Home অপরাহ্নে উপসংহার অপরাহ্নে উপসংহার পর্ব ২৫ (২)

অপরাহ্নে উপসংহার পর্ব ২৫ (২)

অপরাহ্নে উপসংহার পর্ব ২৫ (২)
তোনিমা খান

যেদিন থেকে অবুঝ এরোজের মাথার উপর থেকে মায়ের ছায়া সরে গিয়েছে, সেদিন থেকে সুখ দুঃখ সব ঐ বড় ভাইয়ের বুকেই নিহিত থাকে! এবং দীর্ঘ এই জীবনে সে চাইলেও ঐ মানুষটার কথা কখনো ফেলতে পারে না।
তপোবন কঠিন নেত্রে চেয়ে এবার কম্ফোর্টার সরিয়ে নিলো। ফলশ্রুতিতে বালিশে মুখ ডুবিয়ে থাকা ধবধবে সাফেদ এক সুগঠিত দেহ উদাম হয়ে গেল। সে থমথমে মুখে বলল,

–“এমন করে তুই কি প্রমাণ করতে চাইছিস আমি জানি না, এরোজ। কিন্তু আমি অনুরোধ করব, যতক্ষণ দেশে আছিস ততক্ষণ অন্তত স্বাভাবিক ভাবে পরিবারের সবার সাথে সময় কাটাবি। আর এই কথার নড়চড় হলে দেশের বাইরে পা রাখা আর হবে না। আমায় কঠোর হতে বাধ্য করলে আমি কঠোরতার সীমা পার করে দেবো। কথাটা মাথায় থাকে যেন!”

ধূসর নেত্রদ্বয় অলস গতিতে খুলে যায়। ঘুম জড়ানো গভীর সেই চাহনিতে ধূসর মনিদ্বয় আবছা নীলাভ লাগলো। তপোবনের ধূসর নেত্রদ্বয় ও এঁটে যায় ভাইয়ের সেই টলটলে নেত্রে। যেই নেত্রে সে আফসোস, হারিয়ে ফেলার ক্লেশ, দূর্ভাগ্য আর নিজের প্রতি অভিযোগ ব্যতীত কিছু খুঁজে পায় না। খুঁজে পায় না, কি করে কারোর সাজানো গোছানো স্বপ্নগুলো একটুর জন্য শেষ হয়ে গেল!
স্মিত হাসলো এরোজ। ভাগ্য প্রতিবার তার সব সুখ ছিনিয়ে নিয়ে বলে—তাকে হাসতে হবে, তাকে বাঁচতে হবে নতুন উদ্যোমে। সে তো তুচ্ছ ক্ষমতাহীন এক সত্ত্বা। তার কোনো ক্ষমতা নেই ভাগ্যকে ছিনিয়ে আনার। তাই তাকে হাসতে হবে, অবশ্যই হাসতে হবে। বাঁচতে হবে সকলে যেভাবে চায়।
তপোবনের কাঠিন্যতায় একটুও নমনীয়তা ছুঁতে পারলো না। দরজা জানালা খুলে সব পর্দা খুলে দিলো। উদাম দেহের শায়িত ছেলেটিকে উপেক্ষা করে হাতে হাতে বিছানাও গুছিয়ে নিলো। মেঝে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা আধোয়া পোশাকগুলো লন্ড্রি বাস্কেটে ঢুকিয়ে হাঁক ছেড়ে জবাকে ডাকলো। পোশাকগুলো ধোঁয়ার জন্য জবার হাতে দিয়ে সে পেছনে হাত বেঁধে বিছানায় পড়ে থাকা ভাইয়ের দিকে তাকায়। গমগমে স্বরে আদেশের সুরে বলে,

–“আমি তানশানের ব্যাগ গুছিয়ে পনেরো মিনিট পর নিচে নামবো। খাবার টেবিলে যেন তোকে উপস্থিত পাই।”
এরোজের নির্নিমেষ চাহনি নড়েচড়ে উঠল। ভাইয়ের দিকে দৃষ্টি ঘুরালে ওষ্ঠদ্বয় আলতো বেঁকে যায় বহু বছর পর বদলে যাওয়া বাচনভঙ্গি পোশাকের ধরণ দেখে। ক্ষীণ কণ্ঠে বলে,
–“এটা নিশ্চয়ই তোমার ফেইরি টেইলের জাদুর প্রভাব?”
তপোবন অবুঝ হলো। তার যে খেয়ালই নেই সে কি অস্বস্তিকর পোশাকে ঘুরঘুর করছে। এরোজ তার আপাদমস্তক চোখ বুলিয়ে বলল,
–“সৃষ্টিকর্তা তোমায় মানিয়ে নেয়ার চমৎকার ক্ষমতা দিয়েছে বলেই বোধহয় তুমি জীবনে বারংবার সুখের দেখা পাও। ইউ আর লুকিং সো হ্যান্ডসাম, ভাইজান।”
এতক্ষণে তপোবন নিজের পোশাকে চোখ বুলালো। বিব্রতকর অনুভূতি ছুঁতে না দিয়ে গম্ভীর মুখে বলল,

–“আমরা তো পানিতে ভাসতে থাকা কিছু কচুরিপানা। আমাদের কাজ প্রবাহিত হওয়া তাতে জীবনে যতই বাঁধা আসুক না কেন! তোর ও উচিৎ নতুন করে পথচলা, দেখবি একদিন দ্বিগুণ সুখ ফিরে পাবি।”
দ্বিতীয় জীবন, নতুন প্রারাম্ভ ভীষণ ঘৃণ্য শব্দগুলো এরোজ ফাঁকা ঢোক গিলে সহ্য করে নিলো। বহুকষ্টে আলতো হেসে ক্ষীণ স্বরে আওড়ায়,
–“পৃথিবীর সব সুখ ফিকে পড়ুক তাকে হারানোর যন্ত্রনাগুলোর কাছে। অন্তত সে জড়িত কিছু তো আমার হয়েই আছে। আমি তাদের আগলে গোটা জীবন কাটিয়ে দিতে পারব।”
–“আর গোটা জীবন ভাইজানকে দোষারোপ করে যাবি?”
তপোবনের ক্ষীণ কণ্ঠে এরোজ ক্ষীণ কণ্ঠে বলল,
–“তোমার কোনো দোষ নেই, ভাইজান। আমি দূর্ভাগা! না মায়ের ভালোবাসা পেলাম আর না…”
কণ্ঠরোধ হয়ে আসল এরোজের। এই জিহ্বা বহু আগেই তার নাম নেয়ার অধিকার হারিয়েছে। সে এলোমেলো দৃষ্টি ফেলে ছটফটে বদদে বিছানা ছেড়ে নেমে গেল। ব্যস্ত কণ্ঠে বলল,

–“তানশানের স্কুল আছে, তুমি যাও আমি আসছি।”
বলেই সে ওয়াশরুমে চলে যায়। তপোবন নীরব দৃষ্টি ফেলে বেরিয়ে আসে। জীবন এমন নাটকীয়তার সাথে মোড় নেবে জানলে, ছোট থেকে ভাইদের শেখাতো— কি করে হাজার দুঃখের মাঝে একটা সুখ আঁকড়ে ধরে বাঁচতে হয়।
সময়টা জানুয়ারির মাঝামাঝি। সকাল আটটা পর্যন্ত স্বাভাবিকভাবেই কুয়াশাচ্ছন্ন থাকে বাইরের প্রকৃতি। খুলনার তাপমাত্রা বাড়তি থাকলেও এই সময়টাতে শীতের প্রকোপ বেশ অনুভব হচ্ছে।
রন্ধনশালা রমনীদের মৃদু তোড়জোড়ে আড়ম্বরপূর্ণ! সুস্বাদু খাবার সুবাসের সাথে খাঁটি ঘি তে ভাজা পরোটার গন্ধে ঘরময় মো মো করছে।

সেই স্নিগ্ধ প্রভাত আর স্নিগ্ধ আবেশে খানিক বিতৃষ্ণা অনুভব হলো কনকনে শীতের এই সকালে ভেজা চুল সমেত, হাফ হাতার টিশার্ট আর হাঁটু সমান শর্টস পড়া বত্রিশ বছরের সুগঠিত পুরুষটিকে দেখে।
বিরক্তিকর নিঃশ্বাস ফেললো সদ্য বাড়িতে ঢোকা তকদির সিকদার আর ইমরোজ। নেশাগ্রস্ত হওয়ায় শীত গরম কিছুই কি গায়ে লাগে না, নাকি দেহে উত্তেজনা একটু বেশিই!
এরোজকে মাঘ মাসের মাঝ রাতে ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল করতে দিলেও, সে নির্বিকার গোসল করে বের হতে পারবে। এমনি এক গন্ডারের চামড়া আর মন নিয়ে চলাফেরা করে সে।
তবে ইমরোজের মাঝে বিরক্তির থেকে ক্রোধই বেশি।
পরিবারের এই একজনের সাথেই যে ছোটবেলা থেকে তার সম্পর্কের জটিলতা সুদৃশ্যমান। একজন স্পষ্টবাদী আর একজন সেই স্পষ্টবাদীতার শিকার!

এরোজ চরিত্রহীন ব্যক্তি সহ্য করতে পারে না— অথচ তার গোটা পরিবার এই দূর্বিসহ ঘৃণ্য শব্দটির শিকার।
যুবক বয়স থেকে বিবাহের আগ পর্যন্ত একাধিক নারী সঙ্গের সাথে যুক্ত থাকায় ইমরোজ বরাবরই এরোজের রোষানলের শিকার হতে হতো! বিবাহের পর ইমরোজ বদলালেও, আজ এত বছর পরেও ভাইয়ের প্রতি সেই ঘৃণা সামলে উঠতে পারে না এরোজ।
ভাইয়ের আপাদমস্তক দেখে ইমরোজ কটুক্তি করে বলল,
–“এরোজ সাহেব যে! আজ এত সকালে আপনার মুখ দর্শনের সৌভাগ্য হলো কি করে? নেশার ঘোর কেটে গিয়েছে এত তাড়াতাড়ি?”
ডাইনিং টেবিলের পাশে শর্টসের পকেটে হাত ঢুকিয়ে সটান হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এরোজ শান্ত দৃষ্টি ফেললো তার দিকে। কারোর সাথে বাড়তি কথা বলায় অনাগ্রহ থাকা সত্বেও সে মুখ খুললো।
ভীষণ শ্রান্ত কণ্ঠে বলল,

–“গতকাল খেতে মনে ছিল না, একটু পর গিয়ে খাবো।”
সহসা তকদির সিকদার হুঙ্কার ছাড়লেন,
–“কুলাঙ্গার ছেলে মুখ সামলে কথা বলো। বাপের সামনে এমন কথা বলতে লজ্জা করে না?”
–“আপনার ছেলেকে খোঁচাতে বারণ করুন, আমিও লাজলজ্জা বজায় রেখে কথা বলব।”, এরোজ চেয়ার টেনে বসতে বসতে নির্বিকার বলল।
রান্নাঘরে থাকা নির্জনা বেগম, মৌনতা রূপকথা ছুটে এলো। তবে ঘরের পুরুষদের আলোচনায় বেশিক্ষণ দাঁড়ায় না পুত্রবধূরা। তারা নীরবে নত শির পুনরায় রান্নাঘরে ঢুকে যায়। নির্জনা বেগম অসহায় দৃষ্টিতে তাকালেন স্বামীর দিকে। কতগুলো বছর পর তার ছেলেটা তার কোলে এসেছে, কেন সকলে এমন করছে?
তকদির সিকদার ফের আওয়াজ তুললেন,
–“এটা খোঁচানো মনে হলো তোমার কাছে? তুমি যা করছো এটা কোনো জীবন? সারাদিন মদ খেয়ে পড়ে থাকো, পরিবার পরিজনের কিছু তো পরোয়া করো।”
প্রেক্ষিতে কাঠের চেয়ারটিতে পাথরের ন্যায় শক্ত হয়ে বসা দেহটি একদমই অবিচলিত। তকদির সিকদার ফের ফুঁসে উঠলেন,

–“কি হলো কথা বলছো না কেন?”
ইমরোজ এবার চাপা আক্রোশে গর্জে উঠল।
–“বলবে টা কি, আব্বু? বলার মতো কিছু কি রয়েছে ওর কাছে? ওর এমন আচার আচরণের পেছনে কি তোমরা দায়ী নও? বিদেশের মাটিতে লাক্সারিয়াস লাইফ লিড করা আর দামী দামী মদ খাওয়া এগুলো প্রোভাইড কে করে? তুমি না? সপ্তাহে একদিন কাজ করে এগুলো কি ওর পক্ষে সম্ভব? তুমি যদি ওর ভাগের টাকা গুলো আঁটকে দিতে তবে এতদিনে এমন বিলাসীতা বেরিয়ে যেত! তাই ওর এমন ঔদ্ধত্যতার পেছনে তুমি আর ভাইজান যথাযথভাবে দায়ী।”
সহসা লালচে সরু তীক্ষ্ণ দৃষ্টি এঁটে যায় ইমরোজের ক্ষিপ্ত মুখশ্রীতে। ইমরোজ পরোয়া করে না সেই ক্রুব্ধ দৃষ্টি। এরোজ দাঁতে দাঁত চেপে নুইয়ে যায়। হিসহিসিয়ে বলে,

–“আমি একদিন কাজ করে যা ইনকাম করি তা তোর পনেরো দিনের ইনকাম! আমার সাথে টাকা নিয়ে দ্বন্দ্ব করতে আসিস না, বাজেভাবে হেরে যাবি।”
ইমরোজ ও পাল্টা হিসহিসিয়ে বলল,
–“বাহ্! তবে এখান থেকে যেই টাকা যায় তা বন্ধ করে দেই?”
এরোজ দাঁত খিচে বলল,
–“এখন পর্যন্ত আমার একাউন্ট থেকে কোনো টাকা নেয়া হয়েছে কি-না সেই খবর নিয়ে তারপর কথা বলবি।”
–“আমার তো তোর মতো ছ্যাঁচড়া স্বভাব নেই যে কারোর একাউন্ট ঘাঁটতে ঘাঁটতে যাবো।”
ইমরোজের কথায় এরোজ ফিচলে হেসে বলল,
–“তোর ছ্যাঁচড়ার মতো স্বভাব নেই বরং তুই আস্ত এক ছ্যাঁচড়া। যার জন্য একজনের জীবনে এভাবে নাক গলাচ্ছিস।”

–“মুখ সামলে কথা বল, এরোজ!”, ইমরোজ শাসিয়ে বলল। এরোজ চোয়াল শক্ত করে চোখে চোখ রেখে বলল,
–“তুই তোর মুখ সামলে কথা বল। আমি তোর টাকায় লাইফ লিড করি না। নিজের টাকায় করি। যা করি, যেভাবে করি তাতে তুই নাক গলাবি কেন?”
তকদির সিকদার মোটেই মানতে পারলেন না এমন কথা। সে রাগান্বিত স্বরে বলল,
–“তোমার টাকা আছে বলে তুমি যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে জীবন যাপন করতে পারবে না, এরোজ! আমি আমার চোখের সামনে আমার সন্তানকে এভাবে শেষ হয়ে যেতে পারব না। আমি এখনো বেঁচে আছি, এটা ভুলে যেও না।”
–“তোমার এমন আবেগী বয়ানে কোনো যায় আসে না তোমার এই ছেলের, আব্বু। এটাকে কানাডায় না পাঠিয়ে রিহ্যাবে পাঠাও, তারপর একটা ভালো মেয়ে দেখে বিয়ে দাও।”
সেই বিয়ে! পুনশ্চ সেই কঠিন শব্দে এরোজ এতক্ষণ ধরে সামলে রাখা মেজাজ ধরে রাখতে পারল না একটুও! সে হুঁশ হারিয়ে উগ্র চিত্তে হাতের কাছের গ্লাসটা ক্ষিপ্র গতিতে ছুঁড়ে মারলো মেঝেতে। মুহুর্তেই কাঁচ ভাঙার শব্দে ঝনঝনিয়ে উঠল ডাইনিং রুম সহ লিভিং রুম। এরোজ ফুঁসে উঠে দাঁড়িয়ে যায়। ক্ষিপ্র হস্তে টেবিল চাপড়ে বলল,

–“আমি কি করব, না করব তা তোকে ভাবতে হবে না।”
রান্নাঘরের সকলে পুনরায় ছুটে আসল। এহেন আচরণে ইমরোজের ক্রোধ ও মাত্রা ছাড়িয়ে গেল। কেউ কারোর থেকে কম নয় এই প্রবৃত্তির অনুসরণ করেই ইমরোজ ফুঁসে উঠে এরোজের কলার চেপে ধরলো। হিসহিসিয়ে বলল,
–“তুই বড় ভাইয়ের গায়ে হাত তুলবি? তোল, দেখি তোর কত সাহস! তোকে যদি আমি রিহ্যাবে না পাঠিয়েছি তবে আমার নাম ও ইমরোজ সিকদার নয়।”
বিক্ষিপ্ত মস্তিষ্কের এরোজ সত্যিই হুঁশ হারা! হুঁশ হারিয়ে কখন যে মুঠোবন্দী কাঁচের গ্লাসটা ভাইয়ের দিকেই ছুঁড়তে নিলো তার খেয়াল রইলো না।
উপস্থিত সকলে আঁতকে উঠল এরোজের চিৎকারে।
–“তোর চৌদ্দ গোষ্ঠীও আমায় আমার জায়গা থেকে সরাতে পারবে না।”
তবে সকলের ভয়ার্ত দৃষ্টি আর এরোজের চিৎকার মুহুর্তেই শান্ত স্থির জলধারার ন্যায় থমকে যায় কর্নকুহরে আন্দোলিত হয় আর্তনাদভরা মিষ্টিমধুর ডাকে।
–“ইমরোজ!”
–“পাপাহ!”

থমকে যায় এরোজের জলন্ত লাভার ন্যায় ক্রোধ ও। দৃষ্টি আঁটকে যায় দু’টো কাজলটানা ভয়ার্ত নেত্রপানে। প্রহারের জন্য জাগ্রত হাত দু’টো কেঁপে উঠল খানিক। না না খানিক নয়, থরথরিয়ে কাঁপছে এরোজের হাত।
ইমরোজকে আগলে ধরা মৌনতা আশ্চর্য নয়নে তাকায় সদ্যই মেঝেতে পড়ে গিয়ে চুরমার হয়ে যাওয়া গ্লাসটির দিকে। বাবার পা জড়িয়ে ধরা নায়েল ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠে বলে,
–“আমাল পাপাকে মেলো না, আমাল পাপা ব্যথা পাবে।”
থরথরিয়ে কেঁপে ওঠা হাতটি নামিয়ে নেয়া এরোজ ফাঁকা ঢোক গিলে এলোমেলো দৃষ্টিতে তাকায় ইমরোজের আপাদমস্তক! আপাদমস্তক সৃষ্টিকর্তার নেয়ামত দ্বারা আবৃত! সে কি অপার্থিব সৌন্দর্যে মোড়া দৃশ্য! স্ত্রী সন্তান আঁকড়ে ধরেছে ইমরোজকে।
চিৎকার চেঁচামেচিতে ছুটে বের হওয়া তপোবন, রোজ আশ্চর্য হয়ে যায় লড়তে থাকা দুই ভাইকে দেখে। তার চেয়েও আশ্চর্য হয়ে যায়, ভীষণ কঠিন মুহূর্তে এরোজকে হাসতে দেখে। নির্জনা বেগম অবাক হয়ে যায় এমন প্রতিকূল পরিস্থিতিতে এরোজকে ছলছল নেত্রে হাসতে দেখে। ইমরোজের ক্রোধে জ্বলজ্বল করা আঁখিদ্বয়ে কৌতুহল ছুঁয়ে গেল।
এরোজ বিমুগ্ধ নয়নে চেয়ে নিজের কম্পিত হাতটি বাড়িয়ে ইমরোজের হাতের উপর রাখলো। ক্ষীণ কণ্ঠে বলল,

–“আ…আল্লাহ তায়ালা তোকে অনেক রহমত দিয়েছে। তুই অনেক ভাগ্যবান। তুই অনেক ভালো, আরো অনেক ভালো হ, আমি দোয়া করি। তুই সবসময় ভালো থাক।”
অদ্ভুত আচরণ! যেই ছেলেটা কিয়ৎকাল পূর্বেই ভাইকে প্রহার করতে চাইছিল, সেই ছেলেটা এখন তার জন্য দোয়া করছে। নির্জনা বেগম ফুঁপিয়ে উঠলেন ছেলের অস্বাভাবিক আচরণ দেখে!
এরোজকে আর এক মুহুর্তের জন্য সেখানে দাঁড়াতে দেখাগেল না। সে গটগট করে বেরিয়ে যায় ঘর থেকে।
ইমরোজ ফোঁস করে নিঃশ্বাস ফেলে মৌনতা আর নায়েলের দিকে দৃষ্টি ফেললো। ভীষণ নরম দৃষ্টি! থমথমে মুখে বলে,

–“এমন মুহুর্তে তোমরা আসলে কোন আক্কেলে? কিছু যদি হয়ে যেত নায়েলের? ঐ বেয়াদবের এত সাহস নেই যে আমার গায়ে হাত দিতে পারবে। তোমরা নিজেদের খেয়াল রাখবে না?”
মৌনতা গায়ে মাখে না। উপস্থিত শশুর শাশুড়ি এ উপেক্ষা করে বলে,
–“আপনি কেন ঐ উগ্র লোকটার সাথে লাগতে যান? সে যা ইচ্ছা করুক, আপনি আপনার মতো থাকবেন।”
ইমরোজ তার কথায় গ্রাহ্য না করে বাবার উদ্দেশ্যে বলল,
–“এই ছেলেকে তুমি এই ঘরে রাখলে সুখ শান্তি আর থাকবে না আব্বু। এর প্রমাণ তুমি নিজেই দেখেছো! যদি ভালো থাকতে চাও, ওটাকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করো ঘর আর সম্পত্তি থেকে। তবেই দেখবে আক্কেল ঠিক জায়গায় এসে যাবে।”
দোতালার থেকে তপোবন ত্রস্ত পায়ে নেমে আসে। বাবা ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে বিক্ষিপ্ত মেজাজে বলল,

–“কি করছো তোমরা? ও এখানে সারাজীবন থাকতে আসেনি। মাত্র তিন মাসের জন্য এসেছে, তাও নায়েল আর তানশানের জন্য! এমন আচরণ করছো কেন? তোমরা ঘরের মানুষ যদি ওর সাথে একটু ভালো ব্যবহার না করো, তবে ও কি করে নতুন করে বাঁচার আগ্রহ পাবে?”
তকদির এবার সিকদার গর্জে উঠলেন বড় ছেলের উপর।
–“এই যে, এগুলো করেই তুমি আজ ঐ পাগল, কু/লা/ঙ্গা/র কে মাথায় তুলেছো। আজ বড় ভাইকে মারতে উঠতেও ও দ্বিধাবোধ করেনি। এরপর ও বলছো ওর সাথে ভালো ব্যবহার করতে?”
–“আব্বু, অবুঝের মতো কথা বলছো কেন? ক্ষততে বারবার আঘাত লাগলে সেই ক্ষত ভরে না বরং আরো তাজা হয়ে ওঠে। তোমার উচিৎ ক্ষততে ঔষধ লাগানো, তবেই না সেটা ঠিক হবে?”
–“ক্ষততে ঔষধ লাগানোর মতো সময় শেষ তপোবন। ঐ ছেলেকে এখন আটকাতে হবে রিহ্যাবে! নয়তো মৃত্যু ছাড়া গতি থাকবে না ওর।”

–“আমি ওকে সামলে নেবো, আব্বু। কিন্তু দয়াকরে ও যেই কদিন আছে ওকে শান্তিমতো থাকতে দাও।”
–“ওকে শান্তিতে থাকতে দেয়া মানে মদ খেয়ে ঐ বিছানায় পড়ে থাকা, তপোবন। এটা আমি সহ্য করবো? আমার নাতি নাতিনাতনিদের নিয়ে গড়া এত সুন্দর ঘরে আমি এসব চলতে দেবো?”
–“প্লিজ, আব্বু! মাত্র তিনটা মাস! আমি আমার যথাসাধ্য চেষ্টা করব এরোজকে সঠিক পথে আনার।”, তপোবন অনুনয় করে বলল। তকদির সিকদার নির্বাক থমথমে মুখে খাবার টেবিলে বসলেন।
নির্জনা বেগম এরোজকে ফোন দেয় কিন্তু ফোন সুইচড অফ! সে দীর্ঘশ্বাস ফেলে আর মাজেদা খাবার বাড়তে লাগলেন।
পরিস্থিতি একটু শিথিল হতেই নির্জনা বেগমের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দীর্ঘ দশ বছর পর বড় ছেলের মাঝে বহুল আকাঙ্ক্ষিত সেই পরিবর্তন দেখে।

মাতৃমন উল্লাসে মেতে উঠল ছেলেকে একটু একটু করে গুছিয়ে উঠতে দেখে।
তপোবন নত শির গলা খাকারি দিয়ে খেতে বসল। নত মস্তকে নির্জনা বেগম মিটিমিটি হাসছে। এই মিটিমিটি হাসি প্রশান্তির। ঠিক এই পরিবর্তন টুকু আনার জন্যই তার এতো শত প্রচেষ্টা। সন্তানদের সুখে সুখ খোঁজা এক মা সে। হয়তো ছেলের ভবিষ্যতটা অন্যরকম সুখের হতে যাচ্ছে। সাথেই অন্তঃস্থল থেকে রূপকথার প্রতি ক্ষোভ ও একটু কমলো। তপোবনের মাঝে এই ক্ষুদ্র দেখতে বৃহৎ পরিবর্তটাই তার প্রমাণ, যে অন্তত দু’জনে একটা সুন্দর, স্বাভাবিক, নির্ঝঞ্ঝাট সম্পর্কে রয়েছে। শত দুশ্চিন্তার মাঝেও তকদির সিকদার ও আড়চোখে ছেলের মধ্যে কামনীয় এই পরিবর্তনটা দেখে প্রশান্তির এক নিঃশ্বাস ফেলেন।

এরপর, সময়ের তারতম্যে কেটে যায় বেশ কিছুদিন।
সিকদার পরিবারের অসুস্থ পরিবেশে অসুস্থতা কখনো মুখ লুকায় তো কখনো তীব্রভাবে প্রকট হয়। দীর্ঘ সাতদিন রূপকথা কলেজে যায়নি।
আজ গিয়েছিল ক্লাস টেস্ট থাকায়। অন্যদিকে বয়সের উত্তেজিত সময়ে থাকা ছেলেটির অদ্ভুত উত্তেজনা হয়ে দাঁড়ায় নিতান্তই পিচ্চি এক মেয়ে! দীর্ঘ এক সপ্তাহের চঞ্চল, অস্থির দৃষ্টি স্থির হয়ে আসে ভীড় ঠেলে কামনীয় মুখটি দৃশ্যমান হতেই। তৃশানের ওষ্ঠকোনা বেঁকে যায় কুঁচকানো মুখটি দেখে।
রূপকথা অলস পায়ে গেটের পথে হাঁটছিল হঠাৎ করেই সামনে কেউ দাঁড়িয়ে গেলে সে হকচকিয়ে গেল। তৃশানাকে দেখে চোয়াল শক্ত করে বলল,
–“কি সমস্যা? এভাবে পথ আটকালেন কেন?”
–“এতদিন আসোনি কেন?”, তৃশান গম্ভীর গলায় শুধালো। রূপকথা খেকিয়ে উবে বলল,
–“তা আপনাকে বলব কেন?”
–“কারণ আমি তোমার প্রিন্সিপালের ছেলে, তাই।”
–“প্রিন্সিপালের ছেলে কিন্তু প্রিন্সিপাল না! আমি আপনাকে কোনো জবাব দিতে বাধ্য নই।”
ভীষণ রুক্ষ কণ্ঠে তৃশানের রাগ হওয়ার কথা থাকলেও হলো তার উল্টোটা। সে অভিভূত হয়ে বলল,
–“আহ্! আই লাইক ইট! যত না হাইট তার থেকে তেজ বেশি! দারুণ মিসম্যাচ হবে। এখন জলদি জলদি ফোন নাম্বার দাও!”

–“মানে?”
তৃশান চোখে এসে খানিক নুইয়ে আসে বেজায় বেটে মেয়েটির পানে। বলে,
–“বাড়ি যাওয়ার ইচ্ছা আছে? থাকলে নাম্বার দাও আর বাড়ি যাও। আর আগামীকাল থেকে যেন কলেজ বন্ধ না যায় তবে কিন্তু পাশ করা মুশকিল করে দেবো।”
রূপকথা দাঁতে দাঁত চেপে বলল,
–“আপনি একটা অভদ্র!”
তৃশান স্মিত হেসে বলল,
–“ফুরসৎ নিয়ে ভদ্রতা শিখিয়ে দিন ফেইরি টেইল। শিক্ষক আপনি হলে আমি সব শিখতে রাজি।”
–“আমার পথ ছাড়ুন!”
–“নাম্বার দাও, পথ ছেড়ে দেবো।”
রূপকথা চোয়াল শক্ত করে তাকায় অভদ্রের মতো হাসতে থাকা ছেলেটির পানে। দাঁতে দাঁত চেপে গতকাল রাতের মুখস্থ করা নাম্বারটি গড়গড় করে বলে দিয়ে বলল,

–“এখন পথ ছাড়ুন।”
–“আগামীকাল যেন নয়টার মধ্যে কলেজে দেখি!”
রূপকথা শুনলো না গটগট করে চলে যায়। রোজকার ন্যায় স্ত্রী সন্তানকে দেখে তপোবন স্মিত হাসলো। তাদের পৌঁছে দিয়ে নিজে ছোটে নিজ গন্তব্যে!
তানশানের মাঝে আজ কেমন অদ্ভুত অস্থিরতা। সেই অস্থিরতা নিয়েই সে দ্রুত ঘরে চলে যায়।
রূপকথা ধীরস্থির বাড়িতে ঢুকতেই এক উৎসব মুখর পরিবেশ দেখে কিছুটা বিভ্রান্ত হয়। যে যার মতো ছোটাছুটি করছে। পুরো বাড়ি পরিষ্কার করছে দু’টো লোক আর একজন মহিলা। এদের সে চেনেনা। নির্জনা বেগম সবাইকে দিক নির্দেশনা দিচ্ছেন কাজের। বসার ঘরে যেতেই শাশুড়ির বাঁকা দৃষ্টির স্বীকার রূপকথা কিছুটা মিইয়ে গেল। সে সালাম দিয়ে দ্রুত উপরে চলে গেল। নির্জনা বেগম পেছন থেকে রূপকথাকে দেখে মাজেদাকে দেখিয়ে বললেন,

–“সিকদার বাড়ির বড় বউ! স্কুল‌ ড্রেস পড়ে নাচতে নাচতে ছেলের সাথে স্কুলে যায়। লজ্জা ও নেই। আমার পরে এই সংসারের কি হবে তা আল্লাহ জানে!”
–“আরে এইখানে ঝুল ঝারছিস না কেন? এখানটায় ঝাড়।”, চিৎকার করতে করতে নির্জনা বেগম আবারো ছুটলো অন্য পাশে। রূপকথা কটুক্তিটুকু শুনলো নীরবে। ঘরের দিকে যেতেই কড়িডরে ব্যাগ হাতে দাঁড়িয়ে থাকা তানশানের সাথে চোখাচোখি হলো।
সে দাঁড়িয়ে গিয়ে শুধায়,
–“কিছু লাগবে তোমার?”
তানশান নীরবে নাকোচ করে আবার ঘরে ঢুকে গেল।
রূপকথা ঘরে গিয়ে মিনিট পাঁচেকের মাঝে পোশাক বদলে শাড়ি পড়ে, গহনা পড়ে। মাথায় কাপড় টেনে ঘর থেকে বের হতেই করিডরে আবার শাশুড়ির দেখা মিলে। মই দিয়ে একজন সিলিং এর ঝুল পরিষ্কার করছে আর সে দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। তাকে দেখতেই নির্জনা বেগম অন্যদিকে দৃষ্টি রেখে, গমগমে স্বরে বললেন,

–“মেজো বউমার কাছে যাও। সাহায্য করো। তার শরীর ভালো না। এত মানুষের রান্না করে সে পেরে উঠছে না। আগে যেই কাজ একা হাতে করত, এখন তার এক ভাগ করতেই সে হাঁপিয়ে যায়। শরীর কি পরিমাণে ভেঙেছে। তবুও নিজের শরীরের পরোয়া না সে। আর অন্যদিকে ঘরের বড় বউ হয়ে তুমি স্কুল করে বেড়াচ্ছো। নিজের ছোট জা’কে দেখে লজ্জা হওয়া উচিৎ তোমার। আমার জীবনের অন্যতম ভুল সিদ্ধান্তের কারণে তুমি আমার সামনে এখন দাঁড়িয়ে আছো।”
এবারেও রূপকথা একটা জবাব ও দিল না। সংসার জীবন হয় কঠিন, শুনে এসেছে। সেই কঠিনের অন্যতম আরেক কারণ বোধহয় এটাই। দ্রুতপায়ে রান্নাঘরে ঢুকতেই ঘেমে জবুথবু মৌনতাকে দেখে ফোঁস করে নিঃশ্বাস ফেললো। বিশালাকৃতির এক কড়াইয়ে মাংস নাড়ছে সে। পাশেই জবা দাঁড়িয়ে। সে এগিয়ে যেতেই জবা শুধায়,
–“বড় ভাবিজান আইছেন? ভালো হইছে এহন একটু মাইজ্জা ভাবিজানের উপর থিকা চাপ কমবে।”
–“আপা, এটা আপনি করতে পারতেন।”, মৌনতার হাত থেকে খুন্তিটা নিতে নিতে বলে রূপকথা।
–“সে দেবে নাকি! এ তো আফনে দেইখা কিছু কয় নাই। আমি অনেকবার কইছি কিন্তু দেয় নাই।”, জবা বিকৃত কণ্ঠে বলল। মৌনতা শাড়ির আঁচলে ঘাম মুছতে মুছতে গিয়ে চেয়ার এনে বসে। ঘন ঘন নিঃশ্বাস ফেলে বলে,

–“এইসব বাদ দাও তোমরা। আমার অসুস্থতা লেগেই থাকবে। তাই বলে কাজ না করে বিছানায় শুয়ে থাকা, মানে অসুস্থতাকে প্রশ্রয় দেয়া। আরো তিন রকমের রান্না বাকি আছে। সেটা করতে হবে। রূপকথা বনু, একটু সাহায্য করো। পাতারি মাছ, হাসের মাংস আর ডিম টা তুমি বসিয়ে দাও। আমি আর পারছি না। পা ফেটে যাচ্ছে ব্যথায়।”
রূপকথা মলিন মুখে মাথা নাড়লো মৌনতার ব্যথাতুর মুখশ্রী দেখে। পাশেই টেবিল ভরতি ভিন্ন ভিন্ন রকমের খাবার সাজিয়ে রাখা। এতো গুলো খাবার একা রান্না করেছে। মৌনতার প্রতি শাশুড়ির দুশ্চিন্তা দেখে তার হাসি পায়। এই রান্না গুলো যদি জবা আপা আর মাজেদা চাচি করত, তবে তুলকালাম বাঁধিয়ে দেবে তাতে খাবার যতো সুস্বাদু-ই হোক না কেন! আর তারা যদি বাজেভাবে ও রান্না করে তবে সেটা নীরবে খেয়ে নেবে।
তপ্তশ্বাস ফেলে মৌনতাকে বলল,
–“আপনি ঘরে চলে যান ভাবি। গোসল করে বিশ্রাম নিন। বাকিটা আমি সামলে নেবো।”
মৌনতা দ্বিরুক্তি করে না। শরীর থেকে পেরে উঠছে না সে। রূপকথা রান্না করলে শাশুড়ি টু শব্দটি করবে না। সে উঠতে উঠতে বলে,
–“জবা বলে বলে দেবে তোমায় কি কি কতটুকু পরিমাণে দিতে হবে, ঠিক আছে?”
রূপকথা মাথা নেড়ে শুধায়,
–“আজকে কি কোনো উৎসব ভাবি? না মানে এত আয়োজন?”
মৌনতা হাসিমুখে মাথা নেড়ে বলল,

–“হ্যাঁ, উৎসব ই তো! আগামীকাল তানশানের জন্মদিন। এইদিন এই বাড়ির জন্য ঈদের দিনের সমান। আজ বিকাল থেকে অতিথিরা আসবে। তাদের অতিথি বলা যায় না, তারা আমাদের নিজস্ব মানুষ। আর আগামীকাল বিশাল মিলাদের আয়োজন হবে। সেখানে এতিম সহ অনেক হুজুর এবং পথশিশুরা খাওয়া দাওয়া করবে। আর আমাদের আত্মীয় স্বজনরাও আসবে। সেখানে আমাদের কোনো কাজ নেই। সব বাবুর্চিরা করবে।”
রূপকথা মৃদু আশ্চর্য হয় তানশানের জন্মদিনের কথা শুনে। এত বিশেষ একটা দিন, কই তাকে তো আগে থেকে কেউ কিছু বলল না। অথচ কত আয়োজন করা হচ্ছে। গতকাল রাতেও তো বাবা ছেলের সাথে বসে পড়াশুনা করেছিল, একবার বলতে তো পারতো! মলিনতারা আঁছড়ে পড়ে তার মাঝে।
‘সে তানশানের দূরের কেউ নয়, একদিন একটা সুসম্পর্ক হবে তাদের মাঝে।’

অপরাহ্নে উপসংহার পর্ব ২৫

এতদিন এমনটা ভাবলেও আজ যেন স্পষ্ট— সে কাছের মানুষ তো নয় বরং সৎ মা। তাকে কেউ পছন্দ করে না এই বাড়ির মানুষেরা। সে ঘৃণ্য একজন মানুষ। তাই তো তাকে একটাবার কেউ জানালো না এই উৎসব মুখর আয়োজনের কারণ। ছোট্ট মনটিতে গভীর আঘাত হানে‌। স্বল্প সময়ের মাঝেই অন্তরালে বহু নেতিবাচক প্রভাব পড়ে রূপকথার। নিজেকে গুটিয়ে নেয়ার মনোভাব তৈরি হয়ে গিয়েছে ইতিমধ্যেই।

অপরাহ্নে উপসংহার পর্ব ২৬