অবাধ্য হৃদয় পর্ব ৩৬
নুরিয়া ইসলাম
ঘড়িতে ঠিক তখন তিনটা চল্লিশ। দিনের শেষ ভাগে প্রকৃতি কেমন ম্লান হয়ে আসে। আজ অবশ্য আকাশটা একটু অন্যরকম লাগছে কেমন যেন ঘোলাটে সোনার আভায় ছেঁয়ে আছে । এরিক জানে, দিনের এই শেষ বেলার সময়টা বড় দ্রুত চলে। ব্যাপারটা কেন জানি রহস্যময় লাগে তার কাছে। জীবনটা বুঝি এমনই যে মুহূর্তগুলো ধরে রাখতে সাধ জাগে, সেগুলোই সবার আগে ফুরিয়ে যেতে চায়।
বিমানবন্দরের ভিভিআইপি লাউঞ্জের বাইরে এরিক অপেক্ষা করছে। তার প্রাইভেট জেট এই সময় রানওয়ে স্পর্শ করবে। এরিক দাঁড়িয়ে ছিল তার কালো মার্সিডিজ গাড়ি থেকে সামান্য দূরে। বুকের ভেতরে কেমন চিনচিনে একটা ব্যথা অনুভব হচ্ছে । সে বোঝে, এটা ভালোবাসার ব্যথা। ভালোবাসা চেয়ে জটিল কোনো অসুখ পৃথিবীতে আর নেই।তার মনে হলো, ইনায়া হয়তো এতক্ষণে জেগে উঠেছে। তার দেওয়া ক্লোরোফর্মের প্রভাব কি কেটেছে? জেগে উঠে মেয়েটা কী ভাববে? এরিক জানে, ইনায়া হয়তো আবার তার পরিবারের কথা ভাববে। এই মেয়েটা কেন শুধু অন্যদের নিয়ে ভাবে? একবারও কি তার কথা ভাবতে পারে না, যে তার জন্য এতটা উন্মাদনা করে? এরিক ঠোঁটের কোণে একটা সিগারেট ধরিয়ে বাতাসে ধোঁয়া ছাড়ল। সে তো আর সাধারণ মানুষ নয় যে নিয়মের দোহাই দিয়ে সরে যাবে। সে ভালোবেসেছে, নিজের ভালোবাসাকে নিজের কাছে রাখার ইচ্ছা পোষণ করা কোনো অন্যায় হতে পারে না। এরিকের ভেতরে অস্থিরতা বাড়ছিল। এ অস্থিরতা শুধু ইনায়াতকে ঘিরে। ইনায়াকে ছাড়া তার কোনো ভবিষ্যৎ নেই।
সে ভাবনার জগৎ থেকে চোখ ফেরালো সামনে। ইনায়া গাড়ি থেকে নামছে। এরিকের বুকটা ধক করে উঠল। মেয়েটা কেমন নেতিয়ে আছে। তার চোখ-মুখ বিষণ্ণ লাগছে। এরিক এই বিষাদের কারণ ধরতে পারে না। খুব অদ্ভুত। অথচ সে জানে, তার একটা হাসিতে এরিকের ভেতরের দানবীয় সত্তাটা কেমন করে প্রাণ ফিরে পায়। এইজন্যই এরিক পাগল। এইজন্যই সে চরমপন্থী।
আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন
ইনায়াত এগোচ্ছে। এরিক দ্রুত পায়ে হেঁটে গেল তার দিকে। কোনো ভনিতা না করে, ইনায়াকে দু’হাতে কোলে তুলে নিল। ইনায়া প্রথমে কিছুটা হকচকিয়ে গেল, পরে আলতো করে এরিকের ঘাড় জড়িয়ে ধরল। এখনকার এরিককে তার শান্তির আশ্রয় মনে হলো। পৃথিবীতে এত মানুষ, এত কোলাহল, অথচ একজন মাত্র মানুষ আছে যার কাছে এত নিবিড়ভাবে যাওয়া যায়। এরিক নিশ্চিত, তার হৃদপিণ্ডের ধক ধক শব্দ ইনায়া শুনতে পাচ্ছে।তার হৃদয়ের তীব্রতা ইনায়া যাতে অনুভব করতে পারে সেজন্যই এরিক ইনায়াকে এক প্রকার বুকের সাথে চেপে ধরেছে।
এরিক ইনায়াতকে কোলে নিয়েই প্রাইভেট জেটের সিঁড়ি দিয়ে হাঁটতে শুরু করল। ব্যাপারটা একটু বেশি নাটকীয় হলো কি? হতে পারে। এরিক মনে করে, জীবনের কিছু মুহূর্ত নাটকীয় হওয়া দরকার। হিসেব করে সবকিছু হয় না। যারা বেশি হিসেব করে, তারা আসলে ভালোবাসতে জানে না।
জেটের ভেতরে, নরম চামড়ার আরামদায়ক সিটে ইনায়াকে এরিকের পাশে বসালো। বাইরে তখন সূর্য ডুবছে। শেষ আলো এসে পড়েছে ইনায়ার মায়াবী মুখে। এরিক মুগ্ধ হয়ে দেখল তার মুনলাইটকে তার সন্তানের মাকে। সে জানে, সে বড় একটা ভুল করেছে। ইনায়াকে এতদিন সময় দেওয়া তার ঠিক হয়নি। তাইতো সে নতুন করে শুরু করতে চায় সবকিছু আবার। ইনায়াকে নিয়ে তার একটা ছোট সংসার হবে। সেখানে কোনো বিষাদ থাকবে না। শুধু ভালো লাগা, নিরিবিলি সন্ধ্যা আর সামান্য কিছু ভালোবাসার মুহূর্ত থাকবে।
এরিক একটু সামনে ঝুঁকলো। ইনায়ার হাতটা শক্ত করে ধরলো। তারপর খুব শান্ত, নিচু গলায় বলল,
❝মুনলাইট, আজ আমরা সমস্ত বাঁধা-বিপত্তি পেরিয়ে যাচ্ছি। আই প্রমিস, মুনলাইট, আমি তোমাকে আমার ভালোবাসার চাদরে আজীবন জড়িয়ে রাখব। তোমার সমস্ত মন খারাপের কারণগুলো আমি খুঁজে বের করে মুছে দেব। শুধু তোমার জন্য আজীবন নতুন নতুন স্বপ্নের বীজ বুনে যাব। তুমিই হবে আমার প্রথম আর আমার শেষ ভালোবাসা। এমন ভালোবাসা যা নিষিদ্ধতার দেওয়াল ছিন্ন করে পবিত্রতার আদলে ধরা দেয়। আমি তোমাকে সারাজীবন সবকিছু থেকে প্রটেক্ট করব।❞
ইনায়া কোনো কথা বলল না। শুধু এরিকের চোখের দিকে তাকিয়ে গভীর ভালোবাসা দেখতে পেল। এরিকের কথাগুলো ইনায়ার হৃদয় ছুঁয়ে গেল। মেয়েটা শুধু আলতো করে মাথাটা এরিকের কাঁধে রাখল। আর তখনই বিমানের ইঞ্জিন চালু হবার মৃদু শব্দ হলো। এরিক দীর্ঘ একটা শ্বাস ফেলল।
পৃথিবীটা বড় গোলমেলে জায়গা। তবু কিছু মানুষ থাকে, যাদের আঁকড়ে ধরলে সব গোলমাল থেমে যায়। এরিক তেমনই একজন মানুষ। হয়তো একটু পাগলাটে, বেপরোয়া আর উন্মাদ টাইপের, কিন্তু তার সীমাহীন ভালোবাসার কাছে এইগুলা নিছকই তুচ্ছ ।
চারদিকে তখন একটাই গুঞ্জন। গুঞ্জন না বলে বলা ভালো, রিপোর্টাররা রীতিমতো ব্রেকিং নিউজ করছে বিখ্যাত নিউজ চ্যানেল সিএনএন থেকে শুরু করে ফক্স নিউজ চ্যানেলগুলোতে আজ একটাই হেডলাইন —
বিখ্যাত বিজনেস্ টাইকুন রিচার্ড অ্যাসফোর্ডের ছেলে এরিক অ্যাসফোর্ড নাকি এক মুসলিম নারীকে গোপনে বিয়ে করেছেন!কেন করল, কীভাবে করল, কেউ জানে না। এই খবর চাউর হওয়ার পর মানুষের আর ঘুম নেই।এত বড় নিউজ তাদের কাছে কোন সাধারণ ব্যাপার নয়।তারা বলাবলি করতে লাগল,
—”কে এই নারী?” “ব্যাপারটা কী?” এরিক অ্যাসফোর্ডকে ঘিরে এমনিতেই গল্পের শেষ নেই। আর এখন এই বিয়ে!রিপোর্টাররা তো রীতিমতো শিকারি কুকুরের মতো ঘুরে বেড়াচ্ছে।
ঠিক তখনই, সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে, কালো কাঁচের একটি বিশাল, বিলাসবহুল গাড়ি তীব্র গতিতে এসে থামল ঠিক সাংবাদিকদের ভিড়ের সামনে। দরজা খুলে গুরুগম্ভীর ভঙ্গিতে বেরিয়ে এল এরিক, চারিদিকের ক্যামেরার ফ্ল্যাশ আলো তাঁর ইস্পাত-কঠিন ব্যক্তিত্বের উপর ম্রিয়মাণ হলো। তার মুখাবয়বে ছিল এক অব্যক্ত রহস্যের ছায়া,যা ইঙ্গিত দেয় কোন এক অপ্রতিরোধ্য সংকল্পের।
তাঁর পাশে, বলতে গেলে প্রায় গা ঘেঁষে, দাঁড়িয়ে আছে ইনায়া। মেয়েটা ভয়ে সিঁটিয়ে আছে। নিজেকে সে পুরোপুরি শালীন পোশাকে ঢেকে রেখেছে। এত বড় লোকজনের ভিড়, এত এত ক্যামেরা এইসব বিলাসিতাই ইনায়া মোটেই অভ্যস্ত নয়। এরিক গাড়ি থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গে রিপোর্টাররা চিলের মতো ছেঁকে ধরল তাকে। একটা মাইক্রোফোন তো প্রায় এরিকের মুখের ভেতরেই সেঁধিয়ে দিচ্ছিল এক রিপোর্টার। হাঁপাতে হাঁপাতে সে বলল,
”স্যার, আমরা শুনছি আপনি নাকি বিয়ে করেছেন! স্যার, একটু… একটু স্পষ্ট করে বলুন না!”
জনতার উত্তেজনা ততক্ষণে চরম সীমায় পৌঁছে গেছে। কিন্তু এরিক একটুও বিচলিত হলো না বরং
সে পুরো পরিস্থিতি তীক্ষ্মনজরে ধীরেস্হিরভাবে একবার অবলোকন করে ভীত ইনায়ার হাতটা শক্ত করে ধরল যাতে মেয়েটা একটু আশ্বস্ত হয়।
এরপর, ভিড়ের দিকে তাকিয়ে গমগমে স্বরে বললো,
আমি সব পরিষ্কার করার জন্যই আপনাদের ডেকেছি। আপনারা সঠিক শুনেছেন, আমি একজন মুসলিম মেয়েকেই বিয়ে করেছি।”
এরিকের মুখে একজন বিধর্মীর মেয়েকে বিয়ের কথা শুনে সবাই কৌতুহল নিয়ে তার দিকে তাকিয়ে রইলো। সবার মুখে-চোখে শুধু একটাই প্রশ্ন,
❝কেন একজন খ্রিষ্টান হয়ে বিধর্মীর মেয়েকে বিয়ে করবে?এমন নয় যে খ্রিষ্টান ছেলেরা নিজের ধর্মের বাইরে বিধর্মী কাউকে বিয়ে করে না। সমস্যাটা হলো একজন মুসলিম মেয়েকে কেন বিয়ে করতে হবে? আর এই বিয়ের বৈধতা কি মুসলিম সমাজ দিবে।
এরিক সকলের দিকে একবার দৃষ্টি মেলে তাকাল। সবাইকে প্রশ্নসিক্ত দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে সে রিপোর্টারদের হাতে থাকা মাইক্রোফোনটা নিয়ে বলে উঠলো,
আমি এই মুহুর্তে সকলকে সাক্ষী রেখে বলতে চাই, এবং আমার জীবনসঙ্গিনীকেও জানাতে চাই। তার সাথে আমার প্রণয়ের সম্পর্কটা কোনো হিসেব-নিকেশের নথি খাতায় লেখা পরিণয় নয়, বরং ছিল এক দুরূহ, প্রায় অসম্ভব সমীকরণ। সমাজ যাকে ‘বৈধ’ বা ‘অবৈধ’ নামের দুটো কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে চায়, সেই মাপকাঠিতে আমার আর ইনায়ার এই টানকে মাপলে ভুল হবে। এ হলো কেবলই হৃদয়ের টান, যা বিধাতা লিখে দিয়েছেন। এই পরিণয় কোনো গোপন অভিসার নয়, বরং এক আমৃত্যু ভালোবাসার ওয়াদা যা পৃথিবীর যেকোন সব নিয়ম কানুনের উর্ধ্বে গিয়ে কেবল দু’জনের জন্যই সত্য হয়ে বেঁচে থাকবে আজীবন। আর এই ভালোবাসাকে বৈধতার সিলমোহর দেওয়ার জন্য এরিক অ্যাসফোর্ডের নামটুকুই যথেষ্ট।
এরিক সকল মিডিয়ার সামনে কারো ক্ষমতা, দাপটের পরোয়া না করে নির্দ্বিধায় নিজের ভালোবাসার কথা পুরো আমেরিকা বাসীর কাছে পৌঁছে দিল।সে আবারও রিপোর্টারদের দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করে সকলের সামনে ইনায়ার হাতে আলতো একটু চুমু দিয়ে বলে উঠলো,
❝আমার স্ত্রীর উদরে বেড়ে উঠা এই ক্ষুদ্র জীবন, সে কোনো অবৈধ ফসল নয় বরং এটি আমাদের পবিত্র বন্ধনের অমৃতফল, বৈধতার স্বচ্ছ চাদরে মোড়ানো এক চরম সত্য। আলহামদুলিল্লাহ সকল কিছুর জন্য। জীবনের সকল প্রহেলিকার বেড়াজাল ছিন্ন করে আমরা অবশেষে এক হয়েছি, বিধাতার অনুমোদনে।❞
এরিকের কথা শুনে চারিদিকে হুলস্থুল পড়ে গেল। লোকজন বলাবলি করতে লাগলো,
❝একজন বিধর্মী মেয়ের জন্য আপনি আপনার ধর্ম ত্যাগ করেছেন।নাকি ওই জঙ্গি সমাজ আপনাকে বাধ্য করেছে ধর্মান্তরিত হতে।❞
একজন সাংবাদিকের এই রকম প্রশ্ন করাটা এরিকের ঠিক পছন্দ হলো না। তার মুখের হাসি ততক্ষণে মিলিয়ে গেল। চেহারার ভাবমূর্তি কঠিন হয়ে গেল। সে নিজের রাগটাকে দমিয়ে খুবই শান্তিভাবে সকলের উদ্দেশ্য বলে উঠলো,
❝আই থিংক, আমি যথেষ্ট পরিমাণে এডাল্ট। তার থেকেও বড় কথা, এই পৃথিবীতে এখনো এমন কারো জন্ম হয়নি, যার এত বড় স্পর্ধা হবে যে সে এরিক অ্যাসফোর্ডকে কোনো কিছুতে বাধ্য করবে।আমি এইখানে নিজের রায় দিতে এসেছি, কারো সলাহ নিতে আসিনি।❞
এরিকের গম্ভীর আওয়াজ শুনে পুরো জনসমাগম একেবারে শান্ত হয়ে গেল। মিস্টার রিচার্ড অ্যাসফোর্ডের ছেলের রাগ সম্পর্কে সবার কম বেশি ধারণা রয়েছে।
এইদিকে এরিকের পাশে জরোসরো হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ইনায়া যেন নিজের কানকেই বিশ্বাস করতে পারছে না। কি শুনলো এইগুলা সে। এত দিন ধরে যে চরম অপমান, আত্মগ্লানি আর পাপবোধের বোঝা সে বহন করছিল, এক লহমায় সেই মিথ্যার দেওয়াল ভেঙে চুরমার হয়ে গেল। একটির পর একটি ধাক্কা, মেয়েটি ধীরে ধীরে স্তম্ভিত হয়ে পড়ল। তাঁর হাত সজোরে উঠে এল নিজের পেটের উপর, যেখানে তাঁদের ভালোবাসার পবিত্র চিহ্ন বেড়ে উঠছে।
ইনায়ার চোখের কোণে তখন অজস্র জলবিন্দু, যা কিনা আনন্দেরই প্রতিচ্ছবি। তার কণ্ঠস্বরটা কাঁপছিল, এক পরম উপলব্ধি যেন তাকে হাঁটু গেড়ে বসতে বাধ্য করল। সে ফিসফিস করে বলল,
❝অর্থাৎ… এরিক আমাকে সেই দিন কোনো হারামভাবে স্পর্শ করেনি! তাঁর স্পর্শ ছিল বৈধতার চাদরে মোড়ানো,তিনি আমার অস্তিত্বকে আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে দিয়েছিলেন!❞
ইনায়া এরিকের দিকে তাকাল, তার চোখে এখন আর ভয় নেই, আছে শুধু প্রশ্নাতীত ভালোবাসা আর সীমাহীন কৃতজ্ঞতা। এরিক তার হাত ধরে আরও শক্ত করে বুকে টেনে নিল, তার দিকে আশ্বস্ত এর হাত বাড়িয়ে যেন বলতে চাইলো,
—এই বোকা মেয়ে, আমি থাকতে এতো টেনশন করো কেন?জানো না, বিয়ের পর মেয়েদের নির্ভরতা তার স্বামী হয়।এখন থেকে আর কোনো ভুল বোঝাবুঝি নয়, প্রিয়তমা।
ম্যানশনের বিলাসবহুল সোফায় রিচার্ড অ্যাসফোর্ড বসে আছেন। তাঁর মেজাজ সাংঘাতিক খারাপ। এতো খারাপ যে তিনি রীতিমতো থরথর করে কাঁপছেন। রাগের চোটে মানুষের হাত-পা সামান্য কাঁপে, কিন্তু তাঁর পুরো শরীরটাই কাঁপছে। মনে হচ্ছে ভেতরে ভূমিকম্প হচ্ছে। হয়তো একটা নয়, দুটো ভূমিকম্প।
সামনের বিশাল স্ক্রিনে এরিক আর ইনায়ার বিয়ের খবরটা বারে বারে দেখাচ্ছে। হাইলাইট করা হচ্ছে—খ্যাতনামা ব্যবসায়ী টাইকুনের পুত্র এরিক অ্যাসফোর্ড এক মুসলিম নারীকে বিয়ে করেছেন।
মিস্টার রিচার্ড অ্যাসফোর্ড ভেতরে ভেতরে এক তীব্র জ্বালা অনুভব করলেন। তার এই বেপরোয়া, ছন্নছাড়া ছেলের একটা মাএ ভুল সিদ্ধান্তের জন্য তাঁর তিল তিল করে গড়া এতো বছরের কর্তৃত্ব, এতোদিনের দাপট, সব শেষ হতে বসেছে। পুরো আমেরিকার মানুষ এখন তাঁকে নিয়ে কথা বলছে।
অবাধ্য হৃদয় পর্ব ৩৫
তাও আবার সামান্য একটা ‘বিধর্মীর মেয়ের জন্য।
তিনি সোফার হাতলে জোরে একটা চাপ দিলেন।
❝আমি কোনোভাবেই ওই মেয়েটাকে এই অ্যাসফোর্ড পরিবারে ঠাঁই দেবো না,❞ তিনি মনে মনে স্থির করলেন। দরকার হলে নিজের ছেলেকে তেজ্যপুত্র করব। তাতেও আপত্তি নেই। কিন্তু ওই মেয়ে এই সানরাইজ ম্যানশনে পা দিতে পারবে না। কক্ষণো না।❞
মিস্টার রিচার্ড একদৃষ্টে সামনের স্ক্রিনটার দিকে তাকিয়ে রইলেন।
