স্নিগ্ধবিষ পর্ব ৩১
সানজিদা আক্তার মুন্নী
শিকদার বাড়ির উঠোনে এখন তুমুল হট্টগোল। বিশাল স্পিকারে কান ফাটানো গান বাজছে। :
হাতো মাখসইন মেন্দি,
লগে ব্র্যান্ডোর দামি ওয়াচ;
শরমর ঠ্যালায় রুমাল মুখো
সবে দিরা নাচ।
নতুন বউরে দেখতা,
তান হার্টে মারের ফাল;
চাঁন্দোর লাখান কইন্যা দেখিয়া
দামান বেশামাল!
সিলেটিয়া রঙিলা দামান,
যাইতা শ্বশুর বাড়ি;
যাইতা শ্বশুর বাড়ি।
সিলেটিয়া রঙিলা দামান,
যাইতা শ্বশুর বাড়ি;
যাইতা শ্বশুর বাড়ি।
আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন
একে একে সবাই সেজেগুজে গাড়িতে উঠছেন কমিউনিটি সেন্টারে যাওয়ার জন্য। চারদিকে শুধুই মানুষের কোলাহল।নাজহা নিজেদের বারান্দায় দাঁড়িয়ে নিস্পলক চোখে নিচের এই কর্মযজ্ঞ দেখছে। বিবিজান তাকে বিয়েতে নিয়ে যাননি। অবশ্য না নিলেও নাজহা হয়তো যেত না, কিন্তু তিনি সরাসরি বারণ করে দিয়েছেন। বারণ করার অবশ্য যথেষ্ট কারণও আছে। গতকাল গায়ে হলুদে নাজহাকে দেখে অনেকেই বাড়ির আত্মীয় ভেবে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে বসেছিল। তৌসির তো এসব দেখে রেগেমেগে লাল-নীল হয়ে তাকে তখনই অনুষ্ঠান থেকে নিয়ে এসেছিল। এই ঘটনার পর তাকে আর বিয়েতে নেওয়া হচ্ছে না। আসলে, হাজার মানুষের ভিড়ে এত সুন্দরী মেয়েকে দেখলে শতজনের মধ্যে দশজন তো বিয়ের প্রস্তাব দেবেই এটাই তৌসিরের ভয়।
নাজহা এখনো ঠায় দাঁড়িয়ে আছে। ভেবেছিল সেন্টারে গেলে হয়তো নিজের বাড়ির লোকের সাথে দেখা হতো। তালুকদারদের কেউ না কেউ তো নিশ্চয়ই দাওয়াত রক্ষা করতে আসতেন সেখানে।
হঠাৎ নিচ থেকে তৌসিরের গলা একটু বেশিই জোরে শোনা গেল। কাজের লোকদের ধমকাচ্ছে সে, মুখে অকথ্য গালিগালাজ। কারো কাজে ভুল হলেই চিৎকার করে উঠছে, “এই এটা দে! এই মাদার**… তোর সাউ**…” শুধু গালাগালি আর গালাগালি।
বেশ কিছুক্ষণ এমন হট্টগোল চলার পর ধীরে ধীরে প্রায় সবাই চলে গেলেন। এখন শুধু তৌসির, রুদ্র আর বাড়ির কিছু পালোয়ান বাকি। যাওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে তৌসির একবার রুমে আসে। দেখে নাজহা বারান্দার কিনারে দাঁড়িয়ে আছে। সে ধীর পায়ে গিয়ে নাজহার পাশে দাঁড়ায়। নাজহা তার উপস্থিতি টের পেলেও তাকায় না, আগের মতোই নিচের দিকে তাকিয়ে রয়।তৌসির মাথা কাত করে কিছুক্ষণ নাজহার দিকে তাকিয়ে তার মতিগতি বোঝার চেষ্টা করে। কিন্তু নাহ, কিছুই বুঝতে পারল না। ব্যর্থ হয়ে তৌসির নিচু গলায় বলে,
“আমি যাচ্ছি। বিয়ে পড়ানো শেষেই চইল্যা আইমু। ডরাইবা একা?”
নাজহা সোজা উত্তর দেয়, “না।”
তৌসির ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করে, “যাই আমি?”
“যান।”
তৌসির বিরক্ত হয়ে বলে, “চুতমারানি ছিনাল! এমনে কথা কস ক্যান? সুন্দর করে কথা কস না ক্যান?”
নাজহা দাঁত চেপে মুচকি হেসে তৌসিরের দিকে তাকায়। তারপর নাটকীয় ভঙ্গিতে বলে, “মহারাজা, আপনার জয় হোক। মহামান্য, আপনি যান। আমি ভয় পাব না জাহাঁপনা। আপনার একা যেতে কষ্ট হবে হুজুর? যদি হয়, আমাকে দয়া করে একটু বলুন। আমি প্রয়োজনে আপনাকে কোলে তুলে দিয়ে আসব শাহেনশাহ!”
নাজহার এমন ফাজলামি দেখে তৌসির অবাক হয়ে বলে, “কিতা লো! তোর সাউয়ায়ও জ্বিন ভর করলো নাকি? এমনে কথা কস ক্যা?”
নাজহা একহাঁচকা টানে তৌসিরের কলার ধরে নিজের কাছে নিয়ে আসে। তার চোখে চোখ রেখে রুক্ষ গলায় বলে, “যান, যেদিকে যাবেন যান। আমার মেজাজটা বিগড়াইয়েন না।”
তৌসির নাজহার কাছ থেকে নিজের কলারটা ছাড়ানোর চেষ্টা করতে করতে বলে, “ধুর বেটি, ছাড়! আমার নয়া পাঞ্জাবি এটা। বিবিজান বিয়ার জন্য কিনে দিছে, ছিড়ে যাইব তো!”
নাজহা তৌসিরের কলার ছেড়ে দিয়ে বলে, “যান এখান থেকে। তাড়াতাড়ি আসবেন। বাড়িতে আপনাকে ছাড়া বিরক্ত লাগে সব।”
শেষের কথাটা নাজহা আনমনেই বলে ফেলে। নিচ থেকে ডাক আসে তৌসিরের, আর দেরি করার সময় নেই। তৌসির কোনো কথা না বলে পা বাড়ায়। ঠিক তখনই নাজহা ডেকে ওঠে, “তৌসির, শুনুন!”
তৌসির থেমে গিয়ে পেছনে ফেরে, “বলো।”
“আমি একটু জড়িয়ে ধরি আপনাকে?”
হঠাৎ এমন আবদার শুনে তৌসির হতবাক। নাজহা উত্তরের অপেক্ষা না করেই তৌসিরকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে তার বুকে মাথা রাখে। তৌসির কাঁপা কাঁপা হাতে নাজহার পিঠে হাত রাখে, হালকা করে জড়িয়ে ধরে জিজ্ঞেস করে, “হঠাৎ কী হলো?”
নাজহা জোরে শ্বাস টেনে বলে, “আমার না কিচ্ছু ভালো লাগে না, সব তিক্ত লাগে। শান্তি পাই না কিছুতেই। কিন্তু আপনার বুকে অনেক শান্তি মেলে। তাই ধরলাম। এটাকে প্রেম বা ভালোবাসা ভাববেন না কিন্তু! আমি আপনাকে ঘৃণা করি এখনো।”
তৌসির মৃদু হাসে আর মনে মনে ভাবে, ‘কত বড় বেত্তমিজ মাইয়া! আমারে ঘেন্না করে, আবার আমার বুকেই শান্তির লাইগা মাথা রাখে। মাঙ্গের নাতিন!’
কিছুক্ষণ পর নাজহা তৌসিরকে ছেড়ে দিয়ে বলে, “যান এবার।”
তৌসির নাজহার কপালে আলতো চুমু খেয়ে বিয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। নাজহা ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে তার যাওয়ার পথের দিকে তাকিয়ে।
যোহরের পর
যোহরের নামাজের পর। নাজহা সবেমাত্র গোসল সেরে নামাজ শেষ করে ভাত খাওয়ার জন্য নিচে নামছে। সিঁড়ি দিয়ে নামতেই তার চক্ষু চড়কগাছ! সদর দরজা হা করে খোলা, আর বাড়ির ভেতর একের পর এক কালো পোশাক পরা লোক ঢুকছে। দৃশ্যটা দেখে নাজহার কলিজা শুকিয়ে যায়। সে এক দৌড়ে ওপরতলায় চলে আসে। তাকে দৌড়াতে দেখে কালো পোশাক পরা গার্ডরাও তার পিছু নেয়।
নাজহা নিজের রুমে ঢুকে তড়িঘড়ি করে দরজা লাগিয়ে দেয়। ফোন হাতে নিয়ে কাঁপতে কাঁপতে তৌসিরের নাম্বারে কল দিতে থাকে সে। নিচে প্রায় সাত-আটজন লোক হবে, সবার মুখে মাস্ক। নাজহার মনে একটাই চিন্তা এরা নিশ্চয়ই ডাকাত!
এদিকে তৌসির, রুদ্র, নাযেম চাচা আর তাদের তিনজন পালোয়ান তখনো বাড়ির পথে। সেন্টারে বসে তারা হাসি-ঠাট্টা করছে। এমন সময় গ্রামের একজন তৌসিরকে ফোন করে জানায়, তাদের বাড়ির সামনে একটি কালো গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে এবং কালো পোশাক পরা কিছু লোক সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করছে।
খবরটা শুনেই প্রথমে তৌসির ভাবছে এটা হয়তো নাজহারই কোনো প্ল্যান বা নতুন কোনো নাটক। তৌসিরের মোবাইলে নাজহার কল আসে কিন্তু ফোন ধরতেই ওপাশ থেকে নাজহার বুকফাটা কান্নার আওয়াজ ভেসে আসে,
”তৌসির! কে এসেছে এখানে? তৌসির, ওরা কারা? কালো পোশাক পরা, মুখ ঢাকা… কত লোক এসেছে! আমাকে তাড়া করছে ওরা। ডাকাত এসেছে তৌসির!”
তৌসির এবার নড়েচড়ে বসে। সে নাজহাকে শান্ত করার চেষ্টা করে বলে, “ত.. তুমি শান্ত হও! একটু শান্ত হও। শোনো, ওরা রুমের দরজা ভাঙতে পারে। তুমি আলমারি থেকে আমার পিস্তলটা হাতে নিয়ে রুমে বইসা থাকো। আমি আসছি। একদম শব্দ করবা না। আমি মাত্র পাঁচ মিনিটে আসছি!”
নাজহা আতঙ্কিত স্বরে পাল্টা জিজ্ঞেস করে, “আপনি আসতে আসতে ওরা যদি আমাকে মেরে ফেলে, তখন?”
”না! এমন কিচ্ছু হইত না। তুমি শান্ত থাকো।”
এই বলে তৌসির ফোন কেটে দিয়ে নাযেম চাচার ওপর চড়াও হয়। চিৎকার করে বলে, “বাইনচুদ গাড়ি চালা! দ্রুত চালা! আমার বউ কাঁদছে। এটা ওর কোনো চাল না। তাড়াতাড়ি চালা, আমার বউয়ের কিছু হয়ে যাবে!”
নাজহার জানের ভয় এখন তুঙ্গে। সে তৌসিরের কথামতো পিস্তল হাতে নিয়ে দরজার পাশে এসে দাঁড়ায়। বাইরে থমথমে নীরবতা। কেউ দরজা ধাক্কা দিচ্ছে না। কিন্তু হঠাৎই সেই স্তব্ধতা ভেঙে দুজন লোক লাথি মেরে দরজাটা ভেঙে ঘরে ঢুকে পড়ে। নাজহা তাদের সামনে দেখামাত্রই ভয়ে কাঁপতে শুরু করে। পিস্তলটা তাদের দিকে তাক করে পেছনে যেতে যেতে বলে, “আ.. আ.. আমার কাছ থেকে সরো! স.. সরো! নয়তো শুট করব! স.. স.. সরো!”
লোকগুলো তার দিকে এগোয় না। কিন্তু সেই সাত-আটজনের পেছন থেকে একজন বেরিয়ে আসে। কালো প্যান্ট, কালো স্যুট, ফর্সা চেহারা, ধূসর নীলচে চোখ একদম ইংরেজদের মতো দেখতে। লম্বা-চওড়া এক পুরুষ। তার চোখের দিকে তাকিয়েই নাজহা চিনতে পারে এ তো লুসিয়ান! তার মামাতো ভাই, যাকে ছোটবেলায় দেখেছিল।
লুসিয়ান নিজের টাই ঠিক করতে করতে নাজহার সামনে এসে দাঁড়ায়। হেসে বলে, “চলো নাজ, আমার সাথে চলো। ভয় পেয়ো না, আমি তোমার কোনো ক্ষতি করব না।”
নাজহা পিস্তলটা শক্ত করে ধরে বলে, “খবরদার! আর এক পা এগোবেন না। আমি যাব না আপনার সাথে। আপনি কেন এসেছেন?”
লুসিয়ান বিরক্তি মাখা হাসি দিয়ে বলে, “পাকিস্তানে একটা কাজে এসেছিলাম। তাই ভাবলাম এত কাছেই যখন এলাম, তখন সুইটহার্টকে নিয়েই যাই। চলো সুইটহার্ট, এখন থেকে তুমি মুক্ত।”
নাজহা চিৎকার করে ওঠে, “আমি আপনার সঙ্গে যাব না! বেরিয়ে যান এখান থেকে। আমি আমার শ্বশুরবাড়িতে ভালো আছি।”
“তাতো জানিই কত ভালো আছো। নাটক করতে হবে না ডার্লিং। তাড়াতাড়ি চলো। তুমি ভার্জিন নও জানি, তারপরও তোমাকে নিয়ে গিয়ে বিয়ে করব। দুবছর পর আমাদের একটা সন্তান হবে, দেন আমরা এখানে এসে সবাইকে দেখিয়ে যাব। চলো।”
লুসিয়ানের মুখে এমন কুরুচিপূর্ণ কথা শুনে নাজহা পিস্তল দেখিয়ে বলে, “গুলি করে দিব কিন্তু! চলে যান এখান থেকে!”
নাজহা কিছু করার আগেই লুসিয়ান হাত দিয়ে ইশারা করে। পাশ থেকে একজন নাজহার হাতে গুলি করে। সাথে সাথে নাজহার হাত থেকে পিস্তল পড়ে যায়। গুলিটা আসল ছিল না, রাবার বুলেট ছিল। কিন্তু হাতের তীব্র ব্যথায় নাজহা চিৎকার করে ওঠে। লুসিয়ান এই সুযোগে নাজহার হাত টেনে ধরে তাকে নিয়ে যেতে শুরু করে।সে বলতে থাকে, “চলো, তাড়াতাড়ি চলো সুইটহার্ট নাজ!”
লুসিয়ান টানতে টানতে নাজহাকে বাড়ির বাইরে গাড়ির কাছে নিয়ে আসে। নাজহা যেতে চায় না, দরজার চৌকাঠে লটকে থাকার চেষ্টা করে। কিন্তু এতগুলো পুরুষের শক্তির সাথে সে কি আর পারে? বাঁচার জন্য সে লুসিয়ানের হাতে কামড়ও দেয়, কিন্তু তাতে কোনো কাজ হয় না।
নাজহা হু হু করে কেঁদে ওঠে, “আমাকে নিয়ে যেও না! আমি আমার তৌসিরের সাথে থাকব! আমি তৌসিরের সাথে থাকতে চাই। আমাকে আমার মতো থাকতে দাও না!”
তৌসিরের নাম শুনে লুসিয়ানের চোখে রাগের আগুন জ্বলে ওঠে। রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে সে বলে, “তোর তৌসিরসহ তোরে কবর দিব!”
নাজহা চিৎকার করে বলে, “আমার তৌসির আসলে জ্যান্ত যেতে পারবি না তুই! ছাড় আমাকে কুত্তা, বাইনচুদের নাতি! তোর সাউয়ার প্রেম চুদাস তুই! আমি আরেকজনের বউ এখন!”
নাজহার মুখে এমন গালি শুনে লুসিয়ান ঠাস করে তাকে একটা থাপ্পড় মারে। তারপর একধাক্কায় গাড়ির সিটে ছুড়ে মারে এবং নিজে তার পাশে উঠে বসে। ড্রাইভারকে গাড়ি স্টার্ট দেওয়ার ইশারা দেয়।নাজহা চিৎকার করে ওঠে, “আমাকে ছাড়ুন লুসিয়ান! আমি যাব না!”
লুসিয়ান নাজহার দিকে তাকিয়ে নোংরা হাসি হেসে বলে, “তোর সাথে তোর সেকেন্ড বাসরটা কি বিয়ে করে করব, নাকি এখনই করে নিব? বিয়ের আগে বল কী করব? একটা আওয়াজ বের করলে এখানেই বাচ্চার মা বানিয়ে দিব!”
নাজহা লুসিয়ানকে পাল্টা থাপ্পড় মেরে বলে, “আ.. আমার সাথে এসব বলবেন না! আমি তৌসিরের, শুধু তার!”
লুসিয়ান নাজহার গাল শক্ত করে চেপে ধরে দাঁত কড়মড় করে বলে, “এত পিরিত তোমার? পিরিত ছুটিয়ে দিব! একবার ইংল্যান্ড যাই, তোকে নিয়ে।
নাজহা লুসিয়ানের হাত সরিয়ে দিয়ে গালি দিয়ে ওঠে, “এ কুত্তা! আমাকে ছুঁবি না! জানোয়ার তুই একটা, কাপুরুষ! পরের বউকে নিয়ে চলে যাচ্ছিস! শয়তান কোথাকার! আমাকে ছাড় বলছি! আআআআআ… আমাকে কেউ বাঁচাও!”
এই বলে নাজহা গাড়ির দরজায় লাথি দিতে শুরু করে। ঠিক সেই মুহূর্তেই গাড়ি ব্রেক কষে থেমে যায়। কারণ সামনে তাদের পথ আটকে দাঁড়িয়ে গেছে তৌসিরদের গাড়ি।
তাদের গাড়ি দেখেই নাজহা চিৎকার করে ওঠে, “তৌসির! আপনি এসেছেন!”
স্নিগ্ধবিষ পর্ব ৩০
তৌসির দাঁত চেপে লুঙ্গির কোমরের ভাঁজ থেকে নিজের লোহার চাপাতি বের করে গাড়ি থেকে নামে। তার চোখে খুনির দৃষ্টি। এটা দেখে লুসিয়ানও নিজের কোমরে গোঁজা বেরেটা নাইনটি-টু এফ.এস বের করে গাড়ি থেকে নামে আজ তার উদ্দেশ্য তৌসির কে মেরে নাজহা কে নিজের করে নেওয়া।
