Unpredictable part 1
Jannatul firdaus mithila
ন/গ্ন মৃ ত নারীদেহটির সাথে টানা চার ঘন্টা ধ র্ষ ন কার্য চালাচ্ছে এক যুবক। যুবকের চোখেমুখে সে-কি তৃপ্তি! ঠোঁটের কোণে লেগে আছে নৈঃশব্দ পৈশাচিক হাসি। মৃ ত নারীটির চোখদুটো কেমন হা করে খুলে রাখা। দূর থেকে দেখলে মনে হবে — চোখদুটো যেন এখনো জীবন্ত!মনে হচ্ছে অপ্রকাশ্যে কেমন চিৎকার দিয়ে কথা বলছে তারা। মৃ ত দেহটির মুখটা কেমন ফ্যাকাশে হয়ে আছে। ঠোঁটগুলো নীলচে-কালো, মাথাভর্তি ভর্তি সোনালী রঙা চুলগুলো সিলিং এর ওপর ঝুলিয়ে রাখা হলুদ লাইটের টিমটিমে আলোয় কেমন চিকচিক করছে!নিষ্প্রাণ নারীটিকে দেখে বোঝা যাচ্ছে বয়স তার খুব বেশি নয়।এই বড়জোর ২২/২৩ বছর।
প্রায় দীর্ঘক্ষন নিজের পৈশাচিক কর্মকাণ্ড শেষে যুবক ধীরে ধীরে মৃ ত দেহটির ওপর থেকে নেমে এসে দাঁড়ালো।পরক্ষণে মেঝেতে পড়ে থাকা নিজের প্যান্টটা তুলে পড়ে নিলো আলগোছে। তারপর কিয়তক্ষন স্থীর চোখে তাকিয়ে রয় টেবিলের ওপর পড়ে থাকা নিষ্প্রাণ দেহটির দিকে। মৃ ত নারীদেহের প্রতি যুবকের বাঁধহীন আকর্ষণ! তাদের অর্ধ-পচনশীল দেহের গ ন্ধ যুবককে মাতাল করে বারংবার। এখনও তাই। যুবক খানিকটা এগিয়ে এসে নিষ্প্রাণ দেহটির ঘাড়ের কাছে নাক রাখে। ভীষণ জোরালো ভাবে মৃ ত দেহ থেকে গন্ধ শোকঁতেই তৃপ্তিতে দুচোখ বন্ধ হয়ে আসে তার! যুবক সময় নিয়ে চোখ মেলে তাকায়। ঠোঁটের কোণে চমৎকার হাসি টেনে মৃ ত মেয়েটির মুখপানে তাকাতেই ভ্রু গোটায় সে। খোলা চোখ তার মোটেও পছন্দ নয়। মেয়েদের চোখ থাকবে বন্ধ! হৃৎপিণ্ড থাকবে স্থীর! সম্পূর্ণ বদন থাকবে হিমশীতল।যেন তাদের বুকে মাথা রেখে যুবক মনের সুখে গান গাইতে পারে।মেয়েদের শরীরে থাকবেনা বিন্দুমাত্র র ক্ত। মুখ হবে ফ্যাকাশে! আহা…সে কী সৌন্দর্য! যুবক বিরক্তি নিয়ে ফের তাকায় নিষ্প্রাণ দেহটির দিকে।মুখাবয়বে ভীষণ রাগ নিয়ে বলে,
আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন
“ কী দেখছো তুমি? এভাবে তাকিয়ে আছো কেনো? তুমি জানোনা? মেয়েদের চোখ বন্ধ থাকলে তাদের সৌন্দর্য বেড়ে যায় দ্বিগুণ! অথচ তুমি কি-না চোখ খুলে রেখেছো? দিস ইজ নট ডান। তোমাকে আর রাখা যাবে না।”
কথাটা বলেই যুবক একহাতে মৃ ত দেহটিকে নিজের কাঁধে তুলে নেয়। তারপর ধীর পায়ে হেঁটে চলে যায় গুমোট বাঁধা হালকা আলোর ঘর ছেড়ে। একটি পরিত্যাক্ত ভিলা,যার পাশেই রয়েছে বেশ বড় এক ঘন জঙ্গল। অদূর থেকে ভেসে আসছে দু-চারটে নেকড়ের ক্রন্দন ধ্বনি। মধ্যরাতে এহেন ক্রন্দন ধ্বনি যেন গা কাটাঁ ধরিয়ে দিতে সক্ষম! এরূপ একটা গা ছমছমে পরিবেশে যুবক নির্বিকার ভঙ্গিতে একহাতে মেয়েটাকে কাঁধে তুলে এগিয়ে যাচ্ছে ঘন জঙ্গলের ভেতর।
তার একহাত কাঁধের ওপর থাকলেও অন্যহাতে বোতল জাতীয় কিছু একটা। যুবকের ঠোঁটের ফাঁকে শোভা পাচ্ছে মোটা সিগার। দুয়েকটা টানও দিচ্ছে পরপর। প্রায় মিনিট পাঁচেক হাঁটার পর যুবক পায়ের গতি থামায়। কাঁধ থেকে ভীষণ যত্নের সাথে মেয়েটাকে নামিয়ে রাখলো ছোট ছোট দূর্বা ঘাসের জমিনের ওপর। পরক্ষণে অন্যহাতে ধরে রাখা Bacardi 151 (Rum) এর বোতল থেকে ঢাকনাটা খুলে নিলো মুহুর্তেই। ঠোঁটের ফাঁকে গুঁজে রাখা সিগারটা ডানহাতে সরিয়ে, রামের বোতলে চুমুক বসালো আলগোছে।দু-তিন ঢোক রাম গিলতেই মুখ কুঁচকে আসে যুবকের। পানি না মিশিয়ে খাওয়ায় খানিকটা তেঁতোভাবে মুখ ধরে আসছে তার।যুবক ঘোলাটে চোখে ঢুলতে লাগলো সামান্য। নিভু নিভু চোখে জমিনে পড়ে থাকা ন গ্ন দেহটির দিকে তাকালো একপলক। পরক্ষণেই কী মনে করে হেঁসে ওঠে আনমনে। পরমুহুর্তে পরনের প্যান্টটা খানিক উঁচিয়ে বসলো মেয়েটার পাশে। অতপর হাতের মদের বোতল থেকে একটু একটু করে রাম ছিটিয়ে দিলো নিষ্প্রাণ দেহটির সর্বাঙ্গে। হাতের কাজ শেষ করে যুবক মুচকি হাসলো। মেয়েটার ফ্যাকাশে মুখপানে তাকিয়ে বিরবির করে বললো,
“ তুমি আমার কথা শুনলে তোমাকেও আমার কালেকশনে রাখতাম! কিন্তু… তুমি অবাধ্য! এন্ড আই জাস্ট হেট দোস কাইন্ড অফ পিপলস হু ডিজওভেস মি!”
থামলো যুবক। তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকালো সামনে। তার কাছ থেকে দু-তিন হাত দূরে দাঁড়িয়ে আছে চারটে নেকড়ে। প্রত্যেকেই খুশিতে লেজ নাড়ছে খাবার দেখে।কারো কারো জিভ দিয়ে লালা ঝড়ে পড়ছে ইতোমধ্যে। যুবক বাঁকা হাসলো। হাতের সিগারটা ঠোঁটে রেখে আরেকটা লম্বা টান দিয়ে বলতে লাগলো,
“ হেই বাডিস! আজকে তোদের পার্টি দিচ্ছি আমি।একদম টাটকা টাটকা বারবিকিউ… খেয়ে বলবি কেমন হলো!”
নেকড়ে গুলো কী বুঝলো কে জানে! তবে তাদের লেজ নাড়ানোটা ক্রমশ বেড়ে গেলো যেন। বোধহয় তারাও ব্যপক অপেক্ষায়িত। যুবক আর সময় নিলোনা।ঠোঁটের জলন্ত সিগারটা তৎক্ষনাৎ ফেলে দিলো মেয়েটার গায়ের ওপর। মুহুর্তেই পুরো এলকোহলের উপস্থিতিতে দেহটা জ্বলতে লাগলো দাউ দাউ করে। যুবক কিছুক্ষণ বসে রইলো সেখানে। দাউদাউ করে জ্বলতে থাকা আগুনের দিকে চিকচিক চোখে তাকিয়ে রইলো চুপচাপ।হঠাৎ করেই যুবকের শরীর কাঁপতে লাগলো। বুক ধড়ফড়ানি বাড়লো কয়েকগুণ।যুবক চটজলদি দু’হাত পেছনের দিকে ভর দিয়ে আকাশের দিকে মুখ করে তাকায়। কাঁপতে কাঁপতে মোটা হয়ে আসা কন্ঠে চিৎকার করে বলে,
“ আয়রাআআআ! আই ওয়ান্ট ইউ আয়রা! আই ওয়ান্ট ইউ।”
যুবকের কণ্ঠধ্বনি জঙ্গল ছেড়ে বেরুলো না। ওদিকে যুবকের চিৎকারের সাথে সাথে নেকড়েগুলোও নিজেদের মুখ উঁচিয়ে চিৎকার শুরু করলো। ভাব এমন — তারাও বুঝি তাদের কর্তার সঙ্গে শোক পালনে ব্যস্ত!
শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত নিস্তব্ধতায় মোড়ানো ঘরটি। বেডসাইডের টেবিলের ওপর দাঁড়িয়ে আছে টিমটিমে আলোর ল্যাম্প। যার মৃদু আলোয় স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে বিছানার ওপর ঘুমন্ত তরুণীর নিষ্পাপ মুখশ্রীটি। ঘরের বা-দিকের মস্ত বড় কাচেঁর জানালার ওপাশে দাঁড়িয়ে আছে হুডি পড়া এক অপরিচিত আগন্তুক। আগন্তুকের মুখ ঢেকে রাখা বাকারেট ক্যাপে। শরীরে জড়ানো কালো রঙা হুডি যার হুড ফেলে রাখা মাথার ওপর। আগন্তুকের গভীর দৃষ্টি আপাতত ঘুমন্ত তরুণীর মুখের ওপর নিবদ্ধ। তরুণীর ফর্সা মসৃণ মুখখানায় সে-কি মায়া! মাথার বাদামী রঙা সিল্কি চুলগুলো বিছানা গড়িয়ে মাটিতে গড়াগড়ি খাচ্ছে রীতিমতো! আগন্তুকের বেশ ইচ্ছে হলো,নিজ হাতে চুলগুলো নিয়ে একটু খেলা করতে। তবে মনের এহেন সুপ্ত ইচ্ছেখানা তার অপূর্ণই রইলো। যুবক নিষ্পলক চোখে তাকিয়ে আছে এখনো। তরুণীর নরম অধরযুগলের ওপর দৃষ্টি পড়তেই আগন্তুকের নিশ্বাস ভারি হয়ে উঠল ক্রমাগত।সে নিজেকে বহুকষ্টে সামলে দাঁড়ায়। চোখ সরিয়ে এনে রাখলো তরুণীর ঠোঁটের নিচে, বা-দিকে শোভা পাওয়া কালো কুচকুচে তিলটায়।সেদিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতে থাকতে আগন্তুকের হাতটা কেমন অজান্তেই জানালার কাচেঁর ওপর উঠে এলো তার। সেথায় আলতো করে চাপ দিয়ে সে দাঁড়িয়ে রইলো চুপচাপ। সময় পেরুলো, কিয়তক্ষন বাদে ঘুমন্ত তরুণী ঘুমের ঘোরে নড়েচড়ে উঠে খানিকটা। বাঁপাশ থেকে ডানপাশে ফিরতে গিয়ে হঠাৎ তার চোখ পড়লো জানালার ওপাশে। মুহুর্তেই সকল তন্দ্রা কেটেঁ গেলো তরুণীর। সে হকচকিয়ে ওঠে বসে বিছানায়। গলা ছেড়ে চেচিয়ে বলে ওঠে,
“ হু’জ দেয়ার? হেই স্টপ!”
বলতে দেরি, আগন্তুকের জানালার কাছ থেকে সরে যেতে দেরি হলোনা। তরুণী তৎক্ষনাৎ এগিয়ে আসে জানালার কাছে। একহাতে কাঁচের থাই সরিয়ে চোখ ফেলে নিস্তব্ধ রাস্তাটায়। নেই! কোথাও কেউ নেই।পুরো রাস্তাটি জনমানবহীন! তরুণীর মুখ শক্ত হয়ে ওঠে মুহুর্তেই।সে তৎক্ষনাৎ সময় নষ্ট না করে নিজের রুম থেকে বেরিয়ে আসে। গটগট পায়ে করিডর দিয়ে হেঁটে চলে যায় HER হাউজের মেইন ডোরের দিকে। তবে সে আর বেরোতে পারেনা।এর আগেই দরজার কাছে এসে উপস্থিত হন হোস্টেলের ওয়ার্ডেন মিস এমিলি। তিনি এতোরাতে তরুণীকে ওমন হন্তদন্ত পায়ে ছুটতে দেখে ঘাবড়ে গেলেন বোধহয়। এগিয়ে এসে হাত রাখলেন তরুণীর কাঁধে। আলতো স্বরে জিজ্ঞেস করলেন,
“ আয়রা! কী হয়েছে?”
আয়রা বুক ফুলিয়ে বড় বড় নিশ্বাস ফেলছে। মিস এমিলির প্রশ্নের তৎক্ষনাৎ জবাব না দিয়ে সময় নিয়ে বলে,
“ মিম্মি! সে আবারও এসেছিলো।আজও দাঁড়িয়ে ছিলো জানালার পাশে।আ’ম শিওর আমি তাকে স্পষ্ট দেখেছি!”
ভ্রু গোটান ওয়ার্ডেন। চিন্তিত মুখে বলেন,
“ এটা কীভাবে সম্ভব আরু? গত দুমাসে হোস্টেলের সিকিউরিটি দ্বিগুণ করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে আজকে আবার… ”
চিন্তায় কথাটা সম্পূর্ণ করতে পারলেননা তিনি। ওদিকে আয়রা গম্ভীর মুখে ঠায় দাঁড়িয়ে আছে। কিয়তক্ষন বাদে হাউজের ডাবল লিভিং রুমে ছুটে আসে আরোহী এবং স্নেহা। আয়রার ঘনিষ্ঠ বান্ধবীরা। তারা এসেই আয়রাকে দেখে জিজ্ঞেস করে ওঠে,
“ হোয়াট হ্যাপেন্ড আরু? তুই রুম ছেড়ে এভাবে বেরিয়ে এলি যে! কোনো দুঃস্বপ্ন দেখেছিস?”
ক্লান্ত আয়রা গম্ভীর মুখে পা বাড়িয়ে গিয়ে বসলো লিভিং রুমে বিছিয়ে রাখা বড় সোফার এককোনে। দু’হাতে মাথার চুলগুলো খামচে ধরে মাথা নুইয়ে বসে রইলো মেয়েটা। আরোহী এবং স্নেহাও এসে বসলো মেয়েটার দুপাশে। মিস এমিলি তৎক্ষনাৎ বেরিয়ে গেলেন হাউজের বাইরে। মেইন দরজার পাশে চেয়ার পেতে বসে থাকা হাউজ গার্ডকে ঝিমুতে দেখে ধমকে উঠেন তিনি। এদিকে তার ওমন ধমকে আঁতকে ওঠেন হাউজ গার্ড। লোকটা কেমন ভড়কে গিয়ে নিজের চেয়ার ছেড়ে দাঁড়িয়ে হতবিহ্বলের মতো জিজ্ঞেস করলেন,
“ ইয়েস… ইয়েস মিস!”
এমিলি বোধহয় বেশ বিরক্ত হলেন।তিনি গলার মাঝে ভীষণ ঝাঁঝ ঢেলে বলতে লাগলেন,
“ এসব কী মিস্টার মার্টিন? আপনি এখানে ডিউটি ছেড়ে ঝিমাচ্ছেন? ওদিকে আয়রার জানালার সামনে আজও সেই ব্যাক্তি এসে উঁকি দিয়ে গেছে। আপনাদের মতো এতো রেসপেক্টিভ এন্ড রেসপন্সিবল গার্ড থাকতেও এরকমটা হয় কী করে? জাস্ট আনসার মি দেট!”
এহেন কথায় মুহুর্তেই সিরিয়াস হয়ে গেলেন মধ্যবয়স্ক মার্টিন। মাথার কালো ক্যাপটা খানিকটা ঠিকঠাক করে নিয়ে নিজের স্বীকার করে বললেন,
“ আ’ম সরি মিস! আর হবে না কখনো। এন্ড আমি এক্ষুণি গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ চেক করছি।কেউ সত্যি এসে থাকলে এতো প্রাচীর টপকে এতো সহজে বেরোতে পারবেনা। আপনি স্টুডেন্টের কাছে যান।আমি গিয়ে দেখছি!”
অগত্যা এমন কথায় দমে গেলেন মিস এমিলি। গম্ভীর মুখে আবারও চলে এলেন আয়রার কাছে। এদিকে আয়রা বসে আছে আগের ভঙ্গিতে। পাশ থেকে স্নেহা, আরোহী তাকে বারকয়েক কী হয়েছে জিজ্ঞেস করলেও মেয়েটা বলছেনা কিছু। তখন মিস এমিলি এসে দু’জনার সকল প্রশ্নের পিঠে এক উত্তর দিয়ে বলে ওঠেন,
“ সেই আগন্তুক আজও না-কি এসেছিল। আয়রার ঘরের জানালার সামনে দাঁড়িয়ে ছিলো!”
এরূপ কথায় মুহুর্তেই চিন্তায় পড়লো বাকি দু’জন। দুজনে একে অপরের মুখ চাওয়াচাওয়ি করে হুট করে বলে ওঠে,
“ আই থিংক, এবার আমাদের এ ব্যাপারে সিরিয়াস হওয়া উচিত! আজকে আগন্তুক আবারও এসেছে মানে,কাল নিশ্চয়ই কিছু না কিছু সে অবশ্যই পাঠাবে! সে-ই সাথে তার ঐ র ক্ত মাখা চিঠি… ”
বলতে বলতেই ভয়ে কন্ঠ শুকিয়ে এলো স্নেহার। সে বারকয়েক শুকনো ঢোক গিলে মিস এমিলিকে বলে ওঠে,
“ ম্যাম! ডু সামথিং। এসব কিছু আরুর মেন্টাল হেলথের ক্ষতি করছে।”
মিস এমিলিও গম্ভীর মুখে ভাবছেন কিছু একটা। হয়তো পথ খুঁজছেন এই অপ্রকাশিত বিপদ থেকে বাঁচার!
মিস্টার মার্টিন টর্চ হাতে হাউজের বা-দিকে যাচ্ছেন।হাউজ থেকে খানিকটা দূরে অবস্থিত কন্ট্রোল রুম। সিসিটিভি ফুটেজ হতে শুরু করে, বাদবাকি সিকিউরিটিসহ সকল কাজ এখানেই সম্পন্ন হয়।প্রায় মিনিট পাঁচেক পর, মার্টিন এসে উপস্থিত হলেন কন্ট্রোল রুমের দ্বারে। তবে বাইরে থেকে কন্ট্রোল রুমের দরজাটা হালকা চাপানো দেখে ভ্রু কুঁচকে আসে তার। তিনি তৎক্ষনাৎ হন্তদন্ত পায়ে ঘরে ঢুকলেন। পরক্ষণেই যা দেখলেন, তাতে বেচারা হতবুদ্ধির ন্যায় তাকিয়ে রইলেন শুধু। কন্ট্রোল রুমের দুজন কন্ট্রোলারদের মুখের ওপর কালো কাপড় বেঁধে রাখা। হাতদুটো পিছমোড়া করে বেঁধে রাখা দড়ি দিয়ে। লোক দু’টো গোঙাচ্ছে শুধু। মার্টিন দ্রুত এগিয়ে আসে তাদের নিকট। হাত বাড়িয়ে উঠিয়ে দেন তাদের মুখের ওপর ফেলে কালো কাপড়টা। পরক্ষণে দু’জনার হাতদুটো উম্মুক্ত করে সন্দিহান গলায় জিজ্ঞেস করে ওঠেন,
“ কে বাঁধলো তোদের এভাবে?”
লোক দু’টো ভয়ে কেমন কাঁপছে রীতিমতো। দুজন ভয়ার্ত দৃষ্টিতে একে-অপরের দিকে তাকালেন একবার। পরক্ষণে শুকনো ঢোক গিলে বললেন,
“ জানি নাহ! তবে সে খুব বিপদজনক।”
মার্টিন আবারও পড়লেন বিপাকে।হুটহাট এসব কী হচ্ছে হোস্টেল হাউজে? কেই-বা করছে এসব? আচ্ছা এমনটা নয়তো এগুলো ঐ আগন্তুকের কাজ!
মার্টিন যখন ব্যস্ত কন্ট্রোল রুমে, ঠিক তখনি কন্ট্রোল রুমের পাশের ঝোপঝাড় থেকে ধীর পায়ে বেরিয়ে আসে সেই হুডিপড়া আগন্তুক। মুখটা তার এখনো ঢাকা! আগন্তুকের চোখদুটো কেমন চিকচিক করছে মনে হচ্ছে! সেটা আদৌও কিসের জন্য কে জানে! আগন্তুক নিঃশব্দে পা বাড়ায় বড় পাচিলের দিকে। সেথায় দাঁড়িয়ে থাকা ম্যাপল গাছটার ওপর বেশ দক্ষতার সাথে চটজলদি উঠে, লাফ দিলো পাচিলের ওপারের রাস্তায়। পরক্ষণে হাতদুটো হতে ধূলো ঝাড়তে ঝাড়তে মাস্কের আড়ালেই বাঁকা হেসে ওঠে আগন্তুক। বিরবির করে বলে,
“ বি রেডি টুইঙ্কেল… আ’ম কামিং!”
