Born to be villains part 33

Born to be villains part 33
মিথুবুড়ি

“হাসবেন্ড?”
শব্দটা এলিজাবেথের ঠোঁটের কোণ থেকে বসন্তের বাতাসে ঝরে পড়া শুষ্ক পাতার মতোই অবিশ্বাসে ঝরে পড়ল।
সিঁড়ি বেয়ে হন্তদন্ত হয়ে নিচে নেমে এলেন ফাদার। রিচার্ডকে দেখামাত্রই তার চোখের তারাই যেন প্রাণ ফিরে এলো। ভেসে উঠল সুতীব্র আবেগ। কিন্তু রিচার্ডের পাশে দাঁড়ানো এলিজাবেথের দিকে নজর পড়তেই বার্ধক্যের ছাপ পড়া তার চিবুক শক্ত হয়ে গেল।
ভেতর থেকে একে একে বেরিয়ে এলো ওগ্রু আর তাসা। তাসার চতুর দৃষ্টি প্রথমে ন্যাসোর পাশে কাচুমাচু ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে থাকা ইবরাতের ওপর গিয়ে পড়ল, তারপর এলিজাবেথের দিকে। এবার তার ভুল ভাঙল। সে দিন আসলে ইবরাতকে এলিজাবেথ ভেবে ভুল করেছিল সে। তাসা ঘাড় কাত করে মাপা, সুচারু দৃষ্টিতে এলিজাবেথকে আপাদমস্তক পরখ করতে লাগল। গভীর পর্যবেক্ষণ শেষে মাথা সোজা করল সে। না, এবার আর তার চেহারায় বিরক্তির কোনো রেখা দেখা গেল না। বরং রুশরমণীর অপরূপ সৌন্দর্যে ক্ষণিকের জন্য বিস্ময় ফুটে উঠল তার তীক্ষ্ণ চোখে।

“কে হাসবেন্ড? কার হাসবেন্ড?” একই ভঙ্গিতে অবিশ্বাসের স্বরে আবারও প্রশ্ন করল এলিজাবেথ।
এদিকে সোফিয়া নামের মেয়েটির চোখের পলক পড়ছে না। সে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে এলিজাবেথের দিকে। মানসিকভাবে ভেঙে পড়ার মতো তার শ্বাস যেন গলায় আটকে আসছে, হাত-পা কাঁপছে অসংলগ্নভাবে। চোখের সামনে পুরো দুনিয়াটা তার কয়েক সেকেন্ডের জন্য অন্ধকার হয়ে এলো। মেয়ের চেহারার এমন দ্রুত অবক্ষয় দেখে ফাদার ঘাবড়ে গেলেন। আজকের এই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি করার পেছনে আসল কারিগর তো তিনি নিজেই! এখন কীভাবে সামলাবেন এই দিশেহারা মেয়েটাকে?
ওদিকে এলিজাবেথ একবার রিচার্ডের দিকে তাকাচ্ছে, তো আরেকবার সোফিয়ার দিকে। তার নিজের শ্বাসপ্রশ্বাসও এখন স্বাভাবিক হচ্ছে না। মনে হচ্ছে বুকের ওপর যেন ভারী কোনো পাথর চেপে বসেছে। অকারণেই গলা শুকিয়ে কাঠ। অশুভ সংকেত ছড়িয়ে পড়েছে তার পুরো সত্তায়।
উত্তরের জন্য এলিজাবেথের ছটফটানি ক্রমশ বাড়ছে। ধৈর্য হারিয়ে সে রিচার্ডের আরও কাছে যাওয়ার জন্য পা বাড়াতেই সোফিয়ার শরীরটা দুলে উঠল। ভারসাম্য হারিয়ে সে এলিজাবেথের ওপর হেলে পড়তে নিচ্ছিল, কিন্তু এলিজাবেথ ভাবল, মেয়েটি তাকে রিচার্ডের কাছে যেতে বাধা দিচ্ছে!
মুহূর্তেই এলিজাবেথের ভেতর আগুন জ্বলে উঠল। এই মেয়েটি তার স্বামীকে ছুঁয়েছে! স্বামী বলে ডেকেছে! কোনোভাবেই এই মেয়ের ছায়া নিজের ওপর পড়তে দেবে না সে। ঘৃণায় সোফিয়াকে সজোরে ধাক্কা মেরে সরিয়ে দিয়ে চিৎকার করে উঠল এলিজাবেথ,

“ছাড়োওওওও!”
সোফিয়া এমনিতেই মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন। কিন্তু এই মুহূর্তে তার আচরণ আরও অদ্ভুত ঠেকছে। যে মেয়ে অহংকারে দাসীদের ছায়াও সহ্য করে না, সে এত জোরে ধাক্কা খাওয়ার পরও এতটা নিস্পৃহ থাকে কীভাবে? কীভাবে ক্রোধহীন, একজোড়া অবিশ্বাস্য বিস্ফোরিত চোখে এলিজাবেথের দিকে তাকিয়ে থাকে?
এলিজাবেথ তর্জনী তুলে ধরল সোফিয়ার ছলছলে চোখের সামনে। দাঁতে দাঁত চেপে প্রতিটি শব্দ উচ্চারণ করল,
“খবরদার, একদম আমাকে ছোঁবে না। এখানে কোনো দাসী দাঁড়িয়ে নেই, রিচার্ড কায়নাতের একমাত্র অর্ধাঙ্গিনী দাঁড়িয়ে আছে। আমাকে ছোঁয়ার অধিকার সে ছাড়া আর কারও নেই, আর কারও সাহসও নেই আমার কাজে হস্তক্ষেপ করার। যে আমাদের মাঝে আসবে, পিষে ফেলব তাকে… জাস্ট পিষে ফেলব।”
“সোফিয়া রিচার্ডের প্রথম স্ত্রী।” উত্তপ্ত নীরবতায় বোম ফাটাল তাসা।
এলিজাবেথ যেন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হলো। চমক নিয়ে অবিশ্বাস্য চোখে তাকাল তাসার দিকে। আবেশাচ্ছন্নের মতো তার মাথাটা ডানে-বামে নড়ল, সেই সাথে থরথর করে কেঁপে উঠল অবাধ্য ঠোঁট জোড়া,

“মিথ্যে!”
তাসা গলায় সর্বোচ্চ জোর দিয়ে বলল, “এটাই পরম সত্য।”
এলিজাবেথ আগের মতোই অসাড় ভঙ্গিতে, অবিশ্বাসের চরম শিখরে দাঁড়িয়ে বিড়বিড় করল, “মিথ্যে!”
“সোফিয়া রিচার্ডের আইনি স্ত্রী।”
“মিথ্যে!”
তাসা এবার কিছুটা বিরক্ত হলো। বিরক্তির সুরেই স্পষ্ট জানিয়ে দিল, “তোমার মানা না-মানায় সত্য বদলে যায় না। কঠোর বাস্তব এটাই—সোফিয়াই রিচার্ডের স্ত্রী।”
“অসম্ভব!”
“তুমি রিচার্ডের জীবনে দ্বিতীয় নারী।”
কথাটা শুনে এলিজাবেথ যেন শিউরে উঠল। ঘনঘন দু’পাশে মাথা নেড়ে ফিসফিস করে উঠল, “না, এটা হতেই পারে না… কিছুতেই না…কখনোই না। উনি একান্ত আমার…মানুষটা আমার.. শুধুই আমার।”
“এটাই বাস্তবতা। রিচার্ড তোমাকে প্রতারণা করেছে, ঘোর থেকে বের হয়ে আসো।”
কথাগুলো শুনে ইবরাতও কেঁপে উঠল। এতক্ষণ সে হরিণ শাবকের মতো নিষ্পাপ, বিচলিত দৃষ্টিতে সব দেখছিল। কিন্তু তাসার শেষ কথাটা শোনামাত্র তার বুকের ভেতরের অলিন্দ-নিলয় যেন তোলপাড় হয়ে গেল। সে ব্যাকুল চোখে ন্যাসোর দিকে তাকাল। কিন্তু লোকটার মুখটা এতটাই গম্ভীর আর থমথমে যে, কিছু জিজ্ঞাসা করার সাহস পেল না সে। অগত্যা ইবরাত লুকাসের কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে জিজ্ঞেস করল,

“এসব কী হচ্ছে লুল্লুপ্রাণী? আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না।”
লুকাস দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, “বুঝতে হবে না, শুধু চুপচাপ দেখে যাও। এটা স্ক্রিপ্টেই লেখা ছিল।”
“আপনারটা বোধহয় স্ক্রিপ্ট থেকে বাদ পড়ে গেছে!”
লুকাস ভেবাচেকা খেয়ে গেল। বিচ্ছু মেয়েটা যে তাকে সূক্ষ্মভাবে কীসের খোঁচাটা দিল, তা বুঝতে তার বাকি রইল না। লুকাস চোখ রাঙানি দিল ইবরাতকে।
সোফিয়া তখনও একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে এলিজাবেথের দিকে। অথচ তখন এলিজাবেথ যেন আর কোনো সজীব মানুষ নয়, কলের পুতুলের মতো নির্জীব ভঙ্গিতে সে এগিয়ে গেল রিচার্ডের দিকে। গলার স্বর থরথর করে কাঁপছে,
“মি. কায়নাত, এঁরা আমার সাথে মজা করছে কেন? কারা ওরা? আমি তো এদের কাউকে চিনি না। এমন বিশ্রি মজা করার মানে কী?”
অদ্ভুত আর রহস্যজনকভাবে রিচার্ড এলিজাবেথের চোখের দিকে তাকাল না। রিচার্ডের এই দৃষ্টি এড়িয়ে যাওয়া এলিজাবেথের ভেতরের ছটফটানি আর অস্থিরতাকে একনিমেষেই বহুগুণ বাড়িয়ে দিল। এলিজাবেথের কাঁপা কাঁপা হাত দুটো গিয়ে ছুঁয়ে দিল রিচার্ডের দাড়িবিহীন, সশ্রদ্ধ গম্ভীর চোয়াল। আকুল হয়ে ডেকে উঠল সে,
“এই জান, জান? তাকান আমার দিকে।”
রিচার্ড তাকাল না। শুধু এলিজাবেথের হাত দুটো আঁকড়ে ধরে নিচু স্বরে বলল, “রেড, উপরে চলো। তোমার এখন বিশ্রাম দরকার।”

এলিজাবেথ ঝটকা মেরে হাত ছাড়িয়ে নিল। তারপর দু’হাতের আজলায় রিচার্ডের মুখটা শক্ত করে চেপে ধরল, সোজা তাকাল তার চোখে। কিন্তু গভীর সমুদ্র-নীল চোখ জোড়া আর আগের মতো নির্ভীক ভরসা দিয়ে তাকায় না, যেন অপরাধীর মতো দৃষ্টি লুকিয়ে রাখতে চায় সে। রিচার্ডের এই এড়িয়ে যাওয়া দৃষ্টি এলিজাবেথের ভেতরটা ফালাফালা করে দিল। হৃদয়মন্দিরটাই রক্তক্ষরণ ঘটালো। এতক্ষণে বাঁধভাঙা একফোটা অশ্রু এলিজাবেথের গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়ল। কাঁচ ভাঙার মতো থরথর করে ভেঙে এলো আড়ষ্ট মেয়েটার ঠোঁট, “জান… এই জান, আপনি আমার চোখের দিকে তাকাতে পারছেন না কেন? এই চোখ দুটোকে কি ভয় পাচ্ছে?”
“রেড…”
এলিজাবেথ আর্তনাদ করে উঠল, “সত্যিটা বলুন!”
এবার ফাদারের গম্ভীর কণ্ঠধ্বনি ভেসে এলো, “সোফিয়া রিচার্ডের প্রথম স্ত্রী।”
“আল্লাহাহাহাহাহাহাহহহহহহহহহহহ!!”
গগনবিদারী এক আত্মচিৎকারে এলিজাবেথ সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থা থেকেই ধপাস করে লুটিয়ে পড়ল মেঝের বুকে। রিচার্ডের বুকের ভেতরটা যেন পাথর হয়ে গেল সেই মুহুর্তে। একবুক যন্ত্রণা ভেতরে চাপা রেখে সে দু-চোখ শক্ত করে বন্ধ করে ফেলল।

“ইমাই!” ইবরাত আকুল হয়ে ছুটে গিয়ে এলিজাবেথকে আগলে ধরল।
আজরাইল যখন আত্মা কবজ করতে আসে, তখন যেমন করে ধীরে ধীরে পায়ের নিচ থেকে সব অনুভূতি অবশ হয়ে আসে, এলিজাবেথেরও এখন ঠিক তেমনটা হতে লাগল। হঠাৎ করেই সে অনুভব করল তার শরীরে প্রাণের আর কোনো অংশ অবশিষ্ট নেই। চোখের সমস্ত আলো নিভে গেছে। সমস্ত আলো কেড়ে নিয়েছে একটিমাত্র কঠিন বাক্য—রিচার্ড কায়নাত বিবাহিত, তার জীবনে অন্য এক নারীর অস্তিত্ব রয়েছে!
এলিজাবেথের পুরো শরীরটা হঠাৎ মৃগী রোগীর মতো কাঁপুনি দিয়ে উঠল। লুকাস আর ন্যাসো নির্বিকার, অনুভূতিহীন চোখে তাকিয়ে আছে তার দিকে। যেন তারা অনেক আগে থেকেই জানত, একদিন না একদিন এমন পরিণতি অবশ্যম্ভাবী। অন্যদিকে তাসার চোখে ফুটে উঠেছে বিরক্তি। কিন্তু ওগ্রু? সে একগুঁয়ে, লালিত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ইবরাতের মায়াবী মুখটার দিকে।
হঠাৎ সোফিয়া দুলে উঠে ঢলে উলল। ফাদার ব্যস্ত হয়ে ছুটে গিয়ে মেয়েকে সামলে নিলেন। দ্রুত ডেকো স্টাফদের হাতে সোফিয়াকে তুলে দিয়ে আদেশসূচক কণ্ঠে বললেন, “ওকে রুমে নিয়ে এক্ষুণি মেডিসিন দাও। একটা মেডিসিনও যেন বাদ না পড়ে!”
এরপর ফাদার তীক্ষ্ণ, বিষাক্ত চোখে রিচার্ডের দিকে তাকালেন। দাঁতে দাঁত পিষে চাপা গলায় বললেন, “এই মেয়েটা এসব কী ড্রামা শুরু করেছে রিদ? ওকে থামাও! তোমরা খুব ভালো করেই জানো আমার মেয়েটা আর পাঁচটা সাধারণ মানুষের মতো সুস্থ নয়। ও অসুস্থ, মানসিক ভারসাম্যহীন। মাত্র কিছুদিন হলো ও হাসপাতাল থেকে ডিসচার্জ পেয়েছে।”

এলিজাবেথ কাঁপা কাঁপা হাতে ইবরাতের হাতটা আঁকড়ে ধরল। ওর শ্বাসের গতি কমে আসছে, বুকটা খালি হয়ে খাঁ-খাঁ করছে। জড়িয়ে আসা গলায় নির্জীব ভঙ্গিতে সে ফিসফিস করে কেবল বলল, “ই–ইব… ইবরাত, আমার কলিজাটা কে যেন একটানে ছিঁড়ে ফেলল বোন!” বলতে বলতে সে ঠুকরে কেঁদে উঠল,
“আমি বোধহয় আর বাঁচব না, ইবরাত।”
দীর্ঘক্ষণ কান্নার পর যেভাবে মানুষের হেঁচকি উঠে, কান্নার আগেই সেভাবে হেঁচকি উঠল এলিজাবেথের। কোনো উচ্চবাচ্য নেই, কোনো ফোঁপানি নেই, শুধু যান্ত্রিক পুতুলের মতো সে বিড়বিড় করতে লাগল,
“মানুষটা কীভাবে পারল… আমাকে এভাবে ঠকাতে?”
এলিজাবেথের ওই নিস্তেজ, প্রাণহীন কণ্ঠটাই যেন রিচার্ডের ভেতরে কোথাও ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে দিল। অনুশোচনায় জর্জরিত হয়ে সে দু-হাঁটু ভেঙে বসে পড়ল এলিজাবেথের সামনে—ঠিক যেভাবে একজন অপরাধী নতজানু হয়। তা দেখে ন্যাসো হেঁচকা একটানে ইবরাতকে তুলে সোজা পাশের একটা রুমে নিয়ে দরজা লক করে দিল। মেয়েটা এখানে থাকলে এখনই হাঙ্গামা তৈরি করবে!
রিচার্ড এলিজাবেথের নিস্তেজ হাতে হাত রাখল, আর্দ্র গলায় ডেকে উঠল, “জান!”
“আপনার ছোঁয়াতেই আজ আমার এত ঘৃণা হচ্ছে কেন?”এলিজাবেথের এই গলার স্বরে আর কোনো জীবন ছিল না।
“রেড!” শক্ত পুরুষালি কণ্ঠটাও ব্যথায় ভীষণ আহত শোনালো।
“আপনার উপস্থিতি আজ আমার কাছে মৃত্যুযন্ত্রণার মতো।”
“আমাকে একটু বলতে দাও, একটিবার নিজেকে ব্যাখ্যা করতে দাও… প্লিজ?”
পুরুষটার আকুল, আর্দ্র আর্জি সত্ত্বেও নারীটার বুকের খাঁচার ভাঙন থামল না। এলিজাবেথ ভেজা চোখ তুলে তাকাল রিচার্ডের দিকে। সেই চোখে জমে থাকা গভীর পীড়া সহ্য করতে না পেরে নির্দয় পাথর-মানবটাও মাথা নামিয়ে নিল।

“কেন করলেন এমন?”
“আমাকে বিশ্বাস করো তো?”
“আজকের পর থেকে… আর কখনোই না!”
“আমাকে কি একটা সুযোগ দেওয়া যায় না নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করার, লক্ষীটি?”
“প্রতারণা কোনো ভুল বা বাধ্যবাধকতা নয় রিচার্ড কায়নাত, প্রতারণা মানুষের নিজস্ব পছন্দ।”
“আমার ওপর এটুকুও ভরসা নেই?”
“বুকে তলোয়ার চালিয়ে আপনি এখনও বিশ্বাসের কথা বলছেন?” ভেজা চোখেই তাচ্ছিল্যের হাসি দিল এলিজাবেথ।
রিচার্ড চোখ তুলে তাকাল। তার দৃষ্টিতে জমে ছিল আহত নীরব হাহাকার। ভেঙে পড়া মেয়েটার চোখের সমস্ত ব্যথা মুছে দিতে, শুষে নিতে তার হাত দুটো যেন আপনাতেই বাড়ল। কিন্তু পারল না। মাঝপথেই থমকে গেল সেই হাত।
এলিজাবেথের নিস্পৃহ, নিষ্পাপ চোখে তখনও মৃত্যুর মতো হাড়হিম করা স্তব্ধতা, যা কেবল স্থির হয়ে আছে রিচার্ডের ওপর। মেয়েটার কণ্ঠ ভেঙে আসছে, কথা বলতে গিয়ে বুক চিরে বেরিয়ে আসছে এক একটি শ্বাস, যেন প্রতিটি নিঃশ্বাসই শেষ নিঃশ্বাস! হঠাৎ-ই রিচার্ডের সমুদ্র-নীল চোখের দিকে তাকিয়ে ফুঁপিয়ে উঠল মেয়েটা।
“আমি তো জানতাম, বিয়ের পর সংসার হয়। কিন্তু আপনি? আপনি তো আমাকে খুন করে ফেললেন, মি. কায়নাত।”

এলিজাবেথের প্রতিটি শব্দ যেন ধারালো ছুরির ফলার মতো গিয়ে ফালাফালা করে দিল পাষণ্ড পুরুষটার ভেতরটা। রিচার্ডের হৃদয়ের খাঁচা ভেঙে যেন বেরিয়ে আসতে চাইছে এতদিনের সত্য, উন্মোচিত হতে চাইছে সব রহস্য। নিরুপায় রিচার্ড ধীরে ধীরে ঘাড় বাকিয়ে তাকাল ফাদারের দিকে। সেই দৃষ্টিতে ছিল না-বলা বোঝাপড়া। কিন্তু ফাদার সঙ্গে সঙ্গে মুখ ফিরিয়ে নিলেন,যেন এই বোঝাপড়ার ভার বড্ড বেশি ভারী!
হঠাৎ এলিজাবেথ উন্মাদের মতো দরজার দিকে ছুটে গেল। এই নিষ্ঠুর বাস্তবতার হাত থেকে হয়তো মেয়েটা পালিয়ে বাঁচতে চায়! রিচার্ডও তার পেছনে ছুটল তীব্র বেগে। বাতাসের তোড়ে তার কোটের দুই প্রান্ত দু’দিকে উড়ে গেল। পেছন থেকে সে দুই হাতে এলিজাবেথের পেট জড়িয়ে ধরে ওকে খানিকটা শূন্যে তুলে নিল। কেউ যেন চিরতরে হারিয়ে না যায়, ঠাঁই পাওয়ার শেষ আকুতি নিয়ে সে এভাবেই ধরে রাখতে চাইল।
কিন্তু মেয়েটা প্রাণপণে ছটফট করে মুক্ত হতে চাইল। এই বিষাক্ত বাস্তবতা থেকে পালাতে চাঔল। চিৎকার করল, লোকটার হাতে আঘাত করল, গালমন্দ দিল। অথচ এত ঝড়ের মাঝেও পুরুষটা ঠিক কতটা শান্ত থেকে তাকে সামলানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে!
রিচার্ড চূড়ান্ত ব্যাকুলতায় বলে উঠল, “না… না, না! যাবেন না। কোথাও যাবেন না!”
মেয়েটা পাগলের মতো কাঁদতে কাঁদতে চিৎকার করে,”ছাড়ুন আমাকে। ছাড়ুন! একটা বিশ্বাসঘাতকের সাথে আর এক সেকেন্ডও না!”

রিচার্ডের হাতের বাঁধন আরও শক্ত হতে গিয়েও হলো না।
পেট থেকে হাত সরিয়ে সে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল এলিজাবেথের বুক। একটাই কথা বারবার উচ্চারণ করতে লাগল, “যাবেন না… প্লিজ, যাবেন না!”
“থাকব না আমি আপনার সাথে! কিচ্ছুতেই না। ডিভোর্স চাই আমার!”
একটানে এলিজাবেথকে নিজের মুখোমুখি ঘুরিয়ে নিল রিচার্ড। তারপর ওর ভেঙে আসা ঠোঁটের ওপর আঙুল চেপে ধরল। গভীর ও খাদযুক্ত সেই কণ্ঠে হঠাৎ-ই পাহাড়সম গম্ভীরতা ভর করল,”উঁহু… এই বাজে শব্দটা মুখেও আনতে নেই।”
এলিজাবেথ কয়েক সেকেন্ডের জন্য থমকাল। লোকটার চোখের গভীর তীক্ষ্ণতায় সে স্পষ্ট দেখতে পেল তাকে হারানোর তীব্র ভয়। এই সত্যটুকু যেন তার ভেতরের যন্ত্রণাকে আরও উসকে দিল। সহসা এলিজাবেথ চিৎকার করে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিল রিচার্ডকে,
“জাস্ট লিভ মি, ইউ ফা কিং এসহোল!”
পরমুহূর্তেই ঝড়ের বেগে সে পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা লুকাসের কোমর থেকে রিভলভারটা ছিনিয়ে নিয়ে দূরে সরে দাঁড়াল। রিভলবারের সরু নলটা এখন সোজা তাক করা রিচার্ডের বুক বরাবর।
“আপনাকে মারতে আমার হাত একটুও কাঁপবে না, মি. কায়নাত। এখনও সময় আছে, সত্যিটা বলুন—কেন আমার সাথে এই বিশ্বাসঘাতকতা করলেন?”
রিচার্ড শান্ত চোখে পুরো দৃশ্যটা দেখল। বাধা দেওয়ার কোনো চেষ্টাই করল না সে। এমনকি মুখের অভিব্যক্তিতেও সামান্য পরিবর্তন এলো না। অথচ, তার দিকে রিভলভার তাক হতে দেখেই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ফাদারের চোয়াল শক্ত হয়ে উঠল।

রিচার্ড একদম শীতল স্বরে শুধাল, “গুলি করবে আমাকে?”
এলিজাবেথের চোখ বেয়ে অনবরত গড়িয়ে পড়ছে অশ্রু, অথচ ঠোঁটের কোণে লেপ্টে আছে বিষাদময় হাসি। সে নিমঠোঁট চেপে ধরে কান্না আটকানোর ব্যর্থ চেষ্টা করে বলল,”এক দিনেই এতটা পরিবর্তন? আপনি থেকে সোজা তুমি? তার মানে এতদিন যা দেখেছি, যা অনুভব করেছি,
সবটাই কি কেবল ভালো মানুষের মুখোশ ছিল?”
“এভরিথিং ওয়াজ আ লাই, এক্সেপ্ট ইউ।”
কথাটা শুনামাত্র তাচ্ছিল্যের হাসি ফুটে উঠল এলিজাবেথের ঠোঁটের নীড়ে। পরক্ষণেই গর্জে উঠে ক্ষিপ্ত গলায় চিৎকার করে বলল, “ইউ অ্যারোগ্যান্ট, স্টাবর্ন, শেমলেস জার্ক! স্টিল লাইং!”
বলতে বলতে রিভলবারের সেফটি লক আনলক করে ট্রিগারের ওপর আঙুলটা শক্ত হয়ে বসল। উপস্থিত সকলের চোখেমুখে নিমেষে ছড়িয়ে পড়ল আতঙ্কের ছায়া। কিন্তু যার বুক বরাবর অস্ত্র তাক করা, সে রিচার্ড বিন্দুমাত্র বিচলিত হলো না। সে মাথা সামান্য কাত করে গভীর দৃষ্টিতে দেখল, এলিজাবেথ কতখানি দক্ষ হাতে রিভলবারের লক আনলক করেছে!
এলিজাবেথ সিংহসম ব্যক্তিত্বের ন্যায় বলতে থাকে, “আই ওয়ান্ট ডিভোর্স৷ রাজপরিবারের রক্ত বইছে আমার ধমনিতে। আমি রাজকন্যা, রানি হতে জন্মেছি। সতীনের সংসার রানিদের জন্য নয়, মি. কায়নাত৷ দুর্বল মেয়েদের সারিতে ফেলে আমাকে মাপতে যাবেন না। আমি এলিজাবেথ—নিজের রাজ্য না পেলে, তা ছারখার করে দিতেও পিছুপা হই না!”

এলিজাবেথের তেজদীপ্ত কথাগুলো রিচার্ডের বুকের ভেতর কোথায় যেন অদ্ভুত ভালো লাগার ছোঁয়া দিয়ে গেল। তার অর্ধাঙ্গিনীর ভেতর তো সে এমনই তেজ দেখতে চেয়েছিল! তবে সেই তেজ হওয়া উচিত ছিল শত্রুর বিরুদ্ধে নিজের অধিকার আদায়ের জন্য, কিংবা রাজার অনুপস্থিতিতে পুরো সাম্রাজ্য আগলে রাখার জন্য। বিষয়টা রিচার্ডের মনপুত হলো না!
রিচার্ড বরফশীতল কণ্ঠে প্রশ্ন করে, “ডিভোর্স চাও?”
এলিজাবেথ ঠিক একই রকম তেজদীপ্ত স্বরে চেঁচিয়ে উঠল,”হ্যাঁ, হ্যাঁ… এখনই, এই মুহূর্তেই!”
তবে এলিজাবেথের সমস্ত তেজ মুহূর্তেই গুঁড়িয়ে দিল রিচার্ডের নিরেট, বরফশীতল কণ্ঠস্বর,
“প্রথমত, কাবিননামায় আমি আপনাকে তালাক দেওয়ার কোনো ক্ষমতাই দিইনি। আর আপনি যদি আদালতের শরণাপন্নও হন, আমার বিরুদ্ধে জয়ী হওয়া অসম্ভব, ওয়াইফি। আইন পকেটে নিয়ে ঘোরার ক্ষমতা এই রিচার্ড কায়নাত রাখে। দ্বিতীয়ত… Do you know the Muslim Family Laws Ordinance, 1961? Let me clear it for you, honey— আইন অনুযায়ী, গর্ভাবস্থায় ডিভোর্সের নোটিশ দিলেই তা সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর হয় না। ৯০ দিন পূর্ণ হওয়া অথবা সন্তানের জন্ম—যেটি পরে হবে, তালাক কার্যকর হতে ততটা সময় লাগবে। আপনার সবে দেড় মাস চলছে৷ সামনে এখনও অনেকগুলো মাস বাকি। ততদিন না হয় আমার সঙ্গেই থাকুন… কে জানে, এই দীর্ঘ সময়ে হয়তো আবারও নতুন করে আমার প্রেমেই পড়ে গেলেন।” (এখানে ভুল থাকতে পারে। পর্যাপ্ত সময়ের অভাবে গভীরভাবে রিসার্চ করতে পারিনি। আমি একটু অসুস্থ। পরবর্তীতে সংশোধন করে এডিট করে দেওয়া হবে)
শেষ কথায় রিচার্ড চোখ টিপল। এলিজাবেথের পুরো শরীর নিমেষেই শিউরে উঠল। ওয়াইল্ড ট্যুরের সময়টা সে কতটা মোহাচ্ছন্ন ছিল যে নিজের শারীরিক পরিবর্তন কিংবা তারিখের হিসেব, কোনো কিছুর দিকেই খেয়াল রাখতে পারেনি!

এলিজাবেথের রিভলভার ধরা হাতটা একপ্রকার নিস্তেজ হয়ে নিচে নেমে গেল। চমকে উঠা দৃষ্টি গেল পাশের দেয়ালের ক্যালেন্ডারটার দিকে। আজ ঊনত্রিশ তারিখ! তার যতদূর মনে পড়ে, শেষ পিরিয়ড হয়েছিল…
“ইউ গট ইয়োর পিরিয়ড অন ফোর্থ লাস্ট মান্থ, হানি!”
রিচার্ডের হিসহিসিয়ে ওঠা কণ্ঠস্বরে কেঁপে উঠল এলিজাবেথ। তার অজান্তেই হাতটা ছোঁয়া পেল পেটের ওপর। কাঁপা কণ্ঠে অস্ফুটে বলে, “ত…তার মানে আমি…
বাকিটুকু বজ্রগম্ভীর কণ্ঠে সম্পূর্ণ করল রিচার্ড,”ইয়োর বেলি ইজ ক্যারিয়িং মাই বেবি, রেড।”
শিউরে ওঠে এলিজাবেথ এক পা পিছিয়ে গেল। এমন আনন্দের খবরে যে দীপ্তি তার মুখে ছড়িয়ে পড়ার কথা ছিল, তার বদলে সেখানে জমে উঠল একরাশ অন্ধকার।
বিপরীতে, অটল ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে থাকা ফাদারের হাতের মুঠো শক্ত হয়ে এলো। সে এক ক্ষিপ্ত হিংস্র পশুর মতো হিংস্র দৃষ্টিতে তাকাল রিচার্ডের দিকে। অপর পাশে দাঁড়িয়ে থাকা লুকাস আর ন্যাসোর কপালেও চিন্তার ভাঁজ পড়ল। তাদের বস মোটেই এতটা সংসারপ্রিয় মানুষ নয় যে এত দ্রুত বাচ্চা নিতে চাইবে। কিছু তো একটা গড়বড় আছেই!
অন্যদের মাথায় এই রহস্যের জট না খুললেও, তাসার বুঝতে বাকি রইল না, এটি রিচার্ডেরই সূক্ষ্ম ও পূর্বপরিকল্পিত চাল। এলিজাবেথকে পুরোপুরি বেঁধে ফেলার জন্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই এটি করেছে রিচার্ড। তাসা ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি ফুটিয়ে আওড়ে উঠল,
“দ্য ফা কিং সুপ্রিম ম্যানিপুলেটর!”

এলিজাবেথ আবারও রিচার্ডের দিকে রিভলবার তাক করল। মেয়েটার হাঁপ ধরা ঘন নিঃশ্বাসের সাথে চিৎকার করে উঠল,”দ্যাট ওয়াজ ইউর মাস্টার প্ল্যান, রাইট? বাট, নো মোর চান্স।” কথাটা শেষ হতেই এলিজাবেথ সজোরে ট্রিগার চেপে ধরল। বু লে টের হিসহিস শব্দে বাতাস কেটে র ক্তমাং সের নিখুঁত সংঘাত ঘটিয়ে তা বিঁধল রিচার্ডের ডান বাহুতে। চামড়া, মাংস ছিঁ ড়ে তীব্র গতিতে বুলেটটি বেরিয়ে গেল। অনভিজ্ঞ হাতের নিশানা বলেই বেঁচে গেল রিচার্ড। এলিজাবেথের লক্ষ্য ছিল তার বুক।
রিচার্ডের বাহু বেয়ে তাজা লাল র ক্ত ঝরতে দেখে ফাদারের সমস্ত সংযম এক নিমেষে ধূলিসাৎ হয়ে গেল। তিনি ওগ্রুর দিকে তাকাতেই ওগ্রু তাঁর ইশারায় মা রণাস্ত্র বের করে সোজাসুজি তাক করল এলিজাবেথের দিকে।
তা দেখে এতক্ষণ শান্ত মাথায় এই উত্তপ্ত পরিস্থিতি সামাল দেওয়া রিচার্ড কায়নাতের মাথায় র ক্ত চড়ে গেল। শরীরের ভেতরের দান বটা জেগে উঠল মুহূর্তেই। রিচার্ড ঝড়ের বেগে ছুটে গিয়ে সজোরে লা থি মেরে ওগ্রুকে ফেলে দিল। পরক্ষণেই চ ড়ে বসল তার বুকের ওপর। ওগ্রুর হাত থেকে পি স্তল টা কেড়ে নিয়ে অ স্ত্রের ভারী ধাতব অংশ দিয়ে আঘাত করতে লাগল ওগ্রুর চোখের ওপর।

যে মাং সাশী পি শা চতুল্য ওগ্রুকে দেখলে পুরো শহরের মানুষের আত্মা খাঁচাছাড়া হয়ে যায়, সেই দানবকে রিচার্ড মুহূর্তের মধ্যে র ক্তা ল্প পি ণ্ডে পরিণত করে ফেলল। নিজেকে রক্ষা করার ন্যূনতম সুযোগটুকুও পেল না ওগ্রু। রিচার্ডের ওপর যেন কোনো নরকের পি শাচ ভর করেছে। অনবরত, নির্মম গতিতে পি স্ত লের ভারী বাঁট দিয়ে আঘাতের পর আঘাত চলেছ। প্রতিটা আ ঘাতে প শু র মতো হাড় আর মাং স থেঁত লে যাওয়ার বিকট শব্দ হচ্ছে। ধাতব অস্ত্রের নিচে ওগ্রুর অক্ষিকোটর একনিমেষেই চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গেল। চোখের কালো মণি ফেটে র ক্ত, ম গজ আর কালো থকথকে তরল ছিটকে বেরিয়ে এলো। কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে ম্যানশনের সিঁড়ির সামনে নেমে এলো না র কী য় মাং সপি ণ্ড আর লাল-কালো তরলের বীভৎস বন্যা।
নিজের সবচেয়ে বিশ্বস্ত এবং শক্তিশালী সহচরকে এভাবে জীবন্ত কি মা হতে দেখে ফাদার আতঙ্কে ছুটে গেলেন। রিচার্ডের গায়ে হাত দিয়ে উন্ম ত্ত র ক্তপি পাসুকে সরানোর আপ্রাণ চেষ্টা করে চিৎকার করে উঠলেন, “রিদ! ওকে ছাড়ো!”

Born to be villains part 32

কিন্তু উন্মত্ত রিচার্ডকে থামায় কার সাধ্য? হিং স্র প শুর মতো গর্জনে চারপাশ কাঁপিয়ে সে গর্জে উঠল, “হাউ ডেয়ার হি?”
চোখের সামনে ওমন অমানবিক, বী ভ ৎস আর র ক্ত হিম করা নৃ শং সতা সহ্য করতে পারল না এলিজাবেথের শরীর। মানসিকভাবে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে সেন্স হারিয়ে গড়িয়ে পড়ল সে।

Born to be villains part 34