Home সে খলনায়ক সে খলনায়ক পর্ব ৫

সে খলনায়ক পর্ব ৫

সে খলনায়ক পর্ব ৫
ফারহানা সানিয়াত

__ অচেনা ভাইয়াকে অচেনা বলবো না তো কি বলবো ভাইয়া!! বোকা মুখ করে প্রাণপ্রিয়া বলে ওঠে,,
ইভান কিছুটা নড়েচড়ে বসে সুন্দরী মেয়ের কাছে সে অচেনা! ভাইয়া! না না একদমই না,,
__ তাহলে চলো চেনা পরিচিত হই,
প্রাণপ্রিয়া চোখ পিটপিট করে, মানে!
মানে…ইভান কিছুটা কিউট করে হাসে,,নাম কি তোমার লিটল বিউটিফুল গার্ল ?
প্রাণপ্রিয়া নাম জিজ্ঞেস করাতে হালকা ‌কপাল কুচকিয়ে হাতের ড্রইং খাতাটা একটু শক্ত করে ধরে,,

__ প্রাণপ্রিয়া ,
ইভান মাথা হালকা নাড়ায় ওয়াও নাইস নেম, বলে নিজের হাতটা বাড়ায় আমি ইভান ডক্টর ইসরাফিল খানের একমাত্র ছেলে,,
প্রাণপ্রিয়া হাত বাড়ানোর দিকে তাকায় ডক্টর!! ইসরাফিল!!!!ইভান হালকা হাসে, বসা থেকে উঠে নিজেই প্রানপ্রিয়ার হাত ধরে হেন্ডসেক করে,,
ডক্টর ইসরাফিল এই আশ্রম আর আবরারদের পারিবারিক ডক্টর তুমি কি চেনো না‌ তাকে?
প্রাণপ্রিয়া ইভানের দিকে তাকায় সে না সূচক মাথায় নাড়ায়, তা দেখে ইভান তার পাশে সোফায় হেলেন দিয়ে বসে,,
__ তুমি এখানে নতুন তাই না? প্রাণপ্রিয়া আবার হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়ায়, ওহ এর জন্যই আচ্ছা পরে চিনে নিতে পারবে‌ এখন তোমার ব্যাপারে … ইভান থেমে যায় কারন তার চোখ প্রাণপ্রিয়ার হাতে ড্রইং খাতার দিকে পড়েছে,, হেই তুমি ড্রইং করো?
ইভানের চটপটে দৃষ্টি, প্রানপ্রিয়া তার হাতের খাতার দিকে তাকায় আর সাথে সাথে তার ঠোঁটে অনেকটা হাসি ফুটে ওঠে,,

__ আমরা অনেক পছন্দ ড্রইং করা, ব্যস ইভানের এই টুক কথাই যথেস্ট ছিল প্রানপ্রিয়ার কাছে
__ সত্যি! আমার ও অনেক পছন্দ দাঁত বের করে হেসে বলে ওঠে প্রানপ্রিয়া এরপর! এরপর শুরু হয়ে যায় দুজনের মাঝে নানান বিষয় নিয়ে কথা বলা আর এই সুযোগে ইভান ও প্রানপ্রিয়ার সাথে বন্ধুত্ব করে নেয়,,
খানিকক্ষণ পর ডাক্তার ইসরাফিল রহমানের সাথে কথা বলতে বলতে ঘর থেকে বের হয়ে ইভানকে সোফায় বসা দেখেন যে ছোট একটা‌ মেয়ের সাথে কথা বলছে,, ইভান ও কথা বলার মাঝে বাবাকে দেখে বসা থেকে উঠে প্রাণপ্রিয়া কে বিদায় জানায় আর এটা বলে যায় এখন থেকে তাদের সব সময় দেখা হবে সব সময় ,,

মিস্টার রহমান প্যান্ট শার্ট পড়ে রেডি হয়ে হাতে কিছু কাগজপত্র নিয়ে সোফায় বসেন, তাকে এখন আবরার ম্যানশন যেতে হবে আশ্রমের কিছু দরকারি কাজের অনুমতি নিতে। সেলিনা হাতের চায়ের কাপ রহমানের সামনে টেবিলে রাখেন, পাশের একটা সোফায় প্রাণপ্রিয়াও বসা ,,,
__ কোথায় যাচ্ছ তুমি আঙ্কেল? প্রাণপ্রিয়া জিজ্ঞেস করে ওঠে,
রহমান হতে চায়ের কাপ নিয়ে বলেন,, এইতো মা বড় সাহেবদের বাসায় যাচ্ছি, তুমি যাবে?
আঙ্কেলের কথা শুনে প্রাণপ্রিয়া মুখ চকচক করে সাথে সাথে বলে উঠে,, হ্যাঁ অবশ্যই যাবো , মিসেস সেলিনা পাশ থেকে হাসেন,,
__ এই মেয়েকে ছোটাছুটি আর কোথায় যাওয়ার কথা বললে কখনোও না বলবে না,,
রহমান নিজের চা টা শেষ করে বসা থেকে উঠে বলেন, তাহলে মা চলো,
প্রাণপ্রিয়া দাঁত বের করে হেসে মাথা নাড়ায় এরপর রহমানের হাত ধরে বের হয় আবরার মেনশনের উদ্দেশ্যে,,
বিশাল বড় গেট দিয়ে আঙ্কেলের হাত ধরে প্রাণপ্রিয়া রাজকীয় বাড়িটার ভিতরে ঢুকে, বাড়িটার সামনে বিশাল বড় গার্ডেন যেখানে বড় বড় গাছ আর নিচে নানান রকম ফুল ‌ দিয়ে ঘেরা যা সে দূর থেকে দেখত তবে আজ সামনে থেকে দেখে সে মুগ্ধ গার্ডেন এর মাঝ বরাবর সিমেন্টের চওড়া রাস্তা আপাতত আঙ্কেলের হাত ধরে হাঁটছে আর এসব দেখছে,,

__ আরে রহমান ভাই যে!!কতদিন পর দেখা আপনার সাথে, কি অবস্থা আপনার, অর্ধ বয়স্ক একজন মহিলা সামনে এসে বলে ওঠেন,,
রহমান সামনের মহিলাটিকে দেখে হালকা হাসেন ,, এইতো ভালো তোমার কি অবস্থা সুরিয়া,,
__ আলহামদুলিল্লাহ ভাইজান,, সাহেবের কি সাথে দেখা করতে এসেছেন,
রহমান মাথা নাড়ান, হ্যাঁ বড় সাহেব বাসায় না,,
__ হ্যাঁ হ্যাঁ সাহেব বাসায় আপনি ভিতরে যান তিনি বসার ঘরেই আছেন, অর্ধব বয়স্ক ‌মহিলাটি কথাটা বলে রহমানের হাত ধরে থাকা প্রাণপ্রিয়ার দিকে তাকান,, ও কি‌ নতুন আজ প্রথম দেখছি যে,,
রহমান স্বচ্ছ হাসেন, হ্যাঁ কয়েকদিন ধরে এসেছে,,
__ ওওও ‌বলে অর্ধ বয়স্ক মহিলাটি প্রাণপ্রিয়াকে খুব মনোযোগ দিয়ে দেখেন এরপর জিজ্ঞেস করেন,, কি নাম তোমার মা?
প্রাণপ্রিয়া মিষ্টি করে হাসে, আমার নাম প্রাণপ্রিয়া,,
__ আরে বাহ খুব সুন্দর নাম তো তোমার বলে মহিলাটি হালকা ঝুঁকে প্রাণপ্রিয়ার মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়,,
অতঃপর আবার খানিকক্ষন রহমানের সাথে মহিলাটি র হালকা কিছু কথা হওয়ার পর তারা আবার হাটা ধরেন, এরপর হাঁটতে হাঁটতে দুজন রাজকীয় বাড়িটার সামনে আসতেই প্রাণপ্রিয়া বলে ওঠে,,
__ আঙ্কেল আমি এখানে থাকি তুমি যাও আমি বাহিরে ফুল গাছ গুলো দেখবো প্লিজ,,
রহমান বলেন,, আচ্ছা ঠিক আছে কিন্তু এখান থেকে কোথাও যাবে না এখানেই থাকবে আমি যাব আর আসবো।
প্রাণপ্রিয়া মাথা কাত সম্মতি জানায়,,,

বিশাল বড় খোলা বারান্দার বেতের সোফায় বসে মিসেস রাইমার সাথে মিসেস চৌধুরী বসে গল্প করছেন, তাদের থেকে কিছু দূর দূরে বারান্দার রেলিংয়ের উপর হাত ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে ১৬ বছরের সারা,, এই‌ বাড়ির চারপাশ তার কাছে খুব ভালো লেগেছে তবে সে আপাতত বোরিং নিজেকে অনেক একা একা লাগছে তার ভাই সমবয়সী দুজনকে পেয়েছে মম রাইমা আন্টিকে কিন্তু সে,,
__ মম আমার প্রচন্ড বিরক্ত লাগছে আমি অনেক বোরিং, কি করবো আমি, মায়ের দিকে ঘুরে সারা বলে ওঠে,
মিসেস চৌধুরী মেয়ের এমন কথা শুনে বলেন,, এভাবে বলতে হয় না সারা তোমার কাছে বোরিং লাগলে তুমি নিচে যেতে পারো আশেপাশে ঘুরে দেখতে পারো,, মিসেস রাইমাও‌ সারা কে একই কথা বলেন,,
__ সারা বিরক্তির শ্বাস ফেলে, আমি নিচে যাবো তো আমি কি একা একা ঘুরবো, সারার এমন ব্যবহারে মিসেস চৌধুরী লজ্জায় পড়ে যান,, সারা আবার সামনের দিকে ঘুরে বিরক্তিকে চোখ মুখ কুঁচকে বিড়বিড় করে কিছু একটা বলে নিচে দিকে তাকায় আর তাকাতেই একটা মেয়েকে দেখে ঠোঁটে হাসি ফুটে ওঠে,,
মেয়েটা আর কেউ না প্রাণপ্রিয়া যে গার্ডেনে দাঁড়িয়ে গোলাপ ফুলের স্মাইল নিচ্ছে,,

__ মম আমি নিচে যাচ্ছি,
মিসেস চৌধুরী হালকা কপাল গুটিয়ে বলেন,,
__ তুমি না একা নিচে যেতে চাইছিলে না।
__ সারা নিচের দিকে তাকিয়ে থেকেই বলে, পেয়েছি একজনকে আমি যাচ্ছি বলেই দ্রুত পা চালায়,,
মিসেস চৌধুরী মেয়ের যাওয়ার তাকিয়ে দিকে বলেন,,কার কথা বলল এই বাসায় কি কোনো মেয়ে আছে?
রাইমার কপালে চিন্তিত বাজ এই‌ বাসায় তো কোনো মেয়ে নেই তাহলে! ভেবেই তিনি দ্রুত বসা থেকে উঠে বারান্দায় রেলিং এর সামনে গিয়ে দাঁড়ায়,, ততক্ষণে সারা নিচে নেমে গেছে, তবে রাইমা নিচে দেখতে পায় গার্ডেনে ফুল গাছের সামনে খুব সুন্দর একটা মেয়ে দাঁড়িয়ে,,
__ ম্যাডাম আপনাদের জন্য চা, হঠাৎ একজন সার্ভেন্টের উপস্থিত,
রাইমা পিছে ঘুরে মিস্টার রহমানের সাথে নিচে কথা বলা মহিলাটি হাতে ট্রে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, তখনকার অর্ধব বয়স্ক মহিলাটি আবরার ম্যানসিনের একজন সার্ভেন্ট ,,
রাইমা মুখে কিছুটা চিন্তিত নিয়ে সামনে মহিলাটিকে জিজ্ঞেস করেন,, আপনি কি জানেন নিচের গার্ডেনের ওই মেয়েটা কে?
মহিলা সারভেন্ট মালকিনের কথা শুনে হাতের ট্রে টা
টেবিলে রেখে সামনে গিয়ে নিচে তাকান,,
__ ওহ হ্যাঁ এই মেয়ে মিস্টার রহমানের সাথে এসেছে আপনাদের আশ্রমের একজন আশ্রিতা,,

গার্ডেনে খুব মনোযোগ সহকারে প্রাণপ্রিয়া প্রতিটা ফুল দেখছে তাদের সুভাষ নিচ্ছে আর ভাবছে ‌ইসস কি সুন্দর ফুল তাদের আশ্রমে যদি এমন ফুল থাকতো,,
__ এই মেয়ে শোনো, পিছন থেকে এক আকস্মিক মেইলি কণ্ঠস্বর শুনে প্রাণপ্রিয়া ভাবনা থেকে বের হয়ে চমকে পিছে ঘুরে তাকায়,,
সাদা রঙে টপস প্যান্ট পড়া সুন্দর এক মেয়ে তার দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে,,
__ কি করছো তুমি এখানে? সামনের মেয়েটি জিজ্ঞেস করে ওঠে,,
প্রাণপ্রিয়া ঢোক গিলে জড়োসড়ো হয়ে দৃষ্টি আঙ্কেল কে খুঁজে,,
__ কি হলো? বলছো না কেনো কি করছো, ধমকে ওঠে মেয়েটি, হঠাৎ ধমকে ছোট প্রাণপ্রিয়া কেঁপে ওঠে এমনিতেই সে এই বাড়ির কাউকে চিনে না আবার মেয়েটি তার থেকে বয়সে বড় হয়তো ,,তাকে কি বকবে এখন?
__ কি বোবা নাকি আশ্চর্য,, মেয়েটির এবার ধমক আর বিরক্ত মিশ্রিত কন্ঠে বলে মানে সারা বলে,,আহ তোমার উপর আমি অনেক বিরক্ত ,, পা বাড়িয়ে সারা প্রাণপ্রিয়ার সামনে এগিয়ে তার চারদিকে ঘুরে,,
__ আ আমি কিছু করিনি আপু, মিনমিন কণ্ঠ প্রানপ্রিয়ার,, যা শুনে সারার পা থেমে যায় অবশেষে এই মেয়েটির মুখ থেকে কথা বের হলো……

__ তোমাকে কি আমি বলেছি তুমি কিছু করেছ ,,আমি বলেছি তুমি কি করছ, আচ্ছা বাদ দাও তোমার নাম কি? প্রাণপ্রিয়া মাথা নিচু করে তোতলানো কন্ঠে বলে, প্রা প্রাপ্রাণপ্রিয়া,
__ প্রা প্রা প্রাণপ্রিয়া আবার কি? সারা হেসে ওঠে অতঃপর বুকে হাত গুজে, অদ্ভুত জোকার মেয়ে তুমি যাইহোক আমি সারা তোমার সাথে আমি কথা বলতে এসেছি কারণ আমি চাই তুমি আমাকে এই বাড়ির আশেপাশে ঘুরে দেখাও, দেখাবে? শেষের কথাটা সারা প্রাণপ্রিয়ার দিকে হালকা ঝুঁকে বলে,,
প্রাণপ্রিয়া পিছের দিকে সরে ভীত দৃষ্টিতে আশেপাশে দেখে অতঃপর ঢোক গিলে মাথা ওপর নিচ করে,,
সাথে সাথে সারা খুশি হয়ে প্রাণপ্রিয়ার হাত ধরে বলে, তাহলে চলো,,
অন্যদিকে মিস্টার রহমানের কানে এ ব্যাপার নিয়ে খবর গেছে প্রাণপ্রিয় এই বাড়ির গেস্ট সারাকে আশেপাশের ঘুরিয়ে দেখাবে যা সে শুনে নিশ্চিন্ত কারণ নতুন জায়গায় ছোট ‌মেয়েটা একা একা কি করছে ‌এটা ভেবেই গুরুত্বপূর্ণ কথা এতক্ষণ মনোযোগী হতে পারছিলেন তবে এখন খুব নিশ্চিত,,
প্রাণপ্রিয়া এই বাড়ির আশে পাশে তেমন একটা চেনেনা তাই বিভ্রান্ত হয়ে তার ওপর সারা কে ভয় পেয়ে সব গুলিয়ে ফেলছে,, আর এই কারণে সারা খুবই বিরক্ত,,,

__ তুমি কি জানো তোমার থেকে একটা কুকুরও বুদ্ধিমান অন্তত সে আশেপাশের সবকিছু চিনে আর মনে রাখে,,
সারার এরূপ কোথায় প্রাণপ্রিয়ার ছোট মনে খুব অপমান ও বোধ করে তাকে কুকুরের সাথে তুলনা দিল সে কি এতই নিচু,,সারা আড়চোখে প্রাণপ্রিয়ার কে দেখে অতঃপর চোখ ঘুরিয়ে সামনের দিকে তাকাতে ই দেখতে পায়,,তার ভাই আর সাথে আহনাফ দামিয়ান হাতে শিকারের বন্দুক নিয়ে জঙ্গল থেকে এদিক আসছে,,
__ আহ ভাইয়া বলেই সারা মুখে হাসি ফুটিয়ে‌ প্রানপ্রিয়া হাত ধরে সেদিকে দৌড়,, এদিকে প্রানপ্রিয়া হঠাৎ হাতে টান অনুভবে কিছু বুঝে উঠতে পারিনি তবে সামনে তাকাতেই কলিজা টা চিপ দিয়ে ওঠে,,
দুটো ছেলের মাঝে সাদা রঙের শার্ট পরা দামিয়ান, সে বিদেশীদের মত ধবধবে ফর্সা হলেও বাবার মতো বাঙালি ভাব আছে যেমন তার চুলের রং আর চোখের মনি একদম কালো দেখতে রাশিয়ান বাংলাদেশী মিক্সড যুবক হলেও এই বয়স থেকে একদম পারফেক্ট নিঃসন্দেহে সে একজন হ্যান্ডসাম ছেলে তবেপ্রাণপ্রিয়ার থেকে ভয়ংকর প্রথমত আজও তার হাতে বন্দুক আর দ্বিতীয়ত তার শীতল চাহনি,,

সারা দৌড়ে তিনজনের কাছে গিয়ে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করে তারা কয়টা পাখি মেরেছে,,
পাশে প্রাণপ্রিয়ার ইতিমধ্যে কাঁপাকাপি শুরু সে ভয়ে সারা পিছে গিয়ে দ্রুত দাঁড়ায়,,
সামনে দাঁড়ানো দামিয়ান সারার পিছে একটা মেয়েকে দাঁড়ানো দেখে সুরু চোখে ঘাড় বাঁকা মেয়েটিকে দেখে, প্রথম মেয়েটিকে চিনতে না পারলেও হঠাৎ চোখে ভেসে ওঠে জঙ্গল আর আশ্রমের দৃশ্য,,
সারা ভাইয়ের থেকে পাখি মারার কথা শোনা শেষ হলে পিছে দাঁড়ানো প্রাণপ্রিয়াকে বলে,, চলো প্রাণপ্রিয়া আমরাও জঙ্গলে যাই সেখানে কি আছে আমি দেখব বলেই সারা প্রাণপ্রিয়ার হাত ধরে হাটা ধরে,, দামিয়ান আড়চোখে প্রাণপ্রিয়া যাওয়ার দিকে তাকিয়ে নিঃশব্দে নামটা উচ্চারণ করে প্রানপ্রিয়া

আকাশে লালচে আভা ছড়িয়ে পড়েছে, বাহিরে আজানের ধ্বনি, সময় এখন সময় কটা ছোট প্রাণপ্রিয়ার জানা নেই তবে সময় অনেক হয়েছে বুঝতে পারছে যার কারণে এবার তার মন ছুটে গেছে, কিন্তু সারা তাকে ছাড়ার নাম ও নিচ্ছে না, সে জঙ্গল থেকে ঘুরে এসে প্রাণপ্রিয়াকে নিজের সাথে নিজের ঘরে বসিয়ে ফোনে নানা রকম ভিডিও দেখাচ্ছে,,
__ সারা তুমি ওকে এখনো বাসায় যেতে দাওনি!!
মিসেস চৌধুরী ঘরে ঢুকতে ঢুকতে অবাক কন্ঠে বলে উঠে কারণ বাহিরে মাগরিবের আজান দিচ্ছে,,
__ ওর যাওয়ার কি দরকার মম ওর কি বাবা মা আছে,
__ সারা কি বলছো এইসব!! ও ছোট কষ্ট পাবে,, সারা মুখ বাঁকিয়ে হাসে পাশে প্রাণপ্রিয়ার মাথা নিচু করে দাঁড়ানো,,
__ ওও কষ্ট পাবে না,,, বলে বসা থেকে উঠে সারা, এরপর নিজের মাথা থেকে একটা ক্লিপ ছুটিয়ে প্রাণপ্রিয়ার মাথায় পরিয়ে দিতে দিতে বলে তাইনা প্রিয়া,,প্রাণপ্রিয়া ঠোঁট কামড়ে সারার দিকে এক নজর তাকিয়ে আবার নিচের দিকে তাকায়,,

সারা বাঁকা হাসে,,তোমাকে আমি এখন থেকে প্রিয়া বলে ডাকবো আর আমি দুঃখিত তুমি যদি কষ্ট পাও,, আর যাও তোমার বাসায় আমাদের আবার দেখা হবে।
প্রাণপ্রিয়া যাওয়ার কথা শুনে চোখ তুলে ফের সারার দিকে তাকায় আর অনেকটা মনে মনে খুশি হয়ে এক মুহূর্ত না দাঁড়িয়ে দ্রুত পায়ে একপ্রকার দৌড়ে ‌বের হয়,, যেন কোনো বন্দি করা পাখিকে খাঁচা থেকে মুক্ত করে দিয়েছে,,
প্রাণপ্রিয়া দৌড়াতে দৌড়াতে রাজকীয় বড় বাসা থেকে বের হয়ে গার্ডেনের দিকে চলে আসে আস্তে আস্তে ধরণীতে অন্ধকার ছেয়ে যাচ্ছে‌‌ ,তা দেখে দ্রুত বাড়িতে পৌঁছানোর জন্য ‌দৌড় দিতে নিলে কিছু সাথে হোঁচট খেয়ে নিচে উপর হয়ে পড়ে সাথে সাথে সিমেন্টের রাস্তায় হাত পা ঘেঁষে ছিলে রক্ত বের হওয়া শুরু করে, ব্যথায় কুঁকড়ে উঠে মেয়েটা ঠোঁট চেপে কান্না গিলে ফেলে , সারার পরিয়ে দেওয়া কিপটাও চুল থেকে খুলে কিছু দূরে পড়েছে,তবে এত ব্যথা পাওয়ার পরও শক্ত হয়ে নিজেকে ঠিক করে আস্তে আস্তে বসে কারণ আশ্রমে যেতে হবে, তাই হাত বাড়িয়ে ক্লিপ নিতে নিবে তখনই খেয়াল করে কেউ সামনে এসে দাঁড়িয়েছে,,

কে দাঁড়িয়েছে দেখার জন্য প্রাণপ্রিয়া ‌আস্তে আস্তে মাথায় তুলে উপরে তাকাতেই তার পুরো শরীর ঝংকার দিয়ে ওঠে,, তার সামনে ‌পকেটে হাত গুঁজে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে দামিয়ান,
সাথে সাথে মাথা নিচু করে প্রাণপ্রিয়া বাড়িয়ে দেওয়া হাতটা মুষ্টিবদ্ধ করে ফেলে ,,
দামিয়ানের চোখ আরও তীক্ষ্ণ হয় খেয়াল করে ছোট মেয়েটার হাত কাঁপছে পা থেকে রক্ত পড়ছে,,
এদিকে প্রাণপ্রিয়া আশ্রমে যাওয়ার জন্য যেভাবেই হোক মনে‌ মনে হালকা সাহস জুগিয়ে আবার মুষ্টিবদ্ধ হাত খুলে আস্তে আস্তে ক্লিপ নেওয়ার জন্য হাত বাড়ায় তবে দাঁড়িয়ে থাকা দামিয়ান ঘাড় বাঁকা করে ক্লিপ টার উপর দ্রুত নিজের পা রাখে আর রাখতেই ক্লিকটা দু টুকরো হয়ে ভেঙে যায়,,ছোট প্রাণপ্রিয়া এটা দেখে ঠোট কামড়ে ধরে কষ্ট করে গিলে ফেলা কান্নাটা এবার আরো জোরে আসতে নিলেও চুপ হয়ে বসে থাকে,,
দামিয়ান কিছুক্ষণ মাথা নিচু করা ছোট মেয়েটাকে দেখে এরপর পা বাড়িয়ে চলে যায়। সে চলে যেতে ই ছোট মেয়েটা ভাঙ্গা ক্লিপের টুকরো নিয়ে বসা থেকে উঠে দামিয়ানের যাওয়ার দিকে তাকায় এরপর ব্যথা পায় নিয়ে দৌড়ে আশ্রমের দিকে ছুটে,,

সব সময় হাসি খুশি প্রাণোচ্ছল মেয়েটার কান্না দৌড়ানোর সাথে সাথে বাড়ছে,,, আজ সে অনেক কষ্ট পেয়েছে আর অপমানিত হয়েছে,,
অনেকটা পথ দৌড়াতে দৌড়াতে প্রাণপ্রিয়া দেখতে পায় মিসেস সেলিনা আশ্রমের গেটে দাঁড়ানো,,
এদিকে সেলিনা সন্ধ্যা হওয়ার পরও প্রাণপ্রিয়াকে আসতে না দেখে নিজেই আবরার মেনসনে যাওয়ার জন্য বের হচ্ছিল তবে গেটের বাইরে প্রাণপ্রিয়াকে আঘাত পাওয়া কান্নারত অবস্থায় দৌড়িয়ে এদিকে আসতে দেখে তিনি হন্তদন্ত হয়ে নিজে ও প্রাণপ্রিয়ার দিকে পা বাড়িয়ে বলা শুরু করে,,
__ কি হয়েছে প্রিয়া, তুমি ব্যথা পেলে কিভাবে? হায় আল্লাহ এই মেয়েকে নিয়ে যাব কোথায় আশ্রমে আসার পর থেকে খালি ব্যথা পেয়েই যাচ্ছে,,
প্রাণপ্রিয়া সেলিনা আন্টির সামনে এসে সেলিনা কে জড়িয়ে ধরে আর হুহু করে কেঁদে ওঠে। সে সময় গেটের ভেতর থেকে ‌ রহমান ও কান্নার শব্দ শুনে বের হয় আর প্রাণপ্রিয়া কে দেখে তিনিও বলে উঠেন,,

__ কি হয়েছে কান্না করছো কেনো মা ? কি হয়েছে সেলিনা ওর?সেলিনা হতাশ মুখের রহমানের দিকে তাকান,,
__ কি আর বলব ভাইজান মেয়েটা ব্যথা পেতে পেতেই শেষ হয়ে যাবে আসার পর থেকে শুধু ব্যথাই পাচ্ছে,, এত ছোটাছুটি করলে হবে, বড় হলে কি করবে।
রহমান চিন্তিত মুখে প্রাণপ্রিয়া কে দেখেন,,
হ্যাঁ বড় হলে কি করবে এইতো কয়েক দিনের মধ্যে দেখতে দেখতে বড় হয়ে যাবে ,,
সেলিনা প্রাণপ্রিয়াকে ধরে আশ্রমের গেট দিয়ে ভিতরে ঢুকেন, রহমান তাকিয়ে থাকে আশ্রমে বাকি বাচ্চাগুলো ও বের হয়ে প্রাণপ্রিয়াকে এমন ব্যথা পাওয়া অবস্থায় দেখে তাদের মধ্যে থাকা হইচই বন্ধ হয়ে প্রাণপ্রিয়ার ব্যথা নিয়ে ব্যস্ত যায় ,,

সে খলনায়ক পর্ব ৪

দূরে থাকা রহমান তাকিয়েই থাকে সে এই আশ্রমে অনেক বছর ধরে আছে ‌তার সামনে কত বাচ্চারা ছোট থেকে বড় হয়েছে,, তবে এখন বড় হওয়ার কথাটা তার মনে লেগেছে এই মেয়ে‌ আর এই বাচ্চাগুলো বড় হবে আল্লাহ তায়ালা কি তাকে এই বাচ্চাগুলোর বড় হতে দেখা সৌভাগ্য রাখবেন,, ভেবেই তিনি চোখ বন্ধ করে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলেন এরপর!
এরপর! এরপর চলে যায় খুব দ্রুত ছয়টি বছর,, যা প্রাণপ্রিয়া জীবনের সবথেকে সুন্দর দিন ছিল তার কিশোরী থেকে যুবতীতে পা রাখা,, কিন্তু তার যুবতী হওয়া জীবনের সবথেকে বড় কাল হবে সে কি জানে!!

সে খলনায়ক পর্ব ৬