Home তুমি আমার বিতৃষ্ণা তুমি আমার বিতৃষ্ণা পর্ব ৬

তুমি আমার বিতৃষ্ণা পর্ব ৬

তুমি আমার বিতৃষ্ণা পর্ব ৬
মাশকুরা মায়িশা

পার্টিতে ঘটা ওই অনাবশ্যক ঘটনার পর থেকে তারা দুজন একে অপরের সাথে অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে গিয়েছে,, আর পাঁচটা সাধারন দম্পতির মতো না হলেও তারা এখন আগের থেকে একে অপরের জন্যে যত্ন করে, কেয়ার করে, ভাবে,,

যেটা বাড়ির সকলকেও যথেষ্ট নিশ্চিন্ত করেছে,, অন্যদিকে মায়িশা, মাশফিয়া, ইয়াশ,রেয়ান, আবিদ ও রাবেয়া,, এরা এই দুজনকে আরো কাছাকাছি আনার জন্য নানা রকমের ফন্দি আছে,, আবিদরা যদিও এতদিনে তাদের বাড়িতে চলে গিয়েছে,, তবে তাদের বাড়ি আর এইবাড়ির মধ্যে ডিফারেন্স পায়ে হেঁটে ৫ মিনিট স্বাভাবিকভাবেই আসা-যাওয়া করতে কোন ঝামেলা হয় না,, তাই যেন তারা এসব করার জন্য আরও বেশি সুযোগ পেয়েছে,,

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

ইয়াশ :- এর আগে থেকে স্বাভাবিক হয়েছে কিন্তু আমি মনে করি এদের আরো বেশি কাছাকাছি হওয়া দরকার!
মায়িশা :- এই ইয়াস ভাই তুই কি বলতে চাচ্ছিস ভালো করে বলতো?
আবিদ :- এই ওদের জন্য একটা বাস-রের প্ল্যান করলে কেমন হয়?
রাবেয়া :- কি সব বলছো তুমি ঐশী না তোমার ছোট বোন!
মাশফিয়া:- ভাইয়া চিন্তা করো না তোমার পক্ষে আমি আছি!
মায়িশা :- মানে!?

শেষ পর্যন্ত তাই ঠিক হয় তারা সবাই মিলে ঐশী আর আব্রাহামের জন্য বাসরের ফোন দে একটা থাকে,, ঠিক করা হয় মাশফিয়া আর রাবেয়া যাবে ঐশীর সাথে শপিং করতে যাতে তাকে ব্যস্ত রাখা যায়,, রেয়ান ব্যস্ত রাখবে আব্রাহামকে,, আবিদ ঘর সাজাবে আর ঘর সাজানোর যত সামগ্রী যেমন ফুল এইসব কিনতে যাবে, ইয়াশ আর মায়িশা,,

ইয়াসার মায়িশা ফুল কিনতে এসেছে,, এত ফুল দেখার পরেও মায়িশা নিজের মন মতো ফুল খুঁজে পাচ্ছে না,, এতে ইয়াশ প্রচন্ড বিরক্ত তারপরেও সে কিছুই বলছে না মায়িশা যা বলছে তাই করছে,,
এমনই সময় কোথা থেকে যেন রিফাত আসে,, যার সাথে আরও দু তিনটে ছেলেপেলে,, তারা কিছু না বলে মায়িশা আর ইয়াসের উপর আক্র-মণ করে দেয়,,
রিফাত :- তোদের বোনের সাহস কি করে হলো অন্য ছেলেকে বিয়ে করার!!

এতে মাইশা আর ইয়াস প্রচন্ড বিরক্ত হয় তারা কিছু বলতে যাবে তখনই একটা ছেলে ইয়াশের গালে ঘু-সি মা-রে,, ইয়াশ প্রচন্ড রেগে যায় এবং সেও মা-রা-মা-রিতে লিপ্ত হয়,, মায়িশা অনেক কষ্ট করেও কাউকে আটকাতে পারছে না সে নিজেও কিছু আঘাত পেয়েছে,,
এমনই সময় সেখানে কিছু এলাকাবাসী জড়ো হয়ে যায়,, যারা তাদেরকে আটকায়,, তখন রিফাত হঠাৎ করে বলে ওঠে,,

রিফাত :- এখানে আমার কোন দোষ নেই ওরা এখানে ন-ষ্টা-মি করতে এসেছিল আমি তাদেরকে আটকিয়েছি বলে তারা আমাকে মা-র-ছে!
রিফাতের ছেলেপেলেগুলো তার পক্ষ নিয়ে কথা বলে,, ফলে সবাই মিলে জড়ো হয়ে কাজে ডেকে আনে মায়িশা আর ইয়াসের বিয়ে দেওয়ার জন্য,,তাদের এসব কার্যক্রমে রাগে ইয়াশের পাগল হওয়ার উপক্রম,, মায়িশা কেদেই চলেছে ,,

ইয়াস অনেক কষ্টের রেয়ানকে সবকিছু গোপনে মেসেজ পাঠায় সাথে ঠিকানাও পাঠিয়ে দেয়,, রেয়ান মেসেজগুলো সিন করার সাথে সাথে আব্রাহাম কে জানায়,,
অন্যদিকে ইয়াশ আর মায়িশা কে তারা ধরে জোরপূর্বক বিয়ে দিয়ে দেয়,, মায়িশা অঝরে কান্না করে যাচ্ছে,, এদিকে ইয়াশ একটি কথাও বলছে না..,

এমন সময় সেখানে আব্রাহাম রেয়ান আবিদ এসে পৌঁছায়,,ইয়াস আর আব্রাহামের চোখাচোখি হয়,, ছোট ভাইয়ের এমন অসহায় চাহনিতে আব্রাহামের হাত মুষ্টিবদ্ধ হয়ে যায়,, তখনই চোখ যায় ক্রন্দনরত মায়িশার দিকে,,মায়িশা কে কাঁদতে দেখে সে এক সেকেন্ড অপেক্ষা না করে রিফাতের কলার ধরে এবং চিৎকার করে বলে,,
আব্রাহাম:- তোর সাহস কি করে হলো বল তো সাহস কি করে হল আমার ভাই বোনের দিকে হাত দেওয়ার!?! তোকে আমি জীবন্ত ক-ব-র দিব রিফাততত!!!!?

আহসান বাড়ি
পুরো বাড়ি জুড়ে নিস্তব্ধতা বিরাজ করছে,, কাঁদতে কাঁদতে মায়িশার চোখ জোড়া লাল বর্ণ ধারণ করেছে,, যাকে ঐশী শান্তনা দিচ্ছে,, ইয়াশ এক কোনায় বিধ্বস্ত অবস্থায় দারিয়ে আছে,,
আব্রাহাম :- আমি জানি এই বিয়েটা হঠাৎ করে হয়ে গিয়েছে কিন্তু আমি চাই সবাই এইটাকে স্বাভাবিকভাবে নেয় কারণ যত যাই হোক সারা বর্তমানে স্বামী,, এবং আমি যতদূর জানি এই বাড়ির কেউই সম্পর্ক ভাঙ্গা পছন্দ করেন না,,

আজহারুল আহসান :- এই বিয়েটা অনাবশ্যকভাবে হলেও এটা নিয়ে আমার কোন আপত্তি নেই,, যদি এইটা এমন করে না হত হয়তো কোন সমস্যা ছিল না তবে মাজহারুল তোর কি-
মাজহারুল আহসান :- কি বলছেন এসব ভাইজান? আপনি যদি রাজি থাকেন তাহলে আমারও কোনো আপত্তি নেই! (আয়েশা বেগম এবং লিপি বেগমকে উদ্দেশ্য করে) তোমাদের কি কোন আপত্তি আছে?
আয়েশা বেগম:- একি বলছেন আপনি? মায়িশার মত মিষ্টি মেয়েকে ছেলের বউ হিসেবে মানতে সমস্যা থাকবে কেন?
এতে লিপি বেগমও সম্মতি দেন,, এখানেই মূলত সব পারিবারিক ঝামেলার শেষ হয়,, তবে পরিবারের দ্বন্দ্বের মিটমাট হলেও মায়িশা আর ইয়াশের মনের ঝড় কি থামে? এর যে কোনো শেষ নেই,,

আব্রাহাম আর ইয়াশ একসাথে দাঁড়িয়ে আছে,, আব্রাহাম ইয়াশকে উদ্দেশ্য করে বলে,,
আব্রাহাম :- তুই তো মায়িশাকে ভালবাসিস,, বাসিস না.?
ইয়াশ:- বাসি অনেক ভালবাসি,, আমার জীবনের সকল অনুভূতির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যার অবস্থান,, তাকে কি করে না ভালবেসে থাকি?
আব্রাহাম :- তাহলে এত সংকোচ কেনো?
ইয়াশ:- জানি না ভাইয়া.. কেনো জানো অনেক অস্বস্তি লাগছে,, আচ্ছা, মায়িশা যদি আমায় মেনে নিতে না পারে? আমাকে ভুল বুঝে?
আব্রাহাম :- এত ভাবিস না সব ঠিক হয়ে যাবে,,

[গোপন গোডাউনে]
রেয়ান চেয়ারের মধ্যে একজন কে বেধে রেখেছে,,যার মুখে কাপড় বাধা,, তার মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা যাচ্ছে,, তখনই ওখানে আব্রাহাম আসে,, সে ওই লোকটার সামনের চেয়ারে বসে,, এবং লোকটার মুখের কাপড় সরিয়ে দিলে দেখা যায় সে আর কেউ না বরঞ্চ রিফাত.. আব্রাহাম মুখে শয়তানি হাসি রেখে বলে,,
আব্রাহাম :- এখন কেমন লাগছে? রেয়ান ওর সারা শরীরে গরম পানি ফেলে দে!
রেয়ান:- আচ্ছা-
রিফাত :- এতক্ষণ লোহার রড দিয়ে মে-রে-ছিস এখন ঘায়ে গরম পানি ফেলবি ফেল,, আমার কোনো যায় আসে না,, এত কিছু করে কিছুই করতে পারবি না,, তোর ছোট ভাই বোনের ক্ষ-তি করেছি দরকার পড়লে তোর পুরো পরিবারের ক্ষ-তি করবো,, তারপরেও আমার পক্ষ ঐশীকে ভুলে যাওয়া সম্ভব না..!

(হঠাৎ করে জোরে জোরে হাসতে থাকে এবং তারপরে নিজের লাল চোখ দুটো আব্রাহামের চোখে রাখে)
আমার পক্ষে আমার শ্যামকন্যাকে ভোলা অসম্ভব..
যার শুধু মাত্র উপস্থিতিতে আমার হৃদয়ে কম্পন শুরু হয়,, তাকে কি করে ভুলে যাই,, তার জন্যে সকল অ-ত্যা-চা-র আমি মাথা পেতে মেনে নিতে রাজি আছি,, আমি তার জীবনের নায়ক হতে পারিনি তো কি হয়েছে? তার জীবনের খলনায়ক হয়েই না হয় থেকে গেলাম..

আব্রাহাম:- ভুলে যা,, তোর ভুলে যেতেই হবে! ঐশী শুধুই আমার! আর না হলে..
রিফাত:- কি করবি? মে-রে ফেলবি? তাকে অন্যের পাশে দেখার চেয়ে ম-রে যাওয়া ভালো!
আব্রাহাম রেয়ানকে হাত উঁচিয়ে ইশারা দিয়ে গোডাউন থেকে বেরিয়ে আসে,, রেয়ান রিফাতের দিকে তাকিয়ে পৈশাচিক হাসি দেয় কিন্তু রিফাত রেয়ান কে বিভ্রান্ত করে হঠাৎ করেই গাওয়া শুরু করে,,

তুমি আমার বিতৃষ্ণা পর্ব ৫

শুধু তোমাকেই ভালোবেসে,,
শুকনো নদীতে ডিঙি ভাসিয়েছি,,
মোহনার কাছে এসে,,
শুধু তোমাকেই ভালোবেসে,,
দু’মুঠো আদর ভিক্ষে চেয়েছি,,
দরিদ্র এই দেশে,,
শুধু তোমাকেই ভালোবেসে..!

তুমি আমার বিতৃষ্ণা পর্ব ৭