তোমার নামের রোদ্দুরে পর্ব ৫
আশফিয়া হিয়া
রাত ১ টা আরু বেলকনিতে দাঁড়িয়ে আছে। হঠাৎ নিচ থেকে বাইকের শব্দ শুনতে পেয়ে তড়িৎ নিচের দিকে তাকালো। রুদ্ধ বাইক বের করেছে।রুদ্ধর পড়নে ফুল ব্ল্যাক ড্রেসআপ। কালো কার্গো প্যান্ট, উপরে কালো জ্যাকেট যার গলা পর্যন্ত চেইন আটকানো, হাতে গ্লাভস সেফটির জন্য। খাঁড়া খাঁড়া চুলগুলো এলোমেলো হয়ে আছে। আরু রুদ্ধকে দেখে আরেক দফায় প্রেমে পড়ে গেল। কিছু একটা মনে হতেই আরু রুদ্ধকে ফিসফিস করে ডাকলো। রুদ্ধ শুনতে পেলো না। এইবার একটু জোড়েই ডাকল।
– ” এই রুদ্ধ ভাই? রুদ্ধ ভাইয়ায়ায়ায়ায়া..
রুদ্ধ উপরে তাকাল। এতো রাতে আরুকে বেলকনিতে
দেখে অবাক হলো বেশ। পরপরই ভ্রু উঁচিয়ে বলল,
” এত রাতে বেলকনিতে কি?”
” আরেএ আপনি এভাবে চেঁচাচ্ছেন কেনো?
সবাই শুনতে পাবে তো।”
” তো? শুনতে পেলে পাবে। আমাকে চোর মনে
হচ্ছে? চুরি করতে এসেছি?”
আরু বিরক্ত হলো এই ব্যাটা কিছুই বুঝতে চাই না।
নিরামিষ একটা।
আরু বিরক্ত হলো এই ব্যাটা কিছুই বুঝতে চাই না। নিরামিষ একটা।
– ” একটু দাঁড়ান আমি আসছি।”
আরু রুম থেকে এক দৌড়ে বের হলো। বাড়ির সবাই ঘুমিয়ে পড়েছে এতরাতে কেউ আর জেগে নেই। সিঁড়ি দিয়ে নেমে পা টিপে টিপে মেইন গেইটের লক খুলল। রুদ্ধ দরজাটা লক করে বেরিয়েছে শুধু। দরজার বাইরে বের হয়ে স্বস্তির শ্বাস ফেলল। সামনে তাকিয়ে দেখল রুদ্ধ ও তার বাইক কোনোটাই নেই। আরুর কান্না পেয়ে গেল। চোখ দিয়ে টুপটাপ পানি পড়তে লাগল। চোখের পানি হাত দিয়ে মুছে নাক টেনে বলল,
– ” শুধু তো একটু দাঁড়াতেই বলেছিলাম তাই বলে এমন করবে?”
ঠিক তখনি পেছন থেকে আরুর মাথায় গাট্টা পড়ল।
– ” কাঁদছিস কেনো?”
পেছনে ঘুরে রুদ্ধকে দেখে আরু অবাক হলো। পরপরই মুখে ঝলমলে হাসি ফুটে উঠল। রুদ্ধ মন ভরে দেখল সেই হাসি।
– ” আপনি যাননি?”
– ” গেলে খুশি হতি?”
– ” না না। আপনার বাইক কোথায়?”
– ” বাইরে।”
– ” কোথায় যাচ্ছেন?”
– ” সলো রাইডে যাচ্ছি।”
– ” আমাকে নিয়ে যাবেন?”
– ” না। ”
আরুর মুখটা চুপসে গেল।
– ” একটু নিয়ে গেলে কি হয়? নিয়ে চলুন না প্লিজ আমি আপনাকে একটুও বিরক্ত করবো না।”
– ” আচ্ছা?”
– ” প্লিজজজ
রুদ্ধ কাঁধ উঁচিয়ে বলল,
– “ওকে।”
আরু উচ্ছাসিত বদনে বলল,
– “আপনি দুই মিনিট অপেক্ষা করুণ আমি পাঁচমিনিটে আসছি।” রুদ্ধকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই সে দৌড়ে চলে গেল।
পাক্কা বিশ মিনিট আরু বের হলো। রুদ্ধ বাইরে বাইকের সাথে হেলাল দিয়ে ফোন দেখছিলো।
– ” চলুন আমি চলে এসেছি।”
রুদ্ধ আরুকে দেখে থমকে গেল। আরুর পরনেও ফুল ব্যাক ড্রেসআপ। চুলগুলো উঁচু কে ঝুটি বেঁধেছে। ঠোঁটে লিপগ্লোস দিয়েছে যার কারণে ঠোঁটটা চিকচিক করছে। রুদ্ধ ঢোক দিলে দৃষ্টি সরিয়ে নিল।
– ” এই তোর পাঁচ মিনিট?”
– ” বাহ্ রেএ আজ প্রথমবার রাতে আপনার সাথে বের হচ্ছি আমাকেও তো আপনার মতো লাগতে হবে তাই না? সমান সমান।”
– “চল।”
রুদ্ধ হেলমেট পড়ে আরুকেও পড়িয়ে দিল। আরু বাইকের দুদিকে পা দিয়ে বসল। রুদ্ধর কাঁধে হাত রেখে বসল।
– ” শক্ত করে ধরে বস পরে যাবি।” আরু রুদ্ধকে শক্ত করে ধরল।
রুদ্ধ প্রচুড় স্প্রীডে বাইক চালাচ্ছে। আরু রুদ্ধর কাঁধ ধরেও হিমশিম খাচ্ছে। আরু এইবার দু হাত দিয়ে রুদ্ধর কোমর জড়িয়ে ধরল। পিঠে মাথা রাখল। আরুর খুব ইনজয় করছে রাতে এইভাবে বাইকে চলা তার জন্য প্রথম অনূভুতি। প্রথমবার রুদ্ধর সাথে এইভাবে বাইকে উঠল। বাবা – চাচ্চুদের সাথে আগেও উঠেছে তবে এটা স্পেশাল। রাতের আবহাওয়া খুবই শীতল শনশন করে বাতাসের শব্দ শোনা যাচ্ছে। প্রায় আধঘন্টা বাইক চালিয়ে রুদ্ধ বাইক থামাল। আরুও বাইক থেকে নেমে পড়ল।
– ” চা খাবি?”
– ” হ্যাঁ খাব।” আরুর মন অনুভূতির জোয়ারে ভাসতে লাগল। এইভাবে রাতে রুদ্ধর সাথে চা খেতে চাওয়া তার অনেক দিনের স্বপ্ন। রুদ্ধ চা এনে ফুঁ দিয়ে ঠান্ডা করেই তারপর আরুর হাতে দিল। ওকে বিশ্বাস নেই যদি হাত পুড়িয়ে ফেলে? রুদ্ধর এই ছোট ছোট যত্নগুলোর আরুর ছোট হৃদয়ে দোলা দেয়।আরু অল্প অল্প করে চা খাচ্ছে আর একটু পর পর রুদ্ধকে দেখছে। এইবার তাকাতেই দেখল রুদ্ধও তার দিকে ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছে। ভ্রু উচিয়ে প্রশ্ন করল কি। আরু মাথা নেড়ে কিছু না বোঝাল। আশে – পাশে কিছু খুঁজল কাঙ্খিত জিনিস পেতেই ছটফটিয়ে উঠল।
– ” শুনছেন?”
– ” হুম।”
– ” আমি ভুট্টা খেতে চাই?” রুদ্ধ আশে পাশে দেখল।
– ” আয়।”
ভুট্টায় বেশি করে বিট লবণ আর লেবু দিতেই আরুর জ্বিভে পানি এল। ফুঁ দিয়ে ছোট করে বাইট দিল। এরপর রুদ্ধর দিকে এগিয়ে দিল। রুদ্ধ মানা করল না আরুর হাত থেকে খেল। তার অতটা ভালো লাগেনি মুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছে। সে এইসব পছন্দ করে না। আরুর জন্য মুখে নিল।
বাড়ি ফিরতে ফিরতে প্রায় চারটে বেজে গেল।আরু পোশাক পাল্টেই রুহানির রুমে চলে গেল।তাদের আলাদা আলাদা রুম থাকলেও বেশিরভাগ সময় আরু আর আহি রুহানির রুমেই ঘুমায়। এটা তাদের ছোট্টবেলার অভ্যাস। আরু গিয়ে রুহানির পাশ দিয়ে শুয়ে পড়ল। অন্যপাশে আহি ঘুমিয়ে আছে।
তোমার নামের রোদ্দুরে পর্ব ৪
– ” বেড়ানো হলো?” রুহানির ফিসফিসে আওয়াজে আরু অবাক হলো।
– ” তুমি ঘুমাও নি?”
– ” বেলকনিতে ছিলাম সেখান থেকেই তোদের যেতে দেখেছিলাম।”
– ” ওই আমি যেতে চাইছিলাম তাই রুদ্ধ ভাই নিয়ে গেল।অনেক কষ্টে ম্যানেজ করেছি জানো?”
রুহানি হাসি চেপে বলল,
– ” তাই?”
– ” হুম। এখন ঘুমাও তো আপু আমার অনেক ঘুম পাচ্ছে। বলেই চোখ বন্ধ করল।
