Home মির্জা সায়ান মুগ্ধ মির্জা সায়ান মুগ্ধ পর্ব ২৩

মির্জা সায়ান মুগ্ধ পর্ব ২৩

মির্জা সায়ান মুগ্ধ পর্ব ২৩
jannatul firdaus mithila

আকাশ ভেঙে তখনো নামছে তুষারের স্রোত! ভূবালয়ে বিদঘুটে অন্ধকারের রাত নামলেও ‘ দ্যা মনস্টার প্যারাডাইস ’ এ বুঝি সে অন্ধকারের ছিটেফোঁটা অব্ধি নাগাল পায়নি। সম্পূর্ণ প্যালেস সেজেছে ঝকমকে সোনালী-সাদা মিশেলের অপূর্ব আলোয়। প্যালেসের চারপাশটা কেমন ঢেকে গিয়েছে বরফের আস্তরণে। অদূরের চেরি ব্লসম গার্ডেনটা বুঝি আজ ভিন্ন সাজে সজ্জিত! বরাবরের ন্যায় গোলাপি আভায় ছেয়ে থাকা জমিন আজ ছেয়ে গেছে বরফে।
ফায়ারপ্লেসে দাউদাউ করে জ্বলছে আগুন! কক্ষের নিম্ন তাপমাত্রা এখন বেশ স্বস্তিদায়ক ঠেকছে। ফায়ারপ্লেসের একদম সামনে, হালকা পাশ করে বিছিয়ে রাখা একখানা আর্মচেয়ার। সম্মুখে ছোট ফুটস্টুল, তার ঠিক বিপরীতে মখমলের মোটা কার্পেট বিছানো। কার্পেটের দু’ধারে দুটো নরম তুলতুলে গোলাকার কুশন এবং পাফ।

কার্পেটের একদম মাঝামাঝিতে দু’পা একপাশে ভাঁজ করে বসে আছে মিলা। কোলে একখানা নরম পাফ! মাঝেমধ্যে লম্বা পোকার দিয়ে ঠেলেঠুলে দিচ্ছে ফায়ারপ্লেসের আগুন। যুবতীর কন্ঠে দিয়ে গুনগুনিয়ে শব্দ বেরুচ্ছে। টকটকে গোলাপি রঙা অধরোষ্ঠ মৃদু নড়েচড়ে গান গাইছে। আগুনের লেলিহান শিখায় স্পষ্ট মিলা নামক বিদেশিনীর মায়াবী মুখ। সোনালী রঙা কার্লি চুল, মুখটা তার বেশ গোলাকার। হাসলে বুঝি চোখও হাসে বিদেশিনীর। বয়স আর কত হবে? এই বড়জোর ২০ কি ২১! তবুও যুবতীকে বড্ড কমবয়সী লাগে দেখতে। ছিমছাম গায়ের গড়নের মিলা আজ বড্ড উচ্ছ্বসিত। গুনগুনিয়ে গান গাইছে আর হাতে আঙুলে মোটা উল সুতো পেঁচিয়ে ক্রোশেট করে যাচ্ছে। মেয়েটা আবার বড্ড গুণবতী কি-না! মাঝেমধ্যেই সময় পেলে পছন্দের ক্রোশেটিং এ বসে পড়ে। আজ-ও হলো তাই! অদূরের মেকআপ ভেনিটির সামনে গম্ভীর মুখে দাঁড়িয়ে আছে মাহি। আঁচড়াচ্ছে চুল! প্রতিবার চিরুনির ফাঁকে ফাঁকে বেশকিছু চুল উঠে আসছে তার। স্বাভাবিক! ঐ রাক্ষসটা যেভাবে কথায় কথায় চুলগুলো টেনে ধরে তার! চুলতো ছিঁড়বেই। মাহি’র মুখটা কেমন উদাস হয়ে যাচ্ছে ছিঁড়ে আসা চুলগুলো দেখে। এমনিতে চুলের প্রতি খুব একটা যত্ন না থাকলেও চুলগুলোকে বড্ড ভালোবাসে মাহি। সে-ই ভালোবাসা থেকেই হয়তো এতটা মন খারাপ হচ্ছে তার। মাহি’র আর সাধ্যিতে কুলোয়নি চুলগুলোতে চিরুনি চালাতে। মেয়েটা কেমন ভগ্নহৃদয়ে তক্ষুনি চিরুনিটা ছুঁড়ে মা’রলো মেঝেতে। মুহুর্তেই ধ্যান ভাঙল মিলার। ব্যস্ত হাতদুটো থামিয়ে যুবতী তৎক্ষনাৎ উদ্বিগ্ন চোখে তাকায় মাহি’র পানে। কন্ঠে একরাশ উদ্বিগ্ন ভাবসাব ঢেলে শুধালো,

“ কি হয়েছে মুনলাইট? ইজ সামথিং রং?”
মাহি তৎক্ষনাৎ জবাব দেয়নি। মুখটাতে আমাবস্যার অন্ধকার ফুটিয়ে পা বাড়াল ফায়ার সাইডের দিকে। মিলা এখনো একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে মাহি’র মুখপানে। অপেক্ষায়ীত দৃষ্টি তার, বোঝাচ্ছে — সে এখনো উত্তরের অপেক্ষায়। মাহি আগপাছ দেখল না তেমন। গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে এসে চুপচাপ বসে পড়ল কার্পেটের এককোণে, তাও আবার মিলার কাছ থেকে বেশ খানিকটা দুরত্ব বজায় রেখে। মিলা দেখল সব! বুঝল মাহি’র ছোট্ট হৃদয়ের অবিশ্বাসের আভাস। এতে অবশ্য মন খারাপ করেনি মিলা। উল্টো ক্ষুদ্র এক নিশ্বাস ফেলে খানিকটা দুরত্ব ঘুচিয়ে নিজেই এগিয়ে এলো মাহি’র দিকে। কিছুক্ষণ দোনোমোনো করে আলগোছে হাত ছোঁয়াল মাহি’র কাঁধে, রয়েসয়ে আওড়াল,
“ আর ইউ ওকে মুনলাইট? হঠাৎ মন খারাপ করলে কেনো?”
মাহি মুখ নামিয়ে রেখেছে বেশ! চিবুক ঠেকিয়েছে কন্ঠায়। নিজের মনখারাপ গুলোকে বেশ কায়দা করে লুকিয়ে চুরিয়ে জানালো,

“ কিছু না মিলা!”
মিলা স্পষ্ট বুঝল সপ্তদশীর নাজুক মিথ্যে। মেয়েটা যে এখনো বড্ড কাঁচা অভিনয়ে। মিলা মুচকি হাসলো। নজর ঘুরিয়ে চাইলো মাহি’র উষ্কখুষ্ক চুলের পানে। ভ্রু-দ্বয় সামান্য গুটিয়ে হাত সরিয়ে আলগোছে মেয়েটার চুলগুলো স্পর্শ করে দেখল — চুলগুলো কেমন খসখসে হয়ে আছে! মিলা তৎক্ষনাৎ কোলের ওপর থেকে ক্রোশেট আইটেমগুলো সরিয়ে রাখল পাশে। অতঃপর বসা ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে হাঁটা ধরল ভ্যানিটির দিকে। বড়সড় ভ্যানিটির বেশ কয়েকটা তাক হাতড়ে অবশেষে যুবতী পেয়ে গেল কাঙ্ক্ষিত বস্তু। তা পাওয়া মাত্রই বিজয়ী হাসল মিলা। ভ্যানিটির ওপর থেকে আরেকটা কাঠের কম্ব নিয়ে ফের চলে এলো মাহি’র নিকট। মাহি এখনো আগের ন্যায় বসে আছে। মুখটা ঘুরিয়ে রেখেছে ফায়ারপ্লেসের দিকে। গায়ের ওপর একখানা পাতলা শাল! মিলা টুপ করে এসে বসল মাহি’র ঠিক পেছনে। গদগদ ভাব নিয়ে একহাতের তালুতে বেশকিছুটা আমন্ড ওয়েল ঢেলে কপট অভিমানী সুরে আওড়াল,
“ হেই মুনলাইট! এতো সুন্দর চুলগুলোর যত্ন নিচ্ছো না কেনো শুনি? দেখো তো! ওরা তোমার যত্নের অভাবে কেমন মুষড়ে যাচ্ছে!”
কথাটা শুনতেই মাহির বুক চিঁড়ে বেরিয়ে এলো দীর্ঘ নিশ্বাস। মেয়েটা কেমন নিষ্প্রাণ কন্ঠে আনমনে বলল,
“ যত্ন করেই বা কি হবে? সে-ই তো ঐ রাক্ষসের হাতের মুঠোয় পিষে ম’রতে হবে। এরচেয়ে বরং ওরা এভাবেই থাক!”

একমুহূর্তের জন্য থমকায় মিলা। হাতদুটো সামান্য কাঁপল কি-না কে জানে! মাহি’র অল্প কথায় হুট করেই বুকের মাঝে কাঁপন ধরল মিলার। নিজেকে সামলালো বেশ কষ্টে। তড়িঘড়ি করে মুখাবয়বে পরিবর্তন এনে ঠোঁটের কোণে ফোঁটাল কৃত্রিম হাসির রেশ। হাতের তালুতে নিয়ে রাখা তেল টুকু নিজ উদ্যোগে ঢেলে দিলো মাহির মাথার তালুতে। মাহি তক্ষুনি বিরক্ত মুখে সরে যেতে চাইলেই বাঁধ সাধলো মিলা। একহাতে শক্ত করে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরল মাহি’কে। কন্ঠে একরাশ অনুনয় জুড়ে আওড়াল,
“ প্লিজ উঠে যেও না মুনলাইট! লেট মি ফিক্স ইট।”

মাহি’র ছোট্ট হৃদয়টা আদৌও গললো কি-না কে জানে। মেয়েটা আর নড়চড় করল না তেমন। চুপচাপ বসে রইল মূর্তির ন্যায়। মিলা সুযোগ পেল যেন। গদগদ হয়ে আলতো করে তেল মালিশ করতে লাগল মাহির সিল্কি চুলগুলোয়। সপ্তদশীর কুচকুচে কালো রঙা চুলগুলো মিলার বড্ড পছন্দের। তার আবার মেঘরাশির মতো ঘনকালো চুল পছন্দ! যদিওবা নিজের নেই বলে একটুখানি আক্ষেপ ছিল এতদিন, তবে সে-ই আক্ষেপ টুকু এক’দিনে ঘুচে গেছে মাহি’র জন্য। মিলা নরম হাতে মাহি’র মাথায় তেল মালিশ করছে। ওদিকে স্বস্তিতে আবেশে চোখ বুঁজেছে মাহি। চোখের পাতায় তার ভেসে উঠেছে মায়ের স্মৃতি। তার মা-ও তো তাকে এভাবেই ধরে বেঁধে চুলে তেল দিয়ে দিতো। মাহি যে’বার খুব করে নাক সিটকাতো এহেন তেল দেওয়াতে, মাইমুনা বেগম তখন হাসতে হাসতে বলতেন — এখন সেধে দিচ্ছি বলে গায়ে লাগছেনা তা-ই না? পরে যখন মা থাকব না, তখন দেখব কে এমন সাধাসাধি করে তেল দিয়ে দেয়। মায়ের তখনকার কথাগুলো শুনলে গাল বাঁকাত মাহি আর আজ? আজ যে ব্যাপারটা বড্ড ভিন্ন! মাহি’র হুট করেই বড্ড মনে পরছে মা’কে। সপ্তদশীর গাল বেয়ে নিরবে ঝরছে অশ্রু। মিলা টের পায়নি এহেন বোবা কান্নার শব্দ। সে-তো নিজ মনে কথা বলছে আর তেল দিয়ে দিচ্ছে মাহি’কে। তার আঙুলগুলো রীতিমতো খেলছে মাহির ঘনকালো, সিল্কি চুলে। চুলগুলো ইদানীং দৈর্ঘ্যে খানিকটা বেড়েছে বোধহয়। আগে যাদের উচ্চতা ছিল পিঠের নিচ অব্ধি, এখন তা প্রায় কোমরের নিচ ছুঁইছুঁই। মিলা একপর্যায়ে হাসতে হাসতেই বলে ওঠে,

“ বুঝলে মুনলাইট? তোমার চুলগুলোর গ্রোথ কিন্তু বড্ড ভালো! আমি এখন থেকে রোজ যত্ন নিবো তোমার চুলের। দেখবে অল্প ক’দিনেই কি সুন্দর করে কোমর ছেড়ে যাবে!”
মাহি শুনল কথাটা। ভেজা চোখেই হাসল একটুখানি। মাথাটা আলতো কাত করে বোঝালো — ঠিক আছে। মিলা ততক্ষণে চুল বেঁধে দিয়েছে মাহি’র। সুন্দর করে বিনুনি গেঁথে চুলের আগায় স্ক্রাঞ্চি পেঁচানো শেষ হতেই শরীর বাঁকিয়ে পিছু ফিরল মাহি। ঠোঁটে ঠোঁট চেপে দোনোমোনো করছে কেন যেন। মিলা বোধহয় আচঁ পেল মাহি’র ইতস্ততা। পরক্ষণে নিজ উদ্যোগে মাহি’র কাঁধে হাত রেখে কন্ঠ খাদে নামিয়ে জিজ্ঞেস করল,
“ কিছু বলবে?”
ত্বরিত মাথা ঝাঁকায় মাহি। ইতস্ততার সুরে বলে ওঠে,
“ আমার না…আসলে..রাতের স্নোফলে হাঁটতে ইচ্ছে করছে। এর আগে কখনো স্নোফল দেখা হয়নি তো তাই…!”
এহেন কথায় ফিক করে হেসে ওঠে মিলা। মাহির বাহুতে আলতো করে চাপড় বসিয়ে বলে,
“ ধূর বোকা! এটুকু বলার জন্য কেউ এতো হেজিটেট করে? তুমি স্নোফলে হাঁটবে তো? ওকে ফাইন! চলো। আজ আমি তোমায় নিয়ে হাঁটব।”

কথাটা শুনতেই অলক্ষ্যে রহস্যময় হাসল মাহি। পরক্ষণেই তার হাসিটা কেমন উবে গেল মুখ থেকে। মিলা উঠে দাঁড়িয়েছে। হাত বাড়িয়ে কার্পেটের ওপর পড়ে থাকা শালটা তুলে এনে গায়ে জড়িয়েছে কোনরকম। ততক্ষণে মাহিও দাঁড়িয়েছে বসা ছেড়ে। গায়ের শালটা আরেকটু টেনেটুনে ঠিকঠাক করে নিয়ে পা বাড়িয়েছে বিছানার দিকে। মিলা ভ্রু কুঁচকায় এবার। সন্দিহান গলায় পেছন থেকে জিজ্ঞেস করে ওঠে,
“ মুনলাইট? ওদিকে যাচ্ছো যে! হাঁটতে যাবে না?”
“ হ্যাঁ এক মিনিট!”
বলতে বলতেই সপ্তদশী ছুটে এসেছে বেড সাইড টেবিলের ধারে। হাত বাড়িয়ে ড্রয়ার খুলে কিছুক্ষণ হাতড়ে অবশেষে বের করে আনে একখানা ছোট টর্চ লাইট। হাতের মুঠোয় তা চেপে ধরে সপ্তদশী ফের ছুটে আসে মিলার নিকট। মিলার মুখপানে না তাকিয়েই বলে ওঠে,

“ চলো! যাই।”
মিলা গম্ভীর মুখে দাঁড়িয়ে আছে কেমন! তার কুঁচকান দৃষ্টি মাহি’র হাতে থাকা টর্চ লাইটের পানে। সন্দিহান গলায় সে শুধালো,
“ টর্চ লাইট কেনো? প্যালেসের বাইরে তো আলোর অভাব নেই মুনলাইট।”
মাহি ঢোক গিললো সামান্য। চোরের মতো মুখখানা তার লুকোলো অন্যত্র। এদিক ওদিক ঘাড় বাকিয়ে এলোমেলো দৃষ্টি ফেলল বেশ। মিলার বিচক্ষণী নজর এড়ায়নি কোনোকিছু। সে বেশ পরোখ করল মাহি’কে। তৎক্ষনাৎ সন্দেহ বশত খপ করে চেপে ধরল মাহি’র ডানহাতের কব্জি। সেথায় হালকা টান বসাতেই ঘুরে তাকায় মাহি। মিলা কেমন সন্দিগ্ধ গলায় শুধায়,

“ পালাতে চাচ্ছো মুনলাইট?”
মাহি’র হয়তো ভয় পাবার কথা ছিল তবে মেয়েটা কেমন শান্ত হাসল দেখো! বাহাতটা ঘুরিয়ে এনে রাখল মিলার হাতের ওপর। ঠান্ডাস্বরে আওড়াল,
“ উঁহুম! মা’রতে চাচ্ছি। নিজের ভয়কে, দূর্বলতাকে!”
মিলা রহস্যময় হাসল। মাহি’কে পাশ কাটিয়ে সম্মুখে এগোতে এগোতে শান্ত কন্ঠে আওড়াল,
“ তা-ই ভালো মুনলাইট। কেননা এখান থেকে পালানোর মতো দুঃসাহস না কখনো কারোর ছিল, আর না কখনো হবে! ভুলক্রমে কেউ পালিয়ে গেলেও, তার গর্দানটা ঠিকই পরের দিন সাইকির পেটে গিয়েছে।”
হুমকি! এ যেন নিরব হুমকি। তবে এ হুমকিতে আজ বিন্দুমাত্র টলেনি মাহি। সে নিজের সিদ্ধান্তে অটল! যেভাবেই হোক — আজ এখান থেকে সে বেরুবেই। এতে সে ম’রলে মরবে।

প্যালেসের সদর দরজা দিয়ে বেরিয়েছে দু’জন। বাইরের আবহাওয়া গা হিম ধরিয়ে দিচ্ছে যেন। মিলা রীতিমতো কাঁপছে কেমন! বারবার দু’হাত ঘষে যাচ্ছে একে-অপরের সাথে। তার পিছুপিছু হাঁটছে মাহি। ভ্রু গুটিয়ে এদিক ওদিক তাকাচ্ছে বারংবার। রাত প্রায় দশটা ছুঁই ছুঁই। এতক্ষণে তো ট্রাক চলে আসার কথা! তবে আশেপাশে কোথাও ট্রাকের উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে না যে? মাহি কিয়তক্ষন চুপ থেকে এগিয়ে এলো মিলার পানে। শুকনো ফাঁকা ঢোক গিলে আওড়াল

“ মিলা!”
“ হু মুনলাইট!”
মিলার ছোট উত্তরে একমুহূর্ত মৌন রইল মাহি। পরক্ষণে কথায় কথায় জিজ্ঞেস করল,
“ প্যালেসে মাসকাবারি বাজার কী চলে এসেছে?”
মিলা তেমন একটা গুরত্ব দিলো না এহেন বাক্যে। গুটি গুটি পায়ে এগোতে এগোতে বলে ওঠে,
“ হুম এসেছে তো! বরং এখনো আসছে।”
সন্দিষ্ট মাহি! সন্দিহান গলায় ফের প্রশ্ন ছুড়ঁল,
“ আসছে? কিন্তু কোত্থেকে?”
“ কোত্থেকে আবার? তখন বললাম না, ট্রাক দিয়ে বাজার আসবে।”
“ কিন্তু এখানে তো ট্রাক নেই!”
থামল মিলা। রয়েসয়ে ঘাড় বাকিয়ে তাকায় মাহির পানে। কপালে গোটাকতক ভাঁজ টেনে সন্দিহান গলায় জিজ্ঞেস করে ওঠে,
“ কি ব্যাপার মুনলাইট? হঠাৎ ট্রাকের কথা এতো জিজ্ঞেস করছ যে?”

মাহি ভড়কায়। আমতা আমতা করে নিজের ঘাড়ে হাত বোলায় বারকয়েক। এরইমধ্যে ফট করে হেসে ওঠে মিলা। হাসতে হাসতে এগিয়ে এসে চট করে বাহু টেনে ধরে মাহির। দুষ্ট কন্ঠে বলে ওঠে,
“ রাগ করলে মুনলাইট? সরি, আই ওয়াজ জাস্ট জোকিং! একচুয়েলি প্যালেসের ত্রিসীমানায় ট্রাক আসা নিষেধ। ঐ যে প্যালেসের বা- দিকটা দেখছ না?”
বলতে বলতেই আঙুল উঁচায় মিলা। তাক করে প্যালেসেট ঠিক বা-দিকে। মাহিও তৎক্ষনাৎ সেদিকে দৃষ্টি ফেলল। মিলা আবারও বলতে লাগল,
“ ঐ দিকটায় ঘন-জঙ্গল। মূলত জঙ্গলের ঐ রাস্তা দিয়েই বাজার-সদাই যা আসার চলে আসে প্যালেসে। জঙ্গলের শেষ প্রান্তে দূর্গম রাস্তা। সেদিকে দাঁড় করিয়ে রাখা হয় ট্রাকগুলো আর প্যালেসের গার্ডস গিয়ে একে একে নিয়ে আসে সবকিছু।”
বলেই ফের হাঁটা ধরে মিলা। মাহি পাশাপাশি পা বাড়িয়ে সন্দিগ্ধ গলায় আওড়ায়,

“ প্যালেসের এতো কাছে বেরুনোর রাস্তা থাকা স্বত্বেও তোমরা কেউ পালাওনি কেন এখান থেকে?”
হুট করেই হো হো করে হেসে ওঠে মিলা। পাদু’টো থামিয়ে পেট ধরেছে যুবতী। ভাব এমন — সে বুঝি কতবড় একখানা জোক্স শুনে ফেলেছে। এদিকে মাহি কেমন ভ্রু গুটিয়ে তাকিয়ে আছে তার পানে। মিলার ওমন বাঁধ ভাঙা হাসির কারণ কী সপ্তদশী আদৌও বুঝল? মিলা তখনো হাসছে। মাহির অবোধ মুখপানে তাকিয়ে কোনমতে নিজের উপচে পড়া হাসি গুলোকে থামিয়ে বলে ওঠে,
“ সরি সরি! আসলে তুমি যা বললে, তাতে না হেসে থাকতে পারলাম না। শোনো মুনলাইট, এই জঙ্গলটা বাইরে থেকে দেখতে যতটা শান্ত, ভেতর থেকে ঠিক ততটাই ভয়ানক। এটা কোন সাধারণ জঙ্গল নয়, এটা এক কথায় একটা ভুল-ভুলাইয়া। এর থেকে বেরুনোর রাস্তা গোটাকয়েক জনের জানা আছে মাত্র। বাদবাকি অনেকেই তোমার মতো ধারণা নিয়ে পালাতে চেষ্টা করেছিল বাট জঙ্গলে পথ হারিয়ে বেচারা গুলো হিংস্র পশুদের খাবার হয়েছে। দ্যাটস হোয়ায়, এতো কাছে বেরুনোর রাস্তা থাকা স্বত্বেও প্রাণের মায়ায় কেউ আর রিস্ক নিতে চায়নি। ডু ইউ গেট দ্যাট মুনলাইট?”

থমথমে মুখাবয়বে দাঁড়িয়ে আছে মাহি। প্রতিত্তোরে প্রতিক্রিয়া জানানোর কথা বেমালুম ভুলে গিয়েছে সপ্তদশী। মিলা সামান্য হেসে পা বাড়ায় সামনে। কয়েক কদম হাটতেই পেছন থেকে হুট করে ভেসে আসে মাহি’র আর্তনাদ। মিলা থমকায়। ত্বরিত ঘাড় বাকিয়ে পেছনে তাকায়। দেখে — মাহি কেমন পেট চেপে ধরে আর্তনাদ করছে। মিলা বিনাবাক্য ব্যয়ে ছুটে এলো মাহি’র নিকট। বাঁকা হয়ে আর্তনাদ করতে থাকা মাহির পিঠে হাত বুলিয়ে বিচলিত কন্ঠে বলল,
“ কি হয়েছে? কি হয়েছে মুনলাইট? কোথায় কষ্ট হচ্ছে তোমার? আমায় বলো প্লিজ।”
মাহি চোখমুখ কুঁচকে রেখেছে ব্যথায়। রয়েসয়ে বলে,
“ জানিনা মিলা! হঠাৎ করেই পেটটা কেমন মোচড়াচ্ছে! আমি দাঁড়াতে পারছিনা মিলা। আমার কষ্ট হচ্ছে খুউব। আমায় একটু পানি দাও প্লিজ!”
মিলার বিচক্ষণ মস্তিষ্ক এখন অচল হয়েছে মেয়েটার কান্না দেখে। সে তৎক্ষনাৎ মাহি’র পিঠে হাত বুলিয়ে আশ্বাস দিয়ে বলে ওঠে,

“ একটু ধৈর্য্য ধরো মুনলাইট। আমি এই যাব আর আসব।”
ব’লেই ছুট লাগায় মিলা। উদ্ভ্রান্তের ন্যায় দৌড়াতে দৌড়াতে চলে যায় প্যালেসের দিকে। এদিকে মিলা চক্ষু আড়াল হতেই হুট করে কান্না থামায় মাহি। তক্ষুনি দাঁড়ায় শীরঁদাড়া সোজা করে। তার হুটহাট পরিবর্তনে স্পষ্ট হলো — সে এতক্ষণ নাটক করেছে। মিলা যখন পুরোপুরি নজরের আড়াল হলো ঠিক তখনি মাহি ছুট লাগালো ভিন্ন পথে। মাথার ওপর শালটা ভালোমতো মুড়িয়ে নিয়ে সপ্তদশী এগোয় প্যালেসের বা-দিকে। এদিকটা আজও বরাবরের মতো অন্ধকারে নিমজ্জিত। জঙ্গলের পশুরা সামান্য আলো পেলেও এদিকটায় চলে আসে বিধায় হয়তো এহেন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে। মাহি সুযোগটুকুকে বেশ কাজে লাগিয়েছে। অপরাধী আসামির ন্যায় গা গুটিয়ে হেঁটে যাচ্ছে জঙ্গলের দিকে। তবে বিপত্তি ঘটলো অচিরেই। বিদঘুটে অন্ধকারে নিমজ্জিত জঙ্গলটার সম্মুখে এসে দাঁড়াতেই গাকাঁটা দিয়ে ওঠে মাহি’র। অদূর থেকে নেকড়েবাঘেদের চিৎকার ধ্বনি স্পষ্ট বাজছে কানে। ভয়ার্ত ঢোক গিললো মাহি। রয়েসয়ে ঘাড় বাকাঁচ্ছে এদিক ওদিক। হাতের টর্চ লাইটের সুইচটা আলগোছে চাপতে যাবে ওমনি একজোড়া শক্তপোক্ত হাত এসে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলল তাকে। মাহি ভড়কায়! চিৎকার করতে যাবে ঠিক তখনি তার মুখ চেপে ধরে অজ্ঞাত বলিষ্ঠ ব্যাক্তি। অন্যহাতে চেপে রেখেছে মাহি’র টর্চ লাইট ধরে রাখা হাতটা। মাহি ছটফট করছে। একহাতে মুখের ওপর থেকে অজ্ঞাত বলিষ্ঠদেহী মানুষটার হাতখানা সরানোর বৃথা চেষ্টা চালানো সপ্তদশী গুঙিয়ে যাচ্ছে কেমন! অগত্যা মাহি’র কানের কাছে মুখ নামিয়ে আনে অজ্ঞাত আগন্তুক। ফিসফিসিয়ে ভারিক্কি কন্ঠে আওড়ায়,
“ হুঁশশশ! ডোন্ট শাউট। আই ক্যান হেল্প ইউ গেট আউট অফ হেয়ার!”

অজ্ঞাত যুবককে তৎক্ষনাৎ বিশ্বাস করেনি মাহি। মেয়েটা কেমন দু’দিকে মাথা নাড়িয়ে গুঙিয়ে যাচ্ছে। অজ্ঞাত যুবক আরও কিছু বলতেই যাবে ওমনি টের পেল — অদূর থেকে হেঁটে আসছে কেউ। যুবক তক্ষুনি মাহি’কে নিয়ে লুকোলো বড় একখানা পাইন গাছের আড়ালে। মাহি মোচড়াতে থাকায় যুবক আলগোছে মাহির কানের কাছে মুখ নামিয়ে ফিসফিসিয়ে বলল,
“ হুঁশশ! গার্ডস আসছে।”
থমকায় মাহি! যুবক বাংলা বললো? সে-কি আদৌও ঠিক শুনেছে? মাহি’র চমকানোর মাত্রা ক্রমশঃ দীর্ঘ হলো। কিয়তক্ষন বাদে সে নিজেও শুনতে পেল — খুব কাছ থেকে কেউ হেঁটে যাচ্ছে। টুকটাক কথা বলছে নিজেদের ভাষায়। মাহি তৎক্ষনাৎ শান্ত হলো। গার্ড দু’জন পাইন গাছের পাশ কাটিয়ে চলে যেতেই যুবক আলগোছে মাহি’কে নিয়ে বেরিয়ে আসে। প্যালেসের গা থেকে ছুটে আসা এক চিলতে নিয়ন আলোর ছটায় চক্ষুগোচর হয় মুখোশধারী যুবকের অবয়ব। গায়ে কালো রঙা হুডি তার! মাথায় হুড ফেলে রাখা, মুখ ঢাকা ভুতুড়ে মাস্কে। মাহি একমুহূর্তের জন্য হকচকায়। ভয়ে পিছিয়ে যায় একদম। এদিকে মুখোশধারী যুবক এদিক-ওদিক সর্তক দৃষ্টি আওড়ে মাহি’র উদ্দেশ্যে বলে ওঠে,

“ চুপচাপ আমার হাত ধরে দৌড়াবে! খবরদার মাঝপথে দাঁড়াবে না। গট ইট?”
মাহি শুনল শুধু! লোকটার কন্ঠটা বড্ড পরিচিত ঠেকছে তার কাছে। তবে দূর্বল মস্তিষ্ক হুটহাট নাম বলতে পারছেনা কেন যেন। মুখোশধারী ঘাড় বাকিয়ে তক্ষুনি এগিয়ে আসে মাহি’র নিকট। অতঃপর হাত বাড়িয়ে আলগোছে মাহি’র ডানহাতের কব্জি চেপে ধরে দৃঢ় কন্ঠে বলে ওঠে,
“ এখান থেকে বেরুনোর পথ আমি জানি। দৌড়ে গেলে সর্বোচ্চ ৩৫ মিনিট লাগবে। তুমি না থেমে দৌড়াতে পারবে তো?”
হুটহাট অপরিচিত মুখোশধারীকে বিশ্বাস করার মতো ভুলটা মাহির বিচক্ষণ মস্তিষ্ক করতে নারাজ, তবে তার মন বলছে অন্য কথা। বাধ্য করছে — ঐ রাক্ষসের হাতের নাগাল থেকে চলে যেতে। মাহি আর আগপাছ বিবেচনা না করে তক্ষুনি মাথা নাড়ায়। তার এহেন নিরব সম্মতি পেয়ে যুবক নিজ হাতের মুঠোয় থাকা মাহির নরম কব্জিসন্ধি শক্ত করে চেপে ধরে ছুট লাগালো ডানদিকের পথ ধরে। মাহি প্রানপণে ছুটছে আজ। কিছুক্ষণের জন্য বেমালুম ভুলে গেল — কার সাথে যাচ্ছে সে? সে আদৌও তাকে ঠিক পথে নিয়ে যাচ্ছে তো? মাহি’র চোখেমুখে কেবল নিস্তার পাওয়ার আকাঙ্খা! মানুষরূপী রাক্ষসটার হাত থেকে রেহাই পাবার তীব্র ইচ্ছা।

প্রায় মিনিট দশেক হতে চললো মাহি দৌড়াচ্ছে। পাদু’টো খানিক টলমল হতেই তার মস্তিষ্কে কড়া নাড়ল অন্যকিছু। বলছে — কার সাথে ছুটছে আমি? কে এই মুখোশধারী? আর সে কিভাবে জানলো আমি পালাতে চাচ্ছি? তক্ষুনি শুকনো ঢোক গিলল মাহি। অজানা আতঙ্কে শিউরে ওঠে তনমন। বেচারি অন্ধকারে অন্যমনস্ক হয়ে দৌড়াতে থাকায় হঠাৎ তার পায়ের তালুতে বিঁধল কিছু! মাহি তৎক্ষনাৎ থেমে গেল মাঝপথে। পায়ের যন্ত্রনায় ঠায় দাঁড়িয়ে পরতেই পাশ থেকে যুবক কেমন সর্তক কন্ঠে বলে ওঠে,
“ থামলে কেনো? এখানে থামা যাবে না।”
মাহি দাঁত খিঁচল এতক্ষণে। তক্ষুনি এক ঝটকায় যুবকের হাত থেকে নিজ হাতখানা ছাড়িয়ে নিয়ে ঝাঁঝাল কন্ঠে বলে,
“ ছাড়ুন আমায়! আমি আর যাব না।”

যুবক হতভম্ব হলো কি-না কে জানে! ওদিকে মাহি কেমন ব্যথাতুর ছাপ ফুটিয়েছে মুখে। আকাশে গুড়গুড় শব্দ হচ্ছে! বজ্রপাত নাহলেও বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে ক্ষনে ক্ষনে। সে আলোর ঝলকানিতে মাহির মুখাবয়ব স্পষ্ট চক্ষু গোচর হচ্ছে যুবকের। পায়ের তালুতে কাটাঁ ফোঁটায়, তক্ষুনি হাঁটু মুড়ে ঘাসের উপর বসে পড়ে মাহি। চোখেমুখে স্পষ্ট ব্যথাতুর ছাপ ফুটিয়ে কাঁপা কাঁপা আঙুল বাড়ায় পায়ের কাছে। ঠোঁটের কোণ কামড়ে ধরে পা থেকে কাটাঁ সরাতে উদ্যোত হতেই একজোড়া শক্তপোক্ত হাত এসে আলগোছে চেপে ধরে সপ্তদশীর কোমল পদ। মাহি ভড়কায়! হতচকিত নেত্রে মুখোশধারীর পানে তাকাতেই হঠাৎ টের পেলো — পা থেকে কাটাঁ সরাচ্ছে সম্মুখের ব্যক্তি! মাহি তৎক্ষনাৎ ব্যথায় মুখ কুঁচকে নেয়। ঠোঁটের ফাঁক গলিয়ে অস্ফুটে আওড়ায় — উঁহ!

পায়ে জুতো থাকা স্বত্বেও পায়ের তলায় কাটাঁটা বুঝি বড্ড জেঁকে বসেছে সপ্তদশীর। মেয়েটা বড্ড কষ্ট পাচ্ছে বুঝি! মুখোশধারী রয়েসয়ে একটানে খুলে ফেলল কাটাঁটা। এহেন তীব্র যন্ত্রণায় একমুহূর্তের জন্য মাহি’র আত্মাটা বুঝি প্রায় বেরিয়ে আসার যোগাড় হয়েছে। মেয়েটা পা ধরেই ছটফটিয়ে উঠল কেমন! সম্মুখের মুখোশধারী তড়িঘড়ি করে আশপাশ থেকে বেশকিছুটা দূর্বাঘাস ছিঁড়ে নেয়। অতঃপর একহাতের তালুতে ঘাসগুলোকে ভালোমতো মাড়িয়ে, তা চেপে ধরে মাহি’র পায়ের তালুতে। এহেন উদ্যোগে বড্ড আরাম পাচ্ছে সপ্তদশী। তার মুখাবয়ব থেকে ক্রমশ সরে যাচ্ছে ব্যাথার ছাপ। সময় পেরুলো মিনিট দুয়েক। মুখোশধারী এগিয়ে এসে মাহি’কে পাঁজা কোলে তুলতে গেলেই চেঁচিয়ে ওঠে মাহি। সঙ্গে সঙ্গে মুখোশধারীর বুক বরাবর দু’হাতে ঠেলে দিয়ে হড়বড়িয়ে বলল,
“ ক-কে আপনি? খবরদার ছোঁবেন না আমায়। কেন এসেছেন আপনি? আর আমাকেই বা পালাতে সাহায্য করছেন কেন?”

মুখোশধারীর মুখ অভিব্যাক্তি ধরা পড়েনি মাহি’র নিকট। মেয়েটা কেমন ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে তাকিয়ে আছে এখনো। বিদ্যুৎের ঝলকানিতে হালকা দেখা গেল অজ্ঞাত যুবকের অবয়ব। সে কেমন সময় নিয়ে একহাঁটু গেঁড়ে বসলো মাহি’র সম্মুখে। মাহি তক্ষুনি গা গুটিয়ে নেয়। ভয়ে ভয়ে নিজের পাদু’টো বুকের কাছে চেপে ধরে তাকিয়ে থাকে একদৃষ্টিতে। অজ্ঞাত যুবক ততক্ষণে বেশ ঝুঁকে বসেছে মাহির সম্মুখে। কন্ঠটা বড্ড খাদেঁ নামিয়ে ফিসফিসিয়ে আওড়ায় সে,
“ সানবার্ড! আমার সানবার্ড!”
ভ্রু গোটায় মাহি। কথাটা খুব একটা বোধগম্য না হওয়ায় আমতা আমতা সুরে ত্বরিত জিজ্ঞেস করে ওঠে,
“ কিহ? কে সানবার্ড? আর আপনিই বা কে?”

মির্জা সায়ান মুগ্ধ পর্ব ২২

একমুহূর্ত নিরব রইল মুখোশধারী। পরমুহূর্তে হুট করে তার কি হলো কে জানে! সে সঙ্গে সঙ্গে দু’হাতে নিজের মাথার হুডিটা ফেলে দিলো আলগোছে। হাত বাড়িয়ে মুখ থেকে ভুতের মুখোশখানা সরাতে লাগল সময় নিয়ে। মাহি সরু চোখে তাকিয়ে দেখছে সব। মুখোশধারী নিজের মুখখানা উম্মুক্ত করেছে তবে তা স্পষ্ট নয় মাহি’র নিকট। চারিদিকের বিদঘুটে অন্ধকারের মাঝে হঠাৎ দেখা গেল এক ছটাক বিদ্যুৎ চমকানোর আলো। সে আলোয় হঠাৎ চক্ষু গোচর হলো যুবকের মুখাবয়ব। তৎক্ষনাৎ চমকে উঠে সপ্তদশী। বিস্ময়ে চোখদুটো গোলগােল হয়ে গেছে তার। মস্তিষ্ক বোধহয় ফাঁকা ঠেকছে এখনো! হতবাক সপ্তদশীর হতবাক কন্ঠ ফুঁড়ে অস্ফুটে বেরিয়ে এলো —
“ আপনি?”

মির্জা সায়ান মুগ্ধ পর্ব ২৪

4 COMMENTS

  1. আপু পরের পর্ব দেন 😫💗 অনেক সুন্দর উপন্যাস টা

Comments are closed.