নেশাক্ত প্রহর পর্ব ২১
রূপন্তী সরকার
ঋষভ ইয়াশফাকে এক ঝটকায় কোলে তুলে নিলো। ইয়াশফা তাড়াহুড়ো করে ঋষভের শার্ট খামছে ধরলো।ঋষভ এমন আচমকা কোলে তুলে এটা রিদ এবং ইয়াশফা দুজনেই ভাবতে পারে নি। রিদ চেচিয়ে বললো “এই বাজে ছেলে আমার মেয়েকে কোলে নিয়েছো কেনো? নামাও কোল থেকে”
ঋষভ শয়তানি হাসি দিয়ে রিদকে বললো “এক মিনিটের মধ্যে রুম থেকে বের না হলে তোমার মেয়ের সাথে আরো অনেক কিছু করবো”
রিদ একদম চুপ হয়ে গেলো। রিদকে চুপ করে দাড়িয়ে থাকতে দেখে ঋষভ টুপ করে ইয়াশফার গালে চুমু দিলো। ইয়াশফা পুরো জমে গেলো। রিদ আরেক দফা অবাক হলো। ইয়াশফার মাটি ফাঁক করে ভিতরে ডুকে যেতে মন চাইলো। তাহলে হয়ত একটু শান্তি পেতো। রিদ রেগে ঋষভকে বললো
“আমার মেয়েকে চুমু খাওয়ার সাহস কে দিলো তোমাকে? আমি তোমার ঠোঁট কেটে নিবো।”
ঋষভ ইয়াশফার অন্য গালে আরেকটা চুমু দিলো। এরপর ইয়াশফাকে কোলে নিয়েই রিদের দিকে এগিয়ে গেলো। রিদ ঋষভকে এগোতে দেখে পিছিয়ে যাচ্ছে। ঋষভ গম্ভীর গলায় বললো “রুম থেকে বের হও”
রিদ ঋষভের দিকে কটমট করে তাকিয়ে বললো “বেয়াদব ছেলে এই শিক্ষা দিয়েছি তোমাকে? বাপের সামনে এসব করতে লজ্জা করছে না? বউ মানো না তো এসব কি? কোল নামাও আমার মেয়েকে”
ঋষভ ইয়াশফার কপালে একটা চুমু দিয়ে বললো ” রুম থেকে বের হও না ভাই তাহলেই তো হয়? কেনো জেদ করছো?”
রিদ একদম মগার মতো চেয়ে রইলো ঋষভের দিকে। ছেলে তাকে “ভাই ” বলছে। রিদ বললো “তোমার মতো বেয়াদব আমি আমার জীবনে দেখি নি।”
ঋষভ এবার এগিয়ে এসে রিদের গালেও একটা চুমু দিয়ে বললো “তাহলে এখন দেখো আর এই রুম থেকে বের হও”
রিদ নিজের গালে হাত বুলিয়ে রিদের দিকে কটমট করে তাকালো। রিদ বুঝলো রুম থেকে বের না হলে এই বেয়াদব ছেলে আরো উল্টা পাল্টা কাজ করে ওকে লজ্জা দিবে। রিদের লজ্জায় মাথা কাটা যাচ্ছে। ঋশ এতো নির্লজ্জ কবে হলো? ও তো ইয়াশফাকে দেখতে পারে না। রিদ তাড়াহুড়ো করে রুম থেকে বের হয়ে গেলো। রিদ রুম থেকে বের হওয়ার সাথে সাথে ঋষভ ইয়াশফাকে খাটের উপর ঠাস করে ফেলে দিলো। ইয়াশফা ঋষভের উপর রেগে গেলো।
“আপনার কি মাথার সমস্যা? বাবার সামনে কেউ এমন বেয়াদবি করে? ছিহ! অসভ্য লোক একটা”
ঋষভ গম্ভীর গলায় ইয়াশফাকে বললো “এখন তুমিও রুম থেকে বের হও। আমার আশেপাশে যেনো তোমাকে না দেখি। গেট আউট”
ইয়াশফার মাথার পোকা নড়ে উঠলো। এই বেয়াদব লোককে একটা শিক্ষা না দিলেই না। ইয়াশফা যাওয়ার সময় ঋষভের মুখে থুথু দিয়ে দৌড় দিলো। ঋষভ ইয়াশফার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে আছে। ঋষভের মনে হলো এই মুহুর্তে ইয়াশফাকে তুলে একটা আছার মারতে পারলে ভালো লাগতো।
এইদিকে রিদ রেগে ড্রয়িং রুমে আসলো। সবাই দাড়িয়ে আছে। রিদের চোখ মুখ দেখে মিহি মিনমিন করে জিজ্ঞেস করলো “কি হয়েছে পঁচালোক? ঋশ কি আবার ইয়াশফাকে মেরেছে?”
রিদ মিহির দিকে তাকিয়ে রাগি কন্ঠে বললো “না না তার থেকেও বড়ো কিছু। তোমার ছেলে এক নাম্বারের বেয়াদব নির্লজ্জ। বাপ টাপ কিচ্ছু মানে না। আমার সামনে ওর বউকে ছিহ”
রিদ আর বলতে পারলো না। মিহি কৌতূহল বসত জিজ্ঞেস করলো “কি করেছে?”
রিদ সবার দিকে তাকিয়ে মিহিকে বললো “সাইডে চলো বলছি”
কথাটা বলেই মিহিকে সাইডে নিয়ে গেলো। মিহি বললো “কি করেছে ঋশ?”
রিদ গম্ভীর গলায় বললো “আমার সামনে ইয়াশফাকে চুমু খেয়েছে”
মিহির চোখ বড়ো হয়ে গেলো। মিহি বললো “বলো কি? কেমন করে?”
রিদ মিহির গালে চুমু দিয়ে বললো “এমন করে”
মিহি কটমট করে রিদের দিকে তাকালো। “তোমাকে আমি চুমু দিয়ে দেখাতে বলেছি? মুখে বললেও তো হতো”
রিদ শয়তানি হাসি দিয়ে বললো “প্র্যাকটিক্যালি না দেখালে তুমি বুঝতে পারতে না তাই প্র্যাকটিক্যালি দেখালাম। তাহলে ভাবো তোমার ছেলে কি বেয়াদব”
মিহি কথাটা বিশ্বাস করলো না। কারণ ঋশ এমন মরে গেলেও করবে না। মিহি চিনে ঋশকে। ওর মতো ছেলে এমন কাজ করতেই পারে না।
ইয়াশফা দৌড়ে ওর রুমে গেলো। বেচারি জোড়ে জোড়ে শ্বাস ফেলছে। আজকে খুব লজ্জা পেয়েছে শশুড়ের সামনে। এমন খারাপ জামাইয়ের সাথে বিয়ে হবে বুঝতে পারে নি। এরমধ্যেই রুমে রুহি আসলো। ইয়াশফা এতো লজ্জা পেতে দেখে রুহি বললো “কি হয়েছে পিচ্চি? এমন লজ্জা পাচ্ছো কেনো?”
ইয়াশফা চুপ হয়ে গেলো। রুহির দিকে তাকিয়ে জোড় করে হাসার চেষ্টা করে বললো “হেহে আপু আর বলো না। একটা মশা এতো জোড়ে গালে কামড়ে দিয়েছে তাই লজ্জা পাচ্ছি”
রুহি হাসবে নাকি কাঁদবে বুঝতে পারলো না। এটা কেমন কথা? মশা কামড়ালে কেউ লজ্জা পায়?
রুহি হেসে বললো “এটা আবার কেমন মশা পিচ্চি?”
ইয়াশফা রুহির হাত ধরে বিছানায় বসালো। এরপর সব কথা বলে দিলো রুহিকে। সব শুনে রুহি আকাশ থেকে পড়লো। তার ভাই এমন কাজ করবে এটা কখনো সপ্নেও ভাবে নি। রুহি ইয়াশফাকে বললো “কেমন করে চুমু খেয়েছে?” ইয়াশফা রুহির গালে চুমু খেয়ে বললো “এমন করে”
রুহির চোখ বড়ো বড়ো হয়ে গেলো। এরমধ্যেই রুহির ফোনে একজনের কল আসলো। ইয়াশফা ফোনের দিকে তাকিয়ে রুহিকে বললো “কে কল দিয়েছে?”
রুহি একটা শুখনো ঢক গিললো। ইয়াশফা বললো “কে ফোন দিয়েছে বলো?”
রুহি ভয়ে ভয়ে বললো “চিনিনা আচ্ছা বাদ দাও। আমি পরে এসে তোমার সাথে গল্প করছি”
ইয়াশফা রুহির দিকে তাকিয়ে বললো “বলো আমাকে? আমি কাউকে বলবো না?”
রুহি মিনমিন করে বললো “অদ্রীত”
ইয়াশফার চোখ বড়ো হয়ে গেলো। ও বুজলো কোনো একটা ঘাপলা আছে। ইয়াশফা রুহির থেকে ফোন টা নিয়ে নিলো। এরপর নিজে রুহির হয়ে অদ্রীত কে বললো “হ্যালো”
অদ্রীত সাথে সাথে বললো “এই তুই আমার কল ধরছিলি না কেনো রে? আমাকে ইগনোর করছিস?”
ইয়াশফা ন্যাকা স্বরে বললো “হ্যালো জান্স আমার অন্তর কাটিয়া দিমু তুমারে ভালোবাসো যদি আমারে”
অদ্রীত থেমে গেলো। একদম চুপ হয়ে গেলো। অদ্রীত ভাবলো ও হয়ত রং নাম্বারে কল দিয়েছে। নাম্বার চেক দিয়ে দেখলো এটা রুহির নাম্বার। কিন্তু রুহি তো এমন ন্যাকা স্বরে কথা বলে না। এইদিকে রুহি হাসতে হাসতে শেষ।
অদ্রীত বললো “কে? রুহি কই? কে আপনি?”
ইয়াশফা গলা চেঞ্জ করে বললো “রুহি কে? আমি তো তোমার ইশু”
নেশাক্ত প্রহর পর্ব ২০
অদ্রীত রেগে গেলো। ইয়ার্কি হচ্ছে? অদ্রীত রেগে বললো “আমি কেনো ইশু হিশুকে চিনি না, রুহি আসলে বলবেন অদ্রীত কল দিয়েছিলো”
কথাটা বলেই অদ্রীত কল কেটে দিলো।
এইদিকে ইয়াশফাকে মুখ ফুলিয়ে রুহিকে বললো “তোমার আশিক আমাকে হিশু বললো ক্যান?”

Next ep pls
এই জন্যই রানিং গল্প পড়ি না,পরের পাট দিতে দেরি করে