প্রেমসুধা সিজন ২ পর্ব ৪৬
সাইয়্যারা খান
পরীক্ষা বের হওয়ার পরপরই পৌষ আদিত্যকে খুঁজতে লাগলো। তার এই মূহুর্তে আদিত্যকে প্রয়োজন। আরেকবার একটু বাগান বাড়ী যেতে হবে৷ লাল গাড়িটা দেখা বাকি। তার চাইতে বড় একটা আকর্ষণও এখন নতুন করে জন্ম নিয়েছে পৌষের মনে। সেই দরজা। কারুকার্য শোভিত ওমন দরজা পৌষের চোখ কখনো দেখে নি। শুধু দেখেনি বললে ভুল হবে, কখনো কোন দরজার প্রতি এতটা করুন ভাবে আকৃষ্টও হয় নি। তৌসিফ সরাসরি না করেছে৷ এবার ধরা পরলে যে ভয়ংকর রকমের শাস্তি পাবে তা পৌষ নিজেও জানে।
তায়েফা আপাও নেই সুতরাং পৌষ পুরোপুরি একা হয়ে আছে। সঙ্গী হিসেবে আদিত্য থাকলে ধরা পড়লে অন্তত ভুলচুক সমান ভাবে মিলেমিশে ভাগ করা যাবে। ভাগেজোকে শাস্তি কমবে। এবার অবশ্য পৌষ ততটা ভয় পাবে না৷ শুধু যাবে আর গাড়ি দেখে ঐ খুলে একটু ভেতরে ঢুকে আসবে। প্রশ্ন করতে বসলে পৌষের মুখ ব্যথা হয়ে যাচ্ছে অথচ উত্তর মিলছে না। নিজেকে তৌসিফের প্রেমিকা দাবী করা সোহা নামের মেয়েটাই বা কেন হাসপাতালে। সেদিন ওমন শীতের রাতেই বা কেন তাহমিনা তৌসিফের বুকে ছিলো।
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
সেই ঘাট পাড়ে তাদের কিসের কাজ? রনির বলা টুকটাক কথা তো পৌষের কান অব্দি এসেছে। সেখান থেকে নতুন ভাবে কৌতুহল জাগ্রত হয়েছে পৌষের মনে। ভাবনা চিন্তায় সংসারে মন বসছে না তার। অ-স্বামী তৌসিফ তালুকদার যেভাবে গতকাল অপমানটা করেছে, পৌষ তা মনে রাখবে। উচিত শিক্ষা দিয়ে ছাড়বে একটা। কথাটা ভাবতে ভবাতে বিরক্তিতে মুখ কুঁচকে করিডোর পেড়িয়ে ফোন করলো আদিত্যকে। দুইবার রিং হতেই কল কেটেছে আদিত্য। পৌষ তীক্ষ্ণ মেজাজে আবারও কল দিবে তার আগেই গায়ে হালকা ধাক্কা লাগলো কারো সাথে। ততটা গায়ে মাখে না পৌষ। আস্তে আস্তে হেঁটে এগিয়ে যায় সামনের দিকে তখনই পেছন থেকে ডাক আসে,
“পৌষ, এই যে। পৌষ। দাঁড়াও।”
নিজের নাম এক পুরুষ কণ্ঠে শোনা মাত্র থামে পৌষ৷ পেছনে ফিরে দেখে পুরুষ নামের অপুরুষ দাঁড়িয়ে আছে। রাফিদ শিকদার পৌষকে দেখেই হাসে৷ এগিয়ে আসে দুই কদম। পৌষের চোয়াল শক্ত হয় তাতে। রাফিদ নিজ থেকেই হালহকিকত জিজ্ঞেস করে বলে,
“কেমন আছো তুমি? পায়ে নাকি ব্যথা পেয়েছো? এখন ঠিক আছো?”
সরু চোখে তাকিয়ে আছে পৌষ। থমথমে সেই মুখ চোখের দৃষ্টি দেখে রাফিদের মতো ছেলেটা সামান্য হকচকায়। নিজ থেকেই একটু হেসে বলে,
“পরীক্ষা কেমন হলো? তুমি তো এখন রেগুলার আসো না৷”
“তাতে আপনার কি?”
মুখের উপর এভাবে বলায় রাফিদ কথা খুঁজে পেলো না৷ তবুও বললো,
” ভার্সিটির মানুষজনের একটু খোঁজখবর রাখতে হয়।”
“তো রাখুন৷ আমাকে বলছেন কেন? আমার মাথায় কি মার্কা মারা আছে?”
বলেই পা ঘুরালো পৌষ। এখানে রাফিদের সামনে দাঁড়িয়ে থাকার বিন্দু মাত্র ইচ্ছে তার নেই৷ ওর চলে যাওয়ার পানে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো রাফিদ। ঠোঁটে ঠোঁট চেপে রাখলো কিছুক্ষণ। পকেট থেকে সিগারেটের প্যাকেট বের করে মুখে গুঁজলো। আগুন দিতে দিতে বিরবির করে বললো,
“তোমাকে আমার লাগবে পৌষ।”
তাদের সাথের বন্ধুরা এসে দাঁড়িয়েছে সাথে। রাফিদ বাতাসে বিষাক্ত ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে বললো,
“আজ থেকে পৌষকে ভাবী ডাকবি৷ শিঘ্রই বিয়ে করব তাকে।”
মূহুর্তেই চমকালো সবাই। মুখ ফস্কে একজন বলেই ফেললো,
“পৌষ তো বিবাহিত শালা৷”
রাফিদ হঠাৎ সামান্য হিংস্র হলো৷ বন্ধুর কলার চেপে কপালে টোকা দিয়ে বললো,
“তাতে কি? তালাক দিবে। আমি বিয়ে করব তাকে। ভাইকে বলেছি আমার মেয়ে পছন্দ হয়েছে। যেকোনো সময় নিকাহ করে নিব।”
রাফিদ কলার ছেড়ে হাঁটা ধরে৷ গুনগুন করে গান গায়। এমন ঝাঁঝালো মেয়েই তার পছন্দ। ভয় পায় না কাউকে।
পৌষ খুঁজতে খুঁজতে আদিত্যকে পেলো তার ক্লাসের বাইরে। পায়ে এখনও সামান্য ব্যথা তবুও কিছুটা দ্রুততার সাথে হেঁটে এসে আদিত্যকে ল্যাঙ দিয়ে ফেলে দিলো। একদম হুটহাট ঘটনা ঘটায় আদিত্য সহ ওর সাথে দাঁড়ানো দুই চারজন আঁতকে ওঠে। ধরে আদিত্যেকে দাঁড় করিয়ে দিতেই আদিত্য পা ঝাড়তে ঝাড়তে ডাকে,
“আরে পুষি তুমি?”
“চাচিম্মা ডাকবে বাবা। তোমার পুষি যে কোন দিক দিয়ে বের করব আমি তার ঠিক নেই৷ কখন থেকে ফোন করছি? তুলছিলে না কেন?”
“আরে তোমার কাছেই আসছিলাম৷ তাই তুলি নি। টাকা বাঁচিয়ে দিলাম তোমার।”
পৌষ একটু সন্তোষ প্রকাশ করলো। যাক, তার সিমের টাকা বেঁচেছে। আদিত্যকে ইশারায় ডাকলো অন্য দিকে।
পৌষ চলে যেতেই একটা ছেলে বললো,
“তুই ওর সাথে থাকিস কিভাবে ভাই? ধানিলঙ্কা একটা।”
আদিত্য কাঁধে ব্যাগ তুলে যেতে যেতে উত্তরে বললো,
“ওর উপর দেখলে এমনই লাগবে। একদিন সময় করে ওর ভেতর দেখার চেষ্টা করিস।”
আদিত্য চলে গেলো। ছেলেটা বাকিদের দিকে তাকিয়ে বললো,
“পৌষের ভেতর দেখতে যাব? এমন লাথি মারবে দুইদিন কাতরাতে হবে। যেই মেয়ে!”
বাকি সবাই শব্দ করে হাসতে লাগলো। আসলেই পৌষ একটা চিজ। মানুষকে সাত ঘাটের পানি খায়িয়ে ছাড়ে।
আদিত্য পৌষের পায়ের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো,
“ব্যথা কমেছে?”
“ব্যথা! সেটা আবার কি? পৌষের ব্যথা লাগে না।”
“হ্যাঁ রে বাবা, আমার ভুল হয়েছে। নাস্তা করেছো?”
পৌষ মাথা নাড়ে। আজ আটটায় পরীক্ষা ছিলো৷ নাস্তা করা হয় নি তার। তৌসিফ ওর হাতে টাকা দিয়েছিলো। খেয়ে ঔষধ খেতেও বলেছিলো। পৌষের ওসব করতে মন চাইলো না। আদিত্য উঠে দাঁড়ালো। বললো,
“চলো ক্যান্টিনে যাই। আমার খুব ক্ষুধা লেগেছে।”
পৌষ না করে না। দু’জন খেতে বসে। পৌষকে এদিক ওদিক তাকিয়ে আদিত্যকে ডাকে,
“আদি।”
“হ্যাঁ, বলো পুষি।”
“আজ আমাদের এক জায়গায় যেতে হবে। বিকেলে বাড়ীর নিচে থাকবে।”
মুখে থাকা রুটি আদিত্য গিলতে পারে না। পৌষ পানি এগিয়ে দিলো। আদিত্য দুই ঢোক গিলে ভীতু স্বরে বললো,
“বাগান বাড়ী?”
“হুঁ।”
“আবার কেন?”
“গাড়ি দেখা বাকি আর…”
“আর?”
পৌষ একটু চুপ থাকলো পরপরই বললো,
“আমার মনে একটা সন্দেহ আছে আদি। আমার মনে হয় ঐ বাগান বাড়ীতে কোন চাপা বিষয় আছে। আমি টানা দুইদিন ঐ দিকে রাতে মেয়ে যেতে দেখেছি। যেহেতু ওই বাগান বাড়ীতে… ”
“আস্তে। চুপ।”
আদিত্যর ভয় দেখে পৌষের সন্দেহ গাঢ় হলো। পৌষ সরাসরি জিজ্ঞেস করলো,
“আমি যাকে দেখেছিলাম সেটা শাহরিয়ার তালুকদার তাই না?”
আদিত্য মাথা নাড়ে। পৌষ অবাক হয় না৷ ও জানতো ওটা শাহরিয়ারই হবে। এদের ভাইদের চেহারায় অদ্ভুত কিছু মিল আছে। শাহরিয়ারের ঐ দাড়িযুক্ত বড় বড় চুলের মাঝেও চোখ দুটো তৌসিফের মতো। তৌসিফের চোখ দুটো সম্রাটের মতো। ছবিতে সম্রাটের চোখ পৌষ খুব ভালো ভাবে অবলোকন করেছে। এক দুই দিনের না বরং বিরাট একটা সময় পৌষ তাকে নিয়ে জল্পনা কল্পনা করতো। তার জন্মবার্ষিকী আর মৃত্যুবার্ষিকীতে এলাকা জুড়ে যখন পোস্টার লাগানো হতো তখন পৌষ মনোযোগ দিয়ে দেখতো। নায়ক নায়ক চেহারাটা টানতো তাকে। সাথে আকর্ষণ করতো তার গুণাবলী ঠিক সিনেমার যেই নায়ক ছিলো সম্রাট যে নিজের আগে জনগনের কথা ভাবতো। কতই না দয়ালু ছিলো সে যার দরুন আজও এলাকার মানুষ তাকে ভুলে নি৷
“তোমার ওখানে যাওয়াটা ঠিক হবে না পুষি। মেঝ চাচ্চু খুব রাগ করবে।”
“তোমার চাচ্চু আজ বাসায় নেই। ফিরতে ফিরতে রাত হবে। আমরা যাব নিদিষ্ট একটা কক্ষে।”
“মানে?”
“আমি সেদিন শাহরিয়ার তালুকদার থাকার পাশে একটা দরজা দেখেছি। অনেক উঁচু দেখতে দরজা। ভীষণ সুন্দর।”
আদিত্য মাথা নাড়লো। বললো,
“ঐ দরজার চাবি আছে?”
পৌষ কপাল কুঁচকালো। বললো,
“তুমি জানো কিভাবে চাবি লাগবে?”
“জানি কোন এক ভাবে। তাহমিনা ফুপির কাছে চাবি থাকে।”
“আমি সেদিন যখন গেলাম তখন মনে হয়েছে তালাবদ্ধ না৷ হয়তো খোলা। আমরা একবার যেয়ে দেখতে পারি।”
আদিত্য না করতে পারলো না। শুধু বললো,
“নিজের সাথে সাথে আমার পাটাও খাবে তুমি।”
পৌষ হাসলো। ব্যাগ থেকে টাকা বের করে বললো,
“বিল আজকেরটা আমার তরফ থেকে।”
বাসায় ফিরে পৌষ আজ আর দেড়ী করলো না৷ দুপুরে খেয়ে উঠতেই তৌসিফ ফোন দিলো। পৌষ প্রথমে খুব সামান্য ভয় পেলেও বললো,
“কোথায় আছেন?”
“জ্যামে আটকে আছি হানি৷ তুমি খেয়েছো? পরীক্ষা কেমন হয়েছে?”
“খেয়েছি। খুব ভালে হয় নি। আপনি দুপুরে খেয়েছেন?”
“এখন খাব৷ একটু রেস্ট নিয়ে রওনা দিব৷ তুমি একা ভয় পেলে মিনুকে নিয়ে বসো রুমে। আমি চলে আসব।”
“ঠিক আছে। সাবধানে আসবেন।”
“কিছু আনব আমার তোতাপাখির জন্য?”
“তোতাপাখির বরকে নিয়ে সুস্থ ভাবে ফিরলেই হবে।”
তৌসিফ হাসলো। আরো কিছুটা সময় কথা বলে ফোন রাখলো। পৌষ হাফ ছেড়ে বাঁচলো যেন। কিছুক্ষণ ঘরজুড়ে পায়চারী করে আদিত্যকে ফোন দিয়ে নামতে বললো। নিজেও সুন্দর মতো মাথা ঢেকে বেরিয়ে গেলো।
আম গাছটার নিচে আজও গরু বাঁধা। ঘাস খাচ্ছে এগুলো। পৌষ আর আদিত্য কথা বলতে বলতে এগিয়ে যাচ্ছে। পৌষ কথার মাঝেই জিজ্ঞেস করলো,
“আচ্ছা, আদিত্য। শাহরিয়ার তালুকদার এমন অসুস্থ হলো কিভাবে?”
“জানি না তো। আমি তার সম্পর্কে খুব কম জানি।”
“উনি অসুস্থ হলে আমার জন্য ওনার নামে কেন প্রস্তাব পাঠালো হলো? আমার মাথা ছিড়ে যাচ্ছে এত প্রশ্নে।”
“কিন্তু কথা তো আগায় নি তাই না। মেঝ চাচ্চুর জন্য বেঁচে গেলে পুষি। চাচ্চু না থাকলে তোমার বাসা থেকে শাহরিয়ার চাচ্চুর সাথেই বিয়ে দিয়ে দিতো।”
চলন্ত পা দুটো হঠাৎ থেমে গেলো পৌষের। এখানে মাঝখান থেকে তৌসিফ ঢুকলো কিভাবে? পৌষ অবাক চাহনি দিয়ে জিগ্যেস করলো,
“তোমার মেঝ চাচ্চু কিভাবে এলো মাঝে?”
“আমি বলেছিলাম যাতে বিয়েটা ভেঙে দেয়।”
“শাহরিয়ার তালুকদার তো বিয়ে করার মতো পুরুষ না আদি। তাকে যথেষ্ট পাগলাটে ভাবে দেখেছি আমি।”
আদিত্য একটু থমকালো। বললো,
“কিন্তু তার সাথেই তোমার বিয়ে দিয়ে দিতো পুষি। মেঝ চাচ্চু কিভাবে আটকেছে জানি না কিন্তু তাহমিনা ফুপি তোমাকে সবার আগে শাহরিয়ার চাচ্চুর জন্য পছন্দ করেছিলো।”
পৌষের গায়ের লোম গুলো দাঁড়িয়ে গেলো যেন। ঐ পাগলের সাথে তার বিয়ে। বুকটায় হঠাৎই আঘাত লাগলো। কারণ জানে না পৌষ কিন্তু এতটুকু জানে, তার জীবনের বড়সড় একটা জায়গা শুধু মাত্র তৌসিফের জন্য। ভালোবাসা থাকুক বা না থাকুক। পৌষ তৌসিফকে ছাড়া কাউকে ভাবতে পারে না। কখনোই না৷ আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে আছে লোকটা তার সাথে।
দুজন পৌঁছাতেই পৌষ দেখলো কাটা গুলো নেই। অবাক স্বরে বললো,
“কাটা সরালো কে?”
আদিত্যও মাথা নাড়লো। পৌষ সেদিনের দেয়ালটায় গিয়ে নিদিষ্ট ইটে ধাক্কা দিলো সামান্য। ধীরে ধীরে দরজাটা খুলে গেলো। আদিত্য বিস্মিত হয়ে মাথায় হাত দিলো,
“ওহ মাই গড!”
“চুপ! আস্তে।”
“পুষি এতো পুরাই এডভেঞ্চার হয়ে যাচ্ছে।”
“সামনে আরো আছে।”
ডগ টেইল লোহার সেই সিঁড়ি দিয়ে দু’জন যখন এগিয়ে যাচ্ছিলো তখনই বিকট শব্দে পৌষের ফোনটা বেজে উঠলো। অন্ধকারে মৃদু হলদেটে আলোয় ভড়কে গেলো দু’জন। আদিত্য বুকে থুতু দিয়ে বললো,
“কে?”
পৌষ ঢোক গিলে। বলে,
“আমার অ-স্বামী, অসময়ে ফোন দিয়েছে।”
“ভয় পেয়ো না। তুলে স্বাভাবিক ভাবে কথা বলো।”
পৌষের মন মানে না। ফোনটা বাজতে বাজতে বন্ধ হয়ে গেলো অতঃপর আবারও বেজে উঠলো। ঢোক গিলে পৌষ কানে তুলতেই অতি ঠান্ডা স্বরে তৌসিফ জিজ্ঞেস করলো,
“কোথায় তুমি?”
মুখের উপর মিথ্যা বললো পৌষ,
“এই তো ঘুমিয়ে ছিলাম।”
কথাটা বলতে দেড়ী হলো কিন্তু তৌসিফের কণ্ঠ হিংস্র হতে সময় লাগলো না।
“কু’ত্তার বাচ্চা এখনই বাসায় যা তুই।”
কথাটা এতই উচ্চবাচ্য ছিলো যে আদিত্যও স্পর্শ শুনলো। পৌষের পা জমে গেলো সেখানেই। আদিত্য তারাতাড়ি ইশারায় পৌষকে নামতে বললো। তৌসিফ কথা না শুনে শেষবারে পৌষকে ভীষণ ভাবে চমকে দিয়ে আরেকটা গালি দিলো। গালিটা পৌষের জানে তালা লাগিয়ে দিলো সেই ক্ষণে। তৌসিফের সেই কণ্ঠ তার মনে থাকবে। গালি দিয়েই সে ভীষণ কঠিন ভাবে আদেশ ছুঁড়লো,
“এখনই বাসায় না ঢুকলে তোর পা টেনে শরীর থেকে আলাদা করব আমি৷ ফোন কাটবি না। বের হ ওখান থেকে।”
পৌষ আস্তে আস্তে আদিত্যর সাথে বেরিয়ে এলো। ওর কান সামান্য খাড়া হলো। উপর থেকে শব্দ আসছে। খুব সামান্য অথচ নীরবতার কারণে শোনা যাচ্ছে হালকা হালকা৷ এই শব্দ কিছুটা চেনা পৌষের কাছে তবে খুব অল্প শব্দ বিঁধায় স্পষ্ট না। বুকটা হঠাৎ করে ধড়ফড়িয়ে উঠে পৌষের। বেরিয়ে আসতেই দেখে টনি সহ চার থেকে সাতজন লোক দাঁড়ানো। রনি সবসময় তৌসিফের সাথে থাকে। তাহলে কি এরাই বলে দিয়েছে? তৌসিফ কি নজর রাখছে পৌষের উপর?
প্রেমসুধা সিজন ২ পর্ব ৪৫
নিঃশব্দে তারা পৌষ আর আদির পেছনে বাড়ীর গ্যারেজ পর্যন্ত এলো। ফ্ল্যাটে পা রাখতেই তৌসিফ খট করে ফোন কেটে দিলো। পৌষ বড় একটা শ্বাস ফেলে হরবরিয়ে আদিত্যকে বললো,
“এই আদি, শব্দ শুনেছো? ওখানে শব্দ হচ্ছিলো তুমি শুনেছো?”
আদিত্য ধপ করে বসলো। মাথা চেপে ধরে বললো,
“আব্বু জানলে আমার পা ভেঙে দিবে পুষি। খুব বড় ভুল হয়ে গেলো।”
“রাখো ভুল আর ঠিক। আমার মনে হচ্ছে কিছু ঠিক নেই। আমাদের লুকিয়ে সেখানে যাওয়া উচিত।”
