Home মিহি মিহি পর্ব ৩৩

মিহি পর্ব ৩৩

মিহি পর্ব ৩৩
রুপন্তী সরকার

মিহি রিদের দিকে তাকিয়ে বলে
“আজকে বিয়ে করার মুড নেই পঁচালোক কালকে করবোনি”
রিদ একটু দুষ্ট হেসে বললো
“যা হবার আজকেই হবে। মুড থাকুক আর না থাকুক”
কথা টা ধিরেই বললো। মিহ রিদের দিকে কটমট করে তাকালো।
রিদ লজ্জা শরমের মাথা খেয়ে গেয়ে উঠলো

“Haan kab tak jawani, chhupaogi raani, kanwaaron ko kitna Sataogi Rani, Khabi toh kissi ki Dulhaniya banogi….. MUJSHE SADDI KAROGI. MUJSHE SADDI KAROGI…
অভ্র মুখ বাকিয়ে বললো
“শালা দুনিয়ায় একাই বিয়া করতাছে। হের ডং দেখলে মনে হয় ধইরা দেই”
রিদের গান শুনে আরাফ রায়ান চৌধুরী ও নেচে উঠলো। এর পর রিদ আর আরাফ রায়ান চৌধুরী মিলে কিছুক্ষণ পাগলা ডান্স করলো। ওদের বাপ ছেলের নাচ দেখে সবাই হাসতে হাসতে শেষ।
বাসায় তেমন কেউ নেই। শুধু রিদের বাবা, অভ্র, আর বাসার সব কাজের মানুষ।
কাজি বিয়ে পড়ানো শুরু করলো।

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

দেনমোহর মিটানোর পর কাজি সাহেব রিদকে কবুল বলতে বললো। রিদ এক সেকেন্ডও সময় না নিয়ে এক নিঃশ্বাসে কবুল বলে দিলো। সবাি এক সাথে “আলহামদুলিল্লাহ” বলে উঠলো।
এবার মিহি কেও জিজ্ঞেস করা হলো। মিহি আশে পাশে তাকাচ্ছে। বুক কাপছে খুব। কিছু সময় পর মিহি ও আস্তে করে কবুল বললো।
রিদ আবারো লজ্জার মাথা খেয়ে বললো
“এ সবাই চোখ বন্ধ করো”
সবাই চোখ বন্ধ করতেই রিদ মিহির গালে টুপটুপ করে ৫-৭ টা চুমু খেয়ে নিলো। মিহি মুখ বাঁকিয়ে বললো
“লজ্জার মাথা খেয়েছে। নির্লজ্জ পুরুষ মানুষ”

এইদিকে…
ক্রিভান ছটফট করছে। কিছুতেই তার বার্বিডলের বিয়েটা আটকাতে পারলো না।
ফ্ল্যাশব্যাক…
রিদ কাজের ক্ষেত্রে বাহিরে গেছে আসতে হয়তো রাত হবে। রিদ যাওয়ার সময় অভ্র কে বলে গিয়েছিল যাতে মিহি কে ভার্সিটিতে নিয়ে যায় আর নিয়ে আসে। অভ্র রিদের কথা মত মিহি কে নিয়ে যায়।
হঠাৎ ক্লাসের মাঝে মিহির গা গুলিয়ে আসে। মিহি তাড়াতাড়ি করে ক্লাস থেকে বের হয়ে যায়।
মিহি অভ্রকে গিয়ে বলে

“আমার ভিষন শরীর খারাপ করছে মনে হচ্ছে মাথা ঘুরে পড়ে যাবো। আমাকে বাসায় নিয়ে চলো অভ”
অভ্র কিছুটা ঘাবড়ে গেলো কারণ এখন রিদ নেই। অভ্র বললো
“ডক্টরের কাছে নিয়ে যায় চলো টুইংকেল”
এই বলেই অভ্র মিহি কে নিয়ে হসপিটালে গেলো।
কেবিনের বাহিরে বড় বড় করে লিখা আছে
ডা. আব্রাহাম ক্রিভান চৌধুরী
MBBS, FCPS (Medicine)
মেডিসিন বিশেষজ্ঞ
কেবিন নং: ৩০৫
অভ্র মিহি কে নিয়ে ডক্টরের কেবিনে ঢুকলো।
উনি বললেন

“বসুন আপনারা”
অভ্র বললো।
“টুইংকেল বলো তোমার কি কি সমস্যা হচ্ছে”
ডক্টর অভ্র কে বললো
“ইনি আপনার কে হয়?”
অভ্র মিহির দিকে তাকিয়ে করে বললো
“আমার বোন”
মিহি বললো
“আমার গা গুলিয়ে আসছে। আর মাথা ঘুরছে”
ডক্টর মিহি কে কিছুক্ষণ চেকআপ করে। কিছু মেডিসিন লিখে দিলো। উনি বললো

“মেডিসিনগুলো নিয়ম মতো খাবেন। তেমন কিছু হয় নি। দুর্বলতার কারণে মাথা ঘুরছে। আর সকালে কিছু না খাওয়ার কারণে গা গুলিয়ে আসছে”
অভ্রর কলিজায় পানি আসে। ডক্টর বার বার মিহি কে দেখছে। মিহিট স্নিগ্ধ মুখটা মলিন হয়ে আছে। বড় বড় চুল গুলো বেনুনি করা। উনি একটু হালকা কাশি দিয়ে বললো
“তাহলে এটা আপনার বোন?”
অভ্র বললো
“হ্যাঁ”
উনি একটু বিড়বিড় করে বললো
“মাশাল্লাহ”
অভ্র বললো
“কিছু বললেন?”
“না না কিছু না। আবার দেখা আপনাদের সাথে”
অভ্র মিহি কে নিয়ে উঠে গেলো। এমন সময় পেছন থেকে আবারো উনি বললেন

“বার্বিডল”
মিহি পেছন ঘুরে বললো
“কিছু বললেন?”
“বললাম আপনি খুব মিষ্টি”
মিহি জোরপূর্বক একটা হাসি দিলো। মনে মনে বললো
“ভাগ্যিস সে নেই। নাহলে বেচারার থাক আর কইলাম না”
এই বলেই মিহি চলে গেলো।
উনি মিহির যাওয়ার পানে একভাবে চেয়ে আছে। মেয়েটার মাঝে ভিষণ ভাবে মন হারিয়ে ফেলেছে।সে এই পিচ্চি মেয়ের প্রেমে পড়েছে এক প্রকার।
আস্তে আস্তে ক্রিভান মিহির সকল খোঁজ নিতে থাকে, একপর্যায়ে সে মিহির সকল ইনফরমেশন নিয়ে দেখে।মিহি বিবাহিত আর তার হাসবেন্ড রিদ রায়ান চৌধুরী। যার কোম্পানি আছে অনেক নামডাক তারউপর রিদ রায়ান চৌধুরী আরাফ রায়ান, চৌধুরীর একমাত্র পুত্র।
ক্রিভান তাও মিহিকে ভুলতে পারে না বরং আরো ভালোবাসা যেনো গভীর হয়ে উঠছে।সে তার কাজ ফেলে প্রায়শই মিহির প্রতিষ্ঠানের সামনে গিয়ে অপেক্ষা করতো,আর মিহিকে দেখতো।এভাবেই ক্রিভান মিহির প্রতি অনেক দুর্বল হয়ে উঠে।
বর্তমান….
ক্রিভান আকাশের পানে চেয়ে বলে

” আমি কোথায় পাবো সেই ভাগ্য যেই ভাগ্য আমার বার্রিডল কে আমার করে দেবে?”
মিহি বসে আছে রিদের রুমে,অনেকক্ষণ যাবৎ অপেক্ষা করছে সে,কিন্তু রিদের আসার সময় নেই।মিহি বিছানা ছেড়ে দাঁড়িয়ে এদিকে সেদিকে হাটাহাটি করে দেখছে।
কিছুক্ষণ পরেই রিদ প্রবেশ করে রুমে,দরজার আওয়াজে মিহি একটু চমকে উঠে বলে,
“কে?”
মিহি পিছনে তাকাতেই দেখে তার পঁচালোকটা এসেছে। রিদ রুমে প্রবেশ করা মাত্রই মিহি এগিয়ে রিদকে সালাম করতে গেলে,রিদ তাকে ধরে ফেলে,
“প্রিন্সেস কি করছো এসব?”
মিহি কপাল কুঁচকে ফেলে,
“কি আবার? তোমাকে সালাম করছি দেখতে পারছো না. এটা করতে হয় আর বিয়ের রাতে স্বামী স্ত্রীর নফল নামাজ পড়তে হয়।”
মিহি বলে ওয়ারড্রব থেকে বাড়িতে পড়ার কাপড় বের করে ওয়াশরুমের দিকে এগিয়ে যেতে যেতে বলে,

“তুমিও ফ্রেশ হয়ে নাও আমরা নামাজ পড়বো।”
রিদ চুপচাপ মিহির কথা শুনে, মিহি ওয়াশরুমের ভিতর ঢুকতেই সে নিজের পড়নের কাপড় চেঞ্জ করে নেয়।ততক্ষণে মিহি বেরিয়ে আসে ওয়াশরুম থেকে,আর রিদ গিয়ে অযু করে আসে।
দুজন নামাজ শেষে কথা বলতে থাকে। মিহির খাটের পাশে ছোট টেবিলে রাখা দুধের গ্লাস রাখা,তখন কাজের একজন মহিলা এসে দুধটা দিয়ে গিয়েছিলো।
মিহির মাথায় একটা দুষ্ট বুদ্ধি আসে।
মিহি রিদের কাছে এনে দুধের গ্লাসটা এগিয়ে দিতেই রিদ আঁড়চোখে একবার দেখে নেয় মিহিকে। কিন্তু রিদ দুধ খায়না ছোট থেকেই,আর দুধ দেখেই নাক ছিটকানি দেয়। এতে মিহি বুঝে আরো দুষ্টুমি করে গ্লাসটা কাছে নিলে,
রিদ বলে

“দেখো প্রিন্সেস, একদম কাছে আসবে না।এটার গন্ধ ভালো লাগে না। সরাও এটাকে।”
রিদ একপ্রকার পিছাতে পিছাতে বলতে থাকে। আর মিহি রিদের কাছে আসতে থাকে।
“খেতেই হবে। আমি জানি না। খাও”
রিদ খপ করে মিহির হাত ধরে নেয়,আর দুজনেই গ্লাসটা নিয়ে কোস্তাকুস্তি লাগিয়ে দেয়।একপর্যায়ে দুধের গ্লাসটা খাটের উপর পরে গিয়ে খাটের মাঝখানটা ভিজিয়ে দেয়।
মিহি রেগে রিদের দিকে তাকায় কপাল কুঁচকে, কোমড়ে হাত রেখে বলে,

“এটা কি করলা? পঁচালোক, এখন ঘুমাবো কি করে? আর দুধ দুধ গন্ধ করবে ছি”
রিদ নিজের কাজে নিজের বোকাবনে যায়,আর শুকনো ঢোক গিলে মিহির দিকে তাকিয়ে বলে,
“সরি প্রিন্সেস, বুঝতে পারিনি।আর তুমিও এভাবে জোর করছিলে তাই আরো দাঁড়াও ঠিক করছি।”
রিদ মিহিকে বলে তাড়াতাড়ি পানির জগ হাতে নিয়ে পানির ছিটা দিতে গেলে মিহি টান মেরে জগটা নিয়ে যায় আর বলে,

“সরুন তো, অকেজো লোক একটা,সবসময় গন্ডগোল পাকায়।”
মিহি জগ হাতে এগোতে নিলে খাটের সাথে পায়ে আঘাত খেয়ে উপুড় হয়ে পরে যায় আর জগের সব পানি আবার পুরো বিছানা ভিজিয়ে ফেলে। রিদ এবার মিহির দিকে কটমট করে তাকিয়ে বললো
“এটা কি হলো? এতো পাকনামি না করলে হতো না?”
মিহি মাথা নিচু করে দাড়িয়ে আছে। রিদ ধিরে ধিরে মিহির কাছে আসছে। রিদ কে কাছে আসতে দেখে মিহির আবারো কেমন একটা ফিল হচ্ছে। এর আগেও রিদ মিহির কাছে লক্ষ্যবার এসেছে কই তখন তো এমন হয় নি। রিদ মিহি আস্তে করে বললো

মিহি পর্ব ৩২

“খাটের নিচে চলো প্রিন্সেস”
মিহি অবাক হয়ে রিদের দিকে তাকিয়ে আছে। রিদের মাথা আসলেই গেছে। মিহি কে চুপ করে দাড়িয়ে থাকতে দেখে রিদ নিজেই ওকে খাটের নিচে নিয়ে গেলো। ১৩-১৪ বছর নিজেকে অনেক কন্ট্রোল করেছে। আর সম্ভব না। এতো ঝামেলা। বউ কে বড় করার পর দিন টা আসলো। আজকে থেকে মিহি-রিদের জীবনের নতুন অধ্যায়……

মিহি পর্ব ৩৪