Home প্রফেসর জিয়ান কায়সার প্রফেসর জিয়ান কায়সার পর্ব ৬

প্রফেসর জিয়ান কায়সার পর্ব ৬

প্রফেসর জিয়ান কায়সার পর্ব ৬
জান্নাতুল ফেরদ্দোস ময়না

ঠিক তখনই জিয়ার মা ড্রয়িংরুমে এসে মিষ্টি হেসে ডাকলেন, “কই ছেলেমেয়েরা, তোমাদের গানের লড়াই শেষ হলে এবার জলদি এসো। খাবার টেবিলে দেওয়া হয়েছে, সবাই একসাথে খেয়ে নাও।”
​জিহাদ পেটে হাত বোলাতে বোলাতে একগাল হেসে বললো, “আসছি মামুনি! তোমার হাতের টেস্টি খাবার।ছেড়ে কোন বোকা গানের কলি নিয়ে পড়ে থাকবে বলো? আমি তো অন্তত সেই দলে নেই!”
রিহানা কায়সার জিহাদের পিঠে একটা মৃদু চাপড় মেরে হেসে উড়িয়ে দিয়ে বললেন, “হয়েছে রে, আর পাম দিতে হবে না, এবার চল। তোমরা সবাই তাড়াতাড়ি এসো।”
সবাই মিলে হইহই করতে করতে খাবার টেবিলে এসে হাজির হলো। কাকতালীয়ভাবে রিত্তিকার ঠিক মুখোমুখি চেয়ারটাতেই এসে বসলো জিয়ান। রিত্তিকা প্লেটে চামচ নাড়তে নাড়তে চোরের মতো আড়চোখে জিয়ানের গম্ভীর মুখের দিকে তাকাচ্ছে আর মনে মনে ভাবছে,

“ইশ, সারাক্ষণ কেমন হুনুমানের মতো মুখ করে থাকে!”
আর জিয়ান গম্ভীর মুখে নিজের খাওয়াতে ব্যস্ত।
​রিহানা কায়সার পরম স্নেহে রিত্তিকাকে বললেন, “আরেকটু ভাত দিই মা? তরকারিটা কিন্তু দারুণ হয়েছে।”
রিত্তিকা ভদ্রতা দেখিয়ে মাথা নেড়ে বললো, “না আন্টি, আর দিয়েন না প্লিজ, অলরেডি পেট একদম ভরে গেছে।”
“আরে আর সামান্য একটু নাও মা, লজ্জা পাচ্ছো কেন?”
“না… না আন্টি, সত্যিই আর না, একদম জায়গা নেই!”
রিত্তিকা হাত দিয়ে প্লেট ঢাকলো।
“আচ্ছা, ঠিক আছে।”
ওদিকে জিহাদ মুখ চালিয়েই যাচ্ছে, “উফ মামুনি! কী যে রান্না করেছো না, মনে হচ্ছে টেবিলের সব একা একাই সাবাড় করে দিই!”
রিহানা হেসে বললেন, “তোকে খেতে কে নিষেধ করেছে রে বাবা? পেট ভরে খা। কবির, তোকে আরেকটু ভাত দেবো?”

কবির হাত জোড় করে বললো, “না মামুনি, আর না, ডাবল সেঞ্চুরি হয়ে গেছে অলরেডি!”
​ঠিক তখনই জেসমিন বললো, “সবাইকে সাধাসাধি করা হচ্ছে, অথচ আমি যে কোণায় বসে আছি, কেউ আমাকে একটু নেওয়ার কথাও বলছেই না! আমি কি এই বাড়ির কেউ না?”
রিহানা কায়সার মুচকি হেসে জেসমিনের কাছে গিয়ে আলতো করে ওর কানটা টেনে দিয়ে বললেন, “দিন দিন ভারি দুষ্টু হচ্ছিস কিন্তু জেসমিন!
প্রতিউত্তরে জেসমিন ব্যথার ভান ছেড়ে একগাল বত্রিশ দাঁত বের করে হেসে বললো, “লাভ ইউ মামুনি! তুমি না থাকলে আমার কী হতো!”
সবাই ওর এই নাটকীয় কাণ্ড দেখে হোহো করে হেসে উঠলো।
​খাওয়া-দাওয়া শেষ করে সবাই টেবিল থেকে উঠে গেল। জিয়ান কোনো দিকে না তাকিয়ে সোজা নিজের ঘরে চলে গেল একটু বিশ্রামের জন্য।
এদিকে ড্রয়িংরুমে বড়দের মধ্যে তখন অন্য আলোচনা চলছে। সুফিয়ান কায়সার ঘড়ির দিকে তাকিয়ে ইফাতকে বললেন, “ইফাত, রাত তো অনেক হলো রে দাদুভাই। আজ তোমরা বরং এখানেই থেকে যাও, কাল সকালে ফ্রেশ হয়ে বাড়ি যেও।”
​ইফাত আমতা আমতা করে বললো, “না দাদু, আজই চলে যাই। অন্য আরেকদিন এসে জমিয়ে থাকা যাবে।”
দাদু ধমকের সুরে বললেন, “আরে না দাদুভাই, ঘড়িতে এখন রাত ১১টা বাজে! এই মাঝরাতে তোমাদের আমি কিছুতেই ছাড়ছি না।”

“কিন্তু দাদু…”
“কোনো ‘কিন্তু’ শুনবো না আমি, ব্যস!”
ইফাত একটু ইতস্তত করে আসল কারণটা খুলে বললো, “আসলে দাদু, কাল খুব সকালে আমার কিছু অত্যন্ত দরকারী অফিসের কাজ আছে, ফাইলগুলো সব বাড়িতে রাখা। এজন্যই মূলত চলে যেতে চাইছিলাম।”
সুফিয়ান কায়সার একটু ভেবে বললেন, “আচ্ছা, তোমার যখন জরুরি কাজ, তাহলে তুমি যাও। কিন্তু রিত্তিকাকে রেখে যাও দাদুভাই। ও সকাল সকাল গিয়ে কী করবে?”
ইফাত কপালে হাত দিয়ে বললো, “আমি না থাকলে ও এখানে একা একা থেকে কী করবে দাদু?”
“সেটা আমি বুঝবো, আমি তোমার বাসায় ফোন করে কথা বলে নেবো নে। ও আজ এখানেই থাক।”
ইফাত আর না করতে পারলো না, “আচ্ছা, তাহলে ও থাক। আমি তাহলে রওনা দিই।”
দাদু হেসে বললেন, “আচ্ছা, কী আর করবো বলো, তোমার যখন জরুরি কাজ আছে। তবে অন্যদিন কিন্তু অবশ্যই এসে থাকতে হবে, মনে থাকে যেন!”

“নিশ্চয়ই দাদু!”
ইফাত এরপর রিত্তিকার কাছে এসে একটু নিচু গলায় চোখ রাঙিয়ে বললো, “একদম কোনো বাঁদরামো করবি না কিন্তু সোনা বোন! লক্ষ্মী মেয়ের মতো থাকবি।”
রিত্তিকা চোখ টিপে সেলুট ঠুকে বললো, “ওকে বস! তুই একদম নো টেনশন! সাবধানে যাস ভাইয়া।”
“হ্যাঁ, তুইও সাবধানে থাকিস। আর খবরদার, তোর এই পাগলামি দিয়ে কাউকে হার্ট অ্যাটাক করাস না যেন!”
​তারপর ইফাত বিদায় নিয়ে চলে গেল। ইফাত চলে যাওয়ার পর একে একে বাড়ির অন্য সদস্যরাও ক্লান্ত শরীরে যে যার ঘরের দিকে হাঁটা দিল। জিয়াকেও ওর মা কী একটা দরকারে ডেকে রুমে নিয়ে গেলেন। পুরো ডাইনিং রুমটা এক নিমেষে ফাঁকা হয়ে গেল। রিত্তিকা একা একাই ডাইনিং রুমের বিশাল সিঁড়িটার ঠিক একটু দূরে দাঁড়িয়ে মোবাইলে রিলস দেখছিল আর আপনমনে হাসছিল।
​ঠিক তখনই জিয়ান ওপর থেকে সিঁড়ি দিয়ে মুখ গম্ভীর ভাব নিয়ে নিচে নামছিল। কিন্তু ভাগ্য খারাপ হলে যা হয় আর কী! সিঁড়ির শেষ তিন-চারটে ধাপ বাকি থাকতেই জিয়ানের পায়ের চটি জুতোটা পিছলে গেল। ব্যস! “ওহ ” বলে জিয়ান বাতাসে হাত-পা ছুড়ে একেবারে ব্যাঙের মতো উপুড় হয়ে মস্ত এক আছাড় খেলো! আর রিত্তিকা ঠিক সেই মোক্ষম মুহূর্তেই চোখ তুলে তাকালো এবং পুরো দৃশ্যটা লাইভ থ্রি-ডি সিনেমা দেখার মতো সচক্ষে দেখে নিল!

​জিয়ান ব্যথায় কোঁকাতে কোঁকাতে, কোমর আর হাঁটু চেপে ধরে মেঝেতে বসে পড়েছে। তার মুখ দিয়ে তখন ব্যথার চোটে বিচিত্র সব আওয়াজ বের হচ্ছে। রিত্তিকা প্রথমে এক সেকেন্ডের জন্য শকড হলো, তারপরই ওর চোখের কোণ দিয়ে শয়তানি বুদ্ধি ঠিকরে বেরোলো। সে বিড়ালের মতো পা টিপে টিপে, মুখে এক মরণকামড় হাসি চেপে ধীরে ধীরে জিয়ানের দিকে এগিয়ে এলো।
ওর মুখে তখন দুনিয়ার সব দুষ্টুমি এসে ভর করেছে। জিয়ানের ঠিক সামনে এসে রিত্তিকা একদম ভাজা মাছটি উল্টে খেতে জানে না—এমন নিরীহ মুখে চোখ দুটো গোল গোল করে জিজ্ঞেস করলো,
“স্যার না আপনি, না মানে আপনি জিয়ান স্যার..?”
বলতে বলতেই রিত্তিকার ভেতরের আসল রূপটা যেন চাড়া দিয়ে উঠলো! সে হঠাৎ জিয়ানের ব্যথার তোয়াক্কা না করে এক হাত আকাশে তুলে কাল্পনিক ডিজে নাচ নাচতে নাচতে ছন্দের সুরে চিৎকার করে বলে উঠলো:
আরে সালা, লাগা ডিজে, বাজা ঢোল,
হাঁটতে গিয়ে খেল আছাড়,
জিয়ান স্যারের ভাঙলো পা..!
দেইখা হাসতে হাসতে আমি শেষ ভাই..!

​বলেই রিত্তিকা আর নিজের ভেতরের আগ্নেয়গিরির মতো ধেয়ে আসা হাসি চেপে রাখতে পারলো না। সে ডাইনিং রুমের মেঝেতে হাসতে হাসতে একেবারে কুঁকড়ে গেল, পেট চেপে ধরে গড়াগড়ি খেতে লাগলো! জিয়ান যে মাটিতে পড়ে ব্যথায় নীল হয়ে যাচ্ছে, তাকে একটু হাত ধরে তোলা বা “আহা উহু” করার কোনো লক্ষণই তার মধ্যে নেই; উল্টো সে জিয়ানের এই চরম ট্র্যাজেডিকে কমেডি বানিয়ে হাসতে হাসতে চারদিকের দেয়াল কাঁপিয়ে তুললো!
এই অভাবনীয় দৃশ্য দেখে জিয়ানের শরীরের সমস্ত শারীরিক ব্যথা যেন এক সেকেন্ডে উধাও হয়ে গিয়ে ইগোতে গিয়ে লাগলো! অপমানে, লজ্জায় আর রাগে তার ফর্সা মুখটা একদম পাকা টমেটোর মতো টকটকে লাল হয়ে উঠলো। মেজাজ সপ্তম আকাশে চড়ে গিয়ে সে দাঁত কিড়মিড় করে সিংহ গর্জনে গর্জে উঠলো, “স্টপ ইট! বেয়াদব, চরম অভদ্র, আনকালচার্ড মেয়ে একটা! হাসতে হাসতে একদম ফাজলামোর সব সীমা পার করে ফেলেছো! টিচারের সাথে কীভাবে আচরণ করতে হয় সেই কমন সেন্সটুকুও কি তোমার নেই? আর একটা বার যদি হেসেছো, থাপ্পড়ায়ে একদম মুখের বত্রিশটা দাঁত উপড়ে তোমার হাতে দিয়ে দেবো! স্যারের বিপদে দাঁত বের করে হাঁসছো।

জিয়ানের এই রুদ্রমূর্তি আর থাপ্পড় মারার হুমকি শুনে যেকোনো সাধারণ মানুষের হাত-পা ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়ার কথা, কলিজা শুকিয়ে যাওয়ার কথা! কিন্তু রিত্তিকা তো।রিত্তিকাই ? তার তো বয়েই গেছে! জিয়ানের এই চিল-চিৎকার আর রাগে ফেটে পড়া কথাগুলো রিত্তিকার কানে যেন স্রেফ ব্যাকগ্রাউন্ডে বাজা কোনো ফ্লপ সিনেমার ডায়ালগের মতো শোনালো। জিয়ানের এই ভয়ংকর রাগে তার বিন্দুমাত্র কিছু যায় আসলো না, উল্টো তার কাছে এটা আরও বেশি ফানি মনে হলো! সে তো তখনও ঠোঁট টিপে হেঁসেই যাচ্ছে।
​সে জিয়ানের অগ্নিশর্মা মুখের দিকে তাকিয়ে এক মুহূর্তের জন্য হাসি থামালো। তারপর অত্যন্ত নির্বিকারভাবে, যেন কোনো কিছুই ঘটেনি—এমন একটা “সো হোয়াট?” ভাব নিয়ে কাঁধ দুটো ঝাঁকালো। মুখটা সামান্য কুঁচকে, কপাল থেকে ফুঁ দিয়ে চুল উড়িয়ে দিয়ে অত্যন্ত ক্যাজুয়াল টোনে বললো, “উফ স্যার, আপনিও না! রাগলে আপনাকে দেখতে ঠিক ওই রাগী কার্টুন ক্যারেক্টারটার মতো লাগে। আর দাঁত ফেলার ভয় দেখাচ্ছেন? ফেলেন না, এমনিতেও সামনের একটা দাঁত একটু বাঁকা আছে, ফ্রি-তে ডেন্টিস্টের কাজ হয়ে যাবে!”
অতঃপর মনে মনে বললো,মিথ্যা তো বললাম তো দাঁত বাঁকা আবার ফেলে না দেই সত্যি সত্যি।

“কী মনে করো তুমি নিজেকে..?
​রিত্তিকা বিন্দুমাত্র ভয় না পেয়ে নখ দেখতে দেখতে অত্যন্ত নির্বিকার ভঙ্গিতে জবাব দিল, “কী আর মনে করবো বলুন স্যার? আমি নিজেকে সাধারণ একটা মানুষই মনে করি। তবে হয়তো আপনি নিজেকে মানুষ ছাড়া অন্যকিছু মনে করেন, তাই না স্যার?”
​জিয়ান দাঁত কিড়মিড় করে চিৎকার করে উঠলো, “জাস্ট শাট আপ, ইডিয়েট!”
​ঠিক তখনই ডাইনিং রুমের এই চিৎকার আর হট্টগোল শুনে সেখানে হন্তদন্ত হয়ে জিহাদ, কবির আর সাইফান,জিয়া আর জেসমিন হাজির হলো। জিয়ানকে ওভাবে মেঝেতে ধপাস করে বসে থাকতে দেখে জিহাদ চোখ কপালে তুলে জিয়ানের একদম সামনে গিয়ে হাঁটু গেড়ে বসলো। তারপর অবাক হয়ে বললো, “আরে ব্রো! তুমি এই মাঝরাতে ডাইনিং রুমের ঠাণ্ডা মেঝেতে এভাবে একা একা বসে আছো কেন? কোনো নতুন ধ্যান-ট্যান করছো নাকি?”আমাকেও বলো আমিও করি।
​জিয়ান নিজের অপমান ঢাকতে চরম বিরক্ত মুখে ত্যাড়াটোনে বললো, “হ্যাঁ, আমার তো অনেক দিনের খুব শখ জাগছিল যে ডাইনিং রুমের এই মেঝেতে এসে রাজকীয় ভঙ্গিতে বসে থাকি, তাই শখ মেটাতে বসে আছি! তোদের কোনো সমস্যা?”

​কবির পেছনে বললো, “বাহ্ জিয়ান! তুই এত বড় প্রফেসর হয়েও মাটিতে এভাবে বসিস? তোর এই মাটির প্রতি টান দেখে সত্যিই চোখ জুড়িয়ে গেল রে!”
​জিয়ান মুখ বাঁকিয়ে বললো, “হ্যাঁ বসবো না কেন? এত চমৎকার একটা জায়গা, এত সুন্দর ফ্লোর, এখানে না বসে থাকা যায় বল?”
​তাদের এই সিরিয়াস টোনে রসিকতা করা দেখে রিত্তিকা আর চুপ থাকতে পারলো না। সে সোফা থেকে উঠে এসে মুখে হাত চেপে একগাল হেসে আসল সত্যটা ফাঁস করে দিল, “আরে ভাইয়া, তোমরা যে কী বলো না! আসলে স্যার তো ওপর থেকে মস্ত বড় ফিলোসফারের মতো ভাব নিয়ে নিচে নামতে গিয়ে পা পিছলে ধপাস করে পড়ে গিয়েছেন! এখন ব্যথার চোটে উঠতে পারছেন না, তাই সাধু সেজে বসে আছেন।”
​”কীহ্! ব্রো, তুমি শেষমেশ আছাড় খেয়ে পড়ে গেছো?” রিত্তিকার কথা শোনামাত্রই জিহাদ আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলো না, সে একদম অট্টহাসিতে ফেটে পড়লো। হাসতে হাসতে কবিরের গায়ে ঢলে পড়ে বললো, “ওরে বাবারে! আমার তো চোখ আর কান কোনোটাকেই বিশ্বাস হচ্ছে না যে, কলেজের সেই খিটখিটে খিলজি বংশের প্রফেসর জিয়ান কায়সার সিঁড়ি থেকে পড়ে গিয়ে এখনো মাটিতে অসহায়ের মতো বসে আছে! হা হা হা!”
​জিয়ানের গায়ের চামড়া রাগে জ্বলতে লাগলো। সে চোখমুখ শক্ত করে চিৎকার দিল,

“শাট আপ স্টুপিড!”
​বলেই জিয়ান নিজের ইগো বাঁচাতে এবং সবার হাসিমুখ বন্ধ করতে এক ঝটকায় উঠে দাঁড়াতে গেল। কিন্তু যেই না সে পায়ে জোর দিতে গেছে, অমনি মচকানো পায়ে তীব্র ব্যথার কারণে আবার পরে গেল। জিয়ান ব্যথার চোটে আহ্” করে উঠলো, আবার আগের জায়গায় ধপাস করে পড়ে গেল!
​জিয়ানের আবার পরে যাওয়া দেখে শুধু জিহাদ না, কবির আর সাইফানও মুখ চেপে ধরে হোহো করে হেসে উঠলো। পুরো ডাইনিং রুমে হাসির রোল পড়ে গেল। অন্যদিকে রিত্তিকা সবার পেছনে দাঁড়িয়ে জিয়ানের এই করুণ দশা দেখে দেয়াল ধরে লুকিয়ে লুকিয়ে খিলখিল করে হাসতে লাগলো। জেসমিন আর জিয়া চুপ করে সেখানেই দাঁড়িয়ে আছে।
​জিয়ানের রাগে গা রি রি করে জ্বলছে, মনে হচ্ছে এই মুহূর্তে পারলে সে রিত্তিকা আর জিহাদকে কাঁচা চিবিয়ে খেয়ে ফেলবে! সে আর এক সেকেন্ডও সেখানে বসে নিজের ইজ্জতের ফালুদা বানাতে চাইল না। সে কবিরের দিকে জলন্ত চোখে তাকিয়ে বললো, “কবির! ফালতুদের মতো না হেসে জলদি আমাকে ধরে আমার ঘরে দিয়ে আয়!”

​কবির আর জিয়ান বয়সে মাত্র একমাসের ছোট-বড়, তাই তাদের মধ্যে বন্ধুত্বের টানটাই বেশি। কবির আর হাসি তামাশা না বাড়িয়ে জিয়ানের কথা মতো তাকে সাবধানে টেনে তুলে কাঁধে হাত দিয়ে ধরে ধরে ওপরের ঘরের দিকে নিয়ে গেল। আর তাদের পেছনে পেছনে জিয়ানের এই ঐতিহাসিক পতনের লাইভ রিভিউ দিতে দিতে জিহাদ আর সাইফানও মজা দেখতে দেখতে গেল।
​ওদিকে ডাইনিং রুম একটু শান্ত হতেই জিয়া রিত্তিকার পাশে এসে দাঁড়ালো। রিত্তিকা তখনও মনে মনে জিয়ানের পড়ে যাওয়ার দৃশ্যটা ভেবে মুচকি মুচকি হাসছিল।
​জিয়া রিত্তিকার কাঁধে হাত দিয়ে শান্ত গলায় বললো, “চল রিত্তিকা, আমাদের ঘরে যাই। অনেক রাত হয়েছে, এবার ঘুমাতে হবে।”

প্রফেসর জিয়ান কায়সার পর্ব ৫

​রিত্তিকা জিয়ানের ঘরের দিকে তাকিয়ে মনে মনে একটা শেষ ভেঙচি কেটে হালকা হেসে বললো,
“হ্যাঁ চল, আজকের রাতের বিনোদন একদম পয়সা উসুল মতো ছিল!”
​তারপর তারা দুজনে মিলে হাসিমুখে ঘরের দিকে গেল।

প্রফেসর জিয়ান কায়সার পর্ব ৭

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here