Home অবেলায় ফোঁটা পুষ্প অবেলায় ফোঁটা পুষ্প পর্ব ৪৮

অবেলায় ফোঁটা পুষ্প পর্ব ৪৮

অবেলায় ফোঁটা পুষ্প পর্ব ৪৮
রুপা

– “আমাকে কি একটা শেষ সুযোগ দেওয়া যায় না, মিসেস সায়ান?”
– “ভুল বললেন, মিস্টার! আমি আপনার মিসেস নই, ওই যে আপনার উড-বি মিসেস!”
কিছুটা দূরে একটা দোকানে উদাসীন ভঙ্গিতে বসে থাকা সিমরানের দিকে আঙুল বাড়িয়ে কথাটা বলল সারা।
সবাই শপিং মলে এসে যে যার পছন্দমতো শপিং করায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। বড়রা সিমরানকে নিয়ে বিয়ের জন্য শাড়ি দেখছে। এদিকে আর্য পুষ্পকে নিজের কাছ থেকে এক মুহূর্তের জন্যও কাঁচছাড়া করছে না, তাই সারা একটু দূরে শিফার সাথে দাঁড়িয়েছিল। শিফাকে রেশমা ডাক দেওয়ায় শিফা চলে যেতেই সারা একা দাঁড়িয়ে থাকে। সে কিছু বুঝে ওঠার আগেই স্নিগ্ধ সারার হাত ধরে টেনে একটা কর্নারে নিয়ে আসে সবার আড়ালে। সারা নিজেকে ছাড়ানোর জন্য মুচড়ামুচড়ি শুরু করলেই স্নিগ্ধ ওই কথাটা জিজ্ঞেস করে। বিপরীতে সারার কথায় কোনো রিঅ্যাক্ট করল না স্নিগ্ধ, বরং আকুল হয়ে জিজ্ঞেস করল—

– “আমায় ভালোবাসো না আর?”
স্নিগ্ধর প্রশ্নে তাচ্ছিল্য করে হাসল সারা। অদ্ভুত শান্ত কিন্তু ধারালো কণ্ঠে সে বলল—
– “আমার ভালোবাসা আপনার জন্য সেদিনই পুরিয়ে গেছে, যেদিন আপনি ভরা বিয়েবাড়িতে আমায় একা ফেলে চলে গিয়েছিলেন। মনে পড়ে সেদিনের কথা? অবশ্য আপনার মনে থাকার কথাও তো নয়!”
কথাটা বলতে বলতে সারার চোখের সামনে ভেসে উঠতে লাগল অতীতের সেই দিনটার কথা—যেদিন এই লোকের আশায় কত রঙিন স্বপ্ন নিয়ে সে বউয়ের সাজে বসেছিল! কিন্তু লোকটা তার স্বপ্নের রাজকুমার হয়ে আসেনি, বরং ফেলে গেছে বিয়ের আসরে। মানুষের কটূক্তি ও বাঁকা চাহনি তাকে বিদ্ধ করছিল। মানুষ যখন তাকে নিয়ে বাজে কথা বলছিল—বর আসেনি, অলক্ষী ছেড়ে গেছে, নিশ্চয়ই মেয়ের মধ্যেই ঘাটতি আছে, নয়তো বিয়ের আগে কেন বর পালিয়ে যাবে?—সবকিছু শুনেও সে রাত অবধি অপেক্ষা করেছিল এই লোক আসবে, তাকে বিয়ে করে নিজের ঘরের ঘরণী করবে, বধুবেশে নিয়ে যাবে। কিন্তু রমণীর অপেক্ষার অবসান ঘটাতে সে আসেনি!
মেয়েকে ঘিরে মানুষের কথা সহ্য করতে না পেরে সারার মা হার্ট অ্যাটাক করেন সেদিন। গ্রাম হওয়ায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগেই তিনি মারা যান। মারা যাওয়ার আগে সারার দায়িত্ব দিয়ে যান বড় বোনের হাতে। সেদিন থেকে চঞ্চল সারার বাইরের চঞ্চলতা থাকলেও ভেতরের সারা যেন থমকে গেল! স্নিগ্ধ নামক পুরুষটার প্রতি ভালোবাসা যেন জীবন্ত জখম হয়ে রইল। তাই তো যে পুরুষের প্রতি ছিল অগাধ ভালোবাসা, সে পুরুষকে দেখলে ভালোবাসা অনুভব করার আগে সেই জখমটা তাজা হয়ে রক্তপাত শুরু হয়! ওই পুরুষের জন্যই সে তার মাকে হারিয়েছে, সে কি এই পুরুষকে কখনো ক্ষমা করবে? কখনোই না!

অতীতের স্মৃতি মনে পড়তেই সারার চোখ ভিজে উঠল, চোখ দুটো জ্বলছে। রমণী কান্না আটকানোর চেষ্টা করল, কিন্তু কান্না আটকানোর চেষ্টার জন্যই হয়তো চোখ দুটো আরও বেশি জ্বালা করছে। সারা নিজের কান্না চেপে স্নিগ্ধর সামনে থেকে সরে যেতে চাইল, তবে স্নিগ্ধ তাকে যেতে দিল না! সারার কোমরে হাত গলিয়ে একহাতেই তাকে তুলে নিয়ে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরল, দুই হাতে জাপটে ধরে রাখল—পারলে যেন বুকের ভেতর একদম লুকিয়ে ফেলবে! সারা ছটফট করতে লাগল ছাড়া পাওয়ার জন্য, এই লোকের ছোঁয়া সহ্য হচ্ছে না তার।
– “প্লিজ, বউ! একটা সুযোগ দাও, প্রমিজ—দ্বিতীয়বার আর তোমার চোখে পানি আসতে দেবো না। আমি ইচ্ছে করে তোমায় ফেলে যাইনি, আমার হাতে কিছুই ছিল না!”
– “তোর হাতে বাল ছিল না, শালা! ছাড়, তোর কাছে আমি জানতে চেয়েছি তুই কেন গিয়েছিস? তুই গিয়েছিস তো কী হয়েছে, আমি মরে গেছি? তোর মতো একটা যাবে, আরেকটা আসবে! বিয়ে করছিস, কর না—আমাকে জড়াজড়ি করছিস কেন? বেহায়া, নির্লজ্জ! লজ্জা করে না? একজনকে বিয়ে করছিস, আবার আমার কাছে আসছিস সাফাই গাইতে? সর, শালা, দূরে গিয়ে মর!”

বউয়ের মুখে তুই-তোকারি করে খাঁটি বাঙালি গালি শুনেও স্নিগ্ধ সারাকে ছাড়ল না। সে জানে, এই বউ তার রেগে গেলে মাথা ঠিক থাকে না, মুখে যা আসে তাই বলে দেয়। এই মেয়ের এই গালির জন্যই তো সে প্রথমে মেয়েটাকে সহ্য করতে পারত না! কিন্তু কীভাবে কী হয়ে গেল, সে এই মেয়েটাকে ভালোবেসে ফেলল—অসম্ভব ভালোবেসে ফেলল! যেই ভালোবাসার দরুন একটা পনেরো বছরের মেয়েকে তার অজান্তেই বিয়ে করে বসেছিল।
স্নিগ্ধকে ছাড়াতে না পেরে সারা এবার স্নিগ্ধর দুই পায়ের মাঝখানে মেইন পয়েন্ট বরাবর নিজের হাঁটু দিয়ে সজোরে আঘাত করে বসল! সাথে সাথেই স্নিগ্ধ সারাকে ছেড়ে দিয়ে ‘আহ!’ বলে হাত দিয়ে জায়গাটা চেপে ধরে কুঁকড়ে গেল।
সারা ছাড়া পেয়েই সেখান থেকে সরে দাঁড়াল এবং যেদিকে সবাই আছে সেদিকে চলে গেল। যাওয়ার আগে অবশ্য স্নিগ্ধর দিকে তাকিয়ে একপ্রস্থ খাঁটি বাঙালি গালি ছুড়ে দিতে ভুলল না!
স্নিগ্ধ বুঝতেই পারেনি যে তার বউ তার মেইন পয়েন্টে এভাবে আঘাত করবে! মনে মনে সে বেশ আফসোস করল—কী এক বউ জুটেছে তার, যে নিজের ভবিষ্যৎ নিজেই অন্ধকার করতে চাইছে!
– “সারা যদি তোর ওয়াইফ হয়, তাহলে সিমরানকে বিয়ে করছিস কেন?”
স্নিগ্ধ যেই না একটু নিজেকে সামলে সোজা হয়ে দাঁড়াল, অমনি পেছন থেকে আর্যর কথা শুনে চমকে উঠল সে! চমকালেও স্নিগ্ধ ভয় পেল না, কারণ সে জানে—এমনিতেই তো সবাই সত্যিটা জেনে যাবে, আর সেটা সে নিজেই বলে দিত।

সারা ছিল ভীষণ চঞ্চল এক মেয়ে, সবসময় মুখে গালিগালাজ লেগে থাকত, কিন্তু পড়াশোনাতেও সে বেশ ভালো ছিল। তারা দুই বোন মায়ের সাথে গ্রামে নানুর বাড়িতে থাকত; সারা ছোট থাকতেই তার বাবা মারা গেছেন। সেই গ্রামে স্নিগ্ধ গিয়েছিল বন্ধু রনির সাথে তার বাড়িতে বেড়াতে। কিন্তু যাওয়ার পর রনির একটা এক্সিডেন্ট হয়, তাই তার পরিবর্তে স্নিগ্ধ ওই গ্রামের স্কুলে টিচার হিসেবে জয়েন করে। প্রথম দেখাতেই স্নিগ্ধকে মন দিয়ে বসে চঞ্চল সারা! প্রতিদিন স্নিগ্ধর পেছনে ঘুরঘুর করতে শুরু করে সে। স্নিগ্ধ বিষয়টি খেয়াল করেও প্রথমে তা এড়িয়ে যেতে শুরু করে।
স্নিগ্ধর পেছনে সময় অপচয় করতে গিয়ে সারা পড়াশোনায় অমনোযোগী হয়ে পড়ে। বিষয়টি স্নিগ্ধর নজর এড়ায় না—যে সারা আগে পড়াশোনায় ভীষণ ভালো ছিল, পড়া ধরলে অনায়াসে পারত, সেই সারা এখন অমনোযোগী হয়ে উঠতে লাগল! তবুও সে কিছু বলত না। কিন্তু হুট করে একদিন সারা স্নিগ্ধকে ভালোবাসার কথা বলে বসল! পড়াশোনায় অমনোযোগী হয়ে স্যারকে প্রেম নিবেদন করছে—বিষয়টি মাথায় আসতেই সারাকে থাপ্পড় মেরে বসল স্নিগ্ধ। এর পরে দুই দিন সারা স্কুলে আসে না। স্নিগ্ধ বেশ অনুতপ্ত হয়, সে কেন একটু ভালো ভাবে বুঝালো না? কিন্তু সেই অনুশোচনা স্থায়ী হয় না, কারণ দুই দিন পর থেকে সারা আবারও স্নিগ্ধর পেছনে আঠার মতো লেগে থাকতে শুরু করে! স্নিগ্ধ বিরক্ত হয়ে তার বাসায় গিয়ে নালিশও করে আসে, তবুও সারার পাগলামি কমে না। এভাবেই বেশ কিছুদিন কেটে যায়। একপর্যায়ে সারার এই পাগলামি স্নিগ্ধকেও হাসাতে শুরু করে! অজান্তেই পনেরো বছরের এক কিশোরী দখল করে বসল ছাব্বিশ বছরের এক পুরুষের হৃদয়।

সারার এক দিনের পাগলামি না দেখলেই স্নিগ্ধর ভেতর অশান্তি শুরু হতো, নিজেকে পাগল-পাগল লাগতে শুরু করত! সে বুঝতে পেরেছিল, এই মেয়েটাকে ছাড়া সে বাঁচতে পারবে না। এরই মধ্যে একদিন সারাকে অন্য একটা ছেলের সাথে হাসতে দেখে ভীষণ রেগে যায় স্নিগ্ধ। তাই তো জেদের বশে মেয়েটাকে দিয়ে দরকারি কাগজে সই করানোর কথা বলে রেজিস্ট্রি পেপারে সই করিয়ে নেয়! সারার অজান্তেই তাকে বিয়ে করে ফেলে স্নিগ্ধ—যাই হয়ে যাক না কেন, এই মেয়েটা তারই, তার বউ!
সবকিছু ঠিকঠাকই চলছিল, কিন্তু গ্রাম এলাকা হওয়ায় পনেরো বছর বয়সী সারার জন্য বিয়ের সম্বন্ধ আসতে শুরু করে। একপর্যায়ে সারার মা ও নানুও রাজি হয়ে যান! কিন্তু স্নিগ্ধ সেটা হতে দিতে পারে না—তার বউয়ের অন্য কোথাও বিয়ে হবে, তা সে মানবে কেমন করে? তাই তো সে নিজে গিয়ে সারাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয় এবং সারার মা ও নানুকে অনেক বুঝিয়ে রাজি করায়। সব ঠিকঠাক হয়ে বিয়ের দিন ঘনিয়ে আসে। সারার খুশির তখন আর সীমা ছিল না! তার ভালোবাসার মানুষের সাথে বিয়ে হবে—চোখে তার রঙিন কত স্বপ্ন! স্নিগ্ধকে ফোন করে কত কিছু যে বলত, তার ঠিক নেই। বিয়ের দিন সব আয়োজন হলো, পাড়া-প্রতিবেশী ও আত্মীয়স্বজনদের নিয়ে বিয়ের আসরে বউ সেজে বসে রইল সারা।

– “সবকিছু যখন পারফেক্ট ছিল, তাহলে তোর বউ এখন তোর থেকে আলাদা কেন?”
আর্যর প্রশ্নে শব্দ করে দীর্ঘশ্বাস ফেলল স্নিগ্ধ। যেই না সে আবার কিছু বলতে যাবে, ঠিক তখনই কানে এল পুষ্পর কণ্ঠস্বর—
– “সরকার সাহেব!”
পুষ্পর গলা পেয়ে আর্য পেছন ফিরে তাকাল। পুষ্প কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে আছে। আর্য উদ্বিগ্ন হয়ে, অস্থির চিত্তে এগিয়ে এলো, রমণীর গোলগাল মুখটা আলগোছে দুই হাতের আজলায় নিয়ে জিজ্ঞেস করল—
– “কী হয়েছে, ফ্লাওয়ার? কিছু লাগবে? পছন্দ হয়েছে?”
পুষ্প দুই দিকে মাথা নাড়িয়ে বলল, “নাহ!”
আর্য এবার ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করল—
– “তাহলে?”
পুষ্প এবার মিনমিন করে বলল—
– “আমার খিদে পেয়েছে!”
আর্যর কুঁচকে থাকা ভ্রু সোজা হলো। আসলেই তো, তার মেয়েটার কিছু খাওয়া হয়নি! কলেজ থেকে এসে ফ্রেশ হয়ে সারাকে আনতে গেল, আবার তাড়াহুড়োয় সবার সাথে শপিংয়ে চলে আসায় কিছুই খাওয়া হয়নি। আর্য কিছু না বলে পুষ্পর ছোট হাতটা নিজের পুরুষালি শক্ত হাতে চেপে ধরে শপিং মলের ভেতরের ফুড স্টলের দিকে হাঁটা ধরল।

ফুড স্টলের একদম কর্নারে একটা টেবিলে পাশাপাশি বসে আছে দুজনে। আর্য চারদিকে চোখ বুলিয়ে পুষ্পর দিকে তাকাল। পুষ্প নিজেও ডাগর ডাগর চোখে চারপাশে পর্যবেক্ষণ করছে।
– “কী খাবে?”
আর্যর কথায় পুষ্প এবার আর্যর দিকে তাকাল। এই সময়ে ভাত ছাড়া আর কী বা খাবে সে? রমণী ফট করে বলেই ফেলল—
– “এই সময়ে ভাত ছাড়া আর কী খাবো?”
পুষ্পর কথা শুনে কিছু বলল না আর্য। সে একটা ওয়েটারকে ডেকে সামনের রেস্টুরেন্ট থেকে ভাত নিয়ে আসতে বলল এবং এর জন্য সে এক্সট্রা টাকাও দেবে বলে জানাল, কারণ সে ভালো করেই জানে এই শপিং মলের ফুড স্টলে ভাত পাওয়া যাবে না। ওয়েটার ‘ঠিক আছে’ বলে চলে গেল। কিছুক্ষণ পরেই সে প্লেটে করে গরম ভাত, ইলিশ মাছ, মুরগির রোস্ট আর সালাদ পরিবেশন করে দিল। পুষ্প ভাতের প্লেট একটা দেখেই আর্যর দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল

– “আপনি খাবেন না?”
– “নাহ, তুমি খাও!”
ছোট করে উত্তর দিল আর্য।
পুষ্প হাত ধুয়ে খেতে শুরু করল। আর্য হাতের ফোনটা টেবিলের একপাশে রেখে নিজেও হাত ধুয়ে নিল। তারপর ইলিশ মাছের প্লেটটা নিজের কাছে টেনে এনে সাবধানে কাঁটা বেছে মাছের টুকরোগুলো পুষ্পর প্লেটে দিতে লাগল। পুষ্প কিছু বলল না, নীরবে খেতে লাগল। একটু পরে পুষ্প ভাত মেখে এক লোকমা আর্যর মুখের সামনে ধরে বসল। আর্য একপলক হাতের দিকে তাকিয়ে আবার হাতের মালকিনের দিকে তাকাল। পুষ্প উসখুস করে তাকিয়ে আছে আর্যর দিকে। আর্যকে নিজের দিকে তাকাতে দেখে পুষ্পর বোধহয় কিছুটা অস্বস্তি হলো, তাই সে মিনমিন করে বলল—
– “আমার মতো আপনিও তো খাননি, আপনারও তো নিশ্চয়ই খিদে পেয়েছে?”
আর্য কিছু বলল না, হা করে চুপচাপ রমণীর হাত থেকে ভাত নিজের মুখে পুরে নিল। এমনভাবে নিল, যেন তার ঠোঁট দুটো রমণীর হাত ছুঁয়ে যায়! আর্যর ঠোঁটের স্পর্শে শিরশির করে উঠল রমণীর পুরো শরীর—যেন কারেন্টের শক খেয়েছে! তবুও সে কিছু বলল না, চুপচাপ খেতে লাগল এবং আর্যকেও খাইয়ে দিল। খাওয়া শেষ করে দুজনেই হাত ধুয়ে নিল। খাওয়া শেষে আর্য পুষ্পকে বসিয়ে রেখে গিয়ে বিল পরিশোধ করে এল। এরপর পুষ্পকে নিয়ে সে আবারও সবার সাথে যোগ দিতে সেদিকে চলে গেল।

সবাই শপিং শেষ করে বাড়িতে ফিরতে ফিরতে প্রায় অনেকটা রাত হয়ে গেল। রাত বেশি হয়ে যাওয়ায় সবাই সরকার বাড়িতেই থেকে গেল। রাতের খাওয়া-দাওয়া শেষ করে সবাই যে যার রুমে ঘুমাতে গেল। সারা ঘুমাল সিমরানের রুমে। হঠাৎ তীব্র পানির তৃষ্ণায় সারার ঘুম ভেঙে গেল। উঠে সে দেখল, টেবিলে রাখা বোতলে কোনো পানি নেই। বিছানায় সিমরানকেও দেখতে পেল না সে। সারা বেশি কিছু না ভেবে পানির বোতলটা নিয়ে নিচে চলে গেল।

পানি খেয়ে ওপরে আসার সময় হঠাৎ ছাদ থেকে সিমরান ও স্নিগ্ধকে একসাথে নামতে দেখে থমকে দাঁড়াল সারা! এত রাতে দুজনে একা ছাদে কী করছিল? দুজনকে একসাথে দেখে আবার তার বুকটা মোচড় দিয়ে উঠল তীব্র যন্ত্রণায়! চোখের কোণ অজান্তেই ভিজে উঠল, তবুও সে নিজেকে সামলানোর আপ্রাণ চেষ্টা করল। মনকে বোঝাল—কষ্ট পাওয়ার কী আছে? এটা তো হওয়ারই ছিল! লোকটা তাকে বিয়ে করেনি বলে কি অন্য কাউকে বিয়ে করবে না—এমন তো আর হতে পারে না! “সারা, কষ্ট পাস না! এই লোকটাকে তুই আর ভালোবাসিস না। এই মানুষের জন্যই তো তুই তোর মাকে হারিয়েছিস!”

অবেলায় ফোঁটা পুষ্প পর্ব ৪৭

হঠাৎ স্নিগ্ধর চোখ গেল সিঁড়ির পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সারার ওপর। সিমরান সারাকে দেখেও কিছু বলল না, সোজা নিজের রুমে চলে গেল। এদিকে স্নিগ্ধর মুখে জমে উঠল একরাশ ভীতি—বউ কি আবার তাকে ভুল বুঝল?

অবেলায় ফোঁটা পুষ্প পর্ব ৪৯

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here