অপরাহ্নে উপসংহার পর্ব ৬০ (২)
তোনিমা খান
এরোজ ঘুমু ঘুমু চোখে ল্যাপটপের স্ক্রিনের দিকে তাকালো। স্ক্রিনে ভেসে থাকা ফ্যামিলি ফটো দেখে ঘুম উবে গেল। সে চকিতে চোখ মেলে তাকালো ছবিটির দিকে। একটা বিয়ের ছবি। যেখানে বর ও কনে পক্ষের দুই পরিবার হাস্যোজ্জ্বল মুখে দাঁড়িয়ে আছে। কনে পক্ষের জায়গায় সুপ্তি, সৃজা, ইমরোজ আর তার শ্বাশুড়িকে দেখে এরোজের দৃষ্টি সরু হয়ে আসে।
ভিডিওকলে থাকা সানাফ ভ্রুকুটি করে বলল,
– কী হলো? ছবি দেখে অমন সিরিয়াস হয়ে গেল কেন তোর মুখ?
এরোজ উৎকণ্ঠা নিয়ে বলল,
– ওই মেয়েটা তোর ছোট ভাইয়ের বউ?
– হু কেন?
– তোর ভাই মরেছে।
বলেই এরোজ আবার বালিশে মাথা রাখল। সানাফের মুখশ্রী গম্ভীর হয়ে গেল।
– এই কথা কেন বললি? ওরা অনেক বড় লোক ফ্যামিলি থেকে বিলং করে।
– তুই আগে এটা বল, বড় ভাইয়ের আগে তোর ভাই বিয়ে করল কেন?
সানাফ খানিক ইতস্তত বোধ করল। তবুও বন্ধুর কাছে কিছু লুকাতে পারল না। সেও কানাডার টরন্টোতে থাকে। সৌভাগ্যবশত এরোজ আর সে একই ফ্লাইটে কানাডায় এসেছিল। আর সেখান থেকেই পরিচয় এবং বন্ধুত্ব শুরু হয়ে আজ তা গভীর বন্ধুত্বে রূপ নিয়েছে। খুব ভালো সম্পর্ক তাদের। ভাইয়ের বিয়ের জন্য চার মাসের ছুটি নিয়ে দীর্ঘ দুই বছর পর দেশে গিয়েছে।
সে বলল,
– একটু ঝামেলা হয়ে গিয়েছিল। ওরা দুজন সম্পর্কে ছিল। সম্পর্ক একটু বেশিই ঘনিষ্ঠ হয়ে যায় পরে মেয়েটা ওকে চাপ দেয় বিয়ের জন্য। আর তুই তো জানিস সানি এই মাসে জার্মানে চলে যাবে। তাই তাড়াহুড়ো করেই বিয়েটা দেয়া। বউ নিয়ে চলে যাবে। ওরা ভালো থাকলেই হলো। আমি তো এখনো বিয়ের চিন্তা করিনি। আমি এভাবেই ভালো আছি।
এরোজ গা দুলিয়ে হেসে উঠল তার কথায়। যেন এমনি কোনো জবাবের আশায় ছিল। সে হাসতে হাসতে বলল,
– তোর ভাই আর আমার ভাই দুই বলদ-ই মরেছে।
– দেখ হেয়ালি করিস না। খুলে বল কী সমস্যা এই মেয়ের মধ্যে?
এরোজ বলল,
– তোর ভাইয়ের বউয়ের বড় বোনের স্বামীকে চিনিস?
– হ্যাঁ চিনিতো। ইমরোজ সিকদার, খুব ভালো একজন মানুষ। সেও বংশীয় পরিবারের ছেলে।
– ওটা আরেক মাদারবোর্ড! আমার মেজো ভাই।
সানাফ হকচকালো।
– তোর মেজো ভাই মানে? তুই ও তো সিকদার। তারমানে তোরা এক পরিবারের? এটা আমার মাথায় আসল না কেন?
এরোজ থমথমে মুখে বলল,
– এই মেয়ের পুরো ফ্যামিলি প্রস্টিটিউট। বাবা মারা যাওয়ার পর মা আর দুই বোন মিলে এগুলো করেই লাক্সারি লাইফ লিড করে আসছে। ওরা ঢাকাতে ছিল। বছর তিনেক হয়েছে খুলনায় এসেছে। ওদের কাজই বড়লোক কাউকে ফাঁসিয়ে টাকা হাতানো এরপর ছেড়ে দেয়া। এতে যদি মানুষটা বিবাহিত হয় কিংবা এক বাচ্চা বাবাও হয় তাতেও ওদের বিন্দুমাত্র ভ্রুক্ষেপ নেই। বহু সংসার ভেঙেছে এভাবে করেই। লাস্ট আমার মেজো ভাইয়ের ছয় বছরের সংসার ভেঙেছে। ওর চার বছরের একটা মেয়ে রয়েছে।
সানাফ হতভম্ব হয়ে গেল। কথা বলার জো হারিয়ে ফেলল এহেন কথায়। তারা সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান। এমনকিছু তাদের জন্য ভীষণ অপ্রীতিকর। সেখানে এমন একটা মেয়ে তাদের পরিবারের অংশ হয়ে গিয়েছে। যদিও এতে তার ভাইয়ের শতভাগ দোষ রয়েছে।
সে উৎকণ্ঠা নিয়ে বলল,
– এসব তুই কী বলছিস এরোজ? ওরা এই ধরণের মেয়ে?
– তোরা খোঁজ নিসনি?
– খোঁজ নেয়ার সিচুয়েশন ছিল? সুপ্তি প্রেগন্যান্ট। আমরা খোঁজ নেয়ার সিচুয়েশনে ছিলাম না।
সানাফ কাঁচুমাচু করে বলল। এরোজ তাচ্ছিল্য হেসে বলল,
– লজ্জা পাস না। আমি শতভাগ নিশ্চিত এতে তোর ভাইয়ের থেকে সুপ্তির ই বেশি দোষ। ওরাই ছেলেদের কাছে নিজেদের বিকিয়ে দিয়ে পরে সেটার সুযোগ নেয়। ওর বোন ও একই কাজ করেছে।
– এখন কী হবে?
– যা হ ওয়ার হয়ে গিয়েছে। তোর ভাইকে বলবি, ওই মেয়েকে কোনোভাবে যেন ওর পরিবারের সাথে যোগাযোগ করতে না দেয়। ওর পরিবারের সংস্পর্শে থাকলে তোর ভাইয়ের সংসার ও ভাঙবে। আর বলবি কড়া নিষেধাজ্ঞার মধ্যে রাখতে। বাচ্চা কাচ্চা হলে ঠিক হয়েও যেতে পারে।
সানাফ মাথা হেঁট করে চিন্তিত চিত্তে বসে রইল। এরোজ তাকালো ছেলেটির নত মস্তক পানে। তীক্ষ্ণ দৃষ্টি ফেলে বলল,
– একটা কাজ করতে পারবি?
সানাফ মাথা তুলে তাকায়।
– কী?
– তুই কানাডায় আসবি কবে?
– আরো তিনমাস দেরি হবে। আব্বু অসুস্থ, সানি থাকবে না। আম্মি একা হিমশিম খাবে।
– গ্রেট! তবে আমায় একটা সাহায্য কর।
– কী?
– ওরা যেন আর কারোর পরিবার ভাঙতে না পারে তার ব্যবস্থা করতে হবে।
সানাফ ভ্রুকুটি করে বলল,
– কী করতে চাস তুই?
এরোজ ভাবুক হলো। চোখেমুখে ফুটে উঠল গভীর চিন্তা আর চাপা আক্রোশ।
আক্ষরিক অর্থে সম্পদ বা লক্ষ্মী এক জায়গায় স্থির থাকে না। অর্থ সঞ্চয় করা কঠিন এবং তা হাত থেকে বেরিয়ে যাওয়ার প্রবণতাও প্রবল।
গোনা টাকা দ্রুত ফুরিয়ে যায়। ইমরোজ এখন সেই কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি। বর্তমানে ইমরোজের কোনো আয়ের উৎস নেই কিন্তু ব্যয়ের উৎসের অভাব নেই। স্বভাবসুলভ আভিজাত্যের মাঝে বড় হওয়ায় স্বপ্ন বড়, চাহিদা বড়, খরচের হাত বড়। বিলাসবহুল বাড়ি, গাড়ি, স্ত্রীর বিলাসী জীবনের স্বপ্ন পূরণ, স্ত্রীর বোনের বিলাসবহুল বিয়ের খরচ করে ইমরোজ তখন অর্থের সংকট অনুভব করতে শুরু করল। জমা টাকা সব প্রায় শেষ।
তার ওপর নতুন ব্যবসায় বিনিয়োগ করা বড় অংকের পুঁজিটা লসে গিয়ে বড় রকমের একটা ধাক্কা খেলো সে। সিকদার কোম্পানি তকদির সিকদার আর তপোবনের হাড়ভাঙা খাটুনির ফসল। ইমরোজ যখন যোগ দেয়, ততদিনে সেটি সাফল্যের শিখরে। একটা সফল প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পেছনে কতটা ত্যাগ, আপস এন্ড ডাউন থাকে, তার বিন্দুমাত্র ধারণা নেই ইমরোজের।
বাইরে তখন সূর্য যেন আগুনের গোলা হয়ে ঝরছে। অসহ্য এই দাবদাহে রান্নাঘরে ঢুকে নিজের গায়ের চামড়া ঝলসানোর কোনো শখ বা প্রয়োজন সৃজার নেই। এমনিতেই ইদানিং স্কিনে ইরেটেশন বাড়ছে।
ললাটে বিরক্তির ভাঁজ নিয়ে রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে এল সৃজা। দেখল, ইমরোজ বের হওয়ার জন্য তৈরি হয়ে নিচে নামছে। সে বলল,
– বাইরে বেরোচ্ছো? আমায় পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে যাও।
ইমরোজ ভ্রু কুঁচকে তাকাল। ইদানিং একশ টাকাও অনেক টাকা মনে হয়। সে বলল,
– পাঁচ হাজার টাকা? এখন কী করবে ওটা দিয়ে?
– খাবার অর্ডার করব।
– খাবার অর্ডার করার জন্য পাঁচ হাজার টাকা লাগবে তোমার? পাঁচ হাজার টাকার বাজার করলে পাঁচ দিন খাওয়া যাবে।
সহসা সৃজার ভেতরটা রাগে টগবগ করে ফুটতে লাগল। দাঁতে দাঁত চেপে সে বলল,
– তুমি কি ইদানীং আমায় একটু বেশিই হিসাব দেখাচ্ছ না, ইমরোজ? পাঁচ হাজার টাকা আমি একদিনের জন্য চাইনি। আজ আর কালকের জন্য চেয়েছি। এখনকার দিনে তিনবেলা বাইরের খাবার অর্ডার করতে গেলে পাঁচ হাজার টাকা নিমিষেই শেষ হয়ে যায়।
ইমরোজ গম্ভীর গলায় পাল্টা জবাব দিল,
– বিশ লক্ষ টাকা খরচ করে কদিন আগে তোমার বোনের বিয়ে দিয়েছি। নতুন বিজনেস দাঁড় করাচ্ছি কিন্তু শুরুতেই পঁচিশ লক্ষ টাকার লস। এরপরও বলছ আমি বেশি হিসাব করছি?
– এখন খোঁটা দিচ্ছ? বিয়ের আগে সুপ্তিকে তুমিই তো বলেছিলে, ওর বিয়ের সব খরচ তুমি বহন করবে। ওর ভাই নেই, তাই তুমি ওর একমাত্র ভাই হয়ে ওকে রানীর মতো শ্বশুরবাড়ি পাঠাবে।
– আমি আমার কথা রেখেছি।
– তাহলে এখন আমাকে কথা শোনাচ্ছ কেন? তোমার ব্যবসায় লসের মাশুল কি আমাকে দিতে হবে?
– আমি তোমাকে দোষারোপ করছি না। কিন্তু স্বামীর দুর্দিন চলছে, তুমি সেই হিসাব করে একটু চলবে না?
– হিসাব করে আমি কোনোদিন চলিনি ইমরোজ। বয়স হয়েছে পর থেকে লাক্সারি জীবন কাটিয়ে এসেছি। তুমিও বিয়ের আগে আমায় সেই স্বপ্নই দেখিয়েছ। এখন বিয়ে করে তোমার ঘরে বসে আমি না খেয়ে থেকে হিসাব করব?
– বাসায় খাবারের অভাব নেই সৃজা। তুমি যা ইচ্ছা বানিয়ে খেতে পারো। বাহির থেকে অর্ডার করতে হবে কেন?
– আগামী দু’দিন কাজের বুয়া আসবে না। এই গরমে যদি আমি রান্না করি আমার স্কিনের অবস্থা কী হবে ভেবে দেখেছ?
ইমরোজ আশ্চর্য হয়ে গেল। অবাক হয়ে বলল,
– গ্যাস, ওভেন সব আছে তাতে তোমার স্কিন নষ্ট হয়ে যাবে? আর আমি যে এত টাকা লস খেয়ে বসে আছি তাতে তোমার কিছু যায় আসছে না?
সৃজা রাগান্বিত স্বরে বলল,
– প্রথমত আমি রান্নাবান্না ঘরের কাজ কখনো করিনি। কিন্তু তোমার কারণে তাও করছি ইমরোজ। এখন আবার তুমি টাকা পয়সা নিয়ে আমার সাথে কড়ায়গণ্ডায় হিসাব করছো?
– আমি এইসব কার জন্য করছি সৃজা? তোমার জন্যই তো।
– আমার জন্য? হাসালে ইমরোজ। গাড়ি কিনে দিয়েছ তা তোমার ভাই ভেঙেচুরে চুরমার করে দিল, বাড়ি কিনেছ তাও নিজের নামে, তোমার যত সম্পত্তি তাও সব তোমার নামেই। এখানে আমি কোথায় বলোতো?
ইমরোজ বিষন্ন স্বরে বলল,
– যেখানে আমি গোটা মানুষটাই তোমার সেখানে আমার প্রপার্টি মানেই তো তোমার সৃজা। এখানে আমার নামে, তোমার নামে আসছে কোত্থেকে? এতদিন যেমন প্রচন্ড দুঃসময়েও তুমি আমার পাশে ছিলে তেমনি সারাজীবন আমি তোমায় আমার পাশে চাই। এখন আমার একটু সমস্যা চলছে তা তুমি বুঝবে না?
সৃজা জবাব দিল না। ঠোঁটে ঠোঁট চেপে দাঁড়িয়ে রইল।
ইমরোজ ব্লেজার পরতে পরতে কদম বাড়ায়। যেতে যেতে বলল,
– যতদিন না বিজনেস সফল ভাবে দাঁড় করাতে পারছি ততদিন একটু হিসাব করে বুঝেশুনে চলো। অতিরিক্ত শপিং, বাইরে খাওয়া, আড্ডা দেয়া বন্ধ করো। যখন সফল হবো তখন দু’জনে মিলে সফলতা উপভোগ করব।
বলেই ইমরোজ গটগট করে বেরিয়ে যায় বাসা থেকে। ইমরোজ যেতেই সৃজা রেগেমেগে সোফার কুশন ছুঁড়ে মারল মেঝেতে।
– ও টেনেহিঁচড়ে যতদিনে সফল হবে ততদিনে আমার জীবন অর্ধেক ফুরিয়ে যাবে। সুপ্তি ঠিক বলত, ইমরোজ একটা চতুর, ধুরন্ধর! ওর প্ররোচনায় আমায় বিয়ের মতো বেড়িবাঁধে ঢুকতেই হতো না। এখন না-কি আমায় না খেয়ে ওর সংসার করতে হবে! বয়েই গিয়েছে! তোর হিসাব তুই কর। আমি সৃজা এসব মোটেই সহ্য করব না। আমি আজীবন লাক্সারি ভাবে চলে আসছি নিজের শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত চলব।
সৃজা সিঁড়ি দিয়ে ওপরে উঠতে গিয়ছ দেখল, ইমরোজ আবার ভেতরে ঢুকেছে। তাকে দেখেই উৎসুক গলায় জিজ্ঞেস করল,
– গতকাল তো ডাক্তারের রিপোর্ট দেওয়ার কথা ছিল। কী বললেন ডাক্তার? কিছু তো বললে না?
সৃজা সতর্ক হলো। মুখটা মুহূর্তেই থমথমে করে বলল,
– রিপোর্ট নেগেটিভ। ডাক্তার বলেছেন, তোমার সমস্যার কারণেই আমি কনসিভ করতে পারছি না। আপাতত কোনো সম্ভাবনা নেই। তোমাকে আগে পুরোপুরি সুস্থ হতে হবে।
ইমরোজের কণ্ঠে হতাশা ঝরে পড়ল,
– দুই মাস ধরে চেষ্টা করছি আমরা। ডাক্তার তো বলেছিল এই সমস্যা খুব একটা বাঁধা হবে না।
সৃজা তাচ্ছিল্যের হাসি হাসল,
– ডাক্তাররা তো সান্ত্বনা দিয়েই যায়। কিন্তু মাত্র তিন পার্সেন্ট সম্ভাবনা নিয়ে তুমি যেভাবে উদগ্রীব হয়ে আছ, যেন তুমি একদম সুস্থ মানুষ! ডাক্তার বলেছিল আমাদের অনেক লম্বা সময়ের প্রয়োজন হবে।
ইমরোজের মুখটা অপমানে বিবর্ণ হয়ে গেল। থমথমে গলায় বলল,
– ডাক্তার বলেছে সময় লাগবে, হবে না তো বলেনি। আমরা চেষ্টা করব। ওপরওয়ালা সহায় হলে ঠিকই আমাদের কোল ভরে দেবেন। আর ততদিনে নায়েল ও আমাদের কাছে চলে আসবে।
নিজেকে নিজেই স্বান্তনা দিয়ে ইমরোজ আবার বেরিয়ে গেল। সে দৃষ্টির আড়াল হতেই সৃজা দাঁত খিচে বলল,
– আমাকেই ঠিক করে রাখতে পারে না সে আবার বাচ্চা বাচ্চা করে! মা** ওর ঘরে না খেয়ে থেকে আমি বাচ্চা কাচ্চা পালব! আমায় ওই মৌনতার মতো বলদ পেয়েছে!
এক ঘন্টা বাদ সৃজা সেজেগুজে বেরিয়ে গেল ঘর থেকে। মুখে প্রগাঢ় হাসি, হাতে ইমরোজের কার্ড। এসব হিসাব নিকাশ তার দ্বারা হবে না। সে পছন্দসই কিছু শপিং করে একটা রেস্তোরাঁয় গেল খেতে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত রেস্তোরাঁয় বসতেই ঘেমে ওঠা বদন খানিক স্বস্তি পেল। সে খাবার অর্ডার করে ফোন বের করে ফোনে মনোযোগ দিল।
সে যখন ফোনে ডুবে ছিল তখনি আন্দোলিত হলো কারোর উৎসুক কণ্ঠ।
– আরে সৃজা যে!
সৃজা চকিতে মুখ তুললে সরব মুখে হাসি ফুটে উঠল সানাফকে দেখে। তৎক্ষণাৎ উঠে দাঁড়ায় সে। ভীষণ নম্রতা আর শ্রদ্ধার সাথে বলল,
– সানাফ আপনি এখানে? কেমন আছেন?
সানাফ হাস্যোজ্জ্বল মুখে সৃজার সামনের চেয়ারে বসতে বসতে বলল,
– আপনার সাথে বসলাম কিন্তু।
সৃজি ব্যতিব্যস্ত হয়ে বলল,
– জি জি অবশ্যই বসুন। আপনি এই ভরদুপুরে এখানে কী করছেন?
সানাফ হেসে রসিকতার সুরে বলল,
– আমারই তো এখানে থাকার কথা। আমার বউ নেই, আদর করে দুপুরের খাবার রান্না করে খাওয়ানোর মতো কেউ নেই। তাই তো এখানে আসলাম খেতে।
– বিয়ে করে নিলেই পারেন। আপনার ছোট ভাই তো বাবা হয়ে যাচ্ছে।
সৃজার হাস্যোজ্জ্বল কণ্ঠে সানাফ বিমর্ষ মুখে বলল,
– বিয়ে করব কী করে, চোখে তো আপনার মতো সুন্দরী, স্মার্ট, কর্মক্ষম মেয়ে বাঁধছে না। আপনার মতো কাউকে খুঁজে পেলে এখনি বিয়ে করে নিতাম। এদিক ওদিক তাকাতাম না।
– কিন্তু দূর্ভাগ্যবশত আমি বিবাহিত।
বলেই সৃজা হেসে উঠল। সানাফ কাঁধ ঝাঁকিয়ে বলল,
– ভাগ্যে থাকলে তিন বিয়ের পর ও কাঙ্খিত মানুষটিকে পাওয়া যায়।
সৃজা সরব কপাল কুঁচকে নিলো।
– মানে?
সানাফ আলতো ঝুঁকে গেল। সৃজা ভড়কে যায় তাকে ঝুঁকতে দেখে। সানাফ চোখে চোখ রেখে বলল,
– বলেছি, আপনি যদি আমার ভাগ্যে থাকেন তবে তিনটা বিয়ের পরে হলেও আপনি আমার হবেন। বুঝলেন?
সৃজা অপ্রস্তুত বলল,
– অসম্ভব!
– কেন অসম্ভব? আমি কী দেখতে খারাপ?
সানাফ মলিন মুখে বলল। একজন সুদর্শন সুপুরুষকে দেখতে দেখতেই সৃজা থমথমে মুখে বলল,
– আপনি কী ভুলে যাচ্ছেন নাকি আমি বিবাহিত? এসব কথা বলছেন কেন?
সানাফ হেসে বলল,
– মজা করছিলাম। ছোট ভাইয়ের স্ত্রীর বোনের সাথে একটু মজা তো করাই যায় তাই না? তো বলুন, আপনি এখানে কী করছেন?
– খেতে এসেছি।
-কেন বাসায় রান্না করেননি?
সৃজা সৌজন্য হেসে বলল,
– আসলে আমি রান্না করতে পারি না।
– কিন্তু আপনার হাজব্যান্ড তো সেদিন বলল সে ঘরের খাবার ছাড়া কিছু খেতে পারে না। তবে সে কী খাবে?
সৃজা জবাব দিতে পারল না। কাঁচুমাচু করল। সানাফ তার অস্বস্তি বুঝতে পেরে বলল,
– আরে আমার কথা খারাপ ভাবে নেবেন না। মানুষ কিছু পারতে নাই পারে এটা কোনো ব্যপার না। আমাদের উচিৎ সবার যোগ্যতাকে সম্মান করা। কিন্তু আমার মনে হচ্ছে আপনি এটা নিয়ে অনেক চাপের মধ্যে থাকেন।
সৃজা অবাক হলো।
– আপনি বুঝলেন কী করে?
সানাফ হেসে বলল,
– আপনার মুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছে। আর আমাদের দেশের পুরুষরা একটু ডমিনেটিং হয়। এই যেমন বউয়ের হাতের রান্না খাওয়া, শাড়ি পরা, ঘরের কাজে পটু থাকা, বাইরের কাজে পটু থাকা, বাচ্চা লালন পালন করতে পটু থাকা…এসব তাদের চাহিদার মধ্যে সবার উর্ধ্বে থাকে।
সৃজা খানিক মুগ্ধ হলো।
– আপনি খুব ভালো করে মানুষকে বুঝতে পারেন। আপনি একদম ঠিক বলেছেন। তো আপনিও কী এমন?
সানাফ কাঁধ ঝাঁকালো। ঠোঁট উল্টে বলল,
– আমি নিজেও শৌখিন মানুষ, আমার জীবনসঙ্গী ও হবে শৌখিন মানুষ। বিয়ে করলে বউ নিয়ে কানাডায় যাব, চাকরি করব। আর কাজ শেষে দু’জনে রেস্তোরাঁয় গিয়ে খেয়ে আসব। লাইফ সুন্দর, ঝঞ্ঝাটহীন। বউ হয় আদুরে, তাদের পুতুলের মতো সাজিয়ে রাখতে হয়।
সৃজা মৃদু হেসে বলল,
– আপনি খুব সুন্দর মনের মানুষ।
– থ্যাংক ইউ।
পরপরই সৃজা আক্ষেপের সুরে বলল,
– সব পুরুষ যদি আপনার মতো হতো তবে অনেক ভালো হতো। অন্তত আমাদের চাপের মুখে থাকতে হতো না।
– সব পুরুষ তো আমার মতো হবে না কিন্তু আপনি আমার মতো পুরুষকে বেছে নিতে পারেন।
সানাফের কথায় সৃজা এবারেও কপাল কুঁচকে নিলো। সানাফ হো হো করে হেসে উঠে বলল,
– আরে চিল, মজা করছিলাম। বলুন আপনি কী খাবেন?
– আমি অর্ডার করেছি। আপনি কী খাবেন তাই বলুন।
– আপনি যা খাবেন আমিও তাই খাবো। এত সুন্দর মানুষের টেস্ট নিশ্চয়ই সুন্দর।
সে হাঁক ছেড়ে ওয়েটারকে সেটাই দিতে বলল যেটা সৃজা অর্ডার করেছে। সৃজা বলল,
– আপনি পাগল নাকি!
সানাফ দুঃখভরা চাহনিতে বলল,
– আফসোস আপনার জন্য আমি পাগলামি করতে পারতাম। কিন্তু তার আগেই ইমরোজ ভাই ছক্কা মেরে দিয়েছে।
– ফ্লার্টিং করছেন? এসব কিন্তু আমার সাথে চলবে না। আমি আপনার থেকেও এগুলোতে এগিয়ে।
সৃজা বাঁকা হেসে বলল। সানাফ চোখ টিপে বলল,
– ফ্লার্টিং করে যদি এত সুন্দর মানুষকে পাওয়া যায় তবে দোষ কী?
– কোনোদিন পাবেন না। খাবার এসেছে খেতে শুরু করুন।
সৃজা খাবার সানাফের প্লেটে এগিয়ে দিতে দিতে বলল।
সানাফ বুকে হাত দিয়ে বলল,
– আহ্, মনটাই ভেঙে দিলেন। এবার ও আমায় বুঝি বউ ছাড়া কানডায় যেতে হবে।
সৃজা হেসে সানাফের প্লেটে খাবার বেড়ে দিল।
তারা বেশ আড্ডা দিল খেতে খেতে। সেই এক পর্যায়ে খেতে খেতে সৃজা বলল,
– আসলে ইমরোজ রোজ রোজ ঝামেলা করে রান্নাকরা, ঘরের কাজ করা নিয়ে। এদিকে আমি শৌখিন মানুষ। এগুলো আমি একদমই পারি না। কদিন যাবৎ আমার স্কিনেও ব়্যাশেস উঠছে এই রান্নাঘরে ঢোকার কারণে।
সানাফ ব্যথিত নয়নে চেয়ে বলল,
– এটা তো অত্যন্ত দুঃখজনক ব্যপার। সে দেখে বিয়ে করেনি? এটা নিয়ে জোরজবরদস্তি করার কী মানে? আশ্চর্য! আমি হলে এমন বউকে পুতুলের মতো সাজিয়ে রাখতাম।
সৃজা মলিন মুখে তাকালো সানাফের দিকে। ম্লান হেসে বলল,
– আপনার স্ত্রী অনেক ভাগ্যবতী হবে।
সানাফ খেতে খেতে বলল,
– আপনি কিন্তু চাইলেই সেই ভাগ্যবতী হতে পারেন।
সৃজা আবার কপাল কুঁচকে নিলো। সানাফ এবারেও হো হো করে হেসে বলল,
– মজা করছিলাম।
সৃজা ডানে বামে মাথা নেড়ে খেতে মনোযোগ হলো। খাওয়া শেষে সানাফ দু’জনের ই বিল পরিশোধ করল এবং সৃজাকে অবাক করে দিয়ে তার রাতের খাবার ও প্যাক করে দিতে বলল।
সৃজা বলল,
– এই একদম না।
সানাফ তার হাতের উপর হাত রাখল। সৃজা হকচকালো। সানাফ মিহি স্বরে বলল,
– ইমরোজ ভাই রাতেও ঝামেলা করবে তার থেকে এগুলো নিয়ে যান। আপনিও ভালো থাকলেন সেও ভালো থাকলেন। না করবেন নাহ আমি একদম ভালোবেসে দিয়েছি।
সানাফ জোরপূর্বক তাকে খাবার দিয়ে দিল। সৃজা কিছুটা অবাক হলো আবার মুগ্ধ ও হলো সানাফের ব্যক্তিত্বে।
মধ্যাহ্নে ক্লান্ত শরীরে ঘরে ফিরে ইমরোজ মলিন মুখে পুরো ঘরময় চোখ বুলালো। শূন্য ঘর, শূন্য ডাইনিং টেবিল—কেউ নেই। সে রান্নাঘরে গিয়ে কড়াই এর ঢাকনা উল্টালো। সব খালি, কোনো খাবার নেই পুরো ঘর জুড়ে—অথচ ক্ষুধায় তার পেটে শব্দ করছে।
ক্লান্ত শরীরে ইমরোজের ভেতরটা ভীষণ ভেঙে এলো। ঘরের স্ত্রী যদি তার খিদের জ্বালাটুকুও না বোঝে তখন ঠিক কেমন বেদনাদায়ক অনুভূতি হয় সেটুকু বোঝাতে পারছে না। সে এক গ্লাস পানি খেয়ে একটা কলা খেল। তন্মধ্যেই দেখল সৃজা এসেছে।
সোফায় বসা ইমরোজ তমসাবৃত মুখে জিজ্ঞাসা করল,
– কোথায় গিয়েছিলে?
সৃজা ডাইনিং টেবিলে খাবারের প্যাকেট রেখে উপরে যেতে যেতে বলল,
– রেস্টুরেন্টে খেতে গিয়েছিলাম। ওখানে তোমার জন্য খাবার আছে খেয়ে নিও। আমি ক্লান্ত, ফ্রেশ হয়ে ঘুমাব।
সৃজা উপরে চলে গেল। ইমরোজ এক দৃষ্টিতে সেদিকে চেয়ে রইল। সৃজার পড়নে হাঁটু সমান ফ্রক কোনো ওড়না নেই। স্লিভস ও অল্প একটু। এসব পরে বাইরে ঘুরতে যাওয়া আগে খুব পছন্দের মনে হলেও বিয়ের পর থেকে এগুলো সে একদম মানতে পারে না। তার স্ত্রী অন্যকে এমন শরীর দেখিয়ে বেড়াবে কেন? কিন্তু কখনোই কিছু জোড় গলায় বলতে পারে না।
সে ডাইনিং টেবিলের কাছে গেল। খিদের প্রকোপ বেশি হওয়ায় খাবারটা গরম করে খেয়ে নিলো। খেতে খেতে একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসল শুধু।
ইমরোজ এবং মৌনতার বিচ্ছেদের আজ প্রায় চারমাস। এতগুলো মাস পর মৌনতার জীবনে আবার ও দুঃখ হয়ে আবর্তন হলো ইমরোজ নামক পুরুষটি।
কানে ঠেকিয়ে রাখা ফোনটি আর হাতটি ঈষৎ কেঁপে উঠল। মৌনতা ক্ষীণ স্বরে বলল,
– ফোন দিয়েছেন কেন?
অপরপ্রান্ত থেকে ভেসে আসল ইমরোজের রুক্ষ কণ্ঠ।
– নায়েলের সাথে কথা বলব। নায়েলকে ফোন দাও।
অধিকারবোধ আর তুমি সম্বোধন এতটুকু ওই মুখে মোটেই সহ্য করতে পারল না মৌনতা।
– তুমি বলার অধিকার আর আদেশ করার অধিকার একটাও অপনার নেই মিঃ ইমরোজ। সংযত ভাষায় কথা বলুন। আমার মেয়ে আর আমি দীর্ঘ একটা দুঃখের অধ্যায় পার করে এসেছি। যা দুঃখ পেয়েছি তা থেকেই রেহাই পাব কি-না কে জানে! তাই এখন আর নতুন করে একটুও দুঃখের ছায়া পড়তে দেব না ওর উপর। আমার মেয়েটা তার বাবা নামক নিকৃষ্ট মানুষটাকে ভুলে হাসতে শিখেছে, খেলতে শিখেছে, মানিয়ে নিতে শিখেছে। ওর উপর আর কখনো আপনার ছায়াও পড়তে দেব না এতটুকু মাথায় ঢুকিয়ে নিন।
সহসা অপরপ্রান্তের শান্ত বদন রাগে ফেটে পড়ল। ইমরোজ ফুঁসে উঠে বলল,
– তোমার হুমকি তোমার কাছে রাখো। অধিকার মাই ফুট! ও আমার মেয়ে। আকাশ থেকে পড়েনি। তোমরা যা ইচ্ছা করবে আর আমি বাবা হয়ে কিচ্ছু করতে পারব না এটা ভেবে থাকলে তুমি ভুল। ওকে যদি আমি চিরতরে নিজের কাছে না আনছি তবে আমার নাম ইমরোজ না।
বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা মৌনতা অদূরে ল্যাভেন্ডার ফুলগুলোর দিকে এক দৃষ্টিতে চেয়ে রইল। বলল,
– আপনি কী করে ওকে নিজের কাছে নিতে পারেন আমি দেখব ইমরোজ।
– দেখবে কী করে? নিজেই তো মরে যাবে, তারপরও আমার মেয়েকে নিজের কাছে রাখার তোমার এত জোর আসে কোত্থেকে?
মৌনতার বক্ষস্থল কেঁপে উঠল পাষণ্ড সেই কথায়। ছয় বছরের একনিষ্ঠ ভক্তির সাথে করা সংসার জীবন, চার বছরের একটা সন্তানের বিনিময়ে এত পাষণ্ড কথা কী তার প্রাপ্য? তার মৃত্যু কামনা করতে একটুও দ্বিধাবোধ হলো না? সে অস্ফুট স্বরে বলল,
– আমার গোটা সংসারজীবনে আমি কখনো আপনার সাথে খারাপ ব্যবহার কিংবা আপনার অবাধ্য হয়েছি এমনটা কখনো হয়নি ইমরোজ। কিন্তু এর পরিবর্তে আপনার এত নিকৃষ্ট ব্যবহার কী আমার প্রাপ্য? আমার অপরাধটা ঠিক কোথায় ছিল? আমি সারাজীবন আপনার সাথে থাকতে চেয়েছিলাম এটা নাকি আমি শেষ সময়টাতে এসে নিজের সৌন্দর্য হারিয়ে ফেলেছি এটা? সৌন্দর্য হারানোর কারণে এত ঘৃণা নিকৃষ্ট বানী আমার জন্য? জগতে সৌন্দর্য কী সব?
ইমরোজ গনগনে স্বরে বলল,
– তোমার বয়ান শুনতে ফোন দেইনি আমি। আমার মেয়ের সাথে কথা বলব আমি। আমার অস্থির লাগছে নায়েলকে না দেখতে পেয়ে। ফোন দাও ওকে।
মৌনতা চোয়াল শক্ত করে নিলো। দৃঢ় কণ্ঠে বলল,
– দেব না। আমি কথা দিচ্ছি, যতদিন আমি জীবিত থাকব একটাবারের জন্য ও নায়েলকে দেখতে দেব না আমি। এর জন্য আমায় যা করতে হয় আমি করব। এই মেয়ের জন্যই আমি সব কিছু ত্যাগ করে আপনার সংসার করছিলাম আর এই মেয়ের জন্য হলেও আমি দরকার পড়লে পুরো দুনিয়া ত্যাগ করব। তবুও ওকে আপনার হাতের নাগালে যেতে দেব না।
– বিদেশে বসে গলার জোর দেখাচ্ছো? একবার দেশে আসো আইন আমার মেয়েকে আমার কাছে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে আসবে।
– বেস্ট অফ লাক, ইমরোজ। আপনি স্বপ্ন দেখুন। আপনার মতো জালিম বাবার কাছে আইন কী করে আমার সন্তানের অধিকার দেয় আমিও দেখব।
ইমরোজ ফোন কেটে দিল। রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে ফোনটা আঁছাড় দিতে গিয়েও বাঁধা প্রাপ্ত হলো। রাগের বশে কোনোকিছু করলেই তার লস। সে অস্থির চিত্তে বিছানায় বসে পড়লো। মাথার চুল আঁকড়ে ধরে অস্থির চিত্তে আওড়ালো,
– নায়েল, নায়েল, নায়েল.. তোমায় বাবার কাছে আসতেই হবে।
তার বড্ড অস্থির লাগছে, কিচ্ছু ভালো লাগছে না। তার চারিপাশটা এত শূন্য, অস্থির, বেদনাদায়ক কখনোই ছিল না। এই অস্থিরতা কমানোর জন্য হলেও তার নায়েলকে প্রয়োজন।
ফোন রেখে মৌনতা ঘরে ঢুকলেই দেখল নায়েল কাঁদতে কাঁদতে লাল হয়ে গিয়েছে। বিগত দশ মিনিট যাবৎ এভাবেই কান্না করে যাচ্ছে মেয়েটা। মেয়েটা দিন দিন এত জেদি কী করে হয়ে গেল বুঝতে পারছে না। মাকে দেখতেই নায়েল আরো দ্বিগুণ বেগে কাঁদতে কাঁদতে বলল,
– নো নো, খাবো না ভাত। ছোট পাপাকে ডাকো। ছোট পাপা কোথায়? ছোট পাপাআআআ! মাম্মা আমায় জোল কলে ভাত খাওয়াচ্ছে। ভাত পঁচা! আমি ভাত খাবো না।
নায়েল ভাবছে, মা এবারেও ভাত খাওয়ার জন্য জোর করবে। কিন্তু মৌনতা জোর করল না। সে হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলল,
– আচ্ছা খেতে হবে না ভাত। আসো মাম্মার কোলে এসো, ঘুম পাড়িয়ে দিচ্ছি।
মায়ের কোলে যেতে গিয়েও নায়েল গেল না। গতিরোধ করে আরো জোরে চিৎকার করে কেঁদে উঠে বলল,
– নো নো নো ঘুমাবো ও না। আমি ঘুমাবো না।
এবার আর মৌনতা মেজাজ ধরে রাখতে পারল না। বিকট আওয়াজে ধমকে উঠল,
– হচ্ছে কী নায়েল? এত জেদ দেখাচ্ছ কেন? ছোট পাপা বাসায় নেই দেখছ না? বারবার বলার পরেও বুঝছ না কেন? অতিরিক্ত জেদ হয়েছে তোমার। একটা চড় দেব।
মায়ের ধমকে নায়েল এবার তড়িঘড়ি করে ভয়ে নানুর ঘাড়ে মাথা গুঁজে হেঁচকি তুলে কাঁদতে শুরু করল। মাসুমা বেগম ধমকে উঠলেন মেয়েকে।
– কী অবস্থা মৌন? কাঁদছে দেখছিস তার উপর আবার ধমকাচ্ছিস কোন জ্ঞানে?
– কত জেদ দেখাচ্ছে তুমি দেখছ না? ছোট পাপা ছোট পাপা করে মাথা খেয়ে ফেলছে। ওর চাচু আদর করতে করতে ওর স্বভাব বিগড়ে দিচ্ছে আম্মা।
– দিক, বয়স হলে সব ঠিক হয়ে যাবে। তুই যা, ধমকাবি না।
তাদের কথার মাঝেই নিশান্ত ছুটে ঘরে ঢুকল। এরোজের অনুপস্থিতিতে সেই সব দেখভাল করছে এই বাড়ির। সে তড়িঘড়ি করে ঢুকেই হাস্যোজ্জ্বল কণ্ঠে বলল,
– এই নায়েল বুড়ি আর কেঁদো না, আর কেঁদো না। নিশান্ত চাচু আছি না? এই দেখো ম্যাজিক করে তোমার ছোট পাপাকে এনে দিয়েছি। এসো এসো।
নায়েল চকিতে মুখ তুলল। বিনা বিলম্বে ঝাঁপিয়ে পড়ল নিশান্তের কোলে। হেঁচকি তুলতে তুলতে অস্ফুট স্বরে বলল,
– ছোট পাপা কই.. ছোট পাপা যাব।
– চলো আমরা ছোট পাপার কাছে যাই।
নিশান্ত তাকে নিয়ে নিচে নামলো। সদর দরজা খুলতেই দেখল গাড়ির কাছে দাঁড়িয়ে আছে। কান্নার তোপে মেয়েটির বেহাল দশা দেখে জ্বরগ্রস্থ এরোজ অপরাধবোধে মিইয়ে গেল। ত্রস্ত পায়ে এগিয়ে বলল,
– কী হয়েছে আমার মায়ের? এত কান্নাকাটি করেছ কেন?
এরোজ এগিয়ে গিয়ে হাত বাড়িয়ে দিতেই নায়েল ফুঁপিয়ে উঠে ঝাঁপিয়ে পড়ল। গলা জড়িয়ে ধরে ফুপাতে ফুপাতে বলল,
-আমায় একা লেখে কোথায় গিয়েছিলে? আসোনি কেন? মাম্মা আমায় বকেছে, মেলেছে আমি ব্যথা পেয়েছি। আমায় ছেলে যাবে না কোথাও।
এরোজ অবাক হয়ে আওড়ালো।
-মেরেছে?
নিশান্ত ঘন ঘন মাথা নেড়ে বলল,
-আরে ভাই মারেনি। শুধু একটু বকেছে তাই মারাও হয়ে গিয়েছে। তোমার ঢংগি মেয়ে!
এরোজ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে মেয়েটিকে গাড়ির উপর বসালো। লাল হয়ে যাওয়া চোখমুখ মুছে দিয়ে অজস্র চুমুতে ভরিয়ে তুলল ছোট্ট মুখটি। আদুরে গলায় বলল,
-ছোট পাপা স্যরি, মা। আর কখনো তোমায় রেখে কোথাও যাব না। তুমি কেঁদো না। কী অবস্থা করেছ নিজের?
নায়েল আবার হাত বাড়িয়ে জড়িয়ে ধরল এরোজের গলা। কান্না থামলেও হেঁচকি তখনো একা একাই উঠছে। সেভাবেই বলল,
-কোনে নাও।
এক মুহুর্তের জন্যও দূরে থাকতে নারাজ মেয়েটি। এরোজ দ্বিরুক্তি করল না। শক্ত করে বুকে জড়িয়ে নিলো। দেখা করতে আসলেও ফেলে রেখে যাওয়ার সাহস হলো না। এই চোখে জল দেখার মতো সাহসী সে এখনো হয়ে ওঠেনি। এই ছোট্ট সত্তাটি সৃষ্টিকর্তার দেয়া এক বিস্ময়কর রহমত। হোক না সেটা ইমরোজের কোলে দিয়েছে কিন্তু আগলে রাখবে সে।
সে গাড়িতে উঠতে উঠতে কাউকে একটা মেসেজ পাঠালো। ড্রাইভিং সিটে নিজে বসে নায়েলকেও বসিয়ে নিলো। দু’জনকে একসাথে সিট বেল্টের মাঝে নিয়ে গাড়ি স্টার্ট দেয়। নায়েল হেঁচকি তুলতে তুলতে চুপটি করে বুকে মাথা ঠেকিয়ে বসে রইল।
মৌনতা এক পলক তাকায় হাতে থাকা ফোনের স্ক্রিনে জ্বলজ্বল করতে থাকা মেসেজটির দিকে।
-নায়েলকে আমার সাথে নিয়ে যাচ্ছি ওই বাসায়।
অতঃপর এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল বাসার রোড থেকে বের হতে থাকা গাড়িটির দিকে। ইমরোজ—এক জন্মদাতা যে কি-না জন্ম দিয়েও সন্তানের ভালোটুকুই আজ পর্যন্ত বুঝল না। আর এই এক মানুষ—যে কি-না জন্ম না দিয়েও তার মেয়ের সুখের জন্য সব করে যাচ্ছে।
মানুষে মানুষে এত ফারাক কেন? আর খারাপ ভালোর এই ফারাক গুলো এমন সময়েই কেন সামনে আসে, যখন ভালোটাকে গ্রহণ করার মতো বিন্দুমাত্র শক্তি দেহ, মনে অবশিষ্ট থাকে না?
মৌনতা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বুকে হাত গুঁজে অম্বরপানে চাইল। অম্বর আজ গুমোট! ঠিক তার জীবনের মতো। আর চারদিন! এরপর তাকে হসপিটালে চলে যেতে হবে। কোলজুড়ে ছোট্ট মেয়েটির আধিপত্য আর থাকবে না। হয়তো চারদিন পরে শুরু হওয়া দীর্ঘ যাত্রার সমাপ্তিতে গিয়ে তাকে চিরতরে হারাতে হবে ওই ছোট্ট সত্তাটির মায়া। কিন্তু যাওয়ার আগে তার সন্তানটিকে এমন সুরক্ষিত স্থানে রেখে যেতে হবে যেখান থেকে কেউ কেড়ে নিতে পারবে না তার নায়েলকে।
কিন্তু সেই সুরক্ষিত জায়গাটা কোথায়?
সূর্য তখন কেবল উঁকি দিয়েছে বিভূঁইয়ের আকাশে। মৌনতা মিঠে রোদ গায়ে মেখে হেঁটে চলল। চলতে চলতেই কাঙ্খিত দরজার সামনে এসে দাঁড়াল। ভেতরে উঁকি দিতেই কিয়ৎকাল পূর্বের করা নিজের করা প্রশ্নের জবাবটি পেয়ে গেল। ওই তো সুরক্ষিত জায়গাটি।
চাচার বুকে হাত পা ছড়িয়ে একে অপরকে জড়িয়ে ধরে বেঘোরে ঘুমাচ্ছে ছোট পাপা আর তার ছোট মা। মাস্কের আড়াল চিঁড়ে হাসির উজ্জ্বলতা দৃশ্যমান হলো।
কিন্তু মিনিট দুই বাদেই সেই হাসি মিলিয়ে গেল। এরোজের ওয়াশরুম থেকে আনি উদ্বিগ্ন চিত্তে বের হলো। হাতে জলপট্টি। সে অদক্ষ হাতে এরোজের মাথায় জলপট্টি দিতে লাগল।
মৌনতা থমথমে মুখে আড়চোখে দেখল আনির সেবার করার ব্যর্থ প্রচেষ্টা। অদক্ষ হলেও তার মধ্যে এরোজের সেবা করার ইচ্ছা প্রবল, তা দেখাই যাচ্ছে।
মৌনতার হাসি হারিয়ে গেল। কপাল কুঁচকে থমথমে মুখে বিদ্রুপ করল,
-বিয়ে করবে না আনিকে— অথচ তার হাতের সেবা নিচ্ছে।
নিলীমা ম্লান হাসল ফোনের স্ক্রিনে ভেসে থাকা মেয়ের আনন্দিত মুখটি দেখে। নয়া মাতৃত্বের সৌন্দর্য জ্বলজ্বল করছে মুখশ্রীতে। সেই সাথে মা হওয়ার আনন্দ ও স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। নিলীমার আর ইচ্ছে হলো না মনের ভেতর চলা অসন্তোষ গুলো মেয়ের সামনে প্রকাশ করতে। মাতৃত্বের আনন্দের কাছে মুখ ফুটে বলতে পারল না, জীবনের শুরুতেই নিজেকে সংসার জীবনে এভাবে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে নিলে কেন? এই জীবনের দিকে যে সে নিজেই ঠেলে দিয়েছিল। কোন মুখে বলবে? এটাই তার রূপকথার ভবিতব্য ছিল।
-তুমি খুশি হওনি আম্মা?
মেয়ের প্রশ্নে নিলীমা সপ্রতিভ হয়। মৃদু হেসে বলল,
-খুব খুশি হয়েছি। আমার কথার কোলজুড়ে ছোট ছোট দু’টো চাঁদ আসবে আমি খুশি হবো না, তা কী করে হয়? মায়ের দোয়া সবসময় তোর সাথে থাকবে। সকল জটিলতা সামলে আমার নানুভাই আর আমার কথা আমার বুকে ফিরে আসুক।
বিছানায় হাঁটু আঁকড়ে বসে থাকা রূপকথা স্মিত হাসল মায়ের কথায়। তন্মধ্যেই ঘড়িতে ঢং করে শব্দ হলো। রূপকথা সচকিত হয়। তড়িঘড়ি করে বলল,
-আম্মা, আমি যাই হ্যাঁ? পরে কথা বলব। তানশানের আসার সময় হয়ে গিয়েছে। ওর ক্ষুধা লাগে এই সময়ে। এসেই কিছু খেতে চাইবে। স্যান্ডউইচ দিলে একটু খুশি হয়।
-আচ্ছা, যা। সাবধানে যাস। ছোটাছুটি করিস না।
-ঠিক আছে আম্মা।
রূপকথা ফোন কেটেই এক ছুট লাগাল। স্যান্ডউইচ বানাতে সময় লাগবে কিন্তু ছেলের যে আসার সময় হয়ে গিয়েছে। সে তড়িঘড়ি করে সিঁড়ি থেকে নামতে লাগল। সাবধানেই নামছিল কিন্তু যত সাবধানতা ততই যেন বিপদ।
নামতে নামতেই হঠাৎ করেই সে শাড়িতে বেঁধে পড়ে যেতে নিলো। রূপকথার মাথা চক্কর দিয়ে উঠল নিজেকে ব্যালেন্স হারাতে দেখে। সে উবু হয়ে পড়তে গেলেই, ঠিক বিয়ের প্রথম দিনের মতো দুইটা হাত তাকে ছুটে এসে ধরে ফেলল।
সোফায় বসা পারমিতা আর নির্জনা বেগম চেঁচিয়ে উঠল
-রূপকথা!
মুহুর্তেই সব হারিয়ে ফেলার ভয়ার্ত অনুভূতি সামলছ রূপকথা চোখ তুলে তাকালে ভেসে উঠল দুই জোড়া ক্রুব্ধ ধূসর নেত্র। তপোবন ধমকে উঠে বলল,
-হোয়াট রাবিশ রূপকথা! কী করতে যাচ্ছিলে তুমি? এভাবে ছোটাছুটি করছ কোন সাহসে?
বাবার চিৎকারে তানশান উপচেপড়া ক্রোধ লুকিয়ে নিলো গাম্ভীর্যের আড়ালে। সে এক ঝলক কঠোর দৃষ্টি ফেলে রূপকথাকে সোজা করে দাঁড় করিয়ে দিয়ে দূরে সরে গেল।
তপোবন এক দফা তাকে বকলো। রূপকথা নতশির শুধু বলল,
-দুঃখিত ভুল হয়ে গিয়েছে।
-ভুল হয়ে গিয়েছে? হাউ সিলি!
তপোবন ক্রোধ সামলে বলল। পারমিতা ছুটে এসে বুকে জড়িয়ে নিলো। দোয়া দরুদ পড়ে ফুঁ দিয়ে বলল,
-আল্লাহ বাঁচিয়েছে। তোর মাথা খারাপ, কথা? তুই ছুটছিলি কেন?
রূপকথা অসহায়ত্বভরা চাহনিতে চাইল। কারণ বলল না। বলল,
-আর হবে না এমন। আমি একটু রান্নাঘর থেকে আসছি।
বলেই মেয়েটি ছুটে গেল রান্নাঘরে। দশ মিনিটের মাঝে স্যান্ডউইচ আর ফল কেটে রান্নাঘর থেকে বের হতেই দেখল খাবার ঘরে তানশান দাঁড়িয়ে আছে গম্ভীর মুখে।
রূপকথা কাঁচুমাচু করে বলল,
-খেয়ে নাও। গরম খুব, ঠান্ডা কিছু বানিয়ে দেব?
তানশান থমথমে মুখে বলল,
-পাপা আমায় বাইরে থেকে খাইয়ে এনেছে। এখন থেকে রোজ এই টাইমে আমি বাইরে থেকেই খেয়ে আসব। আপনাকে যেন আর এভাবে ছোটাছুটি করতে না দেখি।
বলেই সে বেরিয়ে গেল ঘর থেকে। রূপকথা কোমরে হাত দিয়ে ফোঁস করে নিঃশ্বাস ফেলল। আজ জোর বাঁচা বেঁচে গিয়েছে। সে আলগোছে নিজের উদরে হাত রাখল। অনুতাপের সুরে বলল,
-এই ছানারা ভয় পেয়েছ? মা ভয় পাইয়ে দিয়েছি তোমাদের? দুঃখিত! আর কখনো ভয় পেতে দেব না। আর ছোটাছুটি করব না। কোনো ভয় নেই তোমাদের। মা তোমাদের সবসময় আগলে রাখব।
দুই ছানাকে অভয় দিয়ে রূপকথা ছুটলো আরেক ছানার কাছে। ছেলেটা রাগ করেছে কী? সে খাবারের ট্রে হাতে বেরিয়ে আসতেই শুনল নির্জনা বেগমের আহাজারি।
-সবাইকে জানিয়েছি বলে কী নজর লেগে গেল বেয়ান? হে আল্লাহ! একটু দোয়া দরুদ পড়ে ফুঁ দিতে হবে।
রূপকথা হতাশার নিঃশ্বাস ফেলে সিঁড়ির দিকে গেল। সিঁড়িতে উঠতে গেলেই তানশান সামনে এসে দাঁড়ায়।
রূপকথা চঞ্চল কণ্ঠে বলল,
-খাবার খেলে না কেন? চলো উপরে গিয়ে খাবে।
তানশান থমথমে মুখে ট্রেটা নিজের হাতে নিয়ে রূপকথার দিকে এক হাত বাড়িয়ে দিল। বলল,
-আপনি অতিরিক্ত পাকনা! আপনাকে বারণ করেছি ছোটাছুটি করতে। আমার কিছু লাগলে আমি নিয়ে নিতে পারব। ছোট নই আমি।
রূপকথার মুখে হাসি ফুটে উঠল তানশানের এগিয়ে দেয়া হাত দেখে। এইতো এই জটিল যাত্রাপথে এই হাতটা তার সাথে থাকলে তাকে আর কোনোকিছু হারাতে পারবে না। সে সবেগে হাতটা আঁকড়ে ধরলো।
দোতালার কড়িডরে দাঁড়িয়ে থাকা তপোবন উষ্ণ নিঃশ্বাস ফেলল সেই স্নিগ্ধ দৃশ্যে। রূপকথা উপরে উঠতেই অবাক হয়ে গেল ড্রাইভার আর দারোয়ান মিলে তার ঘরের সব জিনিসপত্র বাইরে নিয়ে আসছে।
সে হতবাক হয়ে বলল
অপরাহ্নে উপসংহার পর্ব ৬০ (২)
-একি একি আমার ঘর! সব জিনিসপত্র বের করছেন কেন? তানশানের পাপা এগুলো কী হচ্ছে?
তপোবন বুকে হাত গুঁজে দাঁড়িয়ে আছে। গুরুগম্ভীর কণ্ঠে বলল,
-আমরা এখন থেকে নিচতলায় থাকব।
রূপকথা উৎকণ্ঠা নিয়ে বলল,
-মানে? তানশান একা উপরে থাকবে? ওকে দেখবে কে? ওর কোনো সমস্যা হলে? রোজ আপু ওই মাথায় থাকে। অনেক দূর, সে খেয়াল রাখতে পারবে না।
তপোবন কপাল কুঁচকে বলল,
-তুমি অতিরিক্ত পাকনা। তানশানের চিন্তা আমার আছে। তানশান ও আমাদের সাথেই নিচ তলায় শিফট হচ্ছে।
রূপকথা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে গিয়েও ভ্রু কুঁচকে নিলো। বাপ ছেলে দু’জনেই তাকে পাকনা বলেছে। বদ!
