Home হৃৎস্পন্দন হৃৎস্পন্দন পর্ব ৫৪

হৃৎস্পন্দন পর্ব ৫৪

হৃৎস্পন্দন পর্ব ৫৪
সাঞ্জেনা শাজ

প্রভাতের স্নিগ্ধতা ধরনী জুড়ে ছড়িয়ে পরতেই তালুকদার বাড়ির সদস্যরা একে মেহরাদের রুমের সামনে উপস্থিত হয়েছে। উদ্দেশ্য, শুভ্রতার সাথে দেখা করা। মেয়েটার ঘুম ভেঙেছে কি-না জানা। উতলা হয়ে আছে সকলে মেয়েটার সাথে একটু বাক্যালাপ করার জন্য। ছোট্ট মেয়েটাকে বুকে জড়িয়ে ধরার জন্য। এতটুকু মেয়েটা না-কি এতো কষ্ট সহ্য করছে! তাদের থেকে পালিয়ে পালিয়ে বেড়িয়েছে! আত্নহত্যা করতে চেয়েছে! এসব কিছু জানার পর থেকে উদ্বিগ্নতা কয়েকগুণ বেড়ে গিয়েছে সকলের। মেয়েটাকে একটু বুকে জড়িয়ে নেওয়ার জন্য। একটু মাথায় আদুরে স্পর্শে ভরিয়ে দেওয়ার জন্য।

সকলের অধীর অপেক্ষার অবসান ঘটেছে সকাল আটটা নাগাদ। একেবারে পরিপাটি হয়েই স্বামী নামক প্রণয় পুরুষের কোলে চড়ে বেড়িয়েছে অষ্টাদশী। ভোরের শিশিরভেজা অস্ফুট গোলাপের কুড়ির ন্যায় লাজুকতায় মুখ লুকিয়ে রেখেছে স্বামীর বক্ষপটে, চওড়া কাধ আঁকড়ে। বারকয়েক বাধা প্রধান করা সত্যেও মনঃপূত কোন ফলাফল পায় নি রমনী। মাছি তাড়ানোর মতোই অগ্রাহ্য করেছে তার বাধা দাপুটে মানব।তাই, না পেড়ে অনেকটা ঠোঁট ফুলিয়েই শুভ্রতা বলেছে,
“এভাবে কতদিন কোলে চড়িয়ে বেড়াবেন? সবাই কি ভাববে বলুনতো? একেবারেই হাটতে না পারলে একটা কথা। অসুবিধা হলেও হাটতে তো পারি! এভাবে সারাক্ষণ কোলে চড়িয়ে ঘুরানোর লজিক কি….?”

“আপনার লজিকের চৌদ্দ গোষ্ঠীরে গুল্লি মারি, ম্যাডাম। আমার বউ আমি কোলে চড়িয়ে ঘোরাবো নাকি মাথায় তুলে নাচবো তাতে কার কি! আই ডোন্ট ক্যায়ার! আমি থাকতে আপনার কষ্ট করে হাটতে হবে না, ম্যাডাম।”
অষ্টাদশী লজ্জায় মিয়িয়ে যায় নিষ্ঠুর মানবের নির্লজ্জ প্রতিউত্তরে। সেই থেকে মুখে আর কোন বুলি ফোটেনি লাজুকলতার। স্বামীর বুকে মুখ লুকিয়ে সর্বজনের দৃষ্টির আড়াল হতে চাইছে। মেয়েটার ধারণা সে মুখ লুকালেই বুঝি কেউ তাকে দেখবে না! অথচ, সে ছাড়া সকলেই তাকে দেখছে।
ভারী কদমে শুভ্রতাকে নিয়ে সিড়ি ভেঙে ড্রয়িং রুমে সোফায় নিয়ে বসালো মেহরাদ। এ-ও তার বাবা চাচা সকলেই উপস্থিত সেই মূহুর্তে। নয়ন মেলতেই বাবা, বড় বাবাদের সামনে বসা দেখে তৎক্ষনাৎ লজ্জায় মিয়িয়ে যায় অষ্টাদশী। এক ঝাক লাজ রাঙা প্রজাপতিরা ঝেকে ধরতেই দু’চোখ নমিত হয়ে আসে আপনা-আপনি। কন্ঠ বুদ হয়ে আসে আড়ষ্টতায়।
এদিকে মেয়েকে দেখে এগিয়ে আসেন শায়ান তালুকদার। উদ্বিগ্নতায় শুধান,

“এখন কি অবস্থা, মা? রাতে সমস্যা হয়েছিলো আর?”
মাথা নাড়িয়ে ‘না’ জানায় শুভ্রতা। চোখ উচিয়ে জবাব দেওয়ার হিন্মতটুকু হয় না মেয়েটার আড়ষ্টতায়। হাতের খবরের কাগজ রেখে এগিয়ে আসে আলতাফ তালুকদার, আমজাদ তালুকদার। শুভ্রতার মাথায় হাত ভুলিয়ে দিয়ে অপরাধী কন্ঠে জানায়,
“কি করলে এই অধম বড়ো বাবা টাকে মাফ করে দিবে রে, মা? তোর সাথে যে খুব অন্যায় করে ফেলেছি!”
লাজুকতায় ডুবে থাকা রমনীর অন্তস্তল মূহুর্তেই বিরহ বেদনায় ছেয়ে গেলো। বিদ্ধ্যস্ত অনুভূতির নীল ছাপ স্পষ্ট দৃশ্যমান দু’চোখের তারায়। তার বড় বাবা, তাকে এক সময় চায় নি। দূরে ঠেলে দিয়েছি। তার বড়ো মা তাকে দূরে চলে যেতে বলেছে, সেই স্মৃতি মনসাপটে ভেসে উঠেতেই মেয়েটার দু’চোখে নেমে আসে বর্ষার ইলশেগুঁড়ি বৃষ্টি। বাধ ভাঙা ক্লেশানুভূতির ভারে কন্ঠ রোধ হয়ে আসে মেয়েটার। হিচকি উঠে যায়। সহসাই শুভ্রতাকে বুকে টেনে নেয় আলতাফ তালুকদার। তার চোখেও অশ্রু। এক হাতে চশমার আড়ালের অশ্রু টুকু মুছে আপরাধী সিক্ত কন্ঠে বলে,
“কেঁদে আর বোজা বাড়াস না রে মা। ক্ষমা করে দে,আমাদের। তোর এ বড়ো বাবা যা বলবি তা-ই করবে। আর কাদিস না মা। আমাদের ক্ষমা করে দে……”

“তুমি বার বার কেন ক্ষমা চাইছো, বড়ো বাবা? আমাকে আর ছোট করো না দয়া করে। তোমরা আমার পর কেউ? আমি তোমাদের কখনো দূরের কেউ ভাবিনি, বড়ো বাবা। আমার বড়ো বাবা না তুমি? এভাবে কেউ ক্ষমা চায় মেয়ের কাছে? হু?”
কান্না বিজরোত কন্ঠস্বর মেয়েটার। দু’চোখের কোলে অশ্রুর জলোচ্ছ্বাস। একে একে সকলেই উপস্থিত হয়েছে ড্রয়িং রুমে। সকলের চোখই অশ্রুসিক্ত। জাহানারা বেগম চেয়ে এগিয়ে আসতে পারলেন না। অশ্রুসিক্ত নয়নে শুধু দেখলেন নরম মনের বালিকাটাকে৷ কি পাপই করেছে এই নরম ফুলটার সাথে! অপরাধ বোধে বুক ফেটে যাওয়ার উপক্রম । সব চাইতে নিষ্ঠুরতম কাজটা সে-ই করেছে! তার জন্যই তো তার ছেলে মেয়ে দুটোই কষ্ট পেলো! সে কিভাবে ক্ষমা চাইবে এতো অপরাধ নিয়ে? তার সাথে কি কথা বলতে চাইবে মেয়েটা?ওর বড়ো বাবার সাথে যেভাবে বলছে? না-কি মুখ ফিরিয়ে নিবে?

মা’য়ের মনে কতো বিচিত্র চিন্তাভাবনা! মেহরাদ বুঝে মা’য়ের অপরাধী দু’চোখের চিন্তন। শুভ্রতার সাথে হওয়া সকল কিছুতে মেহরাদ মোটেও কিছু বলবে না। সে ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ স্পেস সে দিয়েছে শুভ্রতাকে। ওর বড় বাবা, বড়ো মা’কে ও ক্ষমা করবে কি করবে না এটা সম্পূর্ণ ন্যাস্ত শুভ্রতার হাতে। মেয়েটা এখানে থাকতে না চাইলেও সে বাধা দিবে না। একজন সন্তান হিসেবে সে যেমন মা বাবার মতকে প্রাধান্য দিবে, একজন স্বামী হিসেবেও স্ত্রীর মতকে প্রাধান্য দিবে। এটা তার স্ত্রীর হক। শুভ্রতার হক, তার সকল সিদ্ধান্তে স্বামীকে পাশে পাওয়া।
মেয়ে বাবার মধ্যে মান অভিমান কিছু কমতেই ওয়ালের পেন্ডুলাম ঘড়িতে বিম-বাম শব্দ বেজে উঠতে সুরাইয়া বেগম সকলকে নাস্তার টেবিলে বসতে বললেন। আলতাফ তালুকদার, আমজাদ তালুকদার, শায়ান তালুকদার উঠে গেলেন ডাইনিং টেবিলের কাছে। দুই ভাইয়ের মন মালিন্য কেটেছে গত কাল’ই। এটাই দুনিয়ায় নিয়ম, দূরত্ব বাড়লেই মায়া কমে যায়, কাছে এলে সব ফিরে আসে। দূরে থেকে সকলের উপর রাগ জেদ বজায় রাখলেও সামনা-সামনি সকলের এতো দুঃখ কষ্ট অভিমান এগুলো এড়ানোর না। না চাইতেও রক্তের বন্ধন মন গলিয়ে দেয়।
সুরাইয়া বেগম ডাইনিং এ খাবার বাড়তে যাওয়ার আগেই শুভ্রতার দিকে ছুটে এলেন। মাথায় কয়েক দফা চুমু খেয়ে উচ্ছ্বাসিত কন্ঠে বলে উঠলেন,

“তোকে কতবার গেলাম দেখতে! তুই সেই যে ঘুমিয়ে আসলি! এ পর্যন্ত ঘুমালিই। আমার লক্ষিটি। শত শত বছর বাচ। আল্লাহ তোকে এ দুনিয়ার সব সুখ ঢেলে দিক। কুট্টুস পাখি টা….” বলেই আবারও কপালে চুমু খেতে যাবেন মেহরাদের গম্ভীর কন্ঠ ভেসে আসলো,
“মেঝো মা, সকলে বসে আছে তো টেবিলে!”
“ওহ্ হ্যাঁ…. ” বলেই তিনি আবার ডাইনিং এর দিকে ছুটে গেলেন। নাস্তা সেড়ে অফিস যাবে ভাসুর আর তার স্বামী। এমনিই সময় গড়িয়েছে বেশ।
শুভ্রতা চাইলো মেহরাদের দিকে। ড্রয়িং রুম আর ডাইনিং এর মধ্যবর্তী স্থানে দাঁড়িয়ে। সরু দু’চোখের দৃষ্টি তার দিকে নিবদ্ধ। অবুঝ কিশোরীর ন্যায় সরল চোখে তাকিয়ে রইলো শুভ্রতা। ও দু’চোখের ভাষা সে মর্মভেদ করতে পারলো না। ঠোঁট উল্টালো মাথা উচিয়ে প্রশ্নাত্মক দৃষ্টিতে।
টানটান বলিষ্ঠ দেহের বুকে হাত ভাজ করে দন্ডায়মান মেহরাদ। তার বউকে আদরের এতো চুমুর পর্ব তার মোটেও ভালো লাগছে না। নাখোশের চরম স্পষ্টতা সমান্তরাল কপালের কয়েক দফা সুক্ষ্ম ভাজে। এতো চুমু দিয়ে আদর করতে হবে কেন? এ আদর তো শুধু তার থেকে পাওনা! আশ্চর্য! বাড়ির সদস্যবৃন্দদের মাথায় গিলু নেই নাকি! তার বউ কে নিয়ে কি শুরু করেছে! মাথায় হাত ভুলিয়ে দিলেই তো হলো! শীট!

ড্রয়িং রুম খালি হতে সোহানা আর শান্তা মিলে ছুটে এসে হামলে পড়লো শুভ্রতার উপর। ছুটার বেগ এতটা দ্রুতই
ছিলো মেয়েটা বসা অবস্থায় হেলে গেলে সোফা হতে। নিজের অজান্তেই অস্ফুট মৃদু চিৎকার বেরিয়ে এসেছে শুভ্রতার মুখ ফুটে। সহসাই ডাইনিং টেবিল হতে দৃষ্টিপাত করলো সকলে । তিন বোনের রি ইউনিয়ন দেখে সকলে মুচকি হেসে ছেড়ে দিলো ওঁদের, নিজেদের মতো। এদিকে রোজা, সাফি, জাবের, আর স্বপ্না বেরিয়েছে পরশু একটু ঘুরাঘুরির জন্য। বাড়ির অস্বাভাবিক পরিস্থিতে অসুস্থ হয়ে যাচ্ছিলো রোজা দিন দিন বাচ্চাকে নিয়ে। তাই জাবির’ই অনেকটা জোর করে নিয়ে গিয়েছে রোজাকে। সেই সাথে বাচ্চাকের দেখা শুনার জন্য স্বপ্না খালাকে নিয়ে গিয়েছে। আর সাফি গিয়েছে বায়না ধরে। এর ঘুরতে পারলেই হলো। তবে এখন আফসোস করছে বেশ! তার শুভ্রতা আপু ফিরেছে অথচ সে নেই। খুব মন খারাপ বেচারার। অতি শিগগিরই চলে আসবে তারা।
সোহানা কাদছে শুভ্রতাকে জড়িয়ে। শান্তার দু’চোখও অশ্রুসিক্ত। অভিমানি সিক্ত কন্ঠে সোহানা বলে উঠলো,

“তুই জানিস তোকে ছাড়া আমি কেমন ছিলাম? একদম এতিমের মতো ছিলাম বাড়িতে। তোকে খুব মিস করেছি বনুউউউউ।”
“হ্যাঁ, তুই একাই সব মিস করেছিস তাই তো? আমি তো খুব আনন্দে ছিলাম তাই না?” কিশোরীর ন্যায় শান্তার ভারী অভিমানি স্বর।
সোহানা বলল,
“তুমি বুঝবে না আপু। আমি তো কলেজেও যেতাম না ও নেই বলে একা একা। কি যে একা লাগতো আমার!”
“হ্যাঁ, আমি তো খুশিতে শুক্রবারেও ভার্সিটি যেতাম।” বলেই শান্তাও জড়িয়ে ধরলো শুভ্রতাকে আরেক পাশ থেকে।
দু’বোনের কথার বাহারে ফিক করে হেসে দিলো শুভ্রতা। ওর হাসার রিনঝিন শব্দ ছাপিয়ে তৎক্ষনাৎ ডাইনিং টেবিলে ঝন ঝন শব্দে আলোড়ন তুললো কাচের ভাঙা একটি গ্লাস। মেহরাদের হাত ফসকে পড়েছে এটি। সকলে সচকিত দৃষ্টি ওর দিকে যেতেই বিব্রতবোধ করলো মানব। ক্ষীণ আওয়াজে ‘সরিহ’ টুকু বলেই তার সুক্ষ্ম দৃষ্টি জোড়া আবারও প্রান প্রেয়সীর মুক্তঝড়া হাসির ফোয়ারায় মত্ত করলো। অষ্টাদশীর অধর কোলের মিষ্টি হাসি মেহরাদের হৃদয়ে যেন পাহাড়ি ঝর্নার ন্যায় নৃত্যের ঝুমুর ঝুমুর শব্দ তুলছে। সতেজতায় ভরিয়ে দিচ্ছে অন্তঃপুট। প্রভনের মলয় বাতাস অভ্যন্তরে ছড়িয়ে পড়তেই নিজের অধরেও অজান্তেই হাসির রেখা ফুটে উঠলো মানবের। এটাই বুঝি প্রমাণ , তুমি হাসলে আমি হাসবো, তুমি কাদলে আমি কাদবো!

বোনদের দীর্ঘ আলাপ পরিচিতার পর হুট করেই সোহানার দৃষ্টি গোচর হলো শুভ্রতার বা গা’লের থোকা থোকা জমাট বাধা রক্তিম ছাপ। মেয়েটা অবুঝ স্বরে মন খারাপ করে শুধালো,
“এটা কিসের দাগ রে? ভাইয়া কি মে’রেছে তোকে? দ্বীপ ভাইয়া থেকে শুনেছিলাম গতকাল একটু…..”
“কই দেখি….” বলে শান্তাও ঘুরালো ওকে নিজের দিকে। তীক্ষ্ণ দৃষ্টি ভুলিয়েও সঠিক ধরতে না পেরে বলে উঠলো,
“ভাইয়া কি এখনো রেগে আছে তোর উপর? সত্যি সত্যি মেরেছিলো তোকে???”
আড়ষ্টতায় দাত দ্বারা নিচের ঠোঁট কামড়ে ধরলো শুভ্রতা। মূহুর্তেই ঘেমে উঠেছে নাজুক কিশোরী। কি বলবে সে? মা’র না তোমাদের ভাইয়ার বেপরোয়া আদরের চিহ্ন এটা! ভেতরে ভেতরেই বিস্ফোরণ ঘটলো মেয়েটার এ চিন্তা মাথায় আসতে। কখনোই সম্ভব না এটা। আড় দৃষ্টিতে ডাইনিং এ নজর ভোলাতেই মেহরাদের দৃষ্টিতে দৃষ্টি মিললো রমনীর। হৃদযন্ত্রের রক্ত ছলকে উঠলো তীব্র জলোচ্ছ্বাসের ন্যায়। কর্তন করা ডগার ন্যায় নেতিয়ে আসে অষ্টাদশী ওই নির্লজ্জ ঠোঁটের বাকের মানবের দৃষ্টিপাতে। মিয়িয়ে আসা কন্ঠে কোনরূপ আওড়ায়,

“হু।”
সোহানা সহসাই জিজ্ঞেস করে,
“কি, হু? মে’রেছে তোকে ভাইয়া?”
“হু।” মাথা নাড়ায় লাজুক রমনী। দাগ মা’রের না হলেও মে’রেছে তো ঠিকি’ই না? তার তো মিথ্যে হলো না এটা ঠিক না?
সোহানের কষ্টে বুক ভার হয়ে আসে বোনের জন্য। কয়েক ফোটা অশ্রু বিসর্জন দিয়ে বোনের গালে হাত ভুলিয়ে দেয়। শান্তাকে বলে,
“আপু, একটু বরফ ডলে দিলে ভালো হবে না? দাড়াও আমি নিয়ে আসি।” মূহুর্তেই চঞ্চল পাখির ন্যায় ছুটে গিয়ে বরফ নিয়ে আসলো বোনের জন্য। ব্যাথিত হৃদয়ে বোনের হাতে সপে দিলো তা ডলে দেওয়ার জন্য।
শান্তা অভিজ্ঞের ন্যায় পুরো পুরি মাথার ওড়না সরিয়ে দিলো। শুভ্রতার দু’চোখ ফেটে বেরিয়ে আসার উপক্রম। এরা সত্যি সত্যি তার স্বামী র আদরে বরফ ডলে দিবে নাকি! ওপাশে মেহরাদ তাকিয়ে আছে নির্লিপ্ত দৃষ্টিতে। রমনীর ভাসা ভাসা, হতভম্ব, চঞ্চল দৃষ্টি জোড়া বেশ মজা দিচ্ছে তাকে।
মাথার ওড়না সরিয়ে দিতেই ঘারের গলার খণ্ডাংশ উন্মুক্ত হতে শুভ্রতা খপ করে ওড়না চেপে ধরলো বুকের মধ্যিখানে। অসহায়ের ন্যায় অবাধ্য কিশোরীর মতো শান্তার দিকে চেয়ে বলল,

“এই সকালে বরফ ডলতে হবে না আপু। ব্যাথা নাই তো। সেই কখন মেরেছে! ব্যাথাও সেই কখনোই চলে গিয়েছে।”
“আহহহ্, এখনো সকাল কই পেলি তুই? বেশি ঠান্ডা লাগবে না। দেখি আমায় দেখতে দে। আরও আছে তো…..”
“এই তোরা কি করছিস মেয়েটার সাথে? বকবক করে মাথা খাসনা মেয়েটার। দেখি দূরে যা। আগামীকাল পরিক্ষা আছে মনে আছে তো?” বলেই সুরাইয়া বেগম দু’বোনকে সড়ালেন শুভ্রতার সামনে থেকে। শুভ্রতার ক্লান্তির দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে হাফ ছেড়ে বাচতে নেওয়ার আগেই সোহানা ওর মাথায় ছোট খাটো বাজ ফেলে বলল,
“বকবক করছি না, মা। এই দেখো, ভাইয়া মেরেছে ওঁকে। কি দাগ পরে আছে! এখানে বরফ দিয়ে না ডললে তো রক্তটা যাবে না!” বুদ্ধিমতির মতো কথা মেয়েটার। এদিকে শুভ্রতার প্রাণ পাখি উড়ে যাওয়ার জোগাড়। বজ্রহাতের ন্যায় দু’চোখ উঠে গিয়েছে কপালে। মূহুর্তেই মনে প্রশ্ন জাগলো, এখন কি মেঝো মা’কেও এসব দেখাবে নাকি!
সুরাইয়া বেগম মেয়ের কথায় আশ্চর্য হলেন। হাতে তার নাস্তার ট্রে। শুভ্রতার জন্য নিয়ে এসেছিলেন। তা তৎক্ষনাৎ টি টেবিলের উপর রেখে শুভ্রতার গাল চেপে নিজের মুখোমুখি করলেন। উদ্বীগ্নতায় শুধালেন,

“কই দেখি…. মেহরাদ এরকম করেছে……”
যেন পৃথিবীর অষ্টম আশ্চর্যেরই কিছু এটা। বিশ্বাসই হচ্ছে না। পরক্ষণেই আবার ভাবেন, ছেলেটা যা উন্মাদ হয়ে ছিলো! রেগে গিয়ে দিলেও দিতে পারে! তখন তো আর জানতো না এতো কিছু! তিনি তীক্ষ্ণ চোখে কান, গাল, গলা পরখ করে শুভ্রতার দিকে তাকালেন। লজ্জায় গোধূলির আকাশে ন্যায় রক্তিম বর্ন ধারণ করে আছে মেয়েটার ছোট্ট মুখশ্রী। দু’চোখ খিচে বন্ধ করা। সুরাইয়া বেগম সন্দিগ্ধ কন্ঠে শুধালেন,
“মেহরাদ মে’রেছে?”
মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানালো শুভ্রতা৷ মনে মনে দোয়া দুরুদ পড়ছে, এটাই যেন শেষ প্রশ্ন হয়। কিন্তু না। ওঁকে ভুল প্রমানিত করে ভেসে আসলো সন্দিহান প্রশ্নের বান,
“বা গালে মে’রেছে?”
লজ্জায় মিয়িয়ে যায় মেয়েটা।কোন প্রতিউত্তর করতে পারে না তৎক্ষনাৎ। সোহানা অসহ্য গলায় বলে উঠে,
“বোকা তুমি মা? দেখছো না দাগ পরে আছে? আবার জিজ্ঞেস করছো?”
শুভ্রতার নীরবতায় মনে মনে কপাল চাপড়ালেন সুরাইয়া বেগম। দুই মেয়ের দিকে দাত কটমটিয়ে বললেন,
“দুই গাধার বাচ্চা জন্ম দিয়ে নিয়েছি। কোনটা কিসের দাগ এটাও বুঝে না।”
শান্তা রেগে গেলো,

“তুমি আমাদের বকছো কেন, মা? ভাইয়াকে বকো? ওঁকে মা’রলো কেন? আর মা’রলেও এভাবে কেউ মা’রে? কতগুলো দাগ……” শান্তার মুখ আপনা-আপনি বন্ধ হয়ে আসলো। কতগুলো দাগ? এক থাপ্পড়ের এতো দাগ হয় কিভাবে? বিস্ফোরিত চাহনি শুভ্রতার দিকে নিক্ষেপ করতেই দেখে, শুভ্রতা আকুতি নিয়ে তাকিয়ে রয়েছে ওঁদের দিকে। মেয়েটা পারলে দু বোনের পা আঁকড়ে বলতো, ক্ষ্যামা দাও তোমরা দুই বোন এবার। আমার ইজ্জতের গোষ্ঠীর তুষ্টি করে দিচ্ছো একদম।
শান্তা এবার নিজেই লজ্জায় লাল হয়ে গেলো বুঝতে পেরে। ঠোঁট চেপে হাসি সংবরণ করতে চেয়েও পারলো না । হাতের তালুতে মুখ চেপে ধরলো। সুরাইয়া বেগম দু’দিকে মাথা নাড়িয়ে চলে গেলো আবারও ডাইনিং এর দিকে। এঁদের নিয়ে কই যাবেন তিনি!
মেহরাদ ডাইনিং ছেড়ে শুভ্রতার দিকে এগিয়ে আসছে দেখে শান্তা সোহানাকে নিয়ে সড়ে দাড়ালো। শুভ্রতা হাফসাফ করছে কুন্ঠায়। মেহরাদের কদম বাড়ানোর সাথে সাথে নিদারুণ অস্থিরতায় বাড়ছে হৃদয়ের ঢাক ঢোল হাতুড়ি পেটা। সম্পূর্ণ কাছা কাছি আসতেই মেহরাদ ঝুকে গেলো লাজুক রমনীর নিকটে । আড়ষ্টতায় সর্বাঙ্গ জমে এসেছে মেয়েটার। ভাসা ভাসা দু’চোখের ভারী পল্লব ঝাপটিয়ে মেহরাদের দিকে তাকাতেই মেহরাদের নির্লজ্জ দৃষ্টিতে দৃষ্টি মিললো। পুরুষালী ওষ্ঠের বাকে নির্লজ্জ হাসির কপটতা মানবের। বউয়ের ওড়না মাথায় টেনে দিতে দিতে ফিসফিসিয়ে বলে উঠলো,

“বউকে আদর করেও শান্তি নেই দেখছি! ”
তার মানে সব শুনেছে! লজ্জার তাড়নায় তিরতিরিয়ে কেপে উঠে দু’ঠোট অষ্টাদশীর। অস্ফুট স্বরে কোনরূপ আওড়ায়,
“এভাবে আদর না করলেই তো হলো….”
“উঁহু, আদর কিছুতেই কমানো যাবে না। আমার ধাচে নেই তা। প্রগাঢ় ছোয়ার চিহ্ন আরও গভীরতায় রাখতে হবে। হু? দ্যাটস এনাফ!” দু ভ্রু নাচিয়ে উঠে মানব। ছোট্ট মুখশ্রীর উপর ছুড়ে দেয় শীতল প্রশ্বাসের ‘ফুঁ’। ফিসফিসে হাস্কিস্বর।
অষ্টাদশীর দু’চোখ খিচে আসে আপনি-আপনি। কান, গাল ঝলসে যেতে শিহরণী শীতল প্রশ্বাসে। তলপেটে নাম জানা অজস্র প্রজাতিরদের আলোড়ন । যতটা শীতলতা ছিলো প্রশ্বাসে ঠিক ততটাই স্ফুলিঙ্গের দাবানল ছড়িয়ে দিচ্ছে নারী দেহের রন্দ্রে রন্দ্রে। প্রণয় পুরুষের ছোট্ট বাক্যাংশ নারীদেহের প্রতিটি লোমকূপ শিহরণে কেপে উঠে।
মেহরাদ সরে যায় সামনে থেকে। মা’কে বলতে শুনেছে শুভ্রতার কাছে আসবে খায়িয়ে দিতে। স্পেস দেওয়া দরকার, সকল মান অভিমান মিটাতে। তাই দূরে সরে গেলো কলমিলতার ন্যায় নেতিয়ে আসা রমনীকে রেখেই।
তার প্রেয়সীর লাজুক মুখের চেয়ে তৃপ্তিদায়ক কোন বস্তু দ্বিতীয় টি নেই এই ধরনীতে। দেখলেই মন তৃপ্ত হয়ে উঠে।

জাহানারা বেগম ধীর কদমে শুভ্রতার সামনে এসে দাড়ালেন। অপরাধবোধ গলা চেপে ধরে রেখেছে যেন। শুধু অশ্রুতে টলমল দু’নয়ন। ভেতরের অজস্র দ্বিধা কাটিয়ে সোফায় পাশ ঘেঁষে বসে শুভ্রতার। শাড়ির আঁচলে দু হাত চেপে। এ বয়সে এসেও লজ্জায় কুন্ঠিত হয়ে আছেন নিজের কৃতকর্মের জন্য।
শুভ্রতা দেখছে সব নিভু নিভু চোখে। অনুভূতির ভারে ভেতরটা দ্বীখন্ডিত হয়ে আসছে মেয়েটার। সে জানে তার বড়ো মা তার জন্যই তার পাশে এসে বসেছে। কিন্তু তার সাথে কথা বলতে পারছে না। কেন পারছে না? দ্বিধায়? শুভ্রতার কাছে কিসের দ্বিধা? সে কি পর? সে তো মেয়েই? না-কি এখন আর মেয়ে ভাবে না!
হৃদয় দ্বিখণ্ডিত করে দেওয়ার মতো ধারালো অনুভূতি গুলো সব অশ্রু হয়ে ঝড়ে মেয়েটার দু’চোখের কোল ঘেঁষে। চিবুক কেপে উঠে তিরতিরিয়ে, রোধ করতে চাওয়া চাপা করুন সরুরে ভারে। নাক টানে। অভিমানী কন্ঠে বলে উঠে,
“আমি কেউ না দেখেই, কেউ একজন এখনো আমায় একটু বুকে জড়িয়ে ধরলো না। মাথায় একটু হাত ভুলিয়ে দিলো না।”

জাহানারা বেগম সঙ্গে সঙ্গে বুকে আগলে নিলেন মেয়েটাকে। কণ্ঠনালী চিড়ে বেরিয়ে আসে অস্ফুট চাপা আর্তনাদ,
“তুই কেউ না কে বলেছে? তুই ই তো আমাদের সব! তোকে ছাড়া একটা কেউ ভালো ছিলাম না রে! আমাদের কলিজা টুকরো তুই। এই কলিজার টুকরো টার সাথে যে কতো বড়ো অন্যায় করে ফেললাম বড়ো মা! কি মুখ নিয়ে সামনে আসতাম! ক্ষমা করতে পারবি বড়ো মা’কে? আমি আমি দিশেহারা হয়ে গিয়েছিলাম, মা। মেহরাদের ওই অবস্থা কিছুতেই মানতে পাড়িনি। তোকে অপরাধী করেছি আমার কাঠগড়ায়। কষ্ট দিয়েছি৷ আমায় মাফ করে দে, মা? মানুষ মাত্রই তো ভুল বল? এই অপরাধী মা ‘ টাকে কি মাফ করা যায় না?”
“বার বার মা বলছো আবার ক্ষমাও চাইছো? মা কি সন্তানের কাছে ক্ষমা চায় কখনো? তোমরা ছাড়া আর কে আছে আমার বলো? আমায় একটু শক্ত করে বুকে জড়িয়ে ধরো বড়ো মা….তোমার কাছে আমি মা’য়ের গন্ধ পাইইইই।” দু’ঠোঁট উলটে অশ্রু বিজরিত কন্ঠে বলে উঠলো মেয়েটা।
জাহানারা বেগমের বুকটা হাহাকারে ভরে উঠলো। কি অন্যায় করে ফেললো এ পবিত্র ফুলটার সাথে? এমন মেয়েকে কি করে কষ্ট দিতে পারলো উনি!
শুভ্রতার বুকের ভেতরটা উম উম এক উষ্ণতায় ছেয়ে যায়। তার আগের পরিবার, আগের সব ভালোবাসা ফিরে এসেছে এর চেয়েও খুশির কিছু কি আছে তার জন্য এ দুনিয়ায়! উঁহু, কিচ্ছু নেই। আর কিছু চায়’ও না সে।
নিজের মা বলতে এ মানুষটাকেই চিনেছে সে সেই ছোট থেকে। সকল আবদার জুড়েছে মানুষটার কাছে। একটা ভুলের কারণে এতো বছরের ভালোবাসা ভুলে যাওয়ার মতো নিমোক হারাম সে নয়। সে হচ্ছে ভালোবাসার কাঙ্গাল। এই উষ্ণ আদরটুকু সে সর্বস্ব দিয়ে বুকে আগলে রাখতে চায়। যেকোনো কিছুর বিনিময়ে।

শুভ্রতাকে নিজ হাতে নাস্তা খায়িয়ে দিচ্ছে জাহানারা বেগম। এক হাতে চোখের অশ্রু মুছে সুরাইয়া বেগমকে ডেকে বললেন,
“ছোট, শান্তা আর সোহানেও ডেকে দে তো।”
সুরাইয়া বেগম দু’মেয়েকে ডেকে নিয়ে আসলেন ড্রয়িং রুমে। চোখের ইশারায় ওঁদেরকে শুভ্রতার পাশে বসতে বললেন তিনি। কাচের টি টেবিলের উপর বসে তিনি। ওরা বসতেই ওদের মুখেও খাবার তুলে দিলেন। তিন বোন একে অপরের দিকে চেয়ে হেসে উঠলো উচ্চ স্বরে। সাফি টা আর রোজা টা না থাকায় কিছুটা খালি খালি লাগলো ওদের। তবুও, কি এক মনরোম এ দৃশ্য! যেন তালুকদার বাড়িতে রঙ্গিন প্রজাপতির হাট বসেছে। অসংখ্য রঙ্গিন আলোক সজ্জ্বার ছড়াছড়ি।
সুরাইয়া বেগম নিজেও বসলেন মেয়েদের সাথে। বায়না ধরে বললেন,
“আপা এটা ঠিক না। আমায় দেখছো না তুমি? আমিও তো না খেয়ে!”
সকলে আবারও এক যোগে হেসে উঠলো। হাসি হই হুল্লোড়ে নাস্তার পর্ব শেষ হতেই সোহানা টুপ করে নালিশ করে উঠলো ,

“বড়ো মা, এখন তো সব ঠিক হয়ে গিয়েছে। তুমি ভাইয়ার বিচার করো আগে?”
জাহানারা বেগমের ভ্রু কুচকে আসে সোহানার আর্জিতে। প্রশ্নাত্মক দৃষ্টিতে তাকাতেই সোহানা গরগরিয়ে বলা শুরু করে,
“শুভ্রতাকে মেরেছে ভা…..”
‘ঠাস’ করে মেয়ের মাথায় এক চাপর মে’রে দিলেন সুরাইয়া বেগম। মেজাজ তার তুঙ্গে উঠে গিয়েছে মেয়ের নির্বোদ্ধিতায়।
“মা তুমি মারলে….” এবার শান্তা বোনের মুখ চেপে ধরলো এক হাতের তালুতে। আতংকে শুভ্রতার হৃৎপিণ্ড ফেটে বেরিয়ে আসার যোগার। আজ কি হচ্ছে বেচারির সাথে! প্রেসটিজ সব প্লাস্টিক করে দিচ্ছে তার জিগরী বোন।
জাহানারা বেগম কপালে চিন্তার ভাজ ফেলে জিজ্ঞেস করলেন,
“কি হচ্ছে? তোরা এমন করছিস কেন মেয়েটার সাথে? মেহরাদ কি করেছে? ”
শুভ্রতা বিষম খেয়ে গেলো। নাক মুখ ঝাঝিয়ে উঠেছে মূহুর্তেই। অনর্গল কাশতে কাশতে পানি দিতে বলল। জাহানারা বেগম হন্তদন্ত পানি এগিয়ে দিতেই মেয়েটা তৃষ্ণার্ত চাতকের ন্যায় সবটুকু পানি গলা দঃকরন করলো।
“কি হয়েছে….. ” বাকি টুকু বলার ফুরসত পেলো না জাহানারা বেগম। সুরাইয়া বেগম তাকে কিচেনের দিকে টেনে নিয়ে যেতে যেতে বলছেন,

“আসো আপা আমি বলছি তোমায়। এ গর্দভ মেয়ের কথা ছাড়ো। এই গরুকে যে কার ঘারে চাপাবো! আল্লাহ জানে! ”
আস্তে আস্তে মিয়িয়ে আসে দু’জনার গলা। শুভ্রতা ক্ষ্যাপা বাঘিনীর ন্যায় চায় বোনের দিকে। তার মান সম্মান সব কেজি ধরে বিক্রি করে দিয়েছে মেয়েটা।
সোহানা শুভ্রতার ক্ষ্যাপাটে দৃষ্টির কবলে পরে মিনমিনিয়ে শুধায়,

হৃৎস্পন্দন পর্ব ৫৩

“কি? এভাবে চেয়ে আছিস কেন? তোর জন্য জাস্টিস করতে চেয়েছিলাম… ”
“চুপ করবি তুই? তোর জাস্টিসের গুষ্টি কিলাই আমি, সয়তান মেয়ে।”
“আশ্চর্য! ক্ষেপে গেলি কেন???” মেয়েটা আহাম্মকের মতো শুধায়।
শান্তা ওঁকে টেনে নিয়ে যেতে যেতে কাধ জড়িয়ে বলে,
“গাধী একটা! বড়ো ভাইয়ের আদরকে মাইরের দাগ বলে পুরো এলাকা করে বেড়াচ্ছিস। ক্ষেপবে না তো কি করবে? কোলে তুলে নাচনে তোকে? আহাম্মক….. ”

হৃৎস্পন্দন পর্ব ৫৫