Home মির্জা সায়ান মুগ্ধ মির্জা সায়ান মুগ্ধ পর্ব ৩১

মির্জা সায়ান মুগ্ধ পর্ব ৩১

মির্জা সায়ান মুগ্ধ পর্ব ৩১
jannatul firdaus mithila

রাত ৮টা বেজে ৫৫ মিনিট!
রাশিয়ার সবচেয়ে বড় সমুদ্র বন্দরের মধ্যে একটি — বিগ পোর্ট সেইন্ট পিটার্সবার্গ! আকাশে কালো মেঘেদের স্পষ্ট উপস্থিতি, ক্ষনে ক্ষনে গুড়গুড় শব্দ তুলছে তারা। ব্যস্ত সমুদ্রবন্দর! অদূরে দাঁড় করিয়ে রাখা বিশালাকার কার্গো জাহাজটি কেমন বিকট শব্দে হর্ণ বাজাচ্ছে। সে শব্দে কেঁপে উঠছে বন্দরের আবহ। চারদিকে অগণিত সারি সারি কনটেইনার। বাতাসে স্পষ্ট ভাসছে ডিজেলের কড়া গন্ধ। স্যুট-ব্যুট পরিহিত কয়েক জোড়া পা অনবরত পায়চারি চালাচ্ছে। হাতদুটো ক্ষিপ্ততায় মুষ্টিবদ্ধ হয়েছে কারো। গৌরবর্ণ মুখখানায় সে-কি রাগ তাদের! কেউ কেউ পায়ের গতি বহাল রেখে দাঁতে দাঁত চেপে আওড়াচ্ছেন,

“ হোয়াট দ্য ফা’ক ইজ গোয়িং অন হিয়ার? ডিল সাইন করার কথা ছিল ঠিক ৮ঃ৩০ এ। বাট নাউ ইট’স অলরেডি নাইন পিএম। সে কোন জায়গার রাজা মহারাজা শুনি? যার কাছে আমাদের মতো ডিলারদের দেয়া সময়ের মূল্য নেই!”
তিতিবিরক্ত স্যালমন। ফর্সা মুখখানা রাগের তোড়ে লাল হয়ে উঠেছে কেমন। কয়েক কদম দুরত্বে সমুদ্রের অভিমুখে ঠায় দাঁড়িয়ে আছেন হ্যারি, পাশে দুটো কালো স্যুটকেস। মধ্যবয়স্ক হলেও মুখাবয়বে তেমন একটা বয়সের ছাপ নেই তার। সে কেমন ক্ষুদ্র চোখে তাকিয়ে আছে সমুদ্রের পানে। হাত দু’খানা বেশ দাম্ভিকতার সাথে গুঁজে রেখেছে প্যান্টের পকেটে। স্যালমেনের বলা প্রতিটি কথা বেশ মনোযোগ দিয়ে শুনছে আর মিটমিটিয়ে হাসছে সে। সময় পেরুলো মিনিট খানেক। একজোড়া ব্যুট পরিহিত পায়ের মালিক এসে আলগোছে দাঁড়াল হ্যারির পাশাপাশি। দৃষ্টি তার সমুদ্রের জলে নিবদ্ধ! ঠোঁটের ফাঁকে গুঁজে রাখা স্মোকিং পাইপ। মৃদু গুড়গুড় শব্দ তুলে তামাক টানছেন তিনি। সময় নিয়ে বেশ কয়েকটা টান বসিয়ে পাইপের ডগাটা আলগোছে ঠোঁট থেকে নামালেন ভদ্রলোক। ঠোঁটদুটোর আকার গোল করে মুখভর্তি ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে বলে ওঠেন,

“ স্যালমন একটু বেশি উড়ছে না?”
ঠোঁটের কোণ অদ্ভুতভাবে বেঁকে গেল হ্যারির। দৃষ্টিতে আবির্ভাব ঘটল তাচ্ছিল্যতার। যুবক খানিকক্ষণ স্থবির থেকে আচমকা ভরাট কন্ঠে বুলি আওড়াল,
“ লাইনে নতুন তো! এখনো চিনেনি তার বাপকে। তাই ওতো লাফালাফি।”
স্মিত হেসে মাথা দোলালেন পাশে থাকা ভদ্রলোক। স্মোকিং পাইপখানা ফের ঠোঁটের ফাঁকে গুঁজে নিয়ে শব্দ তুললেন গুড়গুড়। এরইমধ্যে দু’জনে শুনতে পেলেন স্যালমনের তিরিক্ষি মেজাজে বলা বাক্য!
“ ডিল ইজ ক্যানসেল! আমি ওমন কান্ডজ্ঞানহীন হিউম্যানের সাথে কোনো ডিল সাইন করব না। বাজ অফ এভরিথিং!”

মুহুর্তেই কপালে গোটাকতক ভাঁজ টানলেন ভদ্রলোক। শরীর বাকিয়ে রয়েসয়ে ফিরলেন পেছনে। বাহাত প্যান্টের পকেটে ঢুকিয়ে, ডানহাতে ধরে রাখলেন স্মোকিং পাইপ। স্যালমেন গটগট পায়ে চলে যাচ্ছে। পেছন থেকে ভদ্রলোক তৎক্ষনাৎ গম্ভীর কন্ঠে বলে উঠলেন,
“ একটা কথা কি জানো স্যালমেন?”
থামল স্যালমনের ব্যস্ত পাদু’টো। মুখাবয়বে এক আকাশসম বিরক্তি লেপ্টে ঘাড়টা সামান্য বাঁকালেন তিনি। মুখে তুললেন না টু শব্দটিও! ভদ্রলোক এবার নির্বিকার ভঙ্গিতে এগোচ্ছেন। কন্ঠে শ্লেষাত্মক ভাব টেনে শুধালেন,
“ পিপীলিকার পাখা গজায় মরিবার তরে।”
ভ্রু গোটায় স্যালমেন। অবোধের ন্যায় পেছনে ঘুরে সন্দিগ্ধ গলায় জিজ্ঞেস করলেন,
“ মানে?”
রহস্যময় বাঁকা হাসলেন ভদ্রলোক। ঠোঁটের দিকে পাইপ এগোতে এগোতে কেবল ছোট উত্তরে বলল,
“ আরেকটু পর বুঝে যাবে।”
এহেন মোটা মোটা কথাগুলো মগজে ঢুকল না স্যালমনের। উল্টো ভাঁজ গাঢ় হলো কপালের। যুবক খানিকক্ষণ ফোঁস ফোঁস করতে করতে পা ছোটালো উল্টোপথে। এগোতে এগোতে কঠিন গলায় হুংকার ছুঁড়ে নিজ গার্ডদের উদ্দেশ্যে বলল,

“ চল সবাই!”
মনিবের হুকুম পাওয়া মাত্রই ১৬৩২ নম্বর কনটেইনারের পাশ থেকে একে একে ছুটেঁ এলেন ২৫জন গার্ড। হাতে মোটা মোটা পি’স্তল, বেশভূষাও একইরকম। স্যালমেন খানিকটা এগোতেই তারা কেমন লেজ ধরলেন মনিবের। গুরুগম্ভীর মুখাবয়বে ছুটছেন তারা। ডক নম্বর ১৭ এর মূল গেটের সামনে এসে দাঁড়াতেই পা থামল স্যালমনসহ বাকিদের। বিশালাকার কেঁচি গেটটায় ঝুলছে বড়সড় তালা। অথচ কিছুক্ষণ আগেও গেট ছিল সম্পূর্ণ খোলা! স্যালমন কটমট দৃষ্টি ছোটালেন কেঁচি গেটের বাইরে। তবে সেথায় যে কেউ নেই! এতো এতো দারোয়ান সব গেল কোথায় এটুকু সময়ে? স্যালমন তিতিবিরক্তিতে হুংকার ছুঁড়ল এবার।
“ হু দা বাস্টার্ড লকড দ্য গেট? খোল বলছি!”
এলেন না কেউ। স্যালমন বড্ড অবাক হলেন এপর্যায়ে। স্পেনের নতুন লিন্ডা গ্যাংয়ের ডিল ওনার সে, যার হাতে এখন ৪৫০ মিলিয়ন ডলারের ড্রা গ স উপস্থিত। অথচ এরা কি-না তাকে সিরিয়াসলি নিচ্ছে না! স্যালমন রাগ নিয়ে তাকালেন পেছনে। তবে পরমুহূর্তেই সকলের ওমন পাত্তাহীনতা দেখে আকাশ থেকে পড়লেন নব গ্যাংস্টার। ইশশ্! কি অপমান কি অপমান! একজন নব গ্যাংস্টারকে কি-না কেউই দাম দিচ্ছে না এখানে। এ জ্বালা কি আর প্রাণে সয়? স্যালমন নাকের পাটা ফোলালেন বেশ। দু’হাত কোমরে ঠেকিয়ে কটমটাতেই পেছন থেকে ভেসে এলো দারোয়ানের খেঁক খেঁক কন্ঠ!

“ হোয়াট’স দা প্রবলেম? ওমন ষাঁড়ের মতো চেঁচাচ্ছিলেন কেন?”
তক্ষুনি বিস্ফোরিত দৃষ্টিতে ঘাড় বাকিয়ে তাকালেন স্যালমন। চোখেমুখে একরাশ আগুন লেপ্টে দাঁত কিড়মিড়িয়ে ফের হুংকার ছুঁড়লেন,
“ হাউ ডেয়ার ইউ্য কল মি আ ষাঁড় বাস্টা’র্ড! এক্ষুণি গেট খোল তারপর দেখাচ্ছি ষাঁড় কাকে বলিস!”
মুখ কুঁচকালেন দারোয়ান। ভীষণ অনিহায় অন্যত্র মুখ ঘুরিয়ে শুধালেন,
“ এই গেট এসএম না আসা অব্ধি খোলা হবে না। কজ এখানে যারা আসে তারা নিজ ইচ্ছায় এলেও, এখান থেকে যেতে হয় এসএমের ইচ্ছায়। সো চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকুন।”
হতভম্ব স্যালমন! এতোটা অপমান কস্মিনকালেও হননি গ্যাংস্টার মহাশয়। অথচ আজ দেখো! কেউ তাকে সিরিয়াসলি নিচ্ছে না। স্যালমনের রাগের পারদ আকাশ ছুঁই ছুঁই এপর্যায়ে। যুবক আচমকা কোমরের পিঠ থেকে রিভলবার বের করে এনে তার নল তাক করল দারোয়ানের মাথা বরাবর। দাঁত খিঁচে ভয়ানক হুংকারে জিজ্ঞেস করল,

“ হু দা হেল ইজ দিস এসএম!”
কথাটা শেষ হবার পরমুহূর্তেই পেছন থেকে ধেয়ে এলো হ্যারির গমগমে কন্ঠ!
“ তোর বাপ!”
তক্ষুনি ঘাড় বাকায় স্যালমন। কপালে গোটাকতক ভাঁজ স্পষ্ট তার। দৃষ্টি হয়েছে সরু। সে কেমন সন্দিহান গলায় ফের আওড়াল,
“ হোয়াডিউ মিন?”
মুচকি হাসল হ্যারি। চিকন ভ্রু-দ্বয় খানিকটা উঁচিয়ে স্যালমনের পেছনে ইশারা করে আচমকা বলল,
“ লুক বিহাইন্ড ইউরসেলফ!”

হতবাক স্যালমন! রয়েসয়ে ঘাড় বাকিয়ে ফের তাকালেন সম্মুখে। হাতে তার এখনো রিভলবার তুলে রাখা। সরু চোখে দেখছে সে — অত্যন্ত শৃঙ্খলায় বন্দরের মূখ্য গেইট দিয়ে সারিবদ্ধভাবে ঢুকছে এক বহর মার্সিডিজ বেঞ্জ। তারা নিরবে অনুসরণ করছে সম্মুখের রোলস রয়েজ গাড়িটিকে। প্রতিটি গাড়ির গতি তুলনামূলকভাবে বড্ড কম। সম্মুখের স্পেশাল এডিশনের রোলস রয়েজ ডক নম্বর ১৭ এর দিকে অগ্রসর হতেই দারোয়ান কেমন অস্থির হলেন। তৎক্ষনাৎ পকেট হাতড়ে চাবি বের করে খুলে দিলেন তালা। অতঃপর এক বিশাল ধাক্কায় কেঁচি গেটটা খুলতেই হকচকিয়ে ওঠে স্যালমন। তড়িঘড়ি করে বন্দুক নামিয়ে সরে গেল পথ থেকে। এদিকে দারোয়ানসহ বাকিরা ঘাড় নুইয়ে নিয়েছে ততক্ষণে, তবে স্যালমন এখনো ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছে সম্মুখে। তার গার্ডরাও ভারী অবাধ্য! প্রত্যেকে কেমন হা করে তাকিয়ে আছে গাড়ির বহরের দিকে। রোলস রয়েজ গাড়িটি ধীরেসুস্থে ঢুকল ডক নম্বর সতেরোতে। খানিকটা সামনে গিয়ে থামল গাড়ির ইঞ্জিন। পিছুপিছু সবগুলো গাড়ি কেমন দাঁড়িয়ে পড়ল পরক্ষণে। মার্সিডিজ বেঞ্জ গাড়িগুলোর দরজা খুলে একে একে বেরিয়ে এলেন সশস্ত্র গার্ডস। প্রত্যেকে ঘেরাও করে দাড়াঁলেন সমুদ্র বন্দর। এদিকে একসাথে এতো এতো গার্ডের উপস্থিতি দেখে চিন্তায় পড়ল স্যালমন। মস্তিষ্কে হুটহাট বেজে উঠল — কে এই এসএম?

স্যালমন নিজ ভাবনায় নিমগ্ন। অদূরে চেয়ে আছেন একদৃষ্টিতে। রোলস রয়েজের ব্যাকসিটের দরজা খট করে খুলে গেল কেমন। সেকেন্ড খানেক পরপরই সেখান থেকে বেরিয়ে এলেন সাদা কোট প্যান্ট পরিহিত এক যুবক! সে যে এডউইন। এডউইন কেমন গম্ভীর মুখে ঘুরে গেলেন ওপাশের দরজার দিকে। হাত বাড়িয়ে আলগোছে দরজাটা খুলে দিয়ে দূরে সরে দাঁড়ালেন যুবক। মাথাটা নুইয়ে নিলেন সঙ্গে সঙ্গে। সময় নিয়ে গাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন মনস্টার! সেই চিরচেনা গেটআপে। স্যালমনের দৃষ্টি প্রশস্ত হলো এবার। নাকমুখ কুঁচকে ভাবল — এমন উদ্ভট গেটআপে ডিল সাইন করতে কে আসে?
মনের কোণে উত্থাপিত হওয়া এহেন দুঃসাহসিক কথাটুকু ভাগ্যিস জিভ খসে বেরোয়নি যুবকের। সে কেমন কপাল গুটিয়ে এগিয়ে গেল কাউন্টার টেবিলের দিকে। বিশাল এক ভাবসাব নিয়ে মনস্টারকে পাশ কাটিয়ে চলে গেল আগে আগে। বাকিরা হতভম্ব তার ওমন কান্ডে! হ্যারি তৎক্ষনাৎ অলক্ষ্যে ঠোঁট কামড়ে বিড়বিড়ালো,
“ শেষ!”

স্যালমন নব গ্যাংস্টার! কয়েকদিন আগেই অর্ধশত মানুষ মা রার রেকর্ড হয়েছে তার। এ নিয়ে অবশ্য যুবকের অহংকারের শেষ নেই। এহেন আত্ম অহমিকায় বুদ হয়ে মস্তিষ্ক ভ্রষ্টের ন্যায় আগ বাড়িয়ে গিয়ে বসল কাউন্টার টেবিলে। এদিকে তার এরূপ দুঃসাহসে তক্ষুনি বন্দুক উঁচালেন মনস্টারের গার্ডস। সঙ্গে সঙ্গে স্যালমনের নির্দেশে তার গার্ডরাও উঠালেন বন্দুক। তবে কান্ড দেখো! যেখানে মনস্টার গার্ড এনেছে দুশোরও বেশি, সেখানে স্যালমনের গার্ড এসেছে বড়জোর ২৫ কি ২৬! মনস্টারের গার্ডরা তক্ষুনি রাইফেলের ট্রিগার চাপলো। মুহুর্তেই গুলিবর্ষণের জোরালো শব্দে কেঁপে উঠল চারপাশ। এক নিমিষেই খতম হলো স্যালমনের সবগুলো গার্ড। তাদের এহেন করুণ পরিনতি দেখে দাঁত খিঁচল স্যালমন। একপ্রকার হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে তৎক্ষনাৎ বন্দুক উঁচিয়ে তাক করল মনস্টারের দিকে। মুহুর্তেই থমকায় চারপাশ। টুপির ছত্রছায়ায় লুকিয়ে থাকা মাস্ক পরিহিত মানুষটা কেমন ঘাড় বাকিয়ে তাকিয়ে আছেন দেখো! সে আদৌও হাসছে কিনা কে জানে! তবে তার শরীরটা খানিক দুলছে। স্যালমন দাঁতে দাঁত চেপে আওড়ায়,
“ হু দা ফা’ক ইউ্য আর এসএম?”
এবার মাথা উঠায় মনস্টার। একমুহূর্ত স্থবির থেকে হাত উঁচিয়ে মাথা থেকে টুপিটা খুলতে গেলেই স্যালমন বন্দুক নাড়িয়ে হুংকার ছুঁড়ে বলল,

“ ডোন্ট মুভ!”
যুবকের মাস্কের আড়ালে লুকিয়ে থাকা বাদামী ঠোঁটজোড়া দাঁতের সনে পিষে গেল খানিক। অদ্ভুত শান্ত ভঙ্গিতে স্থির হয়ে মাথা থেকে টুপিখানা খুলে যেইনা হাতে নিলো ওমনি ট্রিগার চাপতে উদ্যোত হলো স্যালমন। চাবির রিংয়ে আঙুল ঢোকাতেই তার দিকে টুপিটা ফ্রিসবি আকারে ছুঁড়ে দিলো মনস্টার। একমুহূর্তের জন্য থমকায় স্যালমন! টুপির ঝাপটায় চোখদুটো কুঁচকাতেই মনস্টার সুযোগটুকু কাজে লাগালো। তক্ষুনি ওভাররোভে হাত ঢুকিয়ে কোমর থেকে নিজের রাশিয়ান SF5 মডেলের বন্দুকটা বের করে এনে ট্রিগার চাপলো স্যালমনের বুক বরাবর। আর ওমনি ঠাসস শব্দ তুলে গু লি ছুটল স্যালমনের বুকে। ঘটনার আকস্মিকতায় হকচকাবার সময় থোড়াই পেলো স্যালমন। কেবল ঘাড় নামিয়ে বুকের বাঁপাশে তাকাতেই খেয়াল করল — হৃৎপিণ্ড ছেদঁ হয়ে লহু গড়াচ্ছে। শরীরটা বড়ো দূর্বল হয়ে যাচ্ছে তার, হাতদুটো সামান্য রিভলবারের ভরটুকুও সইতে পারছেনা আর। সর্বাঙ্গে ঝিরঝির অনুভূত হচ্ছে স্যালমনের। বেচারা তৎক্ষনাৎ হাঁটু ভেঙে বসে পড়ল ধূলোপড়া ফ্লোরে। আচমকা ঠোঁটের ফাঁক গলিয়ে কাশির দমকে বেরুলো তাজা লহু! দূর্বল স্যালমন জ্ঞান হারাচ্ছে ক্রমশ। ঝাপসা চোখে সামনে তাকাতেই দেখে — কেউ একজন এগোচ্ছে তার দিকে। স্যালমন নিজ চোখদুটো একপ্রকার টেনেহিঁচড়ে খুলে রাখার প্রয়াসে মত্ত। ততক্ষণে এক বলিষ্ঠ পুরুষ একদম মুখোমুখি এসে আচমকা পা উঠিয়ে রাখল স্যালমনের বাম কাঁধে। ব্যুটের শক্ত এবং দাম্ভিক সোলের অবাধ্য জোরে কাঁধ নুইয়ে যাচ্ছে স্যালমনের। বেচারা ব্যাথায় কুঁচকে নিয়েছে মুখ। সম্মুখের কঠিন মানব তখন আলতো করে বন্দুকের উষ্ণ নল ঠেকালো স্যালমনের মাথার তালু বরাবর। অতঃপর হিসহিসিয়ে আওড়াল,
“ দ্য ফা’কিং এসএম ইজ নান আদার দ্যান — দ্য গ্রেট রুশদী কিং — শ্যাডো মনস্টার! আই হোপ ইউ আর হ্যাপি টু নো মাই আইডেনটিটি।”

থমকায় দূর্বল স্যালমন। নিবুনিবু চোখদুটো খানিক উঁচিয়ে তুলতেই তার খুলি বরাবর একের পর এক ট্রিগার চাপলেন নির্দয় মানব। মুহুর্তেই ছি ন্ন ভি ন্ন হয়ে গেল স্যালমনের মস্তিষ্ক। মনস্টার থামল সময় নিয়ে। আলতো করে স্যালমনের কাধঁ থেকে পা নামিয়ে আনতেই ফ্লোরে লুটিয়ে পড়ল স্যালমনের নি স্তে জ দেহ। আশেপাশে তটস্থ সবাই। কেউ আর যেচে পড়ে চোখ তোলার দুঃসাধ্য দেখালো না। হিং স্র মনস্টার তখন এক ঝটকায় পাশ থেকে একটা চেয়ার ঘুরিয়ে এনে স্যালমনের নি স্তে জ দেহটার ওপর রাখল। অতঃপর সেথায় ভর দিয়ে বসলেন তিনি। পরক্ষণে নিজ ব্যুট পরিহিত পাদু’টো আলগোছে তুলে দিলেন টেবিলের ওপর। বাহাতে সামান্য চুটকী বাজিয়ে আঙুলের ইশারায় কে জানে কি বোঝালো! তক্ষুনি একজন গার্ড কেমন ঝড়ের বেগে ছুটে এলেন ক্রুটস নিকারাগুয়ান সিগার আর লাইটার নিয়ে। এসেই তিনি ঘাড় নুইয়ে হাঁটু গেঁড়ে বসলেন ফ্লোরে। হাতদুটো উঁচিয়ে ধরতেই মনস্টার সেখান থেকে একখানা সিগার তুলে আলগোছে মাস্কের ওপর দিয়েই ঠোঁটের ফাঁকে গুঁজলেন। অন্যহাতে অত্যন্ত দক্ষতায় লাইটার জ্বালিয়ে সিগার ধরিয়ে, দিলো এক লম্বা টান! টেবিলের ওপর পাদুটো খানিক নাড়িয়ে চাড়িয়ে হুকুম ছুঁড়ল,
“ পেপারস নিয়ে আয়!”

ত্বরিত বেগে এগিয়ে এলেন ডিলারস। দুঃসাধ্য দেখিয়ে আগ বাড়িয়ে বসলেন না চেয়ারে। উল্টো দু-হাটুঁ গেঁড়ে মাথা নুইয়ে বসলেন মেঝেতে। প্রত্যেকে নিজ নিজ স্যুটকেস খুলে ডিলিং পেপারস আলগোছে উঠিয়ে রাখল টেবিলের ওপর। এদিকে মনস্টার ফুঁক বসাচ্ছে সিগারে। মেঘলা আকাশপানে হিং স্র দৃষ্টিযুগল তাক করে চেয়ে আছেন অনিমেষ। জ্বলন্ত সিগারের ধোঁয়াগুলো উড়ছে সব। সে ধোঁয়ার আড়ালে আচানক নির্দয় মনস্টারের মানসপটে ভেসে উঠল সপ্তদশীর নির্মল সুশ্রী মুখখানা। তক্ষুনি থমকায় মনস্টার। দৃষ্টি যুগলের হিং স্রতা সরে গিয়ে মুহুর্তেই সেথায় ভর করল একরাশ হতবাকতা। যুবক কেমন হতবাক দৃষ্টে তাকিয়ে আছে আকাশের দিকে। ঐ যে! মাহি’র নির্মল সুশ্রী মুখখানা কেমন হাসছে তাকে দেখে। মনস্টার খ্যাত মুগ্ধ স্পষ্ট শুনছে — মাহি’র কোকিলা কন্ঠের গানটা। মেয়েটা কি সুন্দর খিলখিলিয়ে হাসছে। মুগ্ধ ভারী অবাক হলো। বিচক্ষণ মস্তিষ্কের তাড়নায় তড়িঘড়ি করে দৃষ্টি অন্যত্র সরিয়ে ফের তাকালো আকাশপটে। তবে এবার আকাশ শূন্য! কোথাও মাহি নেই। যুবক বেশ বুঝল তার আবারও হ্যালুসিনেশন হচ্ছে। নিজ অবস্থা টের পেয়ে সে দাঁত খিঁচল কেমন।

ঘাড়টা খানিক এদিক-ওদিক নাড়িয়ে মনোযোগ টানলো ডিল ফাইনালে। ততক্ষণে এডউইন গম্ভীর মুখে এসে দাঁড়িয়েছে মনস্টারের পাশে। নিজ উদ্যোগে টেবিলে পড়ে থাকা পেপারগুলো আলতো ঝাঁকিয়ে এগিয়ে দিলো মনস্টারের দিকে। মনস্টার কপাল গুটিয়ে হাতে নিলো কাগজগুলো। প্রতিটি লেখায় আলতো করে চোখ বুলিয়ে যেই না সিগনেচারের জায়গায় কলমের খসখসে আগা বসাবে ওমনি ফের মানসপটে ভেসে উঠল সপ্তদশীর পেল্লব মুখখানা। এবারেরও থমকায় মুগ্ধ! সপ্তদশী এবার গাল ফুলিয়েছে। বাম গালের টোলটা ভারী স্পষ্ট হয়েছে দেখো! মাখনের ন্যায় গালদুটো পটকা মাছের মত ফুলে আছে। চোখের চশমাটা নাকের ডগায় এসে ঠেকেছে। মুগ্ধের দৃষ্টি থমকেছে ফের। কপালের চামড়া শিথিল হচ্ছে ক্রমশ। হতবিহ্বলতায় যুবকের আঙুল হচ্ছে নড়বড়ে। কলমের খসখসে ডগা কাগজ থেকে খানিকটা সরতেই পাশ থেকে এডউইন কেমন চাপা স্বরে ডাকল,

“ মনস্তার!”
তক্ষুনি ঘোর ভাঙল যুবকের। হতভম্বতায় চোখ সরিয়ে এডউইনের ওপর তাক করতেই মাথা ঝুঁকায় এডউইন। ভীতসন্ত্রস্ত কন্ঠে আওড়ায়,
“ মনস্তার! সাইন করবেন না?”
ত্বরিত চোয়াল শক্ত করল মুগ্ধ। নিজ কৃতকর্মে বিরক্ত সে, একহাতে ঘাড় ডলতে ডলতে ব্যাপক অনিহা নিয়ে সই করল সবক’টা কাগজে। পরক্ষণে তা এডউইনের মুখের ওপর ছুঁড়ে মে’রে, টেবিলের ওপর থেকে পাদুটো নামিয়ে দাঁড়াল মনস্টার। কঠিন চোয়ালে এডউইনকে পাশ কাটিয়ে চলে গেল সম্মুখে। একটু দূরেই বন্দরের দ্বার! সমুদ্রের বিশালতার কাছে নিজেকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করার এক অপরুপ স্থান। মুগ্ধ গটগট পায়ে এগিয়ে এসে দাঁড়ালো সেথায়। সিগারে একটু একটু টান বসিয়ে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো সমুদ্র এবং আকাশের সংযোগ স্থলে। ওদিকে এডউইন আনমনে হাতের কাগজগুলো নাড়িয়ে চাড়িয়ে দেখছে। তবে সিগনেচারের জায়গায় এক অদ্ভুত লেখা দেখে ভ্রু কুঁচকে আসে যুবকের। সে তৎক্ষনাৎ ছুটন্ত কদমে এগিয়ে গেল মনস্টারের অভিমুখে। হাপাঁতে হাপাঁতে নিজেদের মধ্যে দু-হাত দুরত্ব রেখে দাঁড়ায় এডউইন। খানিকটা ঢোক গিলে ভয়ার্ত কন্ঠে বলে ওঠে,

“ মনস্তার! আপনি সিগনেচারের জায়গায় হয়তো ভু-ভুল করে গোটা গোটা অক্ষরে চা-চাশমিস লিখেছেন!”
তৎক্ষনাৎ ভ্রু গোটায় মাফিয়া বস। দাঁত খিঁচে পেছনে ঘুরতে ঘুরতে আওড়াল —
“ হোয়াট দ্য ফা’ক আর ইউ্য সেয়……”
বাকিটা বলার আগেই মাফিয়া মনস্টারের দৃষ্টি আটকালো তারই দেয়া সিগনেচারে। বেচারা এডউইন ভয়ে ভয়ে আগেভাগেই হাঁটু গেঁড়ে বসেছে ফ্লোরে। দু’হাতে উঁচিয়ে রেখেছে কাগজগুলো, ফলে দৃশ্যমান হয়েছে সিগনেচারের অংশ। মুগ্ধের গুটিয়ে রাখা ভ্রু-দ্বয় গুটিয়ে গেল আরও। চোয়ালের পেশি হলো টানটান। সে তক্ষুনি এডউইনের হাত থেকে একটানে ছিনিয়ে নিলো কাগজগুলো। হন্যে দৃষ্টিতে সবগুলো সিগনেচার এরিয়ায় চোখ বুলিয়ে দেখে — সবক’টায় লেখা চাশমিস। মুহুর্তেই কঠিন হলো মনস্টারের মুখমণ্ডল। সারা শরীর জ্বলে উঠল রাগে। দাউদাউ করছে তার মাথার তালু! কঠিন মানব সহসা কাগজগুলোকে টেনেহিঁচড়ে ছিঁড়ে ফেলল কেমন। নতমস্তকে বসে থাকা এডউইন থোড়াই দেখল তা! দেখলে হয়তো এতক্ষণে বুক চেপে ধরত বেচারা। এদিকে মুগ্ধ ততক্ষণে পেপারগুলোকে ছিঁড়ে ছুঁড়ে ফেলল মেঝেতে। কিছু কিছু ছেঁড়া অংশ গিয়ে পড়ল এডউইনের গায়ে। মুহুর্তেই থমকায় এডউইন। বোকার মতো চোখ ছানাবড়া করে তাকিয়ে রইলো কেবল। মনস্টার এবার ঘুরে দাঁড়ায়। আগের ন্যায় সমুদ্রের পানে তাকিয়ে থেকে লম্বা লম্বা টান বাসলো সিগারে। প্রায় মিনিট খানেক যেতেই আবারও মানসপটে ভেসে উঠল মাহি। এবার আর মুগ্ধতায় ডুবেনি হিং স্র মনস্টার। উল্টো দাঁত কিড়মিড়িয়ে আওড়াল,

“ তোর সমস্যা কি বান্দীর মেয়ে? হুটহাট চোখের সামনে ভেসে উঠছিস কেন? ডোন্ট ইউ্য নো? আ’ম আ ব্লা*ডি বিস্ট! নেক্সট টাইম চোখের সামনে ভেসে উঠলে একদম মে’রে ফেলব তোকে! আই রিপিট একদম মে’রে ফেলব!”
মনস্টার একা একা বিড়বিড় করছে। তা দেখে শঙ্কিত এডউইন, হা করে তাকিয়ে আছে কেমন। ভেবে যাচ্ছে একমনে —
“ মনস্টার কথা বলছে কার সাথে?”

“ কিউটি ওয়েট! কিউটিইইইইই!”
ছোট্ট খরগোশখানা পুরো ঘরময় দৌড়াচ্ছে কেমন। পিছুপিছু ছুটছে সপ্তদশী। একনাগাড়ে ডেকে যাচ্ছে তার কিউটিকে। তবে খরগোশটাকে দেখো! শুনছেই না তার ডাক। মাহি দাঁড়িয়ে পড়ল হুট করে। হাঁপাতে হাঁপাতে কোমরের দু’পাশে হাত ঠেকিয়ে বলল,
“ কিউটি! আ’ম টায়ার্ড। দাঁড়াও।”
শুনলোনা কিউটি। উল্টো দরজার সামান্য ফাঁক ফোকঁর দিয়ে দৌড়ে পালালো করিডরের দিকে। এহেন কান্ডে হকচকায় মাহি। তৎক্ষনাৎ কিউটিকে ডাক দিয়ে ছুট লাগালো পিছুপিছু। এগিয়ে এসে হাত বাড়িয়ে স্লাইডিং দরজাটা সামান্য খুলে করিডরে উঁকি দেয় মাহি। কিউটিকে দেখা যাচ্ছে না। কোথায় গেল সে? মেয়েটা কেমন ভয়ে ভয়ে শুকনো ঢোক গিলল। চাপা স্বরে ডাকল,

“ কিউটি? কোথায় গেলে?”
বোবা প্রাণীর প্রতিত্তোর এলো না সাথে সাথে। সপ্তদশী পড়ল মহা চিন্তায়। বেচারা আবার কোথায় গেল কে জানে! মাহি ভয়ে ভয়ে বেরুলো ঘর ছেড়ে। কাঁপা কাঁপা কদমে প্রশস্ত করিডরে হাঁটতে হাটঁতে ফের ডাকে,
“ কিউটি?”
হাঁটছে মাহি। সারা গা কাপঁছে ভয়ে। সোনালী আলোয় ডুবে আছে চারপাশ। করিডর দিয়ে খানিকটা এগোতেই হুট করে তার কর্ণকুহরে ভেসে এলো অতিপরিচিত গর্জন ধ্বনি!
“ হু ডিড দ্যাট!”
থমকায় মাহির পাদু’টো। ভয়ে কাঠ হয়েছে গলা। মন একবার ছুটে ঘরের দিকে চলে যেতে চাইলেও, আরেকবার ভাবছে কিউটির কথা। রাক্ষসটা যেভাবে গর্জন তুলছে! পাছে না আবার তার খরগোশ ছানাকে তুলে একটা আছাড়ঁ মে’রে বসে। মাহি শক্ত করল নিজেকে। মনে মনে একরাশ সাহস যুগিয়ে এগোলো সিঁড়ির দিকে।

গ্রাউন্ড ফ্লোরে চলছে তছনছ! মনস্টার হুট করে ক্ষেপেছে ভীষণ। আশেপাশের যত দামী দামী কাঁচের আসবাবপত্র আছে সব ইতোমধ্যে ভেঙে চুরমার করেছেন মহোদয়। এতেও যদি রাগ কমত তার! মানুষটা কেমন ক্ষ্যােপাটে ষাঁড়ের ন্যায় চাবুক চালাচ্ছেন প্রত্যেকের গায়ে। বারেবারে হুংকার তুলছে বাঘের ন্যায়। সপ্তদশী কাঁপা কাঁপা কদমে নামছে সিঁড়ি বেয়ে। তাকাচ্ছে এদিক-ওদিক। খুঁজে চলেছে তার সখাকে। কিয়তক্ষন বাদে হুট করে দেখা মিললো কিউটির। বেচারা কেমন গা গুটিয়ে বসে আছে গ্রাউন্ড ফ্লোরের কাউচে। মাহি হকচকায়! কিউটি এখন বিপদসংকুল জায়গায়। তার যদি কিছু হয়ে যায় তো? সপ্তদশী তড়িঘড়ি করে নেমে আসে সিঁড়ি বেয়ে। ওদিকে ক্ষ্যাপাটে মুগ্ধের হিং স্র চাহনি আচানক আটকাল সপ্তদশীর পানে। মাহি অস্থির পায়ে সিঁড়ি বেয়ে নামছে।

মির্জা সায়ান মুগ্ধ পর্ব ৩০

সিঁড়ির নিচু ফ্লোরে অসংখ্য কাঁচের টুকরো। সেথায় পা পড়লে মুহুর্তেই ছিন্ন ভিন্ন হবে নরম পায়ের ত্বক। মাহির আপাতত সেদিকে থোড়াই খেয়াল আছে! মেয়েটা কেমন উদ্ভ্রান্তের ন্যায় নামছে দেখো। তার ডানপা-টা যেইনা সিঁড়ি বেয়ে ফ্লোরে পড়বে ওমনি একখানা শক্তপোক্ত হাত এসে আচমকা পেতে বসল মেয়েটার পায়ের তলায়। সপ্তদশী থমকায়! হঠাৎ পায়ের গতি থামাতে না পেরে পা রাখল শক্তপোক্ত হাতের তালুতে। হকচকিয়ে নজর ঝুঁকিয়ে তাকাতেই দেখল —
এতক্ষণ পুরো বাড়ি জুড়ে তান্ডব চালানো হিং স্র মানব, দ্য গ্রেট রুশদী কিং ওরফে শ্যাডো মনস্টার তার সামনে কেমন হাঁটু গেঁড়ে মাথা নত করে বসে আছে।

মির্জা সায়ান মুগ্ধ পর্ব ৩১ (২)

2 COMMENTS

  1. প্লিজ আমাকে ৩২ ও ৩৩ নাম্বার পর্ব টা দাও প্লিজ প্লিজ প্লিজ 🤲🤲🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏

Comments are closed.