বিষাদ ও বসন্ত পর্ব ১৬
অলকানন্দা ঐন্দ্রি
সপ্তাহখানেকে মিথি প্রায় বারো জনের থেকে প্র্যাক্টিকাল খাতা লেখার অর্ডার পেল। এবং এগুলো পেতে সাহায্যটা রিধিই করল সবচাইতে বেশি৷ রিধি এ নিয়ে বেশ উৎফুল্ল।মিথিও আগের সেই মনমরা ভাব, মন খারাপ থেকে বেরিয়ে এসেছে। মূলত রিধি, ফিজা এমন প্রফুল্লময় মেয়েদের সাথে থাকলে নিজের মাঝে সত্যিই আলাতা এক সজীবতা আসে। মনে হয় সেও ওদের মতো হাসতে পারবে। মন খারাপটা টিকে থাকে না। মিথি এ নিয়ে অবশ্য নিজে নিজেই মনের ভেতর শান্তি অনুভব করে। এই যে এই সুন্দর জীবনটা? এটা তার গত এক বছরের জীবন থেকে হাজারগুণ সুন্দর। হাজার গুণ শান্তির! মিথি ছোট নিঃশ্বাস ফেলল। গত দুইদিনের সহ আজকের রান্নাটা ও করেছে। এসবে ব্যস্ত থাকতে ওর ভালোই লাগছে। সাথে এই মেয়েগুলো থাকলে কোন কথাই নেই। মিথি, হিয়া মিলেই খাওয়ার জন্য চারজনের প্লেটে খাবার নিল। অতঃপর ফিজা আর রিধি তা নিয়ে গেল। চারজন ফ্লোরে গোল হয়ে বসেই খাবারগুলো মুখে তুলতে তুলতে গল্পগুজব করল। রিধি চোখ ফিটফিট করে শুধাল,
“ হিয়া আপুর থেকে মিথির আপুর রান্নার স্বাদ বেশি। এর জন্য আমি তোমার কাছে রান্নার ক্লাস করব মিথি আপু। ”
হিয়া সরু চাহনিতে চাইল। রিধির দিকে চেয়ে শুধাল,
“ এবার থেকে আমি যেদিন যেদিন রান্না করব সেদিন সেদিন তুই খেতে পারবি না রিধি। তোর জন্য আমার রান্না করা খাবার আজ থেকে বাতিল।”
“ কেন বাতিল? সবাই খেলে আমি কেন খেতে পারব না? ”
মিথি তাকাল। এদের দুইজনের কথা শুনে হেসে ফেলল ও। হিয়ার দিকে চেয়ে বলল,
“ হিয়া আপু, আমায় খেতে দিয়েন। নাকি আমাকেও দিবেন না? আমার জন্য বাতিল করলে কিন্তু আড়ি আপনার সাথে। ”
হিয়া কথাটা শুনে মিথির দিকে তাকাল।মিথিকে অনেকদিন পর এভাবে কথা বলতে শুনছে ও। আগেও কলেজ লাইফ অথবা স্কুল লাইফে ওদের কোনকিছু নিয়ে ঝগড়া হলে একে অপরের সাথে কথা বলত না। আড়ির পর্ব চলত। অতঃপর আবার মিশে যেত। হিয়ার সত্যিই খুশি লাগল পুরাতন মিথির মতো কথা শুনে। ভ্রু বাঁকিয়ে বলল,
“ তুই কে যে তোর জন্য বাতিল করা যাবে না? তোর জন্যও বাতিল। তবে আমার বাচ্চাটার জন্য বাতিল না। এই আরকি। ”
মিথি হেসে ফেলল। মুখে গ্রাস নিতে নিতে বলল,
“ কষ্ট পেলাম হিয়া আপু।”
“ আপনার কষ্ট দেখে আমি খুবই দুঃখিত আপু। কিন্তু কি করব বলুন? কিছু করার নেই।”
রিধি মুখ ফুলিয়ে শুধাল,
“ তুমি খুব নির্দয় হিয়া আপু। আমার মতো নিষ্পাপ বাচ্চাকে পর্যন্ত কষ্ট দিয়েছো। মিথি আপুর মতো সহজ সরল মেয়েটাকেও কষ্ট দিয়েছো। ”
হিয়া ভ্রু বাঁকিয়ে শুধাল,
“ তুই কবে থেকে নিষ্পাপ রিধি? আমি তো আসার পর থেকেই তোরে চিনে ফেলছি। ”
রিধি মুহুর্তেই জিজ্ঞেস করল,
“ কি পাপ করেছি বলো? ”
“ আমার তেলের বোতলটা ফেলে সব তেল ফ্লোরে ফেলে দিয়েছিলি রিধির বাচ্চা রিধি। ”
“ ভুলবশত। ভুলবশত পাপ করলে কি তাকে পাপ বলে ফিজা আপু? ”
ফিজা এতোটা সময় চুপই ছিল। যেন একদম মনোযোগ দিয়ে খাবার খাচ্ছে ও। কিন্তু এতোটা সময় পর আর চুপ থাকতে পারল না। রিধিকে উৎসাহ দেওয়ার অভিনয় করে শুধাল,
“ না, তাকে ভুলপাপ বলে। সেদিক থেকে তুই ভুল নিষ্পাপ রিধি।হতেই পারে এমনটা! নো প্রবলেম।”
রিধি ফোঁস করে কাঁদো কাঁদো হয়ে শুধাল,
“ ফিজা আপু! ”
মুহুর্তেই বাকি তিনজন হেসে উঠল সমস্বরে। রিধিটা সত্যিই একটা বাচ্চা। প্রানবন্ত, চঞ্চল চড়ুই পাখি যেন। যে সবাইকে হাসাতে পারে।
মিথি আর হিয়া বিকালের দিকেই ছাদে গিয়েছিল কাপড় আনতে। শুক্রবার ছিল। মোটামুটি সপ্তাহের সব কাপড় ধোঁয়ার পর ছাদে শুঁকাতে দিয়েছিল। এতোটা সময়ে শুঁকিয়েও গিয়েছে। দুইজনে একে একে কাপড়গুলো নিল।হিয়া ওপাশটায় ফুলের টবে ফুুটে থাকা ফুলটার ছবি তুলতে ব্যস্ত তখন মধ্যবয়স্কা এক মহিলাকে দেখা গেল। মিথিকে দেখেই এগিয়ে এসে হেসে শুধাল,
“ ওদের সাথে নতুন নাকি তুমি? আগে তো দেখিনি। ”
মিথি হাসল। হেসে উত্তর করল,
“ বেশ কয়েকদিন হলো এসেছি। আপনি? ”
ভদ্রমহিলা উত্তর করলেন,
“ তোমাদর উপর তলায় থাকি। ওরা প্রায়সই ফ্রিজে মাছ মাংস রাখতে যায় তো তাই চিনি। তোমাকে তেমন দেখিনি কখনো। ”
“ আমি নতুন তো তাই। ”
“কিসে পড়ো? ”
মিথি প্রশ্নটা শুনে প্রথম দফায় কিছুটা চুপ থাকল। অতঃপর জানাল,
“ হু? এইচ এস সি দিয়েছি। সামনে হয়তো ভর্তি পরীক্ষা দিব। ”
“ হয়তো কেন? পড়ালেখার জন্য এসেছো যখন অবশ্যই দিবে তাই না? কোন কোন ভার্সিটিতে দিবে? ”
পড়ালেখার জন্যই? মিথি তো পড়ালেখার জন্যই এতদূর এখানে আসেনি। এসেছে নিজের অস্তিত্ব রক্ষার্থে, নিজের সন্তানের অস্তিত্ব রক্ষার্থে। তবুও হেসে ভদ্র মহিলার আরো অনেক প্রশ্ন থেকে বাঁচতে উত্তর করল,
“ এখনো ভাবিনি আসলে ওভাবে কোন কোন ভার্সিটিতে দিব।”
“ ওহ। ভালো করে পড়ালেখা করছো তো? ”
মিথি মিথ্যেটা বলল,
“ এইতো করছি। ”
এইটুকু বলার পরই নিচ থেকে রিধি এল। মিথিকে ঝাপটে ধরে একপাশে নিয়ে গেল মহিলা সরে যেতেই। অতঃপর ফিসফাস করে বলল,
“ তুমি এই বাচাল মহিলার সাথে কি করছিলে মিথি আপু? তোমাকে নিশ্চয় পড়ালেখার বিষয়ে প্রশ্ন প্রশ্ন করে করে কান খেয়ে নিয়েছে বলো? ভদ্র মহিলা পেশায় প্রফেসর। এইজন্যই পড়ালেখা নিয়ে প্রশ্ন করে বিরক্ত করে এত। ”
মিথি হাসল। রিধির যে পড়ালেখার বিষয়ে প্রশ্ন করা খুব একটা পছন্দের না এও বুঝে নিল। হেসে বলল,
“ কান খেতে পারেনি রে রিধি। তোর খেয়েছিল? ”
“ আমার তো কয়েকবারই কান খেয়ে ফেলেছিল আপু। ”
মিথি রিধির কানের দিকে চাইল। হাত দিয়ে ওর কান টেনে বলল,
“ তোর কানের জায়গায় কান আছে কিভাবে? ”
রিধি মুখটা বাংলার পাঁচ করে বলল,
“দূররর মিথি আপু!কথার কথা। তুমি খুব ভালো ভাবছো নাকি এই মহিলাকে? ”
মিথি মজা পেল রিধির মুখ দেখে। হেসে বলল,
“ রিধি, তুই খুব মজার জানিস? তোর চেহারা দেখলেই আমার হাসি আসছে। যায় হোক, এই মহিলা তোর পছন্দের নয় তা বুঝলাম। কিন্তু কি করে ফেলেছে তোর সাথে ?”
“ কিছুই করেনি। কিন্তু ভালো লাগে না।”
বিকালের দিকেই মিথি আর হিয়া গিয়েছিল একটা হসপিটালে জবের কথাবার্তা বলতে। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটা পেয়েছে হিয়ারই এক বন্ধু দীপ্রর মাধ্যমে। সম্ভবত চেম্বার এসিস্ট্যান্ট। তবুও মিথির জন্য এটাও অনেক সাহায্য করবে যদি হয়ে যায়। মিথিরা ওখান থেকে ফিরল সন্ধ্যায়। অতঃপর সন্ধ্যা থেকে হিয়ার সাথে সাথে মিথি ওবই নিয়ে বসেছে। গত কয়েকদিন যাবৎও ও বই নিয়ে বসছে। যদিও জানে না খুব একটা লাভ এতে হবে কিনা। তবে থেমে গেলে তো চলবে না। তাছাড়া হিয়ার প্রেশারে হলেও ও বসেছে। হিয়া ওকে এই কয়েকদিনে অনেকটাই সাহায্য করেছে। কোথাও না বুঝলে বুঝিয়ে দিচ্ছে ভালোভাবেই। মিথি মাঝে মাঝে এই মেয়েটার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা অনুভব করে। এই যে এই সুন্দর জীবনটা? এটা হিয়া না থাকলে কখনো পেত না ও। কখনোই না। মিথি কিছুটা সময় পড়ল। কিছুটা সময় প্র্যাক্টিকাল খাতাতে সময় দিল। অতঃপর রাতে খেয়ে ঘুমোতে যাওয়ার সময়ে বিছানা ঠিক করল হিয়াই। মিথিকে বলল,
“ তোর নিশ্চয় এভাবে নিচে ঘুমাতে অসুবিধা হয় তাইনা মিথি? যদি ক্ষতি হয় এতে? ”
মিথি বালিশে মাথা এলিয়ে রাখল। বলল,
“ আমার অসুবিধা হচ্ছে না। ফ্লোরে হলেও নিচে তো মোটা রকমের বিছানা। তো? ক্ষতি কেন হবে এতে? ”
পাশাপাশি বালিশে মাথা রাখল হিয়াও। বলল,
“ তুই আমাদের মতো হলে বলতাম না
কি সমস্যা? তোর ভেতরে একটা পিচ্চি আছে যে এই কারণে চিন্তিত । ”
” উহ! কিছু হবে না তার। তার আম্মুর সাথে সাথে সেও খুশি নিশ্চয়। ”
হিয়া হাসল। মিথিও হাসল। পৃথিবীটা আসলে তার জন্য অতোটা নিষ্ঠুর হয় না৷ এতেটাও নির্দয় নয়। এই যে তার স্বামী, ভাই, ভাবী সবাই তাকে নিয়ে এতটা উপেক্ষা, অবহেলা দেখাল? অথচ কোন এক জায়গায় তাকে কিছু মানুষ কতোটা ভালোবাসে। কতোটা চিন্তা করে। এসব ভেবেই তো মিথির সুখ সুখ লাগে। খুশিতে চোখ টলমল করে। মিথি হিয়ার দিকে ফিরল। বলল,
“ হিয়া, আমি যে কি পরিমাণ কৃতজ্ঞ থাকব তোর কাছে এই সুন্দর জীবনটা আমাকে দেওয়ার জন্য। তুই জানিস আমার আগের জীবনটা থেকে এই জীবনটা কতোটা সুখের? ”
“তুই জানিস মিথি তুই সহ আমার এই জীবনটাও অনেক হ্যাপি।মাঝখানের সময়টায় আমি তোকে অনেক মিস করতাম মিথি। ”
মিথিও ছোটশ্বাস ফেলে জানাল,
“ তুই আমার লাইফে নিঃসন্দেহে একটা ভালো প্রাপ্তি হিয়া। সবসময় এভাবে আমার পাশে থাকিস হিয়া। সবসময় থাকিস। ”
মুহু। বাহ্যিক দিক থেকে অত্যাধিক সৌন্দর্যের একটা মেয়ে। যাকে দেখলেই যে কোন পুরুষেরই মন গলে গিয়ে একটা শান্তি শান্তি অনুভূতি দৃষ্টি হওয়ার কথা। যাকে দেখলে যে কোন পুরুষেরই আগ্রহ আসার কথা। অথচ মুহু বরাবর এমনটাতেই অভ্যস্ত। ও সবসময়ই দেখেছে সব পুরুষের মুগ্ধ চাহনি। সব পুরুষের তার প্রতি আগ্রহ। বাবা মায়ের এক মাত্র মেয়ে হওয়াতে বোধহয় ছোট থেকেই ও সবকিছুতে অগ্রাধিকার পেতে ভালোবাসত। বরাবর পেয়ে এসেছেও তা। অথচ আজ কয়েকদিন হলো একটা ছেলে ওর প্রতি অনাগ্রহ দেখাচ্ছে। বিজন্যাসের ডিল ফাইনাল করতে সময় নিচ্ছে এটিটিউড দেখিয়ে। মুহু এ নিয়ে বিরক্তই হলো কিছু। বিকালের দিকে যোগাযোগ করার জন্য কল ও করেছিল সে এই ছেলেকে। অথচ কল তোলা হয়নি। মুহুর এই পর্যায়ে আরো অপমান লাগল। সে দেখতে সুন্দরী, স্বভাবতই ছেলেটা উচিত ছিল মুহুকে অগ্রাধিকার দেওয়া।উচিত নয়, এমনটাই তো হয় সব ক্ষেত্রে। এই ক্ষেত্রে হলো না বলে মুহুর ইগোতে লাগল। একটা রেস্টুরেন্টে এতোটা সময় যাবৎ বসে আছে ও। তাও ঐ ছেলেটার জন্যই।কোম্পানির কিছু বিষয়ে কথা বলবে বলেই ডেকেছিল । অথচ ছেলেটা তাকে এতোটা সময় বসিয়ে রাখার পর কল করে এই মাত্র জানাল যে সে আসতে পারছে না৷ মুহুর এই মুহুর্তেই এ ছেলেটার প্রতি আকাশসম রাগ জম্মাল। যেখানে ও সবসময় ছেলেদের চোখে নিজের জন্য আগ্রহ দেখে অভ্যস্ত ওখানে এই ছেলের এই অনাগ্রহ, ইগ্নোর করা, তাকে অগ্রাধিকার না দেওয়া ওর বিরক্ত লাগছে। শুধুই বিরক্ত! এর জায়গায় আদ্র হলে? আদ্র হলে ও আসার আধঘন্টা আগে এসেই বসে থাকত আদ্র।
মিথি প্র্যাক্টিকাল খাতা লিখছে কথাটা ফিজার থেকে আয়মান শুনেছিল। অতঃপর আয়মানের জমে থাকা দুটো এসাইনমেন্ট ও ভাবল মিথিকে দেওয়া যেতে পারে। ভাবা অনুযায়ী কাজও করল। ফিজাে মাধ্যমে মিথিকে লিখতে দিল। অতঃপর এক সপ্তাহের মধ্যে লিখে দিলে হবে বলেছিল। মিথিরও লেখা শেষ জানিয়েছিল দুয়েকদিন আগে। আয়মানের আজ লাগবে। এদিকে ফিজাটাও ভার্সিটিতে। অবশেষে মিথিকেই নামতে হবে। আয়মানাে দিয়ে আসতে হবে। এদিকে আয়মান হিমেলকে নিয়েই প্রায় পনেরো মিনিট হলো দাঁড়িয়ে আছে। কিছুটক সময় পর হিমেল নিজেই বিরক্ত হয়ে বলল,
“কার জন্য এতোটা সময় দাঁড়িয়ে আছিস? ”
আয়মান ঘড়ি দেখল। বলল,
“ উফফ! এসাইনমেন্ট লাগবে তো। তোর নির্ঘাত কম্প্লিট? নিজে নিজে কম্প্লিট করে ফেলেছিস নিশ্চয়? ”
হিমেল ভ্রু নাচিয়ে বলল,
“ কোন দুঃখে আমি নিজের এসাইনমেন্ট নিজে করব? ”
“ তো? সাবিহা করে দিয়েছে? ”
হিমেলকে বিরক্ত দেখাল যেন এবারে। রাশভারী স্বরে বলল,
“ ও কেন করে দিবে? ’
আয়মান কপাল কুঁচকে বলল,
“ করে দেয় নাই? ”
হিমেলকে এবার সত্যি সত্যিই অনেক বিরক্ত দেখাল। গম্ভীর স্বরে বলল,
“ সব কথাতে সাবিহাকে আনা পছন্দ করছি না আয়মান। আমি ওকে তেমন চোখে দেখি না যেমনটা তুই মিন করছিস।সো এই বিষয়ে আর কথা তুলবি না। ”
আয়মান চুপ করে গেল এবারে। হিমেল কখনো কখনো তার সাথেও একেবারে গম্ভীর রূপ ধরে বসে থাকে। আয়মান সামনে তাকাতেই দেখল মিথি নেমেছে। মাথায় ঘোমটা টেনে নিচে এসে দাঁড়াতেই আয়মান বলে উঠল,
“ নেমেছে।”
হিমেল ভ্রু বাঁকিয়ে বলল,
“ কি? ”
আয়মান আঙ্গুল তুলে দেখিয়ে বলল,
“ ঐ যে। মিথি। ”
হিমেল তাকাল। সঙ্গে সঙ্গেই ভ্রু বাঁকাল। এটা মিথিই তো নাকি? হ্যাঁ মিথিই তো। একদম মিথির মতোই। তার মানে ঐদিনের ধারণাটা ভুল নয়? বিড়বিড় করে বলল,
“ তার মানে সেদিনও ওটা ওই ছিল? আমি ভুল ছিলাম না তার মানে? ”
এটুকু বিড়বিড় করে বলেই সরু চোখে মিথিকে দেখল। অন্যদিকে মিথি ততক্ষনে এগিয়ে এল৷ সাথে রিধিকেও এনেছে অবশ্য। আয়মানকে দেখেই সবার প্রথমে এসাইনমেন্ট বাড়িযে বলল,
“ আপনার এসাইনমেন্ট আয়মান ভাই।”
রিধি চোখ সরু করে তাকাল। বিড়বিড় করে মিথির কানের কাছে বলল,
“ মানুষ কত বড়লোক হলে এসাইনমেন্ট গার্লফ্রেন্ডের টাকা দিয়ে করায় বলো তো মিথি আপু? ”
রিধি কথাটা বলেছে কারণ এর টাকাটা ফিজাই দিয়েছে।যদিও আয়মান শোনে নি। আয়মান মিথির কথা থেকেই উত্তর করল,
“ধন্যবাদ। ভালো আছো দুইজনে? ”
রিধি হেসে বলল,
“ ভালো আছি দুলাব্রো। আপনি? ”
আয়মান হাসল। উত্তর করল,
“ ভালো। ফিজা কি ভার্সিটিতে? ”
“ হ্যাঁ, আপু তো সকালে গেল। ”
“ আচ্ছা। ”
মিথি বোধহয় হিমেলকে খেয়ালই করল না আয়মানের পেছনে। একইভাবে আবার চলেও গেল। হিমেল তখনও ভ্রু কুঁচকে রেখেছে।তাকিয়ে আছে মিথির যাওয়ার দিকে। আয়মান তা দেখে বলল,
“ কি দেখছিস? ”
হিমেল একইভাবেই তাকিয়ে থেকে বলল,
“ ও কে হয় তোর? ”
আয়মান ও সম্বোধন শুনে ভ্রু বাঁকাল। তার বন্ধু সাধারণত কোন মেয়ের দিকে এভাবে তাকিয়ে থাকে না। তার উপর ও সম্বোধন তো জীবনেও না। কিন্তু এই ক্ষেত্রে এ দুটোই হয়েছে দেখে সন্দেহ জাগে। ব্যাঙ্গাত্মক স্বরে বলল,
“ ওওও? বাহ! কিন্তু আনফরসুনেটলি ও বিবাহিত দোস্ত। ”
হিমেল দাঁতে দাঁত চাপে। আয়মানের দিকে চেয়ে রাগে চোয়াল শক্ত করে বলল,
বিষাদ ও বসন্ত পর্ব ১৫
“ ওকে আমি চিনি ইডিয়েট। ”
“ কিভাবে? ”
“ তোকে বলতে ইচ্ছে করছে না। তুই বল ও এখানে কেন? তোর সাথেই বা পরিচয় কিভাবে? ”
বেচারা আয়মান ফোঁস করে শ্বাস ছাড়ল। অতঃপর রিক্সায় উঠে যেতে যেতে বন্ধুকে শুধাল কিভাবে মিথিকে চেনে। মিথিই বা কেন এখানে, কি সমস্যার কারণে। মোটামুটি ফিজার থেকে যতোটা শুনেছে সবটাই উগড়ে দিল বন্ধুকে। হিমেল সবটা শুনে শুধু দাঁতে দাঁত চাপল। রাগে চোয়াল শক্ত করে বিড়বিড় করে দুটো গা’লি উচ্চারণ করল সর্বপ্রথম।
