Home প্রিয় প্রণয়িনী ২ প্রিয় প্রণয়িনী ২ পর্ব ৪৭

প্রিয় প্রণয়িনী ২ পর্ব ৪৭

প্রিয় প্রণয়িনী ২ পর্ব ৪৭
জান্নাত নুসরাত

শাহেদ খান একজীবন গণ্যমান্য ডাক্তার ছিলেন। জীবন ছিল তার সহজ। যে টাকা আয় হতো তা চলে যেত পরিবারের ভরণপোষণে। পরিবারে সবার বড় হওয়ায় তার ঘাড়ে ছিল দায়িত্ব অনেক। একদিনে এই পাওয়া নয় তার, অনেক খেটে ভদ্রলোক এসেছেন এলিট পর্যায়ের মানুষের মধ্যে। যখন তিনি সদ্য ইন্টার্নশিপে, তখনই কথা পাকাপাকি হয়ে যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মধ্যবিত্ত পরিবারের এক মেয়ের সাথে। বিয়ের পর কাটে নির্ভেজাল দু-বছর। হঠাৎ করে শাহেদ খানের মাথায় ভুত চাপে সিলেট আসবেন বেড়াতে। সেই আসায় এসে আর ফিরে গেলেন না নিজের দেশের বাড়িতে। খুঁটি গাড়লেন সিলেটের মাটিতে, বসতি গড়ে তুললেন নিজের। ততদিনে ছোট ভাইয়েরা ও পড়াশোনা করে তার দায়িত্বের বাহিরে চলে গেছে, তাই কোনো সমস্যা হলো না।

সিলেটে থাকা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকল না শাহেদ খানের,একই সাথে বন্ধুত্ব করলেন, বন্ধুত্বের বিস্তৃত এতটাই ছিল যে সৈয়দ হেলাল আহমেদ যখন বিদেশ পাড়ি জমালেন তিনিও উদগ্রীব হলেন পাড়ি জমাতে। তখনো অবিবাহিত ছিলেন সৈয়দ হেলাল আহমেদ। সাল কতই হবে ১৯৯০ এর আশপাশ। বন্ধু ফিরে আসলেন পাঁচ বছর পর। অনেক পাত্রী দেখা হলো তার জন্য, কোনো না কোনো কারণ দেখিয়ে তিনি না করে দিতেন পাত্রীকে। লিপি বেগমকে যেদিন দেখতে যাবেন মেহেরুন নেছা ঠেলিয়ে ধাক্কিয়ে সকালে পাঠাতে পারলেন না মেয়ে দেখতে, সন্ধ্যার আগ মুহূর্তে গেলেন পাত্রীর বাড়িতে নাছির সাহেব ও হেলাল সাহেব দু-জনে মিলে। তখন আবার বিদ্যুৎ ছিল না, অন্ধকারে শ্যামলা লিপি বেগমকে দেখে মনে ধরল তার। নাছির সাহেবকে যখন শুধালেন,’ভালো লেগেছে?’’
নাছির সাহেবের উত্তর ছিল,

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

‘’আপনি সংসার করবেন, আপনার পছন্দ হলেই হবে।’’
এরপর দারুণ আয়োজনে হেলাল আহমেদ আর লিপি খানের বিয়ে হলো। মাত্র এগারো মাসের মাথায় স্ত্রীকে নিজের কাছে নিয়ে গেলেন তিনি। সেটা দেখে আরো বেশি উদগ্রীব হলেন শাহেদ খান। নিজের মনবাসনা বন্ধুর সামনে তুলে ধরতেই হেলাল সাহেব বললেন,’’চেষ্টা কর, আমি পাশে আছি।’’
ভবিষ্যত বাচ্চাদের সুন্দর এক ভবিষ্যতের জন্য দৃঢ় মনোবল তৈরি করে কাজে লেগে গেলেন। দীর্ঘ দু-বছরের ক্লান্তিহীন পরিশ্রমের পর এক খড়া পড়া জুলাইয়ে তারা তাদের গন্তব্যে পা বাড়াল, তখনো সন্তানের মুখ দেখেননি স্বামী স্ত্রী।

ততদিনে বিদেশে থাকা হেলাল সাহেব ও লিপি বেগমের কোল জুড়ে ফুটফুটে এক শিশু জন্মেছে, নাম রাখা হয়েছে তার সৈয়দ জায়িন হেলাল।
আরো দু-বছর সন্তানহীন কাটার পর ১৯৯৯সালের ১৩ই মার্চ এক ছেলে শিশুর জন্ম হলো, সদ্য নবজাতকের নাম নির্ধারণ করা হলো, মাহাদি এহসান খান।
মাহাদির জন্মের ঠিক ছয়মাস পর জন্ম হলো হেলালের ঘরে এক পুত্রের। দিনটি ছিল পহেলা সেপ্টেম্বর। কোলে করে মাহাদিকে নিয়ে দেখতে গেলেন ছেলেটাকে। ফুটফুটে জন্ম নেওয়া সেই সদ্য শিশুটির নাম রাখা হলো সৈয়দ আরশ হেলাল। ধীরে ধীরে ছেলে গুলো বড় হতে লাগল, এখন বয়স তাদের কত, পঁচিশ হয়ে ছাব্বিশে পা রাখছে, দু-দিন পর বিয়ে দেবেন ছেলের, তারপর নাতি-নাতনীর মুখ দেখবেন। এই পর্যায়ে নিজের চিন্তার ইতি টেনে দিলেন শাহেদ খান। ছেলে তো বিয়েই করতে চায় না, নাতী-নাতনী আসবে কীভাবে!

শাহেদ খানের মতামতে যত তাড়াতাড়ি ছেলে মেয়েদের বিয়ে হবে তত তাড়াতাড়ি নাতী-নাতনীর মুখ দেখবেন তিনি, তারা ও তাড়াতাড়ি বড় হয়ে যাবে, অতঃপর তাদের বিয়ে হয়ে তাদের ও সন্তান সন্তানান্দী দেখবেন। তাদেরও বিয়ে দেখে নিবেন মরার বয়সে, আর বিয়ে করতে না চাইলে ব্ল্যাকমেইল করবেন ইমোশনালি, আর বাঁচব কতদিন বলে,কিন্তু সেই ইচ্ছে এক বাল্টি জল ঢেলে বসে আছে মাহাদি, হয়তো এই ছেলের এমন দেরি করে বিয়ের জন্য উনি ইমোশনালি ব্ল্যাকমেইল করতে পারবেন না।

এই নিয়ে ভীষণ চিন্তায় পড়ে গেলেন ভদ্রলোক। গালে হাত রেখে খাবার টেবিলে চিন্তায় এত ডুবে গেলেন, ভুলে গেলেন তিনি মাহাদির দিকে তাকিয়ে আছেন নিষ্পলক।
মাহাদিকে বিভ্রান্ত মুখে তাকিয়ে থাকতে দেখে বাবার হাতে ধাক্কা দিল অনিকা। অমনোযোগী থাকায় মেয়ের ধাক্কায় তড়িৎ নড়েচড়ে উঠলেন শাহেদ খান। যখন টের পেলেন ছেলের দিকে এতক্ষণ হা করে তাকিয়ে ছিলেন, তখন দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।বললেন,”বিব্রত করার জন্য দুঃখিত!
মাহাদি ফ্রক দিয়ে আপেলের টুকরো মুখে দিতেই আবারো নিজের উপর বাবার পলকহীন দৃষ্টি পেতেই তড়াক করে ঘাড় ঘুরিয়ে সরাসরি তাকাল। ভ্রু উচিয়ে শুধাল,’’কী’!
শাহেদ খান কী একটা ভেবে হুহু করে হেসে উঠলেন। বললেন,”তোমার মধ্যে আমি হেলালের প্রতিচ্ছবি দেখতে পাচ্ছি।

মাহাদি ভ্রু উচিয়ে জানতে চাইল কী প্রতিচ্ছবি দেখেছেন। তিনি সেটার উত্তর না দিয়ে জিজ্ঞেস করলেন,”বিয়ে করবে কবে তুমি? বয়স তো অনেক হয়েছে।
মাহাদি চুপচাপ খাবার খেতে ব্যস্ত হলো, উত্তর দিল না। যখনই বিয়ের কথা তোলা হয় সে নিশ্চুপ হয়ে যায় এভাবেই। অনিকা ভাইয়ের নিশ্চুপতার রেশ টেনে ধরে হাসল। বলল,”ও ওই মেয়েকে পছন্দ করে মনে হয়।
শাহেদ খান কপালে ভাঁজ ফেলেন। প্রশ্নাতীত স্বর উনার,”কোন মেয়ে?
“ওই তো সৈয়দ বাড়ির গুলুমুলু রসমালাই এর মতো দেখতে মেয়েটা।
মাহাদি তড়াক করে বোনের দিকে তাকাল। দরজা গলায় শাসাল,” অনিকা, ফালতু বকবে না।
শাহেদ খান ছেলেকে ধমকে উঠেন,
“তুমি চুপ করো, বলো মা, কী বলছিলে!
অনিকা গদগদ করে উঠে বলল,

“ দেখেছ বাবা, আমি বলার পূর্বেই ও বুঝে ফেলেছে, তার মানে কী, ও ওকে পছন্দ করে। আমি বলি কী, তুমি ওই সুন্দর দেখতে মেয়েটাকে মাহাদির বউ করে নিয়ে আসো। সবার ভেতর নম্র, ভদ্র ওই মেয়েটা।
অনিকার কথা শেষ হতেই নাক ফুলিয়ে শ্বাস ফেলল সে। রগরগে কন্ঠে একটা কথা বলতে গিয়ে মুখের ভেতর দলা পাকানো কথা ফসকে বেরিয়ে আসলো,”ওই বাড়ির সব মেয়েদের নাক দিয়ে বাচ্চাদের মতো সর্দি পড়ে, আর ওই মমো মেয়েটার সারাবছর-ই সর্দি লেগে থাকে, তাছাড়া বয়স বিশের গোড়ায় কিন্তু এখনো ভাইদের কোলে চড়ে ঘুরে বেড়ায়। উপর থেকে নিচ পুরোই ন্যাকামিতে ভরপুর।

কথাটা শেষ হতেই ভিক্টর ভয়েজ রেকর্ডার অন করল। মাহাদির কানে নিজের বলা শব্দগুলো যেতেই চোখ রাঙিয়ে দেখল ভিক্টরকে। শক্ত কন্ঠে আদেশ দিল,”ডিলেট দাও ভিক্টর, এ কেমন অভদ্রতা!
অনিকা নিষেধাজ্ঞা জারী করল। বলল,
“ভয়েজটা আমাকে পাঠাও।
মাহাদি মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়ার আগেই ভয়েজটা পাঠিয়ে দিল ভিক্টর অনিকার নাম্বারে। অনিকা ভাইয়ের পানে চেয়ে ঠোঁট উচিয়ে শ্লেষ করে হাসল। বলল,”ওই বাড়ির সুফির কাছে এই রেকর্ডটা পাঠাব, আর ও ভাইরাস হয়ে ব্রেকিং নিউজের মতো পুরো পরিবারে খবর ছড়িয়ে দিবে। সুন্দর হবে না ব্যাপারটা?
মাহাদি রাগে চ্যাঁচিয়ে উঠল,

“আব্বু, ওকে বলুন লিমিটে থাকতে।
শাহেদ খান শ্রাগ করলেন, উনি কিছু বলতে পারবেন না যার মানে। রুমি খানের পানে তাকাতেই দেখল মা মিটিমিটি হাসছেন। অসহায় চোখে তাকিয়ে বলল,”আম্মুউউ…
রুমি খান বললেন,
“যখন বলে ফেলেছ, তখন তা মোকাবেলা করার সৎ সাহস রাখো, অনিকা পাঠিয়ে দাও মাহাদির রেকর্ডটা।
কথা শেষে রুমি খান শব্দ করে হেসে ফেললেন, সাথে শাহেদ খান ও। সারাদিন একজায়গায় খুঁটির মতো দু-হাত পেছনে রেখে দাঁড়িয়ে থাকা ভিক্টর এর ও ঠোঁটে হাসি দেখা গেল একটু। মাহাদি হতাশ চোখ-মুখে দেখল পরিবারের সবার মুখ, কারোর গতি বিধি দেখে মনে হলো না ডিলেট দেওয়ার ধান্দা আছে রেকর্ডটুকু।

নুসরাত গাছের নিচে দাঁড়িয়ে দেখছে সূক্ষ্ম চোখে গাছটা। পাশে দাঁড়িয়ে আছে আহান। বোনের মনোভাব সে ধরতে পারছে না। তাই অনবরত জিজ্ঞেস করছে এখানে তারা কেন এসেছে। নুসরাত চোখ গাছের দিকে স্থির রেখে জিজ্ঞেস করল,”নিউটন সূত্র আবিষ্কার করেছে কীভাবে?
আহানের সরল উত্তর,
“গাছের নিচে বসে।
“ আমি ও সূত্র আবিষ্কার করতে এসেছি এখানে।
আহানের ভ্রু কুঁচকে গেল। নুসরাত আবার বলল,”বাদুড়ের মতো ঝুলে নিউটনের মতো আবিষ্কার করব বাদুড় চোখ দিয়ে না দেখে কীভাবে নিজের পথ চিনে!

আহানের ভ্রু জোড়ায় ভাঁজ ছিল, আরো একটু পড়ল। নিউটন তো বাদুড়ের সূত্র আবিষ্কার করেনি, আপু তো ভুলভাল বকে যাচ্ছে। তাই শুধরে দিতে ভাষণ দিতে দিতে বলে ওঠল,”ইতালীয় বিজ্ঞানী লাজারো স্পালানজানি ১৭৯৩ সালে প্রমাণ করেন বাদুড় চোখ ছাড়াও শুনে পথ চিনে, কিন্তু এখানে তুমি নিউটন পেলে কীভাবে? নিউটন তো এটা বের করেনি।
নুসরাত চোখ রাঙিয়ে তাকাল। খিটমিট করে ওঠে জানতে চায়,”তুই বেশি জানিস, না আমি বেশি জানি?
পিঠে মার পড়বে তাই মিনমিনিয়ে বলল,
“তুমি!
“ তাহলে কে সঠিক?
ভ্রু উচিয়ে তাকিয়ে রইল সে। আহান মৃদু স্বরে বলল,
“তুমি আপু!

নুসরাত কোমরে হাত দিয়ে দাঁড়াল আরাম করে, গাছে কীভাবে উঠবে তা বুঝতে চেষ্টা করল। আহানের একটু আগের বলা শব্দগুচ্ছ তার মনঃপুত হয়েছে তাই ধরে উড়া ধুরা কয়েকটা পিঠে দেয়নি, একটা ভুলভাল বকত পিচ্চিটা,আর সে ধরেই পিঠে কয়েকটা বসাত। গাছের দিকে দৃষ্টি নিবিষ্ট করে বলল,”আমি গাছে উঠে বাদুড়ের মতো দু-পা দিয়ে ডাল চেপে ধরে উল্টো ঝুলে থাকব, আর পড়ার সম্ভবনা থাকলেই তুই দৌড়ে এসে আমায় ধরে ফেলবি, বুঝেছিস?
আহান মাথা নাড়াল। নুসরাত গাছ দু-হাতে ধরে ডালে পা রেখে উঠতে উঠতে এমনি চ্যাঁচাল,”আহানরে, পড়ে যাচ্ছি বাঁচা বোনকে!
আহান দৌড়ে এগিয়ে যেতেই নুসরাত হেসে ওঠল। বলল,”মজা করছিলাম, দেখলাম কতটুকু ভালোবাসিস আমায়!
পরপর আবার বলল,

“এককাজ কর আমার একটা ভিডিও বানা গাছে ওঠার, পরে আমাদের টিকটিক আইডিতে পোস্ট করে লিখিস বোনের অজান্তে তৈরিকৃত ভিডিও।
আহান মাথা দুলিয়ে হ্যাঁ বলার পূর্বেই খান বাড়ির সম্মুখ হতে আরশের হেঁড়ে গলায় চ্যাঁচানোর স্বর ভেসে এলো,”হচ্ছে কী এখানে?
নুসরাত বিশেষ পাত্তা দিল না আরশকে। গাছের মগডালে ওঠার চেষ্টায় রপ্ত থেকে বলল,”কিছুই হচ্ছে না আরশ ভাই।
আরশ গাছের মধ্যে চোখ রেখে আগায়। কন্ঠে গম্ভীরতা এটে শুধায়,”তাহলে তুই গাছের মধ্যে কী করতেছিস?
নুসরাত হে হে করে হাসল। বলল,

” আসলে আরশ ভাই কয়েকদিন যাবত আমার নতুন কিছু ট্রায় করার ইচ্ছে হচ্ছিল।
নুসরাতের পুরো কথা শেষ হওয়ার আগেই আরশ বলে ওঠল,”তাই বলে গাছের মগডাল থেকে লাফ দিয়ে তুই নতুন কিছু ট্রাই করবি, নিচে নেমে আয় বেয়াদপ, পড়ে হাত পা ভাঙবি, এক্ষুণি নিচে নেমে আসবি তুই।
আরশের কথা শেষ হতেই গাছ ধরে ঝুলে থাকা নুসরাতের বিরক্ত স্বর ভেসে আসলো,”আগে শুনেন ভাই কী বলি আমি, পরে না হয় বলবেন উপরে থাকব, না নিচে নামব, নাকি আপনার কোলে উঠব।
আরশের কপালে ভাঁজ পড়ল। ট্রাউজারের পকেটে হাত ঢুকিয়ে সটান হয়ে দাঁড়াল। নিস্পৃহ চোখে তাকিয়ে, জিজ্ঞেস করল,”হু, কী করছিলি, বল?

নুসরাত গদগদ ভঙ্গিতে হেসে উঠল। ঠোঁটে মারাত্মক হাসি তার, হাসির তোড়ে কথা অস্পষ্ট ভেসে আসে ,”আরশ ভাই, আমার না কয়েকদিন যাবত গাছের মগডালে বাদুড়ের মতো ঝোলার শখ জেগেছে।
নুসরাতের কথা কানে যেতেই না চাইতেও ভ্রু উচিয়ে আসলো আরশের, বুঝতে চাইল মাথা গেছে নাকি আছে ঠিক জায়গায়। মেয়েলি মুখের হাস্যরস প্রতিক্রিয়া দেখে ঠাহর হলো মজা করছে না, আসলেই পাগলটা বাদুড়ের মতো ঝুলতে উঠে পড়েছে গাছে। আরশ নাক ফুলিয়ে তপ্ত শ্বাস ফেলল। বলে ওঠল,”তুই তো নিজেই আস্তো একটা বাদুড়, বাদুড়ের আবার বাদুড় স্টাইলে গাছে ঝোলার শখ হওয়ার মানে কী আমি খুঁজে পাচ্ছি না।

কথা শেষে নুসরাতের গতিবিধি দেখল, নিচে নামার আকাঙ্ক্ষা ইচ্ছে কোনোটা নেই। তাই সে তর্জনী আঙুল তুলে কেন্দ্রবিন্দু করল হাতের মধ্যে মেয়েটাকে। হাতের ইশারায় চুপচাপ নিচে নেমে আসতো বলল, অতঃপর গম্ভীর গলায় বলল,”চুপচাপ, কোনো বাকবিতন্ডায় ছাড়া নিচে নেমে আয়, না হলে একটা ঝাটার বারি মাটিতে পড়বে না। নেমে আয় বেয়াদব, নেমে আয় বলছি, এসব ফালতু জিনিস তোর মাথায় আসে কীভাবে!
নুসরাত কানে কথা না তোলেই জেদ ধরে গাছ বেয়ে উঠতে লাগল। তা অবলোকন করে আরশ লম্বা দেখে হাতে একটা কচি বাঁশ নিল। নুসরাতের দিকে সেটা নিয়ে অগ্রসর হতে হতে রাগী স্বরে চ্যাঁচাল,”নেমে আসতে বলছি না, আয়!

প্রিয় প্রণয়িনী ২ পর্ব ৪৬

নুসরাত ঝটপট উপরে উঠতে উঠতে বলল,
“আপনি আসলেই একটা ভেড়া আরশ ভাই।
প্রতিত্তোরে নুসরাতের পায়ের মধ্যে ঠাস ঠাস করে দুটো বারি বসাল আরশ। হিসহিসিয়ে আওড়াল,” আর তুই একটা গাধা..!

প্রিয় প্রণয়িনী ২ পর্ব ৪৭ (২)

6 COMMENTS

  1. Ki vai ki suru korchen ei koydin taratari dichen ehon abr dhong suru korchen ken taratari next part den klk jani pai next part ei bollam 😠

  2. 5 din hoiya geche ehono nest part ditechen na keno dhong suru korchen faltu mohila klkr moddhe next part fiben beyadob mohila taratari den next part🤬🤬

Comments are closed.