obsession vs love part 18
নিরুর কল্পনারাজ্য
—বাবা, তুমি আমায় মিথ্যে বলেছিলে?
আইয়ুশ পরদিন সকালে বাড়ির প্রবেশদ্বারে ওসমান মির্জাকে ড্রইংরুমে চা খেতে দেখতে পেয়েই বললো। ওসমান মির্জা হতচকিত নয়নে ফিরলেন। হয়তো সকাল সকাল এমন প্রশ্ন তিনি আশা করেননি। চায়ের কাপে চুমুক বসিয়ে আইয়ুশের পানে নজর নিবদ্ধ করলেন। পরিপূর্ণ শীতল কন্ঠের বাণী ছুড়ে দিলেন ছেলের উদ্দেশ্যে,
—আইয়ুশ, সকাল সকাল এসেছো। যাও আগে ফ্রেশ হও।
—আগে আপনি আমায় বলুন, আপনি আমায় মিথ্যে কেনো বলেছেন?
—কোন মিথ্যে?
চায়ের কাপ ডিশে স্থানান্তর করতে করতে তিনি কুঞ্চিত ভ্রুতে শুধালেন।
—আপনি বলেছিলেন সায়ন চৌধুরী রাশেদ আঙ্কেলের ছেলে। কিন্তু রাশেদ আঙ্কেলের তো কোনো ছেলে ছিলো না।
বিশেষ করে আমার চেয়ে বড় তো নয়-ই।
—আহহা! এটা ওই রাশেদ আঙ্কেল নন। তোমার ওনাকে চেনার কথা নয়; উনি অনেক বড় বিজনেস টাইকুন।
—তাহলে কে উনি?
—আজই দেখতে পাবে।
—আজ? আজ কী?
কপাল কুঁচকে আইয়ুশ শুধালো। ওসমান মির্জা জবাবে বললেন,
—দেখতেই পাবে, সন্ধ্যেতে তৈরি থেকো।
কথাটুকু বলেই ওসমান মির্জা প্রস্থান করলেন। তখুনি আইয়ুশের ফোনে একটি নোটিফিকেশন এলো; যাতে ইংরেজি গোটা গোটা অক্ষরে লিখিত–
—IT’S SEEMS LIKE YOU HAVE MORE INTEREST IN OTHERS THAN YOUR OWN LIFE. REMEMBER, YOU HAVE ONLY 23 DAYS LEFT. SEE YOU SOON!
আইয়ুশ আবারও নিজের মস্তিষ্কে তীব্র ঝাঁকুনি অনুভব করলো। জ্বরের প্রভাব সাথে এমন চাপে সে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার উপক্রম হলো। তাহলে কোনোভাবে কী সায়ন এমকের লোক? আইয়ুশ চুপচাপ নিজের ঘরে গেলো। সাঁঝ ঘরে নেই। সাঁঝের ব্যবহৃত জিনিসপত্র এবং নিজের ব্যবহৃত প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সম্পূর্ণ বিভেদ করে রাখা। উভয়ের কেও-ই সেই সীমা লঙ্ঘন করে না। আইয়ুশ নিজের রুমে পৌঁছাতেই অগোছালো ভাবে এলোমেলো পদক্ষেপে সম্মুখের এক ফুলদানির কাছে গেলো। রাগান্বিত ভঙ্গিতে ফুলদানিখানা তুলেই প্রথমে আছার মারলো। পরপর রুমে থাকা প্রতিটি ফুলদানি ভেঙ্গে ফেললো চোখের পলকেই। রুমে ততক্ষণে মালিহা বেগম ছুটে এসেছেন ভাঙচুরের আওয়াজ। সাথে চৈতী চৌধুরী এবং প্রহেলী আক্তারও রয়েছেন। সাঁঝ কাঁচুমাচু করে পেছনে লুকিয়ে। কী হচ্ছে না হচ্ছে সে বুঝে উঠতে পারলোনা। মালিহা বেগম চেঁচালেন ছেলেকে,
—এই, কী করছো কী আইয়ুশ? মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছে তোমার?
আইয়ুশ বারণ শোনেনা। তার তীক্ষ্ণ নজর পড়ে সামনের দেওয়ালে থাকা একটি বৃহৎ এবং ইষৎ দামী পেইন্টিংয়ের ওপর। রাগত্ব স্বরে সে বলে,
— বলবেনা, একটা কথাও বলবেনা কেও। এখান থেকে যাও আর আমাকে একা থাকতে দাও। যাও!
কথাটুকু বলেই ভীষণ শব্দ করে পেইন্টিংখানা নিচে ফেলে ভেঙে ফেললো। ছবিটির ওপরে থাকা কাঁচের আস্তরণ ভেঙে চুরনার হলো। আইয়ুশ পায়ের সাহায্যে তাতে চাপ প্রয়োগ করে বারংবার তাতে সম্পূর্ণ ছবিখানা নষ্ট হয়ে গেলো।
এতক্ষণ এসব কিছু হুডি পরিহিত কেও একজন অতি আনন্দের সহিত পর্যবেক্ষণ করলেও এই পর্যায়ে এসে তার রাগের পারদ উচ্চ হলো। আপনমনে বিড়বিড়িয়ে উঠলো,
—শিট,শিট, শিট! ড্যাম ইট!
ছবিটি নষ্ট করার পরমুহূর্তেই আইয়ুশের ঠোঁটে ফুটে উঠলো ক্ষীণ হাসি। দরজার দিকে তাকিয়ে সাঁঝের পানে তাকালো। যার মুখশ্রী আপাতত ফ্যাকাশে এবং চিন্তিত। আইয়ুশ পর্যবেক্ষণ করলো তার প্রতিটি পদক্ষেপ। ভীত মুখশ্রী; ঘর্মাক্ত কপোলদ্বয়। আইয়ুশের হাসির মাত্রা তীব্র হতে গিয়েও হয়না। বিদ্রুপের হাসিটুকু গিলে ফেলে। আপনমনে বিড়বিড় করে,
—আল্লাহতায়ালা তার পবিত্র বান্দাদের প্রতিটি বিপদে সাথে থাকেন; প্রতিটি বিপর্যয়ের উত্তম মাখরাজ দিয়ে থাকেন। কেবল ধৈর্য্যের মাত্রায় কোনো কার্পণ্যতা না করলেই সকলকিছুকেই পরাস্ত করা সম্ভব।
আইয়ুশ সকলকে বের করে দেয় রুম থেকে। সেই পেইন্টিংয়ে থাকা ক্যামেরাখানা হাতে নিয়ে নিগূঢ় চক্ষে পরখ করে। উঁহু, এখানেই শেষ নয়। বরং তার কক্ষের প্রতিটি কোণায় ক্যামেরা ফিট করা। যার মধ্যে আপাতত মেইন ক্যামেরাটি বিনষ্ঠ করতে সে সফল হয়েছে যেটার মাধ্যমে সম্পূর্ণ রুম ক্যাপচার করা যেতো। বাকি ক্যামেরাগুলো কোণায় হওয়ার কারণে সেসব কেবল একদিককেই ক্যাপচার করতে পারে। কোনো না কোনো দিকের একাংশ বাদ পড়ে। যার দরুণ বর্তমানে আইয়ুশের কার্যকলাপ ক্যামেরার আওতাভুক্ত নয়। আইয়ুশ দ্রুতবেগে ওয়াশরুমে ঢোকে। যেখানের একপাশ ফ্রেশ হওয়ার জন্য অর্থাৎ বেসিন সাইড। আরেকটু ভেতরে গেলেই বাথটাব। আইয়ুশের কক্ষের দুটো ওয়াশরুম। সেখানের মাঝে আইয়ুশের ব্যবহৃত ওয়াশরুম হলো এটি। আইয়ুশ দ্রুততায় চোখ-মুখ ধোঁয়। সামনে থাকা আয়নার পানে তাকিয়ে মুচকি হাসে। যেনো অপরপ্রান্তে তার এই হাসির অপেক্ষাতেই কেও ছিলো!
—শোনো, আজ তোমাদের একটা পার্টিতে জয়েন করতে হবে। সবাই সন্ধ্যা ছ’টায় তৈরি থাকবে। কেমন?
সময়টা বিকেল পাঁচটা। বাড়ির প্রত্যেক সদস্য আপাতত নিচে নেমেছে। তিয়া-তোতা-ঐশি-ঝিলিক এবং নির্ঝর সকলে একসাথে। সাঁঝ এসে সকলের মাঝে নুডুলসের পকোরা দিয়ে গেলো। ঝিলিক এমনভাবে সকলের সাথে মিশছে; তাকে দেখে বোঝা-ই গেলো না যে কিছুদিন আগ পর্যন্ত মেয়েটা নিজের জীবনের প্রতি বিতৃষ্ণা রেখেছিলো। আইয়ুশ ব্যতীত সেখানে সকলেই উপস্থিত। নির্ঝর শুধালো,
—কিন্তু বড় বাবা, কোথায় যাবো?
তিনি হাসলেন। হেসে বললেন,
—গেলেই দেখতে পাবে!
সকলেই দ্বিধায় পড়ে গেলো। কোথায় যাবে? কোন পার্টি? তিয়া ঝিলিককে বললো,
—সেসব বাদ, ঝিলিক তুই বল–কী পড়বি? ম্যাচ করবি?
নির্ঝর ফোড়ন কাটলো,
—তোর খালি সাজগোছ নিয়েই থাকা চাই তাইনা?
—উফফ, ছোট ভাইয়ু তুমি একদম কিছু বলবেনা।
ঐশী মাঝে কথা বললো,
—সেসব বাদ, আগে বল–এক্সামের প্রিপারেচন নিয়েছিস তিয়া-তোতা?
—হয়েছে। এলেন আরেক বিদ্যাসাগরের নাতি।
ঐশী ভ্রু কুঁচকে তাকালো নির্ঝরের পানে। বললো,
—নিজের মতো ভাবো নাকি সবাইকে?
—এই আমাকে নিয়ে বলবিনা একদম। জানিস আমার পেছনে কত মেয়ের লাইন পড়ে থাকে?
ভাব নিলো নির্ঝর। ঐশী তা দেখে বিদ্রুপের হাসি হাসলো। বললো,
— ছাপরিদের প্রতি মেয়েদের একটু আলাদাই টান থাকে!
—এই আমি কিন্তু তোর বড়….
ঝিলিক সাথে তিয়া-তোতাও হেসে উঠলো তাদের কথার মাঝে। নির্ঝর তা দেখে কপাল কুঁচকে বললো,
—হাসছিস তোরা?
ঝিলিক হাসি থামিয়ে বললো,
—আরেহ থামো তোমরা। চলো আগে তৈরি হয়ে নিই। নয়তো দেড়ি হয়ে যাবে; সন্ধ্যে হতে তো আর বেশি দেড়ি নেই।
সকলে একমত হলো। ছোটরা উঠে চলে গেলো যার যার মতো করে। তারা চলে যেতেই শাহদাদ মির্জা শুধালেন,
—ভাইজান, কোথায় যাওয়ার কথা বলছেন?
শাহদাদ মির্জাও সাথে একই ভাবে শুধালেন,
—হ্যাঁ ভাইজান, কোথায় যাওয়ার কথা বললেন?
—তেমন কিছু না, কেইভার গ্রুপের ওনার তার পক্ষ থেকে পার্টি থ্রু করেছে একটা। তিনি মির্জাদের সাথে একটা কন্ট্রাক্ট সাইন করতে চান।
সকলেই হতবাক হলেন। বললেন,
—ম্যাভিয়াস কেইভার?
ওসমান মির্জা মাথা নাড়লেন। শাহদাদ মির্জা এবং শাহমীদ মির্জা হতচকিত নয়নে সবকিছু ভাবতে লাগলেন। এটা তাদের জন্য অনেক বড় একটা অপরচুনিটি হতে চলেছে।
ঝিলিক নিজ কক্ষে এসে ড্রেসিং টেবিলের আয়নার সম্মুখীন বসলো। নিজের দিকে তাকালো বড্ড কঠোর দৃষ্টিতে। যে দৃষ্টে এতোদিন ম্লানতার ছাপ ছিলো আজ সেই চোখেই তেজ। ঝিলিক নিচের উদরে হাত ছোঁয়ালো। সেখানটায় দৃষ্টি নিবিষ্ট করে মুচকি হাসলো। বললো,
—হাই বেইবি? সি, ইউর মম ফাইনালি লার্নড টু মুভ অন। যে জিনিস আমাদের নয় সে জিনিস তো আমাদের ছেড়ে দেওয়া-ই উচিত তাইনা? মাম্মা উইল লিভ ফর ইউ। আর কারো কথা আমি ভাববো না। বরংচ যার জন্য তুমি-আমি এই পরিস্থিতিতে তাকে খুব করে শিক্ষা দেবো। ওকে?
নিজের অন্তকরণে বেড়ে ওঠা সেই ছোট প্রাণটির সাথে কথোপকথন শেষে নিজের দিকে নজর দিলো ঝিলিক। ঝটপট একটি অলিভ রঙের থ্রিপিসে নিজেকে জড়ালো। অতিরঞ্জিত কিছু না মেখে সাদামাটাতেই নিজেকে আবিষ্ট রাখলো। লাল-কমলার মিশেলের কোমড়সমান ঘন কেশদ্বয় বেণুনি বেধে ছেড়ে দিলো বাঁকানো কোমড়ের সুগঠিত পিঠময়। চোখে আলতো কাজলের ছোঁয়া সাথে সাদা পাথরের কানেরদুল। এটুকুতেই তাকে যেনো কোনো এক রাজ্যের রাজকন্যাসম লাগলো। ঝিলিক নিচে নামলো। তিয়া-তোতা-ঐশী এখনও নামেনি। সাঁঝ উপস্থিত ছিলো ড্রইয়রুমে। ঝিলিককে দেখেই সে অবাক হয়ে মুগ্ধ চাহনিতে বললো,
—মণি, তোকে পরী লাগছে একদম।
ঝিলিক হাসে খানিক। এগিয়ে গিয়ে বলে,
—তোমাকেও বা কম কিসে? একদম অপ্সরাসম মনে হচ্ছে।
তাদের কথার মাঝেই বাকিরা একে একে এলো। সকলেই ঝিলিকের প্রশংসা করলো। ঝিলিক বরাবরই সবার চেয়ে বেশি সুন্দর। আইয়ুশ গতানুগতিক সময়ে এলো। মাগরিবের সময়ে। তাকে দেখেই ওসমান মির্জা এগিয়ে এলেন। বললেন,
—আইয়ুশ, সকালে বলেছিলাম না? তৈরি থাকতে? এখন চলো। দ্রুত নামাজ আদায় করে বেরোবে।
আইয়ুশ অবাক হলো। কপাল কুঁচকে বললো,
—কোথায় যাবো? আর কেনোই বা যাবো?
—আহহা, এতো কথা বলোনা। দ্রুত যাও।
আইয়ুশ গেলো। ঝিলিকের সাথে চোখাচোখিও হলোনা। আইয়ুশ পাক্কা ত্রিশ মিনিট পর এলো রেডি হয়ে। ততক্ষণে তারা গাড়ির কাছে গিয়ে অপেক্ষা করলো। আইয়ুশ আসতেই গাড়ি স্টার্ট করা হলো। কিছুক্ষণের মাঝেই তারা তাদের গন্তব্যে পৌঁছালো। রাজপ্রাসাদের মতো একটি স্থান। চোখ ধাঁধানো। তাকালেই যেনো চোখ সরে না। তিয়ারা অবাক হয়ে সেসব খুব মনোযোগ সহকারে দেখছে। অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্যে চারিপাশ আলোয় আলোকিত। বড়দের গাড়ি একটু পরেই পৌঁছালো। ঝিলিক বড়দের সাথে এসেছিলো কেননা ছোটদের গাড়িতে আইয়ুশ ড্রাইভ করার কথা হয়েছিলো। সাঁঝ অবশ্য আইয়ুশের পাশের সিটে বসাতে চেয়েছিলো। আইয়ুশ কৌশলে তা এড়িয়ে গিয়ে নির্ঝরকে সে স্থানে বসিয়েছে যার দরুণ বর্তমানে সাঁঝের চোখমুখে আঁধার নেমেছে। সকলে একত্রে সেথায় ঢুকলো। অদ্ভুত ব্যাপার লক্ষ্য করলো ঝিলিক। এই বাড়ির নেইম-প্লেট ভীষণ অদ্ভুত–’কাজলনন্দীনি’। এ’কেমন নাম আবার? ঝিলিক সকলের শেষে গাড়ি থেকে নামলো। চারিপাশ তাকে আকৃষ্ঠ করলো সৌন্দর্যের মোহমায়ায়। এতো সুন্দর জায়গা! ঝিলিক আপ্লুত হলো। হ্যাজেল চোখ দুটো চকচক হয়ে উঠলো। আইয়ুশ এক পলক তাকালো তার প্রতি। পরপরই সাঁঝ এলো। বললো,
—ভেতরে যাবেন না?
—ভেতরে না যাওয়ার জন্য এসেছি?
—না মানে এখানে দাঁড়িয়ে আছেন তাই ভাবলাম…
আইয়ুশ পুরো কথা শুনলোনা তার। মিহি কন্ঠে বললো কেবল,
—আয়!
ঝিলিক ঐশীর সঙ্গ পেলো। তার সাথেই ভেতরে ঢুকলো। ঢুকেই দেখলো এলাহী এক কান্ড। দেশ-বিদেশের সকল বড় বড় বিজনেস টাইকুন সব বুঝি এখানেই হাজির হয়েছে? ঝিলিক ভালো করে সকলকে দেখলো। পরখ করে কয়েকজনকে চিনলো। এটা যে অনেক বড় মাপের কোনো বিজনেস টাইকুনের তরফ থেকে আয়োজিত পার্টি সেটা সে বুঝতে পারলো। চারিপাশের অফ হোয়াইট আলোতে ঝিলিকে উজ্জ্বলতা তখন আকাশচুম্বী। আশেপাশের লোকজন সকলেই একে অপরের বেশ আয়েশী কায়দায় কথা বলতে ব্যস্ত। হাতে ওয়াইনের গ্লাস তো রয়েছেই। কিছুজনের হাতে আবার জুস! ঐশী ঝিলিককে বললো,
—মনে হচ্ছে খুব নামী কোনো বিজনেসম্যান হবে!
—আমারও তো তাই মনে হচ্ছে।
একপাশে আঙুল উঁচিয়ে দেখালো ঝিলিক,
—দেখো, ওইযে উনি? আমি চিনি ওনাকে। বাংলাদেশে ওনার দশটা ফ্যাক্টরি আছে।
—তাই নাকি? এতো বড় পার্টিতে আসবো জানলে ড্রেসআপ আরেকটু ভালো করে নিতাম।
—এতোটুকুতেই পার্ফেক্ট লাগছে।
তাদের কথোপকথনের মাঝেই হঠাৎ লাইট চলে গেলো। আশপাশটা ঘন অন্ধকারে ছেয়ে গেলো। সকলেই কানাঘুষা আরম্ভ করলো। একি! এটা কী হলো? ঐশী ঝিলিককে শক্ত করে ধরলো। আড়ালে আইয়ুশও ঝিলিকের পাশে এসে দাঁড়ালো। হঠাৎ সিঁড়ির কাছে হাইলাইট করা হলো কোনো এক ব্যক্তিকে। পরণে তার ওভারসাইজড কোট। গাঢ় নীল চোখের মণি সাথে অদ্ভুত শীতল চাহুনি; ফর্সা বদন যেনো সে এই দেশের-ই নয়। তার ছায়াও যেনো পরিপূর্ণ। আঁধারের মাঝ থেকে সেই মুখ উজ্জ্বল আলোয় প্রজ্জ্বোলিত হলো। তিয়া কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে রইলো। বিড়বিড় করলো,
—এটাতো সাদা বিলাই!
লোকটি বেরিয়ে এলো আঁধার ছাড়িয়ে। সাথে সাথেই সকল আলো আবারও ফেরত এলো। এতো সুন্দর পুরুষ। কোথায় যেনো ঝিলিক-তিয়া-তোতা-ঐশী-নির্ঝর ভীষণ অবাক হলো। লোকটি কঠোর বাচনভঙ্গিতে এগিয়ে এলো ওসমান মির্জার দিকে। কাঠকাঠ ভঙ্গিতে হাত মিলিয়ে বললো,
—নাইস টু মিট ইউ মি.মির্জা! আ’ম ম্যাভিয়াস কেইভার।
আইয়ুশ স্তব্ধ হলো। ম্যাভিয়াস কেইভার? ইজ হি দ্যা গ্রেইট এমকে? নিজমনে প্রশ্ন জাগলো তার। পরপরই আরও একজন এলো। তাদের দেখে সকলেই অবাকতার শীর্ষে পৌঁছালো। সায়ন! সায়ন চৌধুরী এখানে? সায়ন এলো তাদের মাঝে। এসেই ম্যাভিয়াস কেইভার পাশাপাশি গিয়ে দাঁড়ালো। সকলের নজর তাদের দুজনের ওপর। সায়নের পোশাক-আশাক সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে। কালো ফর্মাল পোশাকে সাথে ওয়েস্ট কোট। তিয়া বিড়বিড় করলো,
obsession vs love part 17
—ওরেহ শালা, এদের দেখো তো দুই জমজ ভাই মনে হচ্ছে রেএএ!
তোতা অবাক কন্ঠে বললো,
—মাথা তো পুরোই আওলায় গেলো রে ঝিলিক। এদুটো আসলে কে?
