Home পৌষপার্বণ পৌষপার্বণ পর্ব ২৬

পৌষপার্বণ পর্ব ২৬

পৌষপার্বণ পর্ব ২৬
Irfa Mahnaj

মাঝরাতের সেই কাহিনীর পর বাসায় এসে শুয়ে পড়ে পৌষপার্বণ।দেরি করে ঘুমানোর জন্য এখনো ঘুমোচ্ছে দুটোতে।
পৌষ কাত হয়ে একপাশে শুয়ে আছে। আর ওকে পেছন থেকে পেঁচিয়ে ধরে ওর ঘাড়ে মুখ গুঁজে রেখে বেঘোরে ঘুমোচ্ছে পার্বণ।
পৌষের মাথার কাছে বালিশের সাথে ওর ওড়না আর পার্বণের টিশার্ট রাখা। ঘুমানোর আগেই ফের খুলে রেখেছিলো পার্বণ। ওর নাকি গরম লাগে।
এমনিতেই কিশোর ছেলে এখন এদের রক্ত থাকে গরম তার উপর জেন-জি এদের আর নখড়ার শেষ নেই।
ঘুমের মাঝে একটু নড়ে চড়ে পৌষের পায়ের মাঝে নিজের পা ভালো ভাবে ঢুকিয়ে ওকে আরেকটু জাপ্টে নিজের সাথে জড়িয়ে ধরে পার্বণ।
ঘাড়ে চুমু এঁকে দেয় বোধহয় কি জানি ঠোঁট জোড়া তো তেমনি নড়লো। এই ছেলের ঘুমের মাঝেও কোনো শান্তি নেই।

এ পারলে ঘুমের মাঝেও হাডুডু খেলে। অবশ্য এখন সমস্যা না হলেও পেট আরেকটু বাড়লেই পৌষ নিজের আগের রুমে শিফট হবে। কারণ পার্বণের ঘুমানোর ধরণ খুব বাজে।
ও পুরো খাট নিয়ে ঘুরবে। কখনো পৌষ ঘুম থেকে উঠে দেখে ওর পায়ের সাথে পার্বণের মুখ তো কখনো পৌষকে লাথি দিয়ে ফেলে দেয়।
এমনও অনেক সময় হয় পার্বণ ওর পুরো শরীর সহ পৌষের উপর উঠে পড়ে আর বেচারি দম নিতে না পেরে দেখে এই অবস্থা। তারপর আর কি ওকে ঠেলে, ধাক্কা দিয়ে নিজের উপর থেকে সরায়।
অনেক সময় তো পৌষকে ভর্তা বানিয়ে ওর দফারফা করে দেয়। এ কারণে পৌষ কোনো রিস্ক নিতে পারবে না।
এইযে দুই বান্দা কি সুন্দর নিষ্পাপ বাচ্চাদের মতো ঘুমিয়ে আছে কেউ বলবে এরা এতো জাউরামি জানে? রাতে ভণ্ডামি করে এসে এখন ক্লান্ত হয়ে বিশ্রান নিচ্ছে। ভণ্ডামি করায় যদি টাকা পয়সা থাকতো এতো দিনে টাকার বান্ডিল ঘুমিয়ে থাকতো এই দুই জাউড়া।
এরা নাকি আবার হবে বাপ মা! বাচ্চা কি জাউরামি করবে বাপ মাই জাউরামি করে ওদের অতিষ্ট করে তুলবে।

ঘুমের মাঝে হঠাৎ করে এমন চিৎকার শুনতেই খাটের কিনারে অর্ধেক ঝুলে থাকা বসন্ত ধপ করে মাটিতে পড়ে গেছে।
এক হাত আর এক পা বেড থেকে বাহিরে ঝুলিয়ে শুয়ে ছিলো বসন্ত। এমনিতেও একটু পড়ে এই ছেলে পড়েই যেতো।
— ওমা গোওওও! কে এতো সকাল বেলা চেঁচায় রে!
কোমর ধরে আর্তনাদ করে উঠলো বসন্ত। বেচারার ভাগ্যটাই খারাপ। সারাদিন ওর আগে পিছে ঝামেলা খালা খালি ঘুরবে।
বসন্ত বুঝে পায় না। শান্তির মায়ের শান্তির বাপের সাথে ঝগড়া হওয়ায় সে বসন্তের জীবনে থাকে না কিন্তু ঝামেলা খালা কেনো ওকে ছাড়তে চায় না।
দুই হাত তুলে আড়মোরা ভেঙ্গে রুম থেকে বের হয়ে গেলো বসন্ত।
এদিকে সারারাত বনচাঁপার রাগ ভাঙাতে ভাঙাতে মোবাইলের চার্জ শেষ প্লাস ওর নিজেরও চার্জ শেষ । কোন ছাতা করতে যে বাতাসি নামক বাতাসের হেল্প করতে গিয়েছিলো!
হোয়াটস্যাপ এ ১২০০+ প্লাস ম্যাসেজ দিয়েছে বোধহয়। ম্যাসেঞ্জারেও ম্যাসেজের বন্যা বইয়ে দিয়েছে। কল এমনে ম্যাসেজ কিন্তু সব জায়গা দিয়েই নো রিপ্লাই, নো রেসপন্স।
সিনিয়র পটাতে যে কেনো এতো কষ্টওওওওও!পটানের আগেই না সব শেষ হয়ে যায়!
হেমন্তের এখন কান্না পাচ্ছে রীতিমতো। ও পারলে হাত পা ছড়িয়ে ছিটিয়ে কান্না করে। গতরাতে পূর্ণা যদি না বলতো তাহলে তো এও জানতে পারতো না।

জেলাস ও হবে আবার হেমন্ত তার কাছে গেলে এমন একটা ভাব ধরবে যেনো হেমন্তকে দেখতেই পারে না। মানে ভাঙবে তবু মচকাবে এমন হয়েছে দশা।
এই নারী জাতিকে কখনো বোঝাই যায় না আর সিনিয়র জাতি তো আরো এক ধাপ উপরে। এখন সামনাসামনি দেখা করে রাগ ভাঙাবে আর কি করবে এছাড়া।
বেচারার ভাগ্যে বোধহয় শান্তিতে টেনশন করাও নেই। চিৎকারের আওয়াজে ওর কানের ভিতরের সব নড়ে গেছে। কোনো রকমে স্লিপার পড়ে দৌড়।

চিৎকারের এই আওয়াজ ভাদ্রদের রুমেও এসেছে। মানে গোটা বাড়ি এক চিৎকারে উঠে পড়েছে।
পাশ হাতড়ে কোনোরকমে টিশার্ট গায়ে গলিয়ে হাঁটা দেয় ভাদ্র। অর্ধেক পথ যেতেই ওকে থামতে হয় চৈত্রের কথা শুনে।
আসলে রাতের বেলায় ভাদ্র আর চৈত্রের মাঝে কিছু মিছু হওয়ার কারণে ভাদ্রের টিশার্ট ভাদ্র চৈত্রকে পড়িয়ে দেয়।
আর নিজে খালি গায়ে ছিলো। সকালে এমন চিৎকার শুনে কোনো কিছু খেয়াল না করেই চৈত্রের লেডিস টিশার্ট যেটা হাটু অবধি পড়ে সেটা পড়েই হাঁটা দেয়।
চৈত্র বিছানায় গড়াগড়ি করে হাসছে। হাসতে হাসতেই শুধায়,

— আমার ওড়নাটাও নিয়ে যা। ভাবিনি আমার গেঞ্জি যে আমার থেকে তোর গায়ে বেশি ভালো মানাবে।
এই বলেই নিজের ওড়নাটা ভাদ্রের দিকে এগিয়ে দিলো চৈত্র। ভোঁতা মুখ করে দাড়িয়ে রইলো ভাদ্র।
এগিয়ে গিয়ে চৈত্রের গেঞ্জি খুলে ওর মুখে ছুড়ে মেরে ওয়াড্রপ থেকে নিজের শার্ট নিয়ে পড়ে ভাদ্র।
তারপর হনহন করে বেরিয়ে যায়। যাওয়ার আগে আবার টিপ্পনী কাটতে ভুলে না।
— কিছু কিছু মানুষের মুখটা সবসময় অকাজের কথাই বলে। তারা বোধহয় জানে না মানুষ মাত্রই ভুল।
— আর কিছু মানুষের মেয়ে সাজার ভুত এখনো নামেনি। ছোট বেলার মতো এখনো সে আমার জামা কাপড় পড়তে পছন্দ করে।
ছোট বেলায় ভাদ্র প্রায় চৈত্রের জামা পড়ার জন্য কান্না করতো। নিজের জামা ছেড়ে সারাক্ষণ চৈত্রের জামা পড়ে থাকতো। ওর মতো সাজতো।
সেই নিয়েই খোটা দিলো এখন চৈত্র। থমথমে মুখ নিয়ে এবার বেরিয়ে গেলো ভাদ্র।

চিৎকারের কারণে পুরো বাড়ি রান্নাঘরের সামনে হাজির তবে যার জন্য চিৎকার ছিলো সেইই এখনো হাজির হতে পারেনি।
সকাল বেলা ফাল্গুন, বর্ষা এসেছে রান্নাঘরে।এসেই পুরো চারশো বিশ ভোল্টের বিদ্যুৎ শক খেলো।
এটা রান্নাঘর!ফাল্গুনের তো মাথায় হাত। তার সাধের রান্নাঘরের এমন করুন দশা দেখে। তবে তার এটা বুঝতে একটুও সময় লাগে না এই আকাম করছে কে।
এসব জাউরামি পার্বণ জাউড়া ছাড়া কেউ করতেই পারবে না। সবাই আসলেও পার্বণ না আসতে উনি চেঁচিয়ে উঠলেন আবারো।

পৌষপার্বণ পর্ব ২৫

— জাউড়া পোলায় জাউরামি কইরা এখন গেছে কই? জাউড়ার জাউরামি, ভণ্ডামি না করলে বুঝায় ওর পেটের ভাত হজম হয় না।
— কি হচ্ছে কি এখানে? মনে হচ্ছে আমাকেই খোজা হচ্ছে।
খুব ভাবের সাথে কথাটা বলতে দেরি পার্বণের কিন্তু ওর মুখের উপর ফাল্গুনের ডাল ঘুটনি মারতে দেরি হয় না!

পৌষপার্বণ পর্ব ২৭