প্রেমসন্ধিক্ষন পর্ব ৬৬
সাইদা মুন
এক হাতে কফির কাপ, অন্য হাতে মেহরীনের কোমর জড়িয়ে তাকে নিজের ঠিক পাশে বসিয়ে রেখেছে তালহা। আর মেহরীন? সে তো ছাড় পাওয়ার জন্য বার বার নড়েচড়ে উঠছে, মোচড়াচ্ছে, হাত ছাড়াতে চাইছে। কিন্তু তালহার হাত একচুলও নড়ছে না। তার স্থির ঘোষণা,
“কফি শেষ হোক, তারপর একসঙ্গেই নিচে যাবে।”
এই অনড় জবাবে এবার মেহরীন ঠোঁট ফুলিয়ে নিল। অভিমান দেখা দিল মুখে। মাথা নিচু করে চুপচাপ বসে রইল। হঠাৎ এমন নিশ্চুপ হয়ে যাওয়া দেখে তালহা আড়চোখে তাকাল। ভ্রু কুঁচকে উঠল অজান্তেই।
—কি হয়েছে?
মেহরীনের কণ্ঠে ভেসে এল অভিমানের ছোঁয়া,
—যেতে দিচ্ছেন না।
তালহার ভ্রুজোড়া ধীরে ধীরে শিথিল হলো। তপ্ত শ্বাস ফেলল। কফিতে চুমুক দিয়ে হালকা স্বরে বলল,
—এই সামান্যতেই মন খারাপ? আচ্ছা, যাও তবে।
বলেই হাতটা সরিয়ে নিতে যেতেই মেহরীন দ্রুত চেপে ধরল। তালহা কি রাগ করল? চোখ তুলে তাকাল, উত্তর খুঁজছে।
—আপনি কি রাগ করেছেন?
—না
—তাহলে ছেড়ে দিচ্ছেন যে?
—বউ বিরক্ত, তাই।
—আমি কি বলেছি আমি বিরক্ত?
—যা দেখলাম, তাতেই বুঝলাম।
একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলল মেহরীন। মাথা নামিয়ে নিল। কণ্ঠে অস্বস্তির রেশ,
—আসলে.. আপনার সঙ্গে নামলে ওরা মজা করবে।
তালহার ভ্রু আবার উঁচু হলো। দৃষ্টি একটু গাঢ় হয়ে উঠল,
—কারা?
—তনিমারা..
বউ বন্ধুদের ভয়ে তার সঙ্গে নামতে চাইছে না? মৃদু হাসি ফুটল তালহার ঠোঁটে।
—ও তাহলে এই কথা। আচ্ছা, আমি বলে দেব আমার বউকে নিয়ে যেন কেউ মজা না করে।
মেহরীন তাড়াতাড়ি মাথা নাড়ল, প্রায় আতঙ্ক নিয়ে বলল,
—না না, একদম না। আপনি জানেন না ওরা কেমন। আপনার সামনে ভদ্র সাজবে, পরে আমাকে আরও লজ্জায় ফেলবে।
তালহা কফির মগটা টেবিলে রেখে ধীরে বলল,
—চলো, কিছুমিছু করি।
মেহরীন কপাল কুঁচকে তাকাল,
—কি?
তালহা একটু ঝুঁকে এসে ফিসফিস করে বলল,
—কিছু না করলেও ওরা তোমাকে লজ্জায় ফেলবে। তার চেয়ে কিছু করা যাক।
মুহূর্তেই মেহরীন তার মুখ চেপে ধরল,
—ইস! আপনি না একদম অসভ্য হয়ে যাচ্ছেন। কিসব বলছেন।
তালহা তার হাত সরিয়ে হালকা হাসল,
—সবই তোমার ভালোবাসার দোষ।
—আমার ভালোবাসার দোষ আবার কোত্থেকে এল?
চোখে চোখ রেখে তালহার গলায় নামল গভীরতা,
—ভালোবাসা যেমন অসভ্য মানুষকে সভ্য করে তুলে, তেমনই সভ্য মানুষকেও অসভ্য বানিয়ে ফেলে।
কথাটা শেষ হতে না হতেই মেহরীন নিজেকে ছাড়িয়ে উঠে দাঁড়াল। নাক-মুখ কুঁচকে প্রতিবাদ জানাল,
—জ্বি না। আপনি শুরু থেকেই অসভ্য ছিলেন। শুধু সভ্যতার মুখোশ পরে থাকতেন। হুঁহ…
বলেই মুখ ভেংচে সে বেরিয়ে গেল। তালহা চাপা হেসে উঠে দাঁড়াল, তারপর পিছু নিল তার।
ড্রয়িংরুমে বড়রা প্রাণখোলা আড্ডায় মেতে উঠেছেন। সিকদার বাড়ির কর্তারা সঙ্গে তালহার মামা-মামী সকলের সঙ্গেই সোহেল হোসেন ও উনার স্ত্রীর আলাপচারিতায় ইতোমধ্যেই বেশ আন্তরিকতা গড়ে উঠেছে। হাসি-ঠাট্টার রেশে পরিবেশটা হয়ে উঠেছে স্বতঃস্ফূর্ত। যেন বহু পুরোনো পরিচিত তারা। সেই জমায়েতেই এসে নিঃশব্দে বসল তালহা, সিঙ্গেল সোফায় বসে চারপাশটায় একবার চোখ বুলিয়ে নিল। অন্যদিকে ঘরের ভেতর গিন্নিদের ব্যস্ততা, রান্নাঘর থেকে কড়াই-চামচের শব্দ আসছে ব্যস্ত সকলেই।
—তাহলে বেয়াই, এই পর্যন্তই থাকল কথা। বড় মেয়ের বিয়েটা শেষ হলেই আপনাদের সঙ্গে বসে পরের আয়োজন। বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক করে নেবো।
সোহেল হোসেন মাথা নাড়িয়ে মৃদু হাসলেন,
—নিশ্চয়ই বেয়াই, আমাদের দিক থেকে কোনো তাড়া নেই। আপনারা স্বচ্ছন্দে সময় নিন। তবে একটা কথা, অন্তত এনগেজমেন্টটা সেরে রাখলে ভালো হতো। কথাটা আনুষ্ঠানিকভাবে বাঁধা পড়ে যেত।
এই প্রস্তাবে বিল্লাল সাহেব ভাইয়ের দিকে তাকালেন। দু’জনের মুখেই হালকা অস্বস্তির ছাপ স্পষ্ট। এমন আকস্মিক সিদ্ধান্তের জন্য তারা প্রস্তুত নন। পরিস্থিতি সামলে নিতে আফতাব সাহেব আশ্বাসের দৃষ্টিতে ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে নিজেই বললেন,
—ভাইজান, যেহেতু বিষয়টা আমাদের আগে থেকে জানা ছিল না। সে হিসেবে কোনো প্রস্তুতিও নেই। ছেলের আংটি, আত্মীয়স্বজনকে জানানো, সব মিলিয়ে একটু তাড়াহুড়ো হয়ে যাবে।
আমেনা বেগম এবার কোমল কন্ঠে নিজের স্বামীর প্রস্তাবটা গুছিয়ে দিলেন,
—কোনো সমস্যা নেই। আপনারা আগে নিজেদের মধ্যে আলাপ করে নিন। তারপর ফোনে বসে এনগেজমেন্টের তারিখ ঠিক করা যাবে। আজ তাহলে আমরা উঠি।
তারা যেতে উদ্যত হতেই তানিয়া বেগম এলেন তাড়াহুড়ো করে,
—উঠি মানে? দুপুরের খাবার না খাইয়ে আপনাদের যেতে দিচ্ছি না কিন্তু।
আমেনা বেগম হালকা হাসলেন, আপত্তি করে বললেন,
—না ভাবি, আজ থাক। অন্য কোনো দিন না হয় বসা যাবে।
তিনি এবার স্পষ্ট কন্ঠে বললেন,
—না, এই না শুনছি না আমরা। খাওয়া-দাওয়া সেরে তবেই যেতে হবে।
স্ত্রীর সঙ্গে বিল্লাল সাহেব ও বললেন,
—আমাদের বাড়ির গিন্নিদের হাতের স্পেশাল রান্না না খেয়ে গেলে চলবে না কিন্তু।
আমেনা বেগম অপ্রস্তুত হয়ে বললেন,
—আরে না না ভাবি, দয়া করে কষ্ট করতে যাবেন না। আসলে ছেলের আবদারে হঠাৎই চলে আসতে হলো, আপনাদের আগেভাগে জানাতেও পারিনি। অন্যদিন না হয় নিশ্চিন্তে হবে।
কথাবার্তা শুনে রান্নাঘর থেকে তিতলি বেগম বেরিয়ে এলেন,
—আপনাদের কোনো কথাই শুনছি না। আমাদের বাড়িতে এসে না খেয়ে ফিরে যাবেন, এটা কখনোই হতে পারে না। বসুন দেখি।
—ভাবি দেখুন অন্য..
উনাকে থামিয়ে টেনে নিয়ে বসালেন কিছুটা রাগ নিয়েই তিতলি বেগম বললেন,
—আত্মীয়তা করার আগেই মনক্ষুন্ন করবেন আমাদের?
বেশ খানিকটা তর্ক-বিতর্ক, না-না আর হ্যাঁ-র টানাপোড়েনের পর শেষমেশ আরিয়ানদের নরম হতেই হলো। সিকদার বাড়ির বউদের কাছে হার মেনে তারা থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল। দুপুরের খাবার সেরে তবেই বিদায় নেবে। আমেনা বেগম তখন অন্য গিন্নিদের সঙ্গে গল্পে মেতে রান্নাঘরের দিকে পা বাড়িয়েছেন।
এদিকে বাকিরা, সোহেল সাহেবকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ির বাইরের দিকটা ঘুরে দেখাতে বেরিয়েছেন।
বাইরে পা রাখতেই বাগানের দিক থেকে ছেলেমেয়েদের কোলাহল কানে এলো। এগিয়ে যেতেই দেখা গেল, বড় গাছটার নিচে সবাই গোল হয়ে ভিড় জমিয়েছে, কী নিয়ে যেন গবেষণা চলছে সেখানে। তাহিয়াদের কাছে পৌঁছাতেই বিল্লাল সাহেব কৌতুহলে জিজ্ঞেস করলেন,
—কী নিয়ে এত গবেষণা হচ্ছে শুনি?
মেহরীন জানাল,
—আমরা আসলে এই গাছটায় দোলনা বাঁধতে চাই। কিন্তু বেঁধে দেওয়ার মানুষ নেই।
রাফি তখন মুখ ভার করে বলল,
—আংকেল আমি বলেছি, আমি গাছে উঠতে পারি। দড়িটা বেঁধেও দিতে পারব। কিন্তু কেউই আমার ওপর ভরসা করছে না।
মেহরীন তাকে থামাল,
—গাছে আমিও উঠতে পারি। ওর ওপর বিশ্বাস নেই বড় আব্বু। শক্ত করে বাঁধতে পারবে না।
শুরু হলো দুজনের খুনসুটি। বিল্লাল সাহেবরা হাসলেন। শৈশবের দিনগুলো যেন হঠাৎ করেই ফিরে এল তাদের।মনে। কত গাছে দোলনা বেঁধে দাপিয়ে বেড়িয়েছেন তখন। সেগুলো এখন স্মৃতি হয়ে ভেসে বেড়াচ্ছে চোখে।
—আমি উঠছি গাছে।
বিল্লাল সাহেবের কথায় পাশ থেকে সোহেল হোসেন খানিক মজা করেই প্রশ্ন ছুঁড়লেন,
—পারবেন তো বেয়াই?
বিল্লাল সাহেব আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গিতে হেসে উঠলেন,
—আলবাত পারব। ছোটবেলায় কত গাছই তো চড়েছি। এ আর তেমন কি।
—তাহলে অল দ্য বেস্ট।
তার কথা শেষ হতেই সকলে আনন্দে “ইয়েএএএ!” বলে চেচিয়ে উঠল। ছেলেমেয়েদের উচ্ছ্বাসে মুহূর্তেই প্রাণ ফিরে পেল পরিবেশ। তাদের সেই নির্মল আনন্দ দেখে বিল্লাল সাহেবের চোখে-মুখে ছড়িয়ে পড়ল তৃপ্তির হাসি। গাছটা খুব উঁচু নয়, মাঝারি গড়নের, তাই সহজেই চড়ে বসলেন তিনি।
নিচে দাঁড়িয়ে বাকিরা ‘বড় আব্বু, বড় আব্বু’ বলে মিছিল দিচ্ছে। আলতাফ সাহেবও যেন শিশুদের দলে মিশে ‘ভাইজান, ভাইজান’ বলে গলা মেলালেন। সময়টা যেন এক টুকরো নির্ভেজাল সুখ নিয়ে এসেছে, সবাই মিলে উপভোগ করছে নিখাদ আনন্দের সেই ক্ষণ।
দড়ি শক্ত করে বেঁধে নিচে নেমে আসতেই মেহেদি, তাহিয়া, মেহরীন দৌড়ে এসে জড়িয়ে ধরল বিল্লাল সাহেবকে। কৃতজ্ঞতা ভরা কণ্ঠে বলল,
—ধন্যবাদ বড় আব্বু।
তিনি স্নেহভরে তাদের মাথায় হাত বুলিয়ে আবার ধীর পায়ে হাঁটতে লাগলেন বড়রা। আর ওদিকে বাকি সবাই শুরু করে দিল হুল্লোড়। কে আগে দোলনায় উঠবে তা নিয়ে শুরু হলো প্রতিযোগিতা। একসময় তো তর্ক বেড়ে গিয়ে প্রায় ঝগড়ার রূপ নিল। শেষমেশ অনেক আলোচনা করে ঠিক হলো, একজন একজন করে উঠবে, দশবার দোল খেয়ে আবার নেমে আসবে। তাতেই মিটল সবার আপত্তি।
ড্রয়িংরুমের এক কোণে মুখোমুখি বসে আছে আরিয়ান আর তালহা। বাইরে যতটা হাসি-আনন্দের আবহ, এই ঘরটায় যেন ঠিক উল্টো। টানটান একটা উত্তেজনা জমে আছে বাতাসে। তালহা নির্বিকার ভঙ্গিতে মোবাইলের স্ক্রিনে চোখ রেখে বসে ছিল। হঠাৎই নীরবতা ভেঙে আরিয়ানের কণ্ঠ ভেসে এল। কথার ভঙ্গিতে খোঁচা, আর সুরে স্পষ্ট বিরক্তি ছিল।
—নিজে না জানিয়ে বিয়ে করে বসে আছিস, আবার বোনের বিয়েতে এসে খবরদারি করছিস।
তালহা মাথা না তুলেই ঠাণ্ডা গলায় জবাব দিল,
—আমার বোন, আমি খবরদারি করব, তাতে তোর সমস্যা?
আরিয়ান তীক্ষ্ণ স্বরে বলে উঠল,
—ও আমার বউ।
তালহা এবার চোখ তুলে তাকাল, ঠোঁটের কোণে কটাক্ষ মেশানো হাসি,
—বিয়ে তো এখনো দিইনি। বেশি কথা বললে কিন্তু বিয়েটাই ক্যান্সেল করে দেব।
আরিয়ান হেসে উঠল, তবে সেই হাসিতে ছিল স্পষ্ট চ্যালেঞ্জ,
—তাহলে বউকে নিয়ে পালিয়ে যাব।
তালহার কণ্ঠ শক্ত হয়ে উঠল,
—আমার বোন আমার কথার বাইরে এক পা-ও যাবে না।
আরিয়ান পাল্টা কথা ছুড়ে দিল,
—নিজের কথা বউয়ের ওপর খাটাস, বোনের ওপর না।
তালহার ধমকে বলল,
—কথায় কথায় আমার বউ টানবি না।
—তুই যদি আমার বিয়ে নিয়ে টানাটানি করবি, আর আমি বললেই দোষ?
—ওটা আমার বোন।
—মেহরীন ও আমার বোনের মতো।
কোনো যুক্তিছাড়া দুজনের তর্কে তালহা বিরক্ত হয়ে উঠল। মোবাইলটা একপাশে রেখে চোখ ছোট ছোট করে তাকাল,
—তোর কী নিচে চুলকাচ্ছে? চুপচাপ বসে থাকতে পারছিস না? চুলকানির মলম আছে, এনে দিই?
আরিয়ান সঙ্গে সঙ্গে ক্ষেপে উঠল, চোখ রাঙিয়ে বলল,
—মুখ সামলে কথা বল, তোর বোনের জামাই আমি।
তালহা গা এলিয়ে দিয়ে, পায়ের ওপর পা তুলে একেবারে ভাবলেশহীন ভঙ্গিতে বসল। তীক্ষ্ণ স্বরে বলল,
—তুই মুখ দেখে কথা বল, তোর হবু বউয়ের বড় ভাই আমি। উঠতে সালাম দিবি, বসতে সালাম দিবি, যেখানে দেখবি, সেখানেই সালাম দিবি। না হলে বিয়ে ক্যান্সেল।
আরিয়ানের চোখ সরু হয়ে এল,
—হুমকি দিচ্ছিস?
তালহার জবাবও নির্লিপ্ত,
—হ্যাঁ, একদম স্পষ্ট হুমকি।
আরিয়ান মুখ বাঁকিয়ে বলল,
—তোর হুমকিতে সুসু করি…
একে অপরের দিকে কড়াচোখে চেয়ে এরপর কিছুক্ষণ নীরবতায় কাটল। যেন দু’জনেই নিজের নিজের কথা গোছাচ্ছে। পরের কথাটা কী হবে, তা ভেবে নিচ্ছে। অবশেষে সেই নীরবতা ভাঙল আরিয়ানই। গলার স্বর এবার কিছুটা নরম, খানিক দ্বিধাগ্রস্ত,
—তুর্যরা কেমন আছে?
তালহা চোখ কুঁচকে তাকাল, গলায় বিরক্তি লুকোল না,
—ওদের খবর ওদের কাছ থেকেই নে। আমাকে জিজ্ঞেস করছিস কেন?
আরিয়ান সংক্ষিপ্ত উত্তর দিল,
—তোর বন্ধু।
তালহার সরাসরি প্রশ্ন,
—আর তোর?
আরিয়ান ঠোঁট বাঁকিয়ে একরকম তাচ্ছিল্যের হাসি দিল,
—আমার কেউ না।
তালহা যেন কিছু বলতে যাচ্ছিল, কিন্তু তার আগেই আরিয়ান কথার মোড় ঘুরিয়ে দিল,
—তনিমাকে একটু ডেকে দে।
তালহা ধীরে উঠে দাঁড়াল। দীর্ঘশ্বাস ফেলে চলল উপরের দিকে। মেহরীনদের ঘরে গিয়ে একবার উঁকি দিল, কিন্তু সেখানে কাউকে না পেয়ে নিঃশব্দে এগিয়ে গেল বারান্দার দিকে। নিচে তাকাতেই চোখ থমকে গেল। সকলের মাঝখানে দোলনায় বসে মেহরীন দুলছে। আনন্দে ভাসছে যেন সে। দোল খাচ্ছে আর খিলখিলিয়ে হাসছে। চুলের খোঁপা খোলা। খোলা চুলগুলো হাওয়ায় উড়ছে, আর কানে গুঁজে রেখেছে সেই গোলাপ, যেটা তালহা নিজেই দিয়েছিল। কি অপরূপ লাগছে এই মুহুর্তটা। তালহার ঠোঁটে অজান্তেই এক চিলতে হাসি ফুটে উঠল। কিছুক্ষণ সে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল, একমনে দেখছে তার বউকে।
মেহরীনের দশ বার দোল শেষ হতেই ফারিন আর তাহিয়া দুপাশের দড়ি ধরে দোলনা থামিয়ে দিল। মেহরীন ঠোঁট উল্টে নামতে যাবে, ঠিক তখনই ওপর থেকে তালহার কণ্ঠ ভেসে এল,
—আরেকটু চলুক।
অপ্রত্যাশিত গলায় সবাই মাথা তুলে তাকাল। তালহাকে দেখেই ফারিন আর তাহিয়া দড়ি ছাড়ল। রাফি মুখ গোমড়া করে বলল,
—ভাইয়া, তাহলে তো মেহু আমাদের থেকে বেশি দোল খাচ্ছে!
তালহা মৃদু হেসে বলল,
—মনে করো আমার বদলে মেহরীন আরেকটু উঠেছে।
কথাটা শুনে মেহরীনের মুখে যেন বিজয়ের হাসি ফুটে উঠল। সে তড়িঘড়ি করে আবার দোলনায় বসে দুলতে শুরু করল। এবার যেন আরও বেশি আনন্দ নিয়ে। আর অন্যরা? তারা মুখ ভার করেই পাশে দাঁড়িয়ে রইল। কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে তালহা আন্দাজ করক, তাদের আনন্দের ভেতর তার উপস্থিতি যেন খানিকটা বেমানান হয়ে উঠছে। তনিমাকে ডেকে সে সরে গেল বারান্দা থেকে।
প্রেমসন্ধিক্ষন পর্ব ৬৫
তালহা চলে যেতেই সবাই মিলে যেন একসঙ্গে ঝাঁপিয়ে পড়ল মেহরীনের উপর। টেনে-হিঁচড়ে মেহরীনকে দোলনা থেকে নামিয়ে ফেলল তারা। সঙ্গে শুরু হলো খোঁচা, ঠাট্টা।
সোফায় চুপচাপ বসে আছে তনিমা, মুখ ভার করে। আরিয়ান কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল ঠিক তখনই ফোন বেজে উঠল। কথা বলতে বাইরে গেছে। অপেক্ষা করিছে ভাইয়ের…
