Home নেশাক্ত প্রহর (মিহি সিজন ২) নেশাক্ত প্রহর পর্ব ১

নেশাক্ত প্রহর পর্ব ১

নেশাক্ত প্রহর পর্ব ১
মিহি সিজন ২
রূপন্তী সরকার

“একটা চুমু খাই প্রিন্সেস?”
মিহি রিদের পেটে একটা চিমটি দিয়ে বললো
“এই বুড়ো বয়সে এসেও চুমু খাওয়ার শখ যায় নি?
রিদ মিহি কে নিজের সাথে জড়িয়ে নিয়ে বললো
” চুমুর সাথে বুড়ো হওয়ার কি সম্পর্ক? আর তুমি আমাকে বুড়ো বলছো কেনো? তুমি জানো আমি চাইলেই এখনো ৪ টা বেবি নিতে পারবো।
মিহি গম্ভীর মুখে দিয়ে বললো
“ভুলে যেও না পচাঁলোক তোমার কিন্তু প্রাপ্ত বয়স্ক দুটো ছেলে মেয়ে আছে। ঠিক সময়ে ছেলে মেয়ের বিয়ে দিলে এতোদিন দাদু ডাক শুনতে হতো।”

“আমার কি দোষ বল তোমার ছেলেই তো বিয়ে করছে না। কবে থেকে বলছি ঋশ বিয়ে টা কর সে আমার কথা এক কান দিয়ে ডুকিয়ে অন্য কান দিয়ে বের করে দেয়”
মিহি একটু চিন্তিত হয়ে বললো
” বিয়ের কথা বললেই এড়িয়ে যায়। আচ্ছা আর এক বছর আছে ভার্সিটি শেষ হতে তখন করিয়ে দিবো। আপাতত পড়ুক।তিথির ভাইয়ের মেয়েকে আমার খুব ভালো লেগেছে। মেয়েটা দেখতেও মিষ্টি। আর খুব ঠান্ডা। ভাবছিলাম বাবুর সাথে ওর বিয়েটা করিয়ে দিবো।”
রিদ মিহির গলায় মুখ ডুবিয়ে দিয়ে বললো
“তোমার ছেলে বিয়ে করলে তো। শুধু রাগের দিকে ষোলো আনা। আমাদের বংশে কেউ এমন ত্যাড়া না তাহলে এই ছেলে কার মতো হয়েছে?”
মিহি বললো

“আমি কি করে জানবো? তাও ভাগ্য ভালো বাপের মতো লুচ্চা হয় নি”
রিদ রেগে বললো
“এই আমি লুচ্চা? ”
“না তুমি সাধু। ২৪ ঘন্টায় ৪৮ বার চুমু খাও। আবার বলছো তুমি লুচ্চা না”
মিহির কথা শুনে রিদের ইচ্ছে করছে কচু গাছে ফাঁস দিতে। একটু চুমু খেতে ভালোবাসে বলে বউ উঠতে বসতে লুচ্চা বলে কাজ করিয়ে নেই। এই দুঃখ কই রাখবে”
রিদ মেকি হাসি দিয়ে বললো
“বউয়ের কাছে একটু লুচ্চা হওয়ায় যায়। আজ যদি লুচ্চা না হতাম তাহলে দুইটা পয়দা হতো না”
কথাটা বলেই রিদ মিহির শাড়ির আঁচল টা খুলে ফেলে দিলো। এর মধ্যেই হুরমুর করে ঘরের মধ্যে রুহি আসলো। রুহি হলো রিদ মিহির তৃতীয় সন্তান। ঋষভের জন্মের ৩ বছর পর রুহি হয়েছে। তবে মেয়োটার শরীরে অনেক অসুখ। রুহি কে হুমরি খেয়ে ভেতরে আসতে দেখে রিদ দ্রুত মিহির আঁচল বুকে তুলে দিলো। এরপর মনে মনে বললো
“দ্যাত এই মেয়েটাও না বাবা মা কে একটু রোমান্টিক মুডে থাকতে দেই না”
মিহি রেগে রিদের দিকে তাকালো।
রুহি দৌড়ে এসে মিহির পিছে লুকিয়ে পড়লো রুহির পেছন পেছন তিথি খাবারের প্লেট নিয়ে দৌড়াচ্ছে। মিহি রুহি কে কড়া গলায় বললো

“কি হয়েছে এমন দৌড়াচ্ছিস কেনো? তুই জানিস না এমন ছোটাছুটি আমার পছন্দ না?”
রুহি মুখ কালো করে বললো
“মা দেখোনা মামুনি কে বলছি আর খাবো না কিন্তু মামুনি ছাড়ছেই না”
তিথি এসে মিহি কে বিচার দিয়ে বললো
“টুইংকেল এই মেয়ে কে খেতে বলো নাহলে একে আমি মেরে তক্তা বানিয়ে দিবো।”
মিহি রুহির দিকে তাকিয়ে গম্ভীর গলায় বললো
“পারমিশন নিচ্ছো কেনো? মেরে হার হাড্ডি ভেঙে আমাকে ডাক দিও। ”
রিদ রুহি কে নিজের কাছে নিয়ে বললো
“খবরদার আমার মেয়ে কে কিচ্ছু বলবে না। আমি ওকে খাইয়ে দিচ্ছি”
আচমকা ঋষভের ঘর থেকে একটা বিকট শব্দ হলো। মিহি দৌড়ে গেলো ছেলের ঘরে। পেছন পেছন তিথি আর রিদ ও গেলো।
মিহি গিয়ে ঋষভের দরজা ঠকঠক করলো।
“বাবু এ্যাই বাবু কি হয়েছে? দরজা খোলো। ভাঙচুর করছো কেনো? দেখো ঋশ যদি নিজের হতো ক্ষতি করো তাহলে আমার থেকে খারাপ কেউ হবে না”

কে শুনে কার কথা। ঋষভ ঘরের ভেতরে তুফান শুরু করে দিয়েছে। একের পর এক জিনিস ভাঙছে। এই দিকে দেওয়ালে ও মনে ইচ্ছে মতো ঘুষি দিচ্ছে। বিকট শব্দ হচ্ছে। মিহির অনেক কান্না পাচ্ছে। মনে হচ্ছে হাত পা ছুড়ে কান্না করতে কিন্তু ও বরাবর ই ছেলে মেয়ের কাছে ভিষণ কড়া। মিহি কখনো নিজের দূর্বলতা কাউকে বুঝতে দেয় না। রিদ মিহির ব্যাপার বুঝতে পেরে।
দরজায় গিয়ে বললো
“ঋশ কি হয়েছে? বাহিরে আসো আমরা বসে আলোচনা করবো। প্লিজ নিজের ক্ষতি করো না”
তিথি ভয়ে জড়োসড়ো হয়ে গেছে। ওর হাত পা কাঁপছে। রুহি তিথির কাছে এসে ওর হাত ধরলো।
“ভয় পেও না মামুনি”

তিথি রুহির হাত চেপে ধরে বললো
“কি হলো বল তো? ছেলেটা তো এমন হুট করে রেগে যায় না”
প্রায় অনেকক্ষণ পর ঋষভ রক্তাক্ত হাত নিয়ে বের হলো। মিহি এগিয়ে গেলো ছেলের দিকে। ঋষভের এমন রক্তমাখা হাত দেখে ওর কলিজা উড়ে গেলো রিদ ঋষভ কে প্রশ্ন করলো
“ঋশ কি করেছো? কেনো এমন করো তুমি? কিসের বিগার উঠে তোমার?”
ঋশ কোনো কথা না বলেই মিহির কপালে একটা চুমু দিয়ে বললো
“ভয় পেও না মাম্মা ঋশ ঠিক আছে”
কথাটা বলেই বাড়ি থেকে বেড়িয়ে গেলো। রিদ অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। এই ছেলে এমন কেনো? ওকে কোনো পাত্তাই দিলো না। না না এ ওর ছেলে হতেই পারে না। ও তো এমন ছিলো না।
মিহি ঋষভ কে ডেকে বললো
“বাবু খেয়ে যাও।”
কিন্তু ততক্ষণে ঋষভ চলে গেছে। ড্রয়িং রুমে সবাই থ মেরে দাড়িয়েই আছে। মিহি ঋষভের ঘরে ডুকে দেখলো ঘরের ভেতরে এতক্ষণ একটা ঘূর্ণিঝড় বয়ে গেছে। মিহি ভাবলো ঋষভ তো ঘুমিয়ে ছিলো হঠাৎ হলো কি? মিহি তিথির উদ্দেশ্য বললো

“শুভ্র আর মুগ্ধ কই?”
তিথি মুখ ছোট করে বললো
“ওরা ভার্সিটি তে গেছে”
এইদিকে ঋষভ ভার্সিটি তে এসেই ওদের ক্লাস রুম থেকে একটা ছেলের কলার ধরে টানতে টানতে মাঠে নিয়ে গেলো। এরপর এলোপাতাড়ি মারতে থাকে। ছেলেটার নাক মুখে ঘুষি দিতে থাকে। ছেলেটার নাক মুখ থেকে রক্ত ঝরছে ছেলেটাও ঋষভ কে মারছে। এর মধ্যেই শুভ্র এসে ঋষভ কে ধরার চেষ্টা করে। শুভ্র ঋষভ কে বললো
“ভাই মারিস না আর মরে যাবে ছেড়ে দে”
ঋষভ কোনো কথা না শুনে ছেলেটা কে মারতেই থাকে। মাঠে সবাই জড়ো হয়ে গেছে। এর মধ্যেই ছেলেটি অজ্ঞান হয়ে গেলো। ছেলেটার কয়েকজন বন্ধু ওকে হসপিটালে নিয়ে গেলো। প্রিন্সিপাল ঋশ কে উনার ঘরে ডাকলো। কিছুক্ষণ পর ঋষভ আর শুভ্র প্রিন্সিপালের রুমপ ডুকলো। প্রিন্সিপাল রিদ কে কল দিয়ে আসতে বললো। একটু পর রিদ ও চলে আসে। প্রিন্সিপাল রিদ কে বিচার দিয়ে বললো

“আমার ছেলে মারামারি করেছে। এমন গুন্ডা ছেলে কে আমাদের ভার্সিটি তে রাখবো না। ছেলেটা কে এমন ভাবে মেরেছে ছেলেটা হসপিটালে ভর্তি।”
রিদ ঋষভ কে বললো
“উনি কি সত্যি বলছে?”
ঋষভ গম্ভীর গলায় জবাব দিলো
“হুম পাপা”
রিদ বললো
“কেনো মেরেছো?”
ঋষভ কিছু বলার আগেই শুভ্র বললো
“কাকাই ওই ছেলেটার সাথে ঋশের আগে থেকেই ঝামেলা ছিলো। আজকে এসেই ওরা ঋশ কে নিয়ে কথা বলছিলো এর মধ্যেই হুট কে মামুনি কে বাজে ভাষায় গালি দিয়ে বসে। এটা মুগ্ধ ঋশ কে কল দিয়ে বলে এরপর যা হওয়ার তাই”
সব কথা শুনে রিদ ঋশ কে বললো
“গুড বেটা।”
এরপর প্রিন্সিপালের উদ্দেশ্য বললো

“আমার ছেলে একদম ঠিক করেছে। ওই ছেলে হসপিটাল থেকে আসুক ওকে আবার ও হসপিটাল পাঠানোর ব্যবস্থা করবো। ওর সাহস কতো বড় আমার বউ কে গালি দেই ওর জিব টেনে ছিড়ে বলবো”
প্রিন্সিপাল একটা ডোক গিলে বললো
“মিস্টার রায়ান আপনি চিন্তা করবেন না। আসলে এই বিষয় টা তো জানতাম না। ওই ছেলের ব্যবস্থা আমরা করবো। তবে ঋশ বাবা কে একটু বলুন এমন গুন্ডামি না করতে”
রিদ টেবিলে একটা বারি দিয়ে বললো

“গুন্ডামি করবে না মানে? ওর মা কে নিয়ে বলেছে ও ১০০ বার গুন্ডামী করবে। এখন যদি আমি আপনার বউ কে গালি দেই আপনি কি করবেন? ইনফিউচার এমন কিছু হলে ডিরেক্ট উপরে পাঠিয়ে দিবে এরপর যা হবে আমি দেখে নিবো”
ঋষভ একটা মুচকি হাসি দেই। প্রিন্সিপাল মুখ কালো করে নিলো মনে মনে বললো
“বাপ ছেলে একই কিচ্ছু বলা যায় না বললেই তেতে উঠে।”

নেশাক্ত প্রহর পর্ব ২