Home এক মুঠো চাঁদের আলো এক মুঠো চাঁদের আলো পর্ব ২৪

এক মুঠো চাঁদের আলো পর্ব ২৪

এক মুঠো চাঁদের আলো পর্ব ২৪
নুসরাত ফারিয়া

সবাইকে নিয়ে জঙ্গল থেকে বের হয়ে এল। তারপর হঠাৎই কিছু একটা খেয়াল করে আধার থেমে যায়। চট করে ঘাড় ঘুরিয়ে আশেপাশে তাকিয়ে কাঙ্ক্ষিত ব্যক্তিকে খুঁজল। কিন্তু সেই চিরচেনা রমণীর সুন্দর, মাসুম চেহারাটা নজরে এল না। আধার আবারো ভালো করে সবার মাঝে মেয়েটাকে খোঁজার চেষ্টা করল। কিন্তু নাহ! এদের মধ্যে কোথাও নেই মেয়েটি। তাহলে হুট করে মেয়েটা কোথায় গেল? এরই মধ্যে শালুক দৌড়াতে দৌড়াতে ছুটে আসে। কুঁজো হয়ে দুই হাঁটুতে ভর দিয়ে হাঁপাতে হাঁপাতে বলল,
-“শ…শূকর…বুনো শূকর আলোকে তাড়া করেছে। আর মেয়েটা ভয়ে জঙ্গলের গভীরে ঢুকে গেছে। আ…আমি অনেক ডেকেছি! কিন্তু কোনো সাড়াশব্দ পাইনি। জীবজন্তুর ভয়ংকর ডাকে আমি ভয়ে চলে এসেছি।”
শালুকের কথা শুনে সবাই ঘাবড়ে গেল। তামান্না ছুটে এসে চিল্লিয়ে বলল,

-“তুমি মেয়েটাকে একা রেখে চলি এলি কীভাবে?”
-“তো আমি কী করতাম? ওকে খুঁজতে গিয়ে যদি আমার কোনো বিপদ হতো, তখন?”
তামান্না কি বলবে বুঝতে পারল না। এইদিকে মেয়েটার ফোনসহ ব্যাগটাও তার কাছে। আসার পথে তার ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়েছিল। অথচ এখন মেয়েটাই গায়েব।
-“সব ঠিক আছে? না মানে, এখানে দাঁড়িয়ে কেন সবাই?”
তূর্ণের কথা শুনে আধারের হুঁশ ফিরল। পাশে তাকিয়ে উদ্বিগ্ন কণ্ঠে বলল,
-“তুই সবাইকে নিয়ে রিসোর্টে ফিরে যা। আলো জঙ্গলে আঁটকে পড়েছে, আমি ওকে খুঁজে নিয়ে ফিরবোনি।”
তূর্ণ চমকে উঠল। আধারকে যেতে দেখে পিছন থেকে কাঁধ ধরে বাঁধা দিয়ে বলল,
-“এইভাবে জঙ্গলের ভেতর একা যাওয়া তোর ঠিক হবে না।”
আধার দাঁতে দাঁত চেপে পিছনে ফিরল। তারপর থেমে থেমে হিসহিসিয়ে বলল,

-“ওই…ওই মেয়ে আমার বউ! ওকে খুঁজতে শুধু এই একটা জঙ্গল কেন? এমন হাজারটা জঙ্গলে যেতে পারি।”
একথা বলে আর দাঁড়ায় না আধার। টর্চ নিয়ে একপ্রকার ছুটে জঙ্গলের ভেতর প্রবেশ করল। আর মনে মনে চাইল, মেয়েটা যেন ঠিক থাকে!
রাত ঘনিয়ে এসেছে। পুরো জঙ্গল দিগুণ নিস্তব্ধতায় ছেয়ে গেছে। আধার একহাতে মোটা লাঠি এবং অন্য হাতে টর্চ নিয়ে এদিকওদিক ছুটছে আর আলোকে ডাকছে। মেয়েটার জন্য চিন্তায় চিন্তায় তার মাথাটা ফেটে যাচ্ছে। এইজন্যই সে জঙ্গলে নিয়ে আসতে চায়নি মেয়েটাকে। সারাক্ষণ যেটার ভয় পেয়েছে এখন ওটাই হলো। এখন না জানি মেয়েটা কেমন অবস্থায় আছে।
আধার জঙ্গলের আরো গভীরে ঢুকে অধৈর্য্যের মতো চিৎকার করে উঠল,
-“আলোওওওও!”

নিস্তব্ধ জঙ্গলের ভেতর তার চিৎকার ভয়ংকর ঠেকল বটে। আশেপাশের গাছপালা থেকে পাখিরা ভয়ে ডানা ঝাপটিয়ে উড়ে গেল। একটা গাছের মগডালে সাপ দেখেও ভয় পেল না আধার। বরং আরো ভেতরে প্রবেশ করল এবং আবারো মেয়েটার নাম ধরে চিৎকার করে ডেকে ওঠে।
অন্যদিকে, স্যারের কণ্ঠস্বরে আলোর শরীরটা কেঁপে উঠল। তবে চোখ মেলে তাকানোর সাহস করল না। কারণ সে অনুভব করতে পারছে, কিছু একটা তার গা ঘেঁষে বসে আছে। তাই তো ম’রার মতো পড়ে আছে, মাঝেমধ্যে নিঃশ্বাসও আঁটকে রাখছে। এখানে পড়ার সময় খেয়াল করেছিল, পাশে একটা লেক আছে। ওখান থেকে না আবার কুমির-টুমির উঠে এসেছে। সে কিছুতেই কুমিরের পেটে যেতে চায় না।
আধার একসময় একটা পাহাড়ের ওপর আসে। মেয়েটার নাম ধরে ডাকতে চেয়েও কিছু একটা দেখে গলায় কথা আটকে গেল। টর্চের সাদা আলো নিচে লেকের পাশে তাক করল। মূহুর্তেই কয়েকটা হার্টবিট মিস হয়ে যায়। আধার চোখমুখের ঘাম মুছে জোরে শ্বাস নিয়ে নিজেকে সামলিয়ে আশেপাশে তাকিয়ে নিচে নামার পথ খুঁজল। একটু পর একটা সরু কাঁচা পথ দেখে তড়িঘড়ি করে নেমে পড়ল।

একটা ঢিলার ওপর অবহেলায় পড়ে থাকা ছন্নছাড়া দেহখানা দেখে, না চাইতেও তার বুকের ভেতরটা কেমন করে উঠল। এইটুকু পথ, অথচ মনে হচ্ছে বিশাল লম্বা। আচ্ছা, মেয়েটা ওইভাবে পড়ে আছে কেন? খুব বেশি কী ব্যথা পেয়েছে? নাকি তার উপর রাগ করেছে, তাকে জঙ্গলের মাঝে ভুলে রেখে যাওয়ার জন্য?
কোনো জবাব পেল না আধার। আর না জবাবের আশায় থেমে থাকল। সে শুকনো ঢোক গিলে বড় বড় পা ফেলে এগিয়ে আসতেই মেয়েটার পাশে বসে থাকা বাঁদরটা লাফিয়ে চলে গেল। চোখেমুখে তীব্র আলো পড়তেই মেয়েটার ক্ষতবিক্ষত শরীরটা নড়ে উঠল। এতক্ষণ দাঁতে দাঁত চেপে সমস্ত ব্যথা সহ্য করলেও এখন আর পারল না। মূহুর্তেই ঠোঁট ভেঙে ফুপিয়ে কেঁদে উঠে আধোআধো চোখে সামনে তাকাতেই কান্না গলার মধ্যে আঁটকে গেল।
আধারের কেন জানি পা জোড়া ভীষণ দূর্বল লাগল। সে মূহুর্তেই মেয়েটার পাশে হাঁটু ভেঙে বসে পড়ল। অসহায় চোখে ক্ষতবিক্ষত, মাটিতে ভরা শরীরটার দিকে তাকায়৷ আলো জোরে জোরে নিঃশ্বাস নিতে নিতে কয়েকবার চোখের পলক ঝাপটিয়ে বোঝার চেষ্টা করল—সে আদৌ সঠিক দেখছে কি-না। শরীরের ব্যথা হজম করে ছিঁলে যাওয়া কাঁপা কাঁপা বাম হাতটা উঁচু করে বিরবির করল,

-“আ…আপনি আমার ভ্রম নাকি বাস্তব?”
আধার ঠোঁট কামড়ে মেয়েটার হাত নিজের গালের মাঝে চেপে ধরে ধীর কণ্ঠে বলল,
-“বাস্তব আমি।”
আলোর চোখের কুর্ণিশ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে। সে ওঠার চেষ্টা করতেই আধার চট করে নিজের বুকের মাঝে আগলে নিল। আলো দু’হাতে স্বামীর গলা জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কেঁদে উঠল।
-“আ…আমি! আমি ভেবেছিলাম, আ-আপনি আমাকে এই জঙ্গলে রেখেই চলে যাবেন।”
আধার চোখ বুজে নিয়ে মেয়েটার পিঠের মাঝে হাত রাখতেই চমকে উঠল। তড়াক করে হাত সামনে নিয়ে এসে দেখল—র’ক্ত! হয়তো মেয়েটার পিঠ কেটে গিয়েছে। আলো ভাঙা ভাঙা গলায় বিরবির করল,
-“প…পা! আ-আমার পা ভেঙে গেছে বুঝি।”

আধার চমকাল। তড়িঘড়ি করে মেয়েটাকে নিচে শুয়ে দিয়ে সে পায়ের কাছে গিয়ে বসল। আলো ইশারায় বাম পা দেখিয়ে দিল। আধার পা থেকে স্নিকার্স খুলতেই উন্মুক্ত হলো একখানা সাদা পা! যার গোড়ালি লাল হয়ে ফুলে উঠেছে। আধার ভালো করে পা পর্যবেক্ষণ করে নিয়ে বলল,
-“এখন তোমাকে আরো কষ্ট দিবো। তারজন্য সরি!”
আলো বুঝতে না পেরে তাকিয়ে থাকল। ঠিক তখনই আধার দু’হাতে পা শক্ত করে চেপে ধরে মোচড় দিতেই আলো গলা ফাটিয়ে চিৎকার দিয়ে উঠল এবং মূহুর্তেই জ্ঞান হারিয়ে ফেললো।
আধার শব্দ করে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে মেয়েটার কাছে এগিয়ে এসে, পকেট থেকে রুমাল বের করে কপালের ক্ষতস্থানে বেঁধে দিল। তারপর শরীর থেকে কোট খুলে মেয়েটাকে পরিয়ে দিয়ে সাবধানে নাজুক শরীরটাকে কাঁধে তুলে নিল। এবং অন্য হাতে টর্চ ধরে সামনে এগোতে শুরু করল।
জঙ্গলের বেশ গভীরে প্রবেশ করার ফলে আধার পথ হারিয়ে ফেলেছে। বেশ কিছুক্ষণ হাঁটার পর বনের উত্তর-পূর্ব দিকের পাহাড়ের উঁচুতে পুঞ্জির সন্ধান পেল। যেটা দেখে মনে মনে স্বস্তির নিঃশ্বাস ছেড়ে সামনে এগিয়ে গেল। এবং একটি খাসিয়াদের তৈরি মাচা ঘরের নিচে এসে থামল। রাত বেশ হওয়ায় আশেপাশে কাউকে দেখা গেল না। আধার কাঠের তৈরি সিঁড়ি বেয়ে উপরে থাকা ঘরটার দিকে যায়। তারপর দরজায় কয়েকবার শব্দ করতেই একজন খাসিয়া বৃদ্ধা দরজা খুলে দিলেন।

-“​ফি কি-এই? ফি ওয়ান লেহ হাংনে?”
বৃদ্ধার বলা অদ্ভুত ভাষা শুনে আধার কিছুই বুঝল না। লোকটা হয়তো বুঝতে পারল, এরা তাদের ভাষা জানে না। তাই তিনি ভাঙা ভাঙা বাংলা ভাষায় বলার চেষ্টা করল,
-“কই থেকে আইলা তোমরা? এই গহীন বনে কী চাও?”
আধার শব্দ করে নিঃশ্বাস ছেড়ে সবটা বলল। তারা কীভাবে এখানে আঁটকে গেছে সেটাও বলে। বৃদ্ধা কপাল কুঁচকে যুবকের কাঁধে ঝুলতে থাকা অচেতন মেয়েটাকে দেখে জিজ্ঞেস করল,
-“ওইডা কে?”
আধার ঘাড় কাত করে মেয়েটার দিকে তাকিয়ে ধীর কণ্ঠে বলল,
-“আমার বউ।”
বৃদ্ধা কিছুক্ষণ চুপ থেকে গম্ভীর কণ্ঠে বললেন,
-“কেমনে বিশ্বাস করি সে তোমার ঘরের বউ? তুমি তো তারে জঙ্গল থেকে ধইরাও আনতে পারো!”
লোকটার কথা শুনে আধার খ্যাক করে বলল,

-“হোয়াট ননসেন্স! আমাকে দেখে কী আপনার মেয়ে ধরা মনে হচ্ছে?”
বৃদ্ধা তীক্ষ্ণ চোখে মাথা থেকে পা পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করে নিয়ে বলল,
-“শহরের ভদ্র পোলা মনে হয় তোমারে। কিন্তু আমি জানি, তোমাদের মতো এই সুন্দর চেহারার পোলারাই মাইয়াদের মিষ্টি কথায় ভুলায়, তারপর জংগলে নিয়া গুম করে। আমি কি এমনে এমনেই বুড়া হইছি?”
আধারের মেজাজ খারাপ হলো। এই লোকটা তাকে সোজা কিডন্যাপার বানিয়ে দিয়েছে। সে নিজের বউকে গুম করে কী করবে, আশ্চর্য! বৃদ্ধা ঘরের ভেতর থেকে এক আঁজলা পানি নিয়ে এসে বললেন,
-“মেয়েটারে নামাও এবং চোখেমুখে পানি দিয়ে জ্ঞান ফিরিয়ে আনো।”
আধার তপ্ত শ্বাস ফেলে আলোকে আস্তে করে নিচে নামিয়ে বাঁশের চটা দিয়ে তৈরি দেয়ালের সাথে হেলান দিয়ে রাখল। বৃদ্ধার হাত থেকে পানি নিয়ে অচেতন মেয়েটার চোখেমুখে ঝাপটা দিতেই নড়েচড়ে উঠল। আলো শরীরের ব্যথায় গুঙিয়ে উঠে বলল,

-“ক…কষ্ট হচ্ছে স্যার!”
আধার আলোর গালে হাত রেখে কিছু বলতে যাবে তখনই বৃদ্ধা রাগান্বিত কণ্ঠে বললেন,
-“তুমি না একটু আগে কইলা, এই মেয়ে তোমার বউ? তাহলে এখন তোমারে স্যার ডাকে কেন? তারমানে আমি ঠিকই ধরছি। তুমি এই মেয়েকে তুলে নিয়ে আইছো। তোমারে তো আমি বাইধা রাখব!”
লোকটার এমন কথা শুনে আলো চমকে উঠল। তড়িঘড়ি করে স্যারকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে চিল্লিয়ে বলল,
-“উনি…উনি আমার স্বামী, স্যার দুটোই হোন। উনি আমাকে কেন তুলে নিয়ে আসবে? উল্টো উনার জন্যই এখন আমি বেঁচে আছি। নয়তো এতক্ষণে কুমির, সাপের পেটে চলে যেতাম। আপনি…আপনি উনাকে কিছু করবেন না। উনি ভালো, খুব ভালো।”
আধারের দৃষ্টি শীতল হলো। সে মেয়েটাকে আলিঙ্গন করে বৃদ্ধার উদ্দেশ্যে বলল,

-“এখন নিশ্চয়ই আপনার বিশ্বাস হয়েছে ও আমার বউ? দেখুন মেয়েটার শরীরের অবস্থা ভালো নেই। পাহাড় থেকে পড়ে গিয়ে অনেক বাজেভাবে আঘাত পেয়েছে। এমন সময়ে তাকে নিয়ে আমি ফিরতেও পারব না। জঙ্গলের ভেতর দিয়ে এখন যাওয়াটা রিক্স! তাই আপনার কাছে রিকোয়েস্ট করছি, আজকের রাতটা আমাদের এখানে থাকতে দিন। সকাল হলেই চলে যাবো!”
আলো নীরবে কাঁদছে। মেয়েটার মাসুম চেহারা দেখে বৃদ্ধার বড্ড মায়া হলো। তাই তিনি আর কথা না বাড়িয়ে পাশের ছোট্ট রুমের দরজা খুলে দিয়ে বললেন,

-“যাও, ভেতরে যাও।”
আধার জোরে নিঃশ্বাস ছেড়ে আলোকে পাঁজা কোলে তুলে নিয়ে বাঁশের তৈরি ঘরের ভেতরে প্রবেশ করল।
ঘরের ভেতরটা বেশ অন্ধকার এবং শীতল। বাঁশের চটা দিয়ে তৈরি দেয়ালের ফাঁক দিয়ে চাঁদের আলো তেরছাভাবে ভেতরে এসে পড়ছে। ঘরের এক কোণায় রাখা আছে বড় বড় বাঁশের তৈরি ঝুড়ি। যাতে তারা পান সংগ্রহ করে! বিছানা বলতে রয়েছে—বাঁশের তৈরি মজবুত একটা চাটাই। তার ওপর কয়েকটা মোটা কাঁথা ভাঁজ করে রাখা। শক্ত কোনো কাপড়ের পুঁটুলি বালিশ হিসেবে আছে। বাঁশের মেঝে হওয়ায় হাঁটলে একটা ‘মচমচ’ শব্দ হচ্ছে, যা রাতের নির্জনতায় বেশ অদ্ভুত লাগছে।

আলোকে নিয়ে এসে চাটাই-এর ওপর শুয়ে দিল আধার। আপাতত আজ রাতটা কষ্ট করে হলেও এখানেই কাটাতে হবে। এছাড়া আর উপায় নেই! অন্যদিকে, আলো শারীরিক যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে। জ্ঞান হারিয়েই তো ভালো ছিল। এই অসহনীয় ব্যথা সইতে হতো না। আধার বুঝতে পারছে না এখন সে কী করবে? এত রাতে ডাক্তার কই থেকে আনবে? তবুও সে মেয়েটাকে রেখে বাইরে এল। কিছু একটা তো করতে হবে, নয়তো মেয়েটা ব্যথায় পুরো রাত এইভাবে ছটফট করবে। কিন্তু তাকে বেশিকিছু করতে হলো না। ওই খাসিয়া বৃদ্ধা লোকটাই দুটো পাত্র এনে দিল। একটাতে ছিল—বুনো ঔষধি পাতার রস আর একটাতে চুন, হলুদের লেপ!
আধার সেগুলো নিয়ে এসে প্রথমে চুন, হলুদের লেপটা আলোর পায়ের গোড়ালিতে মেখে কাপড়ের টুকরো দিয়ে বেঁধে দিল। বাঁশের তৈরি মোড়া নিয়ে মেয়েটার পাশে বসল। তারপর শরীর থেকে কোট খুলে নিল! কপালের ক্ষতস্থান ওই ঔষধি রস দিয়ে র’ক্ত মুছে দিয়ে লেপ লাগিয়ে ওখানেও কাপড় বেঁধে দিল। যেন র’ক্ত পড়া বন্ধ হয়।
মেয়েটা ফুল হাতার গাউন পরে আছে। যেটা নোংরা হয়ে ছিঁড়ে-টিড়ে নাজেহাল অবস্থা। উন্মুক্ত হওয়া ত্বকগুলোর শুকিয়ে যাওয়া র’ক্ত পরিষ্কার করে দিল। তখন মনে পড়ল, মেয়েটার পিঠ ভিজে ছিল৷ আধার আলতো হাতে মেয়েটাকে উঠাল। কোমরে ব্যথা পাওয়ার ফলে বসে থাকতেও কষ্ট হচ্ছে আলোর। সেটা হয়তো উপলব্ধি করতে পারল আধার। তাই তো দূর্বল মেয়েটাকে নিজের বুকের মাঝে ঠাঁই দিল। পিছন থেকে চুল সরিয়ে জামার জিপার খুলে দেখে লম্বাভাবে চামড়া চিঁড়ে গিয়ে র’ক্ত শুকিয়ে আছে। নিচে কোমরের দিকেও র’ক্তের হালকা দাগ! আধার চোখ বুজে আড়ালে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল। মেয়েটা একটু বেশিই ব্যথা পেয়েছে। সে কিছু একটা ভেবে ধীর কণ্ঠে বলল,

-“তোমার ড্রেস খুলতে পারি?”
আলো দাঁতে দাঁত চেপে দু’হাতে স্বামীর বুকের কাছে শার্ট খামচে ধরে নীরবে চোখের পানি ফেলছিল। তখন লোকটার কথা শুনে চোখ মেলে তাকায়। সে বুঝতে পারছে, কেন মানুষটা এমন করতে চাচ্ছে। কারণ তার জামার আড়ালেও অনেক ক্ষতস্থান আছে। আলো চোখ বুজে লম্বা শ্বাস নিল। স্বামীই তো হয়! কোনো পরপুরুষ না তো। তাহলে এত কিসের আপত্তি? লোকটা কখনোই তার দিকে বাজে নজরে তাকাবে না। এতটুকু তো বিশ্বাস রয়েছে৷ তাই সে ছোট্ট করে বলল,

-“হু!”
অনুমতি পেয়েও কিছুক্ষণ থম মে’রে বসে থাকল আধার। তারপর তপ্ত শ্বাস ছেড়ে সহসাই মেয়েটার জামা খুলে দেয়। তারপর পিঠের ক্ষতস্থান পরিষ্কার করে লেপ লাগিয়ে দিয়ে আলোকে ওইভাবে নিয়েই চুপ করে বসে থাকল। কিছুক্ষণ পর লেপ শুকিয়ে এলে মেয়েটাকে শুয়ে দিয়ে শরীরের বাকী ক্ষতস্থানে ঔষধ লাগিয়ে দিল। আলো পিটপিট করে তাকায়। শরীরের ব্যথার কাছে লাজলজ্জা সব গায়েব হয়ে গেছে। সে শব্দ করে নিঃশ্বাস ছাড়ল। মানুষটা কত যত্নের সাথে তার সেবা করছে৷ ওই তীক্ষ্ণ রক্তিম চোখে তার প্রতি এক আকাশসম যত্নই দেখতে পেল। যেটা দেখে আনমনে হাসল আলো।
আধার কোমরে ঔষধ লাগিয়ে খেয়াল করল মেয়েটার হাঁটুর কাছেও র’ক্তের চিহ্ন। সে ফোঁস করে শ্বাস ছাড়ল। এই মেয়ের পুরো শরীরটাই ক্ষতবিক্ষত হয়ে গেছে৷ বসা থেকে উঠে পায়ের কাছে এল। তারপর ঝুঁকে হাঁটু পর্যন্ত জিন্স তুলে দিয়ে রস আর লেপ লাগিয়ে দিল।

-“আর কোথাও লেগেছে?”
মেয়েটার ফুলে ওঠা রক্তিম চেহারার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল আধার। আলো একটু নড়েচড়ে মাথা নাড়িয়ে ‘না’ বোঝাল। আধার আর কিছু না বলে নিজের দু’হাত পরিষ্কার করে নিয়ে মোড়া টেনে বসল।
এখানে কোনো বিদ্যুৎতের ব্যবস্থা নেই। ছোট্ট ঘরটার মেঝেতে একটা হারিকেন মিটমিট করে জ্বলছে। আর জানালা দিয়ে আসা চাঁদের আলোয় ঘরটা আবছা হয়ে আছে। আধার খেয়াল করল, চাঁদের এক মুঠো আলো এসে মেয়েটার উন্মুক্ত শরীরের ওপর আছড়ে পড়েছে। এবং সূক্ষ্ম ভাবে ছুয়ে চলেছে! এটা দেখে কপালের মাঝে চারটে ভাজ পড়ল। এমন মহনীয় ও মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখেও কেন জানি তার সহ্য হলো না। চট করে উঠে এসে ঝড়ের বেগে ধরাম করে জানালা বন্ধ করে দিল। ফলস্বরূপ চাঁদের আলো আর ঘরে পৌঁছাতে পারল না!

আলো চোখ বুজে রয়েছে। সে ভীষণ ক্লান্ত! অন্যদিকে আধারের নজর না চাইতেও আটকায় রমণীর উন্মুক্ত, মেদহীন ছোট্ট ফর্সা পেটের ওপর। গোলাকৃতি গভীর নাভীবিন্দু দেখে শুকনো ঢোক গিলে অনুভব করল, গলা শুকিয়ে গেছে। খুব পিপাসাও পেল। আধার চট করে নজর সরিয়ে নিল। কিন্তু ন্যানো সেকেন্ডের মাঝে আবারো তাকাল৷ দু’হাত প্যান্টের পকেটে গুঁজে সটান হয়ে দাঁড়িয়ে থেকে, কপাল কুঁচকে তীক্ষ্ণ চোখে রমণীর উদরের মাঝে তাকিয়ে থাকল। শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়ার সময় ওঠানামা করা পেটের সেই মারাত্মক সুন্দর দৃশ্যটা অপলক নয়নে দেখল।
সময় আপন গতিতে বয়ে গেল। অথচ আধারের দৃষ্টি সরে না! মেয়েটা এত সময়ের মধ্যে কতবার নিঃশ্বাস নিয়েছে, তা সবটাই গুনে ফেলেছে। এমনকি মেয়েটার পেটে ক’টা তিল আছে সেটাও দেখল। আলোকে চোখ মেলে তাকাতে দেখে চট করে চোখ বুজে মুখ সরিয়ে নিল। যেন এতক্ষণ ধরে সে কিছুই করেনি।

-“আপনি কী এখন দাঁড়িয়ে থেকে ঘুমাবেন?”
-“তো কী তোমার কাছে যাবো?”
-“চাইলে আসতে পারেন, আই ডোন্ট মাইন্ড।”
-“একটা আছাড় মে’রে জানালার বাইরে ফেলে দেবো বেয়াদব!”
স্যারের কথা শুনে আলো ফিক করে হেঁসে দিল। আধার আড়চোখে সেই হাসিটা লক্ষ্য করল। শরীরে ঔষধ লাগানোর ফলে অনেকটাই আরাম পেয়েছে আলো। তাই তো ব্যথায় ছটফট না করে চুপ করে আছে। দরজায় ঠকঠক আওয়াজ হতেই আধার চাদর টেনে মেয়েটার শরীরের ওপর দিয়ে বাহিরে গেল। বৃদ্ধা লোকটা দু কাপ চা আর কিছু শুকনো খাবার দিল। আধার প্রথমে আপত্তি করলেও মেয়েটার কথা ভেবে নিয়ে এল। কারণ তারা দুপুরের পর থেকে আর কিছুই খায়নি!
আলোর শরীরে থাকা চুন, হলুদের লেপ শুকিয়ে গিয়েছে। আধার নিজের গায়ের পাতলা শার্ট খুলে মেয়েটাকে পরিয়ে দিয়ে বোতাম গুলো লাগিয়ে দিল। তারপর আধশোয়া করে বসিয়ে দিয়ে পিছনে হেলান দিয়ে রাখল। এরমধ্যে সে অনুভব করল, মেয়েটার শরীর গরম। হয়তো জ্বর এসেছে।
চা-এ পাউরুটি ডুবিয়ে আলোকে নিজ হাতে খাইয়ে দিল আধার। তারপর নিজে শুধু এক কাপ গরম চা খেল। মেয়েটার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে শান্ত গলায় বলল,

-“ঘুমানোর চেষ্টা করো। ভালো লাগবে!”
আলো আধোআধো চোখে তাকিয়ে স্যারের বুকের দিকে ইশারা করে বলল,
-“আমাকে ওখানে নিলে ঘুমাব।”
আধারের তখন বলতে ইচ্ছে করল—’এ্যা…মামার বাড়ির আবদার!’ তবে মুখে কিছু বলে না। বরং বাধ্য ছেলের মতো চাটার ওপর উঠে এসে আধশোয়া হয়ে বসতেই মেয়েটা বুকের মাঝে এসে গুটিশুটি মে’রে শুয়ে পড়ল। আধার পিছনের দেয়ালে মাথাটা ঠেকিয়ে শব্দ করে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল। এই মেয়েটা যে তার বুকের মাঝে কী পায় আল্লাহ জানে! সে চোখ বুজে এক হাত মেয়েটার চুলের ভাঁজে গলিয়ে দিয়ে বিলি কেটে দিতে লাগল। যেন মেয়েটা ঘুমিয়ে পড়ে। কিন্তু আলো তো না ঘুমিয়ে ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে আছে উঠানামা করা ​অ্যাডামস অ্যাপলের দিকে। যেটা তাকে বরাবরই আকৃষ্ট করে। আর আজ সুযোগ পেয়ে হাত বাড়িয়ে একটু ছুঁয়েও দিল। ভেবেছিল স্যার কিছু বলবে। কিন্তু লোকটা কিছুই বলল না, চুপচাপ চোখ বুজে পড়ে আছে।
আলো মনে মনে সাহস পেল। সে একটু মুখ উঁচিয়ে চুমু খেল স্বামীর ​অ্যাডামস অ্যাপলে! ঠিক তখনই আধার চট করে চোখ মেলে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল,

-“এটা কী করলে?”
আলো ছোট বাচ্চাদের মতো ঠোঁট উঁচু করে বলল,
-“চুমু….চুমু খেলাম।”
আধার হাসবে নাকি কাঁদবে ঠিক বুঝতে পারল না। কিছু বলতে গিয়েও মেয়েটার ওমন কিউট ফেস দেখে বলতেও পারছে না। মেয়েটা এসব নিশ্চয়ই জ্বরের ঘোরে করছে। তাই সে কথা ঘুরিয়ে বলল,
-“এখন চুপচাপ ভদ্র মেয়ের মতো ঘুমাও। নয়তো জানালা দিয়ে ফেলে দিবো!”
-“গুড নাইট।”
আলো বুকের মাঝে নাক ঘষাঘষি করে ফিসফিসিয়ে বলল। সেটা শুনে স্বস্তির নিঃশ্বাস ছেড়ে চোখদুটো বন্ধ করে নিল আধার। কিন্তু আলো ঘুমায়নি। সে তো স্যারের বুকে হাত রেখে আঁকিবুঁকি করছে। আবার পেটেও স্পর্শ করছে। মেয়েটার সব কর্মকাণ্ড আধার দাঁতে দাঁত চেপে সহ্য করে নিচ্ছে। ইচ্ছে করছে তো একটা আছাড় মা’রতে! কিন্তু কিছু না বলে চুপচাপ হজম করে নিল।
লম্বা শ্বাস নিয়ে আলো যখন চোখ বুজতে যাবে তখনই তার ঘোলাটে নজর গিয়ে পড়ল স্বামীর বক্ষভাগের ওপর। যেখানে কালো কুচকুচে পুরুষালি সৌন্দর্য উঁকি দিচ্ছে। সেটা দেখে আলো হাত বাড়িয়ে ছুঁয়ে দিতেই আধার ছাঁৎ করে উঠল,

-“এ্যাই বেয়াদব মেয়ে তোমার সমস্যা কী হ্যাঁ? যেখানে, সেখানে কেন স্পর্শ করছো?”
ধমকে কিছুটা ভয় পেল আলো৷ ছলছল চোখে তাকিয়ে বলল,
-“আর করব না।”
আধার দাঁত কিড়মিড় করল। এই পাগলের পাল্লায় পড়ে তার জীবনটা গেল! আলো কিছু না বলে বিড়ালের বাচ্চার মতো বুকের মাঝে ঢুকে গেল। আধার চোখ বুজে লম্বা লম্বা শ্বাস নিয়ে নিজেকে সামলিয়ে নিয়ে পিছনে হেলান দিল।
কিছুক্ষণ সময় অতিবাহিত হয়ে যাওয়ার পর আবারো আলোর হাত নিসপিস করল। সে সবকিছু ভুলে-টুলে স্যারের বক্ষভাগের মাঝে তর্জনী আঙুল দিয়ে বাচ্চাদের মতো খেলতে লাগল। এবং বিরবির করে বলল,
-“এটা অনেক কিউট!”
এরপর ওখানে সামান্য চিমটি কাটতেই আধার খেই হারিয়ে মেয়েটাকে নিচে ফেলে দিয়ে সে গায়ের ওপর উঠে এল। আচমকা এমন হওয়ায় আলো হকচকিয়ে উঠল। আধার মেয়েটার দু হাত ধরে বিছানার সাথে শক্ত করে চেপে ধরল এবং মুখের দিকে ঝুঁকে এসে হিসহিসিয়ে বলল,

-“আমার ধৈর্য্যের পরীক্ষা নিয়েন না, মিসেস খান! নয়তো আপনি আমাকে যেভাবে ছুঁয়ে দিচ্ছেন, ঠিক একই ভাবে আমিও আপনাকে ছুঁয়ে দিবো।”
আলো ব্যথায় ছটফটিয়ে উঠল। লোকটার শরীরের নিচে তার শরীরটা চ্যাপ্টা হওয়ার উপক্রম! তাকে ব্যথা পেতে দেখে আধার তৎক্ষনাৎ সরে গেল। পাশ থেকে কোট নিয়ে শরীরে জড়িয়ে হনহনিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে যায়।
বাহিরে এসে খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে চোখ বুজে শ্বাস নিল। এখন একটা সিগারেট হলে মন্দ হতো না! কিন্তু তার কাছে নেই। আধার দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল! পাহাড়ের ঢিলা থেকে যেখানেই নজর যাচ্ছে সেখানেই শুধু জঙ্গল। চাঁদের আবছা আলোয় চারপাশ কিছুটা দেখা যাচ্ছে৷ সে সামনে পা বাড়াতেই পিছনে ধপাস করে কিছু পরে যাওয়ার শব্দ পেয়ে তড়াক করে ঘুরে তাকায়।
আলো একহাতে মেঝে আর অন্য হাতে নিজের মাথা চেপে ধরে হাঁটু ভেঙে বসে আছে। ছলছল চোখে নিচে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটার দিকে তাকিয়ে বলল,

-“স…সরি! খুব সরি। আর কখনো ছুবো না আপনাকে। আপনি না চাইলে কাছেও যাবো না। তবুও প্লিজ আমাকে ছেড়ে যাবেন না! আমি…আমি আপনাকে ছাড়া…।”
আর বলতে পারল না আলো, বাচ্চাদের মতো ফুপিয়ে কেঁদে উঠল। সে তো বুঝতে পারেনি—লোকটাকে একটু স্পর্শ করলে তাকে রেখে চলে যেতে চাইবে।
আধার শান্ত চোখে মেয়েটার কান্নারত চেহারার দিকে তাকিয়ে আছে। আরে সে তো একটু নিজেকে রিল্যাক্স ফিল করানোর জন্য বাহিরে এসেছিল। অথচ পাগল মেয়েটা কি না কি ভেবে নিয়ে ছুটে এসেছে। আড়ালে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে এসে কিছু না বলে, বাচ্চাদের মতো করে কোলে তুলে নিল আলোকে। তারপর ঘরের ভেতরে যেতে যেতে বলল,

-“আমি ঠান্ডা হাওয়া খেতে বাইরে এসেছিলাম, তোমাকে ছেড়ে চলে যেতে নয়৷ আর তোমাকে যদি ছেড়ে যেতেই হতো, তাহলে আবার ফিরে আসতাম না তোমার কাছে।”
আলো শান্ত হলো। দু’হাতে স্বামীর গলা ও দু’পায়ে কোমর পেঁচিয়ে ধরে মাথা সোজা করে জানতে চাইল,
-“আমার স্পর্শ আপনার খারাপ লাগে?”
আধার হাঁটতে হাঁটতে একপলক মেয়েটার দিকে তাকিয়ে ধীর কণ্ঠে বলল,
-“না!”
জবাব শুনে আলো হাসল। আর আধার দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল। মেয়েটার জ্বর বেড়েছে! তাই এমন পাগলামি করছে। আলো ঘোর লাগা চোখে স্যারের রক্তিম ঠোঁটের দিকে তাকিয়ে আছে। সে কিছুক্ষণ আগে মানুষটাকে কী কী বলেছে সবটা ভুলে গিয়ে মূহুর্তেই একটা অঘটন ঘটিয়ে দিল।

আলো চট করে স্যারের ঠোঁটের মাঝে শক্ত চুমু বসিয়ে দিল। মেয়েটার এহেন কাজে আধার স্তব্ধ হয়ে গেল। একই সাথে হার্টবিট মিস করে ব্যালেন্স হারিয়ে নিচে পড়ে যেতে যেতেও পাশের দেয়ালে হাত রেখে নিজেকে সামলিয়ে নিল। অন্য হাতে মেয়েটার কোমর চেপে ধরল। যেন নিচে পড়ে না যায়।
আধারের মন চাইল মেয়েটাকে মাথায় তুলে আছাড় মা’রতে। এই মেয়েটা তাকে শান্তিতে বাঁচতে দিবে না বুঝতে পারছে। সে জোরে জোরে শ্বাস নিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়ায়। বেহায়া মেয়েটা দাঁত বের করে হাসছে! সে চোয়াল শক্ত করে কিছু বলতে যাবে তখনই চোখদুটো বড়বড় হয়ে গেল। একই সাথে ঠোঁটে চিনচিনে ব্যথা অনুভব করেও বোকার মতো দাঁড়িয়ে রইল। অনুভব করল, তার হার্টবিট থমকে গেছে। এই বুঝি অ্যাটার্ক—ফ্যাটার্ক করে হাসপাতালে পৌঁছে যায়।
আলো ঠোঁট ছেড়ে কাঁধে মাথা ঠেকিয়ে চোখ বুজে ঘুমু ঘুমু কণ্ঠে অস্ফুটস্বরে বিরবির করল,

এক মুঠো চাঁদের আলো পর্ব ২৩

-“আপনি আমার হাতে দু-দুবার কামড়েছেন। তাই আমিও একটু কামড় দিলাম। এখন হিসাব বরাবর!”
বলেই ঘুমে ঢলে পড়ল আলো। নিজের সব ভার ছেড়ে দিতেই আধার ঘোরের মধ্যে থেকে বেরিয়ে এসে মেয়েটাকে আগলে নিল। এবং এলোমেলো পায়ে এগিয়ে এসে চাটাই-এর ওপর সাবধানে শুয়ে দিল। সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে নিজের, নিচের ঠোঁটে আঙুল ছুঁয়ে অনুভব করল—কেটে গিয়েছে। আধার ঠোঁট মুছে শব্দ করে নিঃশ্বাস ছাড়ল। শরীর থেকে কোট খুলে মেঝেতে বসে চাটাই-এর সাথে হেলান দিল। কিছুক্ষণ ঠোঁট কামড়ে চোখ বুজে বসে থাকল! তারপর ঘাড় কাত করে পাশে ঘুমিয়ে থাকা রমণীর দিকে তাকাল। শয়তান মেয়েটা তাকে জ্বালিয়ে, পুড়িয়ে শেষ করে দিয়ে এখন কী সুন্দর আরামসে ঘুমাচ্ছে! অথচ আজ রাতের ঘুমটা তার উধাও হয়ে গেল।

এক মুঠো চাঁদের আলো পর্ব ২৫

2 COMMENTS

  1. আপনাকে অনেক ধন্যবাদ আপু গল্পটা দেওয়ার জন্য। গল্পটা প্রত্যেকদিন দেওয়ার অনুরোধ করছি প্লীজ ♥️♥️♥️

Comments are closed.