নীতিহীন রাজ পর্ব ১০
আশিকা আক্তার সোহাগী
পুরুষের পরিচয় ছাড়া নারীর অস্তিত্ব যেনো হাপিশ।পিতার পরিচয় ,স্বামীর পরিচয়েই পরিচিত নারী সমাজ। আচ্ছা যদি পিতা কোন দিন অস্বীকৃতি জানায় যে,এটা আমার সন্তান না।তাহলে সে পরিচয় হীন হয়ে যাবে। আজ দুইদিন থেকে নিবিড় জিয়ানার সাইকেল আটকিয়ে রেখেছে তাই তাকে রিক্সা আর হাটার উপর চলতে হচ্ছে। কিন্তু আসতে যেতে বারবার জনে জনে পরিচয় দিতে হয় কার মেয়ে সে। জিয়ানা উপলব্ধি করলো তার আলাদা নিজের কোন পরিচয় নেই। এমন কি অধিকাংশ মানুষেরই বিশেষ করে মেয়েদের নেই। পুরুষ ছাড়া নিজ অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা যেনো অসম্ভব।এতে করে নিজ শরীরে যেনো অসহ্য এক জ্বলুনি অনুভব করলো। ঘরে ঢুকে জুতা ব্যাগ ঢিল মেরে জিয়াউরের রুমে যায়। জিয়াউল বৈকালিক চা খাচ্ছিলেন সাথে বই হাতে। জিয়ানা চায়ের কাপটা হাত থেকে নিয়ে সাইড টেবিলে রেখে দিয়ে কোলে মাথা রেখে শুয়ে পড়লো। জিয়াউল অন্য হাতের বইটা পাশে রেখে মাথায় হাত ভুলিয়ে জিজ্ঞেস করলেন,
“বাঘিনীর মেজাজ খারাপ মনে হচ্ছে? ”
“আব্বু!আমার নিজের পরিচয় না হওয়া পর্যন্ত কিন্তু বিয়ে দিতে পারবে না।”
“দিলাম না।”
“এমন জোরহীন ভাবে বললে হবে?”
হেঁসে দিলেন জিয়াউল হক। মেয়ের বুচু নাকটা টেনে মাথায় চুমু দিলেন। জিয়ানা আহ্লাদে চোখ মুঁদে পিতার কোলে শুয়ে পড়লো আবার।বাপ বেটির এমন আহ্লাদ আঞ্জুমানের সহ্য হলো না।হাতে খুন্তি নিয়ে গটগট পায়ে রুমে এসে ঝাড়ি দিলেন জিয়ানাকে। জিয়ানা সেইসবের পাত্তা দিলে তো।
আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন
“এমন ধিঙ্গি মেয়ে তবুও জুতা ব্যাগ সামিলে রাখতে পারে না। একে নিয়ে আমি কি করবো জিয়া?”
“নিজের পরিচয় হলে সব করবো আম্মু।” চোখ বন্ধ করেই বলে জিয়ানা।
“তুই কি পরিচয়হীন?” রাগে বেশ চেচিয়ে বললেন আঞ্জুমান।
“আহা আঞ্জু মেয়েটার মন খারাপ ওকে বকো না এখন।”
মন খারাপের কথা শুনে আঞ্জুমান একটু নরম হলেন। এগিয়ে এসে কাছে বসে জিজ্ঞেস করলো
“বস্তিতে ঘুরাফেরা করে। নানা রকম মানুষের সাথে মিশলে মন যেমন ভালো হয় ,তেমন খারাপও হয়। ”
বস্তির কথা মনে হতেই জিয়ানা চড়াক করে উঠে বসে জিয়াউলের হাত নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে বলে,
“আব্বু এই বাসায় যদি একটা বাচ্চা ছেলেকে এনে রাখি তোমরা কি এলাও করবে? খরচ আমি দিবো ওর।”
“খুব খরচ দেখাচ্ছো? মনে হচ্ছে প্রাইভেট জুটেছে? ” আঞ্জুমান ব্যাঙ্গ করে জিজ্ঞেস করলেন।
জিয়ানা উপর নিচ মাথা নাড়ালো। দুইমাসে বেকার থেকে তার হাত ফাঁকা হয়ে গেছে। তাই পোষ্টার লাগিয়েছে দেয়ালে দেয়ালে “প্রাইভেট পড়ানো হয়” দরকার পড়লে আরও একটা নেবে। রাব্বির জন্য ওর মন কেমন করে। একা একটা বাচ্চা কিভাবে বাঁচতে পারে এই নিষ্ঠুর দুনিয়ায়? জিয়ানা নিজেকে তার জায়গায় চিন্তা করতে গেলে দুনিয়া দুলে উঠে যেনো।
জিয়াউল বললেন,
“সে কি এখানে থাকবে?আর তোমার খরচ দিতে হবে কেনো? আর একটা বাচ্চা কি আমরা পালতে পারবো না?”
“আর একটা মানে? মনে হচ্ছে আগেও পেলেছো? আমি খরচ দিবো কারণ তোমরা গরীব। ” বলে হেঁসে দিলো জিয়ানা।
“আমি তো নিজেকে সেরা ধনী মনে করি আম্মু। যাদের একটা চমৎকার পরিবার আছে তারাই সেরা বিত্তশালী। ধনী হতে অর্থসম্পদ লাগে না। মনে রাখবি দুনিয়াতে বুক ফুলিয়ে সততার সাথে বেঁচে থাকাটাই সবচেয়ে বড়লোকি আচরণ।আর দুনিয়া ধ্বংস হয়ে গেলেও নিজের মূল্যবোধ ,ব্যাক্তিত্ব আর শালিনতাকে কখনো ধ্বংস হতে দিতে হয় না। ”
“তোমার মেয়ের এই পোশাকে আর যাই হোক লোকে শালিন বলে না জিয়া। ” আঞ্জুমানের কন্ঠে অসন্তোষ।
“তোমাদের ওই টাইট ফিট সেলুয়ার কামিজ। আর ব্লাউজ শাড়ির চেয়ে আমার মেয়ের পোশাক যথেষ্ট শালিন।মেয়েদের ওইসব দূর্বল পোশাক জিয়ুর মতো শক্ত মেয়েরা পড়বে কেনো? যে পোশাকে রাস্তার ছেলেদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সেটা আবার শালিন হয় কিভাবে? অথচ আমার মেয়ের দিকে কে তাকাবে? বুঝবেই না কোন মেয়ে যাচ্ছে। জিয়ানার সারা শরীর ঢাকা থাকে। ”
“তাহলে বোরকা পড়াও। তাহলেই তো হলো।”
“বোরকা পড়লে তো আরও বেশি বুঝা যাবে মেয়ে।ছেলেরা বুঝবে একে আঘাত করা যাবে সহজেই। এই দূর্বল প্রজাতির। জিয়ানা পড়বি বোরকা?”
“দরকার হলে পড়বো আব্বু। ঢিলাঢালা এনিথিং ইজ ওয়ার্ক ফর মি। তাহলে কাল আনি রাব্বিকে? ”
জিয়াউল আর আঞ্জুমান দুইজনই হেঁসে সম্মতি দিলেন।
মামুন ইসলাম অফিসের চেয়ারে বসে শত্রুর নামের লিষ্ট করছেন। পাশে পার্ক করা যে কত খতরনাক শত্রু। সবার উপরে নাম সুখনীল নিবিড়।মার্ক ১০০/১০০।
“ইদানীং মেয়ে কম যাচ্ছে ক্লাবে আশরাফ?” খাতার দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করলো মামুন ইসলাম।
“জ্বি স্যার। তবে আজকে চেয়েছে। যথা সময়ে পাঠিয়ে দিবো। সাচয়া শু*য়ার কা আওলাদ আছে স্যার নিবিড়। মেয়েগুলাকে এমন ভাবে খায় একমাস হাসপাতালে ভর্তি থাকে। ” বলে খ্যাকখ্যাক করে হেঁসে দিলো আশরাফ।
“রক্ত আশরাফ রক্ত। রক্ত কথা বলে। ”
দরজায় নক হলো তখন। পিওন এসে একটা পার্সেল দিয়ে গেলো। আশরাফ আনবক্স করে হতবাক। মামুন নিজ হাতে নিয়ে দেখে ,রাফিন আর জিয়ানার ক্লোজ ফটো অনেকগুলো। একটাতে রেস্টুরেন্টে হেঁসে দুইজনই কথা বলছে।একটাতে একই সাইকেলে দুইজন।অপরটাতে নদীর পাড়ে বসা। শেষের টাতে কলেজের বারান্দায় হাত ধরে হাটার ছবি। একটা ছোট্ট চিরকুট
“জিয়াউলের মেয়ে জিয়ানা হক। সুচ হয়ে ঢুকে ফাল হয়ে বের হতে চাচ্ছে। সাবধান!!হুশিয়ার!! নকল চেয়ারম্যান। ”
“”””নিবিড়””” বলে চিল্লিয়ে দাঁড়িয়ে পড়লো মামুন ইসলাম। কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমেছে তার। টেবিলের উপর থেকে টিস্যু নিয়ে মুছে আশরাফকে বলে,
“এক সপ্তাহ সময় দিয়েছি আর একমাস হয়ে গেছে তবুও ভালো মেয়ে পেলে না আশরাফ? আচ্ছা শফিকের মেয়েটা কি যেনো নাম? ওই মেয়েটা বড় হয়েছে না? খোঁজ নাও।সময় একদিন ”
“রাফিনের বিয়ে করানোর পর ভালোই ভালোই নির্বাচন টা হয়ে যাক তারপর বলি হবে বেশ ঘটা করে আশরাফ। অনেক হয়েছে চোর পুলিশ খেলা।” অকৃত্রিম এক হিংস্র জানোয়ারের ছাপ ভেসে উঠলো চেয়ারম্যানের চেহারায়।
সক্কাল সক্কাল জেনির চিল্লাচিল্লিতে হকদের ফ্ল্যাটে দেয়াল ফেটে যাওয়ার যোগাড়। চিল্লিয়ে সারাবাড়ি জিয়ানাকে দৌঁড়ানি দিচ্ছে।
“চুন্নি তুই আবার আমার জিনিসের উপর হাত দিয়েছিস? এখনই ফেরত দিবি।”
জিয়াউল হক ড্রয়িং রুমে এসে একবার দমক দিয়েছেন মেয়েদের।কিন্তু আজ তাতেও কাজ হচ্ছে না। আঞ্জুমান লান্সবক্স গুছাচ্ছেন ,কলেজের জন্য বের হবেন।তাই মেয়েদের পাত্তা দিচ্ছেন না। এটা রোজগার চিত্র। এই চুলোচুলি আবার একটু পর একে অন্যের গলার মালা।তবুও জিজ্ঞেস করলো ,
“কি নিয়েছিস জিয়ু? ফেরত দে।”
“আপিকেই জিজ্ঞেস করো কি নিয়েছি।কি নিয়েছি বল?”
“জিয়ানার বাচ্চা কু*ত্তি চুন্নি আমি বেছে বেছে কিনে এনেছি। একটা দিনও পড়তে পারিনি। ফেরত দে এক্ষুনি দিবি।”
“আরেহ আমি কিনতে পারি না।তাই তোমার গুলা নেই। আমার লজ্জা লাগে। এখানে সব সেলসম্যান। তাদের সামনে কেমনে বল?”
“সারা দুনিয়া চষে বেড়ায় সে নাকি এসব জিনিস কিনতে পারে না।ভালো হবে না জিয়ু এগুলা পাওয়া যায় না সচারাচর। অনেক খুজে বের করেছি।”
“আহা জেনি তোর ছোট বোন একটা জিনিস নিয়েছেই না হয়। আমি কিনে এনে দিবো। কি জিনিস বল?জিয়াউল বিরক্ত হয়ে বলে।
“হ্যাঁ হ্যাঁ ওইটাই ভালো হবে। আব্বু কিনে এনে দিয়ো তো। ”
জেনি চোখ রাঙিয়ে জিয়ানা চুপ থাকতে বলে। সুযোগে খপ করে হাত ধরে রুমে নিয়ে গিয়ে দরজা আটকিয়ে দিলো।
“চুন্নি যেমন তেমনি বদ তুই জিয়ু। আমার ব্রাসিয়ার খুল। আমি জানি তুই পড়ে আছিস।এই ওয়্যারলেস গুলা পাওয়া যায় না বইন। তোর নিশ্চিত বড় হয়েছে। আচ্ছা ছোট গুলা এনে দিবো। তবুও ফেরত দে আমারটা। ”
হেঁসে কুটোকুটি হয়ে জিয়ানা জিজ্ঞেস করলো
“কিভাবে কিনো? এনি টিপ্স?”
“আমি কালার ,সাইজ আর ডিজাইন কাগজে লিখে দোকানীকে দেই। উনারা বের করে দেন। সিম্পল। ”
“ওয়াহ গ্রেট আইডিয়া আপি।আবার লিখে নিয়ে কিনে এনো। এটা অনেক কম্ফি প্লাস সে*এক্সু। এত কিউট। ভেবেছি আজ পড়ে আমি এটা রেখে দিবো। আমার বিয়ের ফাষ্ট নাইটে পড়ে জামাইকে সারপ্রাইজ দিবো। কেমন হবে?”
“ছিঃ ছিঃ ছিঃ রে ননি ছিঃ কি অশ্লীল তুই জিয়ু। বড় বোনের সামনে তুই বাসরের কথা বলছিস? ”
“আরেহ অশ্লীলের কি আছে? আমি চিন্তা করেছি আমার জামাই যেনো আমাকে দেখে লজ্জা পেয়ে আমারই শাড়ির নিচে মুখ লুকিয়ে থাকবে। হাউ কিউট। আর তোমার বাসরেও আমি সিসি ক্যামেরা সেট করবো। ”
ধুপধাপ কয়েকটা কিল দিয়ে দরজার খুলে বের হয়ে গেলো জেনি।জিয়ানা ধপ করে নিশ্বাস ছাড়লো। এইসব কথা না বললে গায়ে থেকেই খুলে নিতো ব্রাসিয়ারটা।
কেটে গেছে চার মাস।
রাব্বিকে ধরে বেধে জিয়ানা এনেছিলো ঠিকই। কিন্তু এত পরিস্কার আর ডিসেন্ট লাইফ তার সইছে না দেখে সাতদিন পর পালিয়ে গেছে বস্তিতেই।জিয়ানা আর জেনির আদর ভালো লাগলেও আঞ্জুমানের পড়াশোনার চাপ আর জিয়াউলের রোল রেগুলেশনে তার অবস্থা “ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি টাইপ ”
জিয়ানা অবশ্য রাব্বিকে স্কুলে ভর্তি করিয়েছে। সাথে আরও দুইজনকে ভর্তি করে দিয়েছে।তাদের খাবারের দ্বায়িত্ব নিজে নিয়েছে।
সেদিন চড় মারার জন্য জিয়ানা লুকিয়ে নিবিড়ের ক্লাবে গিয়ে অনেক গুলো দুষ্টু পানি সহ বোতলের ভবলীলা সাঙ্গ করে দিয়ে এসেছে।নিবিড়ের কমছে কম লাখ টাকা নষ্ট হয়েছে।নিজ ফ্ল্যাটে বসে গোপন ক্যামেরায় নিবিড় সবই দেখেছে।
ইতিমধ্যে নিবিড় আরও দুইবার শ্বশুরবাড়ি থেকে ঘুরে এসেছে। একবার তার চ্যালাকে এরেষ্ট করায় থানায় গিয়ে পুলিশকে থাপ্পড় মারার জন্য। আরেকবার ভার্সিটির প্রফেসর মানে রাফিনের নাকে ঘুষি মারার জন্য। জিয়ানার সাইকেল মাঝেমধ্যেই আটকে দেয়।আবার সেই সাইকেলে প্রায় একটা করে আর্টিফিশিয়াল গোলাপ রাখে। এটা অবশ্য জিয়ানা জানে না কে রাখে। মারামারি ,টেন্ডার বাজি ,মেয়েবাজি সবই তার আগের মতই ধুমিয়ে চলছে। সামনে নির্বাচন তাই জিয়ানার সাথে খুব একটা দেখা হয় না।কিন্তু খবর রাখতে ভুলে না।মাঝেমধ্যে ফোন দিয়ে চুপচাপ বসে থাকে আর জিয়ানার গালাগালি খায়।
একবার ফোন দিয়ে চাঁদ ডেকেছে কিন্তু উল্টা জিয়ানা
“আসসামু আলাইকুম আব্বা। কেমন আছেন? আপনার শরীর কেমন? আপনার নাতিনাতনি রা ভালো আছে।আর আপনার জামাই তো বিদেশ সেও ভালো আছে।” বলে কেটে দিয়েছে।
কিছুদিন লেগেছে নিবিড়ের এই আসসালামু আলাইকুম আব্বা ডাক হজম করতে।
রাফিন রোজ রাতে ফোন দিয়ে অহেতুক জেদ করে জিয়ানার সাথে কথা বলার জন্য। মনমেজাজ ভালো থাকলে মাঝেমধ্যে কথা বলে নাহলে মাঝেমধ্যেই গালিগালাজ করে রং নাম্বার বলে কেটে দেয়।
রাফিন অবাক হয়ে ভাবে প্রফেসর হিসেবেও তো তার সামান্য সম্মান প্রাপ্য। কিন্তু এই মেয়ের উপর দিন দিন তার অনুভূতি খেতা কম্বল নিয়ে শুয়ে পড়েছে। হুটহাট রাফিনের অফিসে চলে এসে বিভিন্ন অনুদান দাবি করবে।এক পিয়নের মেয়ের বিয়ে টাকা দেন , দারোয়ানের এক্সিডেন্ট হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি টাকা দেন। দুইটা টোকাই বাচ্চার পড়ালেখার দায়িত্ব নেন। নানা সমাজ সেবামূলক কাজে আসে। মাঝেমধ্যে মনে হয় জিয়ানা রাফিনের প্রতি দূর্বল।যেমন ,একবার চুল কাটা তার পছন্দ হয়নি। নিজে ধরে নিয়ে গিয়ে স্টাইল চেইঞ্জ করে এনেছে।আবার পরেরদিন হঠাৎ একটা হ্যান্ড লোশন এনে দিয়েছে বলে
স্যার আপনার হাত প্রচন্ড খসখসে। এটা রেগুলার ইউজড করবেন।”
এইসব ছোট ছোট জিনিসের জন্য রাফিনের মন পেখম মেলে উড়ে। কিন্তু পরক্ষণেই যখন ফোন দিলে না চেনার ভান করে কেটে দেয় ,সেই পেখন হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে ধপ করে মাটিতে আছাড় খায়।
ক্লারিকাল স্টাফ যারা প্রত্যেকের সাথে এই চার মাসে জিয়ানার সুসম্পর্ক গড়ে উঠেছে।ক্লাসের ফাঁকে ক্লারিকাল স্টাফ বিশেষ করে তার ডিপার্ট্মেন্টের আনিস মামার হয়ে ডিউটি করে দেয়।তার কথা হচ্ছে তারা যেহেতু বন্ধু ,তাই বন্ধুর বিপদে পাশা থাকায় আরেক বন্ধুর ধর্ম। তাদের ডিপার্টমেন্টের গার্ড যখন খেতে যায় বা ওয়াশরুমে যায় জিয়ানা ফাঁকা সময়ে গার্ডের ক্যাপ আর লাঠি নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। অনেকেই প্রথম প্রথম হাঁসাহাঁসি করলেও ,এখন সয়ে গেছে সব।আজকেও দুইজন লোক গার্ডের সাথে দেখা করতে এসেছে,তাই জিয়ানা ক্যাপ আর লাঠি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
তখন নিবিড় আর তার চ্যালা মক্কু সেদিক দিয়ে যাওয়ার সময় ভ্রু কুঁচকে দাঁড়ায়।খাকি সান ক্যাপ আর হাতে মোটা লাঠি নিয়ে ওভার সাইজ হুড়ি আর ডেলিম প্যান্ট পড়া, সাথে কালো মাস্ক পড়া জিয়ানাকে দেখে। ফর্সা কপালের একাংশ দেখা যাচ্ছে। লাঠি একবার গেটের গ্রিলে টুংটাং শব্দ করছে আবার নিজের হাতে আস্তে করে মারছে।নিবিড় আঙুল দিয়ে জিয়ানাকে “ওই “বলে ডাকে এইদিকে আসার ইশারা করে।
জিয়ানা তাকালো শব্দের উৎসের দিকে। আজও কালো কাবলি পড়েছে ভণ্ড নেতাটা।জিয়ানার মনে হয় এই বেটা কোন ড্রামা সেট থেকে উঠে আসা পাবলিক। কেমন একমণ জেল মেখে চুল সব ব্যাকব্রাশ করে রাখে। আবার সুরমাও পড়ে। মাঝেমধ্যে বলতে ইচ্ছা করে আরেহ বেটা তুই এই ক্যাম্পাসে গুন্ডামী না করে এফডিসে যা না। ভালো হিরোর পার্ট না পেলেও ভালো মিশা সওদাগর হতে পারবি।সুন্দ্রী নায়িকাদের মন দেহ দুইটাই পাবি।
নিবিড়ের ডাকে পাত্তা দেয়নি বলে নিজেই এগিয়ে গিয়ে প্রচন্ড বিরক্তি নিয়ে জিজ্ঞেস করে ,
“এখানে এইভাবে কি করছো?ডাকলাম কানে যায় না?”
“আম অন ডিউটি। এখান থেকে নড়া যাবে না। ”
পাশ থেকে মক্কু বলে উঠে “তোমাকে দারোয়ানের চাকরি কে দিলো? ”
“কেউ না আনিস মামার এবসেন্সে আপাতত আমি আছি উনি আমার সিনিয়র ফ্রেন্ড। এখন এখানে অহেতুক ভীড় বাড়িয়েন না ফোটেন।”
“গার্ডরাই তোমার উপযুক্ত বন্ধু জঙ্গল কোথাকার। যাও এখান থেকে। ” নিবিড় ধমকের সুরে আদেশ দিলো।
“শোনোন আমার মন কোন বাচ্চা না যে তাকে ধরে সামনে এনে শাসালেই মত বদলাবে। ”
জিয়ানাকে অনড় দেখে নিবিড় বলে,
“বেক্কেলদের যুক্তিতে হারানো মুশকিল চল মক্কু এখান থেকে।”
“কানাকে কানা আর ল্যাংড়া কে যেমন ল্যাংড়া বলতে নেই। তেমনই বেক্কেলদের বেক্কেল বলতে নেই কাবলিওয়ালা।
“তাহলে স্বীকার করলে তুমি বেক্কেল?”
“হুম আমি আমার বেক্কেল বোধ নিয়েই দিব্বি আছি। এমন বেক্কেল হতে অনেক কিছু ওউন করতে হয়। আপনাদের মতো চালাক হয়ে গলায় দড়ি দিতে চাই না।”
বলে লাঠি নিয়ে নিবিড়ের বুকে ঠেলে দিলো।সেই ঠেলায় নিবিড় একচুলও নড়লো বরং জিয়ানার দিকে আরও এগিয়ে গেলো। মাঠের সাইডে হঠাৎ হটকারিতায় শব্দে তারা সেদিকে তাকালো। একটা ছোটখাটো ঝটলা সেখানে। একজন সেদিক থেকেই এগিয়ে আসছিলো তাকে নিবিড় জিজ্ঞেস করে
“কি হয়েছে রে?”
“আনিস মামারে তার পাওনাদার পিটাইতাছে… ” শেষ করতে পারলো না সে জিয়ানা ঝড়ের বেগে ছুটলো সেদিকে।ঝটলা ঠেলে আগিয়ে গিয়ে দেখে ,আর কেউ না সমুদ্র আর তাদেরই কয়েকজন মিলে মাটিতে পড়ে থাকা আনিসকে পা দিয়ে প্রহার করছে।
জিয়ানার মাথার নিউরন গুলো সচল হলো। স্বয়ংক্রিয় স্নায়ু সচল হয়ে হাত পায়ে নির্দেশ দিলো এট্রাক। হাতের লাঠি দিয়ে একপা সামনে আরেক পা পেছনে রেখে জোরে একজনকে পিঠে প্রহার করলো। সে ছিটকে মাটিতে শুয়ে কেঁচোর মতো মোচড়ামুচড়ি শুরু করে। তার পাশেরটা পা ফাঁকা ছিলো বিধায় দুইপায়ের মাঝখানে ডিম বরাবর একটা লাত্থি দিলো। একমুহূর্তে জিয়ানার মনে হলো পুরুষ মানুষের সাথে ডিম জিনিসটা যায় না।তাহলে এটা কি?মাথা ঝাকিয়ে সেই চিন্তা হাটিয়ে ফাইটিংয়ে মনোযোগ দিলো। মিডিল রেখা বরাবর লাত্থি খাওয়া ছেলেটা সেখানে ধরে আর্তনাদ করে উঠলো। সমুদ্র গিয়ে জিয়ানার হাতের লাঠিটা কেড়ে নিয়ে হুডির মাথা টেনে ধরায় জিয়ানার পেট অল্প বের হয়ে গেলো। ব্যাস জিয়ানা হিতাহিতজ্ঞান শূন্য হয়ে সমুদ্রের নাক বরাবর একটা ঘুষি মা*রলো।
নিবিড় আর মক্কু স্পটে আসতে আসতে মারপিট একচোট শেষ। অনেকেই মোবাইল বের করে ভিডিও করা শুরু করেছে।এদিকে সমুদ্র ভরা ক্যাম্পাসে একটা মেয়ের হাতে মা*র খেয়ে ফুসে উঠলো। হাত উচিয়ে জিয়ানার দিকে যেতেই পেছন থেকে নিবিড় টেনে ধরে।
ঘটনা এখন বড়ই গোলমেলে হয়ে গেছে।জিয়ানা মাটিতে পড়ে থাকা বয়স্ক লোকটাকে ধরে উঠানোর চেষ্টা করছে।ঠোঁট ফেটে গেছে লোকটার।
“টাকা না শোধ হয়ে যাওয়ার কথা মামা?আবার কি নিয়ে ঝামেলা তাহলে? ইস রে অনেক রক্ত ঝরছে আপনার। দাঁতে লেগেছে?” বলে পকেট থেকে টিস্যু বের করে চেপে ধরলো ঠোঁট।
সমুদ্র নিবিড়ের হাত থেকে নিজের হাত ঝটকায় ছাড়িয়ে নাকে হাত ঘষে বলে ,
“কিসের শোধ? মেয়ের বিয়ের সময় টাকা ধার নিয়েছে। এখন মেয়ের বাচ্চা হয়ে গেছে সুদ তো দেয়ই না আসলেরও নাম নাই। আজ আবার আসছে ছোট মেয়ের বিয়ের জন্য পঞ্চাশ হাজার টাকা নিতে।ছোটলোকটার হয়ে আমি আমার কাজিনের কাছে ধার নিয়ে দিছিলাম।”
“অনেক টাকা সুদ দিয়েছি। বেতনের অর্ধেক সুদ দিতেই যায়।আসলের চেয়ে তিনগুন টাকা দিয়ে ফেলছি। এখন আমাকে মারুন কাটুন তবুও দিতে পারবো না। আর বিয়ের কথা শুনতেই সমুদ্র স্যার বলে বিয়ে দিতে টাকা লাগে তারচেয়ে আমাদের কাছে পাঠিয়ে দেন মেয়েকে।”বলে আনিস চোখের পানি হাত দিয়ে মুছে ,জিয়ানার হাত থেকে টিস্যু নিয়ে নিজের চেপে ধরলো।
জিয়ানা উঠে দাঁতে দাঁত চেপে জিজ্ঞেস করলো “সুদখোরটা কে?”
আনিস আঙুল দিয়ে সমুদ্রের পাশের ছেলেটাকে দেখালো। পাঞ্জাবি টুপি পড়া অথচ সুদের মতো জঘন্য একটা কাজ এই লোক করে। এরা রক্তচোষা বাদুরের চেয়েও ভয়ংকর।কিছু টাকা সুদ দিয়ে সেটার ইন্টারেস্ট দিনের পর দিন তুলবে। আসল টাকাকে ছাড়িয়ে বহু টাকা খাবে। মেরে ধরে টাকা আদায় করবে।এই মানুষগুলা হচ্ছে জঘন্য সামাজিক কীট।
নিবিড় এগিয়ে গিয়ে সুদাখোর ছেলেটার সামনে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করলো ” আসল টাকার চেয়ে বেশি টাকা খেয়েও আবার কি চাস?এখানে এসে তুই কার জোরে হেডম দেখাচ্ছিস? হাত পা সব পিস পিস করে যার জোরে হেডম দেখাচ্ছিস তাকে ভড়ে দিবো।” সমুদ্রের উপর রাগে তার শরীর রি রি করছে।
সমুদ্রের মুখ অপমানে থমথমে হয়ে গেলো।জুনিয়র সিনিয়র অনেকই এখন এখানে দাঁড়িয়ে আছে। ছেলেটা নিজের ক্যারি করা ব্যাগ থেকে একটা দলিল আর একটা ব্ল্যাংক চেক বের করে বলে,
“জমির দলিল আর এই চেক দিয়ে টাকা নিছে। আমার আসল টাকা না পাইলে আমি মামলা করমু।”
জিয়ানা উঠে জিজ্ঞেস করে ” কত টাকা?”
“এক লাখ”
জিয়ানা নিজের হুডির নিচ দিয়ে হাত ডুকিয়ে গলার চেইন খুলে এনে সামনে দিয়ে বলে ” এটা গোল্ড দাম কত জানি না। আমার এইসবে আইডিয়া নেই।তবে ১লাখ হবে।”
তারপর ছেলেটার হাত থেকে দলিল আর ব্ল্যাংক চেক কেড়ে নিয়ে দারোয়ান আনিসের হাতে দেয়। আর চেইন টা ছেলেটার হাতে দেয়। চলে আসার আগে সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে বলে
“আল্লাহ যেনো আপনার ঘরে কোন মেয়ে সন্তান না দেন। কারণ বাপের পাপ মেয়ে সন্তানের উপর বর্তায়।”
“দুইটা প্রাণীর গু মাথায় থাকে। এক,চিংড়ি। দুই,শাফায়েত সমুদ্রের।” বলে নিবিড়ও সেখান থেকে চলে আসে।
মক্কু বেশ উঁচু গলায় বলে ,
“ভাই নিয়মিত হাইগেন। নাহলে গু সব মাথায় উঠে যাইতাছে।”
সমুদ্র রাগে সুদখোর ছেলেটাকে ধাক্কা মেরে হনহন করে বের হয়ে গেলো সেখান থেকে। একটা মেয়ের জন্য নিবিড় এইভাবে অপমান করতে পারলো। এতদিনের বন্ধুত্বের কোন দামই দিলো না।সমুদ্র কি জিনিস তাহলে তো এরা এখনো বুঝতেই পারেনি। ফোন বের করে কল করলো এক নাম্বারে।অপরপ্রান্তে রিসিভ হলে ,
“আসসামু আলাইকুম আংকেল ” বলে বাইকে উঠে চলে গেলো।
জিয়ানা সাইকেলের কাছে গিয়ে দেখে প্রতিদিনের মতো আজও একটা আর্টিফিশিয়াল গোলাপ। মেজাজ খারাপ থাকায় আজ ফুলটা ছুড়ে ফেলে সাইকেলে উঠে বসে।মৌসুমী দূর থেকে দৌঁড়ে এলো। মৌসুমীর ওজন কমেনি।বরং বেড়েছে। সাথে তার আরেক বান্ধবী মিম। অন্যদিন হলে জিয়ানা বলতো
“মিম একে মিম,মিম দ্বিগুণে ডিম” কিন্তু আজ সে নিস্পৃহ। মৌসুমী আর মিম ফুচকা খেতে যাবে তাই বগলদাবা করে জিয়ানাকে নেয়ার জন্য ছুটে আসা।জিয়ানার এইসব ভুগিচুগি খাবার পছন্দ না। তবুও সমাজ মিলানোর জন্য মাঝেমধ্যে খায় ওদের সাথে। মেজাজ মিয়া যদি একটু ভালো হয় তাই ওদের সাথে গেলো ফুচকা খেতে।
নিবিড় শুয়ে আছে একটা ফ্লোরিং বিছানার উপর। বড় একটা বেডরুমে শুধু একটা ফ্লোরিং বেড একটা কাবার্ড। এই ফ্ল্যাট টা নিবিড়ের। ফার্নিচার বলতে ড্রয়িং রুমে একটা ডিভানের সেট আর একটা টিভি। একটা সিঙ্গেল রুমে ওয়াল ক্যাবিনেট করা সেখানে শুধু কবিতার বই। আর একটা বেড রুম ভর্তি শুধু দেশি অস্র কিছু বিদেশি পিস্তল। ভুল করে কেউ যদি কবিতার ঘরে ঢুকে পড়ে নিবিড়ের সম্পর্কে সফট একটা ধারণা জন্মাবে। কারণ অনেক বিখ্যাত রাইটাদের অর্জিনাল বই তার কালেকশনে আছে। যেমন ,ওডেসি ,শেখ সাদির কাসিদা ,প্যারাডাইস লস্ট,শাহনামা ,দি ডিভাইন কমেডি এছাড় জীবনানন্দ দাশ রবী ঠাকুর ,নজরুল তো আছেই।
এই রুমে এসে কেউ কি বলবে এটা একটা গুন্ডার বাসা। কিন্তু পাশের রুমে ঢুকে হকিষ্টিক ,রাম দা ,হামার ,পকেট বোম বানানোর কাঁচামাল দেখলে মনে হবে এক মানুষের দুই সত্ত্বা।
নিবিড় হাত পা মেলে ছাদের দিকে তাকিয়ে আছে ধ্যান ধরে। তখনই বেলকনি থেকে অনবরত ভেসে এলো রিনরিনে একটা চিকন সুর,
“সুখ সুখ সুখ। চাঁদ চাঁদ চাঁদ। ”
নিবিড় একবার সেদিকে তাকিয়ে গলা উচিয়ে সাড়া দিলো ,
“হাজির”
বেলকনি থেকে আবার ভেসে এলো ,
“কবিতা কবিতা কবিতা”
“দিনদিন তোর লোভ বেড়ে যাচ্ছে সুখু”
মোবাইলে টুং করে একটা মেসেজ আসার শব্দে পাশ ফিরে ফোনটা হাতে নিলো। মক্কু সেন্ড আ ভিডিও নোটিফিকেশন দেখে সেই অবস্থায় মেসেজটা অপেন করলো,
জিয়ানা মৌসুমী আর একটা মেয়ে ফুটপাতে দাঁড়িয়ে ফুচকা খাচ্ছে। জিয়ানা ছাড়া বাকি দুইজন বেশ আগ্রহ নিয়ে খেলেও জিয়ানা অনাগ্রহে একবার মুখে দিয়ে দাঁড়িয়ে। ক্যামেরাটা এখন জিয়ানাদের দিকে আগাচ্ছে,আর সেটা এখন কাছে খুব।মৌসুমী জিজ্ঞেস করলো,
“খাচ্ছিস না কেন?কেমন লাগছে?”
“এমন বাতেলা জিনিস কেমনে খাস তোরা? মুখের মধ্যে মনে হচ্ছে জঙ্গলী গান্ধিপোকা পা*দ দিছে। ”
হোঁ হোঁ করে হেঁসে গড়াগড়ি খাওয়ার অবস্থা নিবিড়ের। হাঁসতে হাঁসতেই উঠে বসে আবার অন করলো ভিডিওটা ,
“দিলি তো খাওয়ার বারোটা বাজিয়ে। ওইটা দেশি ধনিয়া পাতার জন্য এমন গন্ধ। আমার বেশ ভালো লাগে। ” বলে আরেকটা মুখে তুলে মৌসুমী।
জিয়ানা নিজের প্লেটটা তাদের দিকে দিয়ে বলে,
“খা ভাই তোরাই খা। নাখাস্তা মাইয়া মানুষ কোথাকার। আব্বু ঠিকই বলে দুনিয়ার অর্ধেক জিনিস বেহুদা কারণ মেয়ে মানুষের স্বভাবই নাখরাবাজি। কি খায় কি করে নিজেও বুঝে না। “হঠ্যাৎ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে বলে
“এ্যাই আপনি ফোন এমনে ধরে আছেন কেন?ছবি উঠাচ্ছেন নাকি? দেখি ফোনটা দেখি” বলে হাত বাড়িয়েছে। শেষ এই পর্যন্তই ভিডিও।
বার কয়েক ভিডিও দেখে হেঁসে নিলো নিবিড়। তারপর উচ্চস্বরে আবৃত্তি করলো ,
নীতিহীন রাজ পর্ব ৯
“আলো অন্ধকারে যাই মাথার ভিতরে
স্বপ্ন নয় ,কোন এক বোধ কাজ করে!
স্বপ্ন নয়, শান্তি নয় ,ভালোবাসা নয় ,
হৃদয়ের মাঝে এক বোধ জন্ম লয়!
আমি তারে পারি না এড়াতে….(জীবনানন্দ দাশ)”
