এক প্রণয় রাত্রি পর্ব ২৮
আসিফা খান
গাড়ীর সিটে হেলান দিয়ে বসে আছে ইয়ানা।। মুঠো ফোনে সময় দেখাচ্ছে রাত বারোটা বেজে দশ মিনিট।। রিফাত নার্সিংহোমে ঘুকেছে অনেকক্ষণ।। ইয়ানা কে গাড়িতে বসিয়েই সে ভিতরে ঢুকেছে,,,অবশ্য ইয়ানার ও খুব একটা ভিতরে যাওয়ার মন ছিলো না।। ধীরে ধীরে রাস্তা ঘাট সুনসান হয়ে আসছে।। মানিবশুণ্য পরিবেশ বাড়ছে। আকাশের পূর্ণ শুভ্র চাঁদ ও লুকাচ্ছে বৃহৎ বৃক্ষের আড়ালে।। শরীর ছমছম করে উঠলো ইয়ানার।। এমনিতেও নিজের করা আচরনে মারাত্মক লজ্জিত ইয়ানা।। তখন যে আর কি হয়েছিল তাহ সে নিজেও জানেনা।। আসার পথে সারা রাস্তা ইয়ানা চুপ ছিল,,,নজর ফিরিয়েও তাকায়নি তার পাশে বসা পুরুষটির দিকে।। কিন্তু অনুভব করতে পারছিল রিফাত এর কোণা চোখের চাহনি।।
তখন করা রিফাত এর স্পর্শের কথা মাথায় আসতেই ইয়ানা ঝাকুনি খেলো।। বিভোরে নিজের শরীর আঁচল খামচে ধরলো।। আবারো চোখ উঠিয়ে আসে পাশে তাকালো।। একটা মানুষও তার চোখে পড়ছে না। দূরে দাড়ানো বেশ অনেক গুলি কুকুর দেখলো ইয়ানা।। গলা শুকিয়ে আসছে তার। কেমন গা চমকানো পরিবেশ।।
প্রায় আধা ঘণ্টা পর নার্সিং হোম থেকে বেরিয়ে এলো রিফাত।। কিছু রিপোর্ট চেক করে নার্সদের ডিটেলস বুঝিয়ে হাজির হলো সে।। সময় ব্যায় না করে গাড়ির ড্রাইভিং সিটে বসলো। দরজা লাগানোর ধরাম শব্দে চমকে উঠলো ইয়ানা। বুকে হাত রেখে সজোরে নিঃশ্বাস ফেলছে সে।। রিফাত ভ্রু কুঁচকে বললো,,,
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
“ভয় পেয়েছো?”
“ন না মানে,,,কিছুটা।”
“কিছুটা না অনেক টাই,,,,কপাল গামছে কেনো?”
ইয়ানা ঝটপট শাড়ির আঁচল দিয়ে পুরো মুখমন্ডল মুছে ফেললো মুহূর্তে। রিফাত সবটাই পরখ করলো।। ভয়ে জর্জরিত ইয়ানার মাসুম চেহারা দেখে রিফাত মনে মনে প্রশান্তি অনুভব করছে,,, সিটে পিঠ ঠেকিয়ে দিয়ে মাথা রাখলো,,চোখ বন্ধ করে গভীর নিশ্বাস ফেললো। সত্যি সে ক্লান্ত।। তত্পর গম্ভীর স্বরে বলল,,,
“রাত বাড়ার সাথে সাথে নিরীহ প্রাণীরা অনেক কিছুই দেখতে পায় যাহ মনুষ্য দৃষ্টির বাইরে,,,তাই দেখো দূরের কুকুর গুলো কেমন চিৎকার করছে।”
ইয়ানা চোখ বড় করে তাকালো রিফাত এর দিকে। তত্পর দূরে তাকালো। সত্যি অনেক গুলি কুকুর একে অপরের সাথে লাগাই করে চিৎকার করে ডেকে উঠছে,,,কিন্তু অবুঝ ইয়ানা রিফাত এর কথায় বিশ্বাসী হয়ে ঠোঁট ফুলিয়ে বললো,,,
“কি দেখতে পায় তারা?”
রিফাত ঝপ করে গাড়ির বাতি নিভিয়ে দেতেই ইয়ানা কেপে উঠে।। নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে যায় রিফাত এর কাছে। রিফাত ঠোঁট বাঁকায়। চোখ মেলে তাকায় তার পাশের রূপসী অবয়বের দিকে। মেয়েটার কি জাদু জানে? মাঝে মাঝে এই প্রশ্ন হার্ট সার্জেন রিফাত হোসেন এর মাথায় আসে।। তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে এই মেয়ে। জীবনের প্রথমবার নিজের সিন্ধন্তের খেলাফ হয়েছে শুধুই এই রহস্যময়ী কন্যার জন্য।। কি আছে অপরিপক মেয়েটির মাঝে? হাতে গোনা দশ বছরের ছোট এই মেয়ে যে এখনও অসম্পূর্ণ,নিরীহ।। এই যে এই মুহূর্তে,,,ভয়ে কেমন সিটিয়ে এসেছে রিফাত এর কাছে। চোখে মুখে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।। রিফাত শুধুই দেখলো।। ত্রাসে ঘামছে ইয়ানার গলা,কাধ যা জড়িয়ে রাখা শাড়ির আঁচলের ফাঁক থেকে খুব সহজে লক্ষ্য করতে পারছে।। অস্থির লাগছে রিফাত এর। সময় ব্যায় না করে ঝটপট প্যাচানো শাড়ির আঁচল সরিয়ে দিলো সে। পকেট থেকে রুমাল বের করে মুছে দিতে লাগলো ইয়ানার ঘামার্ত উন্মুক্ত স্থান।। ইয়ানা ঘাবড়িয়ে গেল,,,লজ্জা পেল বিশাল।। কিন্তু তাহ স্থাই হলো না বেশিক্ষণ,,,রিফাত শান্ত কন্ঠে বলল,,,
“আল্লাহর এবাদত এর জন্য মানুষ ছাড়াও আরো একটি মাখলুক আছে,,,তারা কে ইয়ানা!”
ইয়ানা দাতে দাঁত পিষে,,,ভারিক্কি নিশ্বাস ফেলছে।। থরথর করে কাপছে বদন। ইয়ানা চোখ বন্ধ করে আঁকড়ে ধরল রিফাত এর পেশী বহুল বাহু। মিনমিনে কন্ঠে বলল,,,
“বাড়ি ফিরে চলুন। আমি বাড়ি যাবো।”
“আমি তো রিফাত নোই ইয়ানা।”
ব্যাস আসমান থেকে পড়লো ইয়ানা।। হুহু করে কেঁদে উঠলো এবার।। ছোট্ট হাতের ধরলো নখ দাবিয়ে দিলো রিফাত এর হাতের পিঠে।। তত্পর ঝটকা দিয়ে সরে গেল। হাত পা গুটিয়ে নিজের সিটের একদম কোন ঘেঁষে বসলো।। ভয়ের চোটে হুস হারিয়েছে সে।। কান্নার শব্দে মুখরিত হলো পরিবেশ।। সিটের সাথে মিশে গেছে ইয়ানার ছোট্ট শরীর।। চোখ মেলে তাকাচ্ছে পর্যন্ত না।।রিফাত কোনো কথাই বললো না। শুধুই দেখলো ইয়ানার দেওয়া ক্ষতোর দিকে,জ্বালা অনুভব করছে। সাদা পাতলা চামড়ায় গভীর নিখের দাগ,লাল হয়ে গেছে।। কিন্তু সব কিছু ভুলে,,মনে প্রাণে উপভোগ করছে সে ইয়ানা কে।। পেট ফেটে হাসি আসছে তার।। কিছুটা হাসলো কিন্তু শব্হীন।। মেয়েটার সব রূপ সে দেখবে।। রাগ,জেদ,ভয়,কান্না সব,সমস্ত কিছু।। ডোর লক করে গাড়ি স্টার্ট দিলো।।
বাড়ির গেটের সামনে গাড়ি থামতেই রিফাত তাকালো ইয়ানার দিকে।। বাচ্চাদের মত জ্ঞান হারিয়ে ঘুমে আচ্ছন্ন সে। গভীর ঘুমে।। মেয়েটাকে জাগিয়ে তুললে পাপ হবে।। নিজে নেমে স্লিপিং বিউটি কে আলগোছে টেনে কোলে তুলে নিলো।। পা থামলো বিছানার কাছে এসেই।। শুইয়ে দিলো আলতো করে।। চোখের কোনে নোনা জলের রেখা নজর এড়ালো না রিফাত এর।। শাড়ির পিন খুলে টেবিলে রাখলো। ধির গতিতে পুরো শাড়ি খুলেই ঝটপট পাতলা চাদরটা টেনে দিল ইয়ানার দেহে।। এই রকমের ভারী শাড়ি পরে শান্তির ঘুম অসম্ভব ভেবেই এই কাজ করলো সে।। তত্পর নিজেও ফ্রেশ হয়ে শুয়ে পড়ল ইয়ানার পাশে।। ক্লান্ত শরীর যেনো বিছানাই চাইছিল। নিমিষেই ঘুমে আচ্ছন্ন হলো রিফাত। ঘুমের ঘোরে টেনে নিলো ইয়ানা কে। হাত রাখলো উন্মুক্ত নরম মেয়েলি অবয়বে।। কেপে উঠলো ইয়ানা নিজেও।।
ঘুমের রেশ কাটতে কাটতে বেজে গেল সকাল সাড়ে নয়টা।। উঠে বসে চোখ মেলে ঘুম ভাগানোর চেষ্টা করল কিছুক্ষণ।। চুল হাত খোঁপা করে চোখ গেলো নিজের পানে।। আঁৎকে উঠলো ইয়ানা।। হিম হয়ে গেল দেহাবশেষ।। নিজের অবাঞ্চিত রূপে কাহিল হলো।। এদিক সেদিক তাকিয়ে দেখলো রুম ফাঁকা। চট জলদি পাতলা চাদরটা নিজের শরীরে জড়িয়ে নিলো।। রন্দ্রে ছুটে যাচ্ছে শীতলতা।। চোখের কোন ভরে গেছে নিমিষেই।। হুট করেই নজর কাড়ে টেবিলে রাখা কাগজের দিকেই। হাত বাড়িয়ে কৌতুহলী হয়ে কাগজ খুলতেই দেখলো পেলো কিছু লেখা,,,,
“ব্যাক্তিগত বরের সাথে দীর্ঘ রজনী কাটিয়ে সকালে নিজেকে নাজুক অবস্থায় দেখে মেয়েরা লজ্জায় লাল হয়।। কিন্তু তুমি ভয় পাচ্ছো,,,জানি।। ভয়ের কিছু নেই। ছোট্ট শরীরে ভারী শাড়ি পড়ে ঘুমানো কঠিন ভেবেই কাল রাতে তোমায় শাড়িহীন করেছি তবে নিবস্ত্র নয়।। স্টুপিড।”
পুরো বদনে ছড়িয়ে পড়ল কম্পন।।লালিমায় স্পষ্ট হলো শুভ্র গাল।। আজ কাল সে রিফাত কে নব রূপে আবির্ভূত করছে। দেখছে একদম আলাদা রিফাত কে।। একটু নির্লজ্জ, খানিক আদুরে এবং বিশাল অনুরাগ মিশ্রিত এক হৃদয় লুটেরা।।
সকাল দশটায় জামাইয়ের হাতে ভারী নাস্তা,মিষ্টি,ফল দেখে অবাকের চরম অস্থিরতায় পৌঁছালো আতিকার মা।। আহিল্ সমস্ত কিছু নিজ দায়িত্বে ডাইনিং টেবিলের উপর রেখে সোফায় বসল।। এদিকে আতিকার বাবা,মা পেরেশান। নতুন জামাই এ ভাবে, হুট করে চলে আসাতে ঘাবড়িয়ে গেছে তারা।। কিছু আয়োজন নেই। কি করবে,কি না করবে ভেবেই কাহিল অবস্থা তাদের।। আহিল বুঝলো সবটাই। আতিকার বাবার হাত ধরে বসিয়ে নিলো নিজের কাছে,,,তত্পর খুবই সুন্দর ভাবে বললো,,,
“বউ মেয়ে হতে পারলে জামাই ছেলে কেনো নয় আংকেল? দেখুন তো কেমন অস্থির হচ্ছেন আপনারা।। এটা কিন্তু ঠিক নয়।”
আতিকার বাবা কিছুটা হেসে,,,আমতা আমতা করে বলল,,,” আসলে নতুন জামাই তুমি,,,তোমার আদর যত্নে ত্রুটি আমাদের ভালো লাগবে না। তাই একটু!”
“তাহলে পুরনো হলে তারপর আসবো এখানে তাই তো!”
“ইসস না না বাবা,,,আমি এমন টা বলতে চাইনি।। তুমি এসেছ আমরা প্রচুর খুশি হয়েছি।। আনন্দ লাগছে।।”
“শুনে খুশি হলাম আব্বু।। কোনো টেনসন করবেন না,,,আপনারা জামাই আদর করবেন আর আমি একটু শ্বশুর বাড়ি আদর করতে পারবো না! ”
“পারবে। অবশ্যই পারবে বাবা।। এই আতিকার মা যাও দেখি জামাই এর জন্য চা করো।।”
স্বামীর আদেশে ছুটলো রান্না ঘরে।। এদিকে আহিল এর চোখ দুটো যে খুজ্জে তার প্রিয়তমা কে। উসখুস করছে মন। মেয়েটার জন্যই তো সকাল সকাল জামাই সেজে হাজির হলো শ্বশুর বাড়িতে।। কোনো ভাবেই নিজের নাজেহাল মন সে ধরস্থ করতে পারলো না।। আতিকার বাবা সোফা থেকে উঠতে উঠতে আমতা করে বলল,,,
“আতিকা রুমে আছে। কি করছে কে জানে! আমি বরং একটু বাহিরে যাই,,,এই সময় গরম গরম জিলাপি পাবো। ভীষণ ভালো লাগবে খেতে। আহিল বাবা আমি আসি এখনি,,,,,”
আহিল সম্মতি জানালো মুচকি হেসে।। এদিকে তার শ্বশুর মশাই ইনডাইরেক্টলি তাকে আতিকার রুমে যাওয়ার পারমিশন দিলো তাহ বেশ ভালই বুঝলো চালক আহিল।। ঠোট কামড়িয়ে পা বাড়ালো এই কাঙ্ক্ষিত মানুষটির রুমে।।
আতিকা ওঠেছে অনেক আগেই। কিন্তু বিছানায় শুয়ে শুনে ফোন ঘটছিল সে। আলসেমি তে জর্জরিত বদন কোনো রকম ঠেলে ওয়াশরুমে নিয়ে গেলো। ব্রাশ করে, মুখ হাত ধুয়ে সব বেরিয়েছে কি সাথে সাথেই রুমে কাওকে প্রবেশ করতে দেখে এক পলক তাকাতেই ভিমড়ি খেলো।। অবিশ্বাস নজরে তাকিয়ে রইল আহিল পানে।। লোকটা ধির গতিতে তার দিকেই এগিয়ে আসছে।। একদম তার সম্মুখে দাড়াতেই আতিকা হা হয়ে তাকিয়ে রইল। হুস ফিরল যখন আহিল হালকা ফু দিলো আতিকার ভেজা মুখ মণ্ডলে। আতিকা চমকে উঠলো। আকুল হয়ে বলল,,,
“আপনি!”
“বিশ্বাস না হলে ছুঁয়ে দেখো। মানা নেই”
ঢেউ খেলানো চিত্তে।। নিজের অবস্থা দেখে ছুটে গিয়ে বিছানা থেকে ওড়না নিয়ে গলায় জড়ালো। আহিল ছোট ছোট দৃষ্টি নিয়ে তাকালো কিয়ৎকাল ।
তত্পর নিজেই আতিকার কোমর আকড়ে ওড়না টেনে সরিয়ে নিল।। আতিকা চমকে উঠলো।চমকপ্রদ চাহনি নিক্ষেপ করল। আহিল সেদিকে পাত্তা দিল না। গম্ভীর স্বরে বলল,,,
“বিয়ে হয়েছে আমাদের। হালাল তুমি আমার জন্য।। তোমার শরীর,মন সবটাই জাস্ট আমার।। এটা তোমার জায়গায় আমার রুম হলে,,ওড়না কি! এই কামিজ টুকুও রাখতাম না।।”
চোখ বড় করে তাকালো আতিকা। দম দন্ধ হয়ে যাওয়ার মত কথাতে সে হিমশিম খাচ্ছে।। ইসস,,,এরকম কথা কেও বলে! আতিকা রীতিমত ভাষা হারিয়ে ফেলেছে।।
“যখন একান্তে তুমি আমি থাকবো,,,তখন বেশি ফর্মালিটির প্রয়োজন নেই।। মনে থাকবে?”
আতিকা নতজানু হয়ে কাপা কন্ঠে বলল,,,”থা.. থাকবে।”
“গুড।। জানো,,,তোমার জন্য! শুধুই তোমার জন্য আমি আজ কাল ডক্টর থেকে রোগী তে পরিণত হচ্ছি।।রোগী বউ নামক ওষুধ ছাড়া কিছুই মানে না।।”
কিছুটা আবেগী কন্ঠে কথা গুলি বললো আহিল। আতিকা চোখ মেলে,ভ্রু কুঞ্চিত করে শুনলো সবটাই।। তত্পর কি ভেবে ফিক করে হেসে উঠলো সে।। আহিল আলগোছে আরো কাছে টেনে নিল। মিশে গেলো দুই জন।। চোখে মুখে ঘোর লেগে আসলো আহিল এর,,,ঘন শ্বাস ফেলে। হৃদয় কুকড়ে যাওয়া কন্ঠে সুধায়,,,
“হেসো না জান।। তোমার হাসি আমায় প্রভোক করছে।”
এক নিমিষেই শরীরে কারেন্ট ছুটে গেলো আতিকার। মিলিয়ে গেলো তার হাসি।। শুকনো ঢোক গিলতে আরম্ভ করলো।।,,,কিন্তু থেমে নেই আহিল হাত বেসামাল ছোঁয়া আতিকার কামিজ ভেদ করছে অনেক আগেই।। আতিকা সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে পারছে না। শরীর নেতিয়ে আসছে।।,,,কোনো রকম ভাবে ঠোঁট নাড়িয়ে বললো,,,
“দরজা খোলা,,,,,”
আহিল বাঁকা হেসে বলল,,,”তোমার প্যারেন্টস জানে,,, নিউলি ম্যারিড কাপল দের রুমে নক ছাড়া প্রবেশ করতে নেই,,,তাতে আমাদের থেকে বেশি তারা লজ্জায় পড়বে।।”
আতিকা এবার পূর্ন দৃষ্টি নিয়ে তাকালো তার পুরুষের দিকে। সাভাবিক হওয়ার জন্য বললো,,,”কখন এসছেন আপনি?”
“বেশিক্ষণ হয়নি।। তোমার মা আব্বু তো আমাকে দেখেই অস্থির।। কিন্তু তাঁরা এটা জানে না,আমার এরকম হুট করে আসার কারণ তাদের মেয়ে।”
“আমি! আমি কি করেছি?”
“অশান্ত, অধৈর্যশীল।। মন চাইছে তোমাকে আজকেই আমার বাড়ি নিয়ে চলে যাই।”
ভীতিকর হয়ে উঠলো আতিকার মন।। চোখ মুখ ভার করলো।। মা বাবা ভাই কে ছেড়ে যাওয়ার কথা শুনেই বুকটা ভরে উঠলো।। রিফাত বুঝলো প্রিয়তমার চোখের ভাষা।। ধির গতিতে হাত গলিয়ে দিলো ঘাড়ে। আঁকড়ে ধরলো মেয়েটির নরম গাল।।
ফিসফিসিয়ে বললো,,,
“এখন সাথে নেবো না জানেমান।। নির্ঘুম রাত কাটাতে নিজেকে তৈরি কোরো আমি কিন্তু মোটেই দরদী নোই।।,,, নও আই ওয়ান্ট এ কিস,,, এ ডিপ লিপ কিস।”
আহিল এর এহেন বাক্য বিনিময় আতিকার অস্তিত্ব কে ঝালাফালা করে দিতে সক্ষম ছিল।। চুপ চাপ ঠাই রইল। শরীর শিউরে উঠছে তার।। কিন্তু ছাড়া পাওয়ার উপায় নেই কিন্তু তাও চেষ্টা চালিয়ে দেখলো। মিনমিনে কন্ঠে বলল,,,
“মা মনে হয় ডাকে,,,,”
আহিল ধরতে পারলো মেয়ের চালাকি।। এক ঝটকায় আতিকা কে লাগিয়ে ধরলো দেওয়ালের সাথে।। দৃষ্টিশীল কাধে মাথা নামিয়ে নাক ঘষতে ঘষতে মৃদু স্বরে বলল,,,
“নো! নো ওয়ে মিসেস। ডোন্ট বি সো স্মার্ট।। ভুল করলে,,,তুমি দিলে সময়ের অপচয় কম হত।। এবার আমায় থামানোর অযথা চেষ্টা করবে না।।”
একলহমায় মিললো চার অধর।।উন্মাদের মত চলছে আহিল এর ওষ্ঠ জোড়া।। কাহিল অবস্থা আতিকার।মাতোয়ারা ছোঁয়ায় স্বস্তির নিঃশ্বাস নিচ্ছে সে। কোমরে চাপ অনুভব করছে বিশাল।। অমৃত সুধা পানে ব্যাস্ত আপন পুরুষকে বাঁধা দিতে পারছে না আতিকা।। পুরুষালী হাতের বাঁধাহীন স্পর্শ দেহের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে পড়েছে।। মেয়েলি অবয়বে মজে থাকা আহিল কোনো বরণ মানলো না।। ব্যাথায় কঁকিয়ে অস্পুষ্ট শব্দ করলো আতিকা।। চোখ খিচে বন্ধ করে নিজেকে সংযত রাখতে মরিয়া হয়ে পড়েছে সে।। আহিল বুঝলো তার রুক্ষ ছোঁয়ায় ব্যাথিত তার প্রিয়তমা।। ঘন শ্বাস ফেলে জড়িয়ে ধরলো তাকে বুকের মাঝে।।
“এই টুকুতেই হার মানলে চলবে না। সহ্য ক্ষমতা বাড়াতে হবে। আমি তোমার কাছে প্রচুর অসভ্য।”
দীর্ঘক্ষণ পর রুমে প্রবেশ করলো ইয়ানা।। তৎক্ষণাৎ বেজে উঠলো ফোন।। কটু শব্দে মুখরিত হলো পরিবেশ। বিরক্তিতে কপাল কুঁচকে আসলো।। ঝটপট হেঁটে ফোনের দিকে দৃষ্টিপাত হতেই ঠোঁটের কোণে দখল করলো সূক্ষ হাসি।। থৈথৈ করে উঠলো অনুভূতিরা।। কেটে গেলো ফোন। সো হলো চারটা মিসকোল।। বুক ধড়পড় করে উঠলো। মানুষটা এতবার কল করেছে তাকে।। রাগ হলো নিজের উপর।। দ্রুত গতিতে ফোনের লক খুলে ঘুরিয়ে ফোন করার আগেই পুনরায় তাহ কটু শব্দে বেজে উঠলো,,,,
এক ঢোক গিলে,,কাপা কাপা হাতে রিসিভ করে কানে নিতেই শুনতে পেলো কড়া ধমক,,,
“ফোনটা নিয়ে ফ্লোরে আঁচড়ে মারো বেয়াদব।। কোথায় থাকো হ্যাঁ:,,,এমন ফোন রেখে লাভ কি!যেখানে সময়ে পাওয়া যায়না! পাগল পেয়েছো,,,কাজ ছেড়ে সারাদিন ফোন দিতে থাকবো তোমায়।।”
ইয়ানা কিছু বলতে চেয়েও পড়লো না।রিফাত এর কন্ঠ শুনে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। আমতা আমতা করতে করতেই শুনতে পেলো ছেলেটার দ্বিতীয় ধমক,,,
“নাকি রাতে শাড়ি খুলে দিয়েছি ভেবে লজ্জায় ইগনোর মারছো,,,যদি তাই হয় তাহলে আমার থাকে খারাপ কেও হবে না।। এরপর বাকি টুকুও শরীরে রাখবো না,,,সবটাই খুলে আলমারিতে সাজিয়ে রাখবো।। স্টুপিড একটা।”
রিফাত ভয়ংকর হুমকি এবং ধমক শুনে কান থেকে গরম ধোঁয়া নির্গত হচ্ছে ইয়ানার।। ছিঃ ছিঃ ছিঃ,,,কি সব শুনলো সে।। শরীর দুলে উঠলো। চোখ মুখ শুকিয়ে গেলো ক্ষণেই।। গলা জড়িয়ে আসছে। শব্দ উচ্চারণ করতে বেগ পোহাতে হচ্ছে তার।।ইয়ানা কে চুপ থাকতে দেখে গজরে উঠলো,,,,
“কি হলো কিছু বলছো না কেনো মাথামোটা?”
“আ আমি নিচে ছি ছিলাম আর ফোন রুমে।”
“তো কি! তোমার এই মহৎ কাজের জন্য কি এখন অস্কার দিয়ে সম্মান জানাবো?”
ইয়ানা বুঝলো বিশাল ক্ষেপেছে তার ডাক্তার সাহেব।। ঠোট কামড়িয়ে হালকা হেসে,,মিহিয়ে যাওয়া কন্ঠে বলল,,,”দিলে মন্দ হয়না,,,আপনার বউ অস্কার বিজয়ী হলে আপনিও তো গর্বিত হবেন।”
রিফাত একবার চেঁচিয়ে উঠলো,,,জোরালো তর্জন তুলে,,, হিষহিষিয়ে বললো,,,,”মজা হচ্ছে আমার সাথে?ইয়ার্কি মারছো স্টুপিড।। থাপড় দিয়ে মজা ছুটিয়ে দেবো।”
“রাগছেন কেনো? ভয় পাই তো।”
থমকালো রিফাত। চোখ বন্ধ করে রুদ্ধ শ্বাস ছাড়লো।। মেয়েটার এইটুকু কথাতেই রাত এতক্ষণে জমিয়ে রাখা সব রাগ উবে গেলো।। তার আগুল রাগ ইয়ানা মিনিষেই শিথিল করে দিলো।। শুনতে পেলো ইয়ানার গভীর নিঃশ্বাস যাহ কর্ণ ঘাত হতেই রিফাত আকুল হলো।। খাপছাড়া ভাব স্পষ্ট।। রিফাত কোনো রকম জোরালো কন্ঠে বলল,,,
“একপর যেনো এরকম না হয়।। আমায় অপেক্ষা করানোর ফল কিন্তু ভালো হবে না।। মনে থাকবে?”
“থাকবে মনে।”
ইয়ানা উত্তর দিয়ে চুপ থাকলো। কিছু বলার সাহস তার হলো না। লোকটা ভীষণ রেগে,,,ভুল ভাল কিছু বললে যদি আবারও ধমকের শিকার হতে হয় সেই ভেবেই নিরবতাকেই বেছে নিলো।। কিৎতকাল পর শুনতে পেলো রিফাত এর স্বাভাবিক কণ্ঠ,,,
“সন্ধ্যা সাতটার মধ্যে তৈরি থাকবে।। এসে যদি দেখি রেডি না তাহলে যে ভাবেই থাকবে সে ভাবেই নিয়ে যাবো।”
“কেনো? কোথায় যাবো আমরা!”
“সব জানতে হবে না।। আর শোনো নখ কাটবে নিজের,,,একদম উড়িয়ে দেবে।। সামান্য ভয়ে আমার হাতের অবস্থা বেহাল দশা বানিয়েছো। এরপরে কিছু করলে তো খামচিয়ে শেষ করবে আমায়।”
ইয়ানার বুক ধড়পড় করে উঠলো। মনে পড়লো কাল রাতের সমস্ত কথা।। রাগ হলো কিছুটা রিফাত এর উপর । লোকটা কি ভাবেই না তাকে ভয় দেখিয়ে ছিল।। ইয়ানা রাগ দেখিয়ে ধির কন্ঠে বললো,,,
“আপনিও তো আমায় ভয় দেখিয়ে ছিলেন।”
“তাই না! আর আমার সাথে যাওয়ার জন্য জেদ কে দেখিয়ে ছিলো?”
“তার মানে আপনি বদলা নিয়েছেন?”
“উম হুঁ,, এখনও পুরো বদলা নিতে বাকি আছে।”
“কি কিসের?”
” খামচির ”
থমকে গেল ইয়ানা। হাত উছিয়ে নিজের বাড়ন্ত নখের দিকে তাকালো।। ঠোঁট বাঁকালো।। মনে মনে বকলো নিজেকেই।। বেশি কিছু ভাবার আগেই রিফাত বললো,,,
এক প্রণয় রাত্রি পর্ব ২৭
“রাখছি,,,,সন্ধ্যা ডট সাতটা।। আল্লাহ হাফিজ”
ফোন কেটে দেওয়ার পূর্ব মুহূর্তেই শুনতে পেলো ইয়ানার তড়িঘড়ি কণ্ঠ,,,,”কি পড়বো?”
রিফাত আলগোছে ঠোঁট টেনে উত্তর দিলো,,,”শাড়ি।”
