Home প্রেমসুধা সিজন ২ প্রেমসুধা সিজন ২ পর্ব ৮৫

প্রেমসুধা সিজন ২ পর্ব ৮৫

প্রেমসুধা সিজন ২ পর্ব ৮৫
সাইয়্যারা খান

তৌসিফ ফিরে এসে পৌষকে ঘুমন্তই পেলো। নির্ঘাৎ মেয়েটা ক্লান্ত নাহয় তুহিনের কথা সত্যি ভেবে তৌসিফও ভেবেছিলো এই সামান্য ডোজে পৌষ হয়তো জেগে যাবে ও ফেরার আগে। বিষয়টা ওমন হয় নি ভেবে তৌসিফ স্বস্তি পেলো। এগিয়ে এসে পৌষের গুটিয়ে যাওয়া দেহটা ভালোমতো দেখলো৷ কপালে নিজের ঠান্ডা বরফের মতো ঠোঁট ছুঁয়ে আস্তে করে বললো,
“আমি জানি তুমি খুব নরম। শুধু বাহিরটা এমন শক্ত দেখাও। সবসময় এভাবেই জেদ দেখাও, আমাকে পদদলিত করে রাখো। আমি হাসিখুশি মেনে যাব। কোনদিন টু শব্দ করব না। তোমার এই কঠিন ধাঁচের প্রেমেই আমি পড়েছিলাম পৌষরাত। সারাজীবন এমন থেকো। আমার থেকো।”

ঠান্ডা পরোয়া না করে তৌসিফ ফ্রেশ হতে চলে গেলো। লম্বা শাওয়ার প্রয়োজন যা এখানে আপাতত সম্ভব না। তার স্কিন কেয়ার করার প্রয়োজনীয় যাবতীয় প্রডাক্ট কিছুই নেই। একটা ক্লিনজার আছে যা তুহিন এনে রেখে গিয়েছে। হসপিটাল থেকে দেওয়া সাবান আর বডিওয়াশ দেখেও তৌসিফ ধরলো না। যদি তার স্কিনে স্যুট না করে? রিস্ক নিলো না তৌসিফ। শুধু গরম পানিতে যতটুকু পারলো হট শাওয়ার নিলো। মুখ ধুয়ে টাওয়াল পেঁচিয়ে বেরিয়ে আসতেই ভীষণ ঠান্ডা লাগলো। দেশে থাকলে এতক্ষণে ফজরের আজান দিয়ে দিতো বোধহয়। এখানে ঠান্ডা কুয়াশায় সময় বুঝা যাচ্ছে না। সকাল হয়ে এলো বলে। তৌসিফ টাউজার পরে টিশার্ট খুঁজলো। পেলো না। কপাল কুঁচকে এলো সহসা৷ এখন কি পরবে ও? শরীর ঠান্ডায় জমে যাচ্ছে। দরজা খুলে নার্সকে দেখতে পেলো, যে পাশের কাবিন থেকে বের হচ্ছে। তৌসিফ ডেকে হিটারের ব্যাবস্থা করতে বলতেই নার্স জানালো রুমেই আছে। এসে চালু করে দিয়ে যেতেই তৌসিফ ওটার সামনে বসে রইলো কিছুক্ষণ। ফোন হাতে তুলে ইহানকে ম্যাসেজ পাঠিয়ে রাখলো যাতে তার জন্য জামাকাপড় আনা হয়। সবটা শেষ করে ও বেডে এলো। মোটা কম্বলের নিচে ঢুকে পৌষের বুকে নিজেকে বিলিয়ে দিলো৷ একদম মুখ গুঁজে শুয়ে রইলো ওভাবেই। চোখ বুজার আগে শুধু তুহিনের কথা ভাবলো একবার। তুহিন জীবনে এরচাইতেও বড় ধাক্কা খেয়েছিলো পলকের মাধ্যমে। ওটা যেহেতু পাড় করেছে আজকেরটাও পারবে। তার ভাই স্ট্রং, তৌসিফ জানে৷ এখন একটু সময় একা থাকলে নিজেকে সামলানো তার জন্য সহজ হবে। তৌসিফ ক্ষুদ্র শ্বাস ফেলে চোখ বুজে নিলো। তার আরাম লাগছে, আরেকটু উষ্ণতা পেলেই ঘুমিয়ে যাবে সে। উষ্ণতাটুকু পৌষ নিজ দায়িত্বে দিলো। দুই হাত, পায়ে পেঁচিয়ে ধরলো তৌসিফকে।

আড়মোড়া ভেঙে পৌষ যখন উঠেছে তখন নিজের বুকটা ভীষণ ভারী ঠেকলো ওর নিকট। চাপা শ্বাস ফেলে বুকে থাকা মাথাটা জড়িয়ে নিলো ভালোমতো। চোখ খুলে এদিক ওদিক তাকালো একবার। আঙুল গুলো চলতে লাগলো তৌসিফের চুলে। আরাম পেয়ে আরেকটু মুখ ঘষে ঘুমালো তৌসিফ। সেও জেগেছে কিছুটা। দরজা নক করা মাত্রই পৌষ ঘুম জড়ানো কণ্ঠে উত্তর দিলো,
“কে? আসুন।”
ইরা হাতে ট্রে নিয়ে ভেতরে এলো। পেছনে একজন নার্স। খুব সংক্ষিপ্ত ভাবে নিজের ডিউটি পালন করতে হালহকিকত জিজ্ঞেস করে একবার পৌষের পা দেখে গেলো৷ জানালো আজ যাওয়ার আগে ড্রেসিং করে যেতে হবে। পৌষ সরাসরি নাকোচ করে দিলো। ওর বুকে ঘুমন্ত তৌসিফ কম্বলের নিচ থেকেই বললো,
“আ’ল টক টু ইয়্যু লেইটার সিস্টার।”

নার্স হাসিমুখে বিদায় জানিয়ে চলে গেলেন৷ ইরা পৌষের কাছাকাছি এসে দাঁড়িয়ে কপালে একবার হাত রেখে তাপমাত্রা দেখলো। বাইরে থেকে তায়েফা নক করতেই পৌষ তৌসিফের মাথাটা আস্তে করে বালিশে রাখলো৷ দুই হাতে গাল দুটো ধরে দেখলো ভালোই গরম কিন্তু জ্বর-টর না৷ তায়েফা ভেতরে ঢুকে তাড়া দিলো,
“মুখটা ধুবি। আয়, আপা নিয়ে যাই। খেতে হবে এরপর সোজা বাসায়। বহুত হয়েছে তোদের তামঝাম।”
পৌষ উঠতে নিলেই তৌসিফ হাত ধরে আটকালো। ঘুম জড়ানো কণ্ঠে জানালো,
“তুমি পারবে না পৌষরাত। আমি উঠছি..”
“কেন পারব না? আমি কি লুলা?”
“মাথা ঘুরবে।”

তৌসিফ নিজেও উঠতে পারছে না৷ পৌষ মুখ বাকিয়ে নিলো। ঘাড়ত্যাড়ামি দেখিয়ে উঠেও গেলো কিন্তু সত্যিই তার মাথা চক্কর দিলো, পায়ে চাপ পরলো। ধপ করে বসা মাত্রই তৌসিফের চোখে থাকা ঘুমটুকু উড়ে গেলো। কাঁচা ঘুম ভাঙার দরুন চোখ দুটো লাল দেখাচ্ছে। তায়েফা আর ইরা ধরলেও তৌসিফ নিজে উঠে ধরলো৷ একদম নিজের সাথে মিশিয়ে নিয়ে বাথরুমে নিয়ে গেলো। পৌষ আর দ্বিরুক্তি করলো না এখন৷ ফ্রেশ হয়ে এসে বসা মাত্রই তৌসিফও মুখে পানি দিয়ে এসেছে৷ পৌষের সামনে গরম খাবার রাখলো ইরা। পৌষ এদিক ওদিক তাকিতুকি করলো। নাহ্, নেই। মুখে জিজ্ঞেস করতে কেমন সংকোচ লাগলো তবুও বলেই ফেললো,
“তুহিন ভাইয়া কোথায়?”
তায়েফা চিন্তিত মুখে উত্তরে বললো,

“কি জানি৷ রাতে হসপিটালেই ছিলো। ইহানও তো নেই, সকালে দেখলাম। দাঁড়া ফোন দেই।”
“ওরে বাবা, ফুপাতো কুটনি বোন আমার। মামাতো ভাই ছাড়া গলা দিয়ে বুঝি খাবার নামছে না?”
দরজা ঠেলেঠুলে ঢুকলো তুহিন। তৌসিফ তাকালো ওর দিকে। পৌষ মোটেও চুপ রইলো না। তেড়েফুঁড়ে বললো,
“একদম ঠিক ধরেছেন। একটু নেচে দেখান তো। আপনার নাচ না দেখে খেতে পারছি না।”
“চটকানা খেলেই দেখবে তোমার মাথা ঘুরছে। দেখবে? দেখাই?”
“না, আপাতত দেখতে চাইছি না।”
“আমি কিন্তু দুটোর মাথা ধরে একসাথে করে ঠোসা দিব। মুখ একদম বন্ধ।”
তায়েফার ধমকে চুপ রইলো ওরা। পৌষ মুখ ঝামটা দিয়ে বললো,
“সারারাত টহল দিয়েছেন হাসপাতাল? চোখের কি অবস্থা! একদম পাক্কা নেশাখো…”
তৌসিফ ওকে থামিয়ে দিলো। পৌষ মুখ বন্ধ রাখলো না৷ পুণরায় বললো,
“খেতে আসুন।”
“খায়িয়ে দিবে?”
“কেন দিব?”
“দিলে কি হবে?”
“পারব না।”

তুহিন গোঁ ধরে বসে রইলো। তৌসিফ বিরক্তি প্রকাশ করে ভাইকে মুখে তুলে খাওয়ালো। তায়েফা আর ইরা খেয়ে এসেছে। নার্স এসে আরেকবার ড্রেসিং করতে তাড়া দিয়ে গেলেন। পৌষ আঁড়চোখে তৌসিফকে দেখলো। চোয়ালটা শক্ত হয়ে এলো। এই লোক এমন খালি গায়ে বসে আছে কেন? খাওয়া কোনমতে শেষ করেই চাপা স্বরে প্রশ্ন করলো,
“কি? জামাকাপড় নেই? মান ইজ্জত দেখানোর সখ জাগলো নাকি? একদম বোরকা পরিয়ে হাঁটাব কিন্তু।”
“টিশার্ট নেই তোতাপাখি।”
“তাতে কি? যা পারেন পরুন।”
“কি পরব?”
“জানি না৷ খালি গায়ে আর একটু দেখলে দুই রাত তিন দিন বউ ছাড়া থাকবেন।”
“এ কেমন শাস্তি?”
তৌসিফ খুব আহত স্বরে বললো৷ বলেই কম্বলের নিচে ঢুকে বসলো। তুহিন খেতে খেতেই বললো,
“বউকে কবে জানি গলায় ঝুলিয়ে ফেলে মেঝ ভাইয়া।”
“একদম।”

পৌষ তাল মিলালো। তৌসিফ ওদের মধ্যে ঢুকলো না। এরা দুজনেই তৌসিফের কলিজা৷ এদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হলে তৌসিফ সহজে ঢুকে না৷
পৌষের পা ড্রেসিং হতে হতে ইহান হাজির হলো। হাতে থাকা ব্যাগটা তৌসিফকে দিয়ে বললো,
“রাতের জন্য সব রেডি করে এলাম একেবারে।”
“এত দেড়ী তাই বলে?”
“ওহ, মম। বাসায়ও গিয়েছিলাম৷ মেঝ মামার টিশার্ট লাগবে।”
তৌসিফ গায়ে টিশার্ট জড়ালো। উঠে দাঁড়িয়ে বললো,
“চলো। শুধু ডক্টরের সাথে একবার দেখা করে আসি।”
ওরা কেবিনে অপেক্ষা করতেই তৌসিফ দেখা করে এলো অতঃপর বিদায় হলো তায়েফার বাসায়, কিছুতেই ওদের হোটেলে যেতে দিলো না।

বাইরে ঠান্ডা আবার বেড়েছে আজ। ফোনটা বেজে যাচ্ছে বারবার। সেখানে ইংরেজি অক্ষরে লিখা উঠছে ‘সুইটহার্ট’ শব্দটা। তুহিন সারাটারাত ঘুমায় নি। ঐ সকালে গিয়ে একটু ঘুমিয়েছিলো। দুপুরে আপা আজ সাদা পোলাও সহ বিভিন্ন পদের খাবারের আয়োজন করেছিলো। পেট ভরে খেয়ে ঘুম দিয়েছিলো তুহিন। এখন ফোনের শব্দে ঘুমটা হালকা হলো। ফোন হাতে নিয়ে জ্বলজ্বল করা শব্দটা দেখে জায়গা মতো আবার রেখে দিলো। ফোনটা এবার সাইলেন্ট করায় আর শব্দ হয় নি। তুহিন অবশ্য আর ঘুমাতে পারলো না। তৌসিফ এসেছে ওর রুমে। এসেই নিঃশব্দে পাশে বসেছে। চুলের ভাজে হাত রাখতেই তুহিন মাথাটা ভাইয়ের কোলে তুলে দিয়েছে। দুই ভাই কতক্ষণ চুপচাপই থাকলো। তৌসিফ ওর পিঠে হাত বুলিয়ে জিজ্ঞেস করলো নরম স্বরে,
“ঠিক আছো?”
“হ্যাঁ।”
“মন এখনও খারাপ?”
“সামলে নিয়েছিলাম।”
“আমি জানতাম তুমি পারবে।”
“কষ্ট হয়েছে খুব।”

“আমাদের তুহিন কষ্টের সর্বোচ্চ পাড় করে এসেছে।”
“আমি ওকে ঘৃণা করতে কেন পারি না ভাইয়া?”
“কারণ তুমি ওকে সত্যিকারে ভালোবাসো।”
“কিন্তু ও তো ভালোবাসার সীমা ছাড়িয়ে ফেলেছে। ঘৃণা করার শত কারণ আমাকে দিয়েছে।”
“ভালোবাসার সীমার ওপাড়েও ভালোবাসাই থাকে তুহিন। ভালোবাসা কবেই বা সীমানা মেনে চলেছে?”
“তুমি কি চাও?”
তৌসিফ মুচকি হাসলো। ওর পাতলা ঠোঁটে খুব সামান্য কাঁপন হলো তাতে। ছোট ভাইয়ের কপালের চুলগুলো গুছাতে গুছাতে বললো,
“তোমার সুখ।”
“পলক সহ?”
“ও বাদে তুমি সুখ পাবে?”
তুহিন বাচ্চাদের মতো মাথা নাড়লো৷ পাবে না ও সুখ। তৌসিফ ক্ষুদ্র শ্বাস ফেললো। বললো বেশ ব্যথিত হয়ে,
“ওকে শুধু বলবি পৌষরাত থেকে দূরে থাকতে। আমি পর্যন্ত মেনে নিব কিন্তু পৌষরাত পর্যন্ত না।”
ঠান্ডা মাথায় করুণ স্বরে এটা তৌসিফ কর্তৃক দেওয়া এক হুমকি। তুহিন চোখ বুজে নেয়। ভাইয়ের হাত ধরে ঠোঁট কামড়ে কান্না আটকায়,

“আমাকে দূরে থাকতে বলো না পৌষ থেকে।”
“পলক পছন্দ করছে না বিষয়টা।”
“প্লিজ মেঝ ভাইয়া।”
“তুই পৌষরাতের আশেপাশে থাকলে পলক একই কাজ বারবার করবে।”
“আমি কথা বলব।”
“আগেও বলেছিলি। কাজ হয়েছে?”
তৌসিফ ঠাট্টার স্বরে বলতেই তুহিনের মুখটা ফ্যাকাসে হলো তবুও উঠে বসলো। ঠিট হয়ে বললো,
“আমি আসবই। একশত বার আসব।”
তৌসিফ উঠে দাঁড়িয়ে পকেটে হাত গুঁজলো। মাথা কাত করে বললো,
“আমি না করার কে? তবে ঝগড়াঝাঁটি করবি না। খবরদার!”
তৌসিফ বেরিয়ে যেতে নিলেই তুহিন চেঁচালো,
“আজ রাতে পৌষকে আমি নিয়ে যাব ক্লাবে।”
“আশেপাশে এসে দেখিস তুহিন! মা’র খাবি আমার হাতে।”
তৌসিফ চলে গেলো। নিজেদের জন্য বরাদ্দকৃত রুমে ঢুকতেই তার মুখে সিল্কের একটা নরম কাপড় ছুঁড়ে মারলো পৌষ। ভাঙা পায়ে তেঁড়ে এসে শুধালো ঝাঁঝালো কণ্ঠে,
“এসব কি হ্যাঁ? এই পাতলা, সিল্কের কাপড়ের দাম আড়াই লাখ? আমি পা’গল নাকি আপনি? এত দাম! এত দাম দিয়ে কে কিনে? আমাকে বলতেন, আমি সদরঘাটের গুলসান আরা মার্কেট থেকে পাইকারী কিনে টেইলারে বানাতে দিতাম। এক হাজার লাগতো সর্বোচ্চ।”

পৌষ হাঁপিয়ে উঠেছে। তৌসিফ আড় চোখে দরজার বাইরে তাকিয়ে আগে দরজাটা বন্ধ করলো। বিলের কাগজটা কি ইহান বা ইরা সরায় নি? তৌসিফের নজর এবার জুতার দিকে গেলো। গতবারও জুতার দাম শুনে রেগেছিলো পৌষ এবার না হিলটাই ছুঁড়ে মা’রে। কাপড়টা ভাজ করে বিছানায় রেখে গলা খ্যাঁকানি দিলো তৌসিফ। লাভ হলো না। পৌষ তেড়েফুঁড়ে এগিয়ে এসে তৌসিফের হাত টেনে নিলো। আঙুল তুলে দেখিয়ে বললো,
“টাকা গাছে ধরে? এগুলো দেশে পরতে পারবো? একদিনের জন্য এত খরচা কেন করলেন আপনি? আমি পরি এসব? বাসায় কতক্ষণই বা পরব? হায় কপাল আমার! সম্ভব হলে আজ গায়ে দিয়ে আর পোশাকই বদলাতাম না আমি। দাম উসুল হতে কত যুগ লাগবে কে জানে?”
তৌসিফ বউকে সামলাতে ফাঁকফোকর খুঁজলো। পেলোও বটে। পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে কানের লতিতে চুমু খেলো। পৌষ ফোঁস করে দম ফেললো।
“কেন করেন এগুলো?”
“একটা পৌষরাত আমার। আর কে আছে আমার?”
“নেই তবে হতে কতক্ষণ? অ্যাঁই অ্যাঁই, আপনার নাকি অসংখ্য গার্লফ্রেন্ড! এখানে আসুন৷ আসুন বলছি! হিসেব চাই আমার।”

ঝটকা মে’রে সরিয়ে বিছানায় বসলো পৌষ। তৌসিফ প্রচুর গরম হলো। এর চাইতে তো লাখ টাকার হিসেবটা সহজ ছিলো। বউয়ের ভয়ে সেও মুখোমুখি বসলো। আঙুলের কড় গুনে পৌষ মাস্টারি দেখালো,
“হ্যাঁ, শুরু করুন৷ এক নাম্বার থেকে একদম।”
দাঁড়ি চুলকে তৌসিফ অপারগতা প্রকাশ করলো। বললো,
“কি?”
“এক নাম্বারের নাম কি ছিলো? কি কি করেছেন সব শুনতে চাই।”
“নাম? নাম… উমমম। ভুলে গিয়েছি হানি।”
“ভুলে গেলে মনে করুন। এখ্খনই মনে করুন।”
“অ.অ্যালেন।”
“বিদেশী?”
ভ্রুঁ কুঁচকালো পৌষ। তৌসিফ ক্ষুদ্র শ্বাস ফেললো। আস্তে করে বললো,
“পিয়ু বাদে সবই বিদেশী।”

কথাটা বলতে দেড়ী তবে খামচি খেতে দেড়ী হলো না তৌসিফের। পৌষ বাঘিনীর মতো ঝাঁপিয়ে পড়েছে ওর উপর। আচমকা এমন হওয়াতে তৌসিফও খেই হারিয়েছে। উল্টে পড়েছে বিছানায়। ব্যাথাতুর শব্দ তুলার আগেই হিসহিসানি শুনলো ও,

প্রেমসুধা সিজন ২ পর্ব ৮৪

“পিয়ু না? পিয়ু ছুটাচ্ছি!”
তৌসিফের পেটের উপর বসে দুই কান টেনে ধরলো পৌষ। রাগে অনিয়ন্ত্রিত হয়ে গেলো,
“একশত বার ডাকুন পিয়ু তাও দুই সেকেন্ডে! নাহয় দুই মাস আমার থেকে সাসপেন্ড করে দিব। এক, দুই, তিন… কই শুরু করুন। আজ ছুটাচ্ছি আমি ইউ পিউ টিউ। বদমাশ, লুইচ্চা ব্যাটা। ছেড়ি নিয়ে নষ্টিফষ্টি শুধু তাই না?”

প্রেমসুধা সিজন ২ পর্ব ৮৬

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here