Home নেশাক্ত প্রহর (মিহি সিজন ২) নেশাক্ত প্রহর পর্ব ৮

নেশাক্ত প্রহর পর্ব ৮

নেশাক্ত প্রহর পর্ব ৮
রূপন্তী সরকার

ইয়াশফা কফি টা ঋষভের রুমে নিয়ে আসে। রুমে অদ্রীত বসে আছে। ঋষভ ওয়াসরুমে গেছে। ইয়াশফা গিয়ে কফি টা টেবিলের পাশে রেখে অদ্রীতের কাছে গেলো।
“ভাইয়া এই নিমপাতা টা কোথায় গেছে?”
অদ্রীত হেসে বললো
“ও ওয়াসরুমে। বাই দ্যা ওয়ে নাম টা কিন্তু জোস”
ইয়াসফা একটু হাসলো। অদ্রীত ইয়াসফার দিকে তাকিয়ে দেখলো মেয়েটা গুলুমুলু হঠাৎ অদ্রিতের মুখ থেকে বের হয়ে গেলো

“লাড্ডু”
ইয়াশফা অদ্রিতের দিকে তাকিয়ে বললো
“কি লাড্ডু? কোথায় লাড্ডু? জানেন আমারো লাড্ডু খেতে ইচ্ছে করছে”
অদ্রিত বললো
“তুমিই তো লাড্ডু। নিমপাতা জামাইয়ের লাড্ডু বউ”
ইয়াসফা হা করে দাঁড়িয়ে থাকলো। এর মধ্যেই ঋষভ ওয়াসরুম থেকে একটা টাওয়েল পড়ে বের হয়ে আসলো। ইয়াশফা চোখ মুখ ছোট করে নিলো। এই লোকের লজ্জা শরম কিচ্ছু নেই।
“আপনার জন্য কফি এনেছি”
ঋষভ গিয়ে কফিতে এক চুমুক দেওয়ার সাথে সাথে শুভ্র এসে চিৎকার করে। সবাই শুভ্রর দিকে তাকাই। শুভ্র একবার ইয়াশফার দিকে আরেকবার থুথু মিশানো কফির দিকে তাকাচ্ছে। ঋষভ শুভ্র কে বললো
“কি হয়েছে?”
ইয়াশফা গিয়ে শুভ্রর পাশে দাড়ায় এরপর শুভ্রর পায়ের একটা উস্টা মারে তারপর ইশারায় চোখ দেখিয়ে চুপ করতে বলে। শুভ্র ইয়াশফার ভয়ে ঋষভ কে বলে

“আরে খা খা। আসলে আমার খুব পেট ব্যাথা করছে ওই জন্য আরকি। তুই খা, সেই স্বাদ না? হো আমি জানি সেই স্বাদ খা বাবা খা”
ঋষভ কোনো কথা না বলে চুপচাপ খেয়ে নিলো। ইয়াশফা ও কফির মগ নিয়ে নাচতে নাচতে চলে আসলো। মজাই লাগলো। ঠিক করেছে। শুভ্র পেছন পেছন আসলো। ইয়াশফা রাগি চোখে বললো
“একটু হলেই সব ফাঁস করে দিচ্ছিলেন। শুনুন যদি উনাকে কিছু বলেন না তাহলে আপনাকে ইন্দুর মারার বিষ মিশিয়ে খাইয়ে দিবো। আমি কিন্তু মানুষ ভালো না।”
শুভ্র কাঁদো কাঁদো মুখে ইয়াশফার দিকে তাকালো। এই মেয়ে যে কি পরিমাণ ডেঞ্জারাস সেটা হারে হারে বোঝা যাচ্ছে। যে মেয়ে ঋষভের মতো ছেলে কে থুথু দেওয়া কফি খাওয়াতে পারে সেই মেয়ে সব পারে। শুভ্র বললো
“বোন তোর চরণে সালাম। মাফ চাই দোয়াও চাই আমি ঋষভ রে কিচ্ছু বলবো না”
এই বলে শুভ্র চলে গেলো।
অদ্রীত ঋষভ কে বললো

“তোর বউ টা কিন্তু অনেক কিউট পুরাই একটা পুতুল।”
ঋষভ একটু রেগে গিয়ে বললো
“আমি মানি না ওকে।”
শুভ্র এসে ঋষভের কাঁধে হাত দিয়ে বললো
“কেনো মানিস না?”
ঋষভ বললো
“অনেক কারণ আছে।”
এর মধ্যেই ঋষভের কল আসলো ঋষভ বেলকুনি তে চলে গেলো।
এইদিকে…
মুগ্ধ রাহার কোলে শুয়ে আছে। রাহা চুপ করে বসে আছে৷ ও এখনো মুগ্ধ কে মন থেকে মেনে নিতে পারে নি। তবে একটা জিনিস বুঝেছে লোকটা খারাপ না। সে কারণে এখনো অব্দি মুগ্ধ কে কিছু বলে নি। মুগ্ধ কে স্বামীর সব অধিকার দিয়েছে। মুগ্ধ রাহা কে পাগকের মতো ভালোবাসে। একটা মাত্র বউ। মুগ্ধ রাহার কোল থেকে উঠে রাহার ঠোঁটে গভীর একটা চুমু খেলো। রাহা মাথা নিচু করে আছে। মুগ্ধ রাহা কে বললো

“কি হয়েছে বউ?”
রাহা মাথা নাড়িয়ে বললো
“কিছু না ভালো লাগছে না মা বাবার কথা খুব মনে পড়ছে”
মুগ্ধ রাহার দিকে তাকিয়ে বললো
“আমি তোমাকে নিয়ে যাবো তোমার বাপের বাড়ি মন খারাপ করো না।”
রাহা মুগ্ধর কথা শুনে চুপ করে রইলো। ওর চোখ হঠাৎ করে আলমারির কর্ণারে গেলো। একটা বিশাল কালো রংয়ের সাপ আলমারির নিচে ডুকছে। সাথে সাথে রাহার কলিজা কেঁপে উঠলো। রাহা অনেক জোরে একটা চিৎকার দিলো। মুগ্ধ ও ভয় পেয়ে গেলো রাহার চিৎকারে। মুগ্ধ বিচলিত হয়ে বললো
“কি হয়েছে বউ চিৎকার করছো কেনো?”
রাহা হাত দিয়ে সাপের দিকে দেখাতেই মুগ্ধ এক লাফে রাহার কোলে উঠে গেলো। রাহা আরো ভ্যাবাচাকা খেয়ো গেলো। মুগ্ধ রাহার গলায় মুখ লুকিয়ে চিৎকার করে বললো
“বউ বাঁচাও তোমার জামাই কে সাপ টা খেয়ে ফেললো”

রাহার মনে হচ্ছে চিক্কুর দিয়ে কানতে পারলে একটু শান্তি লাগতো। ওর বুইড়া জামাই ওরে না রক্ষা করে উল্টে ওর কোলেই উঠে বসে আছে। মুগ্ধ সবাই কে ডাকতে থাকে। রিদ অভ্র তিথি মিহি আরাধ্যা। তিথির ভাইয়ের বউ রুহি সবাই ছুটে আসে। মুগ্ধ রিদ কে সাপ দেখিয়ে দিলো। রিদ আর অভ্র মিলে সাপ কে মারার জন্য ধরতে গেলে সাপ টা দরজার নিচ দিয়ে চলে যায়। সবার হাত পা কাঁপছে হাজার হোক সাপ জিনিস। তার উপর এই সাপ টা দেখতেই ভয়ংকর। সবার গায়ের লোম দাড়িয়ে গেলো। রিদ সাপের পেছন পেছন এসে দেখলো সাপ টা ইয়াসফার রুমে ডুকে গেলো। সবাই ছুটে ইয়াশফার রুমে গেলো এইদিকে ইয়াশফা নাকে তেল দিয়ে আরামে ঘুমাচ্ছে। রিদ গিয়ে দরজায় ধাক্কা দিয়ে বললো
“এই এটাম বোম দরজা খুলো তোমার ঘরে সাপ ডুকেছে তাড়াতাড়ি বের হও ঘর থেকে”
ইয়াশফা হুট করোই উঠে যায়। একটু চোখ লেগে এসেছিলো। ইয়াশফা দরজা খুলে দিতেই মিহি তিথি আর রুহি গিয়ে ইয়াশফা কে জরিয়ে ধরে। মিহির হাত কাপছে ইয়াশফা কে বলে

“তুমি ঠিক আছো তো?”
ইয়াশফা একটু অবাক হয়ে বলে
“আমি তো ঠিক আছি কিন্তু কি হয়েছে আপনাদের? ”
রিদ ইয়াশফা কে সাপের কথা বলতেই ইয়াশফা গোটা রুমে চোখ বুলিয়ে নিলো। সবার চোখ গেলো সাপ টা ইয়াশফার খাটের নিচে ডুকলো। রিদ আর অভ্র একটা লাঠি নিয়ে এসে খাটের নিচে বসে পড়লো। ইয়াশফা চেচিয়ে বললো
“একদম না আপনারা উঠুন আঙ্কেল ওকে মারবেন না। ও কারো কোনো ক্ষতি করবে না। আমি দেখছি”
রিদ নিজের কপালে বারি দিয়ে বললো
“এই বুরো বয়সে এসেও বউমা আমায় আঙ্কেল বলে। আমারে পাপা বলবা”
ইয়াশফা বললো
“আমি পাপা ফাফা বলতে পারি না আমি আপনাকে বাবা বলবো”
রিদ হালকা হাসলো। ইয়াশফা রিদ কে সরিয়ে দিয়ে খাটের নিচে উঁকি দিলো। সাপ টা ফোঁনা তুলে ওর দিকে তাকিয়ে আছে। ইয়াশফা হাতের ইশারায় বললো “আয় আয় আমার কাছে আয়। ভয় পাস না”
অবাক করা বিষয় সাপ টা সত্যিই সত্যিই ওর হাতে এসে উঠে পড়লো। ইয়াশফার হাতে সাপ দেখে সবাই চেচিয়ে উঠলো মিহি চিৎকার দিয়ে বলে

“ইয়াশফা সাপ টা কামর দিবে। ফেলে দাও ওকে। পঁচালোক মেয়েটা কে বাঁচাও। ও বাচ্চা বুঝতে পারছে না। সাপ টা অনেক বিষাক্ত”
রিদ ও বুঝলো এবার বেশি বেশি হয়ে যাচ্ছে। ইয়াশফা কারো কথা না শুনে সাপ কে বিছানায় ছেড়ে দিলো। এরপর নিজেও বসে পড়লো।
“দেখেছিস তোকে দেখে মানুষ রা ভয় পাচ্ছে অথচ মানুষ কিন্তু তোর থেকেও ভয়ংকর।”
সাপ টা ফোঁনা নামিয়ে ইয়াশফার কোলে উঠে গেলো। রিদ চেচিয়ে উঠলো। এরমধ্যেই চেচামেচি শুনে ঋষভ শুভ্র আর অদ্রিত রুমে আসলো। ঋষভ দেখলো ইয়াশফার কোলে সাপ। ওর চোখ বড়ো হয়ে গেলো। ঋষভ চোখ গরম করে বললো
“এই ইডিয়ট এইদিকে আসো। ও কামড়ে দিবে”
ইয়াশফা ঋষভের দিকে তাকিয়ে সাপ কে বললো
“তুই জানিস ওই লোকটা আমাকে দুচোখে দেখতে পারে না। সব সময় এমন ধমক দেয়।”
সাপটা এবার মাথা ঘুড়িয়ে সত্যিই ঋষভের দিকে তাকালো। সবাই অবাক হয়ে গেলো। সাপ টা কি ইয়াশফার কথা বুঝতে পারছে? ঋষভ ধমকের সুরে বললো

“নামতে বলেছি তোমাকে বিছানা থেকে। কথা যদি না শোনো তাহলে হাত পা বেঁধে ১০ তালা থেকে ফেলে দিবো”
কথাটা শোনা মাত্রই সাপ টা ঋষভের দিকে ফোঁনা তুলে এগিয়ে গেলো। ইয়াশফা দ্রুত সাপ কে ধরে বললো
“এই বেডি উনার দিকে তেড়ে যাস না ওইটা আমার জামাই”
ইয়াশফা সবাই কে বেরিয়ে যেতে বললো। সবাই থাকলে ওর সাপ বাচ্চার শ্বাস কষ্ট হবে। ঋষভ বাদে সবাই বেরিয়ে গেলো। রিদ বুঝেছো এই মেয়ে কোনো সাধারণ মেয়ে না। ও আসলেই একটা এটাম বোম। কেউ যদি ওর ছেলে কে সোজা করতে পারে তাহলে সেটা এই মেয়েই পারবে। ঋষভ ইয়াশফা কে জোরে ধমক দিয়ে বললো
“নাম বিছানা থেকে ইডিয়ট। কথা কানে যাচ্ছে না তোর?”
ইয়াশফা ঋষভের দিকে অবাক হয়ে তাকালো। এই লোক এতো খারাপ? ওকে তুই করে বলছে? ইয়াশফা সাপ কে বিচার দিয়ে বললো

“দেখ পাখি দেখ এই বাড়িতে আমার কেউ নেই। আমার সাথে কেউ ভালো করে কথা বলে জানিস?”
সাপ টা আবারো ঋষভের দিকে তেড়ে গেলো। ইয়াশফা সাপ কে নিজের কোলে নিয়ে বললো
“থাক পাখি বাদ দে তুই যা। তুই ও আমার মতো অভাগা কাজের সময় ভাইভাই কাজ ফুরাইলে চুদির*ভাই। তুই বরং চলে যা ওরা তোকে ভয় পাচ্ছে”

নেশাক্ত প্রহর পর্ব ৭

কথাটা বলেই ইয়াশফা সাপ কে নিয়ে বাহিরে চলে গেলো পেছন পেছন ঋষভ ও গেলো। ইয়াশফা গিয়ে সাপ কে ছেড়ে দিয়ে আসলো। রিদ তো ইয়াশফার উপর ভিষণ খুশি। এই মেয়েকে দিয়ে অনেক কিছু হবে। রুহি এসে ইয়াশফা কে জড়িয়ে ধরলো। ইয়াশফার কাজ কথা বার্তা শুনে কেউ বলবে এটা একটা ১৪ বছরের বাচ্চা?

নেশাক্ত প্রহর পর্ব ৯