মিহি পর্ব ১১+১২
রুপন্তী সরকার
প্রতিদিনের মতোই সকাল হতেই অভ্র এসে হাজির! আসার সাথে সাথে অভ্র ছুটে গেলে রিদের ঘরে!
দড়জা নক করতেই রিদ দড়জা খুলে দিলো! অভ্র কে দেখেই রিদের মেজাজ খারাপ
ভারী কন্ঠে বলে উঠলো
_”কি চাই এতো সকালে?”
_”শালার ভাব দেখ! সর সাইড দে তোর মুখ দেখমু না আমার টুইংকেলের কাছে যাবো”
_”যা কিন্তু ও যদি ঘুম থেকে উঠে তাহলে তোরে কবর দিবো! টু পরিমাণ শব্দ যেনো না হয়”
অভ্র মুখ বাকা করে চলে গেলো মিহির কাছে
গিয়ে দেখে মিহি ঘুমিয়ে আছে! মিহি একটা ছোট্টো পুতুলের মতো গুটিসুটি মেরে শুয়ে আছে! অভ্র গিয়ে মিহির কাছে দাঁড়ালো! এর মধ্যেই মিহির ঘুম ভেংগে গেলো
মিহি ঘুম থেকে উঠে চোখ ডলছে!
মিহি কে উঠে যেতে দেখে রিদ তেড়ে আসে অভ্রর দিকে! তীক্ষ্ণ চোখে অভ্রর দিকে তাকালো! অভ্র কাঁদো কাঁদো মুখে বলে উঠলো
_”খোদার কসম ভাই আমি ওরে তুলি নি আমি আইসা দাড়াইছি ও উঠে গেছে!”
মিহি বললো
_”অভ তুমি এতেছো?”
_”হ্যাঁ এতেছি মানে এসেছি তুমি এখন উঠলা কেনো টুইংকেল? তোমার পঁচা লোক আমার দিকে যেভাবে তাকাইছে”
মিহি রিদ কে বললো
_”কোলে যাবো”
রিদ সঙ্গে সঙ্গে মিহি কে কোলে নিলো! রিদ মিহি কে বললো
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
_”ঘুম হয়েছে?”
_”হয়েছে”
_”এখন ফ্রেশ হতে হবে না?”
_”ফ্রেশ হতে হবে!”
_”চলো ফ্রেশ হয়”
রিদ সুন্দর করে মিহি কে রেডি করিয়ে দিলো!মিহি একটা বেবি পিংক কালারের শার্ট পড়েছে! শার্ট টা হাঁটু অব্দি! আর লম্বা লম্বা চুল গুলো ছেড়ে দেওয়া আছে! মিহির চুল গুলো একটু বেশীই বড়ো! যার কারণে সব সময় চিরুনি করা যায় না! চিরুনি করতে অনেকটা সময় লাগে!
অভ্র বসে বসে দেখছে! রিদ অভ্র কে বললো
_”আজকে ওকে কাজে নিয়ে যাবো! তুই চলে যা!”
_”মানে আমি সারাদিন টুইংকেল কে দেখতে পাবো না?”
_”ওতো দেখতে হবে না ভাগ শালা”
অভ্র বললো
_”আচ্ছা যা কাজ শেষে ভার্সিটি তে চলে যাস আমি অপেক্ষা করবো”
_”আচ্ছা”
মিহি অভ্র কে বললো
_”থাকো অভ আমি পঁচা লোকের সাথে যায়?”
_”যাও সোনা”
রিদ বড়ো বড়ো চোখ করে অভ্রর দিকে তাকালো! মুখ ফুসকিয়ে সোনা বলে ফেলেছে!
অভ্র ভয়ে ভয়ে বললো
_”ইয়ে মানে! সোনার দাম বেড়েছে তাই না রিদ? আমিও তাই ভাবছিলাম হুট করেই সোনার দাম বেড়েছে! টুইংকেল কে সোনা গিফট করতে হবে! আচ্ছা থাক রিদ! আমার আবার অনেক কাজ আছে”
এই বলেই অভ্র পড়িমরি করে কেটে পড়লো!
রিদ আজকে মিহি কে নিয়েই কাজে গেলো!
ম্যানেজার বাবু মিহি কে দেখে খুব খুশি উনার খুব ইচ্ছে ছিলো মিহি কে দেখার! কিন্তু উনি ভাবেন নি রিদ এতো তাড়াতাড়ি মিহি কে নিয়ে আসবে!
ম্যানেজার মিহি কে বললো
_”তুমি ই আমাদের পিচ্ছি?
তাহলে আমার বুড়িটার নাম কি?”
_”আমার নাম মিহি”
মিহি রিদ কে বললো
_”একটা কথা শুনো”
রিদ নিচু হলো মিহি রিদ কে বললো
_”দেখো তো আমাকে বুড়ি বললো এই তাকু টা,আমি কি বুড়ি?”
রিদ হেসে উঠলো!
আজকে মিহি ম্যানেজারের কাছে বসে ছিলো! আর রিদ কাজ করছিলো! আজকে রিদ ডেলিভারির কাজ করতে যায় নি!
মিহি তো অনেক গল্প করছে ম্যানেজারের সাথে! ম্যানেজার মিহি কে অনেক কিছু জিজ্ঞেস করেছে! মিহি ও সুন্দর মতো সব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে!
ম্যানেজার মিহি কে বললো
“তুমি জানো ওই ছেলে টা তোমার কে হয়?”
_”জানি তো ওতা আমার পঁচালোক হয়”
_”পঁচা লোক কিন্তু তোমার বর হয়”
_”বর হয়?”
_”হ্যাঁ তুমি যখন বড়ো হয়ে যাবে তখন তোমার বর তোমাকে বিয়ে করে নিবে”
_”বিয়ে তোরে নিবে?”
_”হ্যাঁ!”
_”বর হলে কি হয়?”
_”বরের কথা সব সময় শুনতে হয় বর কে কখনো কষ্ট দিতে হয় না! বর যা বলবে তাই করবা ঠিক আছে?”
_”ঠিক আছে! বর কি পঁচা লোক?”
_”হ্যাঁ বর পঁচা লোক”
মিহি কে ম্যানেজার যা যা বললো মিহি সুন্দর মতো সব মাথায় রাখলো!
লোক জন আসছে রিদ ওদের খাবার দিচ্ছে আবার টেবিল পরিষ্কার করছে! আর একটু পর পর এসে মিহির কাছে আসছে!
রিদ এসেই মিহি কে বললো
_”তাড়াতাড়ি আদর করো প্রিন্সেস! অনেক ভিড় তাড়াতাড়ি যেতে হবে”
মিহি তাড়াতাড়ি করে রিদ কে চুমু দিলো!
রিদ চলে গেলো! মিহির কাছে আসলে ওর সব ক্লান্তি দূর হয়ে যায়! ও একটু পর পর এসে মিহির থেকে আদর নিয়ে আবার কাজ করছে ! এতে ওর এনার্জি বাড়ছে!
কাজ শেষ করে আবার মিহি কে নিয়ে ভার্সিটি তে গেলো!
ওইখানে ক্লাস করলো!
ভার্সিটি শেষ করে অভ্রর মেসে গেলো মিহি কে রেখে আবার কাজে গেলো!
সব কাজ শেষ করে রাতের বেলা মিহি কে নিয়ে বাড়িতে গেলো!
এভাবেই চলছে রিদ আর মিহির জীবন! রিদ মিহির একটা ছোট্টো সংসার ! দেখতে দেখতে ৫ টা মাস হয়ে গেলো! এই ৫ মাসে রিদ অনেক যুদ্ধ করেছে! গাধার মতো কাজ করেছে! ভার্সিটি সামলিয়ে রেস্টুরেন্টে গেছে কাজ করেছে! আবার মিহি কে সামলিয়েছে! আবার পড়াশুনা ও করেছে! অভ্রর অবদান ও বলে শেষ করার মতো না! প্রথম থেকেই রিদ কে নানা ভাবে সাহায্য করেছে! আবার মিহি কে বেশির ভাগ সময় অভ্রই দেখাশুনা করেছে!
রিদ আর অভ্র সব সময় ছায়ার মতো মিহির সাথে থাকে! দুই টা ছেলের “প্রাণ ভোমরা” হয়ে গেছে ওই পিচ্ছি মেয়ে টা!
ওরা মিহি কে ছাড়া কিছু বুঝে না! মিহি ও এখন রিদ আর অভ্র কে ছাড়া কিছু বুঝে না!
রিদ আর অভ্রর এখন একটাই লক্ষ্য মিহি কে মানুষের মতো মানুষ করা! মিহি কে ভালো স্কুলে ভর্তি করতে হবে!
অভ্র রিদ কে বললো
_”জানুয়ারি মাস চলে এসেছে! টুইংকেল কে স্কুলে ভর্তি করাতে হবে! কালকে ওকে নিয়ে স্কুলে নিয়ে যেতে হবে”
_”আচ্ছা কালকে যাবো নি”
এইদিকে…
_”আঙ্কেল দেখতে দেখতে ৫ মাস হয়ে গেলো কবে আপনি ওই মেয়ের ব্যবস্থা করবেন?”
_”আমরা যেটা করতে চাচ্ছি সেটা কি করা ঠিক হবে? রিদ মেয়েটাকে নিজের থেকে বেশি ভালোবাসে! পরে যদি আমার ছেলেটার কিছু হয়ে যায়?”
_”এটা কিন্তু ঠিক না আঙ্কেল! এটা কি কথা ছিলো? আপনি এখন এসে পাল্টি খেলে কিভাবে হবে?”
_”আরে না পাল্টি না কিন্তু”
_”কোনো কিন্তু না”
এভাবেই বেশ কিছু দিন কাটে! অভ্র আর রিদ ঠিক করলো মিহিকে স্কুলে ভর্তি করাবে
আজকে জানুয়ারির ১২ তারিখ! অভ্র আর রিদ মিহি কে নিয়ে গেলো ভর্তি করানোর জন্য!
ওরা প্রিন্সিপালের রুমে গিয়ে বসলো!
প্রিন্সিপাল মেম মিহি কে দেখে প্রশ্ন করল
” এই বাবু কে ভর্তি করাবে?”
অভ্র হাসি মুখে বলে
“জি”
“ওর গার্জেন কে?”
রিদ একটু বিরক্ত নিয়ে বললো
“জি আমরাই ওর গার্জেন”
“আচ্ছা এই ফর্মটা ফিলাপ করুন!
রিদ আর অভ্র ফ্রম ফিলাপ করে দিলো
প্রিন্সিপাল ম্যাডাম বললেন
” আপনারা চাইলে বাচ্চাকে কালকে থেকেও স্কুলে পাঠাতে পারেন”
অভ্র বললো
“আচ্ছা ঠিক আছে”
এই বলে ওরা চলে গেলো
ওরা মিহির জন্য স্কুলের পোশাক কিনার জন্য বাজারে গেলো! মিহি আজকে চুপ করে আছে ওর সাথে কি হচ্ছে বুজতে পারছে না!
পরের দিন
সকাল বেলাতে রিদ মিহি কে ডেকে দিল
রিদ মিহি কোলে নিয়ে বললো
“তারাতাড়ি রেডি হও প্রিন্সেস স্কুলে যাবে না?”
মিহি বললো
“যাবো তো”
রিদ মিহি কে সুন্দর করে স্কুল ড্রেস পরিয়ে দিলো লম্বা চুল গুলো দুই দিকে বিনুনি করে দিলো!
এর মধ্যে অভ্র এসে হাজির!
অভ্র এসেই মিহি কে কোলে নিয়ে নিলো
-“আয়হায় আমার টুইংকেল কে কত সুন্দর দেখাচ্ছে”
রিদ অভ্রর দিকে বড় বড় চোখ করে তাকাতেই অভ্র মিহি কে নামিয়ে দিল কোল থেকে!
ওরা মিহিকে নিয়ে স্কুলের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়ল
রিদ মিহি কে ওর ক্লাসরুমে নিয়ে গেল! অভ্র গেলো না ওর একটা কল আসলো তাই ও বাহিরে চলে গেল!
অনেক বাচ্চা আছে ক্লাসে
মিহির পাশে রিদ বসলো!
ক্লাসে স্যার আসতেই রিদ উঠে চলে গেলো
রিদ চলে যেতেই মিহি হাও মাও করে কান্না শুরু করে!
রিদ দৌড়ে এসে মিহি কে জড়িয়ে ধরে! মিহি ফুপিয়ে ফুপিয়ে বললো
“তথাই যাচ্চ পঁচালোক আমি থাকপ না”
“ছি প্রিন্সেস কান্না করতে হয় না! তুমি স্কুল করবেনা? আমি থাকলে ক্লাস করবে কিভাবে?”
“তলাচ করবো না”
মিহি পর্ব ৯+১০
“এটা বললে কিভাবে হবে? তুমি আমার কথা শুনবে না? বরের কথা শুনতে হয়”
মিহি বললো
“বরের তথা শুনতে হয়?”
“হ্যাঁ”
” আচ্ছা মিহি আর তান্না করবে না”
রিদ মিহির কপালে চুমু দিয়ে চলে গেলো!
