Home প্রেমসন্ধিক্ষন প্রেমসন্ধিক্ষন পর্ব ৫

প্রেমসন্ধিক্ষন পর্ব ৫

প্রেমসন্ধিক্ষন পর্ব ৫
সাইদা মুন

-“মামি, তোমাকে কতবার বলেছি জামাই বলে ডাকবে না। আমি আর সেই ছোট্ট তালহা নই…”
তালহার মামি হেসে উঠলেন,
-“ওহহো, আমি তো ভুলেই যাই যে আমাদের তালহা আর ছোট নেই।”
মেহরীন কনুই দিয়ে তাহিয়াকে গুতো মেরে ফিসফিস করে কাহিনী জানতে চাইলে, তাহিয়া হেসে বলল,
-“আরে ছোটবেলায় মামি ডং করে ভাইয়াকে নাকি মেয়ের জামাই বানাবে বলত। তাই এখনো জামাই ডাকে।”
পাশে বসা ফারাহর দিকে চোখ যেতেই মেহরীন দেখে, সে তালহার দিকে তাকিয়ে মুচকি মুচকি হাসছে। ব্যাপারটা তার কাছে কেমন গোলমেলে লাগল। মনে মনে ভাবে ফাইজলামিতেই যেন বরাদ্দ থাকে। তবে হঠাৎ রাফা এসে তাহিয়া-মেহরীনকে টানতে লাগে দুইতলায় ক্যারামবোর্ড খেলতে। ফলে আর পাত্তা না দিয়ে ওরা ওপরে চলে গেল।

সেদিন রাতটা কেটে গেল হাসি-ঠাট্টা আর আড্ডায়। এক মুহূর্তের জন্যও মেহরীনের মনে হয়নি, সে অন্য কারো নানাবাড়িতে এসেছে। সবাই এতটা আপন হয়ে উঠেছিল যে তার মনে হচ্ছিল যেন এ-ই তার নিজের নানাবাড়ি।
পরদিন সকালেই সব ছেলে-মেয়েরা বেরিয়ে পড়ল শিমুলবাগানের উদ্দেশ্যে। সেখানে পৌঁছাতেই চারপাশের দৃশ্য দেখে সকলে মুগ্ধ। সারি সারি শিমুলগাছ মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে, আর ডালে ডালে লাল শিমুলফুল জ্বলছে আগুনের শিখার মতো। দূর থেকে মনে হচ্ছিল, যেন পুরো বাগানটাই লাল রঙের আলোয় জ্বলে উঠেছে। হালকা হাওয়ার ঝাপটায় ফুলগুলো কেঁপে উঠছে, আর সূর্যের আলো মিশে গিয়ে তাদের রঙ ছড়িয়ে দিচ্ছে এক অপূর্ব উজ্জ্বলতা। চারপাশের প্রকৃতি যেন হয়ে উঠেছে অন্যরকম। দূরে নীলচে পাহাড়, পাশে হাওরের বাতাস, আর মাঝখানে আগুনে রঙে মোড়া সেই বাগান। সব মিলিয়ে দৃশ্যটা যেন স্বপ্নের ক্যানভাস।

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

মেহরীন মুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে রইল চারপাশে। মাথা ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখছে বারবার। খানিক এগিয়ে গিয়ে মাটিতে পড়ে থাকা একট ফুল তুলে কানের পাশে গুঁজে দিল। নিজেকে কেমন লাগছে, তা আয়নায় একবার দেখার ইচ্ছে হলেও মনে মনে হেসে ঝেড়ে ফেলল সেই খেয়াল। আয়না এখানে কই পবে।
কিন্তু তার অজান্তেই কেউ একজন তাকে অপরূপা সুন্দরীর উপাধি দিয়ে বসে আছে। তাহসান চোখ ফেরাতে পারছে না মেহরীনের দিক থেকে। মেহেরীনের মাঝে ছিল এক অদ্ভুত কোমলতা, মুখে সরল হাসি, গালে হালকা লালচে আভা। চোখে কৌতূহল আর স্বপ্নমাখা ঝিলিক, যেন পৃথিবীকে নতুন চোখে দেখছে। তার রূপে ছিল শিশুসুলভ সরলতা আর প্রথম যৌবনের নরম আকর্ষণ।
তাহসান এগিয়ে এসে বলল,

-“ওটা তো নিচে পড়ে ছিল। গাছ থেকে ফুল ছিঁড়ে দিবো..?”
পুরুষালি গলা শুনে মেহরীন নিজের ভাবনা থেকে বেরিয়ে তাকাল পাশে। তাহসানকে দেখে মিষ্টি হাসি দিয়ে উত্তর দিল,
-“না না ভাইয়া, ফুলেরা গাছেই সুন্দর। সামান্য উপভোগের জন্য তাদের সৌন্দর্য নষ্ট করা একদমই উচিত নয়।”
এই কচি মেয়ের মুখে এমন পরিণত কথা শুনে তাহসান মুগ্ধ হেসে উঠল,
-“বয়স কত তোমার..?”
-“জি, ১৬ বছর ৫ মাস…”
বয়স শুনে সে হিসেব করে দেখল, গুনে গুনে তার থেকে এগারো বছরের ছোট। অজান্তে আফসোসের সুরে বলে উঠল,

-“একটু বেশিই ছোট…”
এদিকে সবাই সামনে এগিয়ে যাচ্ছিল। তালহা হঠাৎ মেহরীনকে না দেখে পেছনে তাকায়। তাহসানের সাথে হেসে কথা বলতে দেখে মুহূর্তেই তার চোয়াল শক্ত হয়ে গেল। কেনো হলো জানেনা। গম্ভীর কণ্ঠে এগিয়ে এসে বলল,
-“এখানে একা কি করছো..?”
তালহার কণ্ঠ শুনে মেহরীন চোখ ফেরাল সামনে, আর সঙ্গে সঙ্গেই চোখ ভরে গেল মুগ্ধতায়। প্রতিদিনের ফরমাল গেটাপ নেই আজ। ক্যাজুয়াল সাজে, পড়নে কফি-রঙা শার্ট, হাতা কনুই পর্যন্ত ভাঁজ করা। ঢিলেঢালা সাদা প্যান্ট, হাতে সিলভার ঘড়ি, চোখে সানগ্লাস, চুলগুলো অল্প অগোছালোভাবে সাজানো। সব মিলিয়ে শ্যামবর্ণের এই মানুষটিকে তার চোখে আজ অস্বাভাবিকভাবে নজরকাড়া লাগছে।
তালহার কথায় ভাঙল তার ভাবনা,

-“চলো, সবাই সামনে এগোচ্ছে…”
বলেই হাঁটা দিল সে। মেহরীনও পিছু নিল। লম্বা মানুষ, তার উপর এত দ্রুত হাঁটছে যে মেহরীনকে প্রায় দৌড়াতে হচ্ছে তালহার সাথে তাল মেলাতে। সবাই অনেকটাই এগিয়ে গেছে, শুধু ওরা পেছনে। কিছুদূর যেতেই হাঁপাতে হাঁপাতে মেহরীন বলে উঠল,
-“একটু আস্তে হাঁটুন…”
তার কথায় তালহা একবার তাকাল তার দিকে। মুখে কিছু না বলে কেবল হাঁটার গতি খানিকটা কমিয়ে দিল।

সবাই বেশ মজা করছে, ছবি তুলছে। আশেপাশে আরও অনেক মানুষ ঘুরতে এসেছে। তালহা বোনেদের ছবি তুলছে। মেহরীনকে একপাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে তাহিয়া ইশারা করল আসতে। তাহিয়ার ইশারা দেখে তালহাও মেহরীনের দিকে তাকিয়ে বলল,
-“কি ব্যাপার ওখানে দাঁড়িয়ে আছো কেনো? এদিকে আসো, সবাই ছবি তুলছে তুমিও তুলবে..”
মেহরীন তাড়াতাড়ি বলে দিল,
-“না না, সমস্যা নেই, এখানেই ঠিক আছি, ওরা তুলুক..”
এবার তালহার ভরাট স্বর ভেসে এলো,
-“এক কথা দু’বার রিপিট করা আমার একদম পছন্দ না…”

মেহরীন আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারল না। যদি লোকটা রেগে যায়, এই ভয়ে এগিয়ে গেল। তারপর সেও কয়েকটা ছবি তুলল তাদের সাথে। ছবি তোলা শেষ হতেই তাহিয়া ভাইয়ের মোবাইলটা নিয়ে গিয়ে এক পাশে দাঁড়িয়ে ছবি দেখতে লাগল। কিন্তু মেহরীনের কড়া নজর অন্যদিকে। তাদের একটু পাশেই কয়েকটা মেয়ে দাঁড়িয়ে অনেকক্ষণ ধরেই তালহাকে নিয়ে ফিসফাস করছে। মেহরীন একবার তাদের দিকে তাকাচ্ছে, আবার তালহার দিকে।
তালহা তখন তাহসিনের সাথে কথা বলছে। বাতাসে তার সিল্কি চুলগুলো বারবার অবাধ্য হয়ে কপালে এসে পড়ছে, সেও কথার ফাঁকে ফাঁকে হাত দিয়ে সরিয়ে দিচ্ছে। তার এসব ভাব ভঙ্গিতে না তাকিয়ে থাকা দায়। মেয়েরা তাকাবেই স্বাভাবিক। নিজের অজান্তেই মেহরীনের ভেতরে ভীষণ রাগ জমল তালহার উপর। যেন মেয়েগুলো তার দিকে তাকাচ্ছে, সেটাও তালহারই দোষ।

মনের ভেতরে একপ্রকার যুদ্ধ শুরু হলো। একবার মনে হচ্ছে তালহাকে গিয়ে দু’টো কথা শুনিয়ে দেয়, আবার মনে হচ্ছে মেয়েগুলোকে গলা উঁচু করে বলে দিতে “এইটা আমার একান্ত ব্যক্তিগত পুরুষ, তাকাবি না।” কিন্তু পরক্ষণেই প্রশ্ন আসে, তার কি সেই অধিকার আছে? তালহা তো তাকে বউ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। বলবে কীভাবে যে তালহা তারই? যদি তালহা ভবিষ্যতে অন্য কাউকে বিয়ে করে? তাহলে তার কি হবে? শুধু ছোট বলে কি তাকে বউ হিসেবে মানা যায় না?

মেহরীন তার ছোট্ট মনে এভাবেই তালহাকে ঘিরেই তালগোল পাকিয়ে চলেছে। অথচ তালহার বিন্দুমাত্র ধারণা নেই এসব সম্পর্কে। যদি থাকত, তবে হয়তো বেচারিকে একা একা এতটা সাফার করতে হতো না। তালহা কি কখনো বুঝবে তার মনের খবর?
ভাবনার ভেতরেই খেয়াল করল পাশের মেয়েগুলো তাকে ডাকছে। আরও বিরক্ত হলো। মন-মেজাজ নষ্ট করে আবার ডাকছে। সে উপেক্ষা করে অন্যদিকে তাকাল। তবে হঠাৎ একটি মেয়ে এসে সামনে দাঁড়িয়ে বলল,
-“এই আপু, একটু শোনেন, আপনাকে ডাকছে…”
মেহরীন ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করল,

-“কেনো, কি দরকার?”
-“আমি জানি না, রাত্রি বলেছে আপনাকে ডেকে নিতে…”
মেয়েটির সাথে গিয়ে সে দাঁড়াল সেই মেয়েগুলোর দলের সামনে। মাঝখানে দাঁড়ানো রাত্রি মুচকি হেসে বলল,
-“নাম কি তোমার..?”
-“মেহরীন..”
-“ওয়াও, অনেক সুন্দর তো..”
মেহরীন মেকি হাসি দিয়ে বলল,
-“ধন্যবাদ…”
রাত্রি এবার সরাসরি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিল,
-“ওই যে কফি কালার শার্ট পড়া কিউট ছেলেটা, তোমার কি হয়..?”
“কিউট” শব্দটা যেন আগুনে ঘি ঢালল। ইচ্ছে হলো বলে দিতে আমার ভাতার হয়। কিন্তু নিজেকে সামলে মেহরীন বলল,
-“আমার পরিচিত কেনো?”
রাত্রি এবার লাজুক সুরে বলল,
-“সে কি সিঙ্গেল..?”
মেহরীনের হাতের মুঠো শক্ত হয়ে এলো। এরা যদি তার গ্রামের হতো, তবে এতক্ষণে দু ঘা লাগিয়ে ভোঁ দৌড় দিতো। কিন্তু তা সম্ভব না, তাই নিজের ইচ্ছে দমিয়ে রেখে দাঁত চেপে বলল,

-“জি না..”
রাত্রির মন খারাপ হয়ে গেল। হতাশ কণ্ঠে জিজ্ঞেস করল,
-“তাহলে গার্লফ্রেন্ড আছে..?”
প্রশ্নটা শুনে মেহরীনের মাথায় একটা দুষ্টু বুদ্ধি এলো। স্বর নরম করে বলল,
-“আসলে উনি বিবাহিত। তিন তিনটা বউ ছিল, সবকটা বিয়ের পর ছেড়ে চলে গেছে। নয়টা ছেলে-মেয়ে রেখে। পরে আবার তাদের জন্য আরেকবার বিয়ে করেছিলেন, কিন্তু সেই বউও কিছুদিন আগে চলে গেছেন।”
কথা শুনে রাত্রিসহ সবার চোখ বড় বড় হয়ে গেল। রাত্রি নখ কামড়ে বলল,
-“দেখে তো মোটেও মনে হয় না এতো বাচ্চার বাবা..”
মেহরীন মুখ গম্ভীর রেখে বলল,
-“আরে, এটাই তো তার প্লাস পয়েন্ট। নিজের রূপ দেখিয়ে শেয়াল মুরগি ধরে।”

মনে মনে ভাবল, রাত্রি হয়তো এসব শুনে আর তালহার দিকে তাকাবে না। বেশ খুশি হয়ে নিজেকে বাহবা দিল। এইভাবে জামাইকে প্রটেক্ট করতে হবে এখন থেকে। কিন্তু তার সব ভাবনায় জল ঢেলে রাত্রি বলল,
-“শেয়াল যদি এমন হয়, মুরগি হতেও সমস্যা নেই। তার বউ তো চলে গেছে, তাহলে চান্স নেয়াই যায়…”
কথাটা শুনে মেহরীনের ভেতরে যেন আগুন দাউ দাউ করে জ্বলে উঠল। বাংলা ওয়াজ শোনাতে ইচ্ছে করছে। কি লেভেলের ছ্যাছড়া মেয়ে হলে এমন কথা বলে। ইচ্ছে করছে এর চুল ধরে বাদরের মতো লটকে থাকতে। মুখ ফসকে বেরিয়ে এলো,

-“ম্যাগি নুডুলস..”
রাত্রি না বুঝে প্রশ্ন করে,
-“হোয়াট..?”
মেহরীন কড়া চোখে তাকিয়ে জোর করে হেসে বলল,
-“খেয়েছেন কোনোদিন..?”
-“কতো খাইলাম..”
-“ওহ, খাইয়েন বেশি বেশি, নামটা আপনার মতোই কিউট। আচ্ছা আপু একটু আসি..”
রাত্রি ভেবেছে, ওর প্রশংসা করেছে। তাই মুচকি হেসে বলল,

-“ওহ থ্যাংকস…”
এদিকে মেহরীন দ্রুত সরে চলে গেল তাহিয়াদের কাছে। রাত্রির পাশের মেয়ে হেসে বলে উঠল,
-“আরে, তোকে গালি দিয়ে গেলো বলদ …”
তখনই রাত্রির মাথায় বাজ পড়ল। হাসি মিলিয়ে গিয়ে রাগী চোখে তাকাল মেহরীনের দিকে। কিন্তু মেহরীন আগে থেকেই তাকানো ছিল, সাথে সাথে একটা মুখভেংচি মারল।

সবাই ঘুরে ঘুরে চারিদিক দেখছে, ছবি তুলছে। মেহরীন, তাহিয়া, ফারিহা, রাফা সবাই দৌড়াদৌড়ি করছে বেশ মজা করছে। রিতু, ফারাহ, স্নেহা, মারুফরা হাঁটাহাঁটি করছে নিজেদের মতো। বিশাল জায়গা জুড়ে বিস্তৃত শিমুলবাগান। মেহরীন একটা গাছের কচি ডাল কুড়িয়ে নিয়ে ‘লাভ সেইভ’ বানাল। তা দেখে তাহিয়ারা তাকে খুচিয়ে করে জিজ্ঞেস করল, কার প্রেমে পড়েছে।
তাদের প্রশ্নে মেহরীন মুচকি হেসে পেছন ফিরে তাকায় তালহার দিকে। কিন্তু হাসি মুহূর্তেই মিলিয়ে গেল। রাত্রি তখন তালহার সাথে কথা বলছে। তালহাও হালকা হেসে কিছু একটা বলছে। দৃশ্যটা দেখতেই মুহুর্তেই মেহরীনের হৃদয় ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গেল। সেদিকে তাকাতে তাকাতেই হাঁটার ফলে হঠাৎ পিছলে ধপাস করে পড়ে গেল কাদায়।
সাথে সাথেই কিছু বুঝে উঠার আগে চারপাশে হাসির রোল পড়ে গেল। সবাই দ্রুত এগিয়ে এলো। তাহিয়া হাসতে হাসতে তাকে টেনে তুলতে যায়,

-“দেখে হাঁটবি না, গাধি। বললাম তো, এখানে কাদা আছে..”
ফারিহাও হাসতে হাসতে টেনে ধরল। কিন্তু দু’জন মিলে তুলতে গেলেই কোমরে ব্যথা লাগায় মেহরীনের মুখ বিকৃত হয়ে গেল। ‘আহহ’ শব্দ করে ওঠায় তারা ভয়ে ছেড়ে দিল। তালহা, তাহসানরাও দ্রুত ছুটে এসেছে।
তালহা চিন্তিত স্বরে বলে,
-“দেখে চলতে পারো না? বেশি লেগেছে?”
তালহার প্রশ্নে এতোক্ষনে মনে জমা সব রাগ এসে পড়ল তার উপরেই। তার জন্যই তো হলো সব। মনে মনে ঠিক করল, একটাও উত্তর দেবে না।
কোনো সাড়া না পেয়ে তালহা হাত বাড়িয়ে বাহু ধরে তাকে টেনে তুলল। মেহরীন দাঁতে দাঁত চেপে ব্যথা সহ্য করে তাহিয়ার উপর ভর দিয়ে দাঁড়াল। হাঁটার অবস্থায় নেই। তালহার নজর গেল মেহরীনের পেছনে, কাদায় ভিজে কাপড় শরীরে লেপ্টে আছে। দ্রুত চারপাশে তাকাল অনেকেই তাকিয়ে আছে।

-“আর ঘুরতে হবে না। তাহিয়া তোরা ধরে নিয়ে আয় গাড়ির কাছে।”
ভাইয়ের নির্দেশ মেনে তাহিয়া-ফারিহা দু’জন মিলে তাকে ধরে এগোতে নিল। কিন্তু নড়াচড়াতেই আবার ব্যথায় কুকিয়ে উঠল মেহরীন। তা দেখে তাহসান দ্রুত এগিয়ে আসে,
-“হাঁটতে পারবে না, আমি নিয়ে যাচ্ছি..”
মেহরীন অসহায় চোখে তাকায় তাহসানের দিকে। কিন্তু সে ছোঁয়ার আগেই কেউ একটানে মেহরীনকে কোলে তুলে নিল। চমকে গলা জড়িয়ে ধরল তাকাতেই দেখে তালহা। এ যেন স্বপ্ন। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গেই আবার রাগ চেপে বসল। শক্ত মুখে চুপচাপ সেভাবেউ রইলো। তালহা সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। আর সে রাগে ফুসছে সেই মেয়েটির সাথে কথা বলার দৃশ্য মনে করে। হঠাৎ বলে উঠে,

-“এই নাম কি আপনার..?”
তালহা ভ্রু কুঁচকে একবার তাকায়। মেয়েটা কি আছাড় খেয়ে স্মৃতিশক্তি হারিয়েছে নাকি। কপাল কুচকে রেখেই উত্তর দেয়,
-“তালহা সিকদার…”
মেহরীন মুখ গোমড়া করে বলে,
-“ফালতু সিকদার..”

প্রেমসন্ধিক্ষন পর্ব ৪

তালহা খানিকটা অবাক হলো। হঠাৎ কি হলো এই মেয়ের। তার সাথে তো ঠিকভাবে কথাই হয়না। এমন আচরণ করার কথা তো নে। এতোক্ষন ধরে তার ভাবমূর্তি দেখে এইটুক বুঝতে পারল, মেয়েটি রেগে আছে তার উপর। কিন্তু কেন, সে তা আন্দাজ করতে পারছে না। এদিকে মেহরীন চুপসে আছে। ভেবে দেখল, কি বলল সে। নিজেকেই নিজে গালি দিচ্ছে। তার বা দোষ কী নিজের উপচে পড়া আবেগ সামলাতে গিয়েই হিমশিম খাচ্ছে। একবার রাগ, একবার ভালোলাগা। এসব আসলে কি শুরু হলো নিজের ভেতরে, ভেবেই নিজের উপর বিরক্ত হয়ে উঠছে।

প্রেমসন্ধিক্ষন পর্ব ৬