বাঁধনহারা প্রেম পর্ব ৬১
shanta moni
দুই দিন পর
“সকাল ৮:৩০ মিনিট
“শুভ্র সেই সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে অফিসের একটা জরুরি মিটিং জন্য সিলেট গিয়েছে। অফিসের কাজ শেষ করে আসতে আসতে দুই দিনের মতো লাগবে। চৌধুরী বাড়িদে তেমন কেউ নেই। রুহি চলে যাওয়াতে বাড়িটা কেমন ফাঁকা ফাঁকা। রোদ পুড়ো বাড়ি ঘুঁড়ছে একা একা। বাড়ির বন্ধ রুম গুলো খুলে খুলে দেখছে। তিল তলায় বাড়ির শেষ করনারে একটা রুমের কাছে এসে পা থেমে যায় রোদের। এই রুমটা সে রকম কারোই চোখে পড়েনি। একে বাড়ে চোখের আড়ালে৷ আর এই দিকটাই তেমন কেউ আসা যাওয়া করে না। রুমের সামনে বড় একটা তালা ঝুঁলানো। রোদ দরজার সামনে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে আবার সরে যায়। কারো পায়ের শব্দ পেয়ে আড়ালে লুকিয়ে পড়ে। হাঁসি বেগম হাতে একটা খাবারের প্লেট নিয়ে আর একটা বোতলে এক বোতল পানি নিয়ে আসে পাশে তাকাচ্ছে, আর সেই তালা বন্ধ রুমটার দিকে এগিয়ে আসছে। রোদের কপাল কুচকে যায়। হাঁসি বেগম খাবার প্লেট এক পাশে রেখে, কোমর থেকে একটা চাবি বেড় করে বন্ধ ঘরের তালা খুলে৷ আসে পাশে তাকিয়ে, আস্তে দরজা খুলে ভিতরে ডুকে যায়। ডুকেই সাথে সাথে দরজা বন্ধ করে ফেলে।
রোদ আস্তে আড়াল থেকে সরে এসে দরজার সামনে আসে। রুমটায় কোনো জানলাও নেই যে দেখবে। দরজায় কান পাতে। কিন্তু ভেতর থেকে কোনো শব্দই পাওয়া যাচ্ছে না। রোদ দরজা খোলার শব্দ পেয়ে দরজার সামনে থেকে তাড়াতাড়ি সরে যায়। হাঁসি বেগম খালি হাতে রুম থেকে বেড়িয়ে আসেন। রাগে চোখ মুখ লাল হয়ে আছে। কিছু একটা বিড়বিড় করে বলেন। রোদ হেনা বেগমের থেকে দূরে থাকাই কিছুই শুনতে পায় না।
হাঁসি বেগম এইদিক ওইদিক তাকিয়ে নিচে চলে যায়। হেনা বেগম যেতেই রোদও আড়াল থেকে বেড়িয়ে আসে। দরজার সামনে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে, নিচে চলে যায়৷
_রোদ শুভ্রের রুমে আসতেই দেখে রিয়াকে, রিয়া কেমন তাচ্ছিল্য হেঁসে রোদের দিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করে বলে উঠে।
রিয়া: আমি বলেছিলাম, তোমার থেকে আস্তে আস্তে সব কিছু কেড়ে নিব। এইবার দেখো আমি আর কি কি কেড়ে নেই, তোমার থেকে।
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
_রোদ সব শুনেও যেনো, না শোনার ভান করে। রুমের দিকে যেতে নেয়। কিন্তু রিয়া রোদের পথ আটকে ধরে। রোদ বিরক্ত হয়ে, ভ্রু কুচকে রিয়ার দিকে তাকায়।
রিয়া রোদকে ব্যঙ্গ করে বলে।
রিয়া: কেমন আছো রোদ…? সব কিছু ঠিকঠাক আছে তো!
_রিয়া যে রোদকে পিন্স মেরে কথাটা বলেছে, সেটা রোদ ভালো করেই বোঝা যাচ্ছে। কারন কিছু দিন ধরে রোদকে এগিয়ে যাচ্ছে শুভ্র, রোদের সাথে তেমন কোনো কথা বলছে না। যার জন্য রিয়া রোদকে এমন কথা বলছে।”
রোদ কিছু না, বলে পাশ কাটিয়ে চলে যেতে নেয়। এমন সময় রিয়া ঠাট্টা স্বরে বলে উঠে। ”
রিয়া: খুব তো বলতে শুভ্র কখনো আমার কাছে আসবে না। তো কই গেল তোমার এত বড় বড় কথা। তোমার সেই শুভ্র এখন আমার।
_রোদ রিয়ার কথায় বিরক্ত হয়ে বলে উঠে।
রোদ: রিয়া আপু আমার পথ ছাড়ো যেতে দাও!
রিয়া রোদের কোনো কথা না শুনে তাচ্ছিল্য হেঁসে বলে উঠে।”
রিয়া: শুভ্রকে আমি আমার করেই ছাড়বো। আর শুভ্র শুধু আমার।
_রিয়া কথা শুনে রোদের ঠোঁটের কোনে পৈচাসিক হাঁসি। রিয়ার দিকে তাকিয়ে ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে বলে উঠে।
রোদ: হাতি ঘোড়া গেলো তল মশা বলে কতো জল।
রোদ রিয়া কাছে একটু এগিয়ে, হাঁসি মুখে বলে উঠে।”
রোদ: দলিল করা সম্পতি আমার বুচ্ছো আপু। একবারের জায়গায় দুইবার বিয়ে করেছি। আগে আমার জায়গায় আসো। তারপর না হয়, এই সবের স্বপ্ন দেখো।
রোদ একটু থেকে, ভাবলিন দৃষ্টিতে রিয়ার দিকে তাকিয়ে, রিয়া এক কাধে হাত রেখে, রিয়াকে ব্যঙ্গ করে বলে উঠে।
রোদ: আচ্ছা আপু, দুনিয়ায় এতো বেডা থাকতে, আমার খাওয়ার মা*লটার উপরে কেনো নজর পড়লো তোমার বলোতো।
_রিয়া রোদের কথা শুনে রাগে ফুসতে থাকে। রোদ রিয়ার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলে উঠে।
রোদ: কুল সোনা। আগে রোদের যায়গায় আসো। তারপর না হয়, শুভ্রের হওয়ার স্বপ্ন দেখো।
রোদের কথা শুনে, রোদকে ধাক্কা দিয়ে, নিজের থেকে সরিয়ে দিয়ে। রাগে থাপ্পড় মারতে যায়৷ রোদ সাথে সাথে রিয়ার হাত শক্ত করে মোচড় দিয়ে ধরে। কিছুটা দূরে ধাক্কা মেরে সরিয়ে দেয়। রিয়া রাগে এগিয়ে আসে রোদের দিকে। রোদ আর ধৈর্য ধরে রাখতে পারেনা। সজোড়ে থাপ্পড় মারে রিয়ার গালে। রিয়া কিছু দূরে ছিটকে পড়ে ফ্লোরে। রোদ রাগে দাঁতে দাঁত চেঁপে ধরে বলে উঠে।”
রোদ: আরে ভাই, তোর যখন এতই ভা*তার দরকার, তো অন্যের ভা*তার ধরে, কেনো টানাটানি করছিস। নিজে একটা খুঁজে নে না। আমার অসহায় বাছুম বাচ্চা জামাইয়ের উপর কোনো নজর দিয়েছিস শা*লি।
রোদ রিয়ার দিকে দুই কদম এগিয়ে এসে রাগে গজগজ করতে করতে বলে উঠে৷
রোদ: আমার জামাইয়ের দিকে নজর দিলে তোর চোখ তুলে, হাতে ধরিয়ে দিব আমি মনে রাখিস৷
“রিয়া রোদকে কিছু বলতে যাবে। কিন্তু পিছন থেকে শুভ্রকে আসতে দেখে ন্যাকা কান্না জুড়ে দেয়। কাঁদতে কাঁদতে রোদকে উদ্দেশ্য করে বলে।
রিয়া: তুমি এই সব কি বলছো রোদ। শুভ্র আর তোমার মাঝে আমি কেনো আসবো। আর শুভ্রকে আমি কেনোই বা তোমার থেকে কেড়ে নিবো।
_হঠাৎ করে রিয়ার এমন কথা কিছুই বুঝতে পারেনা রোদ। কিছু না বুঝে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে। রিয়ার দিকে তাকিয়ে।
রিয়া পুনরায় ন্যাকা স্বরে কেঁদে কেঁদে বলে।’
রিয়া: হ্যা আমি মানছি শুভ্রকে আমি ভালোবাসি। তাই বলে আমি কেনো তোমাদের আলাদা করতে যাবো। আর কেনোই বা শুভ্রকে বিয়ে করতে চাইবো।
আমি তো জানি শুভ্র শুধু তোমার। প্লিজ তুমি আমাকে ভুল বুঝে মেরো না।
_রোদ যেনো রিয়ার ন্যাকামি আর সহ্য করতে পারেনা। রাগে রিয়ার দিকে তেরে গিয়ে, রিয়ার গলা চেপে ধরে বলে উঠে।
রিয়া: কালনাগিনী চুপ কর। মিনিটে মিনিটে রুপ বদলাস নাহ। তোর এই রুপ বদলানো থোতা মুখ, ইট মেরে বোথা করে দিব।
_রোদ রেগে আরো শক্ত করে গলা চেপে ধরতে যায়। তখনি হাতে কারো শক্ত টান পড়ে। রোদ কিছু বুঝে উঠার আগেই, গালে কারো থাপ্পড় পড়ে। কয়েক সেকেন্ড কি থেকে কি হয়ে গেছে৷ সব কিছু রোদের মাথার উপর দিয়ে যায়। রোদ সামনে তাকাতেই অবাকের চরম পর্যায়ে। শুভ্র দাঁড়িয়ে আছে, রোদের সামনে। রোদ অবাকের রেশ ধরে বলে উঠে।
রোদ: আপনি এখানে?
শুভ্র রাগে রোদের দিকে তাকিয়ে বলে উঠে৷
শুভ্র: তোর সাহস কি করে হয়। রিয়ার গায়ে হাত তুলার। এই সব আজে বাজে কথা বলার হ্যা।
_রোদ হতভম্ব হয়ে যায়। শুভ্রের মুখে এমন কথা শুনে। রোদের চোখের কোনে পানি। টলমল চোখে শুভ্রের দিকে তাকায়। শুভ্র রিয়াকে ফ্লোর থেকে হাত ধরে তুলছে, সেটা দেখে রোদের বুকের মাঝে মোচড় দিয়ে উঠে। রোদ ভাঙা স্বরে বলে।
রোদ: একটা বাহিরের মেয়ের জন্য আপনি আমায় মারলেন।
_শুভ্র রাগে গর্জে উঠে বলে।
শুভ্র: কাকে বাহিরের মেয়ে বলছিস তুই।
শুভ্রের কথা শুনে রিয়া ন্যাকা কান্না শুরু করে। নাক টানতে টানতে বলে।
রিয়া: আমাকে আরো অনেক কথা বলেছে শুভ্র। আমি নাকি তোমাকে বিয়ে করতে চাই…! রোদের থেকে তোমাকে কেড়ে নিতে চাই।
কথা গুলো বলেই, ন্যাকা কান্না শুরু করে দেয়।
_শুভ্র রোদের দিকে কেমন করে যেনো তাকায়৷ আর এইদিকে রোদ পদে পদে অবাক হচ্ছে৷ শুভ্রের বলা প্রতিটা কথা শুনে। শুভ্র রোদের দিকে এক নজর তাকিয়ে, রিয়ার দিকে তাকায়৷ তারপর বলে উঠে।
শুভ্র: রিয়া তোমাকে, রোদের থেকে আমায় কেড়ে নিতে হবে না। আমি নিজেই তোমাকে বিয়ে করবো। সেটাও ১৫ দিনের মধ্যে।
_শুভ্রের মুখে বিয়ের কথা শুনে, রোদ আর এক মূহুর্তে দাঁড়ায় না। দৌড়ে নিজের রুমে ডুকে দরজা বন্ধ করে ফেলে। দরজা বন্ধ করে, কাঁদতে কাঁদতে ফ্লোরে বসে পড়ে। কিছু দিন ধরেই দেখছে, শুভ্র রোদকে এগিয়ে যাচ্ছে। তেমন কোনো কথা বলছে না। আর রিয়ার সাথে খুব ঘনিষ্ঠ থাকছে। রোদকে শুভ্র থাপ্পড়’টা তেমন জোড়ে মারেনি। তারপর রোদের ভীষন কষ্ট শুভ্রের মুখে এমন কথা শুনে। এইভাবে কেটে যায়। ২ ঘন্টা, রোদ নিজের রুমে দরজা বন্ধ করে আছে। কিছুটা সময় যেতেই, দরজায় কারো টোকা পড়ে। সময় তখন দুপুর পেড়িয়ে বিকেল। রোদ কিছুক্ষণ ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে। কিন্তু বাহির থেকে বার বার দরজা ধাক্কাচ্ছে কেউ। রোদ চোখ মুখ মুছে দরজা খুলে দেয়। দরজার সামনে শুভ্রকে রাগী চোখে তাকিয়ে থাকতে দেখে, রোদের নিভে যাওয়া রাগটা, যেনো আরো দ্বিগুন বেড়ে যায়৷
দরজা ঠেলে বন্ধ করতে যায় রোদ । কিন্তু শুভ্র দরজা ঠেলে রুমে ডুকে, দরজা লাগিয়ে দেয়। রোদ রাগে দুঃখে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে৷ শুভ্র রোদের কাছে এসে দুই গালে হাত রাখতে যায়। রোদ শুভ্রের হাত ঝামটা দিয়ে দূরে সরিয়ে দেয়। শুভ্র আবার কাছে আসতে গেলে রোদ, টি-টেবিল থেকে ফলের ঝুড়ি থেকে ছুড়ি হাতে নেয়। শুভ্র দুষ্ট হেঁসে রোদের কাছে গিয়ে, এক হাত দিয়ে রোদের কোমড় পেচিয়ে ধরে। রোদ নিজেকে ছাড়ানোর জন্য নড়াচড়া করতে থাকে। শেষ মেষ দুইজনে বেডের উপর ঠাসসস করে পড়ে যায়৷ রোদ শুভ্রের বুকের উপর পড়ে। এক হাতে ছুড়ি, রোদ শুভ্রের বুকের উপর চেঁপে বসে। রাগে ফুসতে ফুসতে শুভ্রের মাথার চুল চেপে ধরে বলে উঠে।
রোদ: আমার কাছে এসেছিস কেনো হ্যা।
বিয়া করবি না। তোর রিয়া খালাম্মাকে। তো যাহ, বিয়ে কর।
শুভ্র: ছিহহহ কি সব বলছো বউ। আমি তো বিবাহিত, আমি কেনো ওই খালাকে বিয়ে করতে যাবো।
শুভ্রের কথা যেনো, রোদের রাগে, আগুনে ঘি ডালার মতো কাজ করে। রোদ ছুড়ি হাতে নিয়ে, শুভ্রের গলায় চেপে ধরে। রাগে রি রি করতে করতে বলে।
রোদ: আমাকে কি বাংলা সিনেমার শাবানা পেয়েছিস। যে অন্য মেয়েকে বিয়ে করতে চাইবি। আর আমি মুখে আচল চেপে কাঁদবো আর বলবো। যাও অন্য মেয়েকে বিয়ে করো৷ আমি তোমাদের জীবন থেকে চলে যাচ্ছি।
শুভ্র রোদের কথা শুনে ভয়ে ভয়ে বলে উঠে।
শুভ্র: একদম না, বউ। তুমি শাবানা হবে কেনো! তুমি তো রিনা খান, আমি আর এক বিয়ে কেনো করতে যাবো বলো। আগে জান বাঁচানো ফরজ।
শুভ্র রোদের কথা শুনে, রেগে আরো জোড়ে গলায় ছুড়ি চেপে ধরে। শুভ্র রোদের মন অন্য দিকে নেওয়ার জন্য, হুট করেই বলে উঠে।
শুভ্র: রিয়া তুমি এখানে! রোদ সাথে সাথে পিছন দিকে তাকায়, রোদ পিছনে তাকাতেই, রোদের হাত থেকে সাথে সাথে ছুড়িটা নিজের হাতে নিয়ে নেয়, শুভ্র! রোদ কিছু বুঝে ওঠার আগেই, রোদ কিছু বলতে যাবে৷ তখনি শুভ্র রোদকে বিছানায় ফেলে। নিজের সাথে চেঁপে ধরে। এক নজর নিজের হাতে থাকা ছুড়িটার দিকে তাকিয়ে, রোদের দিকে তাকায়। তারপর বলে উঠে”
শুভ্র: ফল কাটা ছুড়ি দিয়ে,ম্যাডাম স্বামী খুন করতে আসছেন। এটা দিয়ে তো মনে হয় না, ফলও ঠিক ভাবে কাটবে ম্যাডাম। তো এই ছুড়ি দিয়ে গলা কিভাবে কাটবেন বলুন তো।
রোদ ছটফট করতে থাকে, নিজেকে ছাড়ানোর জন্য। কিন্তু শুভ্র আরো শক্ত করে চেপে ধরে৷ রোদের নিশ্বাস ভারি হয়ে আসে। কিছু বলতে গিয়ে বলতে পারছে না। রোদ শুভ্রের দিকে তাকিয়ে ঘোর লাগা দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলে উঠে।
শুভ্র: অশান্তি লাগতে আছে বউ। একটু সুখ দিবি জান। খুব কষ্ট হচ্ছে আমার।
রোদ রাগে দাঁতে দাঁত চেঁপে বলে।
রোদ: আমার কাছে কোনো সুখ নেই। রিয়া খালাম্মার কাছে যান। সে ভালো ভাবে সুখ দিতে পারবে।
শুভ্র: ব চুপ থাক শা*লি, সাহস তো কম না, জামাইয়ের মুখে মুখে তর্ক করিস।
রোদ: যত দোষ, নন্দ ঘোষ। আপনি যদি, অন্য মেয়েকে বিয়ে করতে পারেন। তো আমিও পারবো, অন্য কাউকে বিয়ে করে বাস
আর কিছু বলতে পারেনা রোদ। তার আগেই, রোদের ঠোঁটের সাথে ঠোঁট চেঁপে ধরে শুভ্র! সজোড়ে কামড় বসায় ঠোঁটে, রোদ গলা কাটা মুরগির মতো ছটফট করছে। পাঁচ মিনিট পর রোদের ঠোট ছেড়ে দেয় শুভ্র৷ রক্তু চক্ষু নিয়ে তাকিয়ে থাকে রোদের দিকে। রোদ ব্যথায় কোনো কিছু বলার সাহস পাচ্ছে না। ঠোঁট দিয়ে রক্ত ঝড়ছে। শুভ্র রোদের চুলে হাত দিয়ে শক্ত করে চুল চেঁপে ধরে দাঁতে দাঁত চেঁপে বলে উঠে।”
রোদ: তোর ওই মুখে যদি অন্য কারো নাম শুনি৷ তো খোদার কছম, জানে মেরে দিব তোকে।
_রোদ ব্যথায় কুকিয়ে উঠে, বলে…!”
রোদ: নিজে বলতে পারে। আমি বললেই যত দোষ। ছাড়ুন বলছি, ছাড়ুন আমাকে। আপনি শুধু আমাকে আঘাত করতেই পারেন।
_রোদের কথা শুনে শুভ্র রোদের গায়ে থেকে ওড়না সরিয়ে দিয়ে, বুকে মাথা রাখে। রোদ কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বলে উঠে।
রোদ: কি..কি ক…করছেন আ..পনি..?
শুভ্র: আপনি তো বললেন ম্যাডাম আমি নাকি আপনাকে শুধু আঘাত করি। আঘাত ছাড়া কিছুই করতে পারিনা।
_কথা গুলো বলেই, শুভ্র রোদের জামার চেইনে হাত রাখে। রোদ ভয়ে ভয়ে চোখ বড় বড় করে ফেলে৷ ভয়ে ঢোগ গিলে বলে উঠে।
রোদ: কি করছেন এই সব। দিনে দুপুরে।
শুভ্র: আমার জন্য দিন, আর দুপুর নেই।
আমার এখন তোকে চাই। মানে এখনি চাই।
রোদ: নাহহহহ প্লিজ, এমন করবেন না। আমি চাই না।
শুভ্র: আমি কি তোর অনুমতি চাইছি, হ্যা।
রোদ কিছু বলতে যাবে। শুভ্র রোদকে থামিয়ে বলে উঠে।
শুভ্র: আর একটা কথা মুখ দিয়ে বেড় করিস ৪০০ গ্রাম। তো এক আছার দিয়ে, তোর শরীরের হাড় গোড় ভেঙে গুড়ো গুড়ো করে দিব।
_রোদ আর কিছুই বলে না। সে ভালো করেই জানে, আর কিছু বলেও লাভ হবে না। চুপচাপ সহ্য করতে থাকে, শুভ্রের করা রোমান্টিক অত্যাচার।
বিকাল সাড়ে চারটা,
নদীর এক পাড়ে, দাড়িয়ে আছে নিলয়৷
হাতে একটা লাল গোলাপ নিয়ে। সেই চারটা থেকে অপেক্ষা করছে নীলার জন্য। দূর থেকে চোখ যায়,নিলয়ের
নীলা শাড়ি পড়ে, মাথায় নীলা হিজাব বেধে তার দিকেই আসছে। নীলাকে আসতে হাতে থাকা ফুলটা পিছনে লুকিয়ে ফেলে। নীলা নিলয়ের সামনে এসে দাঁড়ায়। নিলয়কে উদ্দেশ্য করে বলে উঠে।
নীলা: এখন বলুন কি হয়েছে? আর আমাকে এখানে কেনো আসতে বলেছেন?
নিলয় নীলার কথা শুনে, হাটু গেড়ে নীলার সামনে বসে পড়ে। নীলা অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে নিলয়ের দিকে।
নিলয় নীলাকে উদ্দেশ্য করে বলে উঠে।
নিলয়: এই আকাশ বাতাশ, গাছ পালা পশু পাখি। চাঁদ সব কিছু সাক্ষী রেখে
নিলা: এই বিকাল বেলা চাঁদ কোথায় পেলেন?
নীলার কথা শুনে থতমত খেয়ে যায় নিলয়। গলা খাকারি দিয়ে, হাঁসার চেষ্টা করে বলে।
নিলয়: না মানে সরি, আমি আবার বলছি।
নিলয় গলা জেড়ে, চোখ বন্ধ করে বলে উঠে।
নিলয়: গরু যেমন পানি ছাড়া বাঁচেনা। ছাগল যেমন গাস ছাড়া বাঁচেনা। আমিও বাঁচবোনা তোমায় ছাড়া। আই লাভ ইউ নীলা।
বাঁধনহারা প্রেম বোনাস পর্ব
পিছন থেকে ফুল বেড় করে সামনে ধরে নীলা। নীলা নিলয়ের হাতে ফুল গাছের ডাল থেকে ফিক করে হেঁসে দেয়।
নীলার হাঁসির শব্দ পেয়ে সামনে চোখ খুলে তাকায় নিলয়৷ হাতে তার ফুল নেই।
বসা থেকে উঠে দাঁড়ায়, আসে পাশে তাকায়, পিছন ফিরে তাকাতেই দেখে। পিছনে একটা ছাগল বাঁধা, আর সেই ছাগলে তার ফুল মনের সুখে চিবিয়ে চিবিয়ে খাচ্ছে৷ নিলয় ফুল আনতে ছাগলের কাছে যায়। ছাগলটা নিলয়কে দেখে দৌড় দেয়। পিছন পিছন নিলয়ও ছাগলের পিছনে দৌড়ায়৷ পিছন থেকে নীলা হাঁসতে হাঁসতে পেটে হাত দিয়ে মাটিতে বসে পড়ে৷ জোড়ে চিৎকার করে বলে উঠে।
নীলা: এই যে মিস্টার হাদারাম। আপনি ছাগলের থেকে ফুল নিয়ে আসুন। আমি গেলাম।
