চেকমেট ২ পর্ব ৩৪
সারিকা হোসাইন
রোদের চোখ গড়িয়ে জল খসে পড়ার আগেই শাহরান দৌড়ে এসে রোদকে বুকে জড়িয়ে বলে উঠলো —
“ওর সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই বিশ্বাস করো!she is just my colleague.nothing else।
রোদ ভার ছেড়ে দিয়ে শাহরানের বুকে লুটিয়ে রইলো।মিস নায়রা কিছু মুহূর্ত আগেই শাহরানের হাত স্পর্শ করেছে,শার্টের কলার ছুঁয়েছে।সেই স্পর্শ রোদের হৃদপিণ্ড পুড়িয়ে ছারখার করে দিচ্ছে।নিজের থেকেও বেশি ভালোবাসে সে মানুষটাকে।তৃতীয় পক্ষের আগমনে কেবল সূচনা হওয়া মধুর ভালোবাসা কিছুতেই বিষাক্ততায় ছেয়ে যেতে পারে না।
রোদ চোয়াল পিষে শাহরানের মুখ পানে তাকালো।রাগ আর কষ্ট দুই নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে তার চোখ মুখ পাকা টমেটোর রূপ ধারণ করেছে।চোখ দুটোতে যেনো রক্ত জমে যাচ্ছে।প্রেয়সীর এহেন বিধ্বস্ত রূপে শাহরান অগ্নি চোখে একবার নায়রাকে পরখ করলো।মেয়েটি তার পূর্ব পরিচিত।এক সাথে সুইজারল্যান্ডে একই থিসিস নিয়ে পিএইচডি করেছে তারা।সেই সুবাদে দুজনের যোগাযোগ আর কথা হতো প্রায়শই।মেয়েটি তাকে হুট করে একদিন ভালোবাসা জাহির করলে শাহরান সরাসরি তাকে নিষেধ করে দেয়।কিন্তু মেয়েটি চূড়ান্ত নাছোড়বান্দা।শেষমেশ নিনাদ বাধ্য হয়ে শাহরানের হৃদয় ভাঙ্গা ঘটনা তাকে শেয়ার করেছে।বুঝিয়েছে ভালোবাসা নামক জিনিসটার প্রতি শাহরানের বড্ড ঘৃণা।সে যেনো এসব বিষয়ে শাহরানকে বিরক্ত না করে।কিন্তু মেয়েটি এভাবে আজ সমস্ত বাধা নিষেধ অগ্রাহ্য করে এহেন কাণ্ড ঘটাবে এটা শাহরানের কল্পনাতীত।
শাহরান রোদের কপালে চুমু খেয়ে নায়রাকে বলে উঠলো —
“আশা করি সব বুঝে গেছো।নাও লিভ।
নায়রা গেলো না।বরং চোখে মুখে হিংস্রতা ফুটিয়ে রোদকে তিরস্কার করে বলে উঠলো —
“Don’t you feel ashamed, rubbing yourself against your own professor’s chest?”
রোদ নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে শাহরানের পিঠের কাছের শার্ট শক্ত করে খামচে ধরলো।এরপর দাঁত পিষে বলে উঠলো —
“Which hand did she use to touch you?
শাহরান স্বাভাবিক গলায় বলে উঠলো —
“ডান হাত
শাহরানকে বিষ্ময়ে ডুবিয়ে রোদ বলে উঠলো —
“ব্রেক দ্যাট হ্যান্ড।
বলেই চেঁচিয়ে উঠলো —
“কানে গেলো কি বললাম?
শাহরন বাকা হেসে বলে উঠলো —
“ইয়েস ম্যাম।লাউড এন্ড ক্লিয়ার ।
রোদের কথায় নায়রা চমকে উঠলো।তার মনে হলো মেয়েটি উন্মাদ।নয়তো এমন আদেশ কেউ কাওকে দেয়?
রোদের কথায় তাচ্ছিল্য হাসলো নায়রা। সেও দেখতে চায় শাহরান মেয়েটির নির্দেশের দাশ হয়ে তার হাত সত্যিই ভাঙতে আসে কি না।আর তার হাত ভাঙার পর প্রিন্সিপাল এর সামনে ,পুরো ভার্সিটির সকলের সামনে কি জবাব দেয় সেটাও নায়রা দেখতে চায়।সামান্য একটা স্টুডেন্ট এর প্রেমে উন্মাদ হয়ে ভার্সিটির ট্রাস্টির কন্যার গায়ে হাত তোলার সাজা নিশ্চয়ই শাহরান জানে।যার বাবার অর্ধেক ডোনেশনে পুরো ভার্সিটি চলে সেখানে জেনে শুনে নিজের ক্যারিয়ার খুয়ানোর জন্য নিশ্চয়ই শাহরান এমন বোকামি করবে না।
রোদের নির্দেশ শাহরানের উপর মন্ত্রের ন্যায় কাজ করলো।রোদকে নিজের সুইভেল চেয়ারে আরাম করে বসিয়ে নায়রার পানে এগিয়ে এলো ।এরপর বললো —
“আম সরি নায়রা।তোমার জন্য আমি আমার ভালোবাসা হারাতে পারবো না।রোদশী তোমার হাতটাকে খুব ঘৃণা করছে।
মুহূর্তের মধ্যেই শাহরানের চোখে স্পষ্ট ক্রূরতা ফুটে উঠলো।এবার ঘাবড়ে গেলো নায়রা।বুকে ভাঁজ করে রাখা হাত জোড়া দুর্বলের ন্যায় কোমরের পাশ গলিয়ে খসে পড়লো।
শাহরানের কেবিন নায়রার কাছে ভয়ানক মর্গ মনে হলো।নায়রা ফাঁকা ঢোক গিলে বলে উঠলো —
“ভুলে যেওনা শাহরান আমি কার মেয়ে।
তাচ্ছিল্য হাসলো শাহরান।বললো —
“সামান্য এক ট্রাস্টির মেয়ে তুমি।তোমার হাত ভাঙার অপরাধে আমাকে একটা প্রশ্ন পর্যন্ত কেও করতে সাহস পাবে না। কেনো জানো?
নায়রা অবাক ভয়ার্ত চোখে শাহরাণের পানে অনিমেষ তাকিয়ে রইলো। নায়রার দিকে আরও এক কদম এগিয়ে শাহরান বলে উঠলো —
“কারণ বোর্ড চেয়ারম্যান সারাদিন আমার বাবার পায়ের কাছে মাথা ঠুকে মরে।যাতে আমার বাবার সামান্য সুনজর উনার উপরে পড়ে।যেখানে চেয়ারম্যান আমার বাবার গোলাম হয়ে কুকুরের মতো নিজের গলায় বেড়ি পড়তে চাইছে সেখানে ট্রাস্টি তো ছুঁড়ে ফেলা টিস্যু।
বলেই শাহরান নায়রার দিকে হাত বাড়ালো।শাহরানের ভয়ংকর চেহারা নায়রার বুকে কাঁপন তুললো। নায়রা পেছাতে পেছাতে দরজার কাছে এসে ঠেকলো।এরপর প্রাণ নিয়ে ছুটে পালালো। রোদ এখনো শক্ত বেদনার্ত মুখে বসে আছে ।নায়রা চলে যেতেই শাহরান হাঁটু গেড়ে রোদের সামনে বসে গেলো।রোদের দুই হাত নিজের হাতে বন্দি করে উষ্ণ চুমু খেলো।বললো —
“You are my queen. I am your knight. Your command is my highest priority.”
রোদ তপ্ত শ্বাস ফেলে উঠে দাঁড়ালো।এরপর হিড়হিড় করে টেনে শাহরানকে ওয়াশ রুমে নিয়ে বেসিনের কল চালু করলো।দুই হাতে ইচ্ছে মতো সাবান মাখিয়ে জোরে জোরে ঘষে লাল করে ফেললো ফর্সা চামড়া।মেয়েটি যেনো শাহরানের হাতের চামড়ার প্রথম স্তর তুলে আজ ক্ষান্ত হবে।
ব্যাথায় দাঁত চেপে ঠায় দাঁড়িয়ে রইলো শাহরান।রোদকে নিজের মন মতো করতে দিলো সব।
হাত ধোঁয়া শেষ হতেই রোদ বলে উঠলো —
“এই শার্ট আমায় দেবে।আমি জ্বালিয়ে দেবো।
শাহরান তাৎক্ষনিক শার্টের বাটন খুলতে ব্যস্ত হলো।তিনটা বাটন খুলতেই বুকের ফেঁপে ওঠা ছাতি প্রকাশিত হলো।প্রশস্ত বুক,পেটের খাঁজ যুক্ত মাসেল সব মুহূর্তের ব্যবধানে মুগ্ধ করলো রোদকে।আনমনে আঙুল ছোঁয়ালো শাহরানের বুকে পেটে।রোদের আলতো স্পর্শে শিউরে উঠলো শাহরান ।তাৎক্ষনিক সরে দাঁড়িয়ে বলে উঠলো —
“আচ্ছা আজই পাঠিয়ে দেবো।এবার তুমি যাও।
বলেই রোদকে ফেলে বাইরে বেরিয়ে এলো।কোনো মতে বাটন লাগিয়ে টাই ঠিক করে গলা ঝেড়ে বলে উঠলো
“Love torture is not allowed.
বলেই ল্যাপটপ নিয়ে ছুটে চললো ক্লাসে।
শাহরান যেতেই শাহরানকে ছুঁয়ে দেয়া আঙুল গুলো ঠোঁটে ছোঁয়ালো রোদ।অতপরঃ লাজুক হেসে বলে উঠলো —
“My beloved King, you belong to me.”
🛳️মেরিনা বে স্যান্ডস,ক্যালিফোর্নিয়া
প্রশান্ত মহাসাগরের তীর ঘেঁষে মাথা উঁচু করে আভিজাত্য রূপ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে মেরিনা বে স্যান্ডস হোটেল এন্ড লাউঞ্জ। এখানে কোনো সাধারণ মানুষের চলাফেরা নেই।পুরো জায়গা ভিআইপি মানুষের জন্য কঠিন সিকিউরিটি দিয়ে ঘেরা।এখানে মানুষ আসে নিজেদের গুরুত্বপুর্ন মিটিংয়ের জন্য আর বিজনেস ডিল করতে।মাঝে মাঝে চলে রক্তের হোলি।নীরবে খু ন হওয়া লা শ গুলো সংগোপনে ফেলে দেয়া হয় গহীন সমুদ্রে।মুছে দেয়া হয় র*ক্তের নিশানা। যেনো এখানে কিছুই ঘটেনি।সবকিছু স্বাভাবিক, নির্ভার।
মেরিনা বে স্যান্ডসের প্রেসিডেন্টাল স্যুটে পায়ের উপর পা তুলে বসে আছে সরফরাজ।হাতে জিপ্পো ফ্লিপ গ্যাস লাইটার ।চোখ বুজে সোফায় হেলান দিয়ে এক নাগাড়ে লাইটারের ঢাকনা খুলছে বন্ধ করছে সারফরাজ।ভেতরের পশুটা হিংস্র রূপ নিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসতে চাইছে।কিন্তু ঠান্ডা মস্তিষ্কের কোল্ড ব্লাডেড সারফরাজ নিজেকে দমিয়ে রেখেছে কঠিন শিকলে।নীরব কক্ষে লাইটারের ঢাকনা খোলা বন্ধ করার ক্লিক ক্লিক আওয়াজ প্রত্যেকের গায়ে কাঁটা তুলে দেয়ার অবস্থা।সেন্টার টেবিলে যত্নে পড়ে থাকা কোহিবা সিগারের বক্স থেকে একটা সিগার তুলে ঠোঁটে লাগালো সারফরাজ।পাশ থেকে ভিনসেন্ট নামক গার্ড দৌড়ে এসে পকেট থেকে লাইটার বের করে আগুন ধরালো সিগারের তামাকে। সারফরাজ লম্বা টান দিয়ে ধোয়া উড়িয়ে চোখ বুজলো।ভেসে উঠলো পঁচিশ বছর আগের কিছু স্মৃতি।
সারফরাজ কে ঘোড়া বানিয়ে পিঠে উঠে বসে আছে পাঁচ বছরের শাহরান।হাতে খেলনা বন্দুক নিয়ে মিছেমিছি গুলাগুলি খেলছে।বাবা ছেলের খেলা তখন আনন্দের তুঙ্গে।এমন সময় দৌড়ে এলো ইয়ং।ভয়ার্ত পাণ্ডু মুখে বলে উঠলো —
“Boss… Volkov Laurent has betrayed us. He leaked our business secrets to the Moretti family.
কথাটা সারফরাজ এর কানেই যেনো লাগলো না।সে ছেলের ঘোড়া হয়ে ছেলের সাথে খেলতে খেলতে হাসি ঠাট্টায় মত্ত হলো।এবার ইয়ং অধৈর্য হলো সারফরাজের এখনই একবার অফিসে যাওয়া উচিত নয়তো একটু পরেই মিডিয়া প্রেস এসে সারফরাজ কে ঘিরে নানান নোংরা ভয়ানক খবর প্রচার করতে থাকবে।
ইয়ং ভয়ার্ত গলায় আবার ডেকে উঠলো —
“বস!
ইয়ং এর এতো ডাকাডাকি অপছন্দ হলো ছোট শাহরানের।সে তার খেলনা বন্দুক ইয়ং এর দিকে তাক করে বলে উঠলো —
“তুমি খুব বিরক্ত করছো ইয়ং।তোমাকে আমি কিল করবো এখন ।হাত উপরে তুলে সারেন্ডার করো।
ইয়ং কপালে জমে থাকা ঘাম মুছে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইলো।ছেলের নির্দেশে সারফরাজ ঠোঁটের হাসি চওড়া করে বলে উঠলো —
“হাঁটু মুড়ে মাটিতে বসো ইয়ং।আমার ছেলে অর্ডার করেছে তোমায়।
ইয়ং তাৎক্ষনিক মাটিতে হাঁটু গেড়ে বসে বলে উঠলো —
“লিটল মাস্টার প্লীজ কিল মি।
খেলনা বন্দুকে থাকা পানি ট্রিগার চেপে ইয়ং এর দিকে ছুঁড়ে দিল শাহরান।মুহূর্তেই ভিজে গেলো ইয়ং এর কালো কোট।নিজের খেলা শেষ করে শাহরান সিরিয়াস ভঙ্গিতে বলে উঠলো তার বাবার বলা সেই কথাটা—
“বেট্রায়াল ইজ নাথিং বাট ডেথ, কিল হিম।”
বলেই সারফরাজ এর পিঠ থেকে নেমে দৌড়ে ঘরের ভেতরে ঢুকে গেলো ।
ছেলের যাবার পানে তাকিয়ে বাকা হাসলো সারফরাজ।বুঝে গেলো ওই ছোট শরীরটায় তারই রক্ত বইছে।হাজার চেষ্টা করেও তাকে আর দশটা স্বাভাবিক বাচ্চার মতো বানানো যাবে না।সে তার ব্লাড লাইন ধরেই হাটবে।
রূপকথার ঘরে ঢুকে শাহরান দরজা লাগাতেই সারফরাজ বলে উঠলো —
“ Young, take my son to the Head Combat Trainer. From this day forward, his training becomes your highest priority. I want him forged into a man no one dares to challenge.
সারফরাজের কথায় ইয়ং অবাক চোখে তাকিয়ে রইলো।কি বলা উচিত বুঝে পেলো না।হেড কমব্যাট এর চেহারা দেখেই ছোট শাহরানের কলিজা কেঁপে উঠবে।তার চেহারায় কোনো মায়া মমতা নেই।নিষ্ঠুরের থেকেও নিষ্ঠুর সে।শাহরান ছোট বলেই যে সে তাকে সমীহ করবে বিষয়টা এমন নয়। ট্রেনিংয়ের ব্যাপারে সে খুব কঠিন।
ইয়ং ফাঁকা ঢোক গিলে মাথা নিচু রেখেই বলে উঠলো —..
“বস হি ইজ স্টিল ইয়ং।তাছাড়া….
সারফরাজ হাত তুলে ইয়ং কে থামিয়ে বলে উঠলো —
“সে আমার ছেলে ইয়ং।কাল থেকে ট্রেনিং ফিল্ডে নিয়ে যাও ওকে।আর ভলকোভকে ধরে আনার ব্যবস্থা করো।
ইয়ং আদেশ মেনে উঠে দাঁড়িয়ে দৌড়ে চলে গেলো।
সারফরাজের সামনে টেনে হিঁচড়ে ধরে আনা হলো বিশ্বাসঘাতক ভলকোভ কে। সারফরাজ এর অগ্নিমূর্তি ধারণ করা চেহারা তার মধ্যে সামান্য ভয় সৃষ্টি করতে পারল না। যেনো একটু পরেই সরফরাজ এর চূড়ান্ত পতন হবে। ধ্বংস হবে তার গড়ে তোলা সাম্রাজ্যের।ক্যালিফোর্নিয়া জুড়ে রাজত্ব করার জন্য টিকে থাকবে শুধু মরেটি ফ্যামিলি।দ্যা জাগুয়ার কিং কে পায়ে পিষে ধুলোয় মিশিয়ে দেবে ক্যালিফোর্নিয়ার মানুষ।মনোরম এক দৃশ্য।যেই দৃশ্য একটু বাদেই প্রাণ ভরে উপভোগ করবে ভলকভ।
সারফরাজ এর কঠিন চেহারার পানে তাকিয়ে ভলকোভ বলে উঠলো —
“তুই শেষ সারফরাজ।একটু বাদে রাস্তার একটা কুকুরের দাম ও থাকবে না তোর।ধুলোয় মিশে যাবে তোর নাম।আমি তোর দম্ভের দেয়াল পুরোপুরি গুড়িয়ে দিয়েছি।কিছুক্ষণের মধ্যেই অপূর্ব এক দৃশ্য উপভোগ করবে আমার দুচোখ।উফ আর অপেক্ষা করতে পারছি না।
ঠান্ডা চোখে মুখে উঠে দাঁড়ালো সারফরাজ।এগিয়ে এলো ভলকভের সামনে ।এরপর ভারী গলায় শুধাল —
“তোর চোখ অন্যের ধ্বংস খুব পছন্দ করে তাই না?খুব আনন্দ?
ভলকোভ মাথা ঝাঁকিয়ে বললো —
“ইয়েস।
মুহূর্তেই সারফরাজ নিজের শক্ত আঙুলি চালিয়ে দিলো ভলকোভের ডান চোখে।তুলে আনলো সবুজ মনি।গগন বিদারী চিৎকার করে চারপাশ কাপিয়ে তুললো ভলকোভ। সারফরাজ হাতে পিষে থেতলে সেই মনি ভলকোভের সামনে মেলে ধরে জিজ্ঞেস করলো —
“এখন কেমন আনন্দ হচ্ছে ডিয়ার ভলকোভ লরেন্ট?
ভলকভ অভিশাপ দিলো—
“ওয়ান ডে ইউ উইল ডাই ব্রুটালি
হো হো করে হেসে সারফরাজ জিজ্ঞেস করলো?
“ওহ রিয়েলি?
বলেই ইয়ং কে নির্দেশ দিলো—
“যাও ইয়ং ওকে মরার আগে একটা আনন্দের দৃশ্য দেখাও।নয়তো বেচারার আত্মা মরে গিয়ে শান্তি পাবে না।বাকি এক চোখ যেটা বাঁচিয়ে রেখেছি ওটাকে একটু তৃপ্তি দাও।
মুহূর্তেই দেয়ালে থাকা বৃহত টিভিতে ভেসে উঠলো ভিডিও।তাতে স্পষ্ট যার হাতে ভলকোভ পেন ড্রাইভ সোপর্দ করেছিলো সে খুশি খুশিতে সারফরাজ এর পায়ে লুটিয়ে পেন ড্রাইভ তুলে দিচ্ছে সারফরাজ এর হাতে।
এই দৃশ্য সইতে পারলো না ভলকোভ।সে চিৎকার করে উঠলো —
“না এ হতে পারে না।ইউ মনস্টার আই উইল কিল ইউ।
সারফরাজ হাতে থাকা গান দিয়ে নিজের থুতনি চুলকে বলে উঠলো —
“ইন ইউর ড্রিমস।
বলেই পিষে দেয়া মনিটা ভলকোভের শার্টে মুছে সাদা টাওয়েল দিয়ে নিজের হাত পরিষ্কার করে বলে উঠলো —
“ম্যানহোলে ফেলে দাও এই বিশ্বাসঘাতক কে।
ইয়ং ডেকে উঠলো —
“বস!
সারফরাজ দাম্ভিক চলনে হেঁটে চলে যেতে যেতে বলে উঠলো —
“The trash is going into the trash bin।আপসেট হবার কিছুই নেই ইয়ং।একদিন ভালোবেসে বুকে ঠাঁই দিয়েছিলাম।আজ ছুঁড়ে মারলাম।
ভিনসেন্টের ডাকে কল্পনার জগত থেকে ফিরে এলো সারফরাজ।পূর্বের ন্যায় এখনো শরীর জুড়ে শক্তি অবশিষ্ট আছে।সে বেঁচে থাকতে কেউ তার ছেলের দিকে নজর দিবে সেই দৃষ্টি সারফরাজ কিভাবে বাঁচিয়ে রাখবে?বাকা হেসে হাতের সিগার ছাই দানিতে পিষে সারফরাজ ইয়ং কে বলে উঠলো —
চেকমেট ২ পর্ব ৩৩
“উচিত ছিলো সেদিন বাকি চোখটাও তুলে ফেলা।নয়তো আমার ছেলের দিকে তার নজর পড়তো না।
ইয়ং মাথা নিচু করে বলে উঠলো —
“ইয়ং মাস্টার নিজেকে প্রোটেক্ট করার জন্য একাই যথেষ্ট বস।
সারফরাজ তপ্ত শ্বাস ফেলে বলে উঠলো —
“এবার বুঝেছো কেনো তাকে নিজেকে রক্ষা করা শিখিয়েছিলাম?কারণ আমি জানি,আমার শত্রুরা আমার সাথে না পেরে একদিন না একদিন ঠিক আমার ছেলের দিকে হাত বাড়াবে।
