পৌষপার্বণ ঈদ পর্ব ৩১
Irfa Mahnaj
সালামি দেওয়ার নাম করে রুমের দরজা জানালা আটকে রোমান্স করে তৃপ্তি মিটিয়ে রুম থেকে বের হলো পার্বণ। বোন টাকে তো টাইট দিল এবার ভাইয়ের পালা। বোন আদর করতে দেয় না আর ভাই রোমান্স করার মাঝখানে এসে দরজা ধাক্কাধাক্কি করে।
মনে মনে বলতে বলতে গেল,
— কোন ম্যানার্সই শেখাতে পারলাম না দেখছি।
এদিকে ছাদে বসে আছে ভাদ্র। উদাস ভঙ্গিতে রেলিং এর উপর বসে দুই হাত পেছনদিকে ঠেস দিয়ে বসা। কিছুক্ষণ আগে পার্বণকে খুঁজতে ওর রুমে গিয়েছিল।
গিয়ে দেখে দরজা বন্ধ। ভারী অবাক ও হয়েছে এ ভর দুপুরে দরজা বন্ধ করে কোন রাজকার্য করছে কে জানে!
ভাদ্রের মন খারাপ। বা রে! হবেই তো। পার্বণ ছোট ভাই হয় বাবা হয়ে বসে আছে। পরে দেখা যাবে পার্বণ যখন দাদা হয়ে যাবে তখন গিয়ে ভদ্র বাবা হবে। চৈত্রকে বললে বলবে,
— ভাদ্র শোন এখনো আমার বাচ্চা নেওয়ার বয়স হয়নি।
— তো তোর ভাই খুব বুইড়া হয়ে গেছে?
চৈত্রের এহেন কথায় চোখ জোড়া ছোট ছোট করে ওর কথার বিপরীতে বলে উঠে ভাদ্র।
— আশ্চর্য! ওকে টানার কি আছে?
— অনেক কিছু আছে। আমার প্রেস্টিজ সব শেষ।
মুখ ভেংচি কেটে চৈত্র বলল,
— প্রেস্টিজ আবার তোর কবে ছিল?
— ওই পাতিলের তলায় একটু ছিল।
স্মৃতিচারণ থেকে বেরিয়ে আসে ভদ্র। গুনগুনিয়ে “বাবা আমার কি বিয়ে হবে না?” গানের সুরে নিজের মতো গান বানিয়ে গায়,
” চৈত্র আমার কি বাচ্চা হবে না?
চৈত্র আমি কি বাবা হব না? ”
— বাহ! মচেৎকার গান গাও তো তুমি ভাই।
কথাটা বলতে বলতে এসে লাফিয়ে রেলিংয়ে উঠলো পার্বণ। ভদ্রের মতো করেই ভদ্রের পাশে বসে। ওকে দেখে ভাদ্র শুধায়,
— একটা মচেৎকার না চমৎকার হবে।
— আমার জন্য ওটা মচেৎকারই। এসব ছাড়ো, আগে বল একটু আগে দরজা দুরজা ভেঙে ফেলার মত তান্ডব করলে কেন? তোমার বোনকে কি আমি খেয়ে ফেলতাম?
— অলরেডি খেয়ে বসে আছিস। ঢেকুর তোলাও শেষ। আবার বলে খেয়ে ফেলতাম? ঢং যতসব!
বিড়বিড় করে এটা বললেও মুখে বলে,
— কুচ তো শরম কর ব্রো। আমি তোর বড় ভাই হই।
— শরম! সে আবার কি জিনিস? শরম গরম ভাতের সাথে মেখে খেয়ে ফেলেছি। সেই টেস্ট! তুমি ট্রাই করে দেখতে পারো।
কথাটা বলার সময় ইনোসেন্ট ফেস করে বলেছে যেন ভাজা মাছটাও উল্টে খেতে জানে না। ভাদ্র বুঝে গেল ও যে পার্বণের সাথে পারবে না তাই জিজ্ঞেস করল,
— তা ভরদুপুরে দরজা আটকানোর কারণ কি?
— বিবাহিত হয়েও অবিবাহিত মার্কা প্রশ্ন করো কেনো ভাই? বসন্ত বা হেমন্ত করলেও মানা যেতো। তুমি আর তোমার বোন আমাদের দুই ভাই বোনকে বুঝলেই না। হায় আফসুস!
— আফসুস আবার কি? এসব আজগুবি শব্দ কোথা থেকে পাস তুই?
— এসব শব্দ শুধু পার্বণের ডিকশেনারিতেই আছে। আমার বাচ্চা কাচ্চার জন্য সংরক্ষণ করছি।
সময় বহমান। নদীর পানি যেমন বহমান তেমনি বহমান সময়। সময় কারো জন্য অপেক্ষা করে না। দেখতে কেটে যায় পাঁচ মাস।
পৌষের প্রেগনেন্সির সাত মাস চলছে এখন। স্বাভাবিকের তুলনায় পৌষের পেট অতিরিক্ত ফুলে গেছে। বাড়ির সবাই তো চিন্তিত। পার্বণ কিছুক্ষণ পরপর এসে জিজ্ঞেস করবে,
— হ্যা রে পৌষ তোর পেট এমন ফুটবল হয়ে আছে কেনো?
পার্বণের যে পৌষের পেট অতিরিক্ত ফুলে যাওয়ার জন্য চিন্তা হচ্ছে তা বুঝতে বাকি রইল তার। এসব দেখে হাসে পৌষ।
পৌষের এখনই হাঁটতে চলতে কষ্ট হয়। সারাদিন বলতে গেলে শুয়ে বসে থাকা লাগে। বেচারি পৌষ এক কাইক হাঁটলেই হাঁপিয়ে ওঠে।
পৌষের বাড়ন্ত পেট দেখে পার্বণ পৌষের নাম দেয় “মিষ্টি কুমড়া”। মিষ্টি কুমড়ার মতই ফুলে আছে সে।
এসবের মধ্যেও পৌষের প্রতি পার্বণের যত্ন আনুপাতিক হারে শুধু বৃদ্ধিই পাচ্ছে। বাড়িতে কেউই ভাবেনি পার্বণ পৌষের এত কেয়ার করবে। ও তো নিজেই সারাক্ষন ভণ্ডামিতে মেতে থাকে।
কিন্তু তাদের কে ভুল প্রমাণিত করে নিজ দায়িত্ব খুব ভালোভাবে পালন করে। বাবা মায়েদের বোধহয় আলাদাই শক্তি আছে। শক্তি জোরে কা
পার্বণ প্রমাণ করে দিয়েছে বয়স যতই হোক বাবা হওয়ার সব দায়িত্ব পালন করা যায়।
ছন্নছাড়া ভবঘুরে পার্বণ সবক্ষেত্রে হেঁয়ালি, জাউরামি করলেও যখন প্রসঙ্গ পৌষের উঠে তখন যেন হুট করে বড় হয়ে যায়। পৌষকে সময় মতো খাওয়ানো, ওষুধ খাওয়ানো, ওর সাথে সময় কাটানো, গল্প করা, ওর চুল বেঁধে দেওয়া থেকে শুরু করে সব করে অতি যত্নের সহিত।
পৌষের বডি পেইন উঠলে হাত পা টিপে দেওয়া, দুস্টু-মিষ্টি খুনসুটি সাথে পৌষের পেটের সাথে কান পেতে নিজের অংশের সাথে কথা বলা। এবং সর্বশেষে রাতে পৌষকে আদুরী স্পর্শে, আলতো ভাবে নিজের বুকে আগলে মাথায় বিলি কেটে ঘুম পাড়ানো।
তবে হ্যাঁ এতসবের মাঝেও ভন্ড পার্বণ ভন্ডামি না করে থাকতে পারে নাকি? পারে না তো। ঐদিন মোবাইলে একটা রিলস দেখাতে নিয়ে এসেছিল।
আর পার্বণের হেসে লুটোপুটি খাওয়া অবস্থা দেখে পৌষ ভেবেছিল কি না কি মজার কিছু হবে। ওমা পরে দেখে উল্টো কারবার!
একটা ভিডিও যেখানে একটা প্রেগন্যান্ট মহিলার ইয়া বড় পেট। ওটার মিম বানিয়ে রিলস করেছে আর কি। পেট হলেও বাচ্চাটার জন্য একটা প্যালেস। এতো বড় পেটে আরাম আয়েসের অভাব নেই।
— পার্বণের বাচ্চাআআআ! তোর জন্য আমার আজ এই দশা আর তুই দাঁত কেলাচ্ছিস।
পৌষের মুড সুইং হতে দেরি কিন্তু পার্বণের হাওয়া হতে দেরি হয়নি। সে ওই জায়গা ছেড়ে পগারপাড়।
পূর্ণা একটা ভয়ংকর প্ল্যান করেছে। এই প্ল্যানে ওকে সাহায্য করবে পার্বণ। যদিও ভয় করছে তবুও পিছু হটতে নারাজ পূর্ণা। ওর ভাবনার মাঝে এসে উপস্থিত হয়ে পার্বণ।
এসেই পূর্ণার মাথায় একটা গাট্টা মেরে জিজ্ঞেস করে,
— ওই টুনির মা আমারে কেন ডাকছোস?
মাথা ডলতে ডলতে কটমট করে পার্বণের দিকে তাকিয়ে উত্তর দেয়,
— আমার মাথায় আলু গজালে দেখিস তোরে কি করি।
পূর্ণার কথা একেবারে হেসে উড়িয়ে দেওয়ার মতো করে বলে,
— হাস! কি করবি তুই? কিচ্ছু করার মুরোদ নেই তোর।
বাঁকা হাসলো পূর্ণা। পার্বণের কাধ চাপরে মুখ দিয়ে “চুক চুক” আওয়াজ বের করে বলে,
— আমার মুরোদ নেই তো কেয়া হুয়া পৌষ তো আছে। ওর মুরোদ সম্পর্কে আশা করি তোর খুউউব ভালো ধারণা আছে।
খুব কথাটা আবার টেনে টেনে বলে। ব্যাস হয়ে গেল। পার্বণের টায় টায় ফিস। ভোঁতা মুখ করে বলে,
— কেনো ডেকেছিস সেটা বল।
— আব আয়া না উট পাহাড় কে নিচে।
তারপর পূর্ণা পার্বণকে নিজের প্ল্যান বলতেই ও চেঁচিয়ে উঠলো।
— আর ইউ ক্রেজি ডুড? কেউ জানতে পারলে হাড্ডিগুড্ডি ভেঙ্গে মিউজিয়ামে রেখে দিবে।
— চাপ নিস না। চিল একদম প্যারা নেই।
— হ তোরে কইছে। চিল না বা*ল। চিল করার ঠেলায় পরে কাউয়া কাদেরের মত দশা হবে।
— তোর তো বউ আছে আমার তো জামাই লাগবে।
— দারাজে অর্ডার দে না হয় পোস্টার ছাপামু পাত্র চাই বিজ্ঞাপন দিয়া। দরকার হয় পোস্ট করব অনলাইন যুগ। সব সম্ভব।
— আমার ডিলে রাজি হবি কিনা বল?
— হবো না।
— দাড়া পৌষরে কল দিতেছি।
— কি আশ্চর্য তুই কথায় কথায় আমার বউরে হান*দাও কেন? বউ টানাটানি ভালো লাগেনা।
— তো তুই রাজি?
— আচ্ছা।
পৌষপার্বণ ঈদ স্পেশাল পর্ব ২
পূর্ণা নিজের হাত বাড়িয়ে দিল হ্যান্ডশেক করার জন্য। পার্বণ ও অগত্যা হাত মিলায়।
— মিশন শুরু।
— আমি যদি আব্বা ডাক শোনার আগে শহীদ হই না? তোরে দেখিস কি করি। আহারে আমার ডিএনএ!
