Home তুমি আমার বিতৃষ্ণা তুমি আমার বিতৃষ্ণা গল্পের লিংক || মাশকুরা মায়িশা

তুমি আমার বিতৃষ্ণা গল্পের লিংক || মাশকুরা মায়িশা

তুমি আমার বিতৃষ্ণা পর্ব ১
মাশকুরা মায়িশা

“আব্রাহাম আর ঐশী আমরা চাই তোমাদের বিয়ে দিতে..!”
আব্রাহামের মায়ের এই একটা কথা পুরো আহসান বাড়িতে তুফান নিয়ে আসে,, আব্রাহাম আর ঐশী একে অপরের দিকে বিদ্যুতের গতিতে তাকায়,, এরপর একসাথে বলে ওঠে,,
আব্রাহাম,ঐশী :- অসম্ভব আমি এনাকে/একে বিয়ে করতে পারবোনা!

আব্রাহাম আহসান,, আহসান বাড়ির বড় ছেলে এবং আহসান গ্রুপের বর্তমান CEO,, প্রচন্ড রাগী ও গম্ভীর ধাঁচের ছেলে হওয়ায় তার কাজিন গ্রুপের পায় সকলেই তাকে এগিয়ে যাবে,, এমন নয় যে সেও তাদের সাথে খুব একটা কথা বলে,, তার এসবে তেমন মনোযোগ নেই,,
অন্যদিকে,, আব্রাহামের ফুফাতো বোন,, সারিকা মায়্যিদা ঐশী,, অনেক বেশি চঞ্চল মেয়ে,, একটু কিছুতেই ফুলে বসে থাকবে অথবা কান্না করবে,, তবে নিজেই একটু পরে যার জন্য এই অবস্থা তাকে থাপ্পড় দিতে দ্বিতীয় বার ভাববে না,,

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

অনেক বেশি স্পষ্টভাষী,, এবং কিছুটা বেয়াদব স্বভাবের হওয়ায় আব্রাহাম তাকে দুচোখে দেখতে পারেনা,, তবে বিষয়টা এমন নয় যে সেও আব্রাহাম কে পছন্দ করে,, ঐশী আর আব্রাহাম একে অপরের থেকে চার বছরের ছোট বড়,, আব্রাহাম ঐশীর থেকে চার বছরের বড় হওয়ার পরেও সাপে নেউলের মতো তারা সারাদিন ঝগড়া করবে,,
যদিও তাদের এই ঝগড়া পরিবারের সকলের আড়ালেই সীমাবদ্ধ,, ঐশির মা শাহনাজ বেগম আহসান বাড়ির ছোট মেয়ে হওয়ায় বড় দুই ভাইয়ের বেশ আদরের,, তাই বোনের সাথে সম্পর্ক আরো ভালো করতে তারা সব সময় চেয়েছে ঐশী আর আব্রাহামের বিয়ে দিতে,, যেহেতু আব্রাহাম বাড়ির বড় ছেলে তাই এই সিদ্ধান্তে সবাই তার নামটাই আগে ভেবেছে,

[বর্তমান]
আজকে শাহনাজ বেগম নিজের বড় ছেলে আবিদ শাহরিয়ার এবং ছোট মেয়ে সারিকা মায়্যিদা ঐশীকে নিয়ে প্রায় চার মাস পর নিজের বাপের বাড়ি বা আহসান বাড়িতে এসেছেন,,
এবং সেখানে বড় দুই ভাবি-ভাইদের সাথে এই বিয়ে নিয়ে আলোচনা করে ঠিক করেন যে এইটা এবার ছেলে-মেয়েদেরকেও জানানো উচিত,,
(ডাইনিং টেবিল)
সবাই একে অপরকে ইশারা দিচ্ছে কথাটা তোলার জন্য,, যেহেতু আব্রাহামের রাগ সম্পর্কে সবাই অবগত,,তাই এই ব্যাপারটা বলার ক্ষেত্রে তারা একটু ভয় পাচ্ছিল,, তাই সবার ভয় কে দূরে সরিয়ে আয়েশা বেগম মানে আব্রাহামের মা বলেন,,
আয়েশা বেগম :- তোমাদের সকলের কে উদ্দেশ্য করে একটা কথা বলার ছিল,,

টেবিলের সবাই খাওয়া বন্ধ করে আয়েশা বেগমের কথা শোনায় মন দেয়,, তবে সর্বদা বেয়াদবির জন্য বিখ্যাত ঐশী তখনো খাওয়াতেই মন দেয়,, এতে আয়েশা বেগম দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন,,
আয়েশা বেগম :- আব্রাহাম আর ঐশী আমরা তোমাদের বিয়ে দিতে চাই,,
পুরো আহসান বাড়িতে যেন বজ্রপাত পড়ে,, বাড়ির বড়রা কেউ না জানলেও কাজিনদের মধ্যে প্রায় সবাই আব্রাহাম আর ঐশীর সাপ আর নেউলের মত সম্পর্কের ব্যাপারে অবগত,,
আব্রাহামের হাত খাবারের প্লেটেই থেমে যায়,, রিসি বেচারা তো এতটাই সক খায় যে মুখ থেকে সব খাবার নিজের বড় ভাই আবিদের মুখে ছুড়ে মারে,,
আবিদ :- ছিহহ ইয়াক বইন তুই এটা কি করলি ছিহহহ,,
অন্যদিকে এসবে পাত্তা না দিয়ে ঐশী আর আব্রাহাম একসাথে বলে ওঠে,,
—”অসম্ভব আমি একে/এনাকে বিয়ে করবো না..!”

ঐশী পুরো ঘর জুড়ে পায়চারি করছে,, আর ভাবছে কিভাবে, কি করে এই বিয়েটা আটকানো যায়,, পরিবারের সবাই চাচ্ছে তিন মাসের মধ্যে বিয়ের কাজ সম্পন্ন করতে,, তারা যতটাই ঝগড়া করুক বা বেয়াদব আর রাগী স্বভাবেরই হোক না কেন পরিবারের কারো মুখের উপরে কথা বলতে পারেনা,, যাদের ভয়ে কখনো পরিবারের সামনাসামনি ঝগড়াই করে না,, তাদের কে বিয়ের ব্যাপারে মানা কি করে করবে,, যেটা তার মাথার চিন্তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে,,এমন সময় তার মামাতো বোন “মায়িশা” আর মাশফিয়া তার ঘরে আসে,,

মায়িশা:-আপু এত কিছু ভেবোনা আর-
মায়িশা কথা শেষ করতে পারে না,, তার আগেই ঐশী বলে,,
ঐশী :- ভাববো না মানে,, তুই জানিস আমার মন কি চাচ্ছে,, সে তো করছে সবাইকে খুন করি,, তারা কিভাবে ভাবতে পারল আমি আব্রাহামকে বিয়ে করবো,,

মায়িশা আরো কিছু বলতে চায় পারেনা তখন মাশফিয়া মানে মায়িশার ছোট বোন বলে ওঠে,,
মাশফিয়া:- আপু তুমি এক কাজ করো ভাইয়াকে গোবর খাওয়ায় দাও, তাহলে সে তোমাকে আর বিয়ে করতে চাইবে না,,
বোনের কথায় মায়িসার চোখ দুটো বড় হয়ে যায়,, কিন্তু সর্বদাই দুষ্টুমি চঞ্চলতায় আর বেয়াদবের জন্য বিখ্যাত ঐশি রায় বুদ্ধিটা পছন্দ হয়,, কিন্তু তখন এর কেউ একজন বলে ওঠে,,:- “এই না না ভাইয়াকে গোবর খাওয়ানো যাবে না অন্য কিছু প্ল্যান কর”
সবাই পিছনে তাকিয়েই ইয়াশকে দেখতে পায়,, ইয়াস আব্রাহামের ছোট ভাই,,তখন মায়িশাও ইয়াসের সাথে তাল মিলিয়ে বলে,,
মায়িশা :- ইয়াস ঠিকই বলছে এটা বেশি বেশি হয়ে যাবে,,
ঐশী :- আচ্ছা গোবর খাওয়াবো না কিন্তু মাথায় আমি গোবর ফেলবোই,,
মাশফিয়া :- হ্যাঁ পরে ভাইয়া নিজে থেকেই আপুকে আর বিয়ে করতে চাইবে না,,
ইয়াশ :- এখন মনে হয় খুব করতে চায়,,
এতে সবাই হালকা হাসে যদিও ঐশী কিছু বলে না কিন্তু তখনই মায়িশা বলে,,

মায়িশা:- কিন্তু আমরা এখানে গোবর পাবো কই?
এবারে সবার মধ্যে আসল প্রশ্নটা জেগে ওঠে আসলেই তো তারা এখানে গোবর পাবে কই? তখন ইয়াস বলে,,
ইয়াস:- আরে চিন্তা নেই রে আশেপাশে খুঁজলে ঠিকই পেয়ে যাব,,
এরপর তারা গোবর খোঁজাখোঁজী শুরু করে,, কিন্তু কোথাও না পেয়ে যখন এক জায়গায় বসেছিল তখন তারা আব্রাহামের অ্যাসিস্ট্যান্ট আর বেস্ট ফ্রেন্ড “রেজাউল খান রেয়ান” কি দেখতে পায় তখনই মাসফিয়ার মাথায় একটা বুদ্ধি আসে,,

মাশফিয়া:- রেয়ান ভাই! আমাদের একটু গোবর খুঁজে দিতে পারবেন!
রেয়ান:- গোবর? আচ্ছা ঠিক আছে..
রেয়ান চলে যাওয়ার পরে সবাই হাসতে থাকে মানে বেচারা কার জন্য, কি কাজের জন্য, গোবর খুঁজবে না জেনেই খবর খুঁজতে রাজি হয়ে গিয়েছে,,

[বিকালে]
বাড়ির চার বিচ্ছু মানে ঐশী,ইয়াস,মায়িশা, মাসফিয়া দোতালায় ইয়াসের ঘরের জানলার সামনে গোবর পানি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে কারণ এই ঘরে জানালাটি সম্পূর্ণ বাড়ির মেইন দরজার সামনে,, মাশফিয়া খোঁজ লাগিয়েছে এই সময় আব্রাহাম কোন এক কাজে বাইরে যাবে,,
এমন সময় কারো পায়ের আওয়াজ পেলে চার জন এক সেকেন্ডও অপেক্ষা করে গোবর পানি ফেলে দেয়,, কিন্তু তাদের ভাগ্য একটু বেশিই খারাপ ছিল,, কারণ ওইটা আব্রাহাম নয় বরং আব্রাহামের বাবা আজহারুল আহসান ছিল..!

তুমি আমার বিতৃষ্ণা পর্ব ২