প্রেমের নীলকাব্য পর্ব ৪১
নওরিন কবির তিশা
গোধূলির মায়াবী আলোয় রঙিন সন্ধ্যাটা।দুপুরের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর থেকেই বেশ উদ্বিগ্ন মাহা। ঘটনার পরপরই ফ্ল্যাটে ফিরেছিল ছিল সে। বর্তমানে তিমিরাবৃত তার কক্ষ। সন্ধ্যা হলেও আলো জ্বলে নি আজ সেথায়।কারন একটাই ফেরার পর থেকে রাজ্যের মাথাব্যথা এসে গ্রাস করছে তাকে।
হঠাৎ মুঠোফোনের রিংটোনের শব্দে ঘুম ঘুম চোখে পাশ ফিরল সে। কে ফোন দিয়েছেন না দেখেই, ফোনটা রিসিভ করে তন্দ্রাচ্ছন্ন কন্ঠে বলল,,
—’হ্যালো।
সঙ্গে সঙ্গে অপর পাশ থেকে ভেসে আসলো এক গভীর পৌরুষ কন্ঠস্বর,,—’লাভলাইন?
চটজলদি উঠে বসলো মাহা, বিস্মিত কন্ঠে বলল,,-—’রাওফিন?
—’জ্বি ম্যাডাম!
—’হ্যাঁ বলো কি বলবে?
—’তুমি কি সিক?
মাহা হাত খোঁপায় ছেড়ে রাখা চুলগুলো বাঁধতে বাঁধতে বলল,,—’ঠিক সিক না।ঐ আরকি একটু মাথায় যন্ত্রনা।
রাওফিন উদ্বীগ্ন কন্ঠে বলল,,—’সে কি? মাইগ্রেন প্রবলেম নাকি?
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
—’আরে না না, ওই জাস্ট একটু….
তাকে কথা না শেষ করতে দিয়েই রাওফিন জলদি কন্ঠে বললো,,—’এই তুমি রেডি হও আমি আসছি।
মাহা তাকে থামাতে বলল,,—’আরে কথাটা তো…
তার কথা শেষ হওয়ার আগেই ফোন কেটে দিল রাওফিন তবে তার আগে আদেশের স্বরে একবার বলল,,—’যা বললাম মনে থাকে যেন,রেডি হয়ে থাকো।
কি আর করার বেচারী মাহা কথাটা বলেই বিপদে পড়েছে। অতঃপর এতক্ষন ঘুমিয়ে থাকায় উলটপালট হয়ে যাওয়া চুলগুলো বেঁধে লেগে পড়লো তৈরি হওয়ার কাজে।
প্রায় অর্ধ ঘণ্টার মাঝেই নিচ থেকে ভেসে আসলো বাইকের হর্নের শব্দ। মাহা তখন চুলগুলোতে সবে চিরুনির আঁচড় দিতে ব্যস্ত। সে দ্রুত রাস্তার সাইডের ব্যালকানিতে এসে দাঁড়ালো, নিচে সড়কের পার্শ্ববর্তী একটা স্থানে হেলমেট মাথায় বাইকের সাথে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে রাওফিন। সন্ধ্যা গাঢ় হয়ে আসায় ল্যাম্পপোস্ট জ্বালানো হয়েছে আশেপাশে।
আর সেই ল্যাম্পপোস্টের হলদেটে আলো প্রতিফলিত হচ্ছে রাওফিনের হেলমেটে। মাহা তার দিকে তাকাতেই রাওফিন হাত নেড়ে হাই জানালে তাকে। মাহা দ্রুত চিরুনি দিয়ে চুলগুলো ছাড়াতে ছাড়াতে হাত দিয়ে বোঝালো সে আসছে।
মুহূর্ত কয়েকের মাঝে তৈরি হয়ে নিচে নামলো মাহা। পরনে হালকা আকাশী রঙ্গা সুতি কামিজ, যার গলায় আর হাতে সাদা সুতোর খুব সূক্ষ্ম কাজ করা। তার গায়ের রঙের সাথে রঙটি যেন মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। সাজগোজে ভারিক্কি নেই বললেই চলে; শুধু চোখের নিচে লেপ্টে থাকা পাতলা কাজলের রেখাটা স্পষ্ট ।
কাজল কালো নয়ন জোড়া ল্যাম্পপোস্টের হলদে আলোয় এক অপার্থিব সৌন্দর্য ছড়াচ্ছে। অবাধ্য চুলগুলো শক্ত করে না বেঁধে পেছনে একটা ক্লিপ দিয়ে আলগা করে আটকে নিয়েছে সে, যা তার ঘাড়ের ওপর অবিন্যস্তভাবে খেলা করছে। মাহার এই সাদামাটা অথচ আভিজাত্যে ঘেরা রূপটি দেখে রাওফিন মুহূর্তের জন্য বোধহয় নিজের নিঃশ্বাস নিতে ভুলে গেল।
মাহা চোখ কুঁচকে তার একেবারে সামনে এসে দাঁড়িয়ে হাতে তুড়ি দিয়ে বলল,,
—’হ্যালো মিস্টার? কই হারিয়ে গেলে?
রাওফিনের ধ্যান ভাঙল যেন, অপ্রস্তুত কণ্ঠে সে বলল,,—’ক-কই কোথাও না তো?
মাহা মুগ্ধ হাসলো, রাওফিন মাথা ঝাঁকিয়ে তাকালো, অতঃপর মাহার এমন হাসিতে নিজেও হাসলো খানিক। পরপর বাইকে উঠে বলল,,
—’চলুন ম্যাডাম।
মাহা হঠাৎ মুখভঙ্গি বদলে বলল,,—’কিন্তু কোথায় যাব সেটাই এখনও বললে না তুমি।
রাওফিন আলসে ভাব ভাঙার ভঙ্গিমায় বলল,,—’তোমাকে কিডন্যাপ করতে এসেছি মেয়ে? চলো দেখি কোথায় যাওয়া যায়…! যাবে গন্তব্যহীন অজ্ঞাত সেই ঠিকানায়?
মাহা মুচকি হেসে তার বাইকের পেছনে উঠতে উঠতে বলল,,
—’কিডন্যাপার যদি এমন হয় আর অজ্ঞাত সেই ঠিকানাই যদি আমার সুখ নীড় হয় তবে আমি কিডন্যাপ হতে বারংবার প্রস্তুত।
রাওফিন মুগ্ধ হেসে বাইক স্টার্ট দিল। গোধূলির পরবর্তী এক রঙিন সন্ধ্যায় মৃদুমন্দ বাতাসকে সাক্ষী সমেত নিয়ে সেটি এগিয়ে চলল নাম না জানা কোনো এক গন্তব্যের দিকে।
সন্ধ্যার কিছুটা পর। প্রতিদিনের ন্যায় খান মহলের বিশাল ড্রয়িং রুমটা বড় বড় ঝাড়লণ্ঠনের আলোয় আর নবকুড়ি গুলোর উচ্ছ্বাসে প্রাণবন্ত। সোফায় গম্ভীর মুখে বসে আছেন ওয়ালিদ খান, তার হাতে ধরা সান্ধ্যকালীন চায়ের কাপ থেকে হালকা ধোঁয়া উঠছে।অপর হাতে সন্ধ্যাকালীন পত্রিকা,যাতে দৃষ্টি আটকে আছে তার।
বাড়ির রমণীরা ব্যস্ত রান্নাঘরে।রাফা,নীরা,নাহা অপর সোফাতে বসে গল্প করছে। নীল ওয়ালিদ খানের পাশে বসে ল্যাপটপের ব্যবসায়িক বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত।হঠাৎ নিস্তব্ধতা ভেঙে বেজে উঠল কয়েকটা মুঠোফোন একসাথে। কিছু মুহূর্তের মাঝেই হন্তদন্ত হয়ে সেখানে প্রবেশ করলেন ওয়ালিদ খানের একান্ত সচিব। তার চোখেমুখে জয়ের আনন্দ। চশমাটা ঠিক করতে করতে প্রায় রুদ্ধশ্বাসে বললেন,
—’স্যার, খবর এসেছে! রিটার্নিং অফিসার ঘোষণা করেছেন,আমাদের নীলের মনোনয়নপত্র বৈধ বলে গৃহীত হয়েছে। সব ঠিক আছে স্যার, সব ঠিক আছে!
মুহূর্তের মধ্যে যেন পুরো ড্রয়িং রুমে আনন্দের এক পশলা বৃষ্টি নামলো। ওয়ালিদ খান স্মিত হাসলেন। গৃহকর্তীরা বেরিয়ে আসলেন খবরটা কর্ণগত হতেই। এক প্রকার উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ল মহল জুড়ে। বড়দের আদেশ পাবামাত্র রাফা ছুটলো তিহুকে খবর দিতে। ভার্সিটি থেকে আসার পরেই ঘুমিয়েছে সে এখনো ওঠেনি।
গৃহকর্মীরা মির্জা সূচনার নির্দেশে দ্রুত ফ্রিজ থেকে মিষ্টি বের করেই সকলের মাঝে বিলিয়ে দিতে লাগলেন। ওয়ালিদ খান এগিয়ে আসলেন ছেলের দিকে।তার কাঁধে হাত রেখে ধীরলয়ে বললেন,
—’পথটা প্রশস্ত হলো নীল। এবার লড়াইটা হবে হাড্ডাহাড্ডি।
নীল শুধু একবার তীক্ষ্ণ হাসলো।তিহু সবে অন্দরমহলের ঝুল বারান্দায় এসে দাঁড়িয়েছিলো। এমন সুখকর খবর আর রাফার আগমনে উচ্ছ্বাসিত হয়ে সেও জলদি নামলো ড্রয়িং রুমে। তিহু আসতেই রুমিন আরা দ্রুত এক পরিচারিকার হাত থেকে মিষ্টি তুলে এনে তার মুখে দিতে দিতে বলল,,
—’নে নে মিষ্টিমুখ কর, আমাদের ভবিষ্যৎ এমপির ঘরনী।
তার এমন সম্বোধনের হেসে উঠলো মির্জা সায়মা সহ উপস্থিত সকলের।তিহু লাজুক হেসে দৃষ্টি বিনিময় করলো নীলের সঙ্গে।
শহরের ব্যস্ত রাজপথ তখন রাতের মায়াবী আলোয় স্নান করছে। দুপাশে সোডিয়ামের হলদেটে আভা আর দ্রুতবেগে ছুটে চলা গাড়ির হেডলাইটের খেলায় এক মায়াজাল তৈরি হয়েছে। রাওফিনের বাইকের পেছনে বসে মাহা। তার অবাধ্য চুলগুলো বাতাসের সাথে পাল্লা দিয়ে উড়ছে চলেছে।
রাতের শহরটা আজ প্রতিদিনের মতোই বড্ড ব্যস্ত। তবে সেই ব্যস্ততাকে উপেক্ষা করে, এক জোড়া কপত-কপতি এগিয়ে চলেছে গন্তব্যহীন পথে। হুট করেই বাইক থামালো রাওফিন। তার এমন কাণ্ডে তার প্রশস্ত পিঠে এক প্রকার আছড়ে পড়ল মাহা। রাওফিন মুচকি হেসে বলল,,
—’তাহলে নামা যাক,ম্যাডাম?
মাহা বুঝলো না হঠাৎ রাওফিনের এমন বাইক থামানোর কারণ। হঠাৎ তার চোখ পরল সম্মুখ পানে, দৃষ্টিগোচর এক ভ্রাম্যমাণ ফুলের দোকান। এতক্ষণ তো সেও দেখছিল, কই সে তো খেয়াল করিনি? সে যখন এসব ভাবতে ব্যস্ত ঠিক তখনই ভেসে আসলো রাওফিনের গভীর কণ্ঠস্বর,,
—’এই যে লাভলাইন।
লোকসমাগমের মধ্যেও রাওফিনের এমন সম্বোধনে অপ্রস্তুত হয়ে উঠল মাহা। আশেপাশে এক ঝলক তাকিয়ে দেখলো সবাই তাদের দিকে তাকিয়ে আছে, তবে তাতেও ভাবলেশহীন। মাহা দ্রুত এগিয়ে এসে তার দিকে তাকিয়ে বলল,,
—’মাথা খারাপ হয়ে গেছে তোমার?
রাওফিন বোকা দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল,,—’কেন?
—’এভাবে কেউ ডাকে? আশেপাশে কত লোক বলোতো?
রাওফিন ভাবলেশহীন ভাঙ্গিমায় বলল,,—’ওহ এই ব্যাপার!
—’এই ব্যাপার! কত লোক তাকিয়ে আছে দেখেছো?
—’তো কি হয়েছে? যাকে হৃদয়ের মনি কোঠার সর্বোচ্চ স্থানের জায়গা দিতে পেরেছি, সামান্য লোকজনের ভেতর তা প্রকাশ করতে পারবোনা? শুনেন ম্যাডাম আমি এতটাও ভীতু নই।
মাহা মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকালো। ভেসে আসা রজনীগন্ধা আর বেলি ফুলের তীব্র সুবাস চর্তুদিকের বাতাসকে ভারী করে তুলেছে। রাওফিন মুচকি হেসে মাহার দৃষ্টিকে উপেক্ষা করে মাত্র কেনা একগুচ্ছ শুভ্র সতেজ বেলি ফুলের গাজরাটা অতি সন্তর্পণে তার কবজিতে পরিয়ে দিল। মাহার হৃদস্পন্দন যেন এক মুহূর্তের জন্য থেমে গেল।রাওফিন তার শ্যামাঙ্গিনের হাতে এসেছে শুভ্র গাজরাটা পরিয়ে মুগ্ধ দৃষ্টিতে চেয়ে বলল,,
—’আজ থেকে জীবনের প্রতিটাক্ষন তোমার জন্য স্নিগ্ধ হোক আমার স্নিগ্ধময়ী।
মাহা আচ্ছন্ন হয়ে তাকিয়ে রইল রাওফিনের দিকে। ল্যাম্পপোস্টের আলো তার চোখের পাতায় কাঁপছে। বেলি ফুলের সেই মাতাল করা ঘ্রাণ আর রাওফিনের হাতের স্পর্শে মাহার সারা শরীরে যেন এক শিহরণ বয়ে গেল।
রাওফিন ততক্ষণে পাশের এক টং দোকান থেকে এলাচের সুঘ্রান মিশ্রিত দু ভাঁড় ধোঁয়া ওঠা চা নিয়ে হাজির হলো। রাস্তার ধারের সেই জরাজীর্ণ বেঞ্চে বসে দুজনে চায়ের কাপে চুমুক দিল। চায়ের ধোঁয়া মাহার চোখের চশমায় খানিকটা বাষ্প জমিয়ে দিচ্ছিল, আর সেই আড়ালে মাহা দেখছিল রাওফিনের পৌরুষদীপ্ত মুখচ্ছবি।রাস্তার পাশে সারি সারি দাঁড়িয়ে থাকা গাছগুলোর ফাঁক দিয়ে উঁকি দিচ্ছে রূপালি চাঁদ। দুজনে মিলে কতক্ষণ যে সেখানে বসে রইল তার কোনো হিসেব নেই।
রাত্রি-নিশিথ গভীর প্রায়। তিমিরাবৃত অন্তরীক্ষে একফালি রুপালি চাঁদ।আলো ছড়াচ্ছে ধরণী জুড়ে।তিহু ব্যালকানিতে দাঁড়িয়ে। সবে খাওয়া-দাওয়া সেরে কক্ষে এসেছে সে। নীল এখনও নিচে। কি একটা কাজে ব্যস্ত । অবশ্য সে এখন না আসলেই তিহুর জন্য মঙ্গল। যে নির্লজ্জ কাণ্ড ঘটালো তিহু দুপুরে। তারপর থেকেই নীলের সামনে যেতে লজ্জা করছে তার।
দুপুরের কথা মনে পড়তেই দুহাতে মুখ লুকালো তিহু। লাজুকতা বেষ্টন করলো তাকে। ছিঃ অমন কান্ড কেউ করে! আনমনে লাজুক হাসলো তিহু। হঠাৎ পিছন থেকে ভেসে আসলো গভীর পৌরুষ এক কণ্ঠস্বর,,
—’মিসেস নুরাইন ওয়াহাজ?
পরিচিত ঘোর লাগা সে কন্ঠে তিহু দ্রুত পিছনে ঘুরল। তাকে দেখে নীল মুচকি হেসে বলল,,—’লজ্জা পাচ্ছেন ম্যাডাম?
তিহু কিছু বলল না, লজ্জায় পাশ কাটিয়ে যেতে নিতেই নীল হাত আঁকড়ে ধরল তার।তিহু আড়ষ্ট কন্ঠে বলল,,
—’ক-কি করছেন?
নীল মুচকি হেসে ঝটকা মেরে কাছে নিয়ে আসলো তাকে। তিহু ভারসাম্য হারিয়ে এসে পরল নীলের প্রশস্ত বক্ষদেশে। তার তীব্র পুরুষালী পারফিউমের ঘ্রাণে মা’তা’লপ্রায় অবস্থা তার। শুকনো ঢোক গিলে সে কিছু বলতে যেতেই নীল,অপর হাতে তিহুর জামার নিচ দিয়ে উন্মুক্ত কোমর স্পর্শ করল। সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎস্পৃষ্টের কেঁপে উঠলো, তিহু।
নীল মুচকি হেসে, মুখ ডোবালো তিহু উন্মুক্ত গলায়। ঘো’র লাগা কন্ঠে বললো,,
—’শান্ত ছিলাম সহ্য হয়নি? এখন এই অশান্ত-নির্লজ্জকে সহ্য করার অভ্যেস করে নিন মিসেস।
তিহু বরফের ন্যায় জমে গিয়েছে নীলের এমন কাণ্ডে। বহু কষ্টে আড়ষ্টতা ভেঙে সে বলল,,
—’আমার কিছু প্রশ্ন ছিল?
নীল আগের ন্যায় থেকেই বলল,,—’হুম,বলো।
—’এভাবে থাকলে কিভাবে বলবো?
নীল সামান্য নড়ে আগের ন্যায় ঘোর লাগা কণ্ঠে বললো,,-—’এভাবেই বলো।
তিহু সামলালো নিজেকে। প্রশ্নটা করা বড্ড প্রয়োজন তার। খানিকক্ষণ বাদে জিজ্ঞেস করল,,—’আচ্ছা, আগের দিন যে আপনি বললেন, আপনি আমাকে না দেখে ভালোবেসেছেন কেন?
—’কারণ আমি জানতাম, আমার এমন একটা চঞ্চলা-দুষ্টু বউ আল্লাহ অলরেডি তৈরি করে রেখেছেন আমার জন্য।
তিহু ভ্রু কুঁচকে বলল,,—’হেঁয়ালি না করে সত্যি কথা বলুন মিস্টার।
—’আচ্ছা করছি না হেঁয়ালি।
—’তো বলুন না সত্যিটা। প্লিজ।
—’তো শোনো… নীল মুখটা সরালো সামান্য,, বলল,,—’ছোট ফুপ্পি আগর দিন তোমাকে বলেছে না আমাদের বাবারা বেস্ট ফ্রেন্ড ছিল। তারা একে অপরকে কথা দিয়ে রেখেছিল যে একে অন্যের ছেলে মেয়ের সঙ্গে বিয়ে দিবে। আর যেহেতু আমি আমার বাবার বড় ছেলে, আর আমি তোমার আগে হয়েছিলাম, তাই তোমাকে আমার বউ করে নিয়ে আসলাম সিম্পল।
—’কিন্তু আপনি তো আমাকে..!
নীল হেসে বলল,,—’কিডন্যাপারের হাত থেকে বাঁচাতে বিয়ে করেছিলাম তাই তো?
তিহু সরল মনে বলল,,—’হ্যাঁ।
—’ঐদিন যদি কিডন্যাপার তোমাকে কিডন্যাপ না করত তবু আমি তোমাকে বিয়ে করতাম। হয়তো কিছুদিন বাদে, কিন্তু বিয়ে আমাদের হতোই। তবে হয়তো অমন অনাকাঙ্খিতভাবে নয়।
—’আপনি কি আমাকে চিনেছিলেন?
—’অফকোর্স। আমি যদি তোমাকে নাই চিনতাম তাহলে, কখনো তোমার প্রতি এক্সট্রা প্রটেকশন লাগিয়ে রাখতাম না।আর না তো আমাকে নিয়ে এত বড় একটা মিথ্যা কথা বলেছ জানার পরেও ছেড়ে দিতাম। তোমার জায়গায় অন্য কোনো মেয়ে হলে থাপড়িয়ে তার চৌদ্দগোষ্টির নাম ভুলিয়ে দিতাম।
তিহু দু’চোয়ালে দু’হাত রাখল। অতঃপর কি জানি ভেবে আনমনে জিজ্ঞাসা করল,,
—’আপনি তো আমাকে আগে কখনো দেখেননি? অথচ আপনি বলছেন আপনি আমাকে বোধশক্তি হওয়ার পর থেকে ভালবাসেন। কেন?
—’কারণ আমার বোধশক্তি হওয়ার পর থেকে আমার বাবা আমার মাইন্ড সেট আপ করে রেখেছিল, যে আমার একটা দুষ্টু-মিষ্টি বউ আছে।
—’তবুও…! আচ্ছা আপনি আমাকে সত্যিই ভালোবাসতেন তো? মানে না দেখে ভালোবাসা যায়?
নীল অদ্ভুত হেসে বলল,,—’ভালোবাসা কি না জানি না! শুধু এতোটুকু বলতে পারি, পাপ ভারাতুর এ জীবন পূর্ণের সঞ্চয় করেছে কিনা জানিনা। তবে যতবার মোনাজাতে হাত বাড়িয়েছে ততবার তোমার নাম জপেছি। কোনো এক অজ্ঞাত কারণে তোমাকেই চেয়েছি। সেটাকে তুমি কি বলে সংজ্ঞায়িত করবে?
তিহু অদ্ভুত দৃষ্টিতে চেয়ে রইল, কতক্ষন জানা নেই। হঠাৎ আনমনে প্রশ্ন করে বসলো,—’কেন ভালবাসতেন আমায়?না দেখেও অজ্ঞাত-অস্তিত্বহীন কাউকে কেউ এতটা ভালোবাসে।
নীল কেমন হাসলো যেনো,, হঠাৎ গেয়ে উঠলো,,
প্রেমের নীলকাব্য পর্ব ৪০
🎶 তুমি গল্প ছিলে আমার উপন্যাসে…
তুমি কবিতার মত এই দিনের শেষে….
তুমি অল্প করে কিছু স্বপ্ন দিলে….
আমি প্রেমিক রবো সাথে জনম ধরে….
দেখি তোমায় আমি এক পলকে…
রোজ প্রেমে হারাই দেখতে দেখতে….
দেখি তোমায় দেখি দুটি নয়ন ভরে…..
ভালোবাসি মেয়ে এই আমি তোমাকে…
