সে খলনায়ক পর্ব ২৮
ফারহানা সানিয়াত
ভারী বর্ষণের পর যখন কালো মেঘগুলো আকাশ থেকে সরে যায়। তখন এক নতুন স্বচ্ছ পরিবেশের দেখা মিলে। তেমন প্রানপ্রিয়ার জীবন থেকেও হঠাৎ আশা কালো মেঘ সরে আবারোও তার হাসি খুশি থাকা প্রানোচ্ছল দিন শুরু হয়, সেই এঙ্গেজমেন্ট পার্টির রাতের পর থেকে এরপর দেখতে দেখতে কিভাবে যেন তিন তিনটি মাস কেটে যায়।
কি অদ্ভুত সময় কত দ্রুত চলে যায় তাই না। কেটে যাওয়া তিন মাসের মধ্যে প্রানপ্রিয়া তার এইচএসসি এক্সাম শেষ করে প্রাইমারি স্কুলে ড্রয়িং টিচার হিসেবে জয়েন করেছে, যেটা সে আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছিল। এখন সে একজন স্কুল শিক্ষিকা তার স্বাভাবিক দিনগুলি এখন অন্য রকম সুন্দর। আশ্রম, স্কুল দুটো মিলিয়ে তার জীবনে সুখের নতুন অংশ তবে সুখের মধ্যে একটু হতাশা একটু বিরক্ত ও যুক্ত রয়েছে যার কারণে আজকাল তার নিয়ম করে বেলা একবার কপাল চাপড়াতে হয়,
কি… ব্যাপারটা হাস্যকর না?
অবশ্যই হাস্যকর প্রানপ্রিয়া ও মাঝে মাঝে একা একা হাসে বিরক্তি হতাশা হলেও। আচ্ছা এর কারণটা বলি কেনো, মনে আছে না ইভানের অনুভূতি প্রকাশ সে বলেছিল আবারো বলবে প্রতিদিন ই বলবে, বিগত তিন মাসের সে তার নিজের এই কথা স্থির এবং এখনো,,
এবার চলুন গল্পের ভেতর প্রবেশ করা যাক,
পূর্বাঞ্চল প্রাইমারি স্কুল প্রথম শ্রেণী থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত। কিছু বড় বড় গাছ আর চারপাশে ফুল গাছ ঘেরা দুতলা বিশিষ্ট স্কুলটিতে বাচ্চাদের সাথে
প্রাণপ্রিয়ার দিনের অর্ধেক সময় এখন পার হয়। আপাতত সে তৃতীয় শ্রেণীর ক্লাসে ড্রয়িং ক্লাস নিচ্ছে রংবেরঙের চক দিয়ে বোর্ডে পশু পাখির ছবি আর্ট করে বাচ্চাদের শেখাচ্ছে। বাচ্চারাও খুবই খুশি মনে শিখছে, প্রিয় ম্যাডামের ক্লাস বলে কথা।
যাইহোক ক্লাস শেষ হওয়ার ছুটির ঘন্টা বেজে উঠতেই প্রাণপ্রিয়া বাচ্চাদের সাথে মিলে বিদায়ের একটা কবিতা বলে হাসিমুখে ক্লাস থেকে বের হয়ে যায় অতঃপর, টিচার্স রুমে বাকি শিক্ষকদের সাথে প্রেজেন্ট খাতা আর কিছু নিজের আর্ট করার সরঞ্জাম রেখে কাঁধে ব্যাগ ঝুলিয়ে হেলে দুলে হাঁটতে হাঁটতে স্কুলের গেট দিয়ে বের হয়।
মাথার উপর উত্তপ্ত সূর্যের তীব্র তাপের কারণে শরীরের ক্লান্তি ভাব দেখা দিচ্ছে তার, আহ বাসায় গিয়ে ঠান্ডা পানির শান্তি একটা শাওয়ার নিলে সব ক্লান্তি দূর হয়ে যাবে। নিজ ভাবনায় হাসিমুখে হা করে শ্বাস ফেলে আশ্রমের পথে হাটা ধরবে তৎক্ষণাৎ মোবাইল টুং করে নোটিফিকেশন আসার শব্দ,
প্রাণপ্রিয়া ঠোঁট কামড়ে চোখ বন্ধ করে নিজের কপালে নিজে একটা চাপড় মারে অতঃপর ব্যাগ থেকে নিজের ফোন বের করে দেখে স্ক্রিনে জ্বলজ্বল করছে কিছু গানের লাইন।
“তোমার ভোলা ভালা হাসি
আমার বুকের ভেতর ঝড়
তুমি চলতি ট্রেনের হাওয়া
আমি কাঁপি থরোথর।
তোমার নানান বাহানায় আমারে জায়গাটা কোথায় আমি কি এক করে থাকি ছিল কত কথা বাকি
তোমার গোপন সবই রয় আমার আপন মনে .. বাকি লাইনগুলো প্রাণপ্রিয়া আর পড়ে না দাঁতে দাঁত চেপে সরু চোখে মেসেজ পাঠানোর মালিক কে আশেপাশে খোঁজা শুরু করে। ব্যস্ত রাস্তায় মানুষ চলাচল সামনে কিছু মুদির দোকান আর পাশে একটা ভাজাপোড়ার হোটেল যেখান দাঁড়িয়ে মনের আনন্দে সমুচা খাচ্ছে ইভান, প্রাণপ্রিয়া ফসফস করে ওঠে একে তো…
__ এই মামা আরো তিন-চারটা সমুচা দিন তো, কানে ইয়ারফোন গুজানো ইভান সমুচা নিতে ব্যস্ত। তবে আকম্মিক পিঠে জোরদার একটা কিল পড়তে তার মুখ দিয়ে আহ শব্দ বের হয় তবে চামকায় না যেন সে জানতো এখন কিল খাবে আর আর প্রতিদিনকার অভ্যাস ও।
ইভান পিছের দিকে ঘুরে তাকায়,
__ কিরে ভাই কিল দিতে দিতে তো পিঠ তেড়া বানিয়ে ফেলবি।
প্রাণপ্রিয়ার বিরক্তিকর কন্ঠে বলে ওঠে,, একদম চুপ তোর মাথা থেকে ভালোবাসা ভূত কবে যাবে এটা বল? স্কুলে জয়েন করার পর থেকে তোকে আমি প্রতিদিন এই জায়গা দেখি। তোর কি বিরক্ত লাগে না এখানে দাঁড়িয়ে থাকতে আর মেসেজের কথা তো নাই বললাম আজকাল মনে হচ্ছে তুই আমার বন্ধু কম বেহায়া প্রেমিক বেশি।
ইভান প্রাণপ্রিয়ার কথায় কপাল কুচকে ফেলে কিন্তু কিছু বলে না। নিজের মত তার দিকে দৃষ্টি রেখে প্যাকেট থেকে সমচা বের করে তাতে কামড় বসায়।
প্রাণপ্রিয়ার হতাশার স্বাস ফেলে তার কিছু না বলার মানে সে এমনটাই করবে। প্রাণপ্রিয়া মাথা নত করে দু দিকে নাড়ায়,
ইভান তার খাওয়া শেষ করে দু হাত ঝেড়ে দোকান ওয়ালাকে টাকা দিয়ে সামনে দিকে হাঁটা ধরে সাথে প্রাণপ্রিয়া তার পিছে পিছে।
বিগত তিন মাস ধরে এমনটাই চলছে, প্রাণপ্রিয়ার দূরত্ব বজায় রেখে বন্ধুত্ব রাখার কথাটা ইভানের অনুভূতির একগুঁয়ে হওয়ার নিচে চাপা পড়ে গেছে কোনো ভাবে ই তাকে বুঝাতে পারিনি।
দুজন হাঁটতে হাঁটতে অনেকটা পথ চলে এসেছে ইভান পকেটে হাত গুজে শিশ বাজাচ্ছে পিছে প্রাণপ্রিয়া হতাশায় মাথা নিচু করে হাঁটছে তবে হঠাৎ ইভান থেমে যেতেই বেখেয়ালি ইভানের শক্তপোক্ত পিঠে ভারী খায়,
__ আহহ!
ইভান ঠোঁট কামড়ে হেসে ওঠে,
প্রাণপ্রিয়া নাক মুখ কুঁচকে কপাল ঘষতে ঘষতে বলে , তোর মাথা পুরোই গেছে ইভান আঙ্কেল কে বলে দয়া করে ডক্টর দেখা।
ইভান ঠোঁটে হাসি নিয়ে প্রাণপ্রিয়া দিকে ঘুরে দাঁড়ায়, আর আমার মাথা পুরোই যাওয়ার জন্য কে দাই?
প্রানপ্রিয়া কপাল থেকে হাত সরায়, তুই নিজেই এখন সর সামনে থেকে বলেই প্রাণপ্রিয়া ধুপ ধাপ পা ফেলে হাঁটা শুরু করে।
পিছন থেকে ইভান উঁচু কন্ঠে বলে ওঠে, আচ্ছা আমি নিজেই মানলাম কিন্তু ঠিক করার জন্য ডক্টর না তোকে লাগবে।
ইভান এমন কথা চেচিয়ে বলার কারণে রাস্তার মানুষ প্রানপ্রিয়ার দিকে তাকিয়ে, প্রাণপ্রিয়া আশেপাশে চোখ বুলায়, এই ছেলের তো!!! পায়ের গতি বাড়িয়ে দেয় সে তবে অবাক করা বিষয় মুখে তার বিরক্তির ভাব কেটে ঠোঁটের কোণে মিটিমিটি হাসি ফুটে ওঠে যেটা ইভানের চোখের আড়ালে।
তবে এর মানে তার ও মনে ইভানের জন্য অনুভূতি তৈরি হচ্ছে এমন কিছু না। তার কাছে ইভান সব সময় শুধু বন্ধু ছিল এখনো তবে তার বেহায়া প্রেমিক পুরুষ রূপ এটা বেশ হাস্যকর,
প্রানপ্রিয়া ঠোঁটে হাসি চওড়া করে দু দিকে মাথা নাড়ায়। পায়ের গতি বাড়ানো থেকে কিছুটা দৌড়িয়ে দৌড়িয়ে হাঁটতে থাকে এতে তার কোমর অব্দি হালকা আঁকাবাঁকা চুল আর পরনের চুরিদার হাওয়ায় হেলে দুলে উড়ে।
পিছনে ইভান প্রাণপ্রিয়া চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে এক হাত দিয়ে মাথা চুলকায়।
দিনগুলি এভাবেই যাচ্ছে মাসখানেক ধরে। হাসি খুশি খুনসুটিতে, জীবনে কালো মেঘ সরে যাওয়ার সাথে বাজে অপমানজনক স্মৃতিগুলোকে জোর করে সত্যি ই প্রাণপ্রিয়া ভুলে বসেছে। কিন্তু আগে বলেছিলাম ভালো কোনো কিছু সেটা সময় ই হোক না কেনো বেশি দিনের জন্য নয়। তাহলে কি হবে অনাথ প্রাণপ্রিয়া মেয়েটার জীবনে? নিয়তিতে কি আছে তার ?
অন্যদিকে কেটে যাওয়া তিন মাসে আবরার ম্যানশনে সারার আগের থেকেও বেশি আজকাল থাকা হয়। এমনটা হুমায়ুনের আদেশে, যার কারণে পরিবারের অনেক কিছুতে সারার গুরুত্বপূর্ণ বিয়ের আগেই বেড়ে গেছে ।আর গত এক মাস ধরে হুমায়ুনের ব্যবসায়িক দিকটাও তার পড়াশুনার পাশাপাশি তাকে শেখানো হচ্ছে।হুমায়ুনের ইচ্ছা তার ছেলে তার ব্যবসায় হাত না লাগালেও ছেলের বউ কে তার সব কিছু বুঝিয়ে দিবেন আর সব মিলিয়ে সারার আবরার ম্যানশনে জায়গা বাড়ির মেয়ের থেকে কম না কিন্তু,,
__ শুধু আবরারদের ব্যবসা আর পরিবার নিজের হলে হবে না সারা দামিয়ানকে ও হাত রাখতে হবে।
সোফার উপর বসা সারা হাতে চায়ের কাপ নিয়ে নিজের তার মমের দিকে তাকায়,
মিসেস চৌধুরী কাপে ঠোঁট ছোঁয়ান তার মুখে বাঁকা হাসি,
__ বুঝতেই তো পারছো এক সময় সবকিছু তোমার হবে তবে যদি দামিয়ানকে হাতে রাখো তাহলে। মনে রাখবে এংগেজমেন্ট হয়েছে বিয়ে ছাড়া কোনো কিছুতেই গ্যারান্টি নেই আর পুরুষ মানুষকে তো বোঝই তার মধ্যে দামিয়ান বাঙালি কালচারে মধ্যে বড় হয়নি আগেও বলেছি মাথায় রেখো।
সারা কপালে হালকা ভাজ ফেলে মাথা নাড়ায়,, এটা ঠিক দামিয়ান উগ্র কালচারে বড় হওয়া তার সবকিছু পাওয়ার মধ্যে প্রভাব পড়তে পারে। তার মনে আছে তিন মাসে আগে আহনাফের মুখ থেকে শোনা হোয়াইট ড্রেসের ব্যাপারটা সে খুব চিন্তাভাবনা করে ভালো করেই আন্দাজ করতে পেরেছিল ড্রেস একচুয়ালি গিফট কে পেয়েছিল।
সারা চায়ের কাপে ঠোট ছোঁয়ায় চোখে ভেসে ওঠে তিন মাস আগে পার্টিতে পড়া প্রাণপ্রিয়ার পরা দামি হোয়াইট কালার ওয়েসটান শাড়ি যেটা সে ধারণা করেছিল ইভান হয়তো গিফট দিয়েছে কিন্তু,,,
সারা হা করে শ্বাস ফেলে , নিজেকে স্বাভাবিক রেখেছে এই ব্যাপারটায় সে এত গভীরভাবে নেয়নি বা এখনও নিচ্ছে না কারন দামিয়ান রাশিয়াতে চলে গেছে সামান্য আশ্রিতা প্রাণপ্রিয়ার জন্য মনে কিছু জাগলেও এতদিনে এসব আবেগ অবশ্যই নেই ।
তবে এটা স্পষ্ট দামিয়ান যদি প্রাণপ্রিয়ার প্রতি আকৃষ্ট হয় সে কখনোই মানবে না আর সহ্য ও করবে। এটা অসম্ভব এমন না সে জেলাস, তার কিছু আসে যায় না দামিয়ান কি করছে না করছে। তার দরকার এই বাড়ির বউ হওয়া আর সবকিছু নিজের করা কারণ সে যোগ্য সেখানে ওই সামান্য অনাথ প্রাণপ্রিয়া হাহ।
মস্কো শহর। রাশিয়ার রাজধানী সেখানকার এক বিলাসবহুল প্যালেসের কাঁচের দেয়ালের সামনে দাঁড়িয়ে আছে দামিয়ান, দৃষ্টি তার বাহিরের দিকে নিবদ্ধ। রাশিয়াতে শীতকাল মাইনাস ডিগ্রি হওয়ার কারণে বাহিরে রাতের মত অন্ধকার,
__ স্যার আসবো, দরজার বাহির থেকে নিকলাইয়ের কন্ঠ।
দামিয়ান হালকা ঘাড় ঘুড়ায়,নিকোলাই রোবটের ন্যয় ভেতরে প্রবেশ করে।
__ স্যার ক্যাথরিন ম্যাম আপনাকে আজ ডিনারে ইনভাইট করেছেন।
দামিয়ান ভ্র কুঁচকে নিকলাইয়ের দিকে পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়ায়,
__ একচুয়ালি স্যার ম্যাম চাচ্ছেন আপনি বাংলাদেশ যাওয়ার আগে ফ্যামিলি ,,
দামিয়ান হাত উঁচু করে থামিয়ে দেয়।
__ আগে বলো কাজ ঠিকঠাকভাবে হয়েছে কি না।
নিকলাই মাথা নত করে জী স্যার সবকিছু নিখুঁতভাবে হয়েছে।
দামিয়ান বাঁকা হাসে পাশের টেবিল ওপর থেকে তার লং কোট হাতে নিয়ে বলে,,
__ তাহলে আমাদের ডিনারে না এখনই যাওয়া উচিত গাড়ি বের কর।
এন্টোনভ প্যালেসের বিশাল বড় গেট দিয়ে কালো রঙের দুটো গাড়ি প্রবেশ করে। সাদা আর সোনালী রঙের বিলাসবহুল প্যালেসটি দামিয়ানের নানা ধিমিত্রী এন্টোনভের তবে তিনি মারা যাওয়ার পর এখন ক্যাথরিন এন্টোনভের । যাইহোক কালো দুটি গাড়ি বিশাল গার্ডেনের রাস্তা পার হয়ে প্যালেসের সদর দরজার বরাবর গিয়ে থামে।
অতঃপর দুটো গাড়ির মধ্যে থেকে একটি গাড়ি থেকে দামিয়ান আর নিকোলাই বের হয় আরেকটি থেকে চারজন বডিগার্ড।
কালো রঙের লংকোট পড়া দামিয়ান মুখে বাঁকা হাসি ফুটে ওঠে সদর দরজার দিকে তাকায়ে অতঃপর ধীর পায়ে প্রবেশ প্যালেসের ভিতরে সাথে নিকলাই ও,
আধুনিক বিলাসবহুল প্যালেসে ঢুকতেই সুবিশাল বসার ঘরে দামিয়ানের চোখে পরে সোফায় বসে থাকা মিখাইলের দিকে। ৬০ বছরের লোকটি কে দেখলে তার বয়স অনুমান করা কঠিন। ফর্সা ধবধবা ত্বক চুল আর মুখের চাপ দাড়ি একদম সাদা, ফিটনেস ইয়ং ছেলেদের মত। আপাতত সে হাতে মদের গ্লাস নিয়ে খুশিমনে কিছুক্ষণ পরপর তাতে চুমুক বসাচ্ছে।
দামিয়ান খুব শান্ত স্বাভাবিকভাবে তার বরাবর গিয়ে পায়ের উপর পা তুলে বসে।
হঠাৎ মিখাইল এ সময় দামিয়ান কে দেখে মনে মনে অনেকটা চমকে উঠে তবে মুখে স্বাভাবিকতা বজায় রেখে বলেন,,
__ এ সময় দামিয়ান আবরার এ,, বাকি কথাগুলো আর বলতে পারেনা তার আগেই যন্ত্রণাদায়ক উচ্চস্বর তার।
দামিয়ান ঠোঁটে হাসি নিয়ে হালকা ঘাড় কাত করে।
তার হাতে বন্দুক। মিখাইলের পা বেয়ে গলগলিয়ে রক্ত পড়ছে,
__ রাস্তার কুকুরের খেতে খেতে লোভ বেড়ে গেছে তাই এ সময় এখানে তাকে শেষবারের জন্য সাবধান করতে এলাম।
মিখাইল রাগে জ্বলন্ত চোখ জঘন্য কিছু গালি দিয়ে ওঠে।
দামিয়ান কিছুটা শব্দ করে হাসে,
__ শুধু মমের জন্য তুই বেঁচে আছিস নাহলে তোকে গায়েব করতে আমার সেকেন্ডের ব্যাপার।
মিখাইল যন্ত্রণায় বড় বড় নিশ্বাস নিয়ে বলে,, ঠিক তুই ও তোর মমে জন্য বেঁচে আছি নাহলে ছোট বেলাই তোর মত মানুষরূপী শয়তানের চিহ্ন নিশ্চিহ্ন করে দিতাম।
দামিয়ানের হাসির শব্দ আরো উচ্চ হয় , তাই নাকি, সে বসা থেকে উঠে হাতে বন্দুক মিখাইলের কপাল বরাবর ধরে,
__ আমাকে নিশ্চিহ্ন করার মতো কলিজা তোর মতো কুকুরের নেই তাই এখনো আমি তোর সামনে তোর কপালে বন্দুক ধরে দাঁড়িয়ে দেখ তোর আশেপাশে কেউ নেই তোকে বাঁচানোর জন্য,
মিখাইল যন্ত্রণায় চোখ বন্ধ করে নিস্তেজ হয়ে সোফায় হেলিয়ে পড়ে।
দামিয়ানের চোখ মুখ ধীরে ধীরে শক্ত হয়ে ওঠে যেন সে সত্যি সত্যি কপাল বরাবর শুট করার করে দিবে।
কিছু দূরে দাঁড়ানো নিকলাই ঢোক গিলে, সস্যার মিস্টার মিখাইল কে মারলে ম্যাম,
__ কি হচ্ছে কি এখানে? আকম্মিক ঝাঁজালো কন্ঠে ক্যাথরিনের সে কিছু দরকারি কাজে বাহিরে গিয়েছিল কিন্তু,,
দামিয়ান মিখাইলের দিকে বন্দুক ধরেই এক নজর সামনে দাঁড়ানো ক্যাথরিনকে দেখে,
ক্যাথরিন দ্রুত ছুটে আসে আর এসেই সোফায় রক্তাক্ত মিথাইল কে দেখে তার মাথা চক্কর দিয়ে ওঠে,
দামিয়ান নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণ করে বন্ধুক সরিয়ে নেয়,
__ কেনো এমনটা করলে দামিয়ান বলেছিলাম না তোমার প্রতিটা ডিল ফেরত নিয়ে দিব।
__ কুকুরের লেজ কখনো সোজা হয় না মম,
__ শাট আপ দামিয়ান! নিজের বাবা না মানো অন্তত তোমার মমের হাসবেন্ড বলে সম্মান করো।
দামিয়ান উপহাস করে বলে,, যে আমার জুতোর লায়েক না তাকে সম্মান এটা হাস্যকর যাইহোক আজ রাত বারোটায় আমার বাংলাদেশে যাওয়ার ফ্লাইট তোমার হাজব্যান্ড কে বলে দিও আমার অনুপস্থিতিতে কোনো অস্ত্র সাপ্লাইয়ের মধ্যে গরমিল করলে তাকে এবার কারো জন্য বাঁচিয়ে রাখা হবে না। বলেই দামিয়ান চলে যাওয়ার জন্য পা বাড়ালে আবার থেমে যায়। তাকে শুট করার কারণ কি ছিল তোমার জানা উচিত,,
ছেলের কোথায় ক্যাথরিন কপাল কুঁচকে তার দিকে তাকায়
__ ইতালি থেকে অস্ত্রের জাহাজ এসেছিল সেগুলো মিস্টার এ্যালেকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব ছিল আমার কিন্তু তোমার হাজব্যান্ড আমার কাজে আবার ঢুকে আমার কাছে বাধা হয়েছিল তাই এই অবস্থা করেছি,
ক্যাথরিন অবাক চোখে মিখাইল কে দেখে,
দামিয়ান ঠোঁট বাকিয়ে হাসে,, আর সরি আজকে ডিনারের প্ল্যানটা আমার জন্য ক্যান্সেল হয়ে গেল। বলেই আর এক মুহূর্তে দাঁড়ায় না দামিয়ান সোজা প্যালেস থেকে বের হওয়ার জন্য পা বাড়ায় তবে আচমকা একজন সার্ভেন্টকে তার পাশ দিয়ে হাতে কিছু সাদা গোলাপ নিয়ে যেতে দেখেই,
সে খলনায়ক পর্ব ২৭ (২)
__ ওয়েট,
দামিয়ানের ভারী কণ্ঠ শুনে সার্ভেন্টটি মাথা নত করে দাঁড়িয়ে যায়।
দামিয়ান সার্ভেন্টের হাতের সাদা গোলাপ গুলোর দিকে কিছুক্ষণ তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে অতঃপর হাত বাড়িয়ে একটা সাদা গোলাপ নিয়ে ফের হাঁটা ধরে
আর হাঁটতে হাঁটতে বাঁকা হেসে ধীর কন্ঠে আওড়ায়,, বাগানের একটি মাত্র অসহায় সাদা গোলাপ।
