Home মিহি মিহি পর্ব ১৭+১৮

মিহি পর্ব ১৭+১৮

মিহি পর্ব ১৭+১৮
রুপন্তী সরকার

খাওয়া দাওয়া পর্ব শেষ হয়ে যাওয়ায় পর, রামপ্রসাদ বাবু মিষ্টি কে ডাকতে রিদের ঘরে আসলো
তিনি এসে রিদ কে বলেন
“শুভ জন্মদিন বাবা অনেক অনেক বড়ো হও জীবনে মানুষের মতো মানুষ হও, অনেক দূর এগিয়ে যাও”
রিদ বললো
“ধন্যবাদ আঙ্কেল , বসুন প্লিজ একটু খাওয়া দাওয়া করুন”
“না বাবা খেয়ে এসেছি , আমার মেয়ে তো সকাল থেকে তোমার ঘরেই আছে, তোমার জন্মদিন ওরা ৩ জন মিলে কি কি যেন প্ল্যান করছিলো! মিষ্টি মা চলো ,”

মিষ্টি উঠে দাঁড়ালো,
রামপ্রসাদ বাবু মিহি কে কোলে নিয়ে একটু আদর করলো এর পর মিষ্টি কে নিয়ে চলে গেলো!
মিষ্টি যাওয়ার সময় অভ্রর পানে তাকিয়ে ছিলো!
অভ্র রিদ কে বললো
” থাক তাহলে আমি যাই, সকালে আসমু নি”
অভ্র মিহি কে চুমু দিয়ে বললো
“টুইংকেল চুমু দাও চলে যাব এখন”
মিহি রিদের দিকে তাকালো, রিদ অন্য দিকে তাকিয়ে আছে দেখে মিহি অভ্র কে বললো
“পরে দিবো নি অভ পঁচা লোক বকবে”
অভ্র বললো

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

“আগে আমার টুইংকেল কত ভালা আছিলো এহন আমার কথায় শুনে না, কি দিয়া বশ করছোস”
রিদ বললো
” ভাগ শালা,”
“চুমু দাও টুইংকেল নাহলে যামু না”
মিহি টুপ করে অভ্রর হাতে চুমু দিলো! অভ্র খুশি মনে চলে গেলো!
অভ্র যাওয়ার পর রিদ কোমরে হাত দিয়ে মিহির দিকে তাকালো!
মিহি বলে উঠলো
“অভ কে তালানোর জন্য চুমু দিছি সত্যি, নাহলে ও বকবক করতেই থাকবে”
অভ্র ফোন ছেড়ে চলে গেছিলো সেটা নেওয়ার জন্য আবার আসে! কিন্তু মিহির মুখে এই কথা শুনে অভ্র বলে উঠলো

” বাহ সুদিরভাই বাহ, এহন আমার টুইংকেল ও দালালি করে কি জাদু করলি ওরে কো? ও নাকি আমাকে তাড়ানোর জন্য চুমু দিছে! আমি গলায় ফাঁস দিমু”
মিহি কপাল চাপড়ালো! রিদের পেট ফেটে হাসি আসলো, রিদ হাসতে হাসতে গোড়াগড়ি খাচ্ছে!
রিদের হাসি দেখে অভ্রর মন ভরে গেলো! রিদ কে কখনো এতো হাসতে দেখে নি এই প্রথম রিদ এতো সুন্দর মন খুলে হাসছে!
অভ্র মনে মনে বললো
“থ্যাঙ্ক ইউ টুইংকেল অনেক অনেক থ্যাঙ্ক ইউ, তোমার জন্য রিদ মন খুলে হাসছে, আমি চাই রিদ আর তুমি সব সময় হাসি খুশি থাকো”

অভ্র রিদ কে একটা উষ্টা দেই আর মিহি কে টুপ করে চুমু খেয়ে আবার চলে যায়,
মিহি গাল ঘসতে থাকে,
ধীরে ধীরে রিদের কাছে গেলো!
রিদ মিহি কে কোলে বসিয়ে নিলো
মিহি রিদ কে বললো,
” পঁচা লোক মিহি কি পঁচা মেয়ে?”
“না প্রিন্সেস তুমি এই পৃথিবীর সব থেকে লক্ষী মেয়ে!
“জানো পঁচা লোক আমার মামী বলেছে আমি নাকি অলক্ষ্মী”
রিদ মিহি কে নিজের সাথে জড়িয়ে ধরে বললো
” না প্রিন্সেস এসব বলতে নেই অলক্ষ্মী না তুমি! আমার ঘরের লক্ষী তুমি, আমার বেঁচে থাকার কারণ তুমি, আমার সুখ তুমি, আর আশা তুমি, আমার যত্ন ঘরে উঠা ফুল তুমি, আমার পুরো পৃথিবী তুমি”
মিহি রিদের কোলে চুপ করে বসে আছে আর রিদের শার্টের বোতাম হাত দিয়ে নাড়াচ্ছে”
রিদ মিহি কে বললো

” চুমু দাও”
মিহি রিদ কে টুপ করে চুমু দিলো
রিদ বললো
❝আরো দাও!❞
মিহি বললো
” আর ততো গুলো চুমু দিবো মুখ ব্যথা হয়ে গেল আমার”
রিদ মিহির গলায় চুমু দিয়ে বললো
“চুমু না দিলে পঁচা লোক কান্না করবে”
মিহি তাড়াতাড়ি করে রিদ কে অনেক গুলো চুমু দিলো”
রিদ মিহি কে বললো

” তুমি কি এমন বউ সেজেই ঘুমাবে? শাড়ি খুলতে হবে না? চলো শাড়ি খুলে নরম জামা পড়ো”
এই বলেই রিদ মিহি কে শাড়ি খুলে দেই, এর পর মিহি কে একটা নরম শার্ট দিতে বাহিরে চলে যায়, রিদ আগে মিহি কে জামা চেঞ্জ করে দিতো কিন্তু এখন রিদ চাইছে মিহি একা একাই ওর কাজ গুলো শিখুক, নাহলে বড় হয়েও একই অভ্যাস থেকে যাবে!
এভাবেই চলছে ওদের সংসার, এখন রিদ আর অভ্রোর পাশাপাশি মিষ্টি ও মিহি কে আগলিয়ে রাখে,
রিদ সকালে উঠে মিহি কে খাইয়ে রেস্টুরেন্টে কাজের জন্য চলে যায়, মিহি ততক্ষণ অভ্রর কাছে থাকে, অভ্র আর মিষ্টি মিহি কে স্কুলে দিয়ে আসে, এরপর অভ্র মিষ্টি কে নিয়ে মিষ্টির কলেজে রাখতে যাই, তারপর অভ্র ভার্সিটিতে চলে যায়, রিদ রেস্টুরেন্টের কাজ হলে একবারে ভার্সিটিতে যায়, এরপর ক্লাস করে মিহি কে স্কুল থেকে নিয়ে আসে,

এভাবেই হেসে খেলে বেশ সময় কেটে যাচ্ছে, সময় তো আর কারো জন্য অপেক্ষা করে না!
আরাফ রায়ান চৌধুরীর শরীর টা বেশ খারাপ যাচ্ছে!
ছেলে ছাড়া উনার কেউ নেই! ছেলেটাও কাছে নেই, উনার খুব ইচ্ছে করছে রিদের কাছে ক্ষমা চেয়ে রিদকে ফিরিয়ে আনতে!
কিন্তু নিজের ইগোর কাছে হেরে যাচ্ছে বারবার!

না পারছে রিদের কাছে ক্ষমা চেয়ে রিদকে ফিরিয়ে আনতে আর না পারছে রিদকে ছাড়া থাকতে! উনি মিহি কে মেনে নিতে চাইছে কিন্তু পারছে না!কোথাও একটা গিয়ে আটকে যাচ্ছে, নিজের মনের সাথে অনেক লড়াই করছেন কিন্তু কিছুতেই শান্তি পাচ্ছে না! উনি খুব ভালো করেই জানেন রিদ ঠিক কতোটা জেদি ও দরকার পড়লে সত্যি সত্যিই ভিক্ষা করবে তবে বাসায় ফিরবে না! কিন্তু এভাবে আর কতোদিন?

এইদিকে রিদের অনেক দায়িত্ব বেড়েছে,
রিদ কাজ করতে করতে ভাবতে থাকে
রেস্টুরেন্টে কাজ করে মাসে যত টাকা বেতন পায় সেটা দিয়ে আপাতত ওর আর মিহির সংসার টা ভালোই চলছে কিন্তু যখন মিহি বড়ো হবে ওর পড়াশোনার খরচ আবার রিদের ও পড়াশোনার খরচ থাকবে আবার মিহির চাহিদা বাড়বে তখন এইটুকু টাকাতে কিভাবে কুলাবে? সব দিক ভেবে রিদ একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে
“জানি না প্রিন্সেস তোমার জন্য কতটা কি করতে পারবো, তবে আমি আমার বেস্ট দিয়ে চেষ্টা করবো তোমাকে একটা সুন্দর জীবন দেওয়ার! তোমাকে মানুষের মতো মানুষ করার! তোমার সব সপ্ন পূরণ করার কিন্তু সব কিছুর বিনিময়ে তোমার থেকে একটা জিনিসই চাইবো আমাকে কখনো ছেড়ে যেও না! যেদিন আমাকে ছেড়ে চলে যাবে সেইদিন তোমার পচাঁলোকের জীবনের শেষ দিন হবে!

এসব কথা ভাবতে ভাবতেই রিদ কাজ করাতে মনোযোগ দিলো!
মিহি স্কুলে গিয়েছে! আজকে ওদের স্কুলে একটা ছোটখাটো পিকনিক হলো, সেখানে সব ছাত্র-ছাত্রীর বাবা-মা উপস্থিত ছিলো! সবাই তো খুব খুশি, কিন্তু কেনো জানি মিহির খুব কান্না পাচ্ছে, সবার মা বাবা চলে আসলো কই মিহির মা বাবা তো এখনো এলো না
মিহি আকাশের দিকে তাকিয়ে মাকে নালিশ দিলো
” ও মা এবার তো মিহির তাছে চলে এসো! দেখো পিকনিকে সবার মা এসেছে মিহির মা তেনো আসছে না? মিহির মা কি মিহির উপরে এখনো লেগে আছে? মা আমি তান ধরছি আর কখনো তোমাকে খাবো না তুমি মিহির তাছে চলে আসো মিহির খুব কান্না পাচ্ছে মা”

এই বলেই মিহি কান্না করতে থাকে, অভ্র এসে দেখে মিহি মাটিতে বসে কান্না করছে! অভ্রর কলিজা শুকিয়ে যায়! দৌড়ে এসে মিহির কাছে বসে ওকে বুকের মাঝে জড়িয়ে ধরে,
“আমার টুইংকেলের কি হয়েছে? আমার টুইংকেল কাঁদছে কেন?”
মিহি হাত দিয়ে সবার মা-বাবা কে দেখিয়ে দিয়ে বললো
“দেখেছো অভ ওদের সবার মা এসেছে আমার মাকে তোতো করে আসতে বলছি আমার মা আসছেই না”
অভ্রর চোখ ছলছল করে উঠে, অজান্তেই অভ্র বলে উঠলো
“আ আমিই তোমার মা আর আমিই তোমার বাবা টুইংকেল”
মিহি চোখ মুছে বললো

“তিন্তু তুমি তো ছেলে মেয়েরা তো মা হয়”
অভ্র মিহির কপালে চুমু দিয়ে বললো
” আচ্ছা বুজলাম তাহলে আমি তোমার বাবা মা নেই তো কি হয়েছে বাবা তো আছে? মিহি কি বাবা কে ভালোবাসে না শুধু মাকেই ভালোবাসে? আজকে থেকে আমিই তোমার মা-বাবা দেখেছো আমি তো এসেছি চোখের জল মুছো আর কান্না করবে না”
মিহি অভ্রকে জড়িয়ে ধরে মিহি আজকে অনেক খুশি ওর ও মা-বাবা আছে!
এইদিকে মিহির স্কুল ছুটির পর রিদ মিহির স্কুলের সামনে এসে দাঁড়ায়,
রিদ দেখে অভ্র একটা কর্নারে দাঁড়িয়ে আছে, রিদ অভ্রর কাছে গেলো
রিদ অভ্র কি প্রশ্ন করলো

“মিহি কই?”
অভ্র চোখের ইশারাতে দেখালো মিহি অন্য বাচ্চাদের সাথে খেলছে! রিদ দাড়িয়ে থেকে মিহির খেলা দেখতে থাকে!
হঠাৎ রিদ দেখতে পাই মিহিকে একটা ছেলে চকলেট দেই! ছেলেটার বয়স মিহির মতোই!
মিহি ও চকলেট পেয়ে খুশি,
হুট করেই রিদের রাগ হতে লাগলো, হাত টা মুট করে নিলো! অভ্র রিদের দৃষ্টি অনুসরণ করে দেখার চেষ্টা করে আসলে কাহিনি কি!
অভ্র রিদের ঘাড়ে হাত দিয়ে বললো
“আরে ভাই পিচ্চি পোলা ওইডা এহনো বিছানায় হিসু করে ওরে লইয়াও জেলাস হওয়া লাগে? তোর মিহি তোরই আছে”
রিদ অভ্রর দিকে তীক্ষ্ণ চোখে তাকিয়ে বলে

“ও যেখানেই হিসু করুক সেটা আমার দেখাট বিষয় না তুই দেখছিস ও আমার প্রিন্সেস কে চকলেট দিলো! ও যদি আমার প্রিন্সেস কে হাত করে নেই তখন?”
এই বলেই রিদ অভ্রকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই মিহির কাছে গিয়ে মিহির হাতে থাকা চকলেট টা ওই বাচ্চা কে দিয়ে বলে

মিহি পর্ব ১৫+১৬

“এর পর থেকে ওর ধারে কাছে আসলে টুনটুনি কেটে দিবো, তোমার চকলেট তুমিই খাও”
এই বলেই রিদ মিহিকে কোলে নিয়ে চলে যায়!
ছেলেটা খুব ভয় পাই ছুটে গিয়ে মাকে বলে
“দেখো মা ওই ভাইয়াটা আমাকে বলেছে আমার টুনটুনি কে*টে দিবে!”
মহিলা উনার ছেলেকপ এটা ওটা বলে বুজ দিলো

মিহি পর্ব ১৯+২০