বাঁধনহারা প্রেম পর্ব ৫৮ (৩)
shanta moni
“দুই দিন পর”
_“বিয়ের শপিং শেষ করে। সবাই গ্রামের উদ্দেশ্য রেডি হচ্ছে৷ বাড়ির সবাই খুঁশি, এক সাথে তিনটে বিয়ে খুঁশিতো হবেই।
রোদ, রুহি, নীলা,জুঁই, সেইম ড্রেস পড়ে রেডি হয়েছে। এই দিকে শুভ্র,রোমান, নিলয়,অয়ন, সবাই রেডি হয়ে দাঁড়িয়ে আছে বাড়ির বাহিরে গেটের সামনে।
শুভ্রের চোখ মুখে গম্ভীরতার ছাঁপ।
একপাশে দাঁড়িয়ে ফোন ঘাঁটছে। এমন সময় রিয়া এসে শুভ্রের একরকম গা ঘেষে দাঁড়ায়। শুভ্র কপাল কুচকে সামনে তাকাতেই দেখে রিয়া। ৩২ পাটি দাঁত বেড় করে হাঁসছে। শুভ্র নাক মুখ কুচকে ফেলে। এমন সময় চোখ যায়, সামনে। রোদ তাদের দিকেই হেঁটে আসছে। আর শুভ্রের দিকে কেমন যেনো রাগী রাগী চোখে তাকাচ্ছে। শুভ্র তাড়াতাড়ি রিয়াকে সামনে থেকে সরিয়ে রোদের দিকে এগিয়ে যায়। বাড়ির বড়রা, অনেক আগেই চলে গিয়েছে। এখন শুধু শুভ্র,রোদ রোমান,রুহি নিলয়,নীলা অয়ন,জুঁই, সাথে রিয়া, জারা আর জারার ভাই রাশেদ। যে একদিন আগেই বাংলাদেশে এসেছে। অহনা টিনা, নীরা, নীরার হাসবেন্ড কিছুক্ষণ আগেই একটা গাড়িতে চলে গেছে। এখন শুধু এরা বাকি আছে। একে একে সবাই গাড়িতে উঠে বসে। প্রায় তিন, থেকে চার ঘন্টা জার্নির পর, গাড়ি এসে থামে পুড়ানো জমিদার বাড়ি সামনে। একে একে সবাই গাড়ি থেকে নেমে আসে।
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
রাত প্রায় ৯ টা কি সাড়ে ৯ টা, সবাই এক সাথে মিলে আড্ডা দিচ্ছিল। শুভ্র একটা কাজে বাহিরে গিয়েছিল। এই মাত্র আসছে। রুমের ভিতরে বসে সবাই হাঁসি ঠাট্টা করছে। শুভ্র দরজার সামনে এসে রোদকে ডেকে উঠে। সবাই কথা থামিয়ে সামনে তাকায়। রোদ বসা থেকে উঠতে যাবে। এমন সময় নীলা, রোদের হাত টেনে ধরে বলে উঠে..!”
নীলা: কোথায় যাচ্ছিস, এখানে বসে থাক!
_রোদ উঠতে গিয়ে বসে থাকে চুপ করে।
শুভ্র কপাল কুচকে রোদের দিকে তাকিয়ে বলে..!”
শুভ্র: কি হলো,শুনতে পারছিস না। রুমে আয়।
_রোদ বসা থেকে আবার উঠতে যায়। কিন্তু নীলা রোদকে আবার থামিয়ে দিয়ে বলে উঠে..!”
নীলা: সমস্যা কি দুলাভাই বউ ছাড়া কি থাকতে মন চায় না।
_নীলার কথা শুনে সবাই মুখ টিঁপে হাঁসে।
নীলার সাথে সাথে জুঁই বলে উঠে..!”
জুঁই: দুলাভাই যতদিন না, বিয়ে হচ্ছে। আপনার বউটা আপনি পাবেন না। বউ ততদিন আমানত হিসেবে আমাদের কাছে থাকবে।
_শুভ্র রুমের ভিতরে ডুকতে ডুকতে বলে উঠে..!”
শুভ্র: এতো কিছু জানিনা, আমার বউ আমাকে দিয়ে দাও, আমি চলে যাচ্ছি।
নীলা শুভ্রের কথা শুনে বলে উঠে..!”
নীলা: একদম না, বউ আপনি পাবেন না। বিয়ের পর বউ পাবেন। তার আগে না। আগে বিয়ে হোক তারপর বউ নিবেন।
শুভ্র শার্টের হাতা গোঁছাতে গোঁছাতে বলে..!”
শুভ্র: বিয়ে এক বারের যায়গায় দুইবার করছি। তাহলে বউ ছাড়া আমি কেনো থাকবো। এতো কিছু জানিনা না, শালিকারা আমার বউটা দিয়ে দাও।
_জুঁই জোরে জোরে চিৎকার করে বলে উঠে।
জুঁই: বউ আমরা দিব না, দিবনা, বউ যদি নিতে চান, তো বিয়ে করে নিয়ে যান।
_জুঁইয়ের কথায় সবাই সায়, জানায়। রোদ লজ্জায় মাথা নিচু করে বসে আছে।
শুভ্র তপ্ত নিশ্বাস ফেলে। এই শালি নামক শত্রুদের জন্য তার, বউ ছাড়া থাকতে হবে। শুভ্র কোনো কথা না বলেই,হন হন করে রুম থেকে বেড়িয়ে যায়। শুভ্র যেতেই রুমে সবাই শব্দ করে হেঁসে উঠে। আর রোদকে সবাই এটা ওটা বলে লজ্জা দিতে থাকে। এই সব কিছু দেখে রাগে ফুসছে রিয়া, আর জারা।
_রাত প্রায় ১২ টা,,
“বাড়ির পাশে গার্ডেন দোলনায় বসে আছে রোমান,আর রুহি। রুহির কোলে মাথা রেখে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে রোমান। রোমান আনমনে আকাশের দিকে তাকিয়ে বলে উঠে..!”
রোমান: সব কিছু কেমন স্বপ্নের মতো মনে হচ্ছে রুহি। তোমাকে আমি এইভাবে পেয়ে যাবো,সত্যি ভাবিনী।
_রুহি রোমানের কথায় মৃদু হাঁসে। রোমানের চুলে আলতো হাত ভুলায়। তারপর বলে..!”
রুহি: আমি সত্যি অনেক ভাগ্যবতী গায়ক সাহেব। আমি আপনার মতো একজন ভালোবাসার মানুষ পেয়েছি।
রোমান: পৃথিবীর সুখি মানুষদের মধ্যে আমি একজন। কারন আমি আমার ভালোবাসার মানুষটাকে নিজের করে পেয়েছি।
_রোমানের কথা গুলো শুনে রুহির চোখের কোনে পানি চিকচিক করছে। বাহির এখন হালকা শীত পড়েছে। থেকে থেকে ঠান্ডা হাওয়া বইছে, যার জন্য রুহি কেঁপে কেঁপে উঠছে। রোমান রুহির কোল থেকে মাথা তুলে রুহির দিকে তাকায়। দুইহাতে চোখের পানি মুছে দিয়ে বলে উঠে..!”
রোমান: যদি একটা বার বুক ছিড়ে দেখাতে পারতাম। যে তোমার চোখে পানি দেখলে, আমার ঠিক কতো হৃদয় পুড়ে। তাহলে তুমি আর কখনোই এইভাবে নিজের চোখের পানি ফেলতে না।
_রুহি রোমানের কথা শুনে, চোখে পানি নিয়ে হেঁসে উঠে। রোমান রুহির কপালে নিজের কপাল ঠেকিয়ে তপ্ত নিশ্বাস ফেলে বলে উঠে..!”
রোমান: শোনো আমার বোকা নারী এইভাবে কাঁদবে না। তোমার ওই দুই চোখে চোখের পানি মানায় না।
_রুহি রোমানকে জড়িয়ে ধরে ভাঙা গলায় বলে..!”
রুহি: আমাকে এতো কেনো ভালোবাসেন গায়ক সাহেব।
রোমান রুহিকে জড়িয়ে ধরে বলে উঠে..!”
রোমান: জানিনা,তবে ভালোবাসি আমি তোমায়, একটু বেশি ভালোবাসি। আমার বোকানারীকে। ভালোবাসি আমার শ্যামাবতীকে।
_আমার বোকা নারীকে ছাড়া আমার জীবন অর্থহীন। তুমি হীন আমি শূন্য, বুঝতে পারছো পাখি!
রুহি রোমানের বুকে মাথা রেখে বলে উঠে। ”
রুহি: কিহ ভয়ংকর আপনি। কি ভয়ংকর আপনার ভালোবাসা। আপনার এই ভালোবাসা আমি কি দিয়ে শোধ করবো?
রোমান: কিছু দিয়েই শোধ করতে হবে না। তুমি শুধু আমার হয়ে থেকো। সারাজীবন আমার পাশে। এর চেয়ে বেশি কিছু আমি চাইনা।
_চারদিকে চাঁদের আলোয় আলোকিত, রুহি রোমানের বুক থেকে মাথা তুলে তাকায়। রোমানও তাকিয়ে আছে রুহির দিকে। রোমান রুহির দুই বাহুতে হাত দিয়ে আবেগি স্বরে বলে উঠে।
রোমান: লাল শাড়ি পড়বে। সাথে লাল টিপ, সুন্দর করে দুই চোখে কাজল পড়ে। আমার জন্য লাল লুকলুকে বউ সেজে বসে থাকবে। আর আমি তোমাকে সারাজীবন করে জন্য আমার করে নিব।
_রুহি রোমানকে যত দেখছে অবাক হচ্ছে। একটা মানুষ ঠিক আর কতো ভাবে ভালোবাসতে পারে। রোমানকে না দেখলে কখনোই জানতো না। নিঃসন্দেহে সে পৃথিবীর সব থেকে ভাগ্যবান নারী।
_কথা গুলো মনে মনে ভেবে, হাঁসে রুহি। তাঁরপর রোমান দিকে তাকিয়ে বলে উঠে।”
রুহি: আমি তো এতোটাও সুন্দর না। তাহলে আপনি আমার প্রেমে কিভাবে পড়লেন? আর এতোটা ভালো কেনো বাসেন আমায়?
_রোমান রুহিকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে আকাশের দিকে তাকায়। সুন্দর একটা চাঁদ উঠেছে আকাশে। আশ পাশটা, হালকা কুয়াশা ডাকা। রোমান রুহির কাঁধে ভারি নিশ্বাস ফেলে বলে উঠে।”
রোমান: আপনি হয়তো জানেন না, আপনি আমার চোখে কতটা সুন্দর। কতোটা আবেদন ময়ী।
_আমি সেইদিন মরেছি, ধুকে ধুকে মরেছি।যখন এই শ্যামকন্যাকে দেখেছিলাম। আমার সময় ধমকে গিয়েছিল। সেটা হয়তো, সেই বোকানারী জানতো না। যদি জানতো তাহলে কি আর আমাকে এতো কষ্টে পোড়াতো।
_রুহি কোনো কিছু বলছে না৷ চুপচাপ রোমানের কথা শুনছে।
_রাত প্রায় ১ টার কাছাকাছি,
_“ছাদের এক কোনে দাঁড়িয়ে হাতে জলন্ত সিগারেট নিয়ে পিছন ফিরে দাঁড়িয়ে আছে শুভ্র,
_এতোক্ষণ বিছানায় শুয়ে এপাশ ওপাশ করছে। কিন্তু কোনো ভাবেই ঘুম তার চোখে ধরা দিচ্ছে না। আর ঘুম না আসার কারন হচ্ছে তার বউ। ইদানীং খুব বাজে অভ্যাস হয়ে গেছে শুভ্রের। রোদকে ছাড়া রাতে তার চোখে ঘুম ধরা দেয় না।
বউকে নিজের কাছে আনার জন্য কতোই না চেষ্টা করলো। কিন্তু বাড়ির সবাই আটঘাট পেতেই নেমেছে। বউ নিয়ে ভারত পাকিস্তান যুদ্ধ করেছে। কিন্তু তাতেও লাভ হয়নি। শেষ মেষ হেরে গেছে বউ পাওয়ার যুদ্ধে। শুভ্র বিরক্ততে সিগারেট বাকি অংশ ঠোঁটে রেখে টান দেয়। আর বিড়বিড় করে বলে উঠে!”
শুভ্র: বাহ শুভ্র, শেষ মেষ তুইও বউ পাগল হয়ে গেলি। ওই ৪০০ গ্রাম বউয়ের জন্য দেহ মন হৃদয় সব কিছু পুড়ে ছাড়খার হয়ে যাচ্ছে।
_কি রকম বিয়াদব বউ পেয়েছি, ছেহহহ।
বউ তার সারাদিন গলায় ঝুঁলে থাকবে। কিন্তু না, বউকে সে, সারাদিন হারিকেন দিয়ে খুঁজে পায়,না।
_দিনদিন তার ভিটামিন অভাব হচ্ছে।
_শুভ্রের এখন আফসোস হচ্ছে। এতো বছর বউটা রেখে বিদেশ কেনো পড়ে থাকলো। খুবই লজ্জার বিষয়। এতো দিনে তিন চার বাচ্চার বাপ হয়ে যেতো।
_শুভ্র এই সব কিছুই ভাবছিল, আর সিগারেট খাচ্ছিল। সিগারেট শেষ করে, ছাদ থেকে নেমে আসে। আর এইদিকে রোদ নীলা, জুঁই,এর সাথে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন।
_শুভ্রের সারা রাত ছটফট করতে করতে যায়। ঘুম আর তার চোখে ধরা দেয় না।
_আগামী পর্বের অংশ_”
বাঁধনহারা প্রেম পর্ব ৫৮ (২)
সাদা এক কাপড়ে ডাকা লাশের সামনে দাঁড়িয়ে আছে সবাই, কিছুটা দূর আম গাছের পাশে এলোমেলো হয়ে বসে আছে শুভ্র! আশে পাশে মানুষের আনাগনা, পুলিশ দাঁড়িয়ে আছে। বিয়ের বাড়িতে এক মূহুর্তে মৃত্যুের শোক ছড়িয়ে পড়েছে। কিছুক্ষন আগেই বিয়ের কতো আয়োজন চলছে বাড়িতে এখন শোকের ছায়া। শুভ্রের চোখ দিয়ে পানি পড়ছে অনবরত গড়িয়ে। ভয়ে সে লাশের সামনে যাওয়ার সাহস পাচ্ছে না।
