মিহি পর্ব ৩+৪
রুপন্তী সরকার
মিহি কে নিয়ে ওরা গাড়িতে বসলো
গাড়িতে মিহি কান্না করেই যাচ্ছে
_”আমি যাবো না আমাকে রেখে এসো না গো! আমি মার কাছে যাবো!”
অভ্র মিহি কে সুন্দর করে বললো
_”কান্না করতে হয় না ভুত আমি তো বললাম তোমাকে চকলেট কিনে দেবো!”
_”আমি তাবো না”
রিদ চুপ করে আছে ওর মাথা ভীষণ গরম হচ্ছে কি করতে এলো আর কি হয়ে গেলো! তার উপর মিহির কান্না!
রিদ এবার ধমক দিয়ে উঠলো
_”এই মেয়ে চুপ একদম চুপ! তোমার জন্য সব হয়েছে এখন কান্না করছো কেনো?আমার কানে যদি আর একটা কান্নার শব্দ আসে তাহলে তোমার খবর আছে!
মিহি চুপ করে অভ্রর বুকে মুখ লুকায়
অভ্র মিহি কে জড়িয়ে নেয়!মিহি শব্দ ছাড়া কান্না করছে
হেঁচকি উঠে গেলো
রিদ বলে
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
_”আবার কান্না করছো এই মেয়ে চুপ করতে বলেছি তো!
মিহি অভ্র কে বলে
_”দেখো আমাকে পঁচালোক কিভাবে বকছে”
অভ্র রিদ কে বলে
_”কিরে ভাই তুই কেনো বকছিস বাচ্চা মেয়েটা কে ওর কি দোষ? ওকে একদম বকবি না!
রিদ কিছু না বলে মুখ ঘোরালো ওর এখন টেনশন হচ্ছে বাড়িতে গিয়ে বাবা কে কি জবাব দিবে রিদের বাবা অনেক রাগী মানুষ! সব চিন্তায় মাথা ব্যাথা করছে!কান্না করতে করতে মিহি ঘুমিয়ে পড়ে ঘুমানোর পর ও হেঁচকি উঠছে
অভ্র মিহির মুখে হাত বুলিয়ে দিচ্ছে খুব অল্প সময়ে মেয়েটার প্রতি খুব মায়া হচ্ছে মেয়ে টা এতো মায়াবী!
রিদের চোখ যায় মিহির দিকে অজান্তেই রিদের হাত মিহির মাথায় চলে যায়
রিদ বলে উঠে
_”ভাই নিশি শুনলে কি হবে বুজতে পারছিস? আমি নিশি কে কি জবাব দিবো তুই বল?”
_”রিদ বুঝার চেস্টা কর ওই মুহুর্তে কিছু করার ছিলো না তুই নিশি কে বুজিয়ে বলবি! আর এই বাবু বিয়ের কি বুজে?”
_”ওকে সারাজীবন আমার কাছেই রাখবো?”
_”তো কার কাছে রাখবি? দেখলি না মেয়েটার মামী কতো খারাপ মহিলা! কি আচরণ করছিলো ওর সাথে!তুই যদি রাখতে না পারিস আমাকে দিয়ে দিস আমি রাখবো ওকে!
রিদ কিছু না বলেই চোখ বন্ধ করলো
রিদ ওদের বাড়ির সামনে চলে এলো
ভেতরে ঢুকতে কেমন ভয় করছে অভ্র মিহি কে কোলে নিয়ে আছে
ওরা বাড়ির ভেতরে ঢুকলো
রিদের বাবা সোফায় বসে ছিলো !
রিদ এসে দাড়ালো ওর বাবার সামনে
রিদের বাবা মিহি কে দেখে জিজ্ঞেস করলো
_”মেয়ে টা কে?”
অভ্র আর রিদ সব ঘটনা খুলে বললো! সব কিছু শুনে রিদের বাবা আরাফ রায়ান চৌধুরী অনেক রেগে গেলেন উনি বললেন
_” মজা হচ্ছে আমার সাথে? বিয়ে হয়ে গেছে মানে? ওই মেয়ে বিয়ের কি বুজে? ওকে যেখান থেকে নিয়ে এসেছো সেখানে রেখে আসো!
অভ্র বললো
_”না না আঙ্কেল এসব বলেন না প্লিজ! বাচ্চাটার কেও নেই আংকেল!”
_”আমি এইখানে কোনো অনাথ আশ্রম খুলে বসি নি! তোমার এতো মায়া হলে তুমি নিয়ে যাও!
অভ্র বললো
_”আচ্ছা আমি নিয়ে যাচ্ছি ওকে!
অভ্র রাজি হয় কিন্তু রিদ রাজি হলো না !
_”না ওকে যেতে দিবো না আমি!
আরাফ রায়ান চৌধুরী বলেন
_”তাহলে তুমি ও চলে যাও ! এই বাড়িতে তোমাদের করো থাকতে হবে না !
_”পাপা প্লিজ এমন করো না ! ওকে রেখে আসতে পারবো না!
_”রিদ তোমার থেকে এটা আশা করি নি! তোমার মা চলে যাওয়ার পর থেকে তুমি যা চেয়েছো সব তোমার সামনে এনে হাজির করেছি আর আজ তুমি আমাকে ভীষণ কষ্ট দিয়েছো! তুমি বেরিয়ে যাও আমার বাড়ি থেকে! আর নাহলে এই মেয়ে কে যেখান থেকে নিয়ে এসেছো সেখানে রেখে আসো!
_”রেখে আসতে পারবো না আমি বেরিয়ে যাচ্ছি!
_”আর কখনো এই বাড়ির মুখ হইয়ো না রিদ! ওই মেয়ে কে আমি কখনো মানবো না জাতের ঠিক নেই হুট করে তুলে এনেছে যত্তসব!
_”আসবো না আপনার বাড়িতে রাস্তায় ভিক্ষা করবো তাও ভালো কিন্তু আপনার বাড়িতে আসবো না!
এর মধ্যে মিহির ঘুম ভেংগে যায়
মিহি চোখ ডলতে ডলতে বললো
_”এতা কই?”
অভ্র মিহি কে তখনো কোলে নিয়ে ছিলো
রিদ মিহি কে কোলে নিয়ে বাহিরে চল গেলো পেছন পেছন অভ্র ও গেলো
অভ্র রিদের কাছে গিয়ে বললো
_”মেয়েটাকে নিয়ে কই যাবি এতো রাতে?”
_”জানি না কই যাবো! ওকে তো রেখেও আসতে পারবো না কই গিয়ে উঠবো?”
_”আজকে বরং আমার হোস্টেলে চল কালকে কোনো ব্যবস্থা করিস!
_”হুম তাই চল !
অভ্রর মেসে মিহি আর রিদ যায় সেদিন রাতে মিহি অভ্রর কাছে ঘুমাই আর রিদ নিচে ঘুমাই
অভ্র পড়াশোনার জন্য বাড়ি থেকে দূরে থাকে আর ওর মেস এর একটাই রুম তাই ওরা উপরনিচ করে সেই রাত টা পার করলো….
পরেরদিন সকালে…
রিদ অভ্র কে বললো
_”কি করবো ভাই বল না? এখন ওকে নিয়ে কই থাকবো? একটা জবের খুব প্রয়োজন এই মুহুর্তে যেকোনো জবে রাজি আমি! তুই একটু খুঁজে দে না ভাই”
_”আচ্ছা রিদ তোকে এতো চিন্তা করতে হবে না! আমি তোকে জবের ব্যবস্থা করে দেবো! আর একটা রুমের ব্যবস্থা ও করে দিবো কোনো সমস্যা নাই! এখন ভার্সিটি তে চল সামনে এক্সাম”
_”পিচ্ছি রে রেখে কিভাবে যাবো?”
_”পিচ্ছিরে নিয়েই চল”
_”ওরে নিয়ে গেলে সবাই কে কি বলে পরিচয় দিবো?”
_”তোকে পরিচয় দিতে হবে না! এখন ওকে নিয়ে চল”
_”ভার্সিটি তে যদি অ্যালোও না করে ওকে?”
_”আরে বাবা সেটা আমি দেখবো চল তো তুই”
এই বলেই রিদ আর অভ্র মিহি কে নিয়ে ভার্সিটি তে যায়!
মিহি অভ্রর সব কথাই শুনছে অভ্রর সাথে মিহির সম্পর্ক টা খুব সুন্দর হয়ে গেছে! মিহি রিদের সাথে রাগ করে আছে কথা বলছে না বিষয় টা রিদ খেয়াল করলো!
রিদ দোকান থেকে একটা চকলেট এনে মিহির হাতে দিলো
_”রাগ করে আছো প্রিন্সেস?”
মিহি চকলেট না নিয়ে মুখ অন্য দিকে ঘুরিয়ে নেয়!
রিদ ওর দুই কান ধরে বলে
_”এই যে কান ধরি প্রিন্সেস আর বকা দিবো না সরি! চকলেট টা এবার নাও?”
মিহি তখন একটা মিষ্টি হাসি দিয়ে চকলেট নিলো
রিদ মিহি কে কোলে নিলো
রিদ বললো
_”মিহি কি এখনো পঁচালোকের সাথে রাগ করেছে?”
_”না না আর রাগ তোরে নেই”
_”তাহলে মিহি কি পঁচালোক কে আদর করবে?”
মিহি বড় করে বলে
_”হুমমমমমমমমমমম”
_”তাহলে চুমু দাও”
মিহি রিদের গালে একটা চুমু দিলো রিদ বললো
_”এই গালেও দাও”
মিহি দুই গালেই চুমু দিলো!
অভ্র বললো
_”এটা কি ঠিক ভূত? তোমাকে আমি বেশি ভালোবাসি আর তুমি পঁচা লোক কে আদর করছো?”
মিহি তখন অভ্রকেও চুমু দিলো!
ওরা ভার্সিটিতে পৌঁছে গেলো
ওদের ক্লাসের সবাই মিহি কে ওদের সাথে দেখে অবাক
ওইখানে থাকা একটা ছেলে বলে
_”আল্লাহ এটা কার বাচ্চা এত্ত মিষ্টি দেখতে মাশাআল্লাহ”
অভ্র বললো
_”ও আমার মামাতো বোন”
অভ্রর কথা শুনে সবাই মিহি কে দেখতে আসে
একটা মেয়ে বলে
_”এই টুকু বাচ্চার চুল কতো বড় ওর কি সমস্যা হয় না?”
সবাই আসে মিহি কে আদর করতে মিহি কে সবাই চুমু খাচ্ছে
বিষয় টা রিদের একদম ই সহ্য হচ্ছে না! হাজার হোক ওর জিনিস! যতই ছোট হোক তাই বলে সবাই এভাবে চুমু খাবে? রিদ বলতেও পারছে না এটা ওর বউ হয় , মানুষ শুনলে কি বলবে একটা ৫ বছরের বাচ্চা নাকি ওর বউ!
অভ্র রিদের মনের অবস্থা বুজতে পারে তাই মিহি কে সবার থেকে নিয়ে এসে ওর কাছে এনে বসাই! একটা বেঞ্চে ২ জন করে বসে
রিদ আর অভ্রর মাঝখানে মিহি বসে আছে…
স্যার ওদের ক্লাস করাই মিহি চুপ করে বসে ছিলো! একটা কথাও বলে নি
স্যার মিহি কে খেয়াল করে বলে
_”ও মা কে এই বাচ্চা এতো পুরাই পুতুল”
অভ্র দাঁড়িয়ে বললো
_”স্যার আমার মামার মেয়ে”
_”তাই ? কি নাম তোমার বাব?”
মিহি দাঁড়িয়ে বললো
_”আমার নাম মিহি”
ক্লাস শেষে অভ্র আর রিদ মিহি কে নিয়ে ক্যাম্পাসে গেলো ,
অভ্র বললো
_”ক্যান্টিনে যাই চল”
ওরা ৩ জন ক্যান্টিনে গেলো
এর মধ্যেই হুট করে একটা মেয়ে এসে রিদ কে জড়িয়ে ধরলো
_”বেবি কই থাকো তুমি কল ধরছিলে না কেনো? তোমাকে আজকে ভার্সিটিতে না দেখতে পেলে আমি তোমার বাড়িতে যেতাম”
রিদ নিশি কে নিজের কাছ থেকে সরিয়ে বললো
_”এটা পাবলিক প্লেস নিশি! নিজের সীমানায় থাকো”
নিশি কিছু না বলেই মিহির দিকে তাকালো
_”ও মা কি সুন্দর বাবু! কে এটা রিদ আর বেবি তোমার নাম কি?”
মিহি এতক্ষন রিদ আর নিশির দিকে তাকিয়ে ছিলো! নিশির প্রশ্নে মিহি উত্তর দিলো
_”আমার নাম মিহি!
_”কি সুন্দর কথা বলো তুমি! কই থেকে এসেছো?”
মিহি বললো
_” আমি কই থেকে এসেছি?”
_”হুম কই থেকে এসেছো?”
রিদ তখন সব কথা বলতে চাইলো কিন্তু অভ্র রিদ কে চুপ চোখের ইশারায় চুপ করতে বললো
_”ওইটা আমার মামাতো বোন”
নিশি বললো
_”আপনার যে মামাতো বোন আছে আগে তো বলেন নি”
_”তুমি জানতে চেয়েছো?”
নিশি আর কিছু বলে না রিদের কাছে গিয়ে বসে!
নিশি রিদের গার্লফ্রেন্ড! ওরা এক ই ভার্সিটিতে পরে রিদ আর নিশি সমবয়সী!
নিশির বাবা আর রিদের বাবা বিজনেস পার্টনার , তারা ঠিক করেছিলো নিশির সাথে রিদের বিয়ে দিবে!
ওরা ভার্সিটি শেষ করে আবারো মেসে ফিরে যায়,
রাতের বেলা…
মিহি একা একা আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে তখনি অভ্র এসে মিহির পাশে বসে
_”কি হয়েছে তুমি কি আপসেট?”
_”কই না তো”
_”তাহলে আকাশের দিকে তাকিয়ে কি দেখছো?”
মিহি সরল মনে বললো
_”ওই যে ২ টা তাঁরা দেখছো না? ওটা আমার মা আর বাবা”
_”তাই?”
_”হুমম”
_”তুমি তোমার মা বাবা কে দেখেছো?”
_”না তো দেখি নি , মামী আমাকে প্রতিদিন বলে আমি মা কে আর বাবা কে খেয়ে ফেলেছি! আমি কি করে ওদের খেয়ে ফেলেছি বলো তো?”
কথা টা শুনে অভ্রর চোখ ছলছল করতে লাগলো সাথে সাথে মিহি কে নিজের সাথে জড়িয়ে ধরলো
_”না না তুমি ওদের কেনো খেয়ে ফেলবে ? তুমি ওদের খাও নি! তোমার মা এর সাথে আমার দেখা হয়েছিলো জানো? তোমার মা বলেছে আমার আর পঁচা লোকের সব কথা শুনতে আর কান্না না করতে! তুমি যদি কান্না করো তাহলে তোমার মা আর বাবা খুব কষ্ট পাবে!
_”সত্যি? আমি তাহলে আর কান্না করবো না”
_” পিংকি প্রমিস?”
_”পিনটি প্রমিস”
অভ্র মিহি কে কোলে নিয়ে বললো
মিহি পর্ব ১+২
_”তোমার একটা নাম দেই?”
মিহি বললো
_”কি নাম?”
_”তুমি আজকে থেকে আমার টুইংকেল ওকে?”
_”টুইংকেল?”
_”হ্যাঁ আমার লিটিল টুইংকেল”
এর মধ্যেই রিদ আসে
অভ্রর কোল থেকে মিহি কে নিয়ে নেয় এর পর মিহি কে নিয়ে রুমে চলে যায়
অভ্র রিদের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে বলে
_”সালা হিংসা করে একটু কোলে নিলাম তাই নিয়ে চলে গেলো”
