অবেলায় ফোঁটা পুষ্প পর্ব ৫০
রুপা
– “ফ্লাওয়ার, দেখো তো এখন লাগছে না একদম আমার ফ্লাওয়ারের মতো, আই মিন বউয়ের মতো!”
আর্যর কথা শুনে পুষ্প চোখ তুলে আয়নার দিকে তাকিয়ে দেখলো নিজের প্রতিচ্ছবির দিকে। সবার প্রথমে নজর কাড়ে নাকের একপাশে শোভা পাওয়া এক পাথরের ডায়মন্ডের নাকফুলটা; গোলগাল ফর্সা মুখটা যেন আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে, নাকফুলটা একটু বেশি ঝলমল করছে। একদম নতুন বউয়ের মতো লাগছে—সত্যি সত্যি তার সরকার সাহেবের বউ লাগছে তাকে!
আর্য এবার পাশে রাখা বক্স থেকে চারটা চুড়ি বের করল। চিকন চিকন সোনার চুড়ি, খুব সুন্দর কাজ করা, ডায়মন্ডের পাথর বসানো—আর্য নিজের হাতে পুষ্পর হাতে পরিয়ে দিল, একহাতে দুটো দুটো করে। ফর্সা হাতে চুড়ি দুটো পরানোর পর যেন হাতের সৌন্দর্য বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। সে আগে কেন আনেনি এগুলো? এখন তো সত্যি সত্যি আর্যর বউ বউ লাগছে! তার ফ্লাওয়ারের নাকে তার নামের নাকফুল, হাতে তার নামের চুড়ি!
আর্য চুড়ি পরানো শেষ করে এবার একটা লকেটসহ চেইন বের করল। লকেটটা পুষ্পর সামনে ধরে বলল—
– “এই লকেটটা দেখো, আমার নামটা যেমন এই ফুলটাকে জড়িয়ে রেখেছে, আমিও ঠিক এভাবেই আমার ফ্লাওয়ারকে জড়িয়ে রাখব সারাজীবন, শেকড়ের মতো জড়িয়ে রাখব।”
আর্যর কথা শুনে পুষ্প ভালো করে লকেটটা দেখল। অদ্ভুত, কিন্তু খুব সুন্দর! একটা গোল ফুল, তার চারপাশে পেঁচিয়ে আছে একটা নাম—‘আর্য’। ফুলটার চারপাশে চারটা ইংরেজি লেটার—A, R, Z, O, (আর্য)। সেটা পুষ্পর গলায় পরিয়ে দিল সে। এটা আর্য আরও আগেই কাস্টমাইজ করে অর্ডার দিয়েছিল। আজকে ওই মহিলাদের কথা শুনে চুড়ি, নাকফুল, কানের দুল, আংটি—সব কিনেছে! তারপর একে একে কানের দুল ও হাতের অনামিকা আঙুলে আংটি পরিয়ে দিল। আর্যর হঠাৎ কিছু একটা মনে পড়তেই সে নিজের ওয়ালেট বের করে সেখানের একটা চেম্বার থেকে বের করে একটা নূপুর! এই নূপুরটা পুষ্প নিখোঁজ হওয়ার পরে জঙ্গলে পেয়েছিল, আর দেওয়া হয়নি।
আর্য এবার মেঝেতে পা বাজ করে বসে নিজের উরুর ওপর পুষ্পর পা দুটো তুলে নিল। যেই পায়ে নূপুর নেই, সেই পায়ে নূপুরটা পরিয়ে দিল—যেখানে আর্য জিপিএস ট্র্যাকার লাগিয়ে রেখেছে। পুষ্প মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আর্যর দিকে। সে বুঝতে পারছে না নূপুরটা সরকার সাহেব কোথায় পেল? এটা তো হারিয়ে গেছিল! ডায়মন্ড বসানো রূপার নূপুরটা যেন পুষ্পর পায়ের সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আর্য যেন মোহাচ্ছন্ন হয়ে পড়ছিল; শুকনো ঢোক গিলল। মোহাচ্ছন্নর ন্যায় ঝুঁকে পুষ্পর পায়ে ঠোঁট ছোঁয়ালো। সাথে সাথে নিজের কোলে থাকা পুষ্পর হাত দুটো জামা খামচে ধরে। এক অদ্ভুত শিহরণে শিরশির করে উঠল, অজানা অনুভূতি গ্রাস করে নিচ্ছে—সে চোখ দুটো খিচে বন্ধ করে ফেলল।
আর্য সময় নিয়ে চুমু খেল পুষ্পর পায়ে, দীর্ঘক্ষণ সময় নিয়ে ঠোঁট সরিয়ে নিল। আর্য মাথা তুলে রমণীর মুখের দিকে তাকিয়ে দেখলো, রমণী এখনো চোখ দুটো বন্ধ করে রেখেছে, চোখের পাতায় স্পষ্ট মৃদু কম্পন! আর্য সেদিকে তাকিয়ে ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসে—মেয়েটা তার একটু ছোঁয়াতেই কেঁপে উঠছে, সে যদি আরেকটু গভীরভাবে ছুঁয়ে দেয়, তখন তার ফ্লাওয়ার কী করবে?
হঠাৎ কোনো সতর্কতা ছাড়াই পুষ্পকে ড্রেসিং টেবিলের সামনের টুল থেকে নামিয়ে নিজের কোলে বসাাল সে। হুট করে এমন হওয়ায় পুষ্প হকচকিয়ে গিয়ে আর্যর গলা জড়িয়ে ধরে সাথে দুই পায়ে আর্যর কোমর পেঁচিয়ে ধরলো বসা অবস্থাতেই। আর্যর মুখ গিয়ে ঠেকেছে রমণীর কণ্ঠদেশে।
আর্য মোহাচ্ছন্ন হয়ে মুখ ডুবাল পুষ্পর গলদেশে। আর্যর অতর্কিত গভীর ছোঁয়ায় রমণী আর্যর ভাবনার চেয়েও বেশি কাঁপতে লাগল। তা আর্য টের পেলেও কিছু বলল না, সে যেন নিজের হুঁশ হারিয়ে বসেছে! পুষ্পর গলায় থাকা ওড়নার জন্য আর্যর বেশ বিরক্তি হলো; সে বেশ ঈর্ষান্বিত বোধ করল যে, এই ওড়নাটি তার আর তার ফ্লাওয়ারের মাঝে দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছে! এক টানে ওড়নাটা মেঝেতে ফেলে দিল সে। সাথে সাথে উন্মুক্ত হয়ে পিঠময় ছড়িয়ে পড়ল পুষ্পর লম্বা ঘন দীঘল কালো কেশগুচ্ছ।
আর্য নিজের হাত রমণীর গলদেশে গলিয়ে পেছনের চুল খামচে ধরল, আলগোছে একটু টান দিতেই রমণীর মুখ উঁচু হলো। আর্য অপলক তাকিয়ে দেখছে তার ফ্লাওয়ারকে—গোলগাল ফর্সা একটা মুখ, রাজ্যের মায়া যেন এই চেহারায় আবর্তিত! লম্বা লম্বা পাপড়িযুক্ত দুটো চোখ, যেই চোখের ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টি তার শক্তপোক্ত বুকে ঝড় তুলতে সক্ষম। সরু একটা নাক—একদম বাঁশির মতো কাড়া নয়, আবার একেবারে বোচাও নয়; তার ফ্লাওয়ারের সবকিছু যেন অন্যরকম অদ্ভুত সুন্দর! চিকন চিকন দুটো ঠোঁট যেন শিউলি ফুলের পাপড়ি, গোলাপের মতো গোলাপি আর সফট, যা এখন তাকে চুম্বকের মতো টানছে। আর্য যেই না নিজের অধর যুগল এগিয়ে রমণীর অধর স্পর্শ করতে যাবে…. অমনি দরজায় ধাককানোর আওয়াজে পুষ্প ছিটকে সরে যেতে চাইল। কিন্তু আর্য তা হতে দিল না, দুই হাতে পুষ্পর কোমর শক্ত করে চেপে ধরল নিজের সাথে।
– “বড় সাহেব, বড় ভাবিকে নিচে ডাকছেন।”
আর্য বেজায় বিরক্ত হলো। দরজার দিকে তাকিয়ে সে নিজের মনে বিড়বিড় করল—
– “এই বাড়িতে থাকলে জীবনেও আর বউ কাছে পাবো বলে মনে হয় না! একেকজন যেন আমার জীবনের যাতশত্রু! বউকে একটু আদর করতে গেলেই সবার আমার বউয়ের প্রয়োজন পড়ে!”
সরকার বাড়িতে হাজির হয়েছে পুষ্পর চাচা-চাচি আর তাদের ছেলে-মেয়ে, অর্থাৎ শেহনাজ সরকারের ছোট ভাই ও তার বউ। তাদের দেখে শেহনাজ সরকারের মধ্যে খুশির লেশমাত্র দেখা গেল না, উল্টো মনে পড়তে লাগল পুষ্পর ওপর করা অতীতে তাদের সেই অত্যাচারের কথা! তবুও তিনি কোনো সিনক্রিয়েট করলেন না, কাজের মেয়েকে দিয়ে নাস্তা-পানি পাঠালেন। তাদের নেমন্তন্ন করেছিলেন আমজাদ সরকার, সে বিষয়ে শেহনাজ সরকার অবগত ছিলেন না।
নাস্তা-পানি খাওয়া শেষে পুষ্পকে খোঁজা শুরু করলেন ওনারা। শেহনাজ সরকার কাজের মেয়েকে পাঠালেন পুষ্পকে ডেকে আনার জন্য। কাজের মেয়ে ডেকে আসার কিছুক্ষণ পর সিঁড়ি বেয়ে পুষ্প আর আর্যকে নেমে আসতে দেখা গেল। পুষ্পর চাচি ও তার মেয়ের নজর যেইমাত্র পুষ্পর ওপর পড়ল, তাদের চোখ যেন ওখানেই আটকে গেল! তাদের পরিচিত সেই পুষ্প আর এই পুষ্পর মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাত! হাতে, নাকে, গলায় চকচক করছে সোনার গহনা, পরনে দামি থ্রি-পিস—রূপ যেন আরও খুলেছে! পুষ্পর দিকে হিংসাত্মক চাহনি নিয়ে তাকিয়ে রইল তার চাচাতো বোন মুন্নি। আগে যে মেয়েটা তার পরা জামা আর তার খাওয়া উচ্ছিষ্ট খাবার খেত, আজ সেই মেয়েকে রাজরানির হালে দেখে হিংসায় যেন তার শরীর জ্বলে যাচ্ছে!
মুন্নির সেই হিংসাত্মক দৃষ্টি নজর এড়ায় না আর্যর। এদিকে সহজ-সরল পুষ্প তাদের দেখেও খুশি হয়ে এগিয়ে আসতে চাইলে, আর্য পুষ্পর হাত টেনে ধরে নিজের কাছে নিয়ে এল। পুষ্প আর্যর দিকে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকাতেই আর্য গম্ভীর কণ্ঠে বলল—
– “কাছে যাওয়ার প্রয়োজন নেই, দূর থেকেই কথা বলো।”
– “কেন?”
– “কারণ এরা আমার জিনিসের জন্য ক্ষতিকর। আর তা জেনেও আমার জিনিসকে এদের সান্নিধ্যে যেতে দেবো—এতটাও পাগল আমি নই!”
আর্যর কথার আগা মাথা কিছুই বুঝতে পারল না পুষ্প। রমণী একবার আর্যর দিকে তাকাচ্ছে তো আরেকবার চাচা-চাচিদের দিকে তাকাচ্ছে। মুন্নি এবার কিছুটা টিটকারি মেরে বলে উঠল—
– “কিরে পুষ্প, বড়লোক বিয়ে করে নিজেকে কি অনেক বড় মনে করছিস? যে তুই আমাদের সাথে ঠিকমতো কথাও বলছিস না?”
পুষ্প মাথা নিচু করে ফেলল মুন্নির কথা শুনে, কোনো জবাব দিল না। কিন্তু আর্য চুপ করে থাকতে পারল না, সেও একই রকম শীতল কণ্ঠে বলে উঠল—
– “ভুল বললে মিস! হোয়াট এভার, আমার ফ্লাওয়ার নিজেকে বড় মনে করতে যাবে কেন? যেখানে সে আসলেই বড়! তাই নেক্সট টাইম কথা বলার সময় ভেবেচিন্তে সঠিক কথাটা বলবে, সব জায়গায় কিন্তু আমার মতো ভুল শুধরে দেওয়ার মানুষ পাবে না।”
রাগে, লজ্জায় ও অপমানে মুন্নির মুখটা থমথমে হয়ে গেল; সে মুখটা নিচু করে ফেলল, তবুও ভিতরটা হিংসায় জ্বলে যাচ্ছে। পুষ্প এবার চাচা-চাচিদের সালাম দিয়ে কুশল বিনিময় করতে লাগল। এদিকে তার চাচাতো ভাই মুন্না কী রকম কামুক দৃষ্টিতে স্ক্যান করছে পুষ্পর আগাগোড়া! এই মেয়েকে সে কতবার ছুঁতে চেয়েছিল বাড়িতে থাকাকালীন, কিন্তু কোনো সুযোগ পায়নি! পুষ্প কোনো দিন তার সামনে আসত না, বাড়ির কাজ করা শেষ হলেই এক মুহূর্তের জন্য বাইরে থাকত না, সোজা স্টোররুমে গিয়ে দরজা আটকে বসে থাকত।
হঠাৎ মুন্নার চোখ গেল আর্যর দিকে—একদম ফিটফাট একজন সুদর্শন পুরুষ, পরনে ক্যাজুয়াল কালো প্যান্ট আর কফি কালার লং-হাতা টি-শার্ট। হঠাৎ আর্যর চোখ মুন্নার ওপর পড়তেই মুন্না চোরের মতো চোখ নামিয়ে নিল। আর্য অবশ্য এ নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামাল না, যদিও এই মুহূর্তে তার বিরক্তির শেষ নেই! একদিকে তো বাড়িতে মেহমান থাকায় একা কোথাও শান্তিতে থাকার উপায় নেই, তার ওপর আবার তার ফ্লাওয়ারের এই চাচা-চাচিকে তার মোটেও সুবিধার লাগছে না। একেকজন যেভাবে এক এক দৃষ্টিতে তার ফ্লাওয়ারের দিকে তাকাচ্ছে, তাতে তার মেজাজ খারাপ হয়ে যাচ্ছে। তার বউটা ভীষণ সহজ-সরল, এদের মতো এত প্যাঁচ সে বোঝে না—যে যা বলে, তাই সে বিশ্বাস করে। এরা যদি তার ফ্লাওয়ারের কোনো ক্ষতি করে দেয়, তখন সে কী করবে?
ছাদের কিনারে ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে সিমরান। নিচের দিকে তাকিয়ে সে দেখছে নিজের বিয়ের আয়োজন—বড় স্টেজ প্যান্ডেল করছে ডেকোরেশনের লোকজন। সিমরান অনেকক্ষণ কান্নাকাটি করার পর ছাদে এসেছে একটু একা খোলা হাওয়া খেতে। রুমেও একা থাকার মতো অবস্থা নেই, কাজিনরা সবাই মিলে আড্ডা দিচ্ছে, অথচ সে একটু একা থাকতে চায়। সিমরান যখন নিজের ভাবনায় বিভোর, ঠিক তখনই ফোনে কথা বলতে বলতে সেখানে হাজির হলো ইভান!
হঠাৎ কারো গলার আওয়াজ পেয়ে সিমরান পিছু ফিরে দেখল ইভানকে, যে তখনো ফোনে কথা বলায় ব্যস্ত সিমরানকে খেয়ালই করেনি। ইভান কথা শেষ করে ফোন কাটতেই সিমরানকে দেখতে পেল, যে অপলক তার দিকেই তাকিয়ে আছে। সিমরানকে নিজের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে ইভান তাড়াহুড়ো করে ছাদ থেকে নেমে যাওয়ার উপক্রম করল, কিন্তু সিমরানের কথায় তার পা দুটো যেন থেমে গেল—
– “আমাকে দেখে পালিয়ে যাচ্ছেন কেন?”
– “পালাব কেন? কথা শেষ হয়েছে, তাই চলে যাচ্ছি!”
কথাটা বলতে বলতে সে সিমরানের পাশে গিয়ে দাঁড়াল, তবে কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখেই।
– “বলতে চাইছেন পালাচ্ছেন না?”
– “পালাব কেন?”
– “আসলেই, আপনি কেন পালাবেন?”
সিমরানের কথা শেষে দুজনের মাঝে পিনপতন নীরবতা নেমে এল। একজন চেয়েও মনের কথা বলতে পারছে না, আরেকজন কী বলবে ভেবে পাচ্ছে না। বাতাসে যেন এক অদ্ভুত গুমোট অস্বস্তি বিরাজ করছে! নীরবতা ভেঙে ইভান বলে উঠল—
– “এই বিয়েতে তুমি খুশি তো?”
ইভানের কথাটা শুনে সিমরান অদ্ভুত এক হাসি হাসল। তার চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে করল যে সে মোটেই খুশি নয়! যাকে ভালোবেসেছে, তাকে ছেড়ে অন্য একজনকে বিয়ে করছে—সে কীভাবে খুশি হবে? তার তো যন্ত্রণায় বুক ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে, ভেতরটা কত খণ্ডে খণ্ডিত হচ্ছে! সে তো কাউকে তা দেখাতে পারে না, বোঝাতেও পারে না। নিজের সব যন্ত্রণা নিজের ভেতরে চেপে রেখে সে মুখ ফুটে বলল—
– “খুশি হব না কেন? আমার কি নাখোশ হওয়ার কথা ছিল?”
– “নাহ, তা বলতে চাইনি।”
ভীষণ অস্বস্তি নিয়ে কথাটি বলল ইভান। আর কী বলবে বা কী বলা উচিত, তা ইভানের বোধগম্য হচ্ছে না। ইভান এই পরিস্থিতি থেকে বের হওয়ার জন্য তাড়াহুড়ো করে নিচে চলে যেতে চাইল, কিন্তু সিমরানের পরের প্রশ্নটি তাকে আবার আটকে দিল—
– “যাকে ভালোবাসেন, সে খুব সুন্দর বুঝি?”
আর্য বেজায় চটে আছে—এই মেহমানদের চক্করে সে তার বউটাকে একটু কাছেই পাচ্ছে না। রাত বাজে এগারোটা, এখনো বউ রুমে আসেনি! বউকে নিয়ে একটু নিজের রুমে ঢুকলেই সবাই শুধু ডাকতে আসে। তার বউকে কেন অন্যদের প্রয়োজন পড়বে? তার বউ থাকবে শুধু তার সাথে!
সে একটু আগে বউকে রুমে রেখে গিয়েছিল আমজাদ সরকারের সাথে কিছু জরুরি কথা বলার জন্য, কিন্তু এসে দেখে বউ রুমে নেই! তাই তো তার মাথা গরম হয়ে আছে—মনে হচ্ছে, এখুনি বাড়ি ছেড়ে বউটাকে নিয়ে দূরে কোথাও চলে যায়! আর্য নিজেকে কোনো রকমে সামলানোর চেষ্টা করল। বারান্দার দিকে চোখ যেতেই সে সেদিকে এগিয়ে গেল; বাইরে হঠাৎ করে ঝড়-বাতাস শুরু হয়েছে, আর একটু পরই হয়তো ঝুম বৃষ্টি নামবে। রুমে পায়চারি করতে করতে আরও কিছুক্ষণ কেটে গেল। আর্য এবার আর না পেরে, ঠিক করল সে নিজেই গিয়ে বউকে নিয়ে আসবে।
অবেলায় ফোঁটা পুষ্প পর্ব ৪৯
যেই না সে রুম থেকে বের হবে, অমনি দৌড়ে এসে কেউ তাকে জাপটে জড়িয়ে ধরল! মুখ লোকায় আর্যর বুকে অবশ্যই আর্যর বুঝতে দেরি হলো না যে এটা তার পিচ্চি বউ, তার ফ্লাওয়ার। কিন্তু হঠাৎ কিছু একটা খেয়াল করতেই আর্য পুষ্পকে ছাড়াতে চাইল, কিন্তু পুষ্প ছাড়ল না, আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। এবার আর্য অস্থির হয়ে জিজ্ঞেস করল—
– “ফ্লাওয়ার, কী হয়েছে? কাঁদছ কেন? কেউ কিছু বলেছে?”
– “আমি আপনাকে ছেড়ে কোথাও যাবো না! আমি আপনার সাথেই থাকতে চাই, আমি কোথাও যেতে চাই না!”
