Home ফিরে এসো অনুরাগে ফিরে এসো অনুরাগে পর্ব ১৬

ফিরে এসো অনুরাগে পর্ব ১৬

ফিরে এসো অনুরাগে পর্ব ১৬
নওরিন কবির তিশা

শহরের ব্যস্ত রাজপথে যান্ত্রিক জীবনের কোলাহল আজ যেন একটু বেশিই তীব্র। ধোঁয়াটে আকাশ চিরে সূর্যের তপ্ত রশ্মি পিচঢালা রাস্তার ওপর প্রতিফলিত হয়ে এক অসহ্য দাহ তৈরি করেছে। যানবাহনের অবিরাম হর্ন আর মানুষের কর্মব্যস্ততার মাঝে দুই সপ্তাহ পর নিজেকে আবিষ্কার করল তৃষা। দীর্ঘ চৌব্বিশটি দিন সুখনীড়ের সেই চার দেয়ালের ঘেরাটোপে বন্দি থাকার পর আজ নীলিমার খোলা বুক চিরে মুক্ত বাতাসের স্বাদ নিতে সে পা রেখেছে তার চিরচেনা কলেজের আঙিনায়।
তৃষার ডান হাতের সেই ভারী ব্যান্ডেজটা এখনো তার অস্তিত্বের জানান দিচ্ছে, তবে মনের ভেতর আজ এক অস্থির বিদ্রোহের অগ্নিস্ফুলিঙ্গ। কাল রাতেও সুখনীড়ের সেই শান্ত অন্দরমহলে আর্যর সাথে তার এক প্রস্থ ঝগড়া হয়ে গেছে।

আর্যর যুক্তি ছিল অকাট্য আজ তার হাতের ব্যান্ডেজ খোলার দিন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আজই ডাক্তারের কাছে যাওয়ার কথা। তাই কলেজে যাওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না। কিন্তু তৃষার জেদ ছিল তার চেয়েও বেশি আজকের সেই গুরুত্বপূর্ণ ক্লাসটা সে কোনোভাবেই মিস করতে চায় না। আর্যর সেই গম্ভীর ধমকের কাছে কাল সে সাময়িকভাবে নতি স্বীকার করলেও, মনের গহীনে এক গোপন পরিকল্পনা বুনে রেখেছিল।
তাই আজ প্রভাতের রৌদ্রকিরণ ফোটার পরপরই,আর্যর ঘুম ভাঙার অবকাশ না দিয়েই তৃষা বেরিয়ে পড়েছে। কোনো প্রকার খবর না দিয়ে, এক প্রকার লুকোচুরি খেলেই সে কলেজের পথে পা বাড়িয়েছে। আর্যর সেই অগ্নিদৃষ্টি আর তপ্ত শাসনের কথা মনে পড়লে এখনো তৃষার বুকের ভেতরটা একটু কেঁপে উঠছে ঠিকই, কিন্তু নিজের স্বাধীন সত্তাকে প্রমাণের এক অদম্য স্পৃহা তাকে আজ সাহস জুগিয়েছে।
কলেজের গেট দিয়ে ভেতরে ঢোকার সময় তৃষার মনে হলো, সে যেন এক খাঁচাছুটো পাখি। যদিও অবাধ্য ডান হাতটা তাকে বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছে যে সে এখনো পুরোপুরি মুক্ত নয়। সে জানে, এই খবরটা যখন আর্যর কানে পৌঁছাবে, তখন সুখনীড়ে কেবল সাইক্লোন নয়, আস্ত এক টর্নেডো আঘাত হানবে। কিন্তু আপাতত সে সব কিছু ভুলে নিজের চেনা বেঞ্চে ফিরে যেতে চায়।

করিডোর দিয়ে হাঁটার সময় অনেকেই ওর ব্যান্ডেজ করা হাতের দিকে তাকাচ্ছিল, কিন্তু তৃষার মন তখন কাঙ্খিত ক্লাসে যেতে মরিয়া। ক্লাসের দরজায় দাঁড়াতেই একজোড়া অতি পরিচিত কণ্ঠের চিৎকার ওকে স্বাগত জানাল,
—‘তৃষা! মাই রিকভারি কুইন! তুই শেষমেশ আসলি?
মেহসানা ছুটে এসে তৃষাকে প্রায় ছেঁকে ধরল। ওর ব্যান্ডেজ করা হাতটার দিকে তাকিয়ে কপালে হাত ঠেকিয়ে বলল,,
—‘বাপরে! এই রণংদেহী হাত নিয়ে তুই কলেজে চলে এলি? তোর ওনি তোকে ছেড়ে দিল? নাকি তুই পালিয়ে এসেছিস?
তৃষা ব্যাগটা সাবধানে একপাশে রেখে ফ্যাকাশে হাসল,
—‘ছেড়ে দিবে? ব্যাডা পারলে আমারে বেঁধে রেখে ইনজেকশন দিতে নিয়ে যায়! শা’লা ঘুম থেকে ওঠার আগেই চলে আসছি। এখন যদি উনার ঘুমও ভাঙে তাহলে মনে করবে যে আমি ঘুমাচ্ছি।
মেহেসানা চোখ বড় বড় করে বলল,,

—‘তুই তো সাহস দেখালি দোস্ত! কিন্তু তোর উনি যদি জানতে পারে, তবে তো আমাদের কলেজে এসে কমান্ডো অপারেশন চালাবে। তুই কি তৈরি তো?
তৃষা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বেঞ্চে বসল,,
—‘তৈরি কি না জানি না, তবে আজ ক্লাসটা খুব দরকার ছিল। দুই সপ্তাহ ধরে সুখনীড়ে থাকতে থাকতে আমার মগজে জং ধরে গেছে। সারাক্ষণ শুধু এটা করবেন না, ওটা খাবেন না–উফ! আমি কি পেশেন্ট নাকি ওনার ইউনিটের কোনো নতুন রিক্রুট?
মেহসানা মুচকি হেসে ফিসফিস করল,,
—‘তোর তো রিক্রুট হওয়াই উচিত। ক্যাপ্টেন সাহেবের কড়া পাহারায় থেকে তোর গাল দুটো তো দেখি টমেটোর মতো লাল হয়ে গেছে।যত্নে আছিস বোঝাই যাচ্ছে!
তৃষা মেহসানাকে একটা হালকা ধাক্কা দিয়ে বলল,,

—‘রাখ তোর যত্ন! ওই লোকটার সামনে থাকলে মনে হয় চব্বিশ ঘণ্টা কেউ সিসিটিভি ক্যামেরা দিয়ে আমাকে ওয়াচ করছে। একটু হাসলে বলে ব্লাড প্রেশার বাড়বে, একটু হাঁটলে বলে পায়ের লিগামেন্ট ছিঁড়বে। মানুষ নাকি রোবট, আজও বুঝলাম না!
হাসাহাসির মাঝেই প্রফেসর ক্লাসে প্রবেশ করলেন। টানা এক ঘণ্টা চলল নোটস নেওয়া আর মডিউল বোঝার পালা। তৃষা বাম হাত দিয়ে ভাঙাচোরা অক্ষরে কিছু লেখার চেষ্টা করছিল, যদিও সেটা দেখে মনে হচ্ছিল কোনো পিঁপড়ে কালিতে চুবিয়ে খাতার ওপর কুস্তি লড়ছে।
ক্লাস শেষ হতেই মেহসানা তৃষার খাতাটা টেনে নিয়ে হো হো করে হেসে উঠল,,
—‘তৃষা, তুই কি এখানে কোনো গুপ্তধন উদ্ধারের ম্যাপ আঁকছিস? এই লেখা তো স্বয়ং তোর উনিও ডিকোড করতে পারবে না!
তৃষা মুখ গোমড়া করে ঈষৎ রাগ দেখিয়ে বলল,,

—‘হাসিস না তো! হাতটা অকেজো বলে কি চেষ্টাও করব না? চল, ক্যান্টিনে গিয়ে একটু চা খাই। আমার মাথাটা ঝিমঝিম করছে। আর তখন থেকে আমার উনি আমার উনি কি করছিস কচুর মাথা!
মেহেসানা হেসে বলল,—‘উনিটা তো তোর! তা আর কি বলবো শুনি?
–‘যা ইচ্ছা! তবে আমার উনি আমার উনি করবি না। উনি স্রেফ টুইংকালের পাপা।
মেহেসানা মুখ বাঁকিয়ে বিড়বিড় করে বলল,,—‘সঙ্গে তোর উনিও!
তৃষা ভ্রু কুঁচকে বলল,,–‘কি বললি?
মেহেসানা আমতা আমতা করে বলল,,—‘ক-কই কিছু নাতো! চল চল দ্রুত চল এরপর দেখা গেল চা ঠান্ডা হয়ে গেল।
তৃষা বাম ভ্রুটা সামান্য উঁচিয়ে বলল,,—‘হুম চল।
অতঃপর দুটিতে মিলে এগিয়ে চলল ক্যান্টিনের দিকে।

ক্যান্টিনে বসে চায়ে চুমুক দিতেই মেহসানা হঠাৎ জানালার দিকে তাকিয়ে জমে গেল। ওর হাত থেকে বিস্কুটটা প্লেটে পড়ে গেল,তোতলাতে তোতলাতে বলল,,
—‘তৃ… তৃষা… তোর ক্যাপ্টেন!
তৃষা হচকিত হয়ে পেছনে ফিরতেই দেখল, ভিড় ঠেলে এগিয়ে আসছে আর্য। পরনে তার নেভি ব্লু শার্ট, হাতা দুটো কবজি পর্যন্ত গোটানো। চোখে সেই অতি পরিচিত রাশভারী সানগ্লাস, কিন্তু তার চোয়ালের শক্ত হওয়া ভঙ্গি বলে দিচ্ছে সে কতটা ক্ষিপ্ত। পুরো ক্যান্টিনের হইচই যেন তৃষার সম্মুখে এক লহমায় স্তিমিত হয়ে এল। আর্য সরাসরি তৃষার টেবিলের সামনে এসে দাঁড়াল। সানগ্লাসটা খুলে পকেটে রাখার সময় ওর চোখের সেই তপ্ত চাহনি তৃষার শরীরের সমস্ত রক্ত হিম করে দিল।
আর্য অত্যন্ত স্থির স্বরে বলল,,

—‘আপনার ক্লাস কি শেষ হয়েছে তৃষা? নাকি আরও কোনো স্টান্ট বাকি আছে?
তৃষা ভয়ে কুঁকড়ে গিয়ে মাথা নিচু করল। মেহসানা ততক্ষণে সিট ছেড়ে দুই হাত দূরে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। আর্য এবার তৃষার টেবিলের ওপর হাত রেখে একটু নিচু হয়ে ওর চোখের দিকে তাকাল,,
—‘বাসায় বলেছিলাম আজ ব্যান্ডেজ খোলার দিন। কিন্তু আপনি চোরের মতো পালিয়ে এখানে এলেন। আপনি কি বুঝতে পারছেন আপনি নিজের শরীরের সাথে কতটা বড় রিস্ক নিয়েছেন?
তৃষা আমতা আমতা করে বলল,,
—‘আমার ক্লাসটা… ইম্পর্ট্যান্ট ছিল।
—‘আর আমার কাছে আপনার এই হাতটা ইম্পর্ট্যান্ট।
আর্য এক ঝটকায় তৃষার সুস্থ হাতটা ধরল। ওর হাতের স্পর্শ আজ অন্যদিনের চেয়েও বেশি শক্ত। সে সরাসরি মেহসানার দিকে তাকিয়ে হুকুমের সুরে বলল,,

—‘মেহসানা, ওর ব্যাগটা দিন। ওকে এখনই ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে হবে। আর তৃষা… গাড়িতে গিয়ে আপনার সাথে আমার এই লুকোচুরি খেলার একটা ফাইনাল সেটেলমেন্ট হবে।
তৃষা অসহায়ের মতো মেহসানার দিকে তাকাল, কিন্তু সেখানে কোনো সাহায্যের আশা নেই। কলেজের সবার কৌতূহলী চোখের সামনে দিয়ে আর্য প্রায় টেনেই তৃষাকে গাড়ির দিকে নিয়ে চলল।
তবে বেরোনোর ঠিক পূর্ব মুহূর্তে দরজার সামনে হন্তদন্ত হয়ে এসে দাঁড়াল সায়েম।সায়েমকে দেখেই আর্যর চোয়ালটা আরও একবার শক্ত হয়ে গেল। সায়েম একটু হাঁপাতে হাঁপাতে তৃষার ব্যান্ডেজ করা হাতের দিকে তাকিয়ে বেশ উদ্বেগ নিয়ে বলল,

—‘তৃষা! শুনলাম তুমি আজ ক্লাসে এসেছ। এই অবস্থায় একা আসাটা কি ঠিক হলো? আমি তো মেহসানাকে বলেছিলাম তোমাকে নোটসগুলো পাঠিয়ে দেব। শরীরটা এখন কেমন?
তৃষার উত্তর দেওয়ার আগেই আর্যর হাতের মুঠোটা ওর কবজিতে আরও একটু চেপে বসল। আর্যর‌ তীক্ষ্ণ চক্ষু মনি আগ্নেয়গিরির ন্যায় প্রজ্জ্বলিত।সে সায়েমের দিকে একঝলক তাকিয়ে অত্যন্ত তাচ্ছিল্যের সুরে বলল,
—‘শরীরের খোঁজ নেওয়ার জন্য তো বাড়ির লোকরাই যথেষ্ট, মিস্টার…?
সায়েম একটু থতমত খেয়ে বলল, —‘আমি সায়েম, তৃষার সিনিয়র। আসলে ওর ইনজুরির কথা শুনে খুব টেনশনে ছিলাম।
আর্য সায়েমের চোখের দিকে সরাসরি তাকিয়ে অত্যন্ত গম্ভীর স্বরে বলল,,

—‘টেনশনটা একটু কমিয়ে নিজের পড়াশোনায় মন দিন। তৃষার টেক-কেয়ার করার জন্য একজন প্রফেশনাল গার্ড অলরেডি অ্যাপয়েন্টেড আছে। আর হ্যাঁ, নেক্সট টাইম ওর নোটস বা অন্য কিছুর জন্য আপনাকে কষ্ট করতে হবে না। ওর ডিকশনারিতে এখন বাইরের সাহায্য শব্দটা ডিলিট করে দেওয়া হয়েছে।
তৃষা অপ্রস্তুত হয়ে বিড়বিড় করল,,
—‘উনি তো জাস্ট হেল্প করতে চাইছিলেন…!
আর্য তৃষার দিকে এক তপ্ত দৃষ্টি নিক্ষেপ করে বলল,,
—‘হেল্প নেওয়ার অনেক সময় পাবেন। আপাতত আমার গাড়িতে চলুন। ব্যান্ডেজ খোলার সময় আপনার এই সিনিয়রের নোটস নয়, ডাক্তারের কাঁচি লাগবে।
সায়েমকে এক প্রকার তুচ্ছজ্ঞান করেই আর্য তৃষাকে টেনে নিয়ে গাড়ির দিকে হাঁটা দিল। কলেজের খোলা প্রাঙ্গণে তখন এক নিস্তব্ধ মায়াবী যুদ্ধ শুরু হয়েছে। আর্যর হাঁটার গতি আজ অনেক বড্ড দ্রুত, তাল মিলাতে এক প্রকার হাঁপিয়ে উঠছে তৃষা।

আর্য গাড়ির কাছাকাছি এসেই দরজাটা এক ঝটকায় খুলে তৃষাকে ভেতরে বসাল আর্য। ড্রাইভিং সিটে বসে সে সজোরে দরজাটা বন্ধ করল। তৃষা গুটিসুটি মেরে জানালার দিকে তাকিয়ে। আর্য গাড়ি স্টার্ট দিয়ে স্টিয়ারিং হুইলটা এত জোরে চেপে ধরল যে ওর হাতের শিরগুলো স্পষ্ট হয়ে উঠল। সে সামনের দিকে তাকিয়েই দাঁত কিড়মিড় করে বলল,,
—‘ওই ছেলেটি কি রোজই আপনার চারপাশ দিয়ে ওভাবে উদ্বেগ নিয়ে ঘোরে? নাকি আজই প্রথম ওর মায়া উথলে উঠল?
তৃষা হঠাৎ আর্যর এমন প্রশ্নে হচকিত নয়নে তাকালো। আর্য ক্রোধিত কণ্ঠে ফের শুধালো,,
—-‘কি হলো উত্তর দিচ্ছেন না কেন?
তৃষা আমতা আমতা করে বলল,,
—’সা-সায়েম ভাইয়া। উ-উনি জাস্ট আমার খোঁজ নিচ্ছিলেন।
-‘ভাইয়া!’—–বিরক্তিতে কুচকে আসলো আর্যর মুখশ্রী,,

—‘লিসেন তৃষা, আপনি চোরের মতো পালিয়ে এসেছেন সেটা একটা অপরাধ, আর এই ভাইয়াদের প্রশ্রয় দেওয়াটা দ্বিতীয় অপরাধ। আপনার ওই ড্যামেজড হাতের চেয়েও আমার কাছে এখন আপনার এই ফ্রি-স্টাইল লাইফস্টাইলটা বেশি অ্যালার্মিং মনে হচ্ছে।
তৃষা কৌতূহল দমাতে না পেরে, শেষমেষ সাহস করে প্রশ্নটা করেই বসল,,
—‘আপনি কি জেলাস হচ্ছেন?
আর্য ব্রেক কষল সজোরে। গাড়িটা রাস্তার একপাশে গোঙানি দিয়ে থেমে গেল। সে তৃষার একদম কাছে ঝুঁকে এসে ওর চোখের গভীর অতলে ডুব দিয়ে ফিসফিস করে বলল,,
—‘জেলাস শব্দটা আমার ডিকশনারি বহির্ভূত।আমি কারো জন্য জেলাস হই না। কিন্তু… আমার অধিকারে থাকা কোনো জিনিসে অন্য কেউ মায়া‌ দেখাবে, এটা আমি টলারেট করি না। আপনি স্রেফ আমার রেসপনসিবিলিটি, আর সেই রেসপনসিবিলিটি নিয়ে অন্য কেউ ছিনিমিনি খেললে আমি তাকে ইউনিটের বাইরে লাথি মারতে দ্বিধা করি না। ইজ দ্যাট ক্লিয়ার?

ফিরে এসো অনুরাগে পর্ব ১৫

তৃষা আর্যর সেই তপ্ত নিঃশ্বাস নিজের মুখে অনুভব করতে পারল। লোকটা মুখে রেসপনসিবিলিটি বললেও তার চোখের সেই অব্যক্ত অধিকারবোধ অন্য কিছুরই জানান দিচ্ছিল। তৃষার বুকের ভেতরটা তখন বুনো পাখির মতো ডানা ঝাপটাচ্ছে। সে আর কোনো কথা না বলে জানালার বাইরে চোখ রাখল। সুখনীড়ের এই ডিক্টেটর আজ যেন তার সমস্ত স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়ার শপথ নিয়েছে।

ফিরে এসো অনুরাগে পর্ব ১৭