প্রিয় প্রণয়িনী ২ পর্ব ৪৮
জান্নাত নুসরাত
সৌরভি আগের মতোই নির্জীব। না কারোর সাথে বাক্য বিনিময় করে না খেতে চায়। পাশে বসে একদিন পূর্বে নাজমিন বেগম বুঝিয়েছেন, মেয়েটা কাঠপুতলির মতো শুধু উপর-নিচ মাথা দুলিয়েছে। চোখ মুখের লাবাণ্যতা মিইয়ে গিয়ে পাংশুটে হয়ে গেছে। মৃত প্রাণীর ন্যায় চোখের উজ্জ্বলতা কমে ফ্যাকাসে বর্ণ ধারণ করেছে। কেমন ভুতের মতো হাঁটে বাড়ি জুড়ে, হঠাৎ কেউ দেখলে ভুত মনে করে হার্ট অ্যাটাক ও করতে পারে। ঝর্ণা বেগম সেদিন অভিমান অভিযোগ ফেলে ছেলেকে নিতে আসলেও ছেলে এক-পা বাড়াল না ও-বাড়ির উদ্দেশ্যে, গো ধরে বসে রইল এ বাড়িতে থাকবে বলে। শেষ পর্যন্ত ভার মুখে ছেলের বউ আর ছেলেকে ছেড়ে গিয়েছেন সৈয়দ বাড়িতে ভদ্রমহিলা।
দিনগুলো যেন সৈয়দ বাড়ির মানুষদের জন্য বিবিষিকাময়। আগের মতো ঝরঝর করে দিন কেটে রাত নামলেও, রাত যেন ফুরোয় না। চারিদিকে ধূ ধূ শূণ্যতা। বাড়ি দুটো পড়ে আছে মরুভূমির ন্যায় শূন্য হয়ে৷।
বাচ্চা ছেলে মেয়েগুলো বাড়িতে নেই, তাদের অভাবে খা খা করে ইট-পাথরের দালান গুলো। ইরহাম আগের মতো হাসে না, মুখ গোমড়া থাকে সারাক্ষণ। গম্ভীর মুখ ভঙ্গি করে সারাদিন সোফায় বসে কিছু একটা ভাবে, আগের মতো রমরমে ভাব নেই এ বাড়ির দুয়ারে, যেন হাসলেই পাপ হবে সবার। অলস মনে বসে বসে এসব ভাবেন আর কাজ করেন নাজমিন বেগম।
আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন
বাড়ি আজ ঠান্ডা! সৌরভির নড়চড় নেই৷ নাহলে সকাল, দুপুর, রাতে স্বামী স্ত্রীর এক চোট ঝগড়ার আওয়াজ পাওয়া যায়। ইরহাম টু শব্দটি করে না, নিজের অপরাধ বোধের চাপে। কিন্তু সৌরভি কখনো থামে না, সে তেতো গলায় সারাক্ষণ গালি-গালাজ করতেই থাকে। আগে তো মেয়েটা এত গালাগাল করত না, এখন কী করে এত খারাপ ভাষা ব্যবহার করে? ভেবে হয়রান হননা নাজমিন বেগম, চোখের সামনে নিজের দাম্ভিক, নাকের ডগায় বিরক্তি, সারাদিন ভেটকাতে থাকা নুসরাতের মুখ ভাসে। খারাপ সঙ্গে গালাগাল শিখেছে, এরপর একে একে বাড়ির ছোট থেকে বড়দের শিখিয়েছে নিজের গালিগুলো। এই বাড়ির কোনো ছেলে-মেয়ে এত গালাগাল করত না, এমনকি নিজের ভাসুর, দেবর কাউকে গালি ব্যবহার করতে শুনেননি নাজমিন বেগম, হঠাৎ হঠাৎ শোহেব, সোহেদ রেগে গেলে খবিশ বলেন নয়তো রামছাগল বলে ওঠেন। অতিরিক্ত রাগলে শুয়োরের বাচ্চা, এছাড়া আর কোনো গালি ব্যয় করে না, কিন্তু তার পেট থেকে বের হওয়া বেয়াদপটা, কী কী গালি দেয়, যা তিনি জীবনে শুনেননি!।
ভাবনার অতলে এত হারিয়ে গেলেন যে নাজমিন বেগম টের পেলেন না একইধারায় সিঙ্কে পড়তে থাকা পানির শব্দ। বাহির থেকে যে ইরহাম মেঝ মা বলে অগণিত বার ডেকেছে তা ও শুনতে পেলেন। চাচির নড়চড় না পেয়ে, মনে করল হয়তো বাড়িতে নেই, কিচেনের পানির শব্দ তখনো তার কর্ণগোচরে পৌঁছায়নি, উদভ্রান্তের ন্যায় ছুটল বাড়ির বাহিরে। বাহিরে বেরিয়ে চ্যাঁচিয়ে ডাকল,”সৌরভি..
নেই সৌরভি আশপাশে কোথাও! খালি রাস্তায় কিছুক্ষণ পাগলের মতো তাকিয়ে গেটের ভেতর ঢুকল। হন্তদন্ত পায়ে আবার বাড়িতে ঢুকে হাতে গাড়ির-কী নিল। কী-তে চাপ দিতেই শব্দ করে হর্ণ বেজে ওঠল। গাড়ি গ্যারেজ থেকে বের করে পাগলের মতো স্টার্ট করল। রাস্তায় গাড়ি উঠে আসতেই উইন্ডোস্ক্রিনে বাহিরে তাকাল সে। একহাতে হুইল চেপে দেখল আশপাশ। বিড়বিড় করে আওড়াল নিজ মনে,”সৌরভি, সৌরভি, সৌরভি, আই উইল কিল ইউ ইডিয়ট…
রাস্তায় কালো শেলোয়ার কামিজ পরিহিত একটা মেয়েকে দেখে চ্যাঁচাল,”এই সৌরভি দাঁড়াও, এইই মেয়ে এইইই…
হন্তদন্ত হয়ে গাড়ির ডোর খুলে বের হলো। চোখে তখন শর্ষের ফুল দেখছে সে। ভয়ে বুক কাঁপছে থরথর করে, হাত-পায়ের অবস্থা মৃগী রোগীর মতো। মেজাজ গরম করে গিয়ে কাঁধ ধরে টান দিতে নিবে থেমে গেল ইরহাম, দমকা হাওয়ার শীতল স্পর্শ বয়ে গেল গা বেয়ে।
শিরদাঁড়া সোজা করে নিল সে, বাড়ানো হাত গুটিয়ে নিল, সামনের মেয়েটা সৌরভি না। অনুভূতি হলো অন্যরকম কিছু একটা। মেয়েটা আশপাশে থাকলে যেমন বুকে কম্পন হয় তেমনই হলো, এতে সামন্য টলে গেল নিজের জায়গা থেকে। অতিরিক্ত অস্তিরতায় চোখের পাতা ঝাপটাল নিজের! সামনে স্ট্যান্ড করা বাইকের উত্তল মিররে দিকে কোণা চোখ যেতেই গাড়ির ডিক্কি থেকে তাড়াহুড়ো করে ওড়না সামলে বেরিয়ে আসতে দেখল নতুন নববধুকে। চাদরের মতো গায়ে ওড়না গায়ে প্যাঁচিয়ে চোরের মতো দিক-বিদিক ভুলে সি-এন-জি স্টেন্ডের দিকে দৌড়াল। আকস্মিক হাসি পেল ব্যাপারটা দেখে ছেলেটার৷ ঠোঁট বেয়ে বয়ে গেল হাসির ফোয়ারা। ঠোঁট এলিয়ে হাসতেই থুতনিতে টোল পড়ল। গালের একপাশ সূক্ষ্ম দেবে গেল। পা চালিয়ে যেতে যেতে চোখে এঁটে নিল গ্লাস। পেছন থেকে রসাত্মক গলায় ডাকল,”জানেমান…
সৌরভি ঘাড় ঘুরিয়ে এক পলক তাকাল, তারপর আবার পাগলের মতো ছুটল সম্মুখে। ইরহামের সাথে পারল না সে, বড় বড় পা ফেলে এসে পেছন থেকে শক্ত হাতে চেপে ধরল কব্জি। নিষ্পাপ চোখে তাকিয়ে শুধাল,”পালানো হচ্ছে ওয়াইফি..?
সৌরভি হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করল। মোচড়া-মুচড়ি অভ্যস্ত রেখে গলা নামিয়ে কটমট স্বরে বলে ওঠে,”তোমার সাথে আমি যাব না।
“তুমি যাবে, সাথে তোমার পুরো শরীর যাবে, কে আটকাবে আমায়?
“আমি চ্যাঁচিয়ে লোক জড়ো করব।
“থ্রেট দিচ্ছো জানেমান? চলো, বাসায় চলো, অনেক ইদুর বিড়ালের মতো লুকোচুরি খেলেছ। তাছাড়া লুক জড়ো করে লাভ নেই, আমাদের বিয়ের ছবি আছে আমার কাছেম
“যাব না, ডিভোর্স দিব আমি আপনাকে।
ইরহাম সৌরভিকে টেনে নিয়ে যেতে পারল না। সামনে দাঁড়ানো জেদি মেয়েটার দূর্বলতার সুযোগ নিয়ে একহাতে কোমর চেপে ধরল, অন্যহাতে স্ত্রীর কব্জি চেপে গা দুলিয়ে এক পা আগাল। দোকানদাররা তাকিয়ে আছে এদিকে হা করে, বিশেষ পাত্তা দিল না তা ইরহাম । নির্লজ্জের মতো শব্দ করে হাসল। গ্লাস পরিহিত চোখ সামনে স্থির রেখে স্ত্রীকে নিয়ে গা দুলিয়ে অগ্রসর হতে হতে অনুচ্চ স্বরে বলল,“ ডেনিস টাইমোর এর একটা ড্রামায় একটা সিন এমন ছিল তার বউ ডিভোর্স পেপার বিয়ের পরেরদিন রেখে পালিয়ে যায়, পরে স্ত্রীকে জোর করে বাপের বাড়ি থেকে তুলে আনতে আনতে এমনই স্বামী-স্ত্রী গা দুলিয়ে নাচে। আমার কী জীবন, সিনটা রিক্রিয়েট করার সুযোগ পেয়ে গেলাম।
সৌরভি বিরক্তিতে মুখ কুঁচকাল। দাঁতে দাঁত চেপে বলল,”আমাকে তালাক দিয়ে দাও ইরহাম।
ইরহাম গা দুলিয়ে আবার হেসে উঠল। স্ত্রীর কোমর আর কব্জি চেপে ধরে নৃত্যে অব্যাহত থেকে বলে ওঠল,”কবর থেকে উঠে এসে যদি শ্বশুর আব্বা ও বলে তোমাকে তালাক দেওয়ার জন্য তবুও আমি তোমাকে তালাক দিব না। তাই বাইং মাছের মতো নাচানাচি না করে স্বামী সোহাগী হও, মৃত্যুর পর কপালে জান্নাত নসিব হবে। খারাপ হলেও আমি তোমার স্বামী আর ল*ম্প*ট, লু*চ্চা, বইদমাস যাই হই, তা হলেও তোমার স্বামী। নিজের নসিব তুমি পরিবর্তন করতে পারবে না সৌরভি, ভালোয় ভালোয় মানিয়ে নাও, আমাকে আমার খারাপ রুপ দেখাতে বাধ্য করো না।
ইরহাম মুখ গম্ভীর রেখে কথাগুলো বললেও বুক কাঁপছে তার। ভালোয় ভালোয় না মানলেও তো কিছু করতে পারবে না সে। কি ভয় টাই না পেয়েছিল মেয়েটা পালিয়ে গেছে ভেবে। মাথায় সর্ব প্রথম এসেছিল আত্মহত্যা করেনি তো, নিজের সাথে খারাপ কিছু করে বসল না তো আবেগের বশে। যখন দেখল মেয়েটা ঠিক আছে, শ্বাসনালিতে আটকে থাকা নিঃশ্বাস নৈঃশব্দে বেরিয়ে গেল, স্বস্থি এসে ভর করল বুকের ভেতরে। তখনো নিজেকে ইরহামের কবল থেকে ছাড়ানোর জন্য মোচড়া-মুচড়ি করল সৌরভি, কিন্তু ওই শক্ত হাতের থাবা থেকে না পারল কব্জি ছাড়াতে আর না পারল নিজের গা ছাড়াতে। রেগে মেগে কাঁধে কিল ঘুষি বসাল শক্তি দিয়ে। এতে মোটেও হাসি কমে গেল না ইরহামের, ঠোঁটের রেখায় হাসির পরিধি বৃদ্ধি পেল আরো বেশি।
চোখ খোলার পর সর্বপ্রথম অন্ধকার ভাসল মণিতে মেয়েটার। শ্যামলা আননের মুখটায় ভর করেছে চাপা ভয়। ভয়ার্ত দৃষ্টিতে আশপাশে চোখ ঘোরাল। মস্তিষ্ক তখন অচল। বোধগম্য হলো না কী হচ্ছে তার সাথে। মাটির নিচে কী করে ভেবে পেল না সে! মাথায় চাপ দিতেই মনে হলো, মরে গেল নাকি সে? চোখ দুটো বিস্ময়াভিভূত হয়ে গেল সেকেন্ডে, এতক্ষণে গিয়ে খেয়াল করল চার দেয়ালের মতো মাটির নিচে তার দেহ। ভূমিকম্পের মতো গা দুলে ওঠল। ভয়, বিস্ময়ে হাত-পা কেঁপে উঠল নিমেষেই। বুকের ভেতর তখন ভয়ের আসর জমা বেঁধেছে৷ গায়ে গরম লাগল, শ্বাসনালি দিয়ে যেন শ্বাস বের হচ্ছে না এমন উপলব্ধি হলো,চোখ বন্ধ করে মনে মনে ভাবল যদি স্বপ্ন হয় তাহলে ভেঙে যাক, কিন্তু ভাঙল না।।
নুসরাত সোজা হয়ে শুয়ে রইল। ভেতরে চলছে আন্দোলন। কী ভয়ানক সেই অনুভূতি! হাফসাফ করল শ্বাস নেওয়ার জন্য, পারল না। মৃগী রোগীর মতো ছটফট করতে করতে ধুপ করে চোখ খুলে তাকাল সে৷ চোখের পর্দায় রঙ্গীন আলো খেলা করল, সাদা পর্দা ভেদ করে ঘরে প্রবেশ করছে শীতিল বাতাস। ঘেমে যাওয়া শরীর বাতাসের প্রকোপে ঠান্ডা হয়ে আসলো আস্তে আস্তে। এতক্ষণের ভয় সামান্য কমে এসে ভর করেছে মনে প্রশান্তি। দিনের আলো মিইয়ে গিয়ে আছরের আগমনী বার্তা বহিতেছে ধরণীতে। নুসরাতের প্রশান্তির শ্বাস ফেলা হলো না আর, নাক-মুখে শক্ত করে কেউ বালিশ চেপে দাঁড়িয়ে আছে। ভীষণ বিরক্ত হলো সে।
মাত্র একটা জীবন-মরণের পর্যায় থেকে ফিরে আসছে আর এখন কপালে এসে ঠাডা পড়া কেডা জুটেছে আল্লাহ জানে। এর সমস্যা কী হয়েছে! এমন বালিশ দিয়ে চাপাচাপি করতেছে কেন! মেরে ফেলতে চায় নাকি বেয়াদবটা। অবশ হাত-পা নাড়ানোর চেষ্টা করল, হলো না। ঘোৎ ঘোৎ করে ছটফট করল অনেক সময়। যখন নির্জীবের মতো হা-পা নাড়ানো বন্ধ করে দিল, তখন মুখের বালিশটা সামান্য ঢিলে হয়ে আসলো। তেতো গলায় বালিশের নিচ থেকে নুসরাত ঠাট্টা করে বলে ওঠল,”হুদাই কী কই এই খান বাড়ির পোলা-মাইয়া আস্তো গাধা, মারতে আসছে কিন্তু কীভাবে বালিশ চাপা দিয়ে মারে তাও জানে না।
দীর্ঘ শ্বাস ফেলল। বোঝাল ভীষণ ব্যথিত সে। মুখের উপর থেকে বালিশটা সরিয়ে দিয়ে তাকাল সম্মুখে সাদা বিলাইয়ের মতো দেখতে মেয়েটার দিকে। ঠান্ডা কন্ঠে জানতে চাইল,”সমস্যা কী? ধাক্কাধাক্কি করতাছ কেন? পুরুষ মানষের মতো কুরকুরানি উঠেছে?
নিষ্প্রাণ চোখে তাকিয়ে রইল সামনে। তুলি চোখের চশমা ঠেলে নুসরাতকে কিছু বলতে নিবে, তার আগে স্বাস্থ্যবান মেয়েটাকে পায়ের সাহায্যে প্যাঁচিয়ে এনে ধপাস করে ফেলল নিজের পাশে। কপালে কুঞ্চন করে জানতে চাইল,”বাপ-চাচা ভাই-বোন সবাই কোথায়?
তুলির মুখ অনুভূতি শূণ্য। হা করে দেখে সে শ্যামলা মুখ, পিঠ জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা চুল, তার মধ্যে চুলগুলো আবার কুকরানো, সাপের মতো প্যাঁচিয়ে আছে গলায়, গালে, ঘাড়ে। তুলি ভেবে পায় না সে কোনদিক থেকে কম, কোথায় তার খুঁত আছে। এই মেয়ের তুলনায় হাজারগুণ ভালো, সুন্দর, নিখুঁত, তবুও আরশের ভাগ্যে কেন এই মেয়েটা!
গতকাল দুপুরে পানি থেকে চারজনকে তোলার পর সব থেকে বেশি সূচনীয় অবস্থা ছিল এই দু-বোনের। বড় ভাবীর জ্ঞান ফিরে আসলেও রাতের দিকে গা কাঁপিয়ে জ্বর এসেছিল। জায়িন ভাই কেমন ভাবীর হাত ধরে ধ্যান মেরে বসে আছেন৷ হাতে স্যালাইন ছিল গতকাল সারাদিন। আরশের অবস্থাও তেমন ভালো না। এক গাদা পানি খেয়ে পেট ঠুসঠুসে হয়ে গেছিল। শুধু এই মেয়ের পুরো চব্বিশ ঘন্টা পর জ্ঞান ফিরেছে। এর আগে স্যালাইন দেওয়া হয়েছে। স্যালাইন খোলা হয়েছে আজকে দুপুরে৷ কথা ছিল আজই সবাই ফিরে যাবে কিন্তু এই মেয়ের জ্ঞান না ফিরায় এখনো এখানে সবাই। দুপুরের খাবারের সময় রুমানা খাতুন, তুলি আর আরশের বিয়ের কথা তুলতেই শক্ত গলায় লিপি বেগম জানিয়ে দিয়েছিলেন তেরো বছত পূর্বে শ্বশুরের করা পদক্ষেপের কথা। এতে খুব একটা খুশি না কহান বাড়ির কেউই, তবুও রাগ চেপে গম্ভীর মুখে আত্মীয়দের সাথে কৃত্রিম হাসি বিনিময় করছে। নুসরাতের জ্ঞান ফিরছে না দেখে রুমের বাহিরে বিষাদ মুখে অপেক্ষায় ছিল সৈয়দ বাড়ির মানুষজন। আছরের আজান দেওয়ায় সবাই নামাজ পড়তে গেছিল, সেই সুযোগে জানটা নিতে চাইল, কিন্তু ভাগ্য সহায় হলো না। কী খারাপ মেয়ে, তার দিকে তাকিয়ে কেমন করে হাসছে অলস ভঙ্গিতে উঠে বসে চুলে মেসি ভান করে নিল নুসরাত। হাবভান এমন, যেন কিছুই হয়নি। তুলি উঠে বসতে নিবে বিছানা থেকে, নুসরাত এক হাতে ঘাড়ের কাছে চুল চেপে ধরল। তুলি কঁকিয়ে উঠে অস্পষ্ট কন্ঠে বলে ওঠে,”চুল ছাড়ো..
নুসরাত ভ্রু যুগলে ভাঁজ ফেলে প্রশ্নাত্মক গলায় জিগ্যেস করে,“কেন? ব্যথা লাগে?
তুলি চুল ছাড়ানোর চেষ্টা করল, পারল না। তাই নিজেকে বাঁচানোর জন্য নুসরাতের দু-হাত খাবলে ধরল নখের সাহায্যে৷ ব্যথায় কুঁচকে গেল শ্যামলা মুখের ললাটখানা। অদ্ভুত হাস্য রেখা বয়ে গেল ঠোঁটের কোণে। প্রতিপক্ষ এমন হলে মারামারিতে ভীষণ ভালো লাগে নুসরাতের, তাউ এক হাতে ঘাড় চেপে ধরে অন্যহাতে টুটি চেপে ধরল তুলির। হাঁটু দিয়ে বুকের হাড় চেপে ধরে কড়মড় করে শুধাল,”আমার সাথে শত্রুতা কী তোমার? আসছি থেকে দেখতেছি আমার পিছনে কুত্তার মতো পড়ে আছো? সমস্যা কী?
তুলি নিজেও ছেড়ে দেওয়ার পাত্রী না। শক্ত হাতে খামচি কাটল নিজের লম্বা লম্বা নখ দিয়ে নুসরাতের মুখে, যখন দেখল তবুও চুল থেকে হাত ঢিলে হচ্ছে না, তখন একহাতে শ্বাসনালি অন্যহাতে চুল টেনে ধরল। চিৎকার করে উঠল,”তুমি, তুমি..
নুসরাত আগের অবস্থা থেকে, উদ্বেগহীন কন্ঠে জিজ্ঞেস করল,”আমি কী?
এতে আরো আক্রোশে ফেটে পড়ল মেয়েটা। ষাঁড়ের মতো ঘোৎ ঘোৎ করে বলল,”তুমি আমার আরশ ভাইকে কেড়ে নিয়েছ।
তুলি গলার আওয়াজে কম্পন তুলল ঘরের দেয়ালে। ভুলে বসল বাড়ি ভর্তি মানুষ, পাছে যদি শুনে ফেলে কেউ। ধ্যান জ্ঞান খুঁইয়ে সপাটে নুসরাতের গালে বসাল চ’ড় একটা।
নুসরাতের টুটি চেপে ধরা হাত নরম হয়ে আসলো, তবুও ছাড়ল না। নিজেও বসাল শব্দ করে কান ফাটিয়ে একটা চ’ড়। যত জোরে পড়েছে তার গালে, সে থেকে দ্বিগুণ জোরে পড়ল তুলির গালে৷ টলমল করে উঠল চোখ। দু-দিন ধরে না খেয়ে, জ্ঞানহীন থাকার পর, এই মেয়ের এত শক্তি আসে কোথা থেকে ভেবে পেল না তুলি। শ্রনণনালি বেয়ে বয়ে গেল কঠোর নারী কন্ঠ স্বর ,”তোমার আরশ ভাইয়ের প্রতি বিন্দুমাত্র আমার ইন্টারেস্ট নাই। কোন দুঃখে আমি কেড়ে নিতে যাব ওকে। একটা কথা মনে রাখবে, আমি যেখানে যাই তোমার ওই আরশ ভাই বুনো বিড়ালের মতো আমার পেছন পেছন লেজ নাড়িয়ে চলে আসে। হোয়াট দ্যা ফাক, আমি কেন তোমাকে এক্সপ্লেনেশন দিচ্ছি…
শ্বাস ফেলল শব্দ করে। ঘাড়ে থাবা মেরে দেওয়া হাত আরো শক্ত হলো। মুখ ফসকে মনের কথা জবানে চলে আসলো আকস্মিক,”আমরা স্বামী-স্ত্রীর ব্যাপারে নাক গলানোর তুমি কে, নিজের নাক দূরে রাখো আমাদের থেকে, নাহলে কোনদিন দেখবে নাক খুলে পড়ে গেছে।
সপাটে অন্যগালে পড়ল আরেকটা চ*ড় তুলির। নুসরাত গা থেকে নেমে এসে হাত ঝাড়ল। নিঝঞ্ঝাট ভঙ্গিতে হাত ঝেড়ে বলল,”এক গালে থাপ্প*ড় দিলে বিয়ে হয় না, তাই অন্যগালে দিয়ে দিলাম। মানব দরদী মানুষ তো, তাই…
কথা শেষ হতেই মেয়েটা একদলা থুথু ছিটিয়ে দিল তার গালে। বাচ্চাদের মতো চুলে টেনে দিয়ে দৌড়াল দরজার দিকে।৷ নুসরাত পেছন থেকে লাফিয়ে উঠে তুলির ঘাড়ে চেপে ধরে ঝুলে গেল পিঠে। নির্লিপ্ত কন্ঠে কিছু বলতে নিবে, হাতে স্যালাইন নিয়ে ভেতরে ঢোকা নাছির সাহেব থমকে দাঁড়ালেন। কিংকর্তব্যবিমুঢ় কন্ঠে শুধালেন,”এ কী আম্মা, তুমি ওর পিঠে চড়েছ কেন? বাচ্চাদের মতো বড় বোনের চুল ধরে চুলোচুলি করছ কেন? তাছাড়া বাচ্চা মেয়েটাকে জ্বালাচ্ছ কেন?
নুসরাত বিরক্ত মুখে বাবার দিকে তাকিয়ে পিঠ থেকে নেমে আসলো। বলল,”উত্তেজনা চূড়ান্ত শিখরে উঠে গেছে, এজন্য ঘাড় ধরে ঝোলাঝুলি করতেছি।
বাবু হয়ে বিছানায় বসল। চোখ-মুখে নমনীয়তা নেমে আসতেই একে একে প্রবেশ করল ভেতরে খান বাড়ির সবাই। রোমানা খাতুনের গম্ভীর চেহারাটায় আজ অন্য এক জৌলুস আছে। নুসরাত ঠাওর করতে পারল না কীসের সেটা, তাই চোখ সরিয়ে নিয়ে বাবাকে শুধাল,”ইসরাত কোথায়? ঠিক আছে ও?
নাছির সাহেব গোমড়া মুখে তাকালেন মেয়ের মুখের দিকে। খাবলে আঁচরানোতে গালে দাগ পড়ে গেছে। হাত বাড়িয়ে স্পর্শ করতে নিবেন, নুসরাত বিরক্ত স্বরে শুধাল আবার,”নাছির সাহেব, ইসরাতের কী হয়েছে? ঠিক আছে ও?
“না, গা কাঁপিয়ে জ্বর এসেছে।
নুসরাতের হাতে স্যালাইন লাগিয়ে দিতে দিতে জানতে চান,”মুখে কী হয়েছে? এমন করে কে আঁচর কেটেছে?
নুসরাত নিশ্চুপ। একবার গাল ঠেলল জিভ দিয়ে। মিথ্যে সাজানোর চেষ্টায়রপ্ত থেকে বলল,”ঘুমের ঘোরে একটাকে আঁচর কাটতে গিয়ে নিজেকে আঁচর কেটে ফেলেছি।
নাছির সাহেব বিশ্বাস করে নিলেন। নুসরাতের এমন ব্যামো আছে। ঘুমের মধ্যে রেগে অনেক সময় ইসরাতকে থাপ্পড়, কিল, ঘুষি মেরে দেয় সে। মেয়ের জন্য আপেল কেটে মুখে তুলে দিলেন যত্ন সহকারে। বাপ-মেয়ে সামনে যে খান বাড়ির এক দল লোক দাঁড়িয়ে আছে তা বিশেষ গোনায় ধরল না।
নুসরাত একটু বেশি কথা বলে, মনে যা মুখে তাই তার। মুখ ফাট হওয়ায় আপেলের পিস খেতে খেতে জিজ্ঞেস করে বসল,”সবাই বেঁচে আছে নাকি, দু-একজন আল্লাহর হাওলা হয়ে গেছে?
ধপাস করে পিঠে একটা কিল বসালেন নাছির সাহেব। নুসরাত হাসছে দাঁত বের করে। হে হে করতে করতে ডলে পড়ছে বাবার গায়ের উপর। আপেল এর স্লাইসে কামড় দিতে দিতে শান্ত মুখে দাঁড়িয়ে থাকা রুমানা খাতুনকে দেখল এক পলক। এখনো এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন তার দিকে, বিশেষ পাত্তা দিল না সরাসরি, কিন্তু ভেতরে ঠিকই খান বাড়ির সবার গুষ্টি উদ্ধার করল,’হ্যাবলার মতো চাইয়া আছে ক্যান এই মহিলা, সমস্যা কীইইইই!’
নাছির সাহেবের মোবাইলে হঠাৎ অফিসিয়াল কল আসায় ছুড়ি আর আপেল সেন্টার টেবিলে রেখে চলে গেলেন রুমের বাহিরে৷ ততক্ষণে টুম্পা, পুষ্পা, পলি, আতিক আর সার্থ চলে গেছে নিজ নিজ কাজে, রয়ে গেছেন তখনো রুমানা খাতুন। বয়স্কার যাওয়ার অপেক্ষা করল নুসরাত, বয়স্কা গেলেন না, ঠোঁটে মিষ্টি হাসি ঝুলিয়ে এগিয়ে এসে বসলেনে পাশে। নুসরাত বাঁকা চোখে দেখল ভদ্রমহিলাকে। হাসিটা হজম হলো না ঠিক। সত্য কথা পেটে চাপল না, শুধিয়েই ফেলল,”এমন মিথ্যা হাসি হাসছেন কেন? কেমন অদ্ভুত লাগতেছে…
ফোঁস করে ঠোঁটের হাসি হাওয়া গেল আরশের নানীর। রোমানা খাতুন তবুও গা ঘেঁষে বসা থেকে দূরে সরলেন না। পিঠে হাত বুলিয়ে দিলেন কোমলতার সহিত। দুপুরে কথাটা জানার পর থেকে মনটা আনচান করছিল কথা বলার জন্য নাত বউয়ের সাথে। তাই মেকি মিষ্টতা ঠোঁটে ঝুলিয়েছেন তিনি। গম্ভীরতা একপাশে ফেলে নাতীর হয়ে কথা বলার জন্য দীর্ঘ সময় মৌন রইলেন। ভেতরে সাজিয়ে নিলেন কথাগুলো, তখনো পিঠে অব্যহত রুমানা খাতুনের হাত বোলানো, নরম স্বরে নুসরাতকে বোঝালেন,”মেয়ে মানুষকে নরম হতে হয়, আদব কায়দায় থাকতে হয় ভদ্রতা, চলন বলনে হতে হয় পানির মতো সচ্চ, সরল। পানিকে যেমন যে পাত্রে রাখা হয় তেমন আকার ধারণ করে, মেয়েদের ও তেমন হতে হয়। উগ্র, বেপরোয়া, ভাবলেশহীন আচরণে জীবন চলে না। তুই আরশ যদি দু-জনেই দু-জনকে এমন জেদ দেখাস তাহলে হবে কীভাবে, একজনকে তো কোমল হতে হবে, তুই না হয় এই কম্প্রোমাইজটা কর! আরশ নিজের দিক থেকে যতেষ্ট নরম তোর প্রতি, তুই চাইলে আরো হবে, আমি কথা বলব ওর সাথে.! বুঝতে পারছিস আমার কথা?
নুসরাত মাথা দোলাল একতালে উপর নিচ। জানাল সে সব বুঝতে পারছে। রোমানা খাতুন ভ্রু উচিয়ে নুসরাতকে শুধালেন,”কী বুঝেছিস তুই..!
নুসরাত মুখ ফসকে বলে ফেলল,
“জয় বাংলা!
তারপর বয়স্কার চেহারা দেখার মতো হলো না। রাগে লাল হয়ে ধাক্কা মেরে সরিয়ে দিলেন দূরে৷ নুসরাত সরলই না উল্টো গা লেগে বসল। নিষ্পাপ আদল করে, পিটপিট করে চেয়ে রইল। শ্রবণন্দ্রিয় প্রবেশ করল ঝাঁঝ মিশানো স্বর,”হতচ্ছাড়ি মেয়ে, সর এখান থেকে।
নুসরাতের নির্লিপ্ত কন্ঠস্বর,
“আমি তো সরেই বসে আছি, আপনি নিজেই লেগে বসে আছেন, এই যে দেখুন..!
রোমানা খাতুন এক পলক দেখলেন, অতঃপর যেমন নম্র পায়ে এসে বসেছিলেন পাশে তেমনি শক্ত পায়ে ফিরে গেলেন।
নুসরাত চব্বিশ ঘন্টার বেশি জ্ঞানহীন থাকায় সে ওই চব্বিশ ঘন্টা কী ঘটেছে তা সম্পর্কে জানে না। তাই আহানের কাঁধে ভর দিয়ে হাঁটছে বাড়ির ভেতরে। আকস্মিক পা থামিয়ে তাকাল আহানের দিকে। বলল,” এই মগা….
আহান বোনের পানে তাকিয়ে জানতে চাইল,
“ আমাকে বলছ?
ত্যাড়া উত্তর আসলো সামনের মহিলার কাছ থেকে,
“না আমার জামাইকে বলছি।
অনেকক্ষণ সামনে থেকে পেছনে নুসরাতের কথায় হাঁটাহাঁটির পর সে বলল,” চল, জায়িন ভাইয়ার রুমে চল।
আহান ধীরে হাঁটে। মেয়েদের মতো পা দিয়ে পাড়া দেয়৷ নুসরাতের মতামতে তার থেকে দ্বিগুণ তাড়াতাড়ি পিঁপড়া হাঁটে। নুসরাত বিরক্ত হয়ে আহানকে রেখেই চলে গেল সামনে, দু-কদম গিয়ে যখনই দেখল নাছির সাহেব দাঁড়িয়ে, ফিরে এসে ভং ধরে ফেলল। আহানের কাঁধে ভার ছেড়এ নিভু নিভু চোখে তাকাল, এমন ভান করল ধপাস করে এই পড়ে যাবে সিঁড়ি থেকে। আহান টেনে নিয়ে যেতে যেতে দেখে নাটকবাজ বোনকে। এতক্ষণ সুস্থ ছিল, আর মানুষ দেখতেই অসুস্থ হয়ে পড়েছে। পা এবড়ো-থেবড়ো করে ফেলছে, যে তার পাশ দিয়ে যাবে হোচট খেয়ে নিচে পড়বে নিশ্চিত।।
নাছির সাহেব মেয়ের নাজুক অবস্থা দূর থেকে লক্ষ করে এগিয়ে আসলেন, তখনো কথা বলছেন মোবাইলের অপাশের ব্যক্তির সাথে।
“আবির, আমার দেড় লক্ষ টাকার হিসাব আপনি দিতে পারেননি এখনো….
বাকিটুকু শেষ করার আগেই মোবাইল টেনে নিল নুসরাত। গলা ফাটিয়ে চ্যাঁচাল,”এই বলদ, মগা, আকাইম্মা আমার বাপের কোম্পানির টাকা মেরে খাস তুই, হজম হবে না ভেতরে, হজম হবে না, হারাম খাওয়ার জন্য ডায়রেক্ট জাহান্নামে যাবি। ইনশাআল্লাহ..
নাছির সাহেব মোবাইল টেনে নিয়ে কল কেটে দিলেন। বাবার সন্দেহি চোখ নিজের দিকে দেখতেই, নুসরাত আবার ভং ধরে ফেলল। মেয়েকে বাহুতে নিয়ে সামনে অগ্রসর হয়ে স্পষ্ট কন্ঠে আওড়ান,”সিনেমায় অংশগ্রহণ করলে গ্রিনিস বুকে নাম্বার ওয়ান অভিনেত্রী হিসেবে পরিচিতি পেতে তুমি।
ত্যাড়া চোখে তাকিয়ে বাবা ভাইকে রেখেই ইসরাতের রুমের সামনে গিয়ে দাঁড়াল। দরজায় নক করল গটগট করে। ভেতর থেকে অনুমতি আসার আগেই গলা ফাটিয়ে বলল,”ভেতরে আসতেছিই, ভালো লাগে না এমন দাঁড়িয়ে থাকতে…
ভেতরে ঢুকে চক্ষূচড়ক গাছ হয়ে গেল। পুরো বাড়ির মানুষ দাঁড়ানো সেখানে। জায়িন তর্ক করছে নানীর সাথে, সে এখানে আর এক মুহুর্তে থাকবে না। ভদ্রমহিলা নিজেও ঝাঁঝ মিশিয়ে কথা বলছেন কারোর থেকে কেউ কম না। জায়িন বলছে,”তোমাদের বাড়িতে আসার পর থেকে আমার বউয়ের পেছনে পড়ে আছো। আমার সামনে যা নয় তা করেছ, আমার অগোচরে মারোনি তার প্রমাণ কী! একবার খেতে দেয়নি, একবার তোমার বউ গালি দেয়, সারাদিন কাজ করায়, আমি বউ নিয়ে এসেছি না তোমাদের চাকরানি নিয়ে এসেছি। তুমি না অসুস্থ ছিলে নানী, তাহলে এখন সুস্থ হলে কীভাবে! আমার বউকে দিয়ে কাজ করানোর জন্য সুস্থ হয়ে গেছো, কী নাটক জানো… বাহ্!
এই বাংলাদেশের মানুষ এত খারাপ কেন, আমাদের ওখানে তো এসব দেখিনি, তোমরা বাড়ির বউদের কী মনে করো? একটা জীবন্ত রোবট, যে সারাদিন কাজ করবে? এখানে আর আমি থাকব না, আজ পানিতে পড়ে মরার মুখ থেকে ফিরেছে, আগামী দিন ফিরবে তার নিশ্চয়তা কী!?এমনকি তুমি আমার বউকে ধাক্কা দিয়ে পানিতে ফেলবে না তার নিশ্চয়তা কী? তোমাদের আমি বিন্দুমাত্র ভরসা করি না আমার বউয়ের ব্যাপারে। শুনেছ নানী, বিশ্বাস করি না। এই আসা আমার শেষ আসা এখানে, আল্লাহ বাঁচিয়ে রাখলে এ-জীবনে এ-মুখো হবো না।
জায়িন কথা শেষ করে শ্বাস নিল। রাগে থরথর করে কাঁপছে সে। রোমানা খাতুন হাত দিয়ে বাহুতে স্পর্শ করতেই হাত ছাড়িয়ে নিল। কপালে ভাঁজ রেখে তাকাল দরজার সামনে দাঁড়ানো শ্বশুর আর শালীর দিকে৷ তারপর প্রশ্ন ছুঁড়ল,”নুসরাত আপনি সুস্থ হয়েছেন? ড্রাইভ করতে পারবেন?
নুসরাত উপর-নিচ মাথা নাড়িয়ে দু-পাশে মাথা নাড়াল। জায়িন কারোর দিকে না তাকিয়ে বিছানা শোয়ারত অর্ধাঙ্গিনীকে বাহুর সাহায্যে তুলে নিতে নিতে আওড়ায়,”এক মুহুর্ত আর এখানে না, নুসরাত গাড়ি বের করুন, আম্মু আব্বু থাকুক এখানে, আমরা বাসায় যাচ্ছি।
লিপি বেগম বললেন,
“আমিও যাব, চল!
হেলাল সাহেব এক পলক দেখেন শ্বাশুড়ীকে, এক পলক ছেলেকে।। ছেলে বলছে যাবে, শ্বাশুড়ী ইশারায় বলেন না, গ্যাড়াকলে পড়ে গেলেন মাঝখান থেকে তিনি। জায়িন কারো কথা শুনল না, নির্লিপ্ত চেহারা বানিয়ে স্ত্রীকে নিয়ে অগ্রসর হলো, আহানকে উদ্দেশ্য করে বলল,”আহান, লাগেজ নিয়ে আসো..!
আহান হা করে তাকিয়ে থাকে নুসরাতের দিকে। নুসরাত ঠোঁট চেপে বিশ্লেষণ করার ভঙ্গি করে বলে ওঠে,”জায়িন ভাই, আপনি যাবেন না।
জায়িন এক ভ্রু উচিয়ে শুধায়,
“আপনি আটকাবেন?
নুসরাত জেদ নিয়ে বলে ওঠে,
“ আপনি যাবেন না।
“আমি যাব, আপনার শখ থাকলে আপনি থাকুন।
নুসরাত চ্যাঁচিয়ে ওঠে,
“আপনি যাবেন না, জায়িন ভাইয়া।
জায়িন চোখের আকার সরু করে বলে,
“ আমি যাব।
নুসরাত নাকের পাঠা ফুলিয়ে ইশারা করে কিছু একটা৷ ব্যঙের মতো লাফিয়ে ওঠে, দু-হাত সামনে এনে বলে,”জায়িন ভাইয়া আপনি এত বোকা কেন, আপনি যাবেন না, মানে যাবেন না।
“আমি যাব আর এই মুহুর্তে যাব।
নুসরাতকে পাশ কাটিয়ে যেতে নিবে, সে চেপে ধরল শার্টের হাতা। রাগে দাঁতে দাঁত পিষে নখ বসিয়ে একটা চিমটি কাটল। চোখের ইশারায় কিছু একটা বোঝাল। জায়িন ধ্যানই দিল না। দরজা থেকে বেরিয়ে যাবে, ধপাস করে উল্টে পড়ল নুসরাত। এক চোখ বন্ধ করে ভং ধরল অজ্ঞান হওয়ার। আবারো বিশেষ পাত্তা না পেয়ে উঠে বসল। নাছির সাহেব মেয়ের প্রতি বিরক্ত হয়ে ঝুঁকে আসলেন। টেনে তুলে দাঁড় করাতে করাতে ফিসফিস করে বললেন,’”অভিনয়ের স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেই,দু-দিন ক্লাস করলেই মুভির অফার পেয়ে যাবে।
নুসরাত পাত্তা দিল না বাবাকে, বলে ওঠল,
“দেখলেন আমি কতটা দূর্বল ড্রাইভ করব কীভাবে জায়িন ভাইয়া?
জায়িন কপালে কুঁচকে বলল,
“মেঝ বাবা করবেন।
নুসরাত ভেংচি কেটে নিজের ফ্রমে ফিরে গেল। বলল,” এ্যাহ, আমার বাপ করবে, আমি অসুস্থ না, আমাকে গাড়িতে ধরে বসবে কে।
নুসরাত হাই হুতাশ শুরু করল, আজ গাড়ি করে এক ঘন্টার রাস্তা গেলে সে মরে যাবে। আগামীকাল যাবে। নাছির সাহেব মেনে নিলেন, জায়িনকে তখনো অনবরত ইশারা দিয়ে চলেছে মেয়েটা। জায়িন প্রথমে বুঝল না, নুসরাত রেগেমেগে যখন বলল,”আপনি আসলেই একটা গাধা, আরশ ভাইয়ের মতো,’তখন মাথায় কথাটুকু আটল। যাওয়ার জন্য লাফালাফি থামিয়ে বলে ওঠল,”আজ রাত থাকব এখানে, আগামীকাল চলে যাব। ভদ্রমহিলা মরে গেলে দায়বার কে নিবে!
সকলে স্বস্থির নিঃশ্বাস ফেললেন। লিপি বেগম গোমড়া মুখ করে বসে রইলেন রুমের চেয়ারে। এতক্ষণ ভং ধরে মরে যাওয়ার মতো ভাব করা নুসরাত সুস্থ হয়ে গেল নিমেষে। দু-সেকেন্ডের মাথায় লাফিয়ে লাফিয়ে ওঠে চলল বাহিরে।
ধরণীতে তখন লাল আভা পড়েছে। ক্লান্তিকর দিনের শেষে দেখা মিলেছে এক টুকরো ঠান্ডা আবহ। পশ্চিম আকাশে তখন লাল লালিমায় রাঙানো, রঙধনুর ন্যায় খেলা করছে নীলিমায়। জ্বরে লাল হওয়া চোখ নিয়ে এসে দাঁড়াল বারান্দায় আরশ। বাড়ির পশ্চিম দিকের রুম তারর। রুমের সামনেই ফলের গাছগাছালি। মেহুল, মেঘলা, আহানা, সার্থের কথা বলার শব্দ আসছে। আরশের চোখ সর্বপ্রথম পড়ল মাটিতে দাঁড়িয়ে হা করে উপরে তাকিয়ে থাকা জনমানবগুলোর দিকে। চোখের পাতা একটাও ফেলছে না। গাছের মাথায় বাঁদরের মতো পা ঝুলিয়ে বসে আছে নুসরাত। পেঁয়ারা গাছে পেঁয়ারা ধরেছে সেগুলো পেরে খাচ্ছে, একটু পর পর নিচে ঢিল মেরে ফেলে দিচ্ছেও তা। এটা দেখেই বিরক্তিতে কপাল কুঁচকে গেল আরশের। রেলিং এ দু-হাত দিয়ে চেপে ধরে ডাকল,”নুসরাত..!
গলার আওয়াজ ক্ষীণ। জ্বরে বেশ কাবু করেছে বোঝাই যাচ্ছে। নুসরাত উঁচু ডালে বসে পা দোলাতে দোলাতে শুধায়,”কোনো প্রয়োজন আরশ ভাই?
“গাছ থেকে নেমে আয়।
“ কেন?
একটা কথার বিপরীতে একটা কথা৷ হঠাৎ রাগ লাগল আরশের৷ বলল,”বাহিরে যাব, নেমে আয়।
“পরে নেমে এসে আপনার কোলে ওঠে বসে থাকব, এখন পারব না, এখন আমি বহু ব্যস্ত।
“বাহিরে যাব বলছি না, নেমে আয়, নাহলে পিটিয়ে তক্তা বানিয়ে দিব।
নুসরাত শ্লেষ মিশ্রিত কন্ঠে বলল,
“এ্যাহ, সেই সাহস বা শক্তি আছে নাকি আপনার। তাছাড়া আমাকে মারলে আমি ও পিটিয়ে আপনাকে তক্তা বানিয়ে দিব।
সার্থ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছে দু-জনের ঝগড়া৷ আহানকে শুধাল,”হাতাহাতি হয়ে যাবে নাকি?
আহান নির্বিকার চিত্তে দাঁড়িয়ে বলে ওঠল,
“হয়ে যেতে পারে, সচারাচর এমনই হয়।
সার্থ প্রশ্নাতীত কন্ঠে শুধায়,
“কে জিতবে?
“দু-জনের একজন ও জিতে না, হুদাই চিল্লায়। পরে আবার গলায় গলায় ভাব করে দেখবেন চলে গেছে দু-জনে।
সার্থের কাছে দু-জনের কান্ড দারুণ উপভোগ্য মনে হলো। মেহুল লুঙ্গির কোণ চেপে ধরে বিরক্ত মুখে দেখছে নুসরাতকে। সে অদৃশ্যভাবেই আরশের পক্ষে। তাই বলল,”আরশ ভাই আম্মুর লাঠি এনে দিই, এই বুড়ো মহিলাকে ধরে পিটান।
আরশ ঠোঁটে ঠোঁট চাপল। গম্ভীর মুখে বলল,
“নিয়ে আসো, আজ ওই বুড়ির একদিন কী আমার একদিন!
নুসরাত গাছের চূড়ায় বসে মেহুলকে হুশিয়ারি দিল,
“একবার পিছু লেগেছিলে বলে পাখি কাটিয়ে দিয়েছি, এবার পিছু লাগলে পাখিটাই উধাও করে দিব।
মেহুল ভীষণ ভয় পেল, এক হাতে লুঙ্গির উপর থেকে চেপে ধরল নিজের সম্পত্তি। নুসরাত গাছে বসে হে হে করে হাসছে। আরশ ধমকাল,”নামতে বলিনি তোকে?
নুসরাত দু-হাত পেতে দিয়ে বলল,
“আরশ ভাই শক্তি সামর্থ নাই, এসে কোলে করে নামিয়ে দিয়ে যান।
চুল পেছনে ঠেলে রুমে যেতে যেতে বলল,
“ বসে থাক, এসে নামাচ্ছি তোকে। কোলে চড়ার শখ সারাজীবনের ন্যায় গুচিয়ে দিব।
আরশ বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসে দেখল নুসরাত গাছের নিচে দাঁড়িয়ে ভেটকাচ্ছে। পরণে হাঁটুর উপর সমান পুমার টি-শার্ট। আরশ হুডি এগিয়ে দিয়ে বলল,”পরে নে..!
নুসরাত হুডি পরে নিয়ে, মাথায় ক্যাপ টানল। আগে আগে হেঁটে গিয়ে বলল,”আমার পিছু পিছু আসেন৷
আরশ কপালে ভাঁজ ফেলে বলে ওঠল,
“কোন দুঃখে তোর পিছন পিছন আমি আসব, আমার পিছু পিছু তুই আয়।
নুসরাত কানেই তুলল না কথাগুলো,অতঃপর হেলেদুলে আগে আগে চলল সে।
জায়িন শান্ত হয়ে বসে আছে৷ নুসরাত বলে গেছে ইসরাতকে পানিতে ফেলেছে কে। গতকাল পানি থেকে ইসরাতকে তোলার পর, কেউ কিছু জিজ্ঞেস করেনি কীভাবে পরেছে, তারপরও পুষ্পা শুধু একটাই বলি আওড়াচ্ছেন,’শহুরে মেয়ে, হাঁটতে গিয়ে পিচ্ছিল শেওলায় পা দিছে, অমনি ধপাস করে পড়েছে হয়তো পানিতে।’এই নিয়ে সন্দেহ জেগেছিল মনে, কিন্তু ইসরাতের নাজুক অবস্থা দেখে মস্তিষ্ক থেকে সেই কথা বেরিয়েই গেছিল। নুসরাতের ঠিক হতেই সে বাড়িতে ফিরে যেতে উতলা হলো। শেষ মুহুর্তে নুসরাতের ইশারা বুঝতে পেরে শান্ত হয়ে বসেছে। নিশ্চয়ই ওই মেয়ের মাথায় কিছু গন্ডগোল খিচুড়ি পাঁকছে।
মৃদু কঁকিয়ে উঠার শব্দে জায়িন নড়েচড়ে বসল। কপালে ঠান্ডা পানি দিয়ে স্পর্শ করে নরম কন্ঠে শুধাল স্ত্রীকে,”কিছু খাবে?
ইসরাত দু-পাশে মাথা নাড়াল। কথা বলতে গিয়ে জ্বরের কারণে চোখ দিয়ে পানি বেয়ে পড়ল একটু, মুখে হাত রেখে দীর্ঘ হাই তুলল। জায়িন ইসরাতের হাত মুঠো বন্দী করে জিজ্ঞেস করল,”আরাম পাচ্ছ সামান্য?
ইসরাত দু-পাশে মাথা নাড়াল। ভঙ্গুর স্বরে বলল,
“গরম লাগছে।
জায়িন কম্ফোটার গা থেকে সরিয়ে দিল। ইসরাতকে জিজ্ঞেস করল,” এখন ঠিক আছে?
“এসিটা অন করুন।
শক্ত গলায় নিষেধাজ্ঞা জারী করল,
“না।
“ তাহলে সিলিং ফ্যানটা ছাড়ুন।
আবারো একইভাবে বলে ওঠল,
“না।
ইসরায় দীর্ঘ শ্বাস ফেলল। বলল,
“ পানি খাব।
জায়িন নাইটস্ট্যান্ড থেকে পানি গ্লাসে ঢেলে এগিয়ে ধরল মুখের সামনে। এক ঢোক পানি খেয়ে না করে দিল আর খাবে না। ঠান্ডা পানির স্পর্শ লাগল গালে, গলায়, ঘাড়ে। জায়িন গা মুছিয়ে দিতে দিতে জানতে চাইল,”আরাম লাগছে?
“জ্বি!
আর বাক্য বিনিময় হলো না, ইসরাত সিলিং ফ্যানের দিকে তাকিয়ে থাকল এক দৃষ্টিতে৷ তাকিয়ে থাকতে থাকতে এক সময় চোখ ঝাপসা হয়ে আসলো তার। চোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়ল এক ফোটা পানি। মৃদু সুরে জানতে চাইল,”জায়িন আমরা ফিরে যাব কবে?
জায়িন দু-হাতের আজলায় জ্বরে কাবু হওয়া স্ত্রীর রক্তাভ চেহারাটা চেপে ধরল। অসহায়তা চেহারায় ভাসলে গলার স্বর গম্ভীর। বলল,”আগামীকালই চলে যাব।
“আমি বাড়িতে যাব জায়িন, এখানে আমার দম বন্ধ হয়ে আসে। দয়া করে আমায় বাড়ি নিয়ে চলুন।
“আগামীকালই চলে যাব, আর আসব না কোনোদিন এখানে। কেঁদো না প্লিজ, আমার কষ্ট হয়।
ইসরাতের না চাইতেও চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়ল বারেবারে জল। জায়িন মুখমন্ডল হাতের কাপড় দিয়ে মুছিয়ে দিতে দিতে অস্ফুটে আওড়ায়,”আর আসব না এখানে, কথা দিচ্ছি আর কোনোদিন আসব না। আমার দায়িত্ব জ্ঞানহীনতার কারণে পানিতে পড়েছ তুমি, আমি দুঃখিত, আ’’ম স্যরি৷ আমি তোমার খেয়াল রাখতে পারিনি আমি ব্যর্থ, একজন স্বামী হিসেবে আমি ব্যর্থ।
ইসরাত শুনল না সেই টুকু, আবারো ঘুমে ভারী হয়ে আসলো দু-চোখের পাতা। শুধু ঝাপসা নেত্রে দেখল তার দিকে তাকিয়ে থাকা বাদামি রঙের জ্বলজ্বল করতে থাকা নেত্র দুটো।
মাগরিবের আজানের কিছু মুহুর্ত পূর্ব। মাথা পর্যন্ত ক্যাপ টেনে হাঁটছিল নুসরাত। আরশের হুডি গায়ে পরায়, বোঝা যাচ্ছিল না মেয়ে নাকি ছেলে। হুডির ক্যাপ মোটা হওয়া নাক পর্যন্ত এসে থেমেছে। এই গরমের দিনে দু-জনেই হুডি পরে পাগলের মতো ঘুরছে আশপাশ৷ রাস্তায় দাঁড়ানো মানুষ নাক ছিটকে দেখছে তাদের৷ আহানের নিজেরই গরম লাগছে এমন হুডি পরিহিত ভাই বোনকে দেখে। তাই দু-জনের থেকে দূরত্ব রেখে হাঁটছিল। মাঠে ফুটবল খেলছিল আহানের বয়সী কিছু ছেলেরা। ভাবলেশহীন হেলেদুলে হেঁটে নুসরাত অখান থেকে চলে যেতে নিবে ছেলে একটার টিটকারি মারা স্বর ভেসে এলো,”ওইইইই…
নুসরাতের পা থামল,সাথে হাঁটারত থাকা তিনজনের ও। সকলেই প্রশ্নাত্মক চাহনি নিক্ষেপ করল ওদিকে। নুসরাত চোখের উপর থেকে ক্যাপ সরিয়ে কঠোর স্বরে জিজ্ঞেস করল,”আমাকে বলছ?
ছেলেগুলো হেসে ওঠল৷ বাইশ জনের একটা টিম। চুলগুলো কাটা দেখেই বোঝা যাচ্ছে বখাটের দল। নুসরাত ভ্রু উচাল, শুধাল,”কী?
ছেলেগুলোর হাসির শব্দ ভেসে এলো। একসাথে কয়েকটা ছেলে হাতে তালি দিয়ে বলে ওঠল,“হিজড়া নাকি?
নুসরাতের মেজাজ খারাপ হলো এতো, মুখ দিয়ে ইয়া বড় বড় গালি বেরিয়ে আসলো। অগ্নিগিরির ন্যায় ফেটে পড়ে বলল,”তোর মা হিজড়া, তোর বাপ হিজড়া, তোর চৌদ্দ গুষ্টি হিজড়া, তোকে দেখলেই তো মনে হয় হিজড়া। আয়নায় জীবনে দেখেছিস নিজেকে, পুরাই হিজড়ার বংশধর লাগে, কিন্নারের কিন্নার।
নুসরাত হাতা গোটাল, আজ দেখে নেবে এদের সে। একজন বয়স্ক বলে ওঠল,”নডী ফুরি।
কাউকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই নুসরাত বলে ওঠল,”কবরে এক ঠ্যাং রেখে এখানে কী চাচা! যান, মসজিদে যান। কোনদিন টিকেট ওকে হয়ে যাবে, বুঝতেই পারবেন না। আগে থেকে নামাজ কালাম করুন।
বুড়োর মুখ পাংশুটে বর্ণের হয়ে গেল। আরশ কারোর কথায় মনোযোগ দিচ্ছে না এমন ভান করল। নিজের সাথে নিজে কথা বলছে,”নডী ফুরি, ইন্টারেস্টিং…
আরশের কথা কানে আসতেই কয়েকটা ধরে দিতে ইচ্ছে হলো, তারপরও নিজের ক্ষোভ মনে চেপে এবার তাকাল ছেলেগুলোর দিকে। কপাল কুঁচকে কিছু বলতে নিবে, ছেলেগুলো বলে ওঠল,”প্যান্টের চেইন খুলে দেখ, দেখবি হিজড়া বেরিয়ে আসবে।
নুসরাত ঠোঁটে হাত চাপল। গম্ভীর মুখে আড়াআড়ি হাত ভাঁজ করে দাঁড়িয়ে থাকা আরশের বাহুতে ধাক্কা দিয়ে বলে ওঠল,”আরশ ভাই, এইই আরশ ভাই, আমাকে কী বলেছে দেখেছেন, কিছু বলুন!
আরশ নির্লিপ্ত স্বরে বলে ওঠল,
“কী বলব..!
নুসরাত অবাক চোখে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল,
“ আপনি কিছু বলবেন না?
নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে হেঁটে সামনে চলে গেল নুসরাতকে অখানে রেখে। বলে ওঠল,”নিজের সমস্যা নিজেই সমাধান করতে হয়।
নুসরাত ফাটা বেলুনের মতো চুপসে গিয়ে, আহানের দিকে তাকাল। আহান নিজেও তব্ধা খেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। নুসরাত আরশের যাওয়ার পথে চেয়ে ব্যঙের মতো লাফাল আর চ্যাঁচাল,”আমাকে জনসম্মুখে এভাবে অপমান করার জন্য নিয়ে এসেছিলেন আপনি, আমার অভিশাপ লাগবে অভিশাপ, আপনার বউ জল্লাদ হবে, ক্যাটক্যাটে মেজাজের হবে, কথায় কথায় আপনাকে ধরে পেটাবে, আপনি ফুল উপহার দিলেও রাগ করে ফেলবে, আপনাকে একটা চুমু খেতেও দিবে না। মনে রাখবেন আল্লাহ মজলুমদের বদদোয়া কবুল করে, এই মজলুমের বদদোয়াও ফেলে দিবে না। আপনি একটা কুত্তা আরশ ভাইইইই…আপনি কুত্তা!
আরশ শুনলই না, দু-হাত ঢিলেঢালা ট্রাউজারের পকেটে ঢুকিয়ে মিলিয়ে গেল রাস্তায়। নুসরাতের চ্যাঁচানো শুনে ছেলেগুলো বল নিয়ে খেলতে খেলতে হাসল শব্দ করে। মেয়েটার ইচ্ছে করল পায়ের নিচে এদের চেহারা পিষে ফেলতে। জীবনের সব থেকে বড় ভুল করেছে এই কুত্তা আরশের সাথে এসে, দ্বিতীয় ভুল করেছে এক জোড়া হাই হিল না পরে, নাহলে জুতো দিয়ে এদের চেহারা দুমড়ে মুচড়ে ফেলত রাস্তায় ফেলে। নুসরাত দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কল্পনা করল, কীভাবে এই ছেলেগুলোর মুখ রাস্তায় ফেলে জুতো দিয়ে পিষছে, ভেবেই আরাম লাগল, কাজটা করতে পারলে তো আরো বেশি আরাম লাগত। ওখানে দাঁড়িয়ে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হলো জীবনেও পাঠা আরশের সাথে কোথাও যাবে না।
দিনের আলো মিলিয়ে গিয়েছে তখন পশ্চিম আকাশে। নুসরাত আহানকে বাড়ির নিচে দাঁড়িয়ে কিছু একটা বুঝিয়ে নিজে নাচতে নাচতে চলে গেল ভেতরে। গৃহিনীরা তখন খোপে, গোয়ালে গরু ঢোকাচ্ছেন। খান বাড়িতে ও দুটো গরু আছে৷ একটা মহিলা গরু, আর একটা পুরুষ গরু। আতিক তাদএর খাইয়ে গোয়ালে বেঁধে রাখছেন। জায়িনকে দো-তলায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে এগিয়ে গেল সে। দু-জনেই রেলিং এ ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে রইল নিশ্চুপ। নুসরাত বলে ওঠল,”পলির কী ব্যবস্থা করবেন?
“আপনি বলুন।
নুসরাত কিৎকাল ভাবল। গা বাঁকিয়ে দাঁড়িয়ে থুতনিতে ভর দিয়ে আনমনে বলে ওঠল,”জায়িন ভাই, এক কাজ করি পলি মলিকে হাই ভোল্টেজ শর্ট দিয়ে দিই?
জায়িন সহমত পোষণ করল না। মুখ গম্ভীর রেখে মারাত্মক একটা কথা বলল,”এর চেয়ে ভালো বেয়াদবটার গায়ে আগুন লাগিয়ে দিই, উচিত শিক্ষা হবে।
নুসরাত সহমত পোষণ করল। বলল,
“ঠিক বলেছেন!
অনেকক্ষণ কাটল নীরবে, নীশিথে। হঠাৎ নুসরাত জায়িনের দিকে তাকিয়ে বলল,”আপনি আমার সাথে কী কী করেছেন তা ভুলিনি৷ শুধুমাত্র ইসরাতের খাতিরে আপনার সাথে হাত মিলিয়েছি।
“ আর আপনি যা যা করেছেন আমার সাথে তাও মনে আছে আমার।
“এ্যাহ, আপনি যে কান ধরে উঠবস করিয়ে আমার ভিডিও গ্রুপে ছেড়ে দিয়েছেন তার বেলা?
“আর আপনি যে আমার বউকে লুকিয়ে নিজে বউ সেজে বসে গেছিলেন তার বেলা। তাছাড়া আমার কাছ থেকে এক লক্ষ টাকা নিয়েছিলেন প্রশংসা করার জন্য, প্রশংসা করলেন না উল্টো বদনাম করেছেন, সব পইপই করে মনে আছে আমার।
আহান হঠাৎ কোথা থেকে উদয় হলো পিছু হতে। আশ্চার্যানিত কন্ঠে বলে ওঠল,“তুমি তো বলেছিলে আপু, মাত্র পাঁচ হাজার টাকা দিয়েছে ভাইয়া, তাহলে বাকি টাকা কোথায়?
নুসরাত হে হে করে হাসল। বলল,
“গরীবদের বিলি করে দিয়েছি।
আহানকে তীক্ষ্ণ চোখে তাকিয়ে থাকতে দেখে বলে ওঠল, “ আমাদের ঘরের গরীবদের ভেতর বিলি করেছি। ইরহাম আর আমি ভাগ ভাটোয়ারা করেছি। তোকে না দুই দিলাম।
আহান আর কিছু বলতে নিবে নুসরাত বলে ওঠল,
“হয়েছে, হয়েছে আর কথা না, আমি যাই।
একপ্রকার পালিয়ে গেল সে। আহান তব্ধুল মুখে চেয়ে রইল বোনের যাওয়ার পানে। বিড়বিড় করল,” চোরের উপর বাটপারি করে ভদ্রমহিলা।
ছাদে তখন কাপড় নেড়ে দিচ্ছিল পলি। সন্ধ্যার দিকে প্রতিদিন সে শাওয়ার নেয়। কাপড় নেড়ে দেওয়া শেষে রেলিঙ বিহীন শেষ সীমানায় গিয়ে দাঁড়াল। কিছুক্ষণ আশপাশে চোখ বুলিয়ে ঘুরে দাঁড়াতেই পেত্নীর মতো এসে উদয় হলো নুসরাত। ভয়ে দু-কদম পিছিয়ে গেল সে। বুকে ফু দিয়এ ভয় দূর করাতে নিবে তাতে ব্যাঘাত ঘটিয়ে নুসরাত বলে ওঠল,”তোরা মা, মেয়ে আস্তো বেয়াদব, বিবাহিত এক বেডার পেছনে হাত ধুয়ে পড়েছিস, ব্যাটার বউ থাকতেও বিয়ে করার এত শখ কেন তোর?
পলি পাশ কাটিয়ে চলে যাওয়াই ভালো মনে করল, এই মেয়ের সাথে কথা বলতে মোটেও আগ্রহী না সে। পাশ কাটিয়ে যেতে নিবে নুসরাত সামনে এসে দাঁড়াল। শান্ত কন্ঠে জিজ্ঞেস করল,”ইসরাতকে পানিতে ধাক্কা দিয়েছিস কেন?
অস্বীকার করল পলি। বলল,
“কখন? কোন সময়? তুমি নিজ চোখে দেখেছ আমি ধাক্কা দিয়েছি?
“ অবশ্যই আমার এই দু-চোখে দেখেছি, তুই আমার বোনমে ধাক্কা দিয়ে নেড়িকুত্তার মতো দাঁত বের করে হাসছিলি।
পলি দাঁতে দাঁত চাপল। হিসহিসিয়ে বলল,
“তাহলে তোমাকেও রাস্তা থেকে সরিয়ে দিই, আরশের বউ নাকি তুমি। একটা তো পথের কাটা সরবে।
নুসরাত হাসল। এক পা এগিয়ে আসলো সামনে। পলির দিকে তাকিয়ে পৈশাচিক হাসি হাসল৷ বলল,”এত সহজ আমাকে মারা, আমাকে মারার আগেই তোকেই আমি ভাগিয়ে দিব পৃথিবী থেকে।
কিছুক্ষণের জন্য থেমে শ্বাস ফেলল। আবার বলল,
“মানুষকে তড়পাতে তড়পাতে মরতে দেখতে আমার ভীষণ ভালো লাগে, এমনি এমনি নিজের শত্রু বানালে আমার বোনটাকে। না পাবে জায়িনকে, না দেখতে পাবে এই পৃথিবীর আলো।
আরেক পা আগাল পলির দিকে। মুখের কোণে শীতিল হাসি ঝুলিয়ে বলে ওঠল,”বেশি কথা বলা আমার আবার পছন্দ নয়, তাই কথা কমিয়ে বলাই উচিত।
“আমি চ্যাঁচাব।
‘“ভয় পাই নাকি, চ্যাঁচাও… কিন্তু চ্যাঁচানোর জন্য সময় থাকবে না পলি তোমার কাছে। অনেক সময় ওয়েস্ট করেছ আমার তুমি, নাও টাইম টু সে ফাকিং গুড বায়..
নুসরাত পলির দিকে ঝড়ের গতিতে এগিয়ে এসে মিটিয়ে দিল দূরত্ব, পূর্ব কোনো সতর্কতা ছাড়াই ঠেলে দিল রেলিঙ বিহীন ছাদের ওপাড়ে। পলি ভয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে গেল। গোলাকার আঁখিযুগলে ভাসল, পৈশাচিক আনন্দ নিয়ে দাঁত বের করে হাসতে থাকা থাকা মেয়েলি অবয়ব, কানের কাছে হিসহিসিয়ে ভয়ানক একটা স্বর বাজল,” কোনো কাজ করতে গেলে একটা কথা মাথায় রাখবে, প্রত্যেক ক্রিয়ার, একটি বিপরীত ও সমান প্রতিক্রিয়া রয়েছে। রেস্ট ইন পিস, এগেইন গুড বায়…
পলি যতক্ষণে বুঝল কী ঘটেছে তার সাথে ততক্ষণে দেরী হয়ে গেল, চোখ বন্ধ করে চ্যাঁচাল গলা ফাটিয়ে৷ যখন বুঝল বাঁচার সম্ভবনা নেই, তখন অচিরেই জ্ঞান হারাল। পলির চিৎকার কেউই শুনল না, অতিরিক্ত শকড হওয়ায় গলার ভেতর আটকে পড়েছে শব্দ।
নুসরাত হাত ঝেড়ে উল্টো ফিরতেই মুখোমুখি হলো আরশের। নির্লিপ্ত থাকার চেষ্টা করল, নির্বিঘ্নে পাশ কাটিয়ে চলে যেতে নিবে, কব্জি চেপে টেনে এনে নিজের সামনে দাঁড় করাল তাকে। কেউ কোনো কথা বলল না। নুসরাত হাত ছাড়িয়ে নিতে চাইল, পারল না। ঢোক গিলে, দীর্ঘশ্বাস ফেলল। কন্ঠে ঝাঁঝ নিয়ে শুধাল,”সমস্যা কী?
“কথা আছে তোর সাথে,রুমে আয়।
“আপনার সাথে আমার কোনো কথা নেই।
চোখ রাঙিয়ে বলল,
“বলছি না কথা আছে।
“অপরিচিত মানুষের সাথে আমি কথা বলি না।
“ অপরিচিত না পরিচিত পরে বুঝবি, আগে শোন কথা আছে।
নিচ থেকে শোনা গেল হায় হায় করে ওঠা আতিকের চিৎকার। ভদ্রলোক সামান্য বোকা প্রকৃতির , মাত্র গোয়াল ঘর থেকে বের হয়েছিলেন, কিন্তু ভাইয়ের মেয়েকে মাটিতে অজ্ঞান পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার করে লোক জড়ো করে ফেললেন। সবার কথার মধ্যে রুমানা খাতুন সন্দেহি কন্ঠে বলে ওঠলেন,”ছাদে ওঠে দেখে আসো তো কেউ আছে কিনা।
আতিক মায়ের কথা যথার্থ মেনে বড় গলায় বললেন,
“আচ্ছা আম্মা।
নুসরাত একবার ছাদের অপাশে তাকাল, একবার আরশের দিকে। দৌড় দিতে নিবে, কোমর পিঠ চেপে ধরে নিজের বাহুতে তুলে নিল তাকে আরশ। দ্রুত পায়ে চিলেকোঠার রুমের দিকে যেতে যেতে ভ্রু কুঁচকে জানতে চাইল,”পলিকে ধাক্কা দিয়েছিস কেন?
“আমার মন চেয়েছে।
“ মন চাইল অমনি ধাক্কা দিয়ে দিলি?
“হ্যাঁ..!
চিলেকোঠার রুমের দরজা খুলতেই ম্যারম্যার করে ডেকে উঠল। ভেজিয়ে ভেতরে প্রবেশ করতেই নুসরাত বলে ওঠল,” এখানে কেন আমরা?
“তাহলে আয় বাহিরে গিয়ে দাঁড়াই, সবাই এসে যখন জিজ্ঞেস করবে কী করছিলি, বলবি পলিকে ধাক্কা দিচ্ছিলাম।
নুসরাত ভাব নিয়ে বলল,
“সেই সৎ সাহস আছে আমার৷
বাহির থেকে আতিকের গলার স্বর আসলো, সাথে রুমানা খাতুনের ও। ভদ্রমহিলা কিছু একটা হয়তো সন্দেহ করেছেন, তাই সাথেই এসেছেন। আরশ নুসরাতকে বাহুতে রেখে ফিসফিস করে বলল,”তোর জন্য আমিও ফেসে গেলাম মাঝখান থেকে।
নুসরাত চ্যাত করে উঠল। ঝাঁঝিয়ে ওঠে বলল,
“আপনাকে ইনভাইটেশন পাঠাইনি আমি ছাদে আসার জন্য? আর তাছাড়া আপনি না আসলে এতক্ষণে আমি নিচে নেমে যেতাম।
ধড়াম করে স্টিলের আলমারি সাথে ধাক্কা খেল আরশ। নুসরাত হতবিহ্বল মুখে দেখল। লাফিয়ে উঠে নেমে গেল আরশের কোল থেকে। দৌড়ে গিয়ে লুকিয়ে গেল স্টিলের পেছনে। বিড়বিড় করে আওড়ায়,”বাঁশ খান এবার।
আরশ নিজেও তাড়াহুড়ো করে এসে স্টিলের পেছনে থামল। জায়গা কম থাকায় একহাত দিয়ে দেয়ালে ভর দিল,অন্যহাতে টেনে এনে নিজের সান্নিধ্যে দাঁড় করাল নুসরাতকে। গ্রীবা বাঁকিয়ে ঝুঁকে এসে নুসরাতের ঘাড়ে নাক মুখ ঠেকাল। নুসরাত এমন গা ঘেঁষাঘেঁষিতে বিরক্ত হয়ে ধাক্কা দিল, কটমটিয়ে ওঠে বলল,“দূরে যান আরশ ভাই।
আরশ নিজেও গলা নামিয়ে নিয়ে বলল,
“সম্ভব না। তোর জন্য আমি ফেসেছি, এখন দায়বার তোর।
নুসরাত কঁকিয়ে ওঠে বিরক্তিতে। অদ্ভুত শব্দ বের করল মুখ দিয়ে৷ বলল,”নাকে ব্যথা পাচ্ছি, আরশ ভাই। দূরে সরুন।
দূরে সরার বদলে আরো এগিয়ে আসলো আরশ। হিসহিসিয়ে বলল,”পারব না।
কয়েক মুহুর্ত অতবাহিত হওয়ার পর চিলেকোঠার রুমের লাইট জ্বলে উঠল। শ্বাস আটকে দাঁড়িয়ে রইল নুসরাত। কী এক বালের পলিকে ধাক্কা দিল, আর এখন চৌদ্দ গুষ্টি পড়ে গেছে তার পেছনে। নাক ফুলিয়ে দীর্ঘ শ্বাস ফেলল। এই জীবন মনে হয় এমন দীর্ঘশ্বাসের উপর চলবে তার৷ রুমানা খাতুনের গলার স্বর ভেসে এলো,”আতিক স্টিলের ওদিকে একটু দেখো তো।
প্রিয় প্রণয়িনী ২ পর্ব ৪৭ (২)
নুসরাত শ্বাস আটকে সিটিয়ে গেল স্টিলের পেছনে। চোখ তুলে তাকাল, মাকড়সা, আরশোলা ছাড়া কিছুর দেখা পেল না। মিনমিনিয়ে বলে ওঠল,”আপনার জন্য ধরা পড়ে গেলাম আরশ ভাই, আপনি আসলেই একটা সমস্যা, যেখানে যান ওখানেই আমার জন্য সমস্যা একটা বাঁধিয়ে দেন।

Etto deri koira keo golpo dey faltu mohila monda cay samne paile apnar thobra da thapray lal kori 😡 next part taratari diben ei bollam
Tini ekjon lekhika…take somman din…r nh dite parle golpo poiren nh….!!
Shomman pawar joggo uni?atodin por por kew golper part dey?uni asholey akjon falto mohila,Jannat meyeta thick e bolce. Majhemoddhe amar prochur rag uthe lekhikar jonno ,beyadob mohila!
Unar ekta personal life ase…..oni je sarakhon golpo likhbe taw to hoy nah…hote pare oni ekjon student…. Ba amon o to hote pare onar biye hoye gese….bby ase etc….asob niyew to manus busy thke…..uni jokhon mon chaibe tokhon next part dibe…apnr mon chyle w8 krbn…na hle nai…..apni onno golpo poren…. Golpo ses hole aisa poiren….
Are boin ki kormu kon pochonder golpo deri koira dey ar sheita boro kotha na ashole 25 tarikh ektu jhamela hoichilo basay tai rag ta jharchi unar upor kintu ami kono somoy emon comment kori nai bisshash na hoile ager part e jaia deikhen ami ki comment korchi, jai hok ami khuboi dukkhito 😔🥺ar klk golpo ashbe ami fb te post paichi klk ba porshudin ashbe 🥰 ar i am sorrrryyyyy plz amr upor kew rag hoiyen nah ami ar jibono emon comment korum nah 🙏🥺
Buchi….valo kaj korlen clear kore….amr khrp lgselo bepar ta ajonno bolsi…ami kokhono cmnt kori nai jto ta ata te krsi…. Haha….onar fb id ta diben apu…..mane ami onk khujsilm kintu paitsi nh….kisu mne nh krle ektu name ta bole diyen…plz🙂💔
Apu atto late kore dey kew….fb te tomar id onk khujlam pelam nh….jai hok.. Amr fvt story eta… Protidin eshe chk kore jai…dekhi daw nai….apu plz ektu taratari dewar try koro…next part er asay thkbo!!!!
Taratari next part dau apu late koro kn
Apu golpo daw atto late koro kno….r partasi nh…akkhon sopnew ami dekhi tumi golpo diso🙂💔
Apure r to pari nh…try koro tratri dte……ami hotash…. 😑
Next part taratari den please.
apu ami uponnash jogote goto bochor prothom ashchi tai onek kichui bujhina kintu uponnashe bastobotabadi jeshob golpo gulo ase ogulo khub valo lage but ami ei golpo tai beshi pochondo korsi funnyo ar kichuta bastob bhittik tai tomar golpotai beshi pochondo hoise please next partgulo druto dio jodio bhebe likhte shomoy lage ar poreo please try koro akyu taratari dewar please