বাঁধনহারা প্রেম বোনাস পর্ব
shanta moni
“সময় চলমান সময় কারো জন্য থেমে থাকে না৷ সে তার নিয়মে চলে যায়। রুহি চলে গিয়েছে আজ এক মাস হলো। চৌধুরী বাড়ি আর আগের মতো নেই।
রুহি চলে যাওয়ার সাথে সাথে সব আনন্দ যেনো সাথে করে নিয়ে গিয়েছে।
হেনা বেগম অবস্থা খুব খারাপ। আদরে নাতনি হারিয়ে ফেলার শোক যেনো এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি। এই তো এক সপ্তাহের মতো হলো সবাই গ্রাম থেকে ঢাকাতে এসেছে। বাড়ির পরিবেশ একবারে নীরব। বোনকে হারিয়ে শুভ্রের অবস্থা খুব খারাপ। বোনকে হারিয়ে ফেলার শোক যেনো এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি।
রোমানের অবস্থা খুব খারাপ। সবাই গ্রাম থেকে আসলেও রোমানকে কেউ আনতে পারেনি। তার এক কথা সে তার রুহিকে একা রেখে কোথাও যাবে না। সেদিন রাতে রোমানের আতনাতে শুভ্র রোদ দুইজনে অজোড়ে কেঁদেছে। রোমান কোনো ভাবেই মানতে নারাজ যে তার রুহি আর নেই। তার এক কথা সে তার রুহিকে না নিয়ে একা ঢাকাতে ফিরবে না। সবার মধ্যে শোকের ছায়া থাকলেও হাঁসি বেগম আর রিয়া এদের কারো মধ্যে সামান্য অনুসুচনা টুকু নেই। রুহির মারা যাবার পর থেকেই রাশেদের কোনো খবর পাওয়া যাইনি। তারপর কিছুদিন পর খবর আসে। জরুরি কাজের জন্য নাকি তাকে কাউকে কিছু না বলেই বিদেশ যেতে হয়।
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
_আছরের নামাজ পরে বেলকনিতে দাঁড়িয়ে এই সব কিছু ভাবছিল রোদ। জীবন তাকে কষ্ট ছাড়া কিচ্ছু দেয়নি। এই রকম হাঁসি খুঁশি পরিবারে এক নিমিষেই বিষাদের ছায়া নেমে এসেছে। নীলার অবস্থা তেমন ভালো না। আগের মতো চৌধুরী বাড়িতে তেমন আসে না। রুহি এই রকম হটাৎ চলে যাওয়া কেউ মানতে পারছে না। শুভ্র সেই সকালে উঠে অফিসে যায়। আর রাতে ফিরে। নিলয় টাও কেমন চুপ হয়ে গেছে। এইতো সেদিনের কথা রোদকে জড়িয়ে ধরে কি রকম বাচ্চাদের মতো কেঁদেছিল। সে কি কান্না, রোদ কি বলে শান্তনা দিবে তার ভাষা তার জানা নেই৷ হেনা বেগম তো বিছানা থেকে উঠতেই পারছে না।
_রাত ১২ টা, চারদিকে কুয়াশা ঢাকা, কিছুদিন ধরে শীতটা একটু বেশি পড়ছে।
_অন্ধকার রুমে কিছু মানুষের কথা। হাঁসি বেগম একজন হুডি পড়া লোকের সামনে দাঁড়িয়ে আছে৷ কিছু একটা বলছে। আর আসে পাশে তাকাচ্ছে। এত রাতে এই স্টর রুমে কেউ আসবে না। তারপর দেয়ালের কান আছে। যদি কেউ তাদের প্লান সম্পর্কে জেনে যায়। তো তরে এসে তরি ডুববে।
_হাঁসি বেগম কথা শেষ করে দরজা দিকে এগিয়ে আসে তখনি দরজা সামনে থেকে একটা ছায়া দূরে সরে যায়।
_হটাৎ ঘুম ভেঙে যায় শুভ্রের, রুহিকে নিয়ে বাজে স্বপ্ন দেখেছে। বার বার ভাইয়া ভাইয়া বলে ডাকছে আর বলছে
আমাকে বাঁচাও ভাই। শুভ্র রুহির পিছু জুঁটছে কিন্তু কোনো ভাবেই রুহিকে ধরতে পারছে না। রুহি অন্ধকারে সাথে তলিয়ে যায়। শুভ্রের শরীর থেকে গাম ঝড়ছে। বেড সাইড টেবিল থেকে পানি খেয়ে নিজেকে স্বাভাবিক করে। তখনি খেয়াল করে রোদ পাশে নেই৷ রোদকে এতো রাতে পাশে না, দেখতে পেয়ে কপাল কুচকে ফেলে শুভ্র। বিছানা থেকে উঠে দাঁড়ায়, রুমে ডিম লাইট জ্বলছে, তখনি চোখ পড়ে বেলকনির দিকে৷ রোদ বেলকনি থেকে রুমে ডুকছে শুভ্র দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে, তাড়াতাড়ি রুমে লাইট অন করে। শুভ্রের কাছে এসে দাঁড়ায়, তাড়াহুড়ো করে জিগ্যেস করে
রোদ: কি হয়েছে আপনার? আপনি ঠিক আছেন?
শুভ্র কোনো কিছু না বলেই রোদকে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরে৷ রোদও শুভ্রের জড়িয়ে ধরে। রুহি চলে যাওয়ার পর থেকেই শুভ্র আগের থেকে চুপচাপ হয়ে গেছে৷ রোদেও সাথে তেমন কথা বলেনি প্রয়োজন ছাড়া। রোদ বিষয়টা বুঝতে পারে৷ রোদও শুভ্রকে কিছু দিনের জন্য একা ছেড়ে দিয়েছিল। কিছু সময় যেতেই রোদ অনুভব করে তার কাঁধ ভিজে যাচ্ছে। শুভ্র কাঁদছে রোদ শুভ্রকে ছেড়ে দুই গালে হাত রাখে, শুভ্রের চোখ দিয়ে পানি পড়ছে। রোদ দুই হাতে শুভ্রের চোখের পানি মুছে দিয়ে বিচলিত হয়ে বলে।
রোদ: প্লিজ এইভাবে কাঁদবেন না।
_শুভ্র রোদের দুই হাতে নিজের দুই হাতে নিয়ে চুমু খেয়ে রোদের দিকে করুন স্বরে তাকিয়ে বলে উঠে।
শুভ্র: স্বামী হিসেবে আমি অনেক খারাপ রোদ। না আমি আর্দশ একজন ভাই হতে পেড়েছি। আর না পেড়েছি দায়িত্ববান স্বামি হতে।
রোদ: প্লিজ এইভাবে বলবেন না। ধৈর্য ধরুন আল্লাহ উত্তম পরিকল্পনা কারী, দেখবেন সব ঠিক হয়ে যাবে।
শুভ্র: কিচ্ছু ঠিক হবে না রোদ, আমার ফুলের মতো বোনটা আর নেই।
শুভ্র একটু থেমে আবার বলে উঠে
শুভ্র: সাতটা বছর তোকে ভুল বুঝে মায়ের খুনি মনে করে দূরে সরিয়ে রেখেছি। তোকে দিনের পর দিন কষ্ট দিয়েছি৷
_আমি ক্ষমা পাওয়ার যোগ্য না। আল্লাহ কোনো দিন আমায় মাফ করবে না। এই জীবনে তোমায় আমি সুখের একটা সংসার দিনে পারলাম না। বারবার শুধু কষ্ট দিয়ে গিয়েছি৷
_আমার মতো পাপীর মরে যাওয়াই ভালো।
_রোদ শুভ্রের মুখর হাত চেঁপে ধরে কান্না ভেজা কন্ঠে বলে উঠে।
রোদ: এই সব বলবেন না শুভ্র ভাই। আপনি ছাড়া এই রোদের কোনো অস্তিত্ব নেই।
_আপনি হীন আমার আমিটা শুন্য, আপনার কিছু হলে আমিও মরে যাবো। কথা গুলো বলেই রোদ শুভ্রকে জড়িয়ে ধরে ফুপিয়ে কেঁদে উঠে। কাঁদতে কাঁদতে বলে৷
রোদ: আপনার প্রতি আমার কোনো অভিযোগ নেই৷
_আমায় দেখা সব থেকে শ্রেষ্ট পুরুষ আপনি। খারাপ হলেও আপনি আমার স্বামি ভালো হলেও আপনি আমার স্বামি।
আপনি আমার সব কিছু।
রোদ শুভ্র ছেড়ে শুভ্রের চোখের দিকে তাকিয়ে বলে উঠে।
রোদ: নিজেকে কখনো দোষী ভাববেন না। আপনার আমাদের কারো কোনো ভুল নেই। সময় আমাদের সাথে ছিল না। ভাগ্য আমাদের সহায় ছিল না। তাই আমরা আলদা রয়েছি। কিন্তু দেখুন সেই ঘুরে ফিরে কিন্তু আবার আমরা এক হয়েছি। আল্লাহ আমাদের সহায় হয়েছেন। আল্লাহ আমাদের আবার এক করে দিয়েছেন।
_রোদের কথায় কিছুটা স্বাভাবিক হয়, শুভ্র।
_শেষ রাত, ঘড়ির কাঁটা তিনটার দিকে, অন্ধকার রুমে দেয়ালের সাথে পিঠ ঘেষে বসে আছে রোমান৷ এক হাতে জলন্ত সিগারেট এতো শীতেও গায়ে একটা পাতলা শার্ট ছাড়া কিছুই নেই। চুল গুলো অগোছালো। মুখে দাঁড়ি ঘোপে ভরে গেছে। মাথার চুল গুলো অনেকটা বড় হয়ে গেছে৷ রোমানের বুক ফেটে দীর্ঘ শ্বাস ফেলে। রুহি ছবিটা বুকে জড়িয়ে ধরে ডুকরে কেঁদে উঠে৷ কাঁদতে কাঁদতে বলে উঠে।
রোমান: আল্লাহ ভাগ্যে যখন রাখবেন না। তাহলে এতো ভালোবাসা কেনো দিলে আমার মনে। কি এমন পাপ করেছি, আমি যার জন্য এতো বড় শাস্তি আমায় দিলে।
_কথাগুলো বলতে বলতে শব্দ করে কেঁদে উঠে রোমান।
রোমান: মাবুদ আমি আমার ভালোবাসা হারিয়ে সেই যন্ত্রণা বুকে নিয়ে বেঁচে থাকতে পারবো না। তুমি আমায়, আমার বোকা নারীর কাছে নিয়ে যাও, আল্লাহ৷
_রোমান রুহির ছবি বুকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছে, নিস্তধ্ব রাতে রোমানের কান্না, চার দেয়ালের সাথে বাড়ি খাচ্ছে। খুব ভয়ানক শোনাচ্ছে।
রোমান: আল্লাহ ও আল্লাহ তুমি আমায় মৃত্যু দাও আল্লাহ। আমি যে আর সইতে পারছি না। আমাকে আমার বোকা নারীর কাছে নিয়ে যাও৷
_কথা গুলো চিৎকার করে বলে রোমান। রোমান বসা থেকে উঠে, দাঁড়ায়, রুহির ছবি হাতে নিয়ে, অড্রোপ থেকে লাল শাড়ি, বের করে। রুহির ছবি রেখে তার সামনে রেখে, রুহির ছবির দিকে তাকিয়ে থাকে বেশ কিছুক্ষণ৷
_তারপর বলে উঠে _
রোমান: এই লাল শাড়িটা তোর জন্য অনেক আগেই কিনে রেখেছিলাম। নিজ হাতে লাল শাড়িয়ে পড়িয়ে বউ সাজাবো তোকে। কিন্তু তুই আমার সাথে বেইমানি করলি। কেনো করলি, বল। কোনো আমায় একা করে গেলি।
বাঁধনহারা প্রেম পর্ব ৬০
_রোমান : আমার সব স্বপ্ন ভেঙে গেছে রুহি। তুই তোর কথা রাখিসনি।
_কথা গুলো বলতে বলতে রোমান সামনে থাকা লাল শাড়িটি, দূরে ছুড়ে মারে।
_কাঁদতে কাঁদতে ক্লান্ত ফ্লোরে পড়ে যায়।
_কিছু সময় যেতেই রুমে মধ্যে কারো প্রবেশ ঘটে, ধীর পায়ে রোমানের মাথার কাছে হাটু ঘেড়ে বসে। কাঁপা হাতে রোমানের পুড়ো মুখে হাত ভুলায়, রোমানকে আস্তে ধরে বিছানার উপর তুলে ঠিক মতো শুয়ে দিয়ে। রুমের দিকে এক নজর চোখ ভোলায়, আপছা আলোয় রুমের বেহার দশা ভালো করেই চোখে পড়ছে। রোমানকে শুয়ে দিয়ে রুম থেকে বেড়িয়ে যায়।

Er porer part kobe asbe?