মহিলা খুব প্রশংসা করছে। আমাদের মানুষদের এই এক দোষ, নিজের মতের সাথে না মিললে সে কথাবার্তা আমাদের পছন্দ হয় না। যতই ভালো বলুক তবুও নয়। এইক্ষেত্রেও তাই। নাক সিঁটকিয়ে শুধাল,
“ কে? ঐ হিমেল? ঐ ছেলে সত্য বলছে কেমনে বুঝলেন? ঐ ছেলে আস্ত মিথ্যুক। আমাকে কি বলেছে জানেন?আপনাদের মতো আমাকেও বলেছে ওদের বিয়ে হয়েছে। ঐ বাচ্চাটার বাবা নাকি ও, ওই মিথি নামের মেয়েটা নাকি ওর স্ত্রী। কিন্তু পরবর্তীতে শুনলাম এসব মিথ্যে। ওর ভাবী আর চাচীই বলল। ”
চশমা পরিহিত ভদ্রমহিলা উত্তর শুনে খুবই হতাশ হলেন। উনার চোখে এই দুইজনের জুটিটা অপূর্ব লেগেছে।মনে মনে খুব পছন্দও হয়েছে। মন যেহেতু একবার ওদের পক্ষে চলে গিয়েছে মিথ্যুক শব্দটা মানতে পারলেন না কেন জানি। বললেন,

“ কি বলেন? ছেলেকে দেখে তো মিথ্যুক মনে হয় নি। মেয়েকেও যথেষ্ট ভদ্র মনে হয়েছে। ”
হিমেলের চাচীর পরিচিত সেই মহিলা হাসলেন। পান চিবোতে চিবোতে বললেন,
“ আমারও মনে হয়নি। আমাদের শাফুর জন্যও তো বলেছিলাম। পরে দেখি মেয়ের চরিত্রে এইসব। এর জন্যই তো পরে আর এগোলাম না। আমি নিশ্চিত এরা বিয়ে করেনি। বিয়ে না করেই একই বাসায় উঠেছে দেখো গিয়ে। ’
“ শুধু শুধু দুটো ছেলেমেয়ের নামে বদনাম রটাচ্ছেন কেন ভাবী? ছেলেটা এত সুন্দর ভাবে বলল। মিথ্যে হবে না। আপনি মিলিয়ে নিয়েন। ”
হিমেলের চাচীর পরিচিত মহিলাটা কথাগুলো মানতে পারলেন না যেন। ভ্রু কুঁচকালেন। বলে উঠলেন,
“ বদনাম রটাব কেন? আমার কি লাভ এতে? খেয়েদেয়ে কাজ নেই নাকি আমার? আপনি ওদের কাবিননামা দেখাতে বললে দেখবেন দেখাতে পারবে না। আমি নিশ্চিত। কারণ ওর চাচী আমার খুব পরিচিত। ওর থেকেই শুনি এদের কাহিনী। ”

“ আর যদি দেখাতে পারে কাবিন নামা? আমার একটুও মনে হয়নি ছেলেটা মিথ্যে বলছে। কারণ ছেলেটা সত্যিই অনেক যত্ন নিচ্ছিল ভাবী। একদম স্বামীর মতো। ”
দুই মহিলার কথোপকথন ক্রমশই যেন স্বাভাবিক থেকে অন্য মতে যাচ্ছিল। উত্তর এল,
“ ঠিকাছে, আপনি নিজেই দেখুন না জিজ্ঞেস করে। দেখবেন পারবে না দেখাতে কাবিননামা। আমি শতভাগ নিশ্চিত। আজকাল মানুষের কথা এত বিশ্বাসই বা করেন কেন ভাবী? আর আমার এ দুই টাকা লাভ হবে না যে আমি মিথ্যে বলব। ঐ মেয়ে- ছেলে দুইজনেরই চরিত্র ভালো না। ”
“ আপনার কথা ভাবী বিশ্বাস হচ্ছে না একটুও। স্বামী ছাড়া কেউ এই অবস্থায় কোন মেয়ের সেবা করে? মেয়েটা উঠতে অব্দি পারছিল না ভাবী। কত কি ব্যাপার স্যাপার থাকে। স্বামী না হলে ওকে নিজের বাসায় নিত কেন? এতগুলো দিন হলো এই বিল্ডিং এ আছে, কখনো তো অশ্লীল কিছু দেখলাম না দুইজনের। শুধু বাচ্চাটাকে কোলে নিত, ঘুরত। কখনো দুইজনকে কথা অব্দি বলতে দেখিনি আর আপনি বলছেন চরিত্রে দোষ? ”
“ তো মিথ্যে বলে দুই টাকার লাভ হবে আমার? আশ্চর্য! যেটা বলছি ঐটাই সত্যি। আপনার যদি এতই মানতে অসুবিধা হয় তো প্রমাণ দেখান। গিয়ে ওদের বলুন কাবিননামাটা দেখাতে। ”
অতঃপর এভাবে কথা বলতে বলতেই দুইজনের কথা গিয়ে গড়াল অনেক দূর। একট বিতর্ক গিয়ে ঠেকল ঝগড়া স্বরূপ। অতঃপর দুইজনই সিদ্ধান্ত নিল হিমেলদের কাছে যাবে। সত্যি সত্যিই জিজ্ঞেস করবে কাবিননামার বিষয়ে। তারপরই তো প্রমাণ হয়ে যাচ্ছে কে সত্য আর কে মিথ্যে।

অতঃপর ছাদে যে চার পাঁচজন মহিলা গল্প করছিল সকলেই হিমেলের বাসায় উপস্থিত হলো। হিমেল অফিস থেকে ছুটি নিয়েছে দিন কয়েকের। বাসার দরজা খোলাই আছে। মিষ্টিকে নিয়ে নিচের দোকানে গিয়েছিল একটু। অতঃপর সেসময়েই উনারা উপস্থিত হলেন। মিথি ভাবল ওকে দেখতেই এসেছে। অতঃপর তার হাল অবস্থা জিজ্ঞেস করার পরপরই চশমা পরিহিত মহিলাটি এপাশ ওপাশ চেয়ে বলল,
“ মিথি? তোমার মেয়ে আর স্বামী কোথায়? ঐ যে হিমেল.. ”
আকস্মিক স্বামী আর হিমেল দুটো শব্দ শুনে সে চকচকে চোখে চাইল। পরমুহুর্তেই ভাবল বোধহয় পাশের মহিলাটি বলেছে। কারণ তাকেই তো দেড় বছর আগে পরিচয়টি দিয়েছিল। অস্ফুট গলায় বলল,

“ হু?”
ঠিক তখনই হিমেল এল। উনাদের দেখেহেসে বললে,
” কি ব্যাপার আন্টি? হঠাৎ? ”
“ এই তো তোমাকে আর তোমার বউকে দেখতে এলাম। ভালো আছো দুজনে? ”
“ শুধু আমাদের দুইজনকেই ওকে দেখতে আসেননি?”
হিমেল মিষ্টিকে ইশারা করেই বলে। কথা শুনে ভদ্রমহিলা হাসে। বলে,
“ অবশ্যই। ওকেও দেখতে এসেছি।”
এইটুকু বলেই থামলেন। তার একটু পরই আবার মাথা তুলে বলে উঠলেন,
“তুমি আর ও বিবাহিত তাই না? কাল বলেছিলে না? ”
“একটি আগে বউ বলে এখন আবার জিজ্ঞেস করছেন?”
চশমা পরিহিত মহিলাটি যেন এবার লজ্জা পেল। জিজ্ঞেস করতে চাইছিলেন না। তবুএ মুখ কাচুমাচু করে জিজ্ঞেস করলেন,
“ ইয়ে মানে, আন্টি তোমার মায়ের মতোই। মিথির সাথেও আমার খুব ভালো রকমের সখ্যতা আছে।তো একটা অনুরোধ করি দুইজনের কাছে? তোমাদের কাবিননামাটা কি আন্টিকে একবার দেখাতে পারবে?”
মিথি এতক্ষনের সব কথা শুনে শুধু চুপ হয়ে ছিল বিস্ময় নিয়ে। এবার সরাসরিই হিমেলের দিকে চাইল। মিষ্টিকে কোলে নিয়েই বলছে,

“ কাবিননামা? হঠাৎ? ”
এই প্রশ্নটা করতে এক সেকেন্ডও দেরি হলো না হিমেলের চাচীর পরিচিত সে মহিলা প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই বলে উঠল,
“ বলেছি না ওরা বিয়ে করেনি। মিথ্যে বলেছে। দেখো কেমন মুখ করেছে। কিভাবে প্রশ্ন করছে। আমি নিশ্চিত কাবিননামা নেই।”
হিমেল ভ্রু কুঁচকাল। এই মহিলা যেন এই সময়েরই অপেক্ষায় ছিলেন। তাই তো এতক্ষন চুপ থাকলেও সুযোগ বুঝেই বলে বসলেন। হিমেল বলল,
“ আপনি এত নিশ্চায়তা কোথায় থেকে দিচ্ছেন আন্টি? বিবাহিত বলছি যখন বিবাহিতই তো হবো। তাই না? মিথ্যে বলে কি লাভ? ”
“ তাহলে দেখাও কাবিননামা।মিথ্যে মনে হয় বলে না তুমি? ভালোই তো বলো এমনে মিথ্যে। ”
চশমা পরিহিত মহিলাটি এবার বুঝানোর ন্যায় বলল,

“ আহ ভাবী, দেখাবে তো। দেখাবে না কি বলেছে ও? ”
মহিলার কত বিশ্বাস! হিমেল ছোটশ্বাস ফেলল। মহিলার কথা শুনেই অভিভাবকদের মতো লাগছিল। ওর বলা মিথ্যেটাকে বিশ্বাস করেই মহিলা ভীষণ খুশি। অথচ কাবিননামা তো নেই। হিমেল গম্ভীর গলায় জানাল,
“ কাবিননামা তো নেই আন্টি। ”
“ মিথির কাছে? ওর কাছে আছে?”
“ না।”
ঠিক তখনই আবারএ বিপরীত পক্ষ থেকে হিমেলের চাচীর পরিচিত মহিলাটি বলল,
“ এতই বিবাহিত বলছো যে বর বউ দুইজনের একজনের কাছেও নাকি কাবিননামাটা নেই। আশ্চর্য!কাবিননামা ছাড়াই বিয়ে হয়ে গেল নাকি? ”
হিমেল ছোটশ্বাস ফেলল। বলল

“ তেমন নয় আন্টি, আছে। এই মুহুর্তে হাতের কাছে নেই। আসলে, আমরা তো সেপারেশনে ছিলাম। দুইজনের কেউই বিয়েটা মানতাম না তখন। তাই নিজেদের কাছে রাখিনি। ”
ব্যঙ্গ করে বললেন তিনি,
“ কোথায় রেখেছো? ব্যাংকের লকারে রেখে এসেছো নাকি? ”
হিমেল উত্তরে কি বলবে বুঝল না। তবে এই মহিলাকে এবারে বিরক্ত লাগছে তার। অন্যদিকে মিথি এতক্ষন চুপ থাকলেও এবারে উশখুশ করে একটা মিথ্যে বলল,
“ আসলে এটা তো তেমন দৈনন্দিন ব্যবহারের কোন জিনিস নয় আবার খুব মূল্যবান বলা চলে। তাই বান্ধবীর আম্মুর কাছে রেখে এসেছিলাম আন্টি। আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র সহ রেখে এসেছিলাম। ”
“ মিথ্যেটা ধরা যাচ্ছে মেয়ে,তোমার মিথ্যে বলা খুব কাঁচা। ”
হিমেলের এই মহিলার প্রতি রাগ জম্মাল। ভ্রু উঠিয়ে বলল,

“ কি বললে বিশ্বাস করবেন তাহলে? ”
“ কি করা যায় বলো তো? এক কাজ করো, ওর বান্ধবীর আম্মুকে বলো ছবি তুলে পাঠাতে বিশ্বাস করে নিব তাহলে।”
হিমেল কপাল কুঁচকাল। আবারও দৃঢ় স্বরে আরেকটা মিথ্যে বলল,
“ মিথির বান্ধবীর আম্মু চিকিৎসা করাতে দেশের বাইরে গিয়েছে। ওর বান্ধবীও হোস্টেলে থাকে। ছবি তুলে দেওয়া সম্ভব না। ”
“ মিথ্যে বলার জায়গা পাও না? ”
“ সত্যিই বলছি।”
“ প্রমাণ কি? মনে তো হচ্ছে না সত্যি বলছো। ”
হিমেল মুখচোখ গম্ভীর করে কয়েক সেকেন্ড চুপ থাকল। তারপর আচমকায় বলে উঠল,
“ বিল্ডিং এ কার যেন আজ আকদ অনুষ্ঠান? কাল বলাবলি করছিলেন?
তো আকদ উপলক্ষ্যে কাজী তো এমনিতেই আসবে আজ তাই না?কাজী সাহেবকে নিয়ে আমার বাসায় আসিয়েন। শুধু কাবিননামা নয়, বিয়েটাও দেখে যেতে পারবেন। আশা করি আর কোন সংশয় থাকবে না আন্টি? ”
কথাটা শুনেই চশমা পরিহিত মহিলাটার চোখ চকচক করল। যেন উনি জিতে গেলেন। ছেলের কথাতেই তো স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে সব। প্রমাণের কি দরকার? অপর দিকে অন্যজন তখন মুখ ভেঙিয়ে বলল,

“ এটাও পারবে না। আমি নিশ্চিত। ছেলেরা এসব বিবাহিত মেয়ের সাথে প্রেম ভালোবাসা অব্দি গেলেও বিয়ে কখনোই করে না। ”
“ সেটা নাহয় দেখেই নিলেন তখন তাই না? ”
মিথির মুখ চুপসে এল। কিসব বলছে? যদি সত্যি সত্যি কাজী নিয়ে হাজির হয়? মিথি কি করবে? কিছু তো বলতেও পারবে না। হিমেলের দিকে চেয়ে বলল,
“ কিসব বলছেন?”
মিথির মুখ দেখে ঐ মহিলা তখন বলে বসলেন,
“ শেষ সব মিথ্যে? ভয়ে চুপসে গেল যে মুখটা? ”
মিথি মুখ কাচুমাচু করল। বলল,
“ না মানে বিয়ে তো একবার হয়েছেই। কয়বার করতে হয়?”
“ যতবারই প্রয়োজন হয় ততবারই করলাম নাহয়। সমস্যা কি?তোকেই তো করব। অন্য কাউকে তো করছি না। ”
মিথি বিড়বিড় করল,
” সমস্যা তো এটাই হিমেল ভাই। অন্য কাউকে করলে তো সমস্যা ছিল না…”
“ মানে? ”
“ হু? মানে অন্য কাউকে করলেই সমস্যা ছিল আরকি আন্টি। ”
এইটুকুই বলেই জোরপূর্বক হাসল মিথি। মহিলা গুলো উঠে যেতে যেতে বলল,

“ তাহলে ওটাই কথা থাকল। তোমাদের নতুন কাবিননামাটা, বিয়েটা আমরা সবাই দেখব। ভালো থেকো হুহ? ”
যেতে যেতেই হিমেলের চাচীর পরিচিত সেই মহিলা আবার হিমেলের দিকে চেয়ে বলে গেল,
“ আবার পালিয়ে যেও না হিমেল। ”
হিমেল হাসল। বলল,
“ পালাব না ”

উনারা চলে যেতেই মিথি প্রায় সঙ্গেই সঙ্গেই বলে বসল,
“এটা কি করলেন হিমেল ভাই? কেন বললেন বিয়ের কথাটা? কি প্রয়োজন ছিল? ”
“নয়তো অবিশ্বাস করত। আমাকে, তোকে! তোর চরিত্রে দোষ দিত। যে চরিত্রের দোষ পড়ার ভয়ে৷ এতকিছু সে চরিত্রে দোষ পড়তে দিই কি করে?”
মিথি ছোটশ্বাস ফেলল। বিরক্ত লাগছে তার জীবনের প্রতি। বলল,
“ তবুও বলা উচিত হয়নি। সত্যি সত্যিই বিয়ে পড়িয়ে দিলে? কি করব আমি? ”
হিমেল ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়েই বলল,
“ দিলে দিবে। আমি এমনিতেও এই ঘটনার পর তোকে আর মিষ্টিকে ছাড়তাম না মিথি। রেখে দিতাম নিজের করে, নিজের কাছে। যেভাবেই হোক। ”
মিথি কপাল কুঁচকায়। জিজ্ঞেস করে,

” জোর করে? ”
“ যেভাবেই হোক রাখতাম। তোকে সম্মান করতাম বলেই এতদিন জোর করিনি। কিন্তু দিনশেষে হারিয়ে ফেলার ভয়টাতো আমি ফেলাম। তুই না। ”
হিমেল ভাই এর প্রতি যে কৃতজ্ঞতাবোধটুকু জম্মেছিল এবার সত্যিই তা মলিন হয়ে এল। মনে হলো এটা তার অসহায়ত্ব। স্পষ্ট গলাতেই শুধাল,
“ এইজন্যই জেনেবুঝে স্ত্রী পরিচয় দিয়েছেন? ”
হিমেল তাকাল। মিথির দৃষ্টি এবং প্রশ্ন শুনে এইটুকু তো বুঝায় গেল সে কি বুঝাতে চায়। বলল,
“ স্ত্রী পরিচয় না দিলে উনারা তোর চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলত। ইভেন তুলছিল ও। বলাবলি করছিল যে আমি এক বাসায় কেন, কে হই তোর এই সেই। এই অবস্থায় স্ত্রী পরিচয় না দিলে ভালো হতো? আমাদের মাঝে কি বা কতটুকু তা আমরাই জানি তাই না? উনারা তো জানেন না। বাইরে বাইরে অন্য কিছু ছড়াত। আমি চাই নি তোর চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন উঠুক। ”

“ আমার সাথেই কেন! যেখানেই যাচ্ছি কিছু না কিছু ঘটেই যাচ্ছে আমার সাথে। বিধাতা বোধহয় চাচ্ছেনই না আমি সুখে থাকি। ”
হিমেল শান্ত গলায় বলল,
“ হয়তো চাচ্ছেন তুই সুখেই থাক৷ কিন্তু তুই চাচ্ছিস না। আল্লাহ যা করেন, ভালোর জন্যই করেন। ”
“ এটা ভালো নয়। সমাজ আমায় লোভী বলবে, চরিত্রহীন বলবে।বলবে আপনাকে ফাঁসিয়েছি আমি।”
“ সমাজের তোয়াক্কা করলে তো তোর থেকে কত আগেই দূরে সরে যেতাম। তাই না? ”
“ আপনি না করলেও আমাকে তো করতে হয়। কারণ এইসমাজে সবকিছুতেই ছেলেদের দোষ না হলেও মেয়েদের দোষটা অবশ্যই দেওয়া হয়।”

বিষাদ ও বসন্ত পর্ব ৪৩

“ চরিত্রের দোষ তাই তো? বিয়ের পর আর কেই আঙ্গুল তোলার সাহস করবে না।”
মিথির চোখ এবার স্থির, টলমল হয়ে এল। বিড়বিড় করে বলল,
“ একটা সামান্য এক্সিডেন্ট, একটা সামান্য এক্সিডেন্ট আমার জীবনে আরো একটা বিপদ এনে দিল।”
হিমেল শুনল। অতঃপর কিছুটা এগিয়ে বলল,
“ যেটা তোর কাছে সামান্য এক্সিডেন্ট মনে হচ্ছে ঐ সামান্য এক্সিডেন্টের কথা শুনেই আমার কলিজা মোচড় দিয়ে মরে যাওয়ার উপক্রম হচ্ছিল মিথি। নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছিল। ”

বিষাদ ও বসন্ত পর্ব ৪৫