Home Naar e Ishq Naar e Ishq part 32

Naar e Ishq part 32

Naar e Ishq part 32
তুরঙ্গনা

পরদিন সকাল বেলা। মিলানের আকাশে ভোরের আলো কাঁচা সোনার মতো চারপাশে ছড়িয়ে পড়ছে। গতরাতের সেই হাড়হিম করা অভিজ্ঞতার পর সুহিনের চোখে এক পলকের জন্যও ঘুম নামেনি। অথচ নিমরা আর রোজি বেঘোরে ঘুমাচ্ছে। বিছানায় এপাশ-ওপাশ করতে করতে যখন ভোরের আলো জানলার পর্দা চিরে ভেতরে প্রবেশ করল, তখন সুহিন আর শুয়ে থাকতে পারল না। অতি সন্তর্পণে ফ্রেশ হয়ে সে রুমের সাথে লাগোয়া বারান্দায় গিয়ে দাঁড়াল।

​নিচে তাকাতেই সুহিন দেখতে পেল তালহাকে। মর্নিং সুট পরে সে বাগানের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে জগিং করছে। সুহিনের মনে পড়ল, তালহার সাথে তার বিশেষ কিছু কথা বলার ছিল। বেলা বাড়লে সবাই জেগে উঠবে, তখন আর সুযোগ মিলবে না। তার চেয়ে ভালো এখনই গিয়ে তালহার সাথে জরুরি আলাপটুকু সেরে নেওয়া।
​সুহিন দ্রুত পা ফেলে নিচে নেমে এল। নামার সময় বাড়ির ভেতরেও আশেপাশে কাউকেই দেখতে পেল না। কিন্তু বাগানে পৌঁছেই সে থমকে গেল। কিছুক্ষণ আগে যাকে দেখা গিয়েছিল, সেই তালহা যেন কর্পূরের মতো বাতাসে মিলিয়ে গিয়েছে। চারপাশে দৃষ্টি বুলিয়েও তাকে কোথাও দেখা গেল না। কৌতূহলবশত সুহিন বাড়ির পেছনের বিশাল অংশের দিকে পা বাড়াল। এই দিকটায় আগে এখনো তার আসা হয়নি।
​বাড়ির পেছনের এই বিশাল এরিয়াটি মূলত একটি আধুনিক অশ্বারোহন ক্ষেত্র বা স্ট্যাবল এরিয়া। যতদূর চোখ যায়, সীমানা প্রাচীর অব্দি সাজানো গোছানো এক বিস্তীর্ণ ভূমি। আর ঠিক সেই মাঠের মাঝখানে সুহিন যা দেখল, তাতে তার হৃদপিণ্ড এক মুহূর্তের জন্য থমকে গেল।

​ধবধবে সাদা একটি আরবিয়ান ঘোড়ার পিঠে সওয়ার হয়ে বাতাসের বেগে ছুটে বেড়াচ্ছে কেকে। ভোরের স্নিগ্ধ আলোয় তাকে ঠিক কোনো এক উদ্ধত রাজপুত্রের মতোই দেখাচ্ছে। পরনে তার সাদা রঙের পলিন শার্ট, যার বুকের দিকের প্রথম দু-তিনটি বোতাম খোলা থাকায় তার প্রশস্ত বলিষ্ঠ বুক উন্মুক্ত হয়ে আছে। শার্টের হাতাগুলো কনুই অব্দি গোটানো।
​কেকের সেই সহজাত গাম্ভীর্য এখন যেন এক বুনো উল্লাসে পরিণত হয়েছে। অবিন্যস্ত ঝাঁকড়া চুলগুলো বাতাসের ঝাপটায় পেছনে উড়ছে, আর ঘোড়ার খুরের শব্দে পুরো প্রান্তর মুখরিত। সুহিনের মনে হলো, সে বুঝি কোনো ভোরের স্বপ্নে বিভোর হয়ে আছে। কিন্তু এই ঘোর বেশিক্ষণ স্থায়ী হলো না।
​মাঠের দূর প্রান্ত থেকে কেকে-র তীক্ষ্ণ নজর পড়ল শ্বেতশুভ্র সালওয়ার কামিজ পরা সেই রমণীর ওপর। এক মুহূর্তও সময় নষ্ট করল না সে। ঘোড়ার লাগাম টেনে ধরল সে সুহিনের দিকে। সুহিনের মনে হলো, কোনো রাজপুত্র নয়, বরং এক হিংস্র শিকারি তার শিকারকে ছিনিয়ে নিতে সজোরে তেড়ে আসছে।
​সুহিন আতঙ্কে স্তব্ধ হয়ে গেল। কেকে-র এই উদ্দাম গতি দেখে সে ভয়ে দু-চোখ শক্ত করে খিঁচে ফেলল। তার দু-পা পিছিয়ে যাওয়ার শক্তিটুকুও যেন নিঃশেষ হয়ে গেছে। ঠিক তখনই এক বিকট হ্রেষাধ্বনি তুলে ধবধবে সাদা ঘোড়াটি তার সামনের দু-পা শূন্যে তুলে ঠিক সুহিন হতে মাত্র কয়েক ইঞ্চি দূরে এসে থমকে দাঁড়াল।
​বাতাসে ধুলো উড়ছে, আর সুহিনের কানে তখনও বেজে চলেছে কেবল নিজের হৃৎস্পন্দনের ধকধক শব্দ। সে ভাবল, হয়তো এখনই সে অজ্ঞান হয়ে লুটিয়ে পড়বে। কিন্তু সেই নিস্তব্ধতা খানখান করে কেকে-র ভারী গম্ভীর কণ্ঠস্বর আছড়ে পড়ল,

​”এত সকালে এখানে কী করছিস?”
​সুহিন ভয়ে ভয়ে চোখ মেলে তাকাল। বিশাল এক ঘোড়ার পিঠে চেপে কেকে তার দিকে নিচু হয়ে তাকিয়ে আছে। তার চোখে-মুখে গাম্ভীর্যের পাশাপাশি ললাটে ক্ষিপ্ততার ভাঁজ স্পষ্ট। এই দানবীয় অশ্ব আর তার সওয়ারির সামনে সুহিন নিজেকে বড্ড তুচ্ছ আর অসহায় মনে করল। সে চশমার আড়ালে নীলচে চোখ দুটো দিয়ে আশেপাশে কাউকে খোঁজার চেষ্টা করল। যদি তালহা বা অন্য কেউ থাকত, তবে হয়তো মনে একটু সাহস পেত। কেননা তার চোখের সামনে যে আছে, সে তো রক্ষক নয় ভক্ষক!
​সুহিনকে নিরুত্তর দেখে কেকে এবার আরও কিছুটা ঝুঁকে এল। দাঁতে দাঁত চেপে কর্কশ স্বরে বলল,
“কী হলো, কিছু বলছিস না কেন? স্পিক আপ, গাধা!”
​সুহিন থতমত খেয়ে গেল। নিজের ওষ্ঠাধর ভিজিয়ে নিয়ে কোনোমতে আমতা আমতা করে বলল,
“তা…তালহা ভাইয়ের সাথে… কথা বলার ছিল।”
​কেকে-র কপালে ভাঁজ আরও গভীর হলো। সে ঘোড়ার লাগামটা হাতের মুঠোয় আরও শক্ত করে পেঁচিয়ে ধরল। তার ধূসর চোখ দুটো তখন সুহিনের অপরাধী মুখের ওপর স্থির। এক চিলতে তাচ্ছিল্যের হাসি তার ঠোঁটে খেলে গেল; যা সুহিনের অস্বস্তি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল।
কেকে ঘোড়ার পিঠে বসেই আধিপত্যের সুরে আদেশ দিল,

​”এদিকে আয়!”
​সুহিন হকচকিয়ে গিয়ে অস্ফুট স্বরে আওড়াল,
“হ্যাঁ?”
​কেকের ললাটে বিরক্তির ভাঁজ স্পষ্ট হলো। সে আবারও কর্কশ স্বরে উচ্চারণ করল,
“এদিকে আসতে বলেছি আমি।”
​রমণী যন্ত্রচালিত পুতুলের মতো ধীরপায়ে দু-পা এগিয়ে দাঁড়াল। নিজের নাকের ডগায় নেমে আসা চশমাটা ঠেলে দেওয়ার অবকাশটুকুও সে পেল না; তার আগেই কেকে এক অতর্কিত ঝটকায় সুহিনের হাতখানা চেপে ধরল। সুহিন সংশয়ে ও ভয়ে কুঁকড়ে গিয়ে আর্তনাদ করে উঠল,
​”আহ… এটা কী করছেন…”
​কেকে সেই আর্তনাদে কর্ণপাত করল না। তার বলিষ্ঠ হাতের মুঠোয় সুহিনের নরম কবজিটা পিষ্ট হচ্ছে, অথচ তার নির্বিকার ভাবমূর্তিতে কোনো পরিবর্তন নেই। আচমকা এক প্রবল হেঁচকা টানে সে সুহিনকে ঘোড়ার পিঠে নিজের সামনে টেনে তুলে বসিয়ে দিল।
​সুহিনের পা দুটো ঘোড়ার একপাশে জড়োসড়ো হয়ে আছে। তার সারা শরীর তখন থরথর করে কাঁপছে। এক হাত দিয়ে সে ঘোড়ার ধবধবে সাদা নরম পশম আঁকড়ে ধরল; আর অন্য হাত দিয়ে খামচে ধরল কেকের পেশিবহুল বা’বাহুখানা। তার চোখের কোণে জল চিকচিক করছে। চুলে ঢাকা পড়া কেকের সেই তীক্ষ্ণ চোখে এক পৈশাচিক ধূর্ত হাসি খেলা করছে। সুহিন প্রায় কেঁদে ফেলার মতো অবস্থায় মিনতি করল,

​”ছাড়ুন আমায়… আমি চলে যাব।”
​কেকে তার কথা কানেই তুলল না। উল্টো একহাতের শক্ত বাঁধনে সুহিনের কোমর নিজের বুকের সাথে পিষে ধরল; অন্যহাতে পাথরের মতো দৃঢ়তায় ধরে রাখল ঘোড়ার লাগাম। চুইংগাম চিবোনোর ভঙ্গিতে কয়েক লহমা সুহিনের ভীতু মুখটা পর্যবেক্ষণ করল সে। তারপর অত্যন্ত নির্লিপ্তভাবে এক চিলতে তির্যক বাঁকা হেসে বলল,
​”এত তাড়া কিসের? এসেছিস যখন, কেকে স্পেশাল ট্রিটমেন্ট তো নিয়ে যা!”
​সুহিন সেই কথার নিহিতার্থ বোঝার আগেই কেকে ঘোড়াটিকে উন্মাদ গতিতে ছুটিয়ে দিল। মুহূর্তের মধ্যে সুহিন আতঙ্কে চোখ-মুখ খিঁচে বন্ধ করে নিল। বাতাসের তীব্র ঝাপটায় তার আলগা খোঁপাটা ভেঙে গেল। বাদামী চুলের অবিন্যস্ত রাশি কেকের উন্মুক্ত প্রশস্ত বুকে ছড়িয়ে পড়ল। ঠিক তখনই কেকে তার কানের কাছে মুখ নামিয়ে হাস্কিস্বরে ডাকল,

​”সুহিন!”
​রমণী ভয়ে ভয়ে চোখ মেলল। ঘোড়াটি তখন বাতাসের বেগে ছুটে চলছে। ভোরের সেই স্নিগ্ধ আলোয় দূরপ্রান্তের সবুজ দৃশ্যগুলো যেন হাওয়ায় উড়ছে। জীবনের প্রথম এমন এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতায় সুহিন এক মুহূর্তের জন্য বিভোর হয়ে পড়ল। কারো বাহুবন্ধনে বন্দি থাকলেও নিজেকে তার অদ্ভুতভাবে মুক্ত মনে হলো। কিন্তু সেই মুগ্ধতা স্থায়ী হলো মাত্র কয়েক সেকেন্ড।
​আচমকা নিজের কাঁধ আর গলার সন্ধিস্থলে কারো তপ্ত দীর্ঘশ্বাসের স্পর্শ পেতেই সুহিন শিউরে উঠল। কেকে উন্মাদের মতো সুহিনের ঘাড়ে আর চুলে মুখ ডুবিয়ে দিয়েছে। তার নাক আর ঠোঁট বারবার রমণীর কোমল ত্বক স্পর্শ করে যাচ্ছে। কেকের গাল-ভরা হালকা খোঁচা খোঁচা দাড়ি সুহিনের গলার নরম চামড়ায় বারংবার ঘর্ষণ লাগাতেই রমণীর দু-চোখ নোনা জলে ভরে উঠল।
​সুহিনকে সম্পূর্ণরূপে অবশ করে দিয়ে কেকে অতিশয় নরম ও হাড়হিম করা হাস্কি টোনে ডেকে উঠল,
“ঐ পার্সিয়ান!”

​সুহিন এক লহমায় কেঁপে উঠল। তার হাত কেকের বাহুতেই শক্ত করে বিঁধে ছিল, সে এবার আতঙ্কে যুবকের ফর্সা ত্বকে নিজের ছোট ছোট নখগুলো গেঁথে দিল। অথচ কেকের নূন্যতম কোনো প্রতিক্রিয়া হলো না। বরং তার ঠোঁটের কোণের সেই রহস্যময় হাসিটা আরও প্রশস্ত হলো।
​ঘোড়ার গতির চেয়েও দ্রুত বেগে সুহিনের হৃদপিণ্ড তখন পাঁজরের ভেতর আছড়ে পড়ছে। কেকে-র প্রতিটি দীর্ঘশ্বাস আর ঘাড়ের ওপর তার উষ্ণ ঘর্ষণ সুহিনের সমস্ত চেতনাকে স্থবির করে দিচ্ছিল। সুহিন বুঝতে পারছিল না কেকে এই পাগলামিটা কেন করছে। যে মানুষটা তাকে ঘৃণা করে, যার সাথে সম্পর্ক এখন কেবল এক টুকরো কাগজের দেনাপাওনায় আটকে আছে, সে কেন এমন বিকারগ্রস্ত আচরণ করছে?
​সুহিন সাহস জুগিয়ে কাঁপা কাঁপা স্বরে অস্ফুটভাবে আওড়াল,

“এসব কী করছেন? ছা… ছাড়ুন আমায়।”
কেকে তার কথাকে গুরুত্ব বা দিয়ে নিজের মতো বলে উঠল,
“ওর নাম কি জানিস?”
সুহিন নিরুত্তর; তার সর্বাঙ্গে কাঁপন ধরে গিয়েছে। কেকে আবারও বলল,
“চার্লি! সুন্দর না নামটা?”
নিজের ঘোড়ার সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে না দিতেই, উন্মাদনায় কেকে অদ্ভুত এক কাজ করে বসল। সুহিনকে সম্পূর্ণ হতভম্ব করে দিয়ে, আচমকা তার ঘাড়-গলার ঠিক মধ্যিখানে চুম্বনের পরিবর্তে সোজা সজোরে কামড়ে দিল। রমণী অস্ফুটে কিঞ্চিৎ চিৎকার করেই থমকে গেল। ছটফট করে তীব্র আর্তির সাথে আওড়াল,
“অসভ্যতা বন্ধ করুন! আমায় যেতে দিন, আমি আর কখনো এখানে আসব না।”
সুহিনের আকুতি যেন কেকে-র কানেই পৌঁছাল না, বরং তার পাগলামি আরও বহুগুণ বেড়ে গেল। সে এক উন্মাদ ঘোর নিয়ে বারবার সুহিনের চুলে, ঘাড়ে আর গলায় নিজের মুখ ঘষতে লাগল। তার খোঁচা খোঁচা দাড়ির ঘর্ষণ যখন তীব্রতর হলো, সুহিন যন্ত্রণায় আর অপমানে পুরোপুরি কুঁকড়ে গেল। চশমার আড়ালে থাকা সেই নীল চোখ দুটো নোনা জলে ভিজে উঠল।

​অস্বস্তির চেয়েও বেশি সে আজ আহত হচ্ছে। এই বিষাক্ত আর অসুস্থ সম্পর্কের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তির আগে কেকে-র এমন অসংলগ্ন আচরণ সে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না।
এই স্পর্শগুলো তাকে একদিকে যেমন তীব্র কষ্ট দিচ্ছে, অন্যদিকে অবাধ্য মনটা যেন আবারও কেকে-র এই আদিম উন্মাদনার প্রতি দুর্বল হয়ে পড়ছে। অথচ কেকে থামার কোনো নামগন্ধই নেই। তার একহাত সুহিনের কোমড় জড়িয়ে রাখলেও, সূক্ষ্ম কাপড়ের ওপর দিয়ে তার প্রতিটি অযাচিত গভীর স্পর্শে সুহিন প্রতি মুহূর্তে শিউরে উঠছিল। সে এবার ফুঁপিয়ে কেঁদেই ফেলল; ছটফট করে আবারও আর্তনাদ করে উঠল:
​”ছেড়ে দিন আমায়! কেন করছেন এইসব পাগলামি!”
​সুহিনের প্রশ্নে কেকে-র উগ্রতায় এবার হঠাৎ এক অদ্ভুত স্থিরতা এল। সে ঘোড়ার গতি কিছুটা কমিয়ে আনল। হুট করেই সুহিনের কানের কাছে মুখ রেখে গভীর স্বরে প্রশ্ন করল,
“সুহিন! কাউকে ভালোবাসিস?”

​সুহিন মুহূর্তের জন্য থমকে গেল। এই মানুষটা এত অদ্ভুত কেন? কেকে আগে কখনো তাকে সুহিন বলে ডাকেনি। সবসময় ভিন্ন কোনো বিশেষ নামে তাকে সম্বোধন করে সে তাকে বাকিদের চেয়ে আলাদা করে রেখেছে। অথচ আজ আবারও এই সাধারণ নাম ধরে ডাকাটা যেন সুহিনকে বুঝিয়ে দিল—সে এখন কেকে-র কাছে অতি সাধারণ আর তুচ্ছ এক নারী ছাড়া আর কিছু নয়।
​কিন্তু তার প্রশ্নটা সুহিনের মস্তিষ্কে ঝোড়ো হাওয়ার মতো আছড়ে পড়ল। কেকে তাকে ভালোবাসার কথা জিজ্ঞেস করছে? সুহিন কিছুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে রইল, তারপর ধীরলয়ে মাথা নাড়ল,
“নাহ্!”
​কেকে নিজের উন্মাদনা অনেকটা কমিয়ে দিল। তবে সুহিনের ঘাড়-গলা থেকে মুখ তুলল না। ত্যাছড়া স্বরে ভ্রু উঁচিয়ে জিজ্ঞেস করল,

“কাউকে ভালোবাসিস না? ভালোবাসার সংজ্ঞা বুঝিস তুই?”
​সুহিন আবারও কিছুক্ষণ স্থির হয়ে ভাবল। তারপর খুব শান্ত স্বরে উত্তর দিল,
“যদি কাউকে মন থেকে ভালো লাগে, ওটাই ভালোবাসা।”
—“তাহলে বল, তোর কাকে ভালো লাগে?”
​সুহিন এবার কোনো রাখঢাক না রেখেই স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বলল,
“বেশ কয়েকজনকে ভালো লাগে।”
কেকে-র ললাটে এবার বিরক্তির ভাঁজ পড়ল। সে চাপা স্বরে শুধাল,
“যেমন?”

—“নিমরা, সাদ ভাইয়া, আরহাম ভাই… ওদের সবাইকে ভালো লাগে। তাছাড়া তালহা ভাইকেও ভালো লাগে।”
​সুহিনের এমন সহজ-সরল আর নির্ভেজাল উত্তর শুনে কেকে-র তীক্ষ্ণ চোয়াল হুট করেই শক্ত হয়ে গেল। তার ভেতরে থাকা সেই আগ্নেয়গিরিটা যেন আচমকা নিভে গিয়ে এক হিমশীতল স্তব্ধতায় রূপ নিল। সে সুহিনের ঘাড় থেকে মুখ তুলে নিল। অত্যন্ত শীতল আর কর্কশ স্বরের মিশেলে বলল,
“জানিস, আজ বিশ্ব গাধা দিবস! আর আমার দেখা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ গাধাটা হলি তুই!”
সুহিন হকচকিয়ে গেল তার কথায়। রমণী কিছু বুঝে ওঠার আগেই আবারও কেকে তার হিমশীতল হাস্কি টোনে বলে উঠল,

​”প্রচন্ড অসহ্য লাগছে তোকে। এখান থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেই?”
​সুহিনের হৃদপিণ্ড যেন এক মুহূর্তের জন্য বন্ধ হয়ে গেল। তার চোখ-মুখ ভয়ে শুকিয়ে কাঠ। সে বিস্ময় নিয়ে ঘাড় ঘুরিয়ে কেকের দিকে তাকাল। সেই রহস্যময় ধূসর চোখ দুটোর দিকে বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকার সাহস তার ছিল না। কিন্তু যা ঘটার ছিল, তা ঘটল চোখের পলক ফেলার আগেই।
​সুহিনকে সম্পূর্ণ হতভম্ব করে দিয়ে,কেকে গায়ের সর্বশক্তি দিয়ে তার কোমড় পেঁচানো হাতেই এক হেঁচকা টান মারল। চলন্ত ঘোড়া থেকে সে সুহিনকে অত্যন্ত নির্দয়ভাবে নিচে ফেলে দিল। সুহিন ছিটকে গিয়ে ঘাসের ওপর আছড়ে পড়ল। চিৎকার করার সুযোগটুকুও সে পেল না। হাত আর পায়ের তীব্র ব্যথায় সে কুঁকড়ে গেল। মাঠটা সমতল হওয়ায় বড় কোনো রক্তাক্ত চোট না পেলেও, তার মনের ভেতরে থাকা মান-সম্মানটুকু যেন চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গেল। সে কান্নায় ভেঙে পড়ল এবং মুখ তুলে সমস্ত শক্তি দিয়ে চিৎকার করে উঠল,

​”জানোয়ার আপনি! অমানুষ একটা!”
​কেকে নিজের ঘোড়ার লাগাম টেনে আবারও এক বিকট শব্দে সুহিনের সামনে এসে থমকাল। ঘোড়াটিও যেন তার সামনের পা দুটো শূন্যে ছুঁড়ে সুহিনকে ভয় দেখাল; যেমন মালিক তেমন তার সঙ্গী! কেকে অত্যন্ত ভারিক্কি গলায় বজ্রকঠিন কন্ঠে বলল,
​”দূর হ আমার সামনে থেকে! আর কখনো যদি আমার সামনে আসিস, তবে সত্যি জানে মে’রে ফেলব।”
কথাটা শেষ করেই সে আবারও ঘোড়া ছুটিয়ে দিল। সুহিনও এবার আর দমে যাওয়ার পাত্রী নয়। তার বুক চিরে আসা সমস্ত ঘৃণা উগরে দিয়ে সে গলা ফাটিয়ে চেঁচিয়ে বলল,
“ইনশাআল্লাহ, বেঁচে থাকলে আপনার মতো জানোয়ারের সামনে আর আসব না। মরে যান আপনি!”
​কেকে কোনো উত্তর দিল না। সে নির্বিকার ভঙ্গিতে দিগন্তের অন্য প্রান্তে ঘোড়া নিয়ে মিলিয়ে গেল। সুহিন বহু কষ্টে গায়ের ব্যথা নিয়ে উঠে দাঁড়াল। ফেরার পথে এগোতে এগোতে তার চোখের জল অবাধ্য হয়ে ঝরছে। এটি রাগের জল নাকি চরম অসহায়ত্বের, তা সে নিজেও জানে না। সে কেবল মনে মনে নিজেকে ধিক্কার দিল—কেন সে বারবার ভুলে যায় যে, এই লোকটা রক্তমাংসে গড়া কোনো মানুষ নয়, বরং এক চরম অমানুষ-জানোয়ার!

সুহিন তখন এলোমেলো পায়ে বাড়ির দিকে ফিরছিল। তার গায়ের শ্বেতশুভ্র পোশাক ধুলোয় মলিন, আর চোখের জল চশমার কাঁচ ছাপিয়ে অঝোরে ঝরছে। ক্ষোভ আর অভিমানে তার বুকটা যেন ফেটে যাচ্ছে। ঠিক সেই মুহূর্তে হুট করেই সামনে এসে দাঁড়াল তালহা। সে অত্যন্ত স্বাভাবিক ভঙ্গিতেই কেকের খোঁজে বাড়ির এই পেছনটায় আসছিল, কিন্তু সুহিনের এই বিধ্বস্ত দশা দেখে সে থমকে গেল।
​তালহা স্বভাবজাত গম্ভীর মানুষ হলেও সুহিনের কান্নারত মুখ আর ধুলোমাখা অবস্থা দেখে মুহূর্তেই উদ্বিগ্ন হয়ে উঠল। সে দ্রুত সুহিনের কাছে এগিয়ে এসে প্রশ্ন করল,
“সুহিন, তুমি এখানে কী করছো? কী হয়েছে তোমার?”
​সুহিন কেবল একবার মাথা তুলে তালহাকে দেখল; কোনো উত্তর দিল না। সে পেছন ফিরে দূরপ্রান্তে ছুটে চলা কেকে-র অবয়বটার দিকে একবার তীব্র ঘৃণার দৃষ্টি নিক্ষেপ করল। অতঃপর তালহার উদ্দেশ্যে ভাঙা গলায় বলল,
“কিছু হয়নি, ঠিক আছি আমি।”
​কিন্তু তালহা অভিজ্ঞ মানুষ, পরিস্থিতি আন্দাজ করতে তার বিন্দুমাত্র দেরি হলো না। সে ভ্রু কুঁচকে তীক্ষ্ণ স্বরে জিজ্ঞেস করল,

“কেকে কিছু করেছে?”
​সুহিন আর নিজের কান্না বাঁধ মানাতে পারল না। সে নুইয়ে পড়ে ঠোঁট চেপে ধরার চেষ্টা করল, কিন্তু সমস্ত জমাট বাঁধা রাগ আগ্নেয়গিরির লাভার মতো বেরিয়ে এল। চাপা অথচ ধিক্কার মাখা স্বরে সে বললে লাগল,
“উনি কী করবেন! উনি তো মানুষ না, আস্ত একটা অমানুষ! ওনাকে বলে দেবেন—ওপরে একজন আছেন যিনি সবটাই দেখছেন। ওনার মতো জানোয়ার যখন মরবে, তখন সেই লাশ ছিঁড়ে খেতে জানোয়াররাই আসবে।”
​সুহিনের মুখে এমন কথা শুনে তালহা সম্পূর্ণ হতভম্ব হয়ে গেল। শান্তশিষ্ট সুহিন আজ এতটা মরিয়া? সে সুহিনকে আপাদমস্তক পরখ করে দেখল। অবিন্যস্ত কাপড় আর গায়ের ধুলো দেখে তার সন্দেহ আরও ঘনীভূত হলো।
“তুমি কি ঘোড়া থেকে পড়ে গিয়েছিলে? এক সেকেন্ড… ও কি আবারও তোমায়…”
​তালহার কথা আর শেষ হলো না। সে পুরো বিষয়টা ধরে ফেলেছে। দাঁতে দাঁত পিষে কেকে-র উদ্দেশ্যে সে গালি ছুড়ে দিল,

“হারা*মজাদা একটা! কোনোদিন মানুষ হলো না আর।”
​সুহিন এবার ফুপিয়ে কেঁদে উঠল। তার দম যেন বন্ধ হয়ে আসছিল। তালহার সামনে মাথা নুইয়ে,কোনো মতে রাগ-কষ্ট চেপে রেখে বলল,
“ভাইয়া, শেষবারের মতো একটা সাহায্য করে দিন প্লিজ। আপনি তো বিয়ের বিষয়টা জানেন, আর ওনার সবচেয়ে কাছের বন্ধু,তবে ওনাকে প্লিজ বুঝিয়ে বলুন। ওনার কাছে আমি ডিভোর্স চেয়েছি কিন্তু ওনার অবস্থা দেখে মনে হয়না উনি এতো সহজে মানবে; আবারও সেই একই নোংরা খেলা খেতে চাচ্ছেন উনি। কিন্তু আমি আর এইসব সহ্য করতে পারব না।”
সুহিন একনাগাড়ে বলে চলল,
“একটা কথা উনি ঠিকই বলেন, আমি একটা গাধা। একটা গাধা বলেই পরগাছার মতো সারাজীবন কারো না কারো উপর নির্ভরশীল হতে হয়েছে। আজও আমি অন্যের উপর নির্ভরশীল হয়ে বেঁচে আছি।
জানিনা,ভবিষ্যতেও আমি এমনই থাকব কিনা, আদৌও আমার কখনো নূন্যতম লজ্জা হবে কিনা, কিন্তু দিনশেষে তো একটা মানুষ তাই না? কারো হাতে পুতুল তো নই, তাহলে উনি এসব আমার সাথে কেনো করে? কি অন্যায় করেছি আমি? খুব সাদামাটা জীবন কাটিয়েছি আমি, ঐ বাড়িতে অর্ধশত মেইড থাকলেও আমি নিঃসঙ্গে বড় হয়েছি, সারাজীবন মানু্ষের বিকৃত-বিশ্রী কানাঘুঁষা শুনেও মুখবুজে থেকেছি,তবুও শান্তিতে ছিলাম আমি। কিন্তু উনি একবারেই আমার জীবনটা ধ্বংস করে দিয়েছে। উনি কি চায় আমি জানিনা,কিন্তু এভাবে অন্তত আমি বাঁচতে পারব না।”
সুহিনের দীর্ঘশ্বাসগুলো এখন যন্ত্রণার চিৎকারে পরিণত হচ্ছে। ফুপিয়ে কাঁদতে কাঁদতে সে কোনোমতে শেষ কথাগুলো আওড়াল,

“দয়া করে আমায় সাহায্য করুন, ওনার কাছ থেকে মুক্তি চাই আমি। যেভাবেই হোক ওনাকে ডিভোর্স দিয়ে দিতে বলুন; এই অসুস্থ সম্পর্ক থেকে আমায় চিরতরে মুক্তি দিয়ে দিক। আমি আর কারো উপর পরগাছা হয় বাঁচতে চাই না, কিছু না কিছু করে নেবো আমি। খোদা চায় তো একাই বাঁচব নয়তো না, কিন্তু ওনার মুখ আর আমি দেখতে চাইনা।”
​কথাগুলো শেষ করেই সুহিন আর এক মুহূর্তও দাঁড়াল না। কান্নায় ভেঙে পড়ে সে এক দৌড়ে বাড়ির সামনের দিকে চলে গেল। ওদিকে তালহা রণমূর্তি ধারণ করে মাঠের মাঝখানে দাঁড়িয়ে রইল। তার স্থির দৃষ্টি তখন দূরপ্রান্তে ঘোড়া নিয়ে দাপিয়ে বেড়ানো কেকে-র ওপর।
​এভাবে আর কতদিন? একটা হেস্তনেস্ত আজ হওয়া দরকার। অথচ কেকে তখনও কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করে প্রিয় চার্লির পিঠে এক অদ্ভুত উন্মাদনায় দিগন্ত চিরে ছুটে বেড়াচ্ছে। সে জানেই না—কিংবা হয়তো জেনেশুনে ইচ্ছেকৃতভাবে এক শান্ত বালিকার মনে ধ্বংসের আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে।

সুহিনদের মিলান ছাড়ার মুহূর্তগুলো ছিল অত্যন্ত ভারাক্রান্ত। নিমরা’র ঘুম থেকে ওঠার জন্যই সে দীর্ঘ প্রতীক্ষায় ছিল। সকালে সাদ এবং রোজি ব্রেকফাস্টের জন্য প্রচুর জোরাজুরি করায় সুহিনকে অনিচ্ছাসত্ত্বেও ডাইনিং টেবিলে বসতে হয়েছিল। প্রতিটি লোকমা যেন তার গলায় গিয়ে আটকে যাচ্ছিল; তবুও সে তা কোনোমতে গিলে নিয়েছে।
​সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় ছিল, গতরাতে ডিনারে যে লোকটার ছায়াটাও দেখা যায়নি, আজ সেই কেকে ব্রেকফাস্ট টেবিলে সবার আগে হাজির। সে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে ঠিক সুহিনের মুখোমুখি আসনে বসেছিল। সুহিন আড়চোখে একবার তাকে দেখল—কী অদ্ভুত নির্লিপ্ত সেই চাহনি! তীব্র ঘৃণা আর ক্ষোভে সুহিনের ইচ্ছে করছিল সামনের প্লেট-বাটিগুলো ওই অমানুষটার মুখে ছুঁড়ে মারতে। ব্রেকফাস্ট শেষ হওয়া মাত্রই সুহিন নিজেকে গুছিয়ে এক মুহূর্তের জন্যও ওই বাড়িতে থাকতে রাজি হলো না। সাদ অনেক অনুরোধ করলেও সুহিন এবার স্পষ্ট গলায় জানিয়ে দিল, সে আর এখানে থাকতে পারবে না। তার এই আকস্মিক ক্ষিপ্ত আচরণে নিমরা পর্যন্ত হতভম্ব হয়ে গেল।
​দৃশ্যপটে এবার আমূল পরিবর্তন হয়েছে। এক অন্ধকারাচ্ছন্ন ঘর, যেখানে বাতাসের প্রতিটি অণুতে বিষাক্ত ষড়যন্ত্রের ঘ্রাণ। দেয়ালের মধ্যিখানে ঝুলছে একটি রাউন্ড ডার্ট বোর্ড। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, বোর্ডের মধ্যিখানে কোনো নম্বর নয়, বরং টাঙানো রয়েছে এক বন্য পুরুষের সাদা-কালো ছবি।

​এলোমেলো ওল্ফকাট চুল, চোখে এক হিমশীতল তীক্ষ্ণ দৃষ্টি আর পরনে কালো টি-শার্ট-কালো জ্যাকেট। বুঝতে আর বাকি নেই, ছবিতে বিদ্ধ এই মানুষটি আর কেউ নয়—স্বয়ং ব্যাডওল্ফ কেকে।
​ছবির ঠিক বিপরীতে একটি সিঙ্গেল সোফায় আয়েশ করে বসে আছে এক সুপুরুষ। তার পরনে কুচকুচে কালো হুডি আর ট্রাউজার। হুডির টুপিটা মাথার ওপর তোলা, আর মুখটা ঢাকা কালো মাস্কে। পায়ের ওপর পা তুলে সে সোফার হাতলে হাত ঠেকিয়ে বসে আছে; আর আঙুলের ডগায় খেলছে লাইটারের অবাধ্য নীলচে আগুন।
​খানিকক্ষণ সেই আগুনের শিখার দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকার পর, যুবকটি হাতে তুলে নিল তীক্ষ্ণ সব ডার্ট বা নিশানা তীরের হুক। সে একের পর এক হুকগুলো সজোরে ছুড়তে লাগল কেকের ছবির দিকে। বারবার নিশানা ভ্রষ্ট হয়ে হুকগুলো ছবির আশেপাশে গিয়ে বিঁধল, কিন্তু মূল কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারল না।
​যুবক এবার ধৈর্য হারিয়ে রেগে সোজা উঠে দাঁড়াল। চোয়াল শক্ত করে এবার পূর্ণ একাগ্রতায় নিশানা তাক করল সে। সাঁই সাঁই করে কয়েকটা হুক বাতাস চিরে ছুটে গেল। শেষ হুকটা সশব্দে গিয়ে বিঁধল ঠিক কেকের ছবির মধ্যিখানে—একদম ললাটের মাঝখানে।

​এ যেন এক পৈশাচিক বিজয়ের উল্লাস! দুই হাত তুলে এক অদ্ভুত তৃপ্তি নিয়ে যুবকটি আবারও সোফায় ধপ করে বসে পড়ল। তার মাস্কের আড়াল থেকে বেরিয়ে এল এক বিকৃত আর ভয়াবহ হাসির শব্দ। হাসতে হাসতে সে একসময় দুই হাঁটুতে হাত ঝুলিয়ে সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ল। কেকের বিদ্ধ ছবিটার দিকে স্থির চোখে তাকিয়ে চাপা স্বরে হিসহিসিয়ে আওড়াল,
​”আমার পুরো পরিবার ধ্বংসের মূল কারণ তুই! অথচ তুই কি ভেবেছিস, আমার চোখের সামনে এত সহজেই নিজের সুখের স্বর্গ গড়ে তুলবি? আমার শৈশব, আমার পরিবার, আমার শান্তি—সবকিছু কেড়ে নিয়েছিস তুই আর তোর ঐ অভিশপ্ত পরিবার।”
​সে খানিকটা থেমে আবারও ক্রুর হেসে বলল,

Naar e Ishq part 31

“আমি তোকে শান্তিতে বাঁচতে দেব না কেকে। পরিবার গড়া তো বহুদূরের কথা, তোকে নিজ হাতে জানে মারতে না পারলে আমার এই অতৃপ্ত আত্মা শান্তি পাবে না। এই শত্রুতা তো আজকের নয় রে… আমাদের সম্পর্কটা তো বহু পুরনো, তাই না?”
​লাইটারের আগুনটা আবারও জ্বলে উঠল; বিকৃত হাসির শব্দধ্বনিতে চারপাশ ছেয়ে গেল। আগুন্তুকের চোখের মনিতে সেই শিখা প্রতিফলিত হতেই ঘরটা যেন আরও ভয়ং*কর হয়ে উঠল। এক ধ্বংসা*ত্মক পরিণতির মহড়া যেন শুরু হয়ে গেল সেই অন্ধকার কুঠুরিতেই।

Naar e Ishq part 33

1 COMMENT

  1. Next part gulo Kobe ashbe ? Part gulo Tara tari dile Khushi hotam onek din w8 kori but Ik apnio busy thaken apnar personal life niye , I wish next part gulo Tara tari ashuk

Comments are closed.