Home শুকনো পাতার নূপুর পায়ে শুকনো পাতার নূপুর পায়ে পর্ব ২০

শুকনো পাতার নূপুর পায়ে পর্ব ২০

শুকনো পাতার নূপুর পায়ে পর্ব ২০
আয়েশা শেখ

বাবার একমাত্র আদরের মেয়ে ছিল দীঘি। ছোটবেলাই নিজের বাবাকে হারায় সে। মাজহার চৌধুরী মা”রা যাওয়ার পর থেকেই মেয়েটার জীবন একদম এলোমেলো হয়ে যায়। কলেজে উঠতেই সে মাত্রারিক্ত বে”হায়া আর বে”পরোয়া হয়ে ওঠে। প্রায়ই নূরজাহান চৌধুরীর কানে খবর আসত, দীঘি এর-তার সাথে মারামারিতে জড়িয়েছে। ধীরে ধীরে ম”দ্যপানেও আ”সক্ত হয়ে পড়েছিল সে। দীঘির মনে গভীর সন্দেহ পাথর বেঁধে আছে—তার বাবাকে খু”ন করা করেছে! কিন্তু তার মা কখনই এসবে গুরুত্ব দেয়নি। আর না তো কোনো তদন্ত করেছে। এসব বিষাক্ত চিন্তা মাথায় পুষে রেখেই নিজের জীবনটাকে এভাবে তছনছ করে চলেছে সে। সেদিনও রাতে চরম মাতাল অবস্থায় বাড়ি ফিরেছিল দীঘি। ধোঁড়াতে ধোঁড়াতে হাঁটছিল আর আপন মনে গাইছিল,

— ‘নেতা থেকে অভিনেতা…
আমার স্টাইলে সবাই ফিদা!
কবে আসবে আমার সেই হিরোওও…
কবে আসবে আমার সেই হিরোওও—’
পায়ের ভারসাম্য হারিয়ে আরেকটু হলেই মাটিতে আছড়ে পড়ত দীঘি। কিন্তু কেউ একজন দুই হাতে তাকে শক্ত করে আগলে নিল। নিজেকে সামলে নিয়ে নিজের দু’বাহুর দিকে তাকাল তরুণী। কোনো পুরুষের হাত! এবার ঝাপসা চোখ দুটো ধীরে ধীরে ওপরের দিকে তুলল সে।
উজ্জ্বল শ্যামলা বর্ণ, তীক্ষ্ণ চোয়ালের যুবক দাঁড়িয়ে তার সামনে। কুচকুচে কালো চোখের পুরুষ দীঘির একদম পছন্দ নয়। কিন্তু এই যুবকের চোখগুলো অদ্ভুত! একদম কুচকুচে কালো নয়, কেমন যেন একটা নীলচে আভা ঠিকরে বের হচ্ছে। তবে পুরোপুরি নীলও বলা যায় না। কেমন যেন চোখের দৃষ্টি! ঠিক স্পষ্ট আন্দাজ করতে পারল না মাতাল দীঘি। কিন্তু পুরুষটাকে দেখা মাত্রই তার ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি ফুটে উঠল। গানের পরবর্তী লাইনটা সুর করে গেয়ে উঠল সে,

— ‘করব যখন হিরোর গালে কিস… ঠোঁটে লাগাব লাল লিপস্টিক—’
লাইন গুলো শেষ করেই চট করে যুবকটির গালে একটা শুকনো চুমু বসিয়ে দিল দীঘি! পরক্ষণেই ঠা”স করে একটা জোরালো চ”ড় এসে লাগল তার নিজের গালে!
দীঘি গাল চেপে ধরে পাশ ফিরে তাকাল। সামনে দাঁড়িয়ে আছেন তার মা, নূরজাহান চৌধুরী।
—নি”র্লজ্জ মেয়ে একটা! অচেনা ছেলেকে এভাবে চুমু দিতে লজ্জা লাগল না?
দীঘি গালে হাত রেখেই একচিলতে বেপরোয়া হাসি হেসে বলল,
—নি”র্লজ্জ যখন বলেই দিলে, তখন আবার লজ্জা লাগে কি না জিজ্ঞেস করছ কেন?
মেয়ের কথায় কোনো জবাব দিলো না নূরজাহান বেগম। সে ছেলেটার দিকে তাকিয়ে বলল,
—এখন আসতে পারো। কাল থেকে তবে এ বাড়িতেই থেকো।
—জি ম্যাম, আসি।
বলেই চলে গেল ছেলেটা।

—‘কে এটা মা? যাকে তাকে বাসায় রাখতে চাইছো কেন?’
ছেলেটা যেতেই বলল দীঘি।
—ও তাহসিন। আমার পূর্ব পরিচিত। কাল থেকে ও আমার অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে জয়েন করছে। ছেলেটা খুব ভালো এবং কাজের, তাকে বাসায় রাখলে আমারই সুবিধা। তাছাড়া এসব নিয়ে তোমাকে মাথা ঘামাতে হবে না। রুমে যাও।
দীঘি একবার সদর দরজার দিকে তাকাল ঘাড় ঘুরিয়ে। পরক্ষণে এক লম্বা শ্বাস নিয়ে হেলেদুলে রুমে চলে গেল। পরদিন সকালেই সেই পুরুষটাকে নিজের বাসায় দেখল। তখন থেকেই একটু একটু করে শুরু হয় দীঘির পা”গলামি। আগে মেয়েটা বেশ রাত করে বাড়ি ফিরত, তখন থেকে সন্ধা বেলাতেই তাকে বাসায় পাওয়া যেত। এমনকি অনেক সময় সারাদিন বাসায় থাকত। নানা বাহানায় অফিসে যেত। কত কত পেন্সিল আর্টের ছবি আঁকিয়েছে মেয়েটা তাহসিনের। তাহসিনকে যত রকম ভাবে বি”রক্ত করা যায় সে করেছে। নিচে তাহসিনের রুমে গিয়ে হুটহাট জড়িয়ে ধরেছে। কখনও তো গালে চুমুও খেয়েছে। তবু কখনও বলল না সে বিবাহিত বা বাচ্চা আছে।

—আগে কেন বললে না আমাকে?
তাহসিনের থমথমে মুখের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করল দীঘি।
—আমি জানতাম না আপনি এতদূর চলে আসবেন। জানলে…
—‘তুমি অন্য নারীকে স্পর্শ করে তার শরীরে নিজের সন্তান জন্ম দিয়েছ, তাহসিন?’ অবুঝের মতো প্রশ্ন করল দীঘি। তার গলার স্বর থরথর করে কাঁপছে। মেয়েটা তো সহজে কাঁদে না! বাবার মৃ”ত্যুর পর কোনো ঝড়-ঝাপটাতেই তার চোখ দিয়ে পানি পড়তে দেখা যায়নি। অথচ আজ তার গলা ধরে আসছে, বুক ঠেলে কান্না আসছে। দু’চোখের কোল বেয়ে নামছে নোনতা পানির তীব্র ধারা।
​তাহসিন কোনো জবাব না দিয়ে অপরাধীর মতো মাথাটা নিচু করে ফেলল। ​দীঘি এগিয়ে গিয়ে দু’হাতে চেপে ধরল তাহসিনের জামার কলার।

— এই বল! আগে কেন বলিসনি আমায়? কেন বলিসনি তুই অন্য নারীকে স্পর্শ করেছিস? কেন বলিসনি তোর বাচ্চা আছে? কেন?!
সাউন্ডপ্রুফ রুম হওয়ায় বাহিরে গেল না দীঘির চি*ৎকার। তাহসিন দীঘির হাত ধরে বলল,
— আপনার আর আমার মধ্যে এমন কোনো চুক্তি বা অধিকারের সম্পর্ক ছিল না, যে এই সত্যিটা আমাকে বলতেই হতো। আর হ্যাঁ, এটাই বাস্তব, আমার সন্তান আছে।
— তুমি ঠিক করোনি, তাহসিন! অন্য কাউকে ছুঁয়েছ আর তার পেটে বাচ্চা দিয়েছ এটা তোমার আগেই বলা উচিত ছিল। অন্তত তাহলে তোমার মতো একটা সেকেন্ড-হ্যান্ড পুরুষকে আমি ভালোবাসতাম না! কারণ আমি আমার পছন্দের জিনিস স্পর্শ করা তো দূর, তার ওপর অন্য কারও ছায়াও আমি সহ্য করি না!
তাহসিন কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল দীঘিকে, তবে তার আগেই দীঘির হাতের এলোমেলো চ”ড় খেতে হলো তাকে। তাহসিনকে আর কিছু বলার সুযোগই দিল না দীঘি। অফিস থেকে বের হয়ে গেল।

অন্যান্য দিনের চেয়ে আজ শরীরটা একটু বেশিই ভার ভার লাগছে ঝিলমিলের। বুকের ভেতরটা কেমন যেন চেপে আসছে, নিঃশ্বাস নিতেও কষ্ট হচ্ছে। গলার কাছটায় ঘন ঘন গরম নিঃশ্বাস এসে পড়ছে। অস্বস্তিতে ভ্রু কুঁচকে চোখ বন্ধ রেখেই সে হাতটা নিজের বুকের দিকে বাড়াল। কিন্তু স্পর্শ পেতেই তার হাতের আঙুলগুলো হঠাৎ জমে গেল। ​নরম কাপড়ের বদলে হাতের তালুতে ঠেকলো শক্ত কাঁধ আর রুক্ষ চুল। ​চোখ মেলে তাকাতেই কিশোরীর বুকের স্পন্দন থমকে গেল!
​গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন বারিশ তার বুকের ওপর মাথা রেখে নিঃশব্দে শুয়ে আছে। লোকটার চওড়া শরীরটার অনেকটাই ঝিলমিলের ওপর চেপে বসে আছে। হঠাৎই ঝিলমিলের চোখ গেল নিচের দিকে। সেখানে যা দেখল এবারে তার পুরো শরীরটাই অচেনা শিহরণে শিউরে উঠল! যেন মাথার চুল থেকে পায়ের নখ পর্যন্ত একটা অবশ করা বিদ্যুৎ খেলে গেল। চামড়ার ওপর হাজারটা সূক্ষ্ম কাঁটা ফুটে বের হলো নিমিষেই। ​লোকটার একটা হাত পূর্ণ অধিকার নিয়ে চেপে বসে আছে ঝিলমিলের বুকের বিপদসীমার ওপর!

নিথর কাঠ হয়ে কিছুক্ষণ সেদিকে তাকিয়ে রইল মেয়েটা। শুকনো ঢোক গিলে ধীরে ধীরে সরিয়ে দিলো হাতটা। তারপর পুরো শরীরটাই ঠেলতে শুরু করল।
—আপনার সাহস এত বেড়ে গিয়েছে! আমার উপর এসে শুয়ে আছেন। সরুন!
বেশ কিছুক্ষণ চেঁচামেচি করার পর ঘুম ভাঙল বারিশের। মাথা তুলে ঝিলমিলের দিকে তাকিয়ে গম্ভীর, জোরালো গলায় বলল,
— হোয়াট হ্যাপেনড? সকাল সকাল মাথার কাছে এসে এভাবে চেঁচামেচি করছ কেন?
​বলতে বলতেই সে গায়ের ভার সরিয়ে নিয়ে বিছানার নিজের দিকে সরে গেল। ​ঝিলমিল সাথে সাথে কিছু বলতে পারল না, স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে রইল লোকটার দিকে। যেন সদ্য শোনা কন্ঠস্বরটা এখনও তার কানে গিয়ে বাজছে। আওয়াজটা কি একটু বেশিই ভালো শোনাল? লোকটার গলার স্বর এমনিতেই বেশ ভারিক্কি আর সুন্দর, কিন্তু ঘুমভাঙা এই নিচু স্বরটা যেন আরও অদ্ভুত রকমের আকর্ষণীয় লাগছে!
​ভাবনাটা মাথায় আসতেই নিজেকে মনে মনে ধিক্কার দিয়ে জিভ কাটল ঝিলমিল। নাক-ভ্রু কুঁচকে বলল,
— আমার ওপর এসে শুয়েছিলেন কেন, শুনি? আর কিছুক্ষণ এভাবে থাকলে তো আমি দম আটকে ম”রেই যেতাম!
​বারিশের শান্ত জবাব,

— আমি নিজে থেকে তোমার ওপর যাইনি। তুমিই আমাকে টেনে তোমার ওপর এনেছিলে।
​— অসম্ভব! বাজে কথা বলবেন না একদম, আমি কখনোই এমন কাজ করতে পারি না!
— মনে করে দেখো, কাল রাতে ঝড়ের সময় আমার কাছে এসে কীভাবে কাঁপছিলে।
ওয়াশরুমে চলে গেল বারিশ। ফ্রেশ হয়ে বের হতে হতে ঝিলমিলের কাল রাতের কথা মনে পড়ে গেল। সে বলল,
— তাই বলে সারারাত আপনি আমার উপর শুয়ে থাকবেন?
বারিশ ভেজা চুলে তোয়ালে মুছতে মুছতে অত্যন্ত স্বাভাবিক গলায় বলল,
— ওহ, স্যরি! আমি হয়তো ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। বাই দ্য ওয়ে, অতই যখন কষ্ট হচ্ছিল, তুমি আমাকে ধা”ক্কা দিয়ে সরিয়ে দিলে না কেন?
তীক্ষ্ণ চোখে তাকাল ঝিলমিল। ঝিলমিল তো চেষ্টা করেছিল। পাথরটাকে সরাতে না পেরে ক্লান্ত হয়ে নিজেই ঘুমিয়ে পড়েছিল।

— পাহাড়ি চাটগাঁইয়া ষাঁড়ের মতো শরীর বানিয়ে রেখেছেন, সরাব কী করে?
বিড়বিড় করে বলতে বলতে ওয়াশরুমে যাচ্ছিল ঝিলমিল। বারিশ টেনে ধরে বলল,
— কী বললে?
— কাল রাতে ঝড় হয়েছিল বলে আমি একটু ভয় পেয়েছিলাম, তাই বলে আপনি তার পূর্ণ সুযোগ নেবেন?
বারিশ ঝিলমিলের কানের কাছে মুখ নিয়ে মৃদু আওয়াজে বলল,
​— সুযোগই যদি নেওয়ার হতো, তবে সকালে আস্ত জামাকাপড়ে ঘুম ভাঙত না তোমার।
কানের দুই পাশ দিয়ে গরম ভাপ বের হতে শুরু করেছে কিশোরীর! কানের লতি থেকে শুরু করে গাল, ঘাড় আর গলার চামড়া এক নিমিষে টকটকে লাল হয়ে মারাত্মক রকম গরম হয়ে উঠল। লোকটা এতোটা স্পষ্ট, এতোটা নি”র্লজ্জভাবে এমন একটা কথা কানের কাছে এসে বলতে পারে—তা ঝিলমিলের ধারণারও বাইরে ছিল এই মুহূর্তে। সে আর কিছু না বলে নিজেও ওয়াশরুমে চলে গেল।
ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে রুম ফাঁকা পেল সে। একটা কূর্তি আর স্কার্ট বের করে বিছানায় রাখল। প্রথমে পড়ে নিলো স্কার্টটা। টি-শার্টটা খুলতে থাকা অবস্থায়ই দরজার শব্দ পেয়ে চেঁচিয়ে উঠল,

— ‘রুমে এলে নক করে আসতে হয়, আপনি জানেন না?’
খোলা টি-শার্টটা বুকের সঙ্গে শক্ত করে চেপে ধরে উল্টো দিকে ঘুরতে ঘুরতে বলল ঝিলমিল।
— ‘আমার রুমে আমি আসব, নক করে কেন আসতে যাব?’
সঙ্গে সঙ্গে বারিশের উত্তর এলো পেছন থেকে।
এই মুহূর্তে গায়ে কেবল স্কার্ট ছাড়া আর কিছুই নেই ঝিলমিলের। লোকটার এমন বেহায়াপূর্ণ কথা শুনেই এক মুহূর্তে মেজাজ বিগড়ে গেল তার। ক্ষো”ভ চেপে রেখে বলল,
— ‘বের হোন রুম থেকে, দ্রুত!’
— ‘পারব না। যা করার তাড়াতাড়ি শেষ করো, কাজ আছে আমার।’
দরজার দিকে মুখ করে দাড়ানো বারিশ।
ঝিলমিল দাঁড়িয়ে আছে বিছানার পাশে। ওয়াশরুমে যেতে হলে ওই মেইন দরজা টপকেই যেতে হবে, যেখানে লোকটা পাহাড়ের মতো দাঁড়িয়ে আছে। চরম বিপাকে পড়ে গলার রগ ফুলিয়ে বলল,
— ‘আপনি না গেলে আমি কীভাবে শেষ করব?’
— ‘আমি ঠিক পাঁচ মিনিট সময় দিলাম। এর মধ্যে শেষ না হলে কিন্তু আমি এসে আমার কাজ শুরু করে দেব।’

ঝিলমিল ঘাড় ঘুরিয়ে বারিশের চওড়া পিঠটার দিকে তাকাল। রাগে রি-রি করে উঠল পুরো শরীর। ইচ্ছে করছে পেছন থেকে শক্ত একটা ধা”ক্কা মেরে লোকটাকে রুম থেকে বের করে দিয়ে দরজায় খিল তুলে দিতে! দাঁতে দাঁত চেপে সে বলল,
— ‘আপনি এই পাঁচ মিনিট রুমের বাইরে গিয়ে দাঁড়ান!’
— ‘পারব না। তাছাড়া তোমার এসব দেখার কোনো ইন্টারেস্ট আমার নেই।’
কথাটা শুনে যেন মাথার রগ ছিঁড়ে গেল ঝিলমিলের! রাগে-লজ্জায় পায়ের তলা থেকে শিউরে ওঠার মতো অনুভূতি । বলে কী লোকটা! কিসের দেখার কথা বলছে? তাকে দেখাতে চেয়েছেই বা কে? আশ্চর্য তো!
— ‘আর চার মিনিট।’
বারিশের ভারী কণ্ঠস্বর কানে আসতেই ঝিলমিল আর এক মুহূর্ত সময় নষ্ট করল না। হাতে চেপে ধরা টি-শার্টটা দ্রুত বিছানার ওপর ছুড়ে মেরে ইনারটা এক টানে খুলে ফেলল। তারপর বেড থেকে কুর্তির সাথে মেলা ইনারটা তুলে নিয়ে চটজলদি পরে ফেলল। হাত দুটো কাঁপছিল তাড়াহুড়োয়।

— ‘আর তিন মিনিট।’
ঝিলমিল আরও দ্রুত হাতের কাজ চালাল। ওপরের কুর্তিটা তড়িঘড়ি করে গায়ের মধ্যে গলিয়ে নিয়ে কোনো মতে শ্বাস ফেলল।
— ‘শেষ!’ কুর্তির হাতাটা ঠিক করতে করতেই বলল সে।
কাচের জানালা থেকে এতক্ষণে চোখ সরাল বারিশ। বুক চিরে একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এলো তার। অলক্ষ্যে গলার নালী বেয়ে এক ঢোক গিলল সে। জানালাটা ছিল ঠিক দরজার গা-ঘেঁষেই। যেখানে পুরো ঘরটা তো বটেই, ঝিলমিলের অনাবৃত শরীরের স্পষ্ট প্রতিচ্ছবিও এতক্ষণ কাচের ওপর একদম পরিষ্কার দেখা যাচ্ছিল।
—‘ ইন্টারেস্টিং ভিউ…’ পকেটে হাত গুজতে গুজতে আনমনেই বিড়বিড় করল বারিশ।
—‘কিছু বললেন?’
—‘ না।’
—‘ কেথায় যাচ্ছেন? আপনার না কাজ আছে?’ বারিশকে রুম থেকে বের হয়ে যেতে দেখে বলল ঝিলমিল।
—‘ শেষ।’ বলেই রুম থেকে বের হয়ে গেল লোকটা।

ঝিলমিল একবার দেওয়াল ঘড়ির দিকে তাকাল। সকাল নয়টা বাজে। শুক্রবার হওয়ায় এলার্মের বাজে শব্দ বাজেনি। নাহলে ভোরেই উঠতে হতো তাকে। সে এবার নিজেও নিচে যাওয়ার উদ্দেশ্যে পা বাড়াতেই কাচের জানালার দিকে দৃষ্টি গেল তার। যেখান থেকে ঝিলমিলের এতক্ষণ দাড়িয়ে থাকা জায়গাটা দেখা যাচ্ছিল। সে এখন দাড়িয়ে আছে বারিশের জায়গাটায়। এতক্ষণ লোকটা এখানেই দাড়িয়ে ছিল। মাত্র ঘটে যাওয়া সবকিছু মাথায় ঘুরপাক খেতেই গরম হয়ে গেল শরীর। সে নিজেই একবার নিজেকে ভালোভাবে দেখে নিলো। তাড়াহুড়ো করে ওড়নাটা গায়ে ভালোভাবে জড়িয়ে নিয়ে হনহন করে নিচের দিকে পা বাড়াল সে। যেন লোকটাকে সামনে পেলেই মাথা ফা”টিয়ে দেবে।

— বালিশ চাচুউউউ…
সোফাতে বসে ফোন দেখছে বারিশ। হঠাৎই এক বাচ্চার গলা পেয়ে চোখ তুলে তাকাল সে। দেখল সদর দরজা দিয়ে দৌড়ে আসছে ঝিলমিলের ছোট ভাই জিহান। দৌড়ে এসেই বারিশের গলায় ঝুলিয়ে পড়ল। পেছন পেছন আসছে মেহরাজ। ভাতিজার মুখে চাচ্চু ডাক শুনে সে বলল,
— আরে এখনও চাচ্চু বলে, ভাইয়া বলতে বলেছি না? ও তোমার ভাইয়া হয়।
জিহান লাফিয়ে বারিশের কোলে বসতে চাইল, কিন্তু বারিশ তাকে কোলে নিল না। তাকে ধরে সোফার একপাশে বসিয়ে গম্ভীর গলায় শুধাল,
— কে চাচ্চু তোমার?
— তুমি।
— উহু…ভাইয়া।
— আব্বু বলেচে তুমি আমাল চাচু।
মনে মনে চরম বিরক্ত হলো বারিশ। বউয়ের মুখ থেকে ‘চাচ্চু’ ডাক বন্ধ করাতে পারলেও এই পিচ্চি শালা এখনও শুধরায়নি! বারিশ একটু ঝুঁকে জিহানের কানের কাছে গিয়ে ফিসফিস করে বলল,
— তোর বাপ তোর চাচ্চু। আজ থেকে তোর বাপকে চাচ্চু ডাকবি। তাহলে আমি তোকে দুটো করে ললিপপ কিনে দেব।

— আচ্ছা।
জিহানের চোখ চিকচিক করে উঠল।
— ‘কিরে আমাকে পাত্তাই দিচ্ছিস না!’ বারিশের মুখোমুখি সোফাতে বসতে বসতে বলল মেহরাজ।
—‘ তুই কী এখনও সেদিনের ব্যাপারে রেগে আছিস?’
বারিশ ফোনের দিকে চোখ রেখেই কাঠফাটা গলায় বলল,
— এখানে এসেছিস কেন? কে পাঠিয়েছে তোর ভাই?
— সে কেন পাঠাবে? আমি কী এখানে আসতে পারি না? আর
জিহান জাহানকে দেখার জন্য বায়না ধরেছিল তাই নিয়ে এলাম। ওই তো জাহান আসছে।
ঝিলমিল দ্রুত পায়ে নিচে আসছে। তার পেছন পেছন চঞ্চল সাহেব ঝর্ণা বেগমও আছসে।
—‘ ধীরে নামো, পড়ে যাবে তো।’ চঞ্চল সাহেব বললেন।
ঝিলমিল সে-সব না শুনেই নেমে এলো। ততক্ষনে জিহান এসে বোনকে জড়িয়ে ধরেছে।
মেহরাজ ঝিলমিলের দিকে তাকিয়ে বলল,

— কীরে এভাবে কেউ সিঁড়ি দিয়ে নামে?
— ধীরেই তো নামছিলাম চাচ্চু। তোমরা কখন এলে?
কথা বলা অবস্থাতেই নাক ফুলিয়ে বারিশের দিকে আড়চোখে
তাকাল ঝিলমিল। এমন সময়ে তার চাচা এসেছে লোকটাকে কিছু বলতেও পারছে না!
— মাত্রই এসেছি। বোস এখানে।
সোফায় নিজের কাছে জায়গা করে দিলো মেহরাজ। বারিশ বাঁধা দিলো,
— ও বসবে না। যাও নাস্তা বানাও, আমার ক্ষিদে পেয়েছে।
মেহরাজ অবাক হলো। সে একবার পেছনে ডাইনিং টেবিলের দিকে তাকাল। যেখানে বাসার কাজের লোকেরা আর শিউলি বেগম সকালের নাস্তা সাজাচ্ছে।

— নাস্তা তো তৈরিই, ও কেন বানাবে?
ঝিলমিল জানে বারিশ এখন ত্যাড়া উত্তর দেবে। সে নিজের চাচার কানের কাছে গিয়ে বিড়বিড় করে বলল,
— ওদের বাসার কাজের লোক বড্ড নোংরা, চাচ্চু। খাবার খেতে তৃপ্তি আসে না আমার। তাই আমি নিজেরটা নিজেই বানিয়ে খাই। মাঝেমধ্যে উনাকেও দেই।
— ‘কী বলিস! এভাবে কতদিন?’
মেহরাজও একই ভঙিতে গলার স্বর নিচু করে বলল।
— ‘আমার অভ্যেস হয়ে গেছে। এত ভেবো না।’
বলেই বারিশের দ্বিতীয়বার তাগাদা দেওয়ার আগেই ঝিলমিল সোজা রান্নাঘরের দিকে পা বাড়াল। ​ঘণ্টাখানেক পর ট্রে-তে করে ধোঁয়া ওঠা গরম কফি আর নিজের হাতে তৈরি স্পেশাল চিকেন স্যান্ডউইচ সাজিয়ে ড্রয়িংরুমে নিয়ে এল ঝিলমিল।
​ততক্ষণে শিউলি বেগম মেহরাজকে ডাইনিং টেবিলে খাওয়ার জন্য ডাকলেন।

— ‘ আমি বাসা থেকে একপ্রকার খেয়েই এসেছি। একদম জায়গা নেই।’
​কিন্তু ঠিক তখনই ঝিলমিল ট্রে-টা এনে সেন্ট্রাল টেবিলের ওপর রাখল। স্যান্ডউইচগুলোর চমৎকার ঘ্রাণ আর লোভনীয় সাজানো দেখে মেহরাজের পেটের ক্ষিদে যেন নতুন করে জেগে উঠল। সে মুচকি হেসে বলল,
— ‘আমার ভাইজির বানানো স্যান্ডউইচ দেখে তো আর লোভ সামলাতে পারছি না। দে তো একটা!’
​পাশে বসে থাকা জিহানও পা দুলিয়ে বলে উঠল,
— ‘আমিও খাবো, আপু!’
​ঝিলমিল প্লেট দুটো এগোনো মাত্রই বারিশ কোনো রকম ভণিতা না করে খপ করে প্লেট দুটো নিজের দিকে টেনে নিল। তারপর একদম সটান গলায় বলল,
— ‘টুম্পা! ওখান থেকে কয়েকটা পরোটা আর মিষ্টি এনে এদের দাও তো!’
​তারপর বারিশ একদম ভাবলেশহীন মুখে স্যান্ডউইচের থালাটা কোলের কাছে টেনে নিয়ে নিজের মতো খেতে শুরু করল। ​জিহান ঠোঁট ফুলিয়ে কান্নার উপক্রম।

— আপু দাও…
— কী হলো? আপনি ওদের দিচ্ছেন না কেন?
বারিশ কোনো উত্তর না বলে সবগুলো খাবার নিয়ে উপরে চলে গেল। ঝিলমিল শুধু একরাশি বিরক্তি আর বিস্ময় নিয়ে লোকটার কাণ্ডকারখানা দেখল! মেহরাজ যদি বারিশের বন্ধু না হতো তাহলে বোধহয় অপমান বোধ করত। তবে বন্ধু হওয়ায় তার কিছু যায় আসল না। কিন্তু ঝিলমিল নিজেই কেমন লজ্জা পাচ্ছে৷ সে প্রসঙ্গ পাল্টানোর জন্য বলল,
— ফুপি কোথায়? ফুপিকে নিয়ে আসতে।
—‘ ওকে কাল রাত থেকে পাচ্ছি না। নিশ্চয়ই কোনো বন্ধুর সাথে ঘুরতে গিয়েছে।’
ঝিলমিলেট খটকা লাগল। সে বলল,
— তাহসিন আঙ্কেল কোথায়?
— ও তো বাসায়ই, কেন?
— এমনি। ফুপির ফোন বন্ধ?
— না, তবে কল তুলছে না।
আর কিছু জিজ্ঞেস করল না এ ব্যাপারে। মেহরাজ আর কিছুক্ষণ বসে জিহানকে নিয়ে চলে গেল।

গভীর নির্জন মাঝরাত। চারপাশটা একদম নিঝুম। ​নাইট ক্লাবের তীব্র ঝাঁজালো আবহে অতিরিক্ত ম”দ গিলে দীঘি এখন পুরোপুরি অসাড়। নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে থাকার এতটুকু সাধ্যও নেই তার। লোকচক্ষুর আড়ালে তাকে নিজের বাহুডোরে আগলে, কোলে তুলে সোজা বাসায় নিয়ে এলো তাহসিন। ঘরের আবছা আলোয় ধীর গতিতে দীঘিকে বিছানার শুইয়ে দিল সে।
ম”দের ঘোর আর যন্ত্রণায় দীঘির ঠোঁট দুটো থেকে থেকে বিড়বিড় করে উঠছিল। চোখের পাতা দুটো অস্বাভাবিক ভারী।
​কিন্তু কারও স্পর্শের ওমে অস্পষ্টভাবে চোখ মেলে তাকাতেই সামনে তাহসিনের আবছা মুখ দেখতে পেল। ​চিনতে পারার পরমুহূর্তেই দীঘির বুকের গহীনে জমা থাকা কষ্টগুলো তীব্র ব্য”থায় মোচড় দিয়ে উঠল। মেকি রাগে আর অস্ফুট গলায় সে বলে উঠল,

— ‘তুমি… তুমি আমাকে একদম স্পর্শ করবে না! দূরে থাকো… চলে যাও এখান থেকে।’
​তাহসিন কোনো কথা বলল না। সে ঝুঁকে পড়ে দীঘির কপালের ওপর ছড়িয়ে থাকা এলোমেলো চুলগুলো ধীর হাতে সরিয়ে দিতে দিতে নিচু, সিক্ত গলায় বলল,
— ‘যারা সত্যি ভালোবাসে, তারা সবকিছু মেনে নেয় ম্যাম।’
​দীঘির চোখ দুটো টলমল করে উঠল নোনা জলে। সে মাথা নেড়ে আকুল হয়ে বলল,
— ‘আমি পারব না… আমি পারব না!’
​তাহসিন হালকা একটু হাসল,
— ‘তবে বলতে হয়, আপনার ভালোবাসা মিথ্যে ছিল।’
​— ‘মেয়েরা তার নিজের পুরুষের কাছে অন্য কোনো নারীকে সহ্য করতে পারে না তাহসিন! সেখানে তুমি তো অন্য একজনকে নিজের হাতে স্পর্শ করেছো…’
— আচ্ছা মানতে হবে না। তবে এভাবে নিজেকে কেন কষ্ট দিচ্ছেন?
— আমি তোমাকে ভুলে যেতে চাই।

পরীক্ষা দিয়ে বাড়ি ফিরছে ঝিলমিল। তার পাশে ড্রাইভিং সিটে বসে গাড়ি চালাচ্ছে বারিশ। ঝিলমিল কাল থেকে একদম চুপচাপ আছে। একটা মানুষ এত নির্দয় হয় কীভাবে? মেহরাজ চাচ্চুর কথা না হয় বাদ। তাই বলে ছোট্ট একটা বাচ্চার মুখ থেকে খাবার কেড়ে নিতে হবে! ওই রাগে কাল থেকে বারিশের সাথে একটা বাড়তি কথাও বলেনি সে।
​তবে কালকের সেই ঘটনটার কথা মাথায় আসতেই আর নিজেকে আটকে রাখতে পারল না ঝিলমিল। সিটে সোজা হয়ে বসে জিজ্ঞাসা করল,
— ‘কাল যখন আমি ড্রেস চেঞ্জ করছিলাম, তখন আপনার চোখ কি জানালার দিকে ছিল?’
— কোন জানালা?
​— আমাদের রুমের দরজার পাশে যেটা আছে!
​— মনে নেই।
​— সত্যি করে বলুন, আপনি কিছু দেখেছিলেন?
— কেন, দেখার মতো কিছু দেখাচ্ছিলে তুমি?
​শুনে স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে রইল ঝিলমিল। লজ্জা আর অস্বস্তিতে কানের লতি দুটো নিমিষেই গরম হয়ে উঠল তার। তোতলে উঠে বলল,

— ‘আ-আপনি… আপনি এভাবে কথা বলবেন না! সেখানে দাঁড়িয়ে আপনি সত্যি কিছু দেখেছেন কি না, সোজাসুজি বলুন!’
​বারিশ আস্তে করে গাড়ি স্লো করে ঘাড় ঘুরিয়ে ঝিলমিলের আপাদমস্তক একবার পরখ করে নিল। তারপর ধীর গম্ভীর গলায় বলল,
— ‘যদি বলি দেখেছিলাম, তাহলে আর জীবনে আমার সামনে আসতে পারবে?’
​কথাটা শুনে ঝিলমিলের মুখ একদম বন্ধ হয়ে গেল। কতক্ষণ অপলক চোখে তাকিয়ে থেকে ঝট করে মুখ ঘুরিয়ে জানালার বাইরে তাকিয়ে রইল সে। বারিশের ঠোঁটের কোণে ফুটে উঠল এক চিলতে বাঁকা হাসি।

এরপর পুরো রাস্তায় দুজনের মধ্যে আর কোনো কথা হলো না। কিছুক্ষণ পর কয়েকটা অ্যাপল শোরুমের সামনে গাড়ি থামাল বারিশ। ঝিলমিলকে গাড়িতে বসিয়ে রেখে ভেতরে গেল সে, ঠিক দশ মিনিটের মাথায় ফিরে এল হাতে একটা প্যাক করা আইফোন ১৭ এর বক্স নিয়ে। গাড়িতে উঠেই বক্সটা ঝিলমিলের কোলে ছুঁড়ে দিয়ে বলল,
— ‘নাও, ধরো।’
​কোলে পড়া আইফোন ১৭-এর লেটেস্ট মডেলটা দেখে ঝিলমিলের চোখের তারা চকচক করে উঠল! কিন্তু পরমুহূর্তেই কিছু একটা মনে করে বক্সটা বারিশের দিকে ঠেলে দিয়ে বলল,
— ‘আমার লাগবে না এটা।’
​বারিশ কোনো তর্ক করল না। কিছুক্ষণ ঝিলমিলের দিকে তাকিয়ে থেকে প্রশ্ন ছুড়ে দিলো,
— নেবে না?
— না।
থমথমে মুখে ফোনটা হাতে নিয়ে গাড়ির গ্লাসটা এক এক করে পুরোটা নিচে নামাল। তারপর ঠান্ডা গলায় বলল,

— তুমিও নেবে না, আর আমি তো এটা ব্যবহার করব না। সুতরাং দরকার নেই এটার।
​বলেই হাতের ফোনটা সজোরে বাইরে ছুঁড়ে ফেলার ভঙ্গিতে জানালার বাইরে হাত বাড়াল সে।
​— ‘আরে! করছেন কি!’
ঝিলমিল আতঙ্কে প্রায় চি”ৎকার করে উঠে বারিশের হাতটা দু-হাতে আঁকড়ে ধরল। দেড়-দুই লাখ টাকার এই ফোনটা এভাবে রাস্তায় ফেলে দেবে?! লোকটা কি সত্যি সত্যিই পাগল নাকি! ঝিলমিল ফোনটা নিজের কাছে নিয়ে রেখে দিলো। বারিশ আর কথা না বাড়িয়ে গাড়ির ইঞ্জিন স্টার্ট দিল। তার ফর্সা মুখটাতে ফুটে উঠেছে একটা থমথমে ছায়া। সেটা কি দুশ্চিন্তা নাকি বিরক্তি, তা যাচ্ছে না।
​পরিণীতা মেয়েটা সবসময়ই তাকে ভীষণ বিরক্ত করে। আজও মেয়েটার সাথে দেখা হয়েছে তার। কথা শেষে বারিশ যখন ওকে পেছনে ফেলে চলে আসছিল, ঠিক তখনই পেছন থেকে এক অদ্ভুত মিষ্টি কিন্তু তীক্ষ্ণ গলায় ডেকে উঠে পরিণীতা,

​— ‘ওকে, বাই আরজে বারিশ…!’
​শব্দটা কানে পৌঁছাতেই বারিশের হাঁটা থেমে গেল, মুহূর্তেই পুরো শরীর বরফের মতো জমে গেল তার! কিছুক্ষণ সটান দাঁড়িয়ে থেকে ধীরে ঘাড় ঘুরিয়ে, প্রশ্নবোধক চোখে তাকাল মেয়েটার দিকে।
​পরিণীতা ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটিয়ে শুধাল,
— ‘কী হলো? অবাক হলে খুব?’
​বারিশ নিজের মনের ভেতরের ঝড়টা মুখভঙ্গিতে প্রকাশ পেতে না দিয়ে বেশ কাঠখোট্টা গলায় জবাব দিল,
— ‘না।’
​— ‘কী ভেবেছ, আমি তোমাকে চিনতে পারব না? পৃথিবীর আর সবাই ভুলে গেলেও, আমি কোনোদিন ভুলিনি… আর পারবও না।’

শুকনো পাতার নূপুর পায়ে পর্ব ১৯

​বলতে বলতেই পরিণীতা ঘাড় থেকে নিজের একপাশের চুল সরিয়ে একপাশে সরিয়ে দিল। আর সঙ্গে সঙ্গেই তার ফরসা ঘাড়ে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠল কালো কালিতে আঁকা এক গাঢ় ট্যাটু। যেখানে ইংরেজিতে স্পষ্ট অক্ষরে লেখা: ‘RJ BARISH’।
​ট্যাটুটার দিকে চোখ পড়তেই বারিশের এতক্ষণের ধরে রাখা থমথমে চেহারায় এবার সত্যি সত্যিই গভীর বিস্ময় আর চরম অস্বস্তির ছাপ ফুটে উঠল!

শুকনো পাতার নূপুর পায়ে পর্ব ২১