Home মিহি মিহি পর্ব ৩২

মিহি পর্ব ৩২

মিহি পর্ব ৩২
রুপন্তী সরকার

জোরে জোরে গাড়ি ড্রাইভ করছে। ভয় লাগছে খুব কিছু হলো
না তো?
অভ্র বললো
“রিলাক্স রিদ ভয় পাস না কিচ্ছু হবে না”
রিদ বললো
“লেডি কেয়ার বিউটি পার্লার টা কোথায়? ও তো তখন এই নাম টাই বলেছিলো”
অভ্র বললো

“ওটা স্টেশনের ঐদিকে। গাড়ি এইদিক দিয়ে বের কর”
রিদ অভ্রর কথা শুনে গাড়ি চালাতে লাগলো।
পার্লারে সামনে গাড়ি থামিয়েই দৌড়ে ভেতরে ঢুকে গেলো। রিদ কে এভাবে হুরমুর করে ভেতরে আসতে দেখে মেয়ে গুলো ভয় পেয়ে গেলো। রিদ উচ্চস্বরে বললো
“প্রিন্সেস কই আমার?”
একটা মেয়ে বললো।

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

” বিকাল ৩ টাই যেই আপুটা সাজতে এসেছিলো আপনি কি উনার কথা বলছেন?”
রিদ বললো
“হ্যাঁ কই ওরা?”
মেয়েটা কাঁদো কাঁদো গলায় রিদ কে কিছু বললো। রিদ রেগে কিছু বলতে যাবে তখনি অভ্র বলে উঠে
“ভাই এসব রাগারাগি বাদ দে এখন এদের ব্যাবস্থা পরে নিবো এখন টুইংকেল কে খুঁজতে হবে। তুই দেখ টুইংকেল এর লোকেশন ট্র্যাক করা যাচ্ছে কিনা”
রিদ ট্রাই করে দেখলো লোকেশন ট্র্যাক করা গিয়েছে। রিদের কলিজায় পানি আসে,সে যেনো কি পেয়ে গেছে।

লোকেশন অনুযায়ী রিদ গাড়ি এগিয়ে নিয়ে যায় সাথে পুলিশকেও জানিয়ে দেয় অভ্র।রিদ প্রায় দু’ঘন্টা ড্রাইভ করার পর লোকেশনের এসে পৌছায়।রিদ তাড়াতাড়ি করে গাড়ি থেকে বের হয়ে যায়, একপ্রকার হুমড়ি খাওয়ার মতো।রিদ দৌড়াতে যেয়ে পড়ে যেতে নিলে, পিছন থেকে অভ্র ধরে ফেলে।
রিদ একটু এগিয়ে যেতেই দেখে সামনে দুতলা পুরোনো একটা বাড়ি।আরেকটু এগোতেই দেখে,দুজন বসে আছে চেয়ারে আর কয়েকজন দাড়িয়ে আছে সিঁড়ির দোরগোড়ায়। রিদ কপালে দুই আঙ্গুল দিয়ে ঘষতে থাকে,কিছু একটা ভেবে সামনে এগিয়ে যায় কিন্তু সামনের রাস্তা রেখে পিছনের রাস্তা দিয়ে। দেয়াল টপকে বসে থাকা দুজনের একজনকে রিদ আরেকজনে অভ্র ধরে মুখ চেপে।এতে একপর্যায়ে লোকগুলো জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। রিদ আর অভ্র দুজনকে আস্তে করে টেবিলে শুইয়ে দেয়।

তারপর দেয়াল ঘেঁষে আস্তে আস্তে সামনে এগিয়ে যায় রিদ আর অভ্র। আস্তে করে সিঁড়ির দোরগোড়ায় এসে সেই লোকগুলোকেও একই ভাবে মেরে নিচে শুইয়ে উপরে চলে যায়।
একে একে সবগুলো রুম খোঁজে কিন্তু কোথাও কেউ নেই এমনকি তার প্রিন্সেস ও নেই।এতে রিদ কিছুটা বিচলিত হয়ে কপালে দুই আঙ্গুল দিয়ে ঘষতে থাকে।
রিদের অস্থিরতা বুঝে অভ্র রিদকে কিছু বলতে যাবে তখনই যেন কোথাও থেকে কারো মারের শব্দ আসে। মনে হচ্ছে কেউ কাউকে উদোম ক্যালানি দিচ্ছে।রিদ অভ্রকে চুপ করিয়ে দেয়, আর সেই শব্দ অনুযায়ী এগোতে থাকে।
একটা রুমের সামনে যেতেই দরজার ফাঁক দিয়ে যা দেখতে পায় তা দেখে অভ্রর চোখ কপালে উঠে যায়। আর রিদের মুখে ফুটে উঠে এক চিলতে হাসি। মিহি লোকগুলো কে মারছে। যাকে বলে রাম ক্যালানি। পরনে লাল লেহেঙ্গা আর সেই সাজগোজই রয়েছে। তার বউ লেহেঙ্গা পড়েই মারামারি করছে। অভ্র বললো

“আমার টুইংকেলের কি রূপ দেখছি রে? পুরো ধুয়ে দিচ্ছে!”
রিদ বললো
“কার বউ দেখতে হবে তো।”
অভ্র বললো
“রিদের ফিমেল ভার্সন”
রিদ মুচকি হাসি দিয়ে বউয়ের মারামারি দেখছে। ওর এখন লোক গুলোর জন্য চিন্তা হচ্ছে। হঠাৎ মিহি কে একটা লোক পেছন থেকে রড দিয়ে মাথায় বাড়ি দিতে নিবে এমন সময় রিদ লোকটার মুখ বরাবর লাত্থি দিলো। মিহি রিদ কে দেখে খুশি হয়ে গেলো। রিদ মিহি কে বললো

“উমম ফাইটিং এর ফোকাস করো। চুমু পরেও খাওয়া যাবে”
এই বলেই রিদ একটা চেয়ারে বসে মিহি কে লিড দিতে থাকে। আর মিহি ও সবাই কে ইচ্ছে মতো ধুতে থাকে। অভৃর রিদ আর মিহির কাহিনি দেখে বললো
“ইতিহাসের প্রথম স্বামী যে কিনা বউয়ের বিপদে বউকে না বাচিয়ে বউকে লিড করছে শত্রু পক্ষ কে মারার জন্য। বাহ”
রিদ বললো
“চুপ কর ফাইটিং দেখ”

মিহি ওদের মেরে প্রায় আধমরা করে দিয়েছে। লোকগুলো ভাবছে একটা মাইয়া মানুষের গায়ে এতো শক্তি কেমনে? কিডন্যাপ করেও শান্তি নাই। মাইয়া মানুষ কি সুন্দর চুপ করে অজ্ঞান হইয়া থাকবে। পরে নায়ক আইসা সবাইরে মারবে। তা না উল্টে মাইয়া মারতাছে আর নায়ক বেডা চেয়ারে বইসা বউরে লিড দিচ্ছে।
হঠাৎ রিদ যেই দুজন মিহিকে পার্লার থেকে কিডন্যাপ করে নিয়ে আসে তাদের দেখতে পায়।
রিদ একজনের বুকে লাথি মেরে ফেলে তার উপরে উঠে বসে ইচ্ছেমতো মুখে ঘুষি দিতে থাকে আর বলতে থাকে,
“বল, বল কে পাঠিয়েছে। আমার প্রিন্সেসকে এখানে আনার পারমিশন কার থেকে পেয়েছিস।বল?”
মারার পর কিছুটা দূরে লোহার একটা পাইপ পরে থাকতে দেখে সেটা নিয়ে ইচ্ছে মতো পেটাতে থাকে আর অভ্র রিদকে আটকাতে পারছে না কিছুতেই।তখনই পুলিশ চলে আসে, আর রিদকে আটকাতে সক্ষম হয়।

পুলিশ সবাইকে ধরে নিয়ে যায়,
এইদিকে মিহি অজ্ঞান হয়ে পড়ে যায়। রিদ দৌড়ে মিহির কাছে যায়
“কথা বলো প্রিন্সেস। জান চোখ খুলো। দেখো আমার কিন্তু ক্রেভিং উঠতেছে”
অভ্র তাড়াতাড়ি করে পানি এনে রিদকে দিলে, রিদ মিহির চোখেমুখে পানির ছিটা দিতে থাকে আর বলতে থাকে,
“প্রিন্সেস তোমার শাস্তি আছে। তুমি আমাকে চুমু না দিয়ে এখানে চলে আসলে কেনো? আমি তো হার্ট অ্যাটাক করে মরে যেতাম এখনি। এসব আবার কেমন বেয়াদবি? দিস ইজ নট ফেয়ার”
এদিকে অভ্র মনে মনে রিদকে গালি দিয়ে বসে,
“শালা বউ এদিকে মরে যায় যায় অবস্থা। আর সে চুমু খাওয়ার ধান্ধায়। ভালো হলো না। ভাই তোরে আমি চুম্মা দিমু নি তুই টুইংকেল রে কোলে নে”
রিদ বললো

“ছি আমি গে না। আর তাছাড়া বড়য়ের চুমু ছাড়া কারো চুমু আমার পছন্দ না”
অভ্র উঠে চলে যায় এবং রিদ ও মিহিকে কোলে নিয়ে গাড়িতে উঠে বসে।মিহির কিছুটা জ্ঞান ফিরছে, আর রিদ মিহিকে কোলে নিয়েই বসে। অভ্র ড্রাইভ করে রায়ান কুঞ্জের দিকে এগিয়ে যায়।
রিদ মিহি কে কোলে করে নিয়ে আসতেই আরাফ রায়ান চৌধুরী হন্তদন্ত করে এগিয়ে আসলো
“কি হয়েছে মিহি মায়ের?”
রিদ কিছু না বলেই মিহি কে সোফায় শুইয়ে দেয়। কিছুক্ষণ পর মিহির ঘুম ভাঙ্গে।
এইদিকে…

মিহি পর্ব ৩১

“কিছুতেই বিয়ে আটকাতে পারলাম না? আমার বার্বিডল ওর হয়ে গেলো? সমস্যা নাই তুমি শুধুই আমার। একটা কথা কি জানো? তোমার সব কিছুই আমায় মুগ্ধ করে। অবশ্য ক্রিভানের চয়েস সব সময় ফাস্ট ক্লাস ই হয়”
এই বলেই একটা কাঁচের টেবিল ছুঁড়ে ফেলে দিলো….

মিহি পর্ব ৩৩