Home অপেক্ষা সিজন ২ অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ৪৬

অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ৪৬

অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ৪৬
Maha Aarat

কিচেনে রিনাখালার সাথে আলাপে ব্যাস্ত আইরা।একটা নতুন রেসিপি নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা হচ্ছিল।ইউটিউব ঘেটে বের করে মসলাপাতি সহ চিকেনের সাইজ সবকিছু বুঝিয়ে দিচ্ছিলো সে।এদিকে সবকিছু মাথার ওপর দিয়ে যাচ্ছে রিনার।তিনবেলার খাবার,বাজার, আর ঘর গোছানো এতটুকুই তাঁর কাজ।এসব আলাদা কাজ করতে তার মন সায় দিচ্ছে না।

আজকে মাহের ছুটি নিয়েছেন।তাই কলেজেও যাবেন না আর আইরাকেও যেতে হবে না।অবশ্য যেতে হতো যদি ক্লাস সম্পূর্ণ হতো।আজকে কলেজে প্রোগ্রাম।এসব কালচারাল প্রোগ্রামে এটেন্ড হওয়া উনার নিজেরও পছন্দ নয়।
আইরার ঘুম ভাঙ্গলো বেশ সকালেই।একই সাথে উঠে নামাজ পড়ে তিনি মর্নিং ওয়াকে আর সে ঘরটর তাড়াতাড়ি গুছিয়ে নিলো।আজকে কিছু একটা স্পেশাল হবে বলে আইরা খুশিতে আটখানা।ছুটির দিনে মাহেরের কোনো একটা পছন্দের খাবার রান্না করবে বলে স্থির করেছে।এদিকে আজকে বাজারটাও করতে হবে উনার।রিনাখালা সাফ সাফ না করে দিয়েছেন অসুস্থতা নিয়ে তিনি বাজার-সদাই করতে পারবেন না।
বাহির থেকে ফিরে রুমে আসলেন মাহের।জগ থেকে ঢকঢক করে পানি খেয়ে সময়ের দিকে চোখ রাখলেন।বাজার করার কথা মনে আসতেই বিরক্তিতে মন ছেঁয়ে গেলো।কাঁচা বাজারের পাশ দিয়ে যেতেই হইহুল্লোড় আর আর্বজনার স্তূপ থেকে আসা দূর্গন্ধে বিরক্তি ধরে যায়।আর আজকে স্বয়ং বাজারটাই করতে হবে।মেয়েটা না থাকলে তিনি নিশ্চিত বাইরে থেকে খেয়ে আসতেন।

চিকেনটা ছুরি দিয়ে পিস পিস করছে আইরা।এর মধ্যে কিচেনে প্রবেশ করলেন মাহের।রিনা খালার থেকে তিনি বাজারের লিস্ট চেয়ে নিচ্ছেন।আইরা দৃষ্টি ঘুরিয়ে তাকালো।কালো ট্রাউজার,কালো পোলো টি শার্টের সাথে কালো ক্যাপ।জগিং আউটফিটে এখনো।আইরা আড়চোখে দেখছিলো।তাঁর দূ:খ হলো এটা ভেবে যে,বাইরে গেলে কিছু দূষ্টু মেয়েরা নিশ্চয়ই তাঁর বরকে দেখবে।খারাপ নজর দিবে।তাঁর ইচ্ছে হলো বলতে আপনার স্মার্ট ফিগার ঢেকে শার্ট পড়ে যান।না বলে সে বলল, ‘ও মাই আল্লাহ!এই লুকে আপনাকে জংলী চিতার মতো লাগছে।’
‘হুয়াট?’-মাহের আশ্চর্য হলেন খুব।নিজেকে তৎক্ষনাৎ স্ক্য্যান করে চুপ থাকলেন কিছুক্ষণ।
মাহের আর কথা বাড়ালেন না।লিস্ট নিয়ে যাওয়ার আগে বললেন, ‘তুমি আস্তো একটা দূর্ঘটনা।এসব রেখে পড়তে বসো।কিচেনের কাজ তোমার জন্য নয়।’
আইরার ভ্রদ্বয় কুঁচকে গেলো রাগে।কোথায় সে আহ্লাদ করে উনার জন্য রান্না করছে আর তিনি এখানে ঝাড়ি দিতে এসছেন।
দাঁতে দাঁত চেপে উত্তর দিলো, ‘আমি রান্না করলে কি?’
‘বিয়ে দিয়ে দিব।সংসার করবে।হাজব্যান্ড সামলাবে।স্টিল সিঙ্গেল বাচ্চা বাচ্চা মেয়ে নিয়ে আমি বিপদে আছি।’
খুবই স্পষ্টসুরে কথাগুলো আওড়ে মাহের বেরিয়ে গেলেন।রিনাখালা অদ্ভুত দৃষ্টিতে আইরার দিকে তাকাচ্ছেন দেখে একটু অপ্রস্তুত হলো সে।এভাবে অপমান করে ঠিক করেন নি।সে তো বাঁচার জন্য মিথ্যে বলেছিলো।ওয়াল্লাহি,এমন মিথ্যে আর মুখে আর কোনোদিন না আসুক।

থাই এর অপর পাশে তাকালে দেখা যায় মাঠে ছোট্ট হাজীদের দল।আরহাম অনেকক্ষণ থেকে তাদের লক্ষ্য করছিলেন।ছোট্ট এক আয়তাকার গম্বুজ কে কা’বা মনে করে চারিপাশে শিশুরা ছুটছে।সবার মাথায় পাগড়ি,গায়ে সাদা পান্জাবি।এর চেয়ে চমৎকার দৃশ্য আর হয় বুঝি?বাচ্চারা নয় যেনো জান্নাতি ফুল!চোখের প্রশান্তির জন্য এরচেয়ে মধুর দৃশ্য কি হতে পারে আর?তবে হৃদয়ের প্রশান্তি?
দীর্ঘশ্বাস ফেলে ধীরে ধীরে সিটে এসে বসলেন আরহাম।সাদা টার্বান ,সাদা জুব্বার সাথে কালো লং কোট।কপালের দূ কিনারে আঙুল চেপে চুপচাপ রকিং চেয়ারে হেলান দিয়ে আছেন আরহাম।কোনো কিছুতে আগ্রহ পাচ্ছেন না।বেখেয়ালি মনের দিগন্তহীন ভাবনায় ব্যাঘাত ঘটে ফোনে রিং হতে।আরহাম দেখলেন আম্মুর ফোন বাজছে।সকালে উঠে বাইরে বেরিয়েছিলেন তিনি।আটটার দিকে বাসায় ফিরে শুধুমাত্র মাইমুনার সাথে সাক্ষাৎ শেষে রেডি হয়ে চলে আসছেন।নাস্তা করা বা আম্মুর সাথে সাক্ষাৎ আর হয়নি।আরহাম জানেন,ফোন ধরলেই আম্মু নাস্তা না করার জন্য হা হুতাশ করবেন সাথে আরো কিছু প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হবে।যেটা আপাতত তিনি চাচ্ছেন না বলেই আম্মুর ফোনটা ইগনোর করতে হলো।

যোহরের নামাজ আদায় করে চটপট কিচেনে আসলো সে।এখুনি তাঁর রান্না করা স্পেশাল বিরিয়ানি সার্ভ করবে।উনি আসার সময় হয়ে আসছে প্রায়।
খাবার টেবিলে বসেই বিরিয়ানি দেখে মাহের চোখমুখ কুঁচকালেন।কিচেনে রিনাখালার উদ্দেশ্যে বললেন, ‘আপনাকে বলেছিলাম সাদা ভাতের সাথে এনি কাইন্ড অব ফ্রেশ কারিস’ রান্না করতে।এগুলো খাওয়ার মতো রুচি নেই।’
‘ওটা তো আপায়..
আইরা চোখ ইশারা করতেই খালা বাঁধা পেয়ে কথা ঘুরিয়ে বললেন, ‘তরকারি আছে।ভাত রান্না করেই দিতাছি।’
‘তাড়াতাড়ি!’
খালাকে তাড়া দিয়ে আইরার উদ্দেশ্যে বললেন, ‘তুমি খেয়ে নাও।’
আইরা মুখে হাসি আনার চেষ্টা করে বলল, ‘অল্প খেয়ে দেখু্ন…
‘না।’
উত্তর দিয়ে তিনি রুমের দিকে গেলেন।আইরার চোখটা ভিজে আসলো নিমিষেই।এভোয়েড করারও তো একটা লিমিট আছে।কোনো উপলক্ষ্য ছাড়াই বিশেষ কিছু দেখে একটাবার জিজ্ঞেস করলেন না কিসের জন্য এসব।রিনাখালা সামনে এসে দাঁড়িয়েছেন।মায়ের বয়সী তিনি পারছেন না আইরাকে বুকে টেনে নিতে।সকাল থেকে আয়োজন করে যত্ন করে রান্না করা খাবারটা যে মাহের মুখে নিয়েও দেখবেন না সেটা কল্পনার বাইরে ছিল।চোখ থেকে জল খসে পড়লোই তাঁর।এই কান্না জিনিসটা সে গিলতে পারে না।চোখমুখ মুছে খালার উদ্দেশ্যে কেবল বলল, ‘এগুলো ফ্রীজে রেখে দিন নয়তো আপনার বাসায় নিয়ে নিন।বাসায় নেওয়াটাই বেটার হবে।খিদে লেগেছে আমার।ভাতটা রান্না করে নিন তাড়াতাড়ি।’

শীতের আবহের সাথে রোদের তাপ আজ জমকালো।শাওয়ার শেষে ভেজা চুল শুকানোর সুযোগ হয়নি।উইন্টার সিজনে হেয়ারড্রায়ার পুরোদমে এভয়েড করছে আইরা।প্রকৃতির চেয়ে সেরা সমাধান আর কি হতে পারে!
এ বাসার একটা গুড সাইড হচ্ছে পুরুষ রা ছাদে আসে না।রেলিং গুলো উঁচু থাকায় বাহির থেকেও নজরে আসার কথা না।দোলনায় বসে ভেজা চুলগুলো পেছনে ছেড়ে মাথায় কাপড় দিলো।একটানা রুমের মধ্যে বসে থাকতে থাকতে একঘেয়েমি আসছিলো তাঁর।টকেটিভ স্বভাবটা পাল্টে যাচ্ছে তাঁর।কারন কথা বলার কেউ নেই এখানে।নীবরতা যেনো স্বভাবে নীরবেই মিশে যাচ্ছে।তাঁর কান্নাটা এখনো পুরোপুরি থামছে না।কান্না করতে করতে খিদে নিয়ে ঘুমিয়েছিলো।আর ঘুম থেকে উঠে ছাদে।কি অদ্ভুত ভাবে তাঁর খিদেটাও ভ্যানিশ হয়ে গেছে।আম্মুর কথা ভীষণ মনে পড়ে।বিয়ের পর মেয়েরা বাবার বাড়ি থেকে যে সম্পূর্ণ পর হয়ে যায় এটা মাহেরের আচরণ বেশ ভালো ভাবে বুঝিয়ে দেয়।

ছাদে হরেক রকমের ফল-ফলাদি।শুকনো পাতাগুলো এক করে কিছু আঁকতে সম্পূর্ণ মনোযোগ তাঁর।গেস্টরুমেই রিনাখালাও ঘুমিয়ে ছিলেন।সে চুপিচুপি বের হয়ে এসেছে।আওয়াজ হলেই তিনি ঘুম থেকে উঠে খাবারের জন্য তাগদা দিবেন।এ সময় লাল চোখদূটোও নিশ্চয়ই নজরে পড়বে উনার।আইরার একটা উইক সাইড হচ্ছে কোনো কিছু নিয়ে কষ্ট পেলে ঘুমের মধ্যেও সে ফুপায়।এই যে ঘুম ভাঙ্গতেই দেখলো তাঁর গাল ভেজা।
‘তুমি এখানে?কখন ঘুম ভাঙ্গলো?’
কন্ঠ শুনে তৎক্ষনাৎ হিজাব পরে নেয় আইরা।ধীর সুরে উত্তর দেয়, ‘একটু আগে।’
‘নিচে আসো।’
‘একটু পরে আসবো।’
মাহেরও ঠাঁয় দাঁড়িয়ে রইলেন পিছনে।আইরা পিছু ফিরেনি।খুব সতর্কে গাল মুছে স্বাভাবিক হয়ে বলল, ‘আপনি চলে যান।কেউ দেখলে সমস্যা হবে।’
‘খাও নি কেন?’
এরুপ প্রশ্নের তাৎক্ষণিক জবাব সে দিতে পারলো না।খালা নিশ্চয়ই বলেছেন উনাকে।মাহের আদেশের সুরে বললেন, ‘এখনি গিয়ে খাও।’
আইরা নতমুখ হয়ে নিচে এলো।খাবার খেতে গিয়ে দেখলো খালা বিরিয়ানিগুলো প্যাকেট করছেন নিশ্চয়ই বাসায় নিয়ে যেতে।কেন জানি তাঁর চোখ আবারও জলে ভরে এলো।ফোনে ব্যস্ত অবস্থায় মাহের বেরিয়ে যেতে জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোমার কিছু লাগবে?’
‘জ্বি না।’
মাহের বেরিয়ে গেলে খালা আসলেন।খুবই অভিজ্ঞভঙ্গিতে বললেন, যা বুঝলাম তোমার স্বামী তোমার উপরে মনোযোগী না।তাড়াতাড়ি একটা বাচ্চা লও,সব ঠিক হইয়া যাইবো।’

সন্ধ্যার পর বাসায় ফিরলেন আরহাম।ড্রয়িং রুমে আম্মু সাথে হাফসাও।হাফসাকে লাগেজ গুছাতে দেখে জিজ্ঞেস করছিলেন কোথায় যাবে।বাসায় যাবে বললেও আম্মু কেনো যেনো স্বস্তি পেলেন না।ভণিতা না করে বলে ফেললেন, তোমার কিছু হয়েছে হাফসা।কিছু একটা লুকাচ্ছো।’
আম্মুকে আশ্বস্ত করলেও তিনি বোধহয় চিন্তা ছাড়তে পারলেন না।তাই অপেক্ষা করছিলেন আরহামের।মাগরিবের নামাজ আদায় করে বেশ তাড়াহুড়ো করে আরহামের বাসায় ফেরা দেখে বললেন, সন্ধ্যা হয়ে গেছে।কাল নিয়ে যাও।’
আরহাম খাপছাড়া ভঙ্গিতে বললেন, ‘সমস্যা নেই।আমি পৌঁছে দিয়ে আসতে পারবো।’
‘এতো কল দিয়েছি ধরলে না যে!’
‘আ্ আম্মু..
আরহামের আমতা আমতা দেখে সন্দেহ টা আর গাঢ় হলো আম্মুর।অভিজ্ঞসুরে আরহামকে পরখ করে বললেন , ‘তুমি মিথ্যে বলো না আরহাম…
আরহামের ঠিক মুখোমুখি হাফসা।তাঁর দৃষ্টি নত।আরহাম গোপনে এক ক্লান্তির শ্বাস ফেলে আম্মুর উদ্দেশ্যে বললেন, ‘তেমন কিছু না আম্মু।দেরি হয়ে যাচ্ছে আমরা বেরোই…

আম্মুর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি ফেললেন আরহামের দিকে।দূ:খ পেলে যে ছেলে এখনো মায়ের আঁচলে মুখ লুকিয়ে কাঁদে এই ছেলে রীতিমতো মন খারাপ লুকিয়ে যাচ্ছে এটা বুঝতে বাকি নেই আফসানার।
দূজনকে কিছুক্ষণ পরখ করে বললেন, ‘আমি শিওর।দূজনের ঝগড়া হয়েছে।’
আরহাম শুকনো হেসে মাকে একহাতে আগলে নিয়ে বললেন, ‘আমি ঝগড়া নয় বরং সমাধান পছন্দ করি আম্মু।আর উনি ঝগড়া করার মানুষ?খামোখা ভুল ভাবছেন।বাসায় যাওয়ার আবদার করেছেন তাই যাওয়া।দূ:শ্চিন্তা করবেন না।’
আম্মুকে আবোল তাবোল বুঝিয়ে হাফসাকে নিয়ে বেরোলেন আরহাম।তাঁর দিকে ঝুঁকে সিট বেল্ট বেঁধে দিতে গিয়েও দেখলেন তাঁর চোখে নীরবতার দেয়াল।আরহামকে পুড়িয়ে সে নিজেকে জিতিয়ে নিচ্ছেই।আরহাম খুব করে চাইলেন সে একটাবার জিজ্ঞেস করুক, ‘ কোনো বিকল্প কিছু নেই?এতোগুলো দিন আলাদা থাকতে পারবো না,আমি বরং থেকেই যাই!’
তাকে নামিয়ে দিয়ে আসার সময় আরহামের উদ্দেশ্যে সে বলছিলো, ‘আমি বাকহীন ছিলাম,অনুভূতিহীন নয়।স্বেচ্ছায় আপনাকে কষ্ট তুলে দেওয়ার জন্য সারাজীবন ক্ষমা চাইবো।অবিরত কষ্ট দেওয়ার থেকে একবারই দিলাম,মেপে রাখবেন যেনো বিনিময় বুঝিয়ে দিতে কমতি না হয়।’
আরহামের খুব বুক পুড়ছিলো।বলতে ইচ্ছে করছিলো ‘আরেকটাবার ভাবুন উমায়ের।’
‘নিজের যত্ন নিবেন।
আমি আসবো সুখ কুড়াতে,আর দূ:খের কবর দিতে।’

‘অনেকদিন হলো আসো না।বাবু খুব অসুস্থ।যেকোনো ভাবে হলেও সময় বের করে এসো।’
আইরার হাত কাঁপছে।নাহ,তাঁর বুক কাঁপছে।পুরো শরীর কাঁপছে।এতো অবহেলা,এতো অভিযোগ আর খাপছাড়া স্বভাবের পিছনের কারনে কোনো নারী থাকবে,বা গোটা একটা পরিবার এটা আইরা মেনে নিতে পারবে না।তাঁর হৃদপিণ্ড টা এতো বেসামাল বেগে কাঁপছে কেন!
হাফসার কথা বলার খবরে বোনের সাথে খুবই স্বল্প সময়ের সাক্ষাৎ হলেও আজকে বোনকে পেয়ে মাহের ইচ্ছেমতো আলাপ জমাচ্ছেন।তাদের কথোপকথনের মধ্যে আইরা ছিলো নীরব দর্শক।মিনিট দশেক হলো সে রুমে গেছে।
মাহের জিজ্ঞেস করলেন, ‘আরহাম কেন বাসায় আসেনি?বাহির থেকে চলে গেলো কেন?’
‘জানি না।’
‘তুমি নিয়ে আসতে।যাক,সময়টা ভালো কাটবে তুমি এসেছো।বেশ ক’দিন থাকছো তো?’
‘ইন শা আল্লাহ।’

হাফসার বলা প্রতিটা শব্দ,প্রতিটা অক্ষর যেনো মাহেরের কানের বারান্দায় দ্রীম দ্রীম শব্দ করছে।মাহের খুব করে চাইতেন বোনটা আবার কথা বলুক।এ মুখ থেকে ভাইয়া ডাক আবার আসুক,কারো কটু কথার সুযোগ না হোক,আল্লাহ কবুল করেছেন।
খুশিতে দ্বিতীয়বারের মতো বোনকে আগলে নিলেন।কপালে স্পর্শ এঁকে বললেন, ‘তুমি আমার একমাত্র সুখ,হাফসা।’
হাফসা অশ্রুসিক্ত হলো।নাক টানতে টানতে হেসে বলল, ‘আর আইরা?ও তোমার সুখ নয়?’
মাহের মুচকি হাসলেন কেবল…

অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ৪৫

আইরার অস্থির লাগছে খুব।তাঁর ইচ্ছে করছে সরাসরি জিজ্ঞেস করতে,উনার ফোনে আসা এই মেসেজ টা কার?আর ওই মানুষটা উনার কে?উত্তর না জেনে আইরা যেনো এক সেকেন্ডও স্থির থাকতে পারছিলো না।অথচ ছুটে এসে দেখলো ভাই বোনের সুখময় সাক্ষাৎ।তাঁর অবচেতন মনে আবারও খোরাক জাগলো।এই যে উনার এত আনন্দ, হাসি খুশি এগুলো কোথায় থাকে যখন মাহের ওর(আইরা) সাথে থাকেন!ওর সাথে কথা বলেন!ভাবতেই তাঁর মনে জেগে উঠা ভয়াবহ চিন্তা টা আরো গাঢ় হলো!

অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ৪৭

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here