Home সে খলনায়ক সে খলনায়ক পর্ব ২০

সে খলনায়ক পর্ব ২০

সে খলনায়ক পর্ব ২০
ফারহানা সানিয়াত

সকাল হতে না হতেই খবর এসেছে আশ্রমে প্রাণপ্রিয়াকে আবরার ম্যানশনে যাওয়ার জন্য, যেটা শুনে প্রথম প্রাণপ্রিয়া নাকচ করলেও যখন তাকে বলা হয় সারা যেতে বলেছে তখন না চাইতেও সে রাজি হয়। কারণ সারা ছিল নাছোড় বান্দা একটা মেয়ে। সে যেমনটা চায় তেমনটাই হতে হয় ,সে যখন আবরার ম্যানশনে আসে আর প্রাণপ্রিয়ার সাথে দেখা করতে চায় প্রাণপ্রিয়ার ও তখন দেখা করতেই হয় নাহলে তাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য সে একটার পর একটা সার্ভেন্ট পাঠাতে থাকে, আর তার সাথে পরিচয় হওয়ার পর এমনই প্রথম প্রথম ‌হয়েছিল যার কারনে এখন সারা যেতে বললে আর নাকচ করে না।তাই সে সেলিনার কাছ থেকে বলে রওনা হয় আবরার ম্যানশনের উদ্দেশ্যে,।
গার্ডেন সোফায় পায়ের উপর পা তুলে বসে আছে সারা, দৃষ্টি সামনের বেলি ফুল গাছের দিকে গাছটায় ফুলে ফুলে সাদা আশেপাশে সুঘ্রাণ ছড়াচ্ছে,

__ ম্যাম আপনার কার্ড, একজন মহিলা সার্ভেন্ট এসে বলে ওঠে,
সারা বেলফুল গাছের দিকে তাকিয়ে নিজের হাত বাড়ায়, মহিলা সার্ভেন্ট নিয়ে আসা কার্ড সারার হাতে রাখে একটু দূরে সরে দাঁড়ায়,,
সারা হাতের কার্ডের দিকে তাকিয়ে হালকা বাঁকা হাসে, তার হাতের কার্ডটি ইনভিটেশন কার্ড যেটা সে প্রানপ্রিয়াকে দেওয়ার জন্য নিয়ে ছিল, তার হাসি চাওড়া হয় তবে এই হাসি তে কিছু একটা লুকানো কিন্তু সেটা কি? সে কি মন থেকে চায় না প্রাণপ্রিয়া পার্টিতে আসুক ? হ্যাঁ অবশ্যই চায় কিন্তু এখানে তার বলা বন্ধুত্ব বা ভাল সম্পর্কের জন্য না, সে চায় তাকে ছোট করা আর তার অবস্থান বোঝানোর জন্য, কারন সে চায় না দামিয়ানের নজর তার দিকে কখনো পড়লে ও প্রানপ্রিয়ার দিক থেকে কিছুই থাকুক। সে এটা জানে প্রানপ্রিয়া নম্রভদ্র ভালো একটা মেয়ে তবুও মন বদলাতে কতক্ষণ যতই হোক সে অসহায় মেয়ে। আর দামিয়ানের জন্য তার মনে কিছু ই নেই কিন্তু মমের বোঝানো কথা গুলো ও ফেলে দেওয়ার মত ছিল না। সে অবশ্যই সবকিছুর যোগ্য, না থাকুক ভালোবাসা দামিয়ান আর তার মধ্যে তার নামের পিছে আবরার নাম বসবে এটা ই তার পাওয়া, আর দামিয়ানের নজর কার ওপর পরলো নাকি না এটা তে তার কিছুই যায় আসতো না কিন্তু প্রানপ্রিয়া!!,, সারার কার্ড ধরে রাখা হাত শক্ত হয় ,

দামিয়ান রাশিয়াতে বড় হয়েছে তার বিদেশি কালচার অনেকটা উগ্র ।জীবনে এক নারী থাকা শর্তেও অন্য নারীর ওপর নজর যাওয়া তাদের কাছে স্বাভাবিক। কিন্তু !!
ভেতর থেকে হালকা ছটফট করে উঠে সারার, চোখে ভেসে ওঠে রেস্টুরেন্ট দামিয়ানের দৃষ্টি প্রাণপ্রিয়ার দিকে কত টা গভীর ছিল, সারা হাতের কার্ডটা টেবিলে ঠাস করে রাখে একজন আশ্রমের মেয়ে যার সাথে তার যত ই ভালো পরিচিত থাকুক সে তার বরাবর হবে তার ফেয়ান্সের নজরে পড়ে এটা কখনোই হবে না।
সারার এসব ভাবনার মাঝে রাইমা তার বরাবর সোফায় এসে বসেন তার সাথে একজন সার্ভেন্টও ছিল যে হাতে করে চায়ের ট্রে নিয়ে এসে তাদের সামনের টেবিলে রাখে।
__ কি ভাবছো সারা? হাসি মুখে রাইমা জিজ্ঞেস করে ওঠে ন।
সারা রাইমার উপস্থিতি আর তার প্রশ্নে খুব স্বাভাবিকভাবে ভাবনা থেকে বের হয়ে উত্তর দেয়,,
__ কিছু না আন্টি,

দুজনের কথার মাঝে দামিয়ান ও ফোনে কারো সাথে কথা বলতে বলতে সারার পাশে বসে ।
সারা দামিয়ানের দিকে ঘুরে তাকায়, দামিয়ান কালো রঙের পলো টিশার্ট পড়া যা ফর্সা জিম করা শরীরে আঁটসাঁট, সিল্কি চুল গুলো ভেজা কপালের দিকে পড়ে আছে হয়তো কিছুক্ষণ আগে শাওয়ার নিয়েছে।
দামিয়ান কান থেকে ফোন নামিয়ে মোবাইলে দিকে তাকিয়ে গম্ভীর কন্ঠে বলে,,
__ I don’t like being stared at
সারার মুখ থমথমে হয়ে যায় সাথে সাথে সে চোখ সরিয়ে ফেলে, sorry,
রাইমা চায়ের কাপে চা ঢেলে কাপ দামিয়ানের সামনে রেখে আর এক কাপ সারার দিকে দিয়ে নিজের জন্য রাখা চায়ের কাপ হাতে নিয়ে ঠোঁট ছোঁয়ান।
সারা চায়ের কাপ হাতে নেয়, দামিয়ান ও মোবাইলের দিক থেকে চোখ সরিয়ে চায়ের কাপ নেওয়ার মাঝে চোখ পড়ে টেবিলের ওপর রাখা ইনভিটেশন কার্ডের দিকে ,,

সকালের মিষ্টি রৌদ্র চারপাশে ঝলমল করছে প্রাণপ্রিয়া ধীর পায়ের জঙ্গল ঝিল পার হয়ে আবরার ম্যানসনের গার্ডেনে আসতে ই দূর থেকে দেখতে পায় সোফায় সারা বসা আর পাশেশশ,,,, !!
প্রাণপ্রিয়ার ভেতরটা চিপ দিয়ে ওঠে মনে আসে কালকে দামিয়ানের ব্যবহার, তার পা থেমে যায়, চোখ মুখে অন্ধকার চলে আসে। সে এই লোক থেকে দূরে থাকতে চাইলে ও কোনো না কোনো কারণে তার নিজেরই সামনে যেতে হয়, এটা অস্বস্তিকর ভীষণ অস্বস্তিকর, কিন্তু নাহ স্বাভাবিক থাকতে হবে সে ভয় পাবে না। আর কেনো ই বা ভয় পাবে ওই লোক চাইলেই তার ভয় পেতে হবে এমন কোনো কারণ নেই।
নিজেকে নিজে ভয় না পাওয়ার জন্য নানাভাবে বোঝাতে থাকে প্রাণপ্রিয়া এরপর বড় একটা নিশ্বাস নিয়ে বড় বড় কদম ফেলে আবার হাঁটা শুরু করে।
সোফায় বসা চুপচাপ চা পান করছে তিনজন , হালকা মৃদু বাতাস তাদের গা ছুঁয়ে যাচ্ছে, ঝলমলে রৌদ্র তাদের মাথার উপর ছাউনি থাকার জন্য স্পর্শ করতে পারছে না।

__শুভ সকাল সারা আপু, মিষ্টি সুরেলা কন্ঠ প্রাণপ্রিয়ার।
সারা পাশে তাকায়, প্রাণপ্রিয়া দৃষ্টি নত করে সামনে হাত বেঁধে দাঁড়িয়ে আছে।দামিয়ান কাপে চুমুক দেওয়া অবস্থায় চোখ তুলে প্রাণপ্রিয়াকে দেখে,
সারা মুখে হাসি নিয়ে বলে,,
__ তুমি এসেছ, আমি তোমার অপেক্ষাতে ছিলাম।
প্রাণপ্রিয়া দৃষ্টি তুলে, দুঃখিত আপু আপনাকে আমার জন্য অপেক্ষা করতে হলো। বলে পাশে রাইমার দিকে তাকায় প্রাণপ্রিয়া,,
__ শুভ সকাল আন্টি,রাইমা সৌজন্যমূলক হেসে মাথা নাড়ান। অতঃপর আবার দৃষ্টি নত করে দামিয়ানকে ও মিনমিন কণ্ঠে শুভ সকাল জানায় ।
দামিয়ানের ঠোটে হালকা বাঁকা হাসি দেখা যায়,,
সারা টেবিলের উপর রাখা কার্ড হাতে নিয়ে হাসিমুখে প্রাণপ্রিয়া দিকে ধরে বলে,,
__ কাল পার্টির ইনভিটেশন কার্ড তোমাকে অবশ্যই আসতে হবে।
প্রাণপ্রিয়া বিস্মিত হয় সে সারার দেওয়া কার্ডের দিকে এক নজর তাকিয়ে আবার সারার দিকে তাকায়,সারা ইশারা করে কার্ড নেওয়ার জন্য, প্রাণপ্রিয়া কাঁপা কাঁপা হাতে কার্ড নেয়,

__ তোমাকে কিন্তু অবশ্যই আসতে হবে প্রিয়া, আর এসেই প্রথম আমার সাথে দেখা করবে,
প্রাণপ্রিয়া মাথা নাড়ায়, জিজ,
সারা খুশি হয়, গুড, এখন তাহলে আমার জন্য একটা কাজ কর ওই যে দেখো তোমার পিছে বেলি গাছে অনেক ফুল ফুটে আছে আমার জন্য একটা মালা বানিয়ে দাও, পারবে?
প্রাণপ্রিয়া পিছে ঘুরে বেলি ফুল গাছটার দিকে তাকায় অতঃপর ঢোক গিলে ঠোঁটে হালকা হাসি টেনে বলে,, জিজ পারবো,
সারার ঠোঁটের হাসি চওড়া হয়, ঠিক আছে তাহলে যাও ,
প্রাণপ্রিয়া মাথা কাত করে, সে নিঃশব্দে ধীর পায়ে মালা বানানোর জন্য ফুল তুলতে চলে যায়।
প্রাণপ্রিয়া চলে যেতেই রাইমা অত্যন্ত হাসি মুখে সারার প্রশংসা করা শুরু করে, সারা চায়ের কাপে ঠোঁট ছুঁইয়ে বাঁকা হেসে ঘাড় ঘুরিয়ে দামিয়ান দেখে,
দামিয়ান কাপে ঠোঁট ছোঁয়াছে তবে তার দৃষ্টি সামনে প্রাণপ্রিয়ার দিকে, প্রাণপ্রিয়া বেলি গাছের কাছে গিয়ে ফুল তোলা শুরু করেছে, ফুল গুলো সে স্কার্ফে রাখছে ঝলমলে রৌদ্রে তাকে কতটা সুন্দর আর আকর্ষণীয় লাগছে তা দামিয়ানের আপাতত মোহভরা দৃষ্টি দেখলেই বুঝা যাবে। সারা দাঁত চেপে প্রানপ্রিয়ার দিকে তাকিয়ে উচ্চস্বরে বলে ওঠে,,

__ আমার গোলাপ ফুলের মালা ও চাই।
প্রাণপ্রিয়া দূর থেকে সারার দিকে তাকায় অতঃপর আদেশ মত পাশে গোলাপ গাছ থেকে গোলাপ ফুল নেওয়া ও শুরু করে। কাটাযুক্ত গোলাপ গাছের ফুল নেওয়ার সময় প্রাণপ্রিয়ার হাতে কাটার আঁচড় লাগতেই ফর্সা হাতে জায়গায় জায়গায় লাল হয়ে যায় ।সারা বাঁকা হাসে,
দামিয়ান হাতের চায়ের কাপ টেবিলে রেখে‌ সারার দিকে তাকায়, সারার ঠোঁটের হাসি দেখে বোঝা যাচ্ছে সে বিনোদন পাচ্ছে।, দামিয়ানের চোয়াল শক্ত হয়, সে জানতো প্রাণপ্রিয়া বিরক্তকর ‌ একটা মেয়ে, তাকে যা বলা হবে কোনো দ্বিধা ছাড়া সে তাই করবে ।আর সারা এর বিনোদন সব সময় নেয়‌ তাকে দেখেই বোঝা যাচ্ছে, এর মানে পার্টি তে ইনভাইট করার কারণ অবশ্যই আছে, সেটা হোক সবার কাছে অসহায় আশ্রমের মেয়েকে ইনভাইট করে ভালো সাজা বা অন্য কোনো বিষয়ে বিনোদন নেওয়া। , তবে এখন এই আশ্রিতা শুধু তার বিনোদনের জন্য শুধু সে উপভোগ করবে,এমনটা ভাবা তার জীবনের প্রথম ছিল। তাকে কারো সাথে ভাগ করবে না সে, কারো সাথে না।
কয়েক ঘণ্টাখানেক পর,

ইনভিটেশন কার্ড হাতে নিয়ে প্রাণপ্রিয়া আশ্রমে ফিরে এসেছে, এত বড়লোকদের পার্টিতে ইনভাইট পাওয়ার জন্য তার চোখে মুখে এখনো বিস্ময়। সে ভাবতে পারছে না এমন পার্টিতে তাকে অবশ্যই যাওয়ার জন্য বলা হয়েছে।
আশ্রমে বসার ঘরে বসে আছেন সুফিয়া সাথে রহমান সেলিনাও। সুফিয়া রহমানের সুস্থ হওয়ার কথা শুনে তার সাথে দেখা করতে এসেছেন আসার সময় কিছু ফল মিষ্টি ও নিয়ে এসেছিলেন যা সেলিনা প্লেটে পরিবেশন করে টেবিলের ওপর রেখেছে খাওয়ার জন্য।
প্রাণপ্রিয়া বিস্মিত ভাবনা নিয়ে সদর দরজা দিয়ে ভিতর ঢুকাতে ই তাকে চোখে পড়ে তাদের,
__ এতো দেরি হলো যে, সেলিনা বলে ওঠেন।
প্রাণপ্রিয়া ভাবনা থেকে বের হয়, সারা আপু কে ফুলের মালা গেঁথে দিয়েছিলাম তাই,
সুফিয়া দুজনের কথোপকথনে প্রাণপ্রিয়ার হাতের দিকে চোখ যেতেই তিনি অবাক কণ্ঠে বলে ওঠেন,,
__ আরে তোমার হাতে কি কালকের পার্টি ইনভিটেশন কার্ড না ?
সুফিয়ার কথা শুনে সেলিনা সাথে রহমান ও প্রাণপ্রিয়ার হাতের দিকে তাকায়,
প্রাণপ্রিয়া চোখ পিটপিট করে, হহ্যাঁ ইনভিটেশন কার্ড।
সুফিয়া মুখে অত্যন্ত খুশি নিয়ে বলে,, আরে বাহ এত বড় পার্টিতে তুমি ইনভাইট এটা তো অনেক খুশির ব্যাপার।পাশ থেকে সেলিনা কপালে ভাজ ফেলে জিজ্ঞেস করেন,,

__ কে করলো ইনভাইট তোমাকে?
প্রাণপ্রিয়া হাতের কার্ডের দিকে তাকায়,, সারা আপু তবে আআমি যাব না ভভাবছি , শেষের কথাটা প্রাণপ্রিয়া হালকা থেমে থেমে বলে , কারণ না গেলে সারা আবার আরেক ঝামেলা তবুও,
সুফিয়া চোখ বড় বড় করে গালে হাত দিয়ে বলেন,, কি বলছো যাবে না কেনো!
প্রাণপ্রিয়া হা করে স্বাস ফেলে ,,আমি সেখানে গিয়ে কি করবো আমার না যাওয়াই ভালো হবে,
রহমান ও মাথা নাড়ান, হ্যাঁ এত বড় লোক দের মাঝে আমরা খালি চোখে না দেখার মত আর একটা মেয়ে একা একা সেখানে কি করবে।
সুফিয়া বসা থেকে উঠে দাড়ায়, একদমই না প্রিয়া অবশ্যই যাবে, বড়লোকদের এমন পার্টিতে ইনভাইট পাওয়া চারটে খানা কথা না। কত ভালো ভালো খাবার থাকবে কত সুন্দর পরিবেশ , এই প্রিয়া বোকাদের মত কথা বলো না আমি শুনেছি এই পার্টিতে আবরার পরিবারের সকল পরিচিত মানুষদের দাওয়াত দেওয়া হয়েছে এর মানে তোমার বন্ধু কি যেন নাম, ওহ ইভান তাদের পরিবারকেও দাওয়াত দেওয়া হয়েছে।

, ইভানের কথা শুনে প্রাণপ্রিয়া চঞ্চল ভঙ্গিতে বলে,, কি সত্যি ?
সুফিয়া মাথা নাড়ান, হ্যাঁ সত্যি এমনটাই আমি শুনেছি, এখন তুমি পার্টিতে না যাওয়ার কথা বলো না। এখন তোমার ভাবার সময় কাল তুমি কেমন করে পার্টিতে যাবে আর তোমার সব থেকে সুন্দর জামাটা পড়বে।
জামার কথা শুনে প্রাণপ্রিয়া মুখ চুপসে যায় কারণ তার কাছে জামা কাপড় আছে কিছুদিন আগে সেলিনা কিনে দিয়েছিল কিন্তু এমন পার্টিতে যাওয়ার মত জামা তো তার কাছে নেই,
সেলিনা প্রাণপ্রিয়ার মুখের দিকে তাকিয়ে হা করে শ্বাস ফেলেন, সুফিয়া প্রাণপ্রিয়ার মুখ চুপসে যেতে দেখে বলেন,
__ কি হলো মুখ চুপসে গেল কেনো,

সোফায় বসে থাকা সেলিনা বলে ওঠেন, সুফিয়া ‌ভালো সুন্দর একটা জামা কিনতে কত টাকা লাগবে ।
প্রাণপ্রিয়া ‌আন্টির মুখ থেকে আবার জামা কেনার কথা শুনে দ্রুত বলে ওঠে,, আন্টি দয়া করে আপনি,,,
সেলিনা হাত উঁচু করে প্রাণপ্রিয়াকে থামিয়ে দেয়,, তবে প্রাণপ্রিয়া থেমে গেলেও ফের আবার বলা শুরু করে,, না আন্টি আর না আমার কোনো জামা লাগবে না যা আছে আমি তাই পড়ে ই যাব।
সুফিয়া দুজনের ‌ ইমোশনাল ড্রামা শুরু হওয়ার আগে হালকা উঁচু কন্ঠে বলেন,, এখন তোমরা শুরু হয়ে যেও না দয়া করে জামার ব্যাপারটা আমার উপর ছাড়ো,

উত্তরা ডিজাইনার হাউজে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে সারা নিজেকে আয়নার মধ্যে দেখছে, কালকের পার্টির থিম অনুযায়ী ব্ল্যাক কালার ওয়েস্টার্ন শাড়ি নিজের জন্য পছন্দ করেছে সে, যা তার অ্যাট্রাক্টি ফিগারে একদম পারফেক্ট,,
অন্যপাশে আহানাফ আর দামিয়ান নিজেদের জন্য সুট পছন্দ করে সোফায় গিয়ে বসে,,
__ আমাকে কেমন লাগছে ,
মেয়েদের জামা কাপড়ের দিক থেকে সারা হাসিমুখে দুজনের কাছে আসতে আসতে জিজ্ঞেস করে,
দামিয়ান পায়ের উপর পা তুলে সারাকে পা থেকে মাথা অব্দি দেখে,
পাশে বসা আহনাফের চোখ স্থির হয়ে গেছে সারার দিকে,,
__ You look so beautiful today as always my lady,
সারা খুসি হয়, thank you damiyan অতঃপর পাশের বসা আহনাফের দিকে তাকায়,
__ ব্রাদার ইন লো তোমার ও উচিত আমাকে প্রশংসা করা,

আহনাফ চমৎকার হাসে, কি বলে তোমাকে প্রশংসা করবো যাই বলবো কম হয়ে যাবে।
সারা শব্দ করে হেসে ওঠে,, এটা এই বছরের সবচেয়ে বেস্ট ডায়লগ ছিল তোমার যাইহোক আমি দেখি আরো কিছু পছন্দ হয় কিনা,,সারা চলে যায়।
আহানাফ সরার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে,
দামিয়ানের দৃষ্টি আশেপাশে সে বসা থেকে উঠে ধীর পায়ে হাঁটা শুরু করে,, তাদের সাথে নিলয় ও ছিল সে ও দামিয়ানের পিছে পিছে যায়। আহনাফ দামিয়ান কে যেতে দেখে নিজেও বসা থেকে ওঠে একা একা এখানে আর কি করবো,
উত্তরা ফ্যাশন হাউজে বাংলাদেশের টপ ডিজাইনারের যত কালেকশন আছে এখানে পাওয়া যায়।, আপাতত এখানে দামিয়ান তারা আছে বলে কোনো কাস্টমার নেই,
দামিয়ান ধীর পায়ে হেঁটে মেয়েদের কালেকশনে গিয়ে সাদা রঙের একটা ড্রেসের সামনে গিয়ে দাঁড়ায় ,,
দামিয়ানকে দাঁড়িয়ে যেতে দেখে নিলয় ও এক পাশে দাঁড়ায়,,

সে খলনায়ক পর্ব ১৯

__ নিলয়! গম্ভীর ভারি কণ্ঠ দামিয়ানের,
__ জি স্যার,
দামিয়ান নিলয়ের দিকে এক নজর তাকিয়ে ফের ড্রেসের দিকে তাকায়,পিছন থেকে আহনাফ ও ড্রেসটা এক নজর দেখে এরপর মনে মনে বলে,,
__ সারার গিফট অনেক পছন্দ,

সে খলনায়ক পর্ব ২১