Home এক প্রণয় রাত্রি এক প্রণয় রাত্রি পর্ব ১১

এক প্রণয় রাত্রি পর্ব ১১

এক প্রণয় রাত্রি পর্ব ১১
আসিফা খান

সময় যে প্রবাহমান,,,তাহ কারোর জন্য থেমে থাকে না।পেরিয়েছে বেশ অনেক টা সময়।দিন গেছে,,গেছে রাত্রি।।সেই দিন এর পর থেকে,,, দূরত্ব বজায় রেখে চলা,এড়িয়ে যাওয়া সমস্ত কিছু আগের থেকে আরো বেশি প্রখর হয়েছে।কাছে আসবে না বলে পণ করেছে। যতটা সম্ভব ব্যবধানে থাকবে ইয়ানা।।সব কিছুর পরেও,,কি যেনো একটা মোহিনীশক্তি,,এক অদ্ভুত আকর্ষণ।।
এদিকে রিফাত এর চাপ বেড়েছে। প্রায় সময় তাকে বাহিরেই কাটাতে হচ্ছে। কিন্তু এত ব্যাস্ততার মাঝেও বার বার মনে পড়ছে ইয়ানা বলা সেই তিক্ত বুলি। মাঝে মধ্যেই ইয়ানার কথা চিন্তা করে ডুব দিচ্ছে গভীর ভাবনায়,,,আর কখনো মাথা ঝাকিয়ে সব চিন্তা দূরে ঠেলে দিতে চাইছে। কি এক অদ্ভুত ধাদায় পড়েছে সে।।মেয়েটার থেকে সেই তো দূরে থাকতে চেয়েছিল আর এখন যখন ইয়ানা নিজেই এই সম্পর্ক থেকে তাকে মুক্তি দেবে বলে জানালো তখন এই ধরনের অনুভূতি কেনো?

টিউশন শেষে দাড়িয়ে আছে আলেয়া।চারিদিক প্রায় অন্ধকার করে এসেছে। ঠাণ্ডা কালে এই এক সমস্যা। সন্ধ্যা নামে অনেক আগে।।আলেয়া চিন্তিত মুখে হাত উচিয়ে বার বার ঘড়ি দেখছে। একটা অটো তার চোখে পড়ছে না।এদিকে প্রায় সমস্ত ছাত্র ছাত্রীরা চলে গেছে নিজ নিজ গন্তব্যে।।হাড় হিম শীতল আবহাওয়ায় দফারফা অবস্থা আলেয়ার।বার বার হাতে হাত ঘষে চোখে,মুখে বলাচ্ছে।

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

এরই মাঝে কথা থেকে রকেটের বেগে এক বাইক এসে দাড়ালো ঠিক আলেয়ার পায়ের একদম সামনে।আলেয়া ভয়ে দুই পা পিছিয়ে গেলো,,,ভয়ে শরীর কেপে উঠলো। আর একটু হলে তার পা আজ শেষ!বুকে হাত রেখে জোরে নিঃশ্বাস নিয়ে সামনে তাকাতেই মেজাজ বিগড়ে গেলো,,, দাত কিড়মিড় করে বললো,,,,
“হাফিজের বাচ্চা হাপানি রোগী,,,চোখে কি মার্বেল গুলি লাগানো? নাকি হাতে বাইক পেয়ে ভেবেছো ওটা হেলিকপ্টার!যত্তসব,,,, আর একটু হলেই তো আমি পা থাকতে খোঁড়া হয়ে যেতাম।”
‘ খোঁড়া হলে তো আমারই ভালো,,,তোকে নিজের চোখের সামনে বসিয়ে রাখতে পারতাম ‘,,বির বির করে বলা কথায় নিজেই অবাক হয় হাফিজ। মেয়েটা তার মাথা প্রায় নষ্ঠ করে ফেলেছে।।হাফিজ এর বির বির করা দেখে আলেয়া আরো তেতে গেলো,,, তেড়ে এসে বাইক এর উপর ধুপ করে হাত মেরে বললো,,,”কি বির বির করছ,,,যা বলার মুখের সামনে বলো।”

“যেখানে আমার কথা আমিই নিতে পারছিনা,,,সেখানে তোকে বললে তুই হ্যাবলা হয়ে যাবি।”
“কিইই,,,কি?”
“আন্ডা!!বাইকে বস,,,”
“কেনো? আর তুমি এখানেই বা কি করছো? নিশ্চই মেয়ে পটানোর ধান্ধায় এখানে হাজির হয়েছো তাই না?বাড়ি গিয়ে ছোটো মা কে সব বলবো,,, দেখো,, ”
“অত প্রশ্ন কিসের?আর তোর মাথায় এত চিপ ভাবনা চিন্তা আসে কোথা থেকে! আমার মত হ্যান্ডসাম শেষ পর্যন্ত কিনা মেয়ে পটাবে ইসস।।বসতে বলেছি বসবি।,,,নাহলে তোর লস,,,রাস্তা ঘাট শুনসান প্রায়, একটাও অট চোখে পড়বে কিনা সন্দেহ।বাদবাকি তোর ইচ্ছে,,বসলে বস নাহলে আমি যা।”
পুরো কথা শেষ হওয়ার আগেই আলেয়া ভালো বাচ্চাদের মত হাফিজ এর বাইকের পিছনে বসে পড়ে। হাফিজ প্রথমে ঘাবড়ে গেলেও পরে সাভাবিক হয়ে যায়।। মনে মনেই হাসলো,প্রশান্তি অনুভব করছে প্রবল।।বাইক স্টার্ট দেওয়ার আগেই সতর্কতা সঙ্কেত হিসাবে বললো,,,

“ধরে বস,,,পড়ে যাবি নাহলে।”
আলেয়া নচক স্বরে বলল,,,”কিছু হবে না,,,আমি ঠিক আছি।”
আলেয়ার কথা ঠিক পছন্দ হলো না হাফিজ এর। চোয়াল শক্ত রেখে বাতাসের ন্যায় বাইক
ছোটালো মুহূর্তেই এক নরম হাত জোড়া শক্ত করে পেঁচিয়ে ধরলো হাফিজ এর কোমর। স্পর্শ পেয়ে বাকা হাসলো হাফিজ। সোজা আঙ্গুলে ঘি না উঠলে আঙ্গুল বাঁকা করতে হয়,,,কথাটা আজ চরম সত্য বলে দাবি করলো হাফিজ।

লার্জ সাইজ পিৎজা সাথে কোল্ড ড্রিঙ্কস আর ক্রিমি পাস্তা খেয়ে সন্তুষ্টির ঢেঁকুর তুললো আলেয়া। চিয়ারে গা এলিয়ে দিয়ে রুদ্ধ দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল। এদিকে তার সামনে বসে থাকা হাফিজ হা হয়ে তাকিয়ে আছে আলেয়ার দিকে। সে জানে আলিয়া অত্যন্ত রকমের পছন্দ করে জাঙ্ক ফুড,, কিন্তু তা বলে এত খাবার সে একা সাপাট করে ফেলবে সেটার সম্বন্ধে অবগত ছিলনা হাফিজ।।হাফিজ এর চাহনি বুঝতে পেরে আলিয়ে চিয়ারে ভালো করে বসে,,,মেকি হাসি দিয়ে বলে,,,
“হি হি হি,,,আসলে দুপুরে কিছু না খেয়েই পড়তে চলে গিয়েছিলাম,,,সকালের নাস্তার পর এই খেলাম সবে,,,তাই একটু বেশি খেয়ে ফেলেছি আর কি!!বাই দ্যা মেঠো পথ,,,,তুমি নামক কিপটা আজ এত বদান্য,,,ব্যাপার কি! হুঁ হুঁ,,,,”

হাফিজ আলেয়ার বাচ্চামি সুলভ কথায় অসাধারণ হাসলো। কিছুটা খারাপ ও লাগলো মেয়েটা কতটা সময় অভুক্ত।এই মেয়েটা জনেই না তার এই ধরনের আচরণে এক পুরুষ অবাঞ্ছিত ভাবে এলোমেলো হয়ে যায়।।,,হাফিজ এবার এক লম্বা শ্বাস টানলো তত্পর শান্ত স্বরে বলল,,,,”চাকরি হয়েছে আমার। আমার সবর আর কষ্টের ফল আল্লাহ আমায় দিয়েছে আজ আলু।”

এতক্ষণ ছটফটে আলেয়া সহসা শান্ত হয়ে গেলো। কেমন নিবিড় দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে হাফিজ এর দিকে,,,তত্পর ঝট করে চেয়ার ছেড়ে উঠে হাফিজের সামনে গিয়ে দাঁড়ালো,,হাফিজ কেও টেনে দাড় করিয়ে উৎফুল্লতার সাথে আলেয়া ঝাপটে ধরলো হাফিজ কে।। আলেয়া দেখেছে হাফিজ এর প্রতিকুল অবস্থা,,, দিন রাত এক করে হাফিজ এর প্রস্তুতি দেখেছে সে,,,তাই তো এখন হাফিজ এর সাফল্যর কথা শুনে নিজেকে সামলে রাখতে পারল না। ছোট্ট পবিত্র মনে,কোনো রকম জিলাপির প্যাচ ছাড়াই সান্নিধ্যে গেলো হাফিজ এর।

এদিকে হাফিজ এর অবস্থা কাহিল।বিবশ হয়ে গেলো মুহূর্তেই,,,বুক কেপে উঠল,,,কপালে মুহূর্তেই বিন্দু ঘাম জমতে শুরু করেছে,গলা কেমন শুখিয়ে আসছে। আশেপাশের মানুষ জোন খাওয়া ছেড়ে মিটমিট করে তাদের দিকেই তাকিয়ে আছে।। হাফিজ এবার নিজেকে শান্ত রাখতে গলা কেশে নিজেদের টম এন্ড জেরি পর্ব শুরু করার জন্য আলেয়ার উদ্দেশ্যে বলে বলে,,,,
“ওরে চতুর,,,ফকির কিন্তু আমি একবারই খাওবো,,তাই এইসব করে কোনো লাভ হবে না।”
আলেয়া এবার ঠোঁট বাঁকা করে মাথা তুললো,,,সজোরে এক ঘুষি মারলো হাফিজ এর বুকে।সঙ্গে সঙ্গে হাফিজ বুকে হাত রেখে আর্তনাদ করে বললো,,,,”আহ্,,,,আলু।”

কাল প্রায় মাঝ রাতে রিফাত বাড়ি ফিরেছে। ক্লান্ত শরীর বিছানায় মেলে ধরতেই রাজ্যের ঘুম এসে চোখ জুড়ালো। এখন বাজে সকাল ৮.১০ এর কাছাকাছি। বিছানা ছেড়ে আড়মোড় ভেঙ্গে উঠে বসল রিফাত।আজ বেশ ফ্রেশ অনুভব হচ্ছে তার,মেজাজ টাও বেশ মনোরম।। ফ্রেশ হয়ে গায়ে জেকেট জোরালো তত্পর এসে দাড়ালো তার ব্যালকনিতে। স্নিগ্ধ বাতাসে শাস টানলো,,,চোখ ঘুরে না চাইতেও ইয়ানার ব্যালকনির দিকে দৃষ্টপাত করলো,,,নানান রকমের ফুল দিয়ে সাজানো মেয়েটার ব্যালকনি,ফুলের সমাহার এর সাথে টমেটো গাছ ও রয়েছে তাতে প্রায় চারটা মত টমেটো ফোলেছে আরো আছে লঙ্কা গাছ সেখানেও ডজন খানেক সবুজ ছোট বড় লঙ্কা হয়ে আছে।।রিফাত বেশ মুগ্ধ হলো ইয়ানার কর্মের প্রতি,,,ছোটো বেলা থেকেই মেয়েটা আলাদা,,,,তার সখ, আশা,আকাঙ্ক্ষা খুবই সীমিত।অল্পতেই সন্তুষ্ট।।

কারোর গলার স্বর পেয়ে রিফাত মাথা নোয়ালো। দেখলো ঠিক তার সামনে রাস্তায় ইয়ানা দাড়িয়ে আছে সাথে আছে পাশের বাড়ির ছেলেটা। বেশ কয়েক বার চোখে পড়েছে ছেলেটা রিফাত এর,,,কিন্তু ইয়ানা র সাথে ছেলেটার কি কথা থাকতে পারে?কি সুন্দর হেসে হেসে কথা বলছে ইয়ানা ছেলেটার সাথে,,,কই তার সাথে তো এরকম করে কথা বলে না!রেলিং এ রাখা হাত শক্ত হলো রিফাত এর।না চাইতেও এক সুপ্ত রাগ কাজ করছে ইয়ানার প্রতি।। তারা রিফাত কে খেয়াল না করলেও রিফাত তাদের সম্পূর্ণ দেখতে পাচ্ছে এবং তাদের কথা শুনতে পাচ্ছে পরিষ্কার ভাবে,,,এরই মধ্যে রিফাত শুনতে পেলো ছেলেটির কণ্ঠ,,,,

“আচ্ছা ইয়ানা,,,তোমাদের বাড়ি কিছুদিন আগে যে ভাইজান টা এসেছে সে তোমার কে হয়।”
ইয়ানা কিছুক্ষন মাথা নিচু করে ভাবলো,,,এদিকে রিফাত ও কান খাড়া করে আছে ইয়ানার উত্তর শুনবে বলে।।কান যেনো বিদ্রোহ করে বলছে ‘ হাসবেন্ড,,,হাসবেন্ড,,,হাসবেন্ড ‘,,নিজের চিন্তায় নিজেই অবাক হয়ে রিফাত।,,,ইয়ানা এবার রিফাত কে দ্বিগুণ অবাক করে দিয়ে বলল,,,
“উনি আমার কাজিন হয়,,,,আর এই বাড়ির বড়ো ছেলে উনি সিয়াম ভাই। এত দিন ডক্টরি পড়ার সুবাদে তিনি বিদেশ ছিলেন,,,অবশ্য আপনি কি ভাবে জানবেন আপনারাতো এখানে এসেছেন মাত্র দেড় বছর।”

ভীষণ মিষ্টি করে কথা গুলো বলে উঠলো ইয়ানা। সিয়াম নামক ছেলেটিও সন্তুষ্টি প্রকাশ করলো ইয়ানার কথায়।। এখানে আসার দ্বিতীয় দিনের সকালে সিয়াম ইয়ানা কে তাদের ছাদে দেখেছিল,,,ছোট্ট খরগোশ ছানার সাথে মন মাতিয়ে গল্প মশগুল ছিল মেয়েটি,,, ব্যাস সিয়াম বাবাজি হৃদয় হারা হলেন। ইয়ানার সাথে আগ বাড়িয়ে কথা, মিশির কথা শুনে নিজেও একটা বিড়াল পোষে যাতে করে তাদের বন্ডিং আরো গভীর হোক।
এদিকে রিফাত রাগে অগ্নিশর্মা। ইয়ানার কথা শুনে সে প্রায় ফুসছে ,,,এই রাগের কারণ কি শুধুই তাকে কাজিন বলা নাকি ছেলেটার সাথে হেসে হেসে কথা বলার জন্য,,,,না না দুটোই!! একসাথে দুই কারণে বেজায় ক্রুদ্ধ।। হুট করেই রিফাত এর এরকম ক্লেশের অর্থ বুঝ আসলো না।।,,চোয়াল শক্ত করে জোরে নিঃশ্বাস ফেলতে লাগলো।শুধু ইয়ানা কে এক বার হাতের কাছে পেলে হয়।

মিশি কে কোলে নিয়ে ইয়ানা সিড়ি বেয়ে উপরে উঠলো,,,মুহূর্তেই মিশি লাফ দিয়ে নেমে গেলো,,হয়তো রেগে আছে ইয়ানার উপর। সিয়াম এর বিল্লুর সাথে মিশির প্রেমের মাঝে হিটলার হয়ে দাঁড়ানো ইয়ানা কে মিশি প্রায় এড়িয়ে গেলো।।ইয়ানা হা হয়ে রইলো মিশীর আচরণে।
“প্রেম যে কঠালের আঠা,,,বাক্য টা শুধু মানব জাতির উদ্দেশ্যে নয় তাহ আজ বুঝলাম।”
ইয়ানা কথা গুলো বলতে বলতে আপন মনেই হেঁটে যাচ্ছিল। কিন্তু ক্ষণিকের মধ্যেই কেও ইয়ানার হাত ধরে হ্যাচকা টেনে কোনো এক রুমের মধ্যে নিয়ে আসে। আচমকা টানে ইয়ানা ঘাবড়িয়ে যায়,,,ভয়ে বুক ধক করে উঠল তার,,,দীর্ঘ প্রশ্বাস টানতে টানতে সামনে তাকাতেই দেখলো রিফাত তার হাত দুটি দেওয়ালের সঙ্গে চেপে ধরে রক্ত চক্ষু মেলে তার দিকেই তাকিয়ে আছে।। ইয়ানা এবার জমে গেলো,,,রিফাত তার এত কাছে থাকতে শিরদাঁড়া বেয়ে শীতল স্রোত নেমে গেলো। পেট কেমন মোচড় দিয়ে উঠলো। কিন্তু লোকটার হলো কি? ভাব সাব এমন কেন? কিছু বলে ওঠার আগেই রিফাত চোয়াল শক্ত করে আরও ঝুঁকে গেলো ইয়ানার দিকে দাতে দাঁত পিষে বলে,,,

“আমি তোমার কাজিন?”
ইয়ানা রিফাত এর প্রশ্ন শুনে কিছুটা বিস্মিত হলো,,,তত্পর নিজেই ভ্রু নাচিয়ে পাল্টা প্রশ্ন ছুড়লো,,,,
“তাহলে আপনিই বলুন,,,আপনি আমার কে?”
রিফাত কিছুটা থম মেরে গেলো,,,ভারী চেহারা হালকা হয়ে আসলো। দৃষ্টি শান্ত হলো। ইয়ানার প্রশ্ন তাকে ভিতর থেকে ঝাকিয়ে তুললো।। প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেলো না রিফাত।। রিফাত এর ভাব ভঙ্গিমা দেখে ইয়ানা তাচ্ছিল্য হাসলো। নিজের হাত ছাড়িয়ে নিতে নিতে বলল,,,
“যেদিন নিজের প্রশ্নের উত্তর নিজে খুজে পাবেন সেই দিন প্রশ্ন করার অধিকার পাবেন।। আর এত প্রশ্নের বা কি আছে! থাকুন না নিজের মত।।,,,এই ইয়ানা কোনো দিন আপনার কাছে কোনো রকম এর অধিকার চাইবে না,,,,আর আশা করি আপনিও আপনার লিমিট ক্রস করবেন না।”

এক প্রণয় রাত্রি পর্ব ১০

হাত ছাড়িয়ে বেরিয়ে গেল ইয়ানা। রিফাত অবাক,,,নিজের উপর নিজেরই ভীষণ রাগ উঠছে তার। ইয়ানার এই ধরনের আচরণ তার সহ্য হচ্ছে না। রাগে শরীর কেপছে তার,,,ছোট বেলাকার ইয়ানা আর এখন মুহূর্তেই চলে যাওয়া ইয়ানার মধ্যে শত পার্থক্য খুঁজে পাচ্ছে রিফাত।। সে তো বিদেশ থেকে ভেবেই এসেছিল,,দেশে ফিরেই সে এই মেয়েটা কে শরিয়তি তালাক দেবে, মুক্তি হবে নিজেও আর মুক্তি দেবে মেয়েটাও। কিন্তু এখন এমন কেনো হচ্ছে তার! মেয়েটার মুখ থেকে মুক্তি পাওয়ার কথা নিমপাতার থেকেও বেশি তিতা লাগছে কেনো?,,,যখনই মেয়েটার থেকে দূরে যাওয়ার চেষ্টা করে তখন তার থেকে শত গুণ বেশি কাছে চলে আসে।। কেনো?

এক প্রণয় রাত্রি পর্ব ১২